/ হোম / এক্সক্লুসিভ
টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আলী আকবর বাপ্পী (৩৩) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (২২ মে) দিনগত রাত দেড়টার দিকে পৌর এলাকার পার দিঘুলীয়া শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

নিহত বাপ্পী টাঙ্গাইল পৌর সভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর দিঘুলীয়া এলাকার মৃত দেলবর বেপারির ছেলে।

টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২২ মে) রাত ১২ দিকে মোবাইল ফোনে এক বড় ভাইয়ের কল পেয়ে বাপ্পী স্থানীয় একটি মুদির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে বাপ্পির স্ত্রী আখী আখতার শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে বাপ্পির রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পায়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, সোমবার রাতে ব্যবসায়ী বাপ্পিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে পার দিঘুলীয়া শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মডেল থানার উপপরিদর্শক সুলতান উদ্দিন খান ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরোও জানান, মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য কুপিয়ে জখম করার চিহ্ন রয়েছে। থানায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য,বাপ্পি টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে মাছের ব্যবসা করতো। সে বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল বাপ্পি। মাত্র তিন মাস আগে বাপ্পি এক কন্যা সন্তানের জনক হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাপ্পির পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. মে ২০২৩ ০১:১৯:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের উদ্বোধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুরে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ মে) দুপুরে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু,দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন, বিসিবি নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান প্রমূখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদে খেলাধুলাকে উৎসাহিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ছিল প্রতিটি গ্রামে একটি করে খেলার মাঠ থাকবে। যেটার নামকরন তিনি করেছিলেন ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’।

তিনি আরোও বলেন, প্রথম প্রকল্পটি আমরা জায়গার জন্য করতে পারিনি, সেটা দ্বিতীয় প্রকল্পে আমরা বাসাখানপুরে দখলকৃত সরকারী জায়গা দখল মুক্ত করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এছাড়া কিছু জায়গা ক্রয় করতে হয়েছে। এই মাঠটি পেয়ে এই গ্রামের মানুষ খুবই আনন্দিত।

জানা যায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত দেশের ১৮৬টি উপজেলায় ১৬শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলের বাসাখানপুরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মিনি স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্ড সন্স ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম লিমিটেড।

এই মিনি স্টেডিয়ামের পশ্চিম রাস্তার পাশে তিনতলা প্যাভিলিয়ানসহ অফিস কক্ষ এবং দক্ষিনে ও পূর্বে ২টি গ্যালারী নির্মাণ করা হবে। স্টেডিয়ামটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে এখানে ফুটবল লীগ ছাড়াও অন্যান্য খেলার আয়োজন করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল সহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়। ফলে খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করতে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে হিমশিম খেতে হয়। এই ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ উদ্বোধন হলে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামের উপর চাপ কমবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. মে ২০২৩ ০৪:৩৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৭৬ চরমপন্থী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৭৬ চরমপন্থী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া, কাতুলি, দ্যাইন্যা ও কাকুয়া ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চল। যমুনা ও ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত হওয়ায় এ অঞ্চলের চরমপন্থী আতঙ্কে দিন কাটতো সাধারণ মানুষের।

একটা সময় টাঙ্গাইলের চরাঞ্চল এলাকাকে বলা হতো ‘রক্তাক্ত জনপদ’। যেখানে খুন, লুট তরাজ, জিম্মি, ও অপহরণ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এ সকল এলাকায় কথিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) ও সর্বহারাসহ নানা চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান হয় নব্বইয়ের দশক থেকে।

চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে ২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর অংশ হিসাবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে চরমপন্থীদের পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক পেশায় পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যে তাদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নানা কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

বর্তমানে টাঙ্গাইলে ৩০টি সর্বহারা পরিবারের নারী সদস্যদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে ‘উদয়ের পথে’ নামক একটি পাইলট প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে।

আগামীকাল রবিবার (২১ মে) সিরাজগঞ্জ স্টেডিয়ামে র‌্যাব-১২ এর তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নিকট টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠীর মোট ৩২৩ জন সদস্য দুই শতাধিক অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করবেন। এদের মধ্যে শুধুমাত্র টাঙ্গাইলের চরমপন্থি রয়েছেন ৭৬ জন।

সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বেগুনটাল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম ও শওকত আলী বলেন, একটা সময় ছিল টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের মানুষ দিনের বেলাতেও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারতো না। সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণের খবরে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে স্থানীয়রা। এ খবরে স্বস্তি ফিরেছে চরাঞ্চলে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বেগুনটাল এলাকার সাবেক সর্বহারা দলের সদস্য বারেক মিয়া বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এসব দেখেই সর্বহারা দলের অন্য সদস্যরা সম্প্রতি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। রবিবার (২১ মে) র‌্যাব-১২ এর নিকট ৭৬ সর্বহারা সদস্য আত্মসমর্পণ করবে বলে জেনেছি।

সর্বহারা দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড লেবু মণ্ডল বলেন, গতকাল রাতেও আমি আতঙ্কে কাটিয়েছি। সর্বহারা দলের সদস্য হওয়ার পর থেকেই ঈদেও ছেলে-মেয়েদের থেকে দূরে থেকেছি। ডজন খানেক মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরছি। এ জীবন যে কেমন, কষ্টের তা বলে বোঝানো যাবে না।

সর্বহারা দলের টাঙ্গাইল জেলার কমান্ডার জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে নেতারা পথভ্রষ্ট পথে নিয়েছিল। মুখে নীতি কথা বললেও কাজে ছিল পুরো উল্টো। সাধারণ মানুষ আমাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখত। আমার সন্তানরাও এ জন্য এলাকায় মুখ দেখাতে পারতো না। তাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেই আমারা ৭৬ সদস্য ৩৬টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছি।

র‌্যাব ১২ এর অধিনায়ক (সিও) ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মারুফ হোসেন জানান, বিভিন্ন চরমপন্থী দলের নেতা ও সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসাবে গরুর খামার, পোল্ট্রি ফার্ম, মাছ চাষের ব্যবস্থা, চায়ের দোকান, ভ্যান-রিকশা, সেলাই মেশিন দেওয়ার মাধ্যমে চরমপন্থী সদস্য ও তাদের পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক পেশায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. মে ২০২৩ ০৭:২৭:পিএম ৩ বছর আগে
ভূঞাপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে ধীরগতি - Ekotar Kantho

ভূঞাপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে ধীরগতি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। তিন বছর অতিবাহিত হলেও বর্তমানে প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এছাড়াও প্রস্তাবিত ওই এলাকাকে উপজেলার মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করতে যমুনা নদীর উপর বাঁধ তৈরির কাজেরও চলছে সম্ভাব্যতা যাচাই। ফলে ভূঞাপুরের এই চরাঞ্চল বাসীর মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে ।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যে তানভীর হাসান ছোট মনিরের দাবি , বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজের কিছুটা ধীরগতি হলেও বর্তমানে পূর্ণদমে কাজ চলছে।

জানা যায়, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পলসিয়া , নলসিয়া , কোনাবাড়ি, দোভায়া, পাটিতা পাড়া এবং গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী , কষ্টা পাড়া, ভালকুটিয়া চরাঞ্চলের ৫০২.০২ একর খাস জমিতে প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা ২০১৯ সালের ২৮ জুন (শুক্রবার) দুপুরে পরিদর্শন করেন তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক ও যুগ্ম সচিব (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. মনিরুজ্জামান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।এরপর দীর্ঘ তিন বছর অতিবাহিত হলেও এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমে তেমন কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে জেগে উঠা চরের ৫০২.০২ একর জমির এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক, নদী ও রেলপথে সরাসরি যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশে শুধুমাত্র প্রস্তাবিত ভূঞাপুরের এই অর্থনৈতিক অঞ্চলেই এই সুবিধা বিদ্যমান। ফলে এখানে উৎপাদিত পণ্য সারাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম সময়ে ও কম খরচে পৌঁছানো সম্ভব।

 

এ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে উপজেলার পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের লোকসহ জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। প্রসার ঘটবে ব্যবসা বানিজ্যের। এতে যমুনার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে পূর্বপাড়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার ফসলিজমি ও বসতভিটা। সুযোগ সৃষ্টি হবে পর্যটন শিল্পেরও।

ভূঞাপুর ইবরাহিম খাঁ সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ ইমন পারামানিক বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি । এছাড়া এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হলে সেখানে কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ যেন এই অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত থাকে তারও জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় নজরুল ইসলাম , মোহাম্মদ সেলিম সিকদার, মোঃ শামসুল হক, মোঃ জুলহাস শেখ, মমতা বেগম, মোছাঃ আমেলা বেগম বলেন, দীর্ঘ তিন বছর চলে গেলেও এই চরাঞ্চলে এখনো ইপিজেড স্থাপনের কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি । এছাড়া তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেশ কিছু ব্যক্তিগত জমিকে খাস জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে বেশ কিছু জমির মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই জমির প্রকৃত মালিককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই এলাকায় ইপিজেড স্থাপন করা হোক। ইপিজেড স্থাপন হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য আমূল পরিবর্তন হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই এলাকায় দ্রুত ইপিজেড স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদার জানান, ভূঞাপুরের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য যে ৫০২.০২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার সব খাস জমি নয় । এর মধ্যে কিছু জমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। তারপরও আমরা চাই ভূঞাপুরে দ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হোক। অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে এই এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৫০২.০২ একর জমিতে সেনাবাহিনীর একটি দল অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া ওই চরের সাথে মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করতে যমুনা নদীতে একটি বাঁধ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম।

তিনি আরো জানান , আশা করি খুব দ্রুতই ভূঞাপুরের প্রস্তাবিত অর্থনীতি অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, ভূঞাপুরের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে এই কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বর্তমানে এই কার্যক্রম পূর্ণদমে চলছে । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দল বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনার ওই অংশে বাঁধ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।

তিনি আরো জানান, আশা করি খুব দ্রুতই ভূঞাপুর তথা টাঙ্গাইলবাসীর স্বপ্নের অর্থনৈতিক অঞ্চল তার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. মে ২০২৩ ০২:০১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ মে) ভোরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের ট্রেনলাইনের জোড়বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের গড়াশিন মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে হাবিল মিয়া (১৭) ও একই উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মৈশানন্দনাল গ্রামের মনজুরুল ইসলামের মেয়ে রিতা আক্তার (১৫)।

তারা দুজনেই ভাতকুড়া এলাকায় আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে শ্রমিকের কাজ করতো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিল ও রিতা আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে একত্রে শ্রমিকের কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। পারিবারিকভাবে তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা দুজনে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় অভিমান করে তারা বাসাইল জোড়বাড়ী এলাকায় গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। পরে সকালে স্থানীয়রা তাদের লাশ দেখতে পেয়ে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এসময় প্রেমিক হাবিলের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

জোড়বাড়ী লেভেলক্রসিংয়ে গেট কিপার সুলতান মাহমুদ বলেন, ভোর ৪টার দিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশ এসে নিহতদের লাশ নিয়ে গেছে।

ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশের এএসআই ফজলুল হক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘঠিত কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. মে ২০২৩ ০৭:৪৬:পিএম ৩ বছর আগে
অসুস্থ‌তা জনিত কারণে আ’লীগ নেতা বড় ম‌নিরকে কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি - Ekotar Kantho

অসুস্থ‌তা জনিত কারণে আ’লীগ নেতা বড় ম‌নিরকে কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আ‌ওয়ামী লী‌গের সহ-সভাপ‌তি গোলাম কিব‌রিয়া বড় ম‌নিরকে কারাগার থে‌কে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হ‌য়ে‌ছে।

সোমবার (১৫ মে) রাত সা‌ড়ে ৯টার দি‌কে অসুস্থ‌তা জনিত কার‌ণে জেলা কারাগার থে‌কে তা‌কে ২৫০ শয‌্যা বি‌শিষ্ট টাঙ্গ‌াইল ‌জেনা‌রেল হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হ‌য়ে‌ছে।
বর্তমা‌নে গোলাম কিব‌রিয়া বড় ম‌নির টাঙ্গ‌াইল ‌জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের ৩য় তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।

এর আগে বেলা সা‌ড়ে ১১ টার দিকে এক কিশোরীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অতি‌রিক্ত চিফ জু‌ডি‌শিয়াল ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট আদাল‌তে হা‌জির হ‌য়ে জা‌মিন আবেদন কর‌লে বিচারক মাহমুদুল মহসীন জা‌মিন নামঞ্জুর ক‌রে কারাগা‌রে পাঠা‌নোর আদেশ দেন।

গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই এবং জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা কারাগা‌রের জেল সুপা‌র মো. মকলেছুর রহমানের বক্তব‌্য জান‌তে তার মুঠোফোনে যোগা‌যোগ করা হ‌লে তি‌নি রি‌সিভ ক‌রেন‌নি। কিছুক্ষণ পর আবার যোগা‌যোগ করা হ‌লে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

২৫০ শয‌্যা বি‌শিষ্ট টাঙ্গ‌াইল ‌জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সা‌দিকুর রহমান জানান, রাত সা‌ড়ে ৯টার দি‌কে আওয়ামী লীগ নেতা বড় ম‌নির‌কে হাসপাতা‌লে আনা হয়। হাসপাতা‌লের বি‌শেষজ্ঞ চি‌কিৎসক তার শরী‌রের পরীক্ষা-‌নিরীক্ষা কর‌ছেন। কোন সমস‌্যার কার‌ণে তা‌কে হাসপাতা‌লে আনা হ‌য়েছে পরে বিস্তা‌রিত জানা যা‌বে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণ পেয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এছাড়াও ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. মে ২০২৩ ১২:১২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীর পা বাধাঁ ঝুলন্ত লাশ উদ্বার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীর পা বাধাঁ ঝুলন্ত লাশ উদ্বার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পা বাধাঁ ও গলায় রশি ঝুলানো অবস্থায় মো. ইফসুব মিয়া (৬০) নামের এক চা কফি ও জুতা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্বার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ মে) সকালে উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের পংবাইজোড়া বাজারের একটু অদুরে পুষ্টকামরি সালামের শ্যালো মেশিন ঘরের পাশে লাউ গাছের মাচা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন।

সে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের ইদ্দিস মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ মে) দুপুর দুইটার দিকে বাড়ী থেকে বের হয় ইউসুব। সারা দিন পংবাইজোড়া বাজারে তার নিজ দোকানে বেচাকেনা করেন। বিকেল পর্যন্ত দোকানে তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন আশ পাশের দোকানীরা। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে শত শত নারী পুরুষ ভীড় জমায় ঘটনাস্থলে। এ সময় সালামের শ্যালো মেশিন ঘরের হাউজের উপরে লাউ গাছের মাচার খুটির সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত ও পা বাঁধা অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নিহতের ছোট ভাই নূরুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বাড়ী থেকে বের হয় তার ভাই ইউসুব। চারটার দিকে পংবাইজোড়া বাজারে তার সাথে ভাই ইউসুবের দেখা ও কথা হয়। এর পর আর বাড়ি ফিরেনি সে। শুক্রবার সকালে ভাইয়ের মূত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে সালামের শ্যালো মেশিন ঘরের পাশে লাউয়ের মাচার খুটির সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত ও পা বাঁধা অবস্থায় তাকে দেখতে পান।

স্বামীর মত্যু শোকে কাতর থাকায় তার স্ত্রীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা । কিন্তু লাশের পা বাঁধা থাকার অবস্থা দেখে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে । থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. মে ২০২৩ ১০:৫০:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদের আত্মসমর্পণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদের আত্মসমর্পণ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল গ্রামে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার(১১ মে) সকালে শাহেদ টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক তানভীর আহম্মেদ।

তানভীর আহম্মেদ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। দেলদুয়ার থানা পুলিশ রিমান্ড দাবী করেন। রিমান্ড চাইতে বিলম্ব হওয়ায় টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলাম শাহেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশদেন।

দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, গত শনিবার বিকেলে মা ও দুই ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মনিরার মা আবেদা বেগম বাদী হয়ে মনিরার স্বামী শাহেদকে প্রধান আসমী করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত তিন চারজনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ শাহেদকে গ্রেপ্তার করতে মাঠে নামে। শাহেদ আত্মগোপন করায় পুলিশ চেষ্টা করেও শাহেদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার শাহেদ স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। দেলদুয়ার থানা পুলিশ রিমান্ড দাবী করেছে। কিন্তু আদালত শাহেদকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের চকতৈল গ্রামে শাহেদের থাকার ঘর থেকে স্ত্রী মনিরা বেগম ও দুই শিশু সন্তান মুশফিক (৮) এবং দুই বছর বয়সী মাশরাফির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মনিরা বেগম একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী মৃত মকবুল হোসেন খান ও আবেদা বেগমের মেয়ে। হত্যায় অভিযুক্ত শাহেদ সাবেক পুলিশ সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলু মিয়ার ছেলে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. মে ২০২৩ ০৫:১৫:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ৯৪ বছর বয়সেও মিলেনি বয়স্ক ভাতা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ৯৪ বছর বয়সেও মিলেনি বয়স্ক ভাতা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিরিকপুর গ্রামের মৃত মুছিরাম রাজবংশীর স্ত্রী মরনী রাজবংশীর ৯৪ বছর বয়সেও কপালে জুটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। তার আক্ষেপ আর কত বছর বয়স হলে মিলবে বয়স্ক ভাতার কার্ড।

কান্নাজড়িত কন্ঠে মরনী রাজবংশী বলেন, এখন আর চোখে তেমন দেখতে পাই না, বয়স তো আর কম হলো না। শরীর আর চলতেই চায়না। শুয়ে বসেই দিন কাটে। কখন যেনো মৃত্যুর ডাক এসে যায়। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী নাকি বয়স্কদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু আমারতো অনেক বয়স হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোন ভাতার কার্ড পাইনি। কত জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে গেছি আমাকে কার্ড করে দেয়নি। আশপাশের অনেকেই ভাতার টাকা পাইছে। কিন্তু আমি পাই নাই! বৃদ্ধা মরনী রাজবংশীর প্রশ্ন ‘আর কত বয়স হলে ভাতার কার্ড পাব আমি’ ?

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মরনী ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। চোখের দৃষ্টিও ঝাঁপসা হয়ে গেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বিছানায় শুয়ে। স্বামী বেঁচে থাকা অবস্থায় কোনো মতে চলতো তাদের টানাটানির সংসার। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানরাও অভাবের তাড়নায় মায়ের খোঁজখবর নিতে পারেনা।

সপ্তাহে মাত্র ৩’শ টাকা দরকার তার ঔষুধ কেনার জন্য। সেটাও জোটাতে পারেন না তিনি। ফলে প্রয়োজনীয় ঔষুধ না খেয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাকে।একটু সচ্ছলতার জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কেবলই মিলেছে শুধুই আশ্বাস।

সরেজমিনে মিরিকপুর গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, ১৯২৯ সালে ১০ আগস্ট জন্ম মরনী রাজবংশীর। এতে তার বয়স এখন ৯৪ বছর। তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তানের মধ্যে সবার বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ছেলের মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য জায়গার ওপর টিনের ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন মরনী রাজবংশী ।

কান্নাজড়িত কন্ঠে মরনী রাজবংশী বলেন, এখন আর চোখে তেমন দেখতে পাই না, বয়স তো আর কম হলো না। শরীর আর চলতেই চায়না। শুয়ে বসেই দিন কাটে। কখন যেনো মৃত্যুর ডাক এসে যায়। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী নাকি বয়স্কদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু আমারতো অনেক বয়স হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোন ভাতার কার্ড পাইনি। কত জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে গেছি আমাকে কার্ড করে দেয়নি। আশপাশের অনেকেই ভাতার টাকা পাইছে। কিন্তু আমি পাই নাই! বৃদ্ধা মরনী রাজবংশীর প্রশ্ন ‘আর কত বয়স হলে ভাতার কার্ড পাব আমি’ ?

এ প্রসঙ্গে,বাসাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহেল জানান, বাসাইল সদর ইউনিয়নটি নবগঠিত। গত বছরের ২৪ জুলাই আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছি। দায়িত্ব গ্রহনের পর এই ইউনিয়নে বয়স্কদের জন্য কোন বয়স্ক ভাতার কার্ড বরাদ্দ হয়নি। তবে মরনী রাজবংশীকে ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দসহ ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইউনিয়নের বয়স্কদের জন্য বরাদ্দ এলেই প্রথমে তাকে দেওয়া হবে।

বাসাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে-ই-লায়লা জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুতই মরনী রাজবংশীর খোঁজ-খবর নিয়ে তার কার্ড করে দেওয়া হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) পাপিয়া আক্তার জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২. মে ২০২৩ ০২:৫৬:এএম ৩ বছর আগে
নাগরপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি - Ekotar Kantho

নাগরপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বসতবাড়িসহ বোরো ধান, ব্রি ২৯ ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার (১০ মে) উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে বিকেলে হালকা ঝড়ো হাওয়া ও পরে প্রচন্ড বেগে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বড় বড় শিলা বৃষ্টি পড়ে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ঘর বাড়িসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

দপ্তিয়র ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কাউছার মিয়া জানান, ঝড়ে আমার বসত বাড়ির ঘরসহ আশপাশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি ঘর উড়ে গেছে। ভেঙ্গে গেছে বহু গাছপালা।

দপ্তিয়র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী জানান, বিকেলের দিকে আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে শিলা বৃষ্টিসহ কাল বৈশাখী ঝড় হানা দেয়। ঝড়ে ঘর বাড়ি ও গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে গোটা ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সংযোগ। ঝড়ে ইউনিয়নের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১. মে ২০২৩ ০৪:২১:এএম ৩ বছর আগে
বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ - Ekotar Kantho

বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের বটতলায় নির্মানাধীন চায়না প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক জহির আহমেদ জমাদার পিন্টু সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

চায়না প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক জহির আহমেদ জমাদার পিন্টু অভিযোগ করে বলেন, জেলা ও উপজেলার কোন নেতা বা জনপ্রতিনিধিদ্বয় চায়না প্রজেক্টের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। চায়না প্রজেক্টের দায়িত্ব বাদল এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. বাদল মিয়া নেওয়ার পর থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অযুহাতে তিনি ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নতুন করে পুনরায় ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করছেন। এ জন্য তিনি চায়না প্রজেক্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কাশিল লেক ভিও নিয়েও মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

নির্মানাধীন প্রকল্পটি সম্পূর্নরূপে চালু হলে অন্তত ৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। যারা এমন একটি শিল্পকে ব্যহত করতে চায়, আমি তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আগামী দিনে যদি কেউ এ প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবি করেন, তাদেরকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খান বাহাদুর, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো.আরিফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো.আতিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর হোসেন, আওয়ামী যুবলীগের নেতা মহসিন মিয়া ,মো.শাহ আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. উজ্জ্বল মিয়া, কাশিল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ জমাদারসহ স্থানীয় শতাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম জানান, আমি কোন শিল্পের বিরুদ্ধে নই। আমি শুধু তিন ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার প্রতিবাদ করেছি। এছাড়া তিনি কারো নিকট কোন প্রকার চাদা দাবি করেননি বলেও জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. মে ২০২৩ ১১:১৫:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ভাগ্নের সাথে দুই সন্তানের জননী মামী উধাও - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভাগ্নের সাথে দুই সন্তানের জননী মামী উধাও

একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ভাগ্নে (নোনাশের ছেলে ) শাকিব হাসানের (২০) হাত ধরে দুই সন্তানের জননী মামী রত্না বেগম (৩০) পালিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ মে) সকালে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া রত্না বেগমের স্বামী কাচামাল ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ সন্তানদের নিয়ে লোক-লজ্জার ভয়ে বাড়ীর বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছেন। ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ জয়েন উদ্দিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের লাঙ্গুলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের আবদুল লতিফের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী রত্না বেগমের সাথে ভাগ্নে (আপন নোনাশের ছেলে) একই এলাকার মৃত সহিদ মিয়ার ছেলে প্রবাসী শাকিব হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন মাস আগে ভাগ্নে শাকিব দেশে ফিরলে তাদের সম্পর্কটা আরো গভীর হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সকালে ছোটবেলা থেকে সন্তানের মতো লালন-পালন করা ভাগ্নে শাকিবের সঙ্গে মামী রত্না বেগম তার সন্তানদের রেখে পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে লাঙ্গুলিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফন্নু এই ঘটনায় সমাজ ও গ্রামের মান ক্ষুন্ন হয়েছে দাবি করে ভাগ্নে শাকিব ও মামী রত্না বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. মে ২০২৩ ১২:৫১:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।