একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৃথক পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৫ জন।
শুক্রবার (১৪ জুন) ভোরে কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল কলেজের সামনে ভোররাতে ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাইভেট কারের চালকসহ ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পুংলী এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫ জন আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্যান্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
একই সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, মাঝ রাতের কোন এক সময় কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় একটি গরু বোঝাই ট্রাকের সাথে একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৬ জনকে নেওয়া হয়।
এ সময় জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ৬ জনের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে নিশ্চিত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এখনো নিহত দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুরুত্বর আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার কদমতলী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাটাইল থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কদমতলী বাজারের উত্তর পাশে মেসার্স জামাল কয়েল এন্ড লাকড়ি মিলের পশ্চিম পাশে সড়কের উপর মধুপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি মিনি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো ১-১১-৩২০৮) ও কদমতলী থেকে ঘাটাইলের দিকে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘাটাইল থানা পুলিশ ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বর আহত মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনের দুইজনকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
এদের মধ্যে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন বাদশাকে (৪৮) মৃত ঘোষণা করে।
নিহত বাদশা উপজেলার গারট্ট গ্রামের মৃত জুলহাস উদ্দিনের ছেলে।
মোটরসাইকেলের অপর আরোহী জুয়েলকে (৪৫) কালিহাতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করে।
নিহত জুয়েল ঘাটাইল উপজেলার কাশতলা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে গোপালপুরে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত মোটরসাইকেল আরোহী শামসুজ্জামান আদিলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। চালককে আটক করাসহ ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টানা ২৯ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয় ভবনে কোচিং বাণিজ্য, উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেওয়া, শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, মাধ্যমিক পাশ করা পছন্দের ব্যক্তি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়াসহ গুরুত্বর অসংখ্য শিক্ষা নৈরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে ভারপ্রাপ্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এরপরও উচ্চ আদালতে পদ বহাল রাখার মামলা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল নামের ওই শিক্ষক।
পদটি বহাল রাখতে উচ্চ আদালতে নিজে বাদি হয়ে মামলা করে দায়িত্ব পালন করছেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। মামলাটি চলমান থাকায় অসংখ্য অভিযোগ সত্ত্বেও তাকে বদলী করতে পারছেন না বলেও জানান তারা।
যদিও ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-২ শাখার জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নূন্যতম স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যক্তি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান সভাপতি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ.এস.সি পাশ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার ওয়েবসাইটে পৌর পরিষদের মেয়র ও কাউন্সিলরগণের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা থাকলেও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেনের মোবাইল নম্বর ব্যতিত অন্য কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও এ বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই রয়েছে বঞ্চিত। অপরদিকে উপবৃত্তির আবেদনের নামে ৫০ থেকে ৩’শ টাকা ফি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ৪২ শতাংশ জমির উপর টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নে স্থাপিত হয় অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালের ১১ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। তৎকালিন সময়ে এটি ছিল কমিউনিটি বিদ্যালয়। কিছুদিন পর এটি রেজিস্টার ও ২০১৩ সালে হয় জাতীয়করণ। বর্তমানে এর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১১২জন। এর মধ্যে ৫ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ২৬ জন। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ রয়েছেন চার জন সহকারি শিক্ষক।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দ্বিতল বিশিষ্ট অতিরিক্ত একটি শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আছে পাকা একটি সৌচাগারও। নেই পানিপানের কোন টিউবওয়েল। কোন এক সময় টিউবওয়েল থাকলেও স্মৃতি স্বরূপ এখন রয়েছে শুধু পাইপ।
ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, প্রায় তিন বছর যাবৎ আমাদের স্কুলের টিউবওয়েল নষ্ট হয়েছে। পানির অভাবে আমাদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি খাই আমরা। এছাড়া আমাদের অনেকেই উপবৃত্তি পাচ্ছেনা। কাজল স্যারও প্রতিদিন স্কুলে আসেন না বলে জানায় তারা।
দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সামিরা, তানিসা আক্তার, জাকিয়া, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী লামিয়া, জুঁই, ইব্রাহিম, শাহিন আলম,পঞ্চম শ্রেণীর সিহাব, সিয়ামসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে রয়েছে বঞ্চিত।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রিফাতের মা বলেন, উপবৃত্তির জন্য ৫০ টাকা নিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজল মাস্টার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত আমার ছেলে উপবৃত্তির টাকা পেলেও গত তিন বছর যাবৎ পাচ্ছেনা। কেন উপবৃত্তির টাকা আসছেনা জানতে গেলে স্যার শুধু বলেন আসবোনি।
৩য় শ্রেণীর ছাত্রী জাকিয়ার নানী ও অলোয়া গ্রামের শেরিনা বলেন, উপবৃত্তির জন্য আমার ও জাকিয়ার নানার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিসহ জন্ম নিবন্ধনের জন্য কাজল স্যার আমার কাছ থেকে ২’শ টাকা নিয়েছেন। এরপরও আমার নাতনী উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেনা।
চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র আহাদ এর বাবা সবুজ মিয়া বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে উপবৃত্তি পেলেও তৃতীয় আর চতুর্থ শ্রেণীতে উপবৃত্তি পায়নি। কেন পাচ্ছে জানতে চাওয়ায় কাজল স্যার আমার কাছে ইংরেজী ও বাংলা জন্মসনদ দাবি করেন। জন্মসনদ দেওয়ার পরও উপবৃত্তি পাচ্ছেনা আমার সন্তান। এখন স্যার বলেছেন এটি দেলদুয়ার প্রাথমিক অফিসের সমস্যা।
নাহিদ, জিহাদসহ একাধিক ৫ম শ্রেণীর ছাত্ররা জানায়, মাসে ৩’শ টাকা নিয়ে তাদের বিদ্যালয় ভবনে কোচিং করাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল। মোট ২৬জন ছাত্র-ছাত্রী পড়ছে এই কোচিং এ। সকাল ৬ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত তাদের পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস করে তারা।
অভিভাবক রিনা বলেন, টিউবওয়েল নেই, পায়খানায় তালা দিয়ে রাখাসহ বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর পাশাপাশি ঠিক মত পড়াশোনা করানো হয়না। প্রতিবাদ ও বক্তব্য দেয়ার কারণে আমাদের সন্তানদের সমস্যা করবেন কাজল মাস্টার বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
জীবন সুত্রধর বলেন, ইউনিয়নের স্থায়ি লোক ছাড়া স্কুলে চাকুরি দেয়া হবেনা নিয়োগে এমন শর্ত ছিল সে সময়। কাজল মাস্টারের বাড়ি পৌরসভার অংশে পরায় চাকুরিটা হচ্ছিলানা তার। এ কারণে কাজল মাস্টার আমার বাবা প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া পাথরাইল ইউনিয়নের অলোয়া তারিনীর তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা দেখায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন কাজল মাস্টার। চাকুরি পেয়ে এখন জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার কথাই বলছেননা। কাজল মাস্টার একজন প্রতারক। জমি লিখে নেয়ার বিষয়টি গ্রামের সকল মানুষই জানে বলে জানান তিনি। জমিটি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় মাতাব্বর জুলহাস বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল ও সহকারি শিক্ষক কোরবান আলী এক হয়ে স্কুলে অনিয়ম ও দূর্নীতির স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেছেন। উপবৃত্তির আবেদনের নামে টাকা নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের কারণে দিনদিন স্কুলের মান নিচের দিকে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা এখনও স্কুলের নামটিই ঠিক মত বলতে পারেনা, স্কুলের নাম বলে কাজল মাস্টারের স্কুল। ইতোপূর্বে আমরা তাদের অনিয়ম ও দূনীতির প্রতিবাদে লিখিত অভিযোগ করেছি, কিন্তু এরপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা হয়নি।
তিনি বলেন, এই স্কুলে চাকুরি নেয়ার জন্য পাথরাইল ইউনিয়নের স্থায়ি বাসিন্দা হওয়ার শর্ত ছিল। তবে কাজল মাস্টারের বাড়ি ছিল পৌরসভা এলাকায়। চাকুরি পেতে তিনি প্রয়াত তারাপদ সুত্রধরের কাছে অনুরোধ করে ও টাকা ছাড়া তিন শতাংশ জমি লিখে নিয়ে স্থায়ি ঠিকানা বানায়। চাকুরি পাওয়ার পর জমিটি ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল কাজল মাস্টার, কিন্তু চাকুরি পেয়ে এখন তার সন্তানদের জমিটি ফিরিয়ে দিচ্ছেননা তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাজল মাস্টার নিজের পছন্দের লোকজন নিয়ে পরিচালনা কমিটি করে দূর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তার অপসারণ ও সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
দিনদিন ছাত্র ছাত্রী কমে যাওয়ার কথা স্বাীকার করে ১৯৯৫ সাল থেকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত কোরবান আলী বলেন, এর আগে আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রী ছিল ১৮৫জন। এরপর কমে গত বছর হয় ১৩৫জন আর এখন আছে ১১২জন। পাশাপাশি অলোয়া তারিনী নূরাণী হাফিজিয়া মাদরাসা ও নতুন কূড়ি কিন্ডার গার্ডেন গড়ে উঠায় ছাত্র ছাত্রী কমছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের জামিদাতা ও পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি দশ বছর যাবৎ এ বিদ্যালয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জানতে পারি টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুককে সভাপতি বানানো হয়েছে। কিভাবে আর কাদের নিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠণ করা হয়েছে, সেটি আমি বা স্থানীয় কেউই জানেন না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল বলেন, মামলা চলমান থাকায় ২৯বছর যাবৎ আমি এ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাক্ষাতে আপনার চাওয়া সকল তথ্য আমি দিব বলে আর যোগাযোগ করেননি।
একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও বিদ্যালয়ের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক হোসেন ফোন রিসিভ করেননি।
দেলদুয়ার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌড় চন্দ্র বলেন, আমরাও ওই শিক্ষকের অপকর্মের বেশ কিছু সংবাদ দেখেছি। তবে উচ্চ আদালতে উনার করা স্ব পদে বহাল রাখার একটি মামলা চলমান থাকায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিষয়টি আমি দেখবো এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবগত করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বনিক জানান, উচ্চ আদালতে স্ব পদে বহাল রাখার জন্য করা তার একটি মামলা চলমান থাকার সুযোগ নিয়ে রথিন্দ্রনাথ সরকার কাজল অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এতদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই মামলার কারণে উনাকে বদলীও করা যাচ্ছেনা।
তিনি বলেন, তবে উনার বিরুদ্ধে নানা ধরণের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষকদের মানহানী হচ্ছে। শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করাসহ অনিয়মের বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে জমি সংক্রান্তে বিরোধের জের ধরে মসজিদে মাইকিং করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় মনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এসময় দু’পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের স্থলবল্লা গ্রামের উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়ার লোকজনের সাথে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ অবস্থান করছে।
নিহত মনোয়ারা বেগম স্থলবল্লা উত্তরপাড়ার শওকত মিয়ার স্ত্রী। আহতদের মধ্যে উত্তরপাড়ার ১০জন ও দক্ষিণপাড়ার ৫জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উত্তরপাড়ার মিনহাজ উদ্দিন (৩৭) ও বিল্লাল (৫৫) নামের দুইজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের স্থলবল্লা উত্তরপাড়ার শুকুর, জালাল, কালাম ও বিল্লালের সঙ্গে একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আনু, সেলিম, শফি, এনামুল হক ও রাসেলদের জমি-জমা নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে।
সেই বিরোধের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার(১১ জুন) বিকেলে গরুর হাট থেকে ফেরার সময় উত্তরপাড়ার জহিরুল, আয়নাল, আলাল, মজিবর ও ঠান্ডুর পথরোধ করে দক্ষিণপাড়ার এনামুল হক, আনু, রাসেল, বাদল, সেলিম সানাউল্যা ও সানুসহ কয়েকজনে। এসময় এনামুল হকসহ তারা কয়েকজনে উত্তরপাড়ার জহিরুলকে মারধর করে। পরে বুধবার সকালে মসজিদে মাইকিং করে দা, ফালা, টেটাসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে উত্তরপাড়ার আনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায় দক্ষিণপাড়ার লোকজন। এসময় উত্তরপাড়ার লোকজনে প্রতিহত করতে গেলে দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংঘর্ষ ফেরাতে গিয়ে মাথায় দেশির অস্ত্রের আঘাতে মনোয়ারা বেগম নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়। এসময় দুপক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের ছোট ভাই হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে উত্তরপাড়ার জহিরুল, আয়নাল, আলাল, মজিবর ও ঠান্ডু গরুর হাট থেকে ফেলার সময় দক্ষিণপাড়ার এনামুল হক, আনু, রাসেল, বাদল, সেলিম, সানাউল্যা ও সানুসহ কয়েকজনে মিলে তাদের পথরোধ করে। এসময় কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে আবার দক্ষিণপাড়ার লোকজনেই মসজিদে মাইকিং করে উত্তরপাড়ায় হামলা চালায়। আমার বোন ঝগড়া ফেরাতে গিয়েছিল। এসময় মাথায় ফালার আঘাতে আমার বোন মনোয়ারা গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমি নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছি। এসময় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমার বোন হত্যার বিচার চাই।’
বাসাইল থানার এসআই মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিহতের লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এ ঘটনায় দু’পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।’
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আতিক বলেন, ‘হাসপাতালে একজনের মরদেহ রয়েছে। আহত অবস্থায় কয়েকজনে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাদক বিরোধী অভিযানে মো. আফজাল শরীফ (৩৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (৯ জুন) দুপুরে পৌর শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আফজাল শরীফ কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পাছ চিনামুড়া গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এইচএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে পৌর শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো. আফজাল শরীফকে ৫ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ ধৃত আফজাল শরীফকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
তিনি আরও জানান,পরে দন্ডিত আফজালকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযানকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল হাবিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ি ওভারটেক করতে গিয়ে মো. বিল্লাল (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১০ জুন) সকাল ৮ টার দিকে মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপজেলার গোহালিয়া বাড়ি ইউনিয়নের সরাতৈল নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল হোসেন ঢাকা জেলার ডেমরা থানার ২৩/১১ বাদশা মিয়া রোডের মুসলিম নগর এলাকার মো. আনিস মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে একটি পালসার মোটরসাইকেল দ্রুত বেগে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় মোটরসাইকেলটির উত্তরবঙ্গগামী একটি অজ্ঞাত গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটনাস্থলে আরোহী মারা যায়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইউসুব আলী জানান, মহাসড়কের সরাতৈল নামক স্থানে একটি দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেল আরোহী নিহতের মরদেহ ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, রবিবার রাতে ঝড়-বৃষ্টি ও এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা এলাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও কোথাও যানজট সৃষ্টি ও থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করে। ফলে অনেকে ভোগান্তি এড়াতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করেন পরিবহন চালকরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেন-অটোরিকশার সংঘর্ষে আবু তালেব নামে এক লিচু ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
রবিবার (৯ জুন)ভোরে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার মসিন্দা রেল ক্রসিংয়ে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে অটো রিক্সার সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু তালেব উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের ছাতীহাটি গ্রামের আসর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুইজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার বেলাল হোসেন জানান, নিহত আবু তালেব এলেঙ্গা বাজার থেকে লিচু কিনে অটো রিকশাযোগে ছাতীহাটি যাচ্ছিল। পথিমধ্যে উপজেলার মসিন্দা রেল ক্রসিংয়ে পৌঁছালে ভোর ৬টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়।
তিনি আরও বলেন, এতে চালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে আবু তালেবের মৃত্যু হয়। বাকি দুইজনকে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান , নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে ।আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনে জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিনের ১৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার(৬ জুন) সকালে জেলা ফ্রেন্ডস ফোরামের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, কেক কাটা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের)।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, যায়যায়দিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন,টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের
সহ-সভাপতি কাজী জাকেরুল মওলা, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন,যুগ্ম-সম্পাদক কাজী তাজ উদ্দিন রিপন, সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক অরণ্য ইমতিয়াজ, সাংবাদিক মির্জা শাকিল, টাঙ্গাইল জেলা শিল্পী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, টাঙ্গাইল জেলা জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন।
এ সময় টাঙ্গাইলে কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, জেলা জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরামের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার(৫ জুন )দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটের সময় এ ঘটনা ঘটে।
এতে আশেপাশের কয়েকটি দোকান ও ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়।
এবিষয়ে ডিসি অফিস থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। খবর পেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, শহরের মেইন রোডে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারের অসচেতনার কারনে তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন লাইনের প্রধান পাইপ ফেটে যায়। এরপর প্রচন্ড বেগে গ্যাস আওয়ামী লীগের অফিসের দরজার নিচ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। অফিসবদ্ধ থাকায় গ্যাসের চাপে ৫ টি এসি, ১৬টি ফ্যান, ২টি কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিল ও আলমারিসহ অধিকাংশ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, রাস্তার উন্নয়ন কাজের সময় ভেকুর আঘাতে তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন পাইপ ফেটে গ্যাস মেইন রোডে ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন ভবন ও আমাদের আওয়ামী লীগ অফিসে প্রবেশ করে। গ্যাসের কারনে অফিসের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবহারের উপযোগী করতে অফিস সংস্কার করতে হবে। এর দায় ঠিকাদারকেই নিতে হবে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মোমেন বলেন, গ্যাস বিস্ফোরনের ঘটনায় ঠিকাদারের ত্রুটি আছে কি না সেটা তদন্ত হবে। যদি ক্রটি পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার প্রকৌশলী খোরশেদ আলম বলেন, গ্যাস লাইনের ত্রুটির কারনে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিস এবং আমাদের টীম গিয়ে লাইন বন্ধ করে দেয়। এবিষয়ে ডিসি অফিস থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাক-পিকআপের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৫ জুন) রাত ১ টার দিকে
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার আনালিয়াবাড়ী এলাকার ৯নং ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (০৬ জুন) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর আশরাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মশাউরা গ্রামের মুনছুর শেখের ছেলে ও পিকআপ চালক শিপন (৪০) এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মৃত শেখ আলিমুদ্দিনের ছেলে ও পিকআপের হেলপার শেখ মুহাম্মদ আসলাম (৫৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে পণ্য নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। পথিমধ্যে ঢাকাগামী অপর আরেকটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত অবস্থায় সামনে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পিকআপের চালক ও হেলপার মারা যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর আশরাফ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুইটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান,আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে নগদাশিমলা ইউনিয়নের বনমালী-জামতৈল সড়কে।
বুধবার (৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বনমালী এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়ে।
এদিকে সেতুটি ভেঙে পড়ার পর নদীতে জমে থাকা পানার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়রা হেঁটে নদী পারাপার হচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলার নগদাশিমলার বনমালী এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর ১৯৯৬ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৫ ফুট। নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে পানাগুলো একত্রিত হয়ে সেতুর পিলারে জমাট বাঁধে। সেতুর পিলারের নিচে মাটি না থাকায় নদীতে স্রোত ও পানার চাপে সেতুর মাঝ খানের প্রায় ২০ মিটার অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। বাকি অংশটুকুও ঝুঁকিতে রয়েছে।
নগদাশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আয়নাল হক বলেন, নদীতে পানি আসার আগেই সেতুটির নিচে জমে থাকা পানা পরিষ্কার করা হয়। এভাবেই বিগত পাঁচ বছর ধরে করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে বুধবার সেতুর মাঝখানে কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে নদীতে।
তিনি আরও বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ার পর লোকজন নদীতে জমে থাকা পানার ওপর দিয়ে হেঁটে নদী পার হচ্ছে।
উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান বলেন, সেতুটি দীর্ঘদিনের পুরাতন। সেতুর প্রস্থ ছিল ৫ ফুট। স্থানীয়দের যাতায়াতের স্বার্থে ঝিনাই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পুরাতন সেতু হওয়ায় সেটি সংস্কারের উপযোগী ছিল না। সেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠাবো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার সময় ৩ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৫ জুন) বিকাল পৌঁনে ৪ টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের হাবলা দক্ষিণ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (২২), মো. রিদওয়ান আলী (২১) ও সিয়াম মিয়া (২৩)।
পরে এ নিয়ে কেন্দ্রের সামনে পুলিশ ও প্রার্থীর সমর্থকদের হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। আটককৃতরা আনারস প্রতীকের সমর্থক বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো.শফিকুল ইসলাম জানান, আটককৃতরা এর আগে সকালে ভোট দিয়েছিলো। ওরা ফের বিকাল সাড়ে ৩টার পর ভোট দিতে আসলে যাচাই বাছাই করে চ্যালেঞ্জ করলে ওই তিন যুবক জাল ভোট দিতে এসেছে বলে স্বীকার করে। পরে পুলিশে খবর দিলে তাদের আটক করে।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
প্রসঙ্গত, বুধবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে বাসাইল উপজেলা পরিষদে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৭৬ হাজার ১৯৮ আর পুরুষ ভোটার ৭৫ হাজার ৬৩১ জন। ১টি পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বাসাইল উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৫৮ টি। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৭জন আর মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।