একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী।
শুক্রবার (১০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান জিন্নাহ, সাদেকুল আলম খোকা, জিয়াউল হক শাহীন, কাজী শফিকুর রহমান লিটন, শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম, সাধারণ সম্পাদক ইজাজুল হক সবুজ প্রমুখ।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সদর উপজেলায় আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইতিপূর্বে দুইবার জনগণ আমাকে অনেক ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সরকার আমার প্রাপ্ত ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। যে কারণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ও জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সুপারিশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলাম। শুক্রবারের মধ্যে আমি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করবো।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইসির তথ্যমতে প্রায় ৩৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই ইসি ও সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা নেই।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, এ সরকারের অধীনে জাতীয় ও স্থানীয় কোনো নির্বাচনই অবাধ সুষ্ঠু হয়নি। তাই আমরা এ নির্বাচনে যাচ্ছি না। যে কারণে সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার (১০ মে) সকালে উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের কাঠুরী গ্রামের এক ধান ক্ষেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত গৃহবধূর নাম অঞ্জনা বেগম (৪২)। সে উপজেলার বেকড়া ইউনিয়নের বারাপুষা গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসীমউদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বাহাদুর মিয়া জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার ধান ক্ষেতে পানি দেওয়ার জন্য শ্যালো মেশিন ঘরে যাওয়ার পথে ক্ষেতের আইলে একজন মহিলার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয়দের খবর দিলে, তারা এসে পুলিশকে খবর দেয়।
নিহতের ছোট ছেলের স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার (৯ মে) সকাল ১০টার দিকে বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য বেকড়া গ্রামের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন তার শাশুড়ি। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে খবর পান কাঠুরী গ্রামের নিজামুদ্দিনের বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি ধান ক্ষেতের আইলে এক মহিলার মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান আর শাশুড়ি মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।
নিহতের স্বামী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি কাজে চলে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তার ছেলের বউয়ের কাছে তার শাশুড়ি কোথায় জানতে চাইলে বলে, অঞ্জনা (তার স্ত্রী) বাবার বাড়ি গেছেন। শুক্রবার সকালে খবর পাই আমরা স্ত্রীর মরদেহ ধান ক্ষেতের আইলে পড়ে আছে।
নিহত অঞ্জনা বেগমের পিতা মো. গনি মিয়া বলেন, আমার মেয়ে অঞ্জনা বৃহস্পতিবার তার বাড়ি বেকড়া গ্রামে যায়নি। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে এসেছি।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসীমউদ্দীন জানান, স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাবার ভোট দিতে এসে কিশোর ছেলে আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের সুবকচনা কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃত নাজমুল হোসেন (১৪) উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নের সুবকচনা গ্রামের আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে।
সুবকচনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে বাবার ভোট দিতে আসলে দোয়াত কলম প্রতীকের এজেন্টের সন্দেহ হয়। পরে তাকে চ্যালেঞ্জ করলে স্বীকার করে সে জাল ভোট দিতে এসেছে। পরে দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) আরিফ হোসেন তাকে আটক করে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তারা এসে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
উল্লেখ্য, মধুপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন।
মধুপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু (দোয়াত কলম), টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী (আনারস) এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি (মোটর সাইকেল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে দফায় দফায় ভিমরুলের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ আশে-পাশের এলাকার সাধারণ মানুষ।
বুধবার (৮ মে) দুপুর ১টা ও ২টা ৩০ মিনিটে দুই দফায় উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের মুশুদ্দি দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সময় এই ভিমরুলের আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
এ সময় ভিমরুলের আক্রমণে শিশু-মহিলা-পুরুষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ২৫ জন আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১টার দিকে মুশুদ্দি দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ দিক থেকে একঝাঁক ভিমরুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নারী-পুরুষ সহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের আক্রমণ করে। হঠাৎ ভিমরুলের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে ভোটারসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকে। মুহূর্তে ভোট কেন্দ্র ফাঁকা হয়ে যায় । এসময় অনেকেই মাঠের পাশে থাকা খড়ের গাদা থেকে খড় নিয়ে তা জ্বালিয়ে ধুঁয়া তৈরি করে আত্মরক্ষা করে। প্রায় বিশ মিনিট পর ভিমরুলের ঝাঁক অন্যত্র চলে গেলে আহতদের উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, দ্বিতীয় দফায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ভিমরুলের ঝাঁক পুনরায় মাঠে উপস্থিত ভোটার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের উপর আক্রমণ চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়।
এ প্রসঙ্গে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) আবু তাহের জানান, ভিমরুলের আক্রমণে ৪ পুলিশ ও ২ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্যদের অবস্থা বেশ খারাপ হলেও তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
মুশুদ্দি দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মামুন সরকার জানান, ভিমরুলের আক্রমণে তার কেন্দ্রে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পুলিশের ৪ জন, আনসার সদস্য ২ জন ও স্থানীয় ২ জন শিশু সহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। ভিমরুলের আক্রমণে ছানোয়ার ও সলিমুল্লাহ নামে দুই জনের অবস্থা গুরুতর। এই দুই জনসহ মোট ১০ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় ভোট গ্রহণ সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়েছে। দুপুর ৩টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের হার ৫১.৫৩ পার্সেন্ট।
ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হচ্ছেন- বর্তমান চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হীরা (ঘোড়া), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন (দোয়াত-কলম), সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ (মোটরসাইকেল), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি (আনারস) এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম (হেলিকপ্টার)।
উল্লেখ্য, মুশুদ্দি দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ২০৫৩। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০৪৩ জন ও পুরুষ ভোটার ১০১০ জন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাক চালক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দু’জন।
মঙ্গলবার (৭ মে) ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সরাতৈল টাওয়ার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে সাময়িক ভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পরিবহনগুলো এলেঙ্গা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ব্যবহার না করে এলেঙ্গা-ভুঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে।
এছাড়া দুর্ঘটনার পরই ক্ষতিগ্রস্ত দুটি যান উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। গাড়ি দুটি সড়ক থেকে অপসারণের পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন মিয়া জানান, ঢাকাগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে উত্তরবঙ্গগামী কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাক চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
তিনি আরও জানান, কাভার্ডভ্যানের চালকসহ আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ট্রাকচালকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলায় ক্রিয়াশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুধীজনদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক-সৌহার্দ্য-সংস্কৃতি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ মে) দুপুরে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে ইউকেএইড’র অর্থায়নে এ কর্মশালার আয়োজন করে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশলান, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
কর্মশালায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ধারণা, রাজনৈতিক পরিসরের ধারণা, রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের চর্চা সমুন্নত রাখার গুরুত্ব ও কৌশল এবং রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের চর্চা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বিষয়ক আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সমস্যাগুলি হলো- শহরের যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা।
নাগরিক প্রত্যাশা বিষয়ক কর্মশালা হতে উঠে আসা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমূহ উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপনা করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলের পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোকপাত করেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওলান ম্যানেজার নার্গিস আক্তার।
এতে অংশ নেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, টাঙ্গাইল জেলা মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপিত নাজমুল হুদা নবীন, জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি নাছিমা বাছিদ, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার রুনু, জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের (বিএনপি) সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম একটি বহুদলীয় স্বেচ্ছাসেবী রাজনৈতিক ফোরাম। যা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিএলএস চাষী উচ্চ বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে মোমবাতি জ্বালিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিক্ষা স্থগিত করেন কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৪ মে) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার বিএলএস চাষী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নয়জন পরীক্ষা দিতে যান। পরে প্রার্থীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রাত ৮টার দিকে
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। রাতে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিক উপস্থিত হলে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি স্থগিত করেন।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা আব্দুর রশিদ বলেন, রাতের আঁধারে নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছিল, কিন্তু আমরা এলাকাবাসী বিষয়টি জানি না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আপন ভাই ও তার বোন জামাই পরীক্ষা দিচ্ছে। এ পরীক্ষা সুষ্ঠু হতে পারে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, তার ভাই ও বোন জামাই পরীক্ষা দিচ্ছেন তাই এ নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা বিকেল ৪টার দিকে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে পরীক্ষা নেওয়া দেরি হয়েছে। পরে সন্ধ্যার দিকে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করা হয়। বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে এক পর্যায়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
রাতে পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম আছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা দিনেই পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছিলাম।
জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) মো. আবুবকর সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষা যথাসময়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। প্রার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে সোহাগ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৫ মে) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মেনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার বন বিভাগের বিশ্রামাগারের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ মিয়া (২০) কালিহাতী পৌরসভার সোনা খড়িল্লা এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর সাজেদুর রহমান জানান, এলেঙ্গা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল-ময়মেনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী বন বিভাগের বিশ্রামাগারের সামনে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চালক সোহাগ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজীব নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২ মে) সকালে উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের ভাদ্রা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন।
নিহত রাজীব হোসেন (৩০) উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের ভাদ্রা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলম মিয়ার ছেলে। সে ভাদ্রা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাদ্রা গ্রামের আজাহার ও রাজীবের মধ্যে জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিরোধের জের ধরে বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি বেল গাছ থেকে বেল পাড়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে আজাহার ও তার পরিবারের লোকজন ধারালো দেশিও অস্ত্র দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাজীবকে কোপাতে থাকে। এ সময় তার পরিবারের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে তাদেরও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ৫ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত রাজীবের ময়নাতদন্ত মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষ পৃথকভাবে মহান মে দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করেছে।
বুধবার (১ মে) দুপুর ১১টার দিকে শহরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ করে এক পক্ষ। এর নেতৃত্বে ছিলেন, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেডিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদসহ অনেকে।
এদিকে একই সময়ে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে শ্রমিক সমাবেশ করে টাঙ্গাইল পৌর শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, আমানুর রহমান খান রানা এমপি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান আনসারীসহ অনেকে।
মহান মে দিবসকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরেই চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় পক্ষ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশের ডাক দিলে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয়পক্ষকে একইস্থানে সমাবেশ না করার জন্য বলা হয়। পরে দু’পক্ষ পৃথক স্থানে সমাবেশের আয়োজন করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে শহরের বটতলা থেকে নিরালা মোড় পর্যন্ত সব ধরনের সমাবেশ বন্ধ রাখা হয়।

রাত থেকেই প্রশাসন পৌর উদ্যানের প্রবেশ পথ, বটতলা মোড়, নিরালা মোড়, মডেল প্রাইমারি স্কুলের মোড়, প্রিন্স হোটের সামনে ও কলেজ পাড়া চৌরাস্তা বালুর ট্রাক দিয়ে আংশিক বন্ধ করে দেয়। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে শহরে কোন রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দুপক্ষের শ্রমিক সমাবেশ শান্তিপুর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মহান মে দিবসে শ্রমিকদের নিয়ে বিশাল শোডাউনের মধ্যে দিয়ে শ্রমিক সমাবেশ করেছে পৌর শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
বুধবার (১ মে) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে ২২টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত পৌর শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোহের।

সমাবেশটি উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন। সমাবেশে এসে একাত্বতা প্রকাশ করেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা।
পৌর শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রেজাউর রহমান চঞ্চল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ওয়াজির হাসান খান শরীফ হাজারী, শিক্ষা ও মানব-সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকে মহসিন শিকদার, উপ-প্রচার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি শামীমুল আক্তার শামীম, সদস্য আমিরুল ইসলাম খান ও আকরাম হোসেন কিসলু প্রমুখ।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার রুনু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ হাসান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক আহম্মেদ রাজীব।
সমাবেশে এসে একাত্বতা প্রকাশ করেন জেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মাতিনুজ্জামান খান সুখন ও টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় ক্রিয়াশীল বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের বিগত দিনগুলোতে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে দুই বছর পূর্বে ২২টি শ্রমিক সংগঠন নিয়ে পৌর শ্রমিক ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এই সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠন যে সঠিক পথে চলছে, তার প্রমান এই প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে হাজার-হাজার শ্রমিকদের এই সমাবেশে উপস্থিতি।
বক্তারা আরও বলেন, টাঙ্গাইলে আর কোন শ্রমিক সংগঠনের পকেট কমিটি গঠন করতে দেওয়া হবেনা। প্রতিটি সংগঠনের নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে।
এদিকে, শহরের শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা শ্রমিক ফেডারেশন পৃথক শ্রমিক সমাবেশ করেছে। উক্ত শ্রমিক সমাবেশে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য অনুপুম শাজাহান জয়, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসসদ সদস্য খান আহম্মেদ শুভ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিমা বাছেদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মে দিবসের কর্মসুচীকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুটি পক্ষই শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশের আহবান করে। এনিয়ে শহরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে প্রশাসন কোন পক্ষকেই পৌর উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। পরে একটি পক্ষ জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের ব্যানারে শহরের শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও অপরপক্ষ পৌর শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে সমাবেশ আহবান করে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাত থেকেই প্রশাসন পৌর উদ্যানের প্রবেশ পথ, বটতলা মোড়, নিরালা মোড়, মডেল প্রাইমারি স্কুলের মোড়, প্রিন্স হোটের সামনে ও কলেজ পাড়া চৌরাস্তা বালুর ট্রাক দিয়ে আংশিক বন্ধ করে দেয়। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে শহরে কোন রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দুইপক্ষের শ্রমিক সমাবেশ শান্তিপুর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মো. লুৎফর রহমান (৩২) নামে এক প্রবাসীকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ২ জন।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের সহবতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রবাসী লুৎফর রহমান উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের সহবতপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. আশরাফ আলীর ছেলে।
আহত দু’জন হলেন, ওই ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদ দেওয়ানের ছেলে আব্দুল মতিন (২৬) ও মো. আজম মিয়ার ছেলে আব্দুল বাতেন (৪২)। তাদের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
এঘটনায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সহবতপুর ইউনিয়নের লালটু মিয়ার ছেলে মো. যুবায়ের (২৭) ও বদ্দু মিয়ার ছেলে মো. আকাশ (২২)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সহবতপুর ইউনিয়নের শালিয়ারা গ্রামের ময়নাল সিকদার কাঠ ব্যবসায়ী বাকাইয়ের কাছে একটি আম গাছ বিক্রি করেন। রবিবার সকালে ওই ব্যবসায়ী ৩ জন গাছ কাটার লেবার (গাইছা) কে গাছ কাটতে পাঠান। গাছ কাটার সময় ঘরের চালের উপর ডাল যেন না পড়ে এ নিয়ে লেবারদের গাছ কাটতে বাঁধা দেয় ময়নালের ছেলে নজরুল। এ নিয়ে লেবারদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নজরুল ও তার ছোট ভাই মিলে একজনক লেবারকে মারধর করে ও অপর জনকে গাছের সাথে বেঁধে রাখে।
খরব পেয়ে কাঠ ব্যবসায়ী বাকাই এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাদেরকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। পরে ওই দিন সন্ধায় লেবার করিমের ভাতিজা বাতেন লুৎফর ও মতিনকে সাথে নিয়ে নজরুলের বাবা ময়নালের সাথে কথা বলার জন্য সহবতপুর বাজারে যায়। ময়নালের সাথে কথা বলার সময় নজরুলের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত ভাবে তাদের উপর হামলা করে। মুমুর্ষ অবস্থায় লুৎফরকে উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নয়ন মন্ডল তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
গুরুতর আহত বাতেন ও মতিনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মতিনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, গাছ কাটা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মিমাংসার উদ্দেশ্যে বাতেন, লুৎফর ও মতিন সহবতপুর বাজারে ময়নালের কাছে যায়। এসময় ময়নালের ছেলে নজরুল দলবল নিয়ে তাদের উপর হামলা করলে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নয়ন মন্ডল জানান, নিহত লুৎফরের বুকের বা পাশে ছুরিকাঘাতের কারনে হার্টে ইনজুরি হয়ে লুৎফরের মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় নাগরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২জন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।