একতার কণ্ঠঃ মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষার ফল নিয়ে টাঙ্গাইলের সখীপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, বিদ্যালয়টি থেকে এবার কেউ পাস করেনি। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক বলছেন, পাসের হার ৫০ শতাংশ।
এমন বিভ্রান্তিমূলক ঘটনায় জেলা-উপজেলাজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। উপজেলার কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিবরণীতে বিদ্যালয়টি থেকে এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তারা সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে ওই বিদ্যালয়ে এবার পাসের হার শূন্য। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। আর এতে তোপের মুখে পড়েছেন ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, এ বছর সব শিক্ষার্থী ফেল করার তথ্যটি সঠিক নয়। আমাদের বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচজন পাস করেছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষা অফিসের সঙ্গে তথ্যের গরমিল যাচাই করতে প্রধান শিক্ষকের কাছে অনলাইনে প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা জানতে চাওয়া হয়। গত রবিবারে সরকারি ভাবে অনলাইনে প্রকাশিত ফলাফল তালিকায় দেখা যায়, ওই বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫ জন কৃতকার্য হয়েছে।
বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে বিদ্যালয়ের এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেনটিফিকেশন নম্বর (ইআইআইএন) দিয়ে যাচাই করা হলেও প্রধান শিক্ষকের কথার সত্যতা পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাকে যে ফলাফল সরবরাহ করা হয়েছে, আমি সেটাই সরবরাহ করেছি। তবে তথ্য আবারও যাচাই করা হবে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের একটি খেলার মাঠের পাশে ‘কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়।
ওই বছর একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়। পরে ২০২২ সালে দুজন এবং ২০২৩ সালে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এবার ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন পাস করেছে।
তবে সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ‘ভুল’ তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একদিনের ব্যবধানে সাপের কামড়ে পৃথক স্থানে দুই গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর ও থলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিকালে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রউফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ মে) ও বুধবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার স্ত্রী আরিফা বেগম (২২) ও থলপাড়া গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী রুলিয়া বেগম (৪০)।
জানা গেছে, বুধবার রাতে রুলিয়া বেগম তার বসতঘরের সোফায় বসে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। পরে বিষয়টি পরিবারের লোকজনদের জানালে তারা স্থানীয় এক ওঝাকে দিয়ে ঝাড়ফুঁক করান। এ সময় রুলিয়া বেগম অচেতন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকালে গৃহবধূ আরিফা তার বাড়ির পাশে বসে তার বাচ্চাকে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় একটি বিষধর সাপ এসে তার পায়ে কামড় দেয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুর রউফ বলেন, সাপের কামড়ে এক গৃহবধূ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং অপরজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। দুই জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেছেন, দেশে এখন চালের পুষ্টি ও গুণগত মানের কথা চিন্তা করে ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। স্বল্প জীবন কালের উচ্চ ফলনশীল জাত নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। খরা সহিষ্ণু জাত, লবানাক্ততাসহ বিভিন্ন সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। যে কারণে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অল্প সময়ে একই জমিতে বছরে অধিক ফসল উৎপাদন করে কিভাবে কৃষকরা লাভবান হবে, সে কথা চিন্তা করে ধানের জাত নিয়ে গবেষণা করছি। এখন চালের পুষ্টি, জিংক সমৃদ্ধ চাল উৎপাদনে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০,১০৪ ও ১০৫ জাতের ধানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধানের পুষ্টিমান বেশি, উৎপাদন বেশি। এ ধানের চাল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী।
এ সব জাতের ধান উৎপাদনের মধ্যে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির মুশুদ্দি গ্রামে সরিষা অন্তভুক্তির মাধ্যমে দুই ফসলী শস্য বিন্যাসকে তিন ফসলী বিন্যাসে উন্নয়ন প্রদর্শনীর বঙ্গবন্ধু ধান ব্রি- ১০০ ব্রি-ধান ১০৪ ও ১০৫ জাতের ধানের মাঠ দিবস ও মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধনবাড়ির মুশুদ্দি গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগ এ মাঠ দিবস ও মতবিনিময় সভা বাস্তবায়নে গাজীপুরের ব্রি আরএফএসর বিভাগের সিএসও ড. মো. ইব্রাহীম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কবির হোসেন, ধনবাড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি আনছার আলী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন প্রমুখ।
এ সময় কৃষক-কৃষাণী কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মুশুদ্দি গ্রামের বটতলায় সরিষা অন্তভুক্তির মাধ্যমে দুই ফসলী শস্য বিন্যাসকে তিন ফসলী বিন্যাসে উন্নয়ন প্রদর্শনীর বঙ্গবন্ধু ধান ব্রি- ১০০ ব্রি-ধান ১০৪ ও ১০৫ জাতের মাঠ দিবসে ধান কর্তন করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রদর্শণী পরিদর্শন করেন তিনি।
এর আগে সকালে মধুপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুরের বোরো ২০২৪ মৌসুমে স্থাপিত এসপিডিপি প্লটে চাষকৃত ব্রির ধান ১০২ জাতের ফসল কর্তণ ও মাঠ দিবস করেছে ফলিত গবেষনা বিভাগ ব্রি গাজীপুর।
মধুপুর কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্রি ফলিত গবেষনা বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হুমায়ুন কবির। মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকুরা নান্মির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তাজবি নুর রাত্রি, মধুপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ কৃষকরা এসময় বক্তব্য রাখেন। এসময় মাঠ দিবসে কৃষক কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারি উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী মো. রাকিব মিয়াকে (২২) আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে গোপালপুর পৌর শহরের হাটবৈরান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত গৃহবধূর নাম নূরী বেগম (১৯)। সে উপজেলার সূতি লাঙ্গলজোড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে রাকিবের সাথে নূরী বেগমের প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের সম্পর্কে গড়ায়। বিয়ের পর থেকেই রাকিব নূরী বেগমের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাকিব নূরী বেগমকে মারধোর করে। এতে নূরী বেগম জ্ঞান হারালে রাকিব নিজেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে, রাকিব পালিয়ে যায়।
নিহত নূরীর বড় বোন মল্লিকা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত রাকিব তার বোনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। এমনকি তাদের সাথে মোবাইল ফোনেও কথা বলতে বাঁধা দিত। আমি রাকিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সরোয়ার হোসেন খান সোহেল জানান, মৃত অবস্থায় নূরী বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে তার স্বামী রাকিব। কর্তব্যরত চিকিৎসক নূরীকে মৃত ঘোষণার পর রাকিব মরদেহ ফেলে রেখেই পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহের গায়ে নির্যাতনের পুরনো চিহ্ন রয়েছে।
এবিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, মরদেহের গায়ে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মধ্যরাতে বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে আটকে রেখে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও আলমিরাতে থাকা ১৯ ভরি স্বর্ণ অলংকার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের বাঁধা দিলে গেলে তাদের দু’জনকে মারপিট করে আহত করা হয়।
সোমবার (১৩ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া পশ্চিমপাড়ার আলীম আল রাজিম আকন্দের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে কয়েড়া ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুবেল সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগি আলীম আল রাজিম জানান, বাসার পেছনে লোহার গ্রিল কেটে মধ্যরাতে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে ডাকাত দল। তখন আনুমানিক রাত দেড়টা হবে। পরে হঠাৎ কোনো কিছুর শব্দে ঘুম ভাঙলে চিৎকার করার চেষ্টা করলে আমার ও সন্তানদের মাথায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
এর একপর্যায়ে আমার স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায় এবং সে আমাকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আলমারি ও লকারের চাবি চায় ডাকাত দল। পরে চাবি দিতে না চাইলে ডাকাতরা আমাদের সাড়ে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে ও মারধর করে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও ১৯ ভরি স্বর্ণ লুটপাট করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, তারা রাত ৪ টার দিকে পালিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক আমি বাসা থেকে বেরিয়ে ডাক-চিৎকার করলে লোকজন আমাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখানে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসি। এরআগে সকালে বিষয়টি ভূঞাপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ জানান, মঙ্গলবার (১৪ মে) ভোরে ঘটনাটির ব্যাপারে ভুক্তভোগী জানালে দ্রুত টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ না করলেও আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. শিপন ইসলাম (২১) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
মঙ্গলবার (১৪ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার ছাব্বিশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলেজছাত্র শিপন ইসলাম উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চরবিহারী গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। সে ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী ছিল।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- ঈমান আলীর ছেলে মনিরুজ্জমান (৪৮), হামিদের ছেলে হাবিবুর (২২), আইয়ুব আলীর ছেলে দুলাল হোসেন (২০)। আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এরমধ্যে হাবিবুরসহ অন্যজন ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অপর আহতদের মধ্যে মনিরুজ্জামান ও দুলাল হোসেন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানান, গোবিন্দাসী থেকে একটি মোটরসাইকেল ভূঞাপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ছাব্বিশা এলাকায় পৌঁছলে ভূঞাপুর থেকে আসা অপর একটি মোটরসাকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শিপনসহ দুই মোটরসাইকেল আরোহী ৫ জন আহত হয়।
এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপন নামে একজন পরীক্ষার্থী মারা যায়।
প্রতিবেশি হ্যাপি আকন্দ জানান, শিপন ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলযোগে পরীক্ষা দিতে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথেই ছাব্বিশা এলাকায় পৌঁছলে দুই মোটরসাইলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়ে শিপন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জুলফিকার হায়দার বলেন, আহত অবস্থায় ৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় লোকজন। পরে আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া আহত অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি জানা নেই এবং কেউ জানায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সড়ক দিয়ে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার সময় গরুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের কনস্টেবল নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৩ মে) সকালে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার অর্জূনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পুলিশ সদস্য আলাউদ্দিন খান উপজেলার অর্জুনা গ্রামের মৃত মাজম আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আলাউদ্দিন স্থানীয় অর্জুনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় গরুবাহী ট্রাক তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সে ঘটনাস্থলে গুরুত্বর আহত হয়ে সড়কের উপর পরে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে টাঙ্গাইল যাওয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. খাদেমুল ইসলাম জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শারিরীক অবস্থা খারাপ হওয়ায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান উল্ল্যাহ জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য জানা নেই।
একতার কণ্ঠঃ ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলে ঋণ খেলাপির দায়ে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, একজন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় একজন ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার (১২ মে) চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইকালে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন মির্জাপুর, বাসাইল এবং সখীপুর উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী।
যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন- বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন লাভলু, মির্জাপুর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম, বাসাইল উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাম্মী আক্তার মুক্তি এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম খান।
রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার হাটকয়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মাসাতের অভিযোগ উঠেছে।
আর প্রধান শিক্ষকের এসব কর্মকান্ডের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে অভিভাকরা ক্রমাগত তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করায় বিদ্যালয়টি প্রায় শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পরার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও অভিভাবকদের মতে প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামতের নামে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অভিভাবকরা জানান, গত ২০১১ সালের ২৭ মার্চ ঘাটাইল উপজেলার হাটকয়েড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মো. সোহরাব হোসাইন। পার্শ্ববর্তী গ্রামে তার বসবাস হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রভাবে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয়ে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। এছাড়া প্রতি বছর স্লীপ ফান্ডের অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় করেন এ ব্যাপারে কমিটির অন্যরা কিছুই জানেন না।
ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী জানান, প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসাইন যোগদানের সময় ওই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াইশ। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতকের নীচে।
সরেজমিনে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহমুদুল হাসান মুকুল, কামরুল হাসান, অভিভাবক আবুল কালাম, গিয়াস উদ্দিন, নিতাই সুত্রধর সহ অনেকেই জানান, বিদ্যালয়ে পড়াশুনার কোন পরিবেশ নেই। প্রধান শিক্ষক নিজে চারজন সহকারী শিক্ষিকা নিয়ে অফিস রুমে প্রায়ই টাঙ্গাইলের কৌতুক অভিনেতা আহসানের ভাদাইমা নাটক দেখে সময় কাটান। এছাড়াও তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন সরকারি চাকুরি করেন। এ স্কুলে শিক্ষার্থী না থাকলেও তার চাকুরি যাবেনা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামীম আল মামুন জানান, তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধান শিক্ষক কোন মাসিক প্রতিবেদনে স্বাক্ষর নেয়নি। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভাউচারের বিপরীতে তার স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক টাকা উত্তোলন করেছেন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়নি। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত তা বিচ্ছিন্ন। বিদ্যালয়ের একমাত্র নলকূপটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
ঘাটাইল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হোসাইন জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি অন্যত্র বদলীর জন্য অফ লাইনে চেষ্টা করছেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে জয়নাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
দায়ের করা মিথ্যা মামলায় শিকার হয়েছেন উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের মৃত ইব্রাহিম খাঁর ছেলে মো. শুকুর আলী ও লালু শিকদারের ছেলে আব্দুল আজিজ।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮ টার দিকে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সামাদ দেওয়ানের মুদির দোকানে রাতের বেলায় রাস্তায় টর্চ জালানোকে কেন্দ্র করে মামলার বাদী জয়নাল মিয়ার ছেলে চাঁন মিয়ার সাথে স্থানীয় মো. রাব্বেস মিয়ার সাথে বাকবিতন্ডা হয়।
বাকবিতন্ডতার এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রুপ নেয়। সেখানে উপস্থিত বাদী জয়নাল মিয়ার হাতে থাকা টর্চ লাইট নিয়ে তাঁর ছেলে চাঁন মিয়ার মাথায় আঘাত করে অভিযুক্ত রাব্বেস। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হয়। ঘটনায় সামান্য আহত চাঁন মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জামুর্কী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চাঁন মিয়া বাড়ী চলে যায়।
পরে শুক্রবার (১০ মে) মির্জাপুর থানায় মো. রাব্বেস মিয়া, মো. শুকুর আলী ও মো. আব্দুল আজিজকে হত্যা চেষ্টা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত করে জয়নাল মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মুদি দোকানদার সামাদ দেওয়ান বলেন, ঘটনার দিন রাতের বেলা অভিযুক্ত রাব্বেস তার মুদি দোকানের সামনে রাখা চেয়ারে বসেছিলো। হঠাৎ চাঁন মিয়া ও তার চাচাতো ভাই কালাম রাব্বেসকে বলে তুই আমার বাবার সাথে বেয়াদবি করেছিস কেন। তারপর হঠাৎ করেই রাব্বেসকে চাঁন মিয়া ও কালাম অতর্কিত কিল, ঘুষি মারতে শুরু করে। মারতে মারতে তাকে পাশের টিউবওয়েল পারে নিয়ে ফেলে দেয়। এসময় রাব্বেস আত্মরক্ষার্থে তার পাশে উপস্থিত চাঁন মিয়ার পিতা জয়নালের হাতে থাকা টর্চ নিয়ে চাঁন মিয়াকে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মারামারির সময় শুকুর আলী ও আব্দুল আজিজ কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলোনা।
মামলার বাদী জয়নাল মিয়া বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মামলায় অভিযুক্ত শুকুর আলী ও আব্দুল আজিজ উপস্থিত ছিলো কিনা আমি দেখি নাই। তবে আমার মনে হয়েছে পাশেই অন্ধকারে তারা দাঁড়িয়ে ছিল এবং মারামারিতে তাদের ইন্ধন ছিল। এজন্যই মামলার এজাহারে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড মেম্বার লতিফ রানা বলেন, মারামারির ঘটনা ঘটেছে এটা ঠিক। কিন্তু ঘটনাস্থলে শুকুর আলী ও আব্দুল আজিজ কেউ উপস্থিত ছিলোনা। তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো সঠিক হয়নি।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ান বলেন, ঘটনার দিন আমি মোটরসাইকেল নিয়ে সামাদ দেওয়ানের দোকানের সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, এসময় দোকানের সামনে লোকজনের জটলা দেখতে পাই। পরে আমি বাসার দিকে রওনা হই। কিছুদূর যাওয়ার পর লোকজনের ধর ধর চিৎকারে আমি মোটরসাইকেল থামালে রাব্বেসকে দৌড়িয়ে পালিয়ে যেতে দেখি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি রাব্বেসের সাথে চাঁন মিয়া ও কালামের মারামারি হয়েছে। পরে স্থানীয়রা চাঁন মিয়াকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে জামুর্কী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে পারি মামলার অভিযুক্ত শুকুর আলী ও আব্দুল আজিজ মারামারিতে জড়িত ছিলোনা। পূর্ব শত্রুতার জেরেই তাদেরকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ সবুজ পাতা ছাপিয়ে সোনালি রঙের ফুলে সেজেছে সোনালু গাছ। প্রতিটি গাছের গা থেকে যেনো হলুদ ঝরনা নেমে এসেছে। বাতাসে কিশোরীর কানের দুলের মতো দুলতে থাকে এ ফুল, আকৃষ্ট করে
পথচারীদের।
টাঙ্গাইল পৌর শহরের ধুলের চর মাদ্রাসার সামনের ডিসি লেকের পশ্চিম দিকের পাকা সিঁড়ির পাশে একটি, লেকের পাড়ের রাস্তার ধারে আরও দুটি ও উদ্যান তত্ত্ব অফিসের আঙিনায় আরও তিনটি সোনালু গাছ ফুলে শোভিত হয়ে আছে।
এই সড়কে চলাচলকারী পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, প্রাইভেট কার আরোহীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যের ভান্ডার এই সোনালু ফুল গাছগুলো।
জানা গেছে, সোনালু গাছ পাতা ঝরা মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ। এটি আট থেকে ৯ মিটার উঁচু হয়। হলুদ বরণ এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি আছে তার বাহারি নামও।
পরিচিত নামগুলো হলো- সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক নাম,ক্যাসিয়া ফিস্টুলা, ইংরেজি নাম গোল্ডেন শাওয়ার ট্রি।

হাজার বছর আগেও এ গাছ আমাদের উপমহাদেশে ছিল। এ গাছের বৈশিষ্ট্য হলো ঝাড় লণ্ঠনের মতো দীর্ঘ মঞ্জরি এবং উজ্জ্বল হলুদ ফুল। এ গাছের আদি নিবাস হলো ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। এর ফুল, ফল ও পাতা বানরের খুব প্রিয়। সোনালু কাঠের রং ইটের মতো লাল। ঢেঁকি ও সাঁকো বানানোর কাজেও এ গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়।
এই ফুলের সৌন্দর্য প্রসঙ্গে পথচারী মাহবুব চৌধুরী মনি বলেন, এই সময়ে আমি যতবার মোটরসাইকেল নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি, কিছুটা সময় হলেও মোটরসাইকেল থামিয়ে এই ফুলের শোভা উপভোগ করি। এই লেকের পাড়ে আরও আছে কৃষ্ণচূড়া, পলাশসহ বেশ কিছু গাছ, যেগুলো সব সময়ই আমাকে কাছে টানে। ইট-কাঠ-কড়ি-বরগার এই শহরে আরও কিছু এই ধরনের গাছ লাগানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র শৈবাল চৌধুরী বলেন, আমি জন্মসূত্রে কক্সবাজার জেলার হলেও পড়ালেখার কারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার ধুলেরচর এলাকায় থাকি। যখনই আমি সময় পাই ডিসি লেকের এই ঘাটলায় বসে সোনালু ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি। পড়ালেখা করতে করতে যখন একঘেয়েমি পেয়ে বসে তখনই আমি এই গাছগুলোর সামনে এসে দাঁড়াই। নিমিষেই আমার সেই একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
হাকিম মো. ইকবাল হোসেন বিইউএমএস( ঢাবি) জানান, সোনালু গাছের বাকল এবং পাতায় ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। ব্লাডপ্রেসারে নাক দিয়ে রক্ত পরলে সোনালুর ফলমজ্জা আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে তা ছেঁকে চিনি বা মধু দিয়ে পান করলে এই সমস্যার সমাধান হয়। অন্ত্রের সমস্যায় চার-পাঁচ গ্রাম ফলমজ্জা চার কাপ পানিতে সেদ্ধ করে ছেঁকে সকালে ও বিকালে পান করলে সুবিধা পাওয়া যায়। কোষ্ঠ্যকাঠিন্যও দূর হয়। এটি খুবই ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। ইউনানী চিকিৎসায় এখনো এই গাছের ব্যবহার রয়েছে।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজাদুজ্জামান জানান, সোনালু গাছ একটি বনজ শোভা বর্ধনকারী গাছ। এই গাছটি ভারত উপমহাদেশের একটি গাছ। এই শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ, পাখিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। গাছের উজ্জ্বল হলুদ ফুল মৌমাছি ও প্রজাপতিদের আকর্ষণ করে পরাগায়নের সহযোগিতা করে থাকে। এই গাছ মূলতঃ সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লাগানো হয়ে থাকে । সোনালু গাছের সাথে কৃষ্ণচূড়া, পলাশ প্রভৃতি গাছ লাগালে আরও বেশি সৌন্দর্য বর্ধন করে থাকে।
একতার কণ্ঠঃ ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দুইদিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ মে) দিনব্যাপি ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ হলরুমে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই)। প্রশিক্ষণ কর্মশালা ১১ মে সমাপ্তি হবে।
এ সময় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহম্মদ মতিয়ুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার, ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ প্রমুখ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- নির্বাচনের দিন ৭০ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫১১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ২৩ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলায় ৬৭ টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আগামী ২১ মে নির্বাচন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিয়োজিত থাকবে বলে জানা গেছে।