/ হোম / এক্সক্লুসিভ
টাঙ্গাইলে কমিউটার ট্রেনে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কমিউটার ট্রেনে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কমিউটার ট্রেনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের দুটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেনটিতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, রাত ৩টার দিকে খবর পেয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। ট্রেনের ইঞ্জিনের কাছাকাছি দুটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমিউটার ট্রেনটি টাঙ্গাইল টু ঢাকা অভিমুখে স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৩টায় পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন টাঙ্গাইল স্টেশন ত্যাগ করার পর আগুন লাগে। আগুনের সূত্রপাত তদন্ত শেষে জানা যাবে।

ঘারিন্দা রেলস্টেশনের বুকিংমাস্টার সেলিম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত ৩টার দিকে ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির তিনটি বগিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে এক ঘণ্টার মতো চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি কেউই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. নভেম্বর ২০২৩ ০৫:১২:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের সাধারণ ক্রেতাদের আলু-পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম অবস্থা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের সাধারণ ক্রেতাদের আলু-পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম অবস্থা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত কয়েক দিন ধরে বেড়েই চলেছে আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং কমিটি থাকলেও তাদের কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। বাজারে নেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা শাখার তৎপরতা।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সর্বশেষ বৃষ্টিতে সবজি খেত নষ্ট এবং হরতাল-অবরোধের কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি কিনে আনেন। সেখানে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দাম বেশি। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইলের প্রধান পাইকারি কাঁচা বাজার পার্কবাজারে প্রতিদিন মধ্যে রাত থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করা হয়। শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং কালিয়াকৈর, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে নিয়ে যান। এই বাজারে খুচরা মূল্যে বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আলু-পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কেনার দামে নির্ভর করে বিক্রির দাম নির্ধারণ করেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। পণ্যে গুলোর দাম বাড়ায় বিক্রি কমে গেছে বলেও জানালেন তারা।

পাইকারি ব্যবসায়ী আলী আকবর ও হাফিজ মিয়া বলেন, বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাজারে নিজস্ব কোনো আলু নেই। সব আলু উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। পাইকারি দরে প্রতি কেজি আলু ৬৫ টাকা ও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের যেমন কেনা, তেমন বিক্রি করছি। আমাদের কেউ দাম বাড়ায় না।

খুচরা বিক্রেতা নাজমুল মিয়া বলেন, আলু ৭৫ টাকা, পেঁয়াজ ১৩৫ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ফুল কপি ৫০ টাকা, শসা দেশী ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে পার্ক বাজারে কথা হয় অটোরিক্সা চালক মজিবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আধা কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও আধা কেজি আলু ৪০ টাকা দিয়ে কিনলাম । নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি করছি।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আমরা বেসরকারি চাকরি করি। সব কিছুর দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। আগে যে বাজার করতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা লাগতো, এখন সেই বাজার করতে চার হাজার টাকার বেশি লাগে। এই অতিরিক্ত টাকার যোগান দেওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

পার্কবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর বারেক মিয়া বলেন, এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১০০টন করে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এখানে কয়েক জন ব্যবসায়ী ভারত থেকে এলসি করেও পেঁয়াজ আনেন। হরতাল ও অবরোধের প্রভাব পড়েছে এই সব পণ্যের উপর।কয়েক দিন ধরে হরতাল অবরোধের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জোবায়ের উজ্জ্বল একতার কণ্ঠকে জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম ও জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খানের সঙ্গে কৃষি পণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারা বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা ভোক্ত অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম একতার কণ্ঠকে জানান, কৃষি পণ্য আলু ও পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব কৃষি বিপণন ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের । এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন বিষয়টি দেখাশোনা করে থাকেন।

জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খান একতার কণ্ঠকে জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হয়। তবে আলু ও পিঁয়াজের ক্ষেত্রে এই কৃষি পণ্য দুটি জেলার মোট চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে টাঙ্গাইলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের এই পণ্য দুটির দাম বেশি হয়ে যায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০২. নভেম্বর ২০২৩ ০২:২১:এএম ৩ বছর আগে
গোপালপুরে আ’লীগের উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

গোপালপুরে আ’লীগের উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ:টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সরকারের উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর)বিকালে গোপালপুরের সূতি ভি.এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

একই সাথে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর প্রমুখ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রউফ চান মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় এতোটা উন্নয়ন হয়েছে যে সাধারণ মানুষ এখন আবার শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় চায় হরতাল অবরোধের নামে বিএনপি ও জামায়াত দেশ জুড়ে অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও পোড়াও, নৈরাজ্য এবং খুনখারাপি শুরু করেছে। সরকার গণতন্ত্র তথা নির্বাচন কার্যক্রমকে যেমন এগিয়ে নিয়ে যাবে তেমনি এ সব অপশক্তিকে শক্ত হাতে দমন করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. নভেম্বর ২০২৩ ০৭:৪৭:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ওড়নার কাপড় দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার(২৯ অক্টোবর )বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা বেলতলী এলাকায় বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কের পাশে মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। তাৎক্ষণিক ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তা বলেন, ‘সকালে স্থানীয় এক কাঠমিস্ত্রি সড়কের পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেয়। এলাকার কেউ লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো এলাকায় ওই যুবককে হত্যা করে, গভীর রাতে এখানে লাশ ফেলে রেখে গেছে।’

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, রোববার সকালের দিকে কালমেঘা বেলতলী গ্রামে একটি আকাশমনি গাছের বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় এখনও মামলা বা নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. অক্টোবর ২০২৩ ১০:০৯:পিএম ৩ বছর আগে
মির্জাপুরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ভারতীয় ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার - Ekotar Kantho

মির্জাপুরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ভারতীয় ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার

একতার কণ্ঠঃ:টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন ব্রিটিশ ও ভারতীয় হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি।

সোমবার(২৩ অক্টোবর )সন্ধ্যায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।

সন্ধায় কুমুদিনী হাসপাতাল লাইব্রেরীতে পৌছালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল হালিম ও ডিজিএম (অপারেশন) অনিমেষ কুমার ভৌমিক তাঁদের স্বাগত জানান।

এসময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিলা বিনতে মতিন ,সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুচি রানী সাহা উপস্থিত ছিলেন।

পরে অতিথিবৃন্দ রঙিন বজরা যোগে লৌহজং নদী পার হয়ে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গা মন্ডপে যান। সেখানে মন্ডপ পরিদর্শন ও ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের মনোজ্ঞ আরতী নৃত্য উপভোগ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. খাইরুল আলম, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার, মো. রুহুল কুদ্দুস, আকরাম হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত ডিআইজি মারুফ হাসান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান দুর্গা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. অক্টোবর ২০২৩ ০৮:১০:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের গতি কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রাণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের গতি কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রাণ

একতার কণ্ঠঃ কলেজ পড়ুয়া ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান সাব্বির আলম ও তার বন্ধু হামিদ।

গত ৪ জুন (রোববার) টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। সাব্বির পাশ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামের মো. সুরুজ্জামানের ছেলে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ঘাটাইলের ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুধু সাব্বির আলম নয়, তার মতো টাঙ্গাইলের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর ও উঠতি বয়সের ছেলেদের হাতে মোটরসাইকেল দেয়ার ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানোর কারনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে চলছে দুর্ঘটনা। তবে গত এক বছরে কত জন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি জেলা পুলিশ ও জেলা নিরাপদ সড়ক চাইসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।

সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান বলেন, প্রথমে মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলাম না। তারপরও ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। ছেলেরে শখ পূরণ করতে গিয়ে আজীবনের জন্য ছেলেকে হারালাম।

নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা বাবার বড় সন্তান। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী। ঘটনায় এখনও শোক কাটেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ওই সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। ওই শোকটি এখন গ্রামের মানুষ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

স্থানীয়রা বলছে, টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল, বাসাইল সখিপুর, মধুপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সড়কে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ২১ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১৩ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তারা ঘাটাইলের একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।

এ ছাড়া জেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলর মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের মুখ্য গাঙ্গাইর গ্রামের মো. আবু’র ছেলে মো. রনি (১৮) । নিহত রনি ঘাটাইল জিবিজি কলেজের ছাত্র ছিল। নিহত অপরজন হলেন, একই উপজেলার কদমতলী এলাকার মেছের আলীর ছেলে শহিদুর রহমান (৩৫)।

গত ১৭ মে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা (২৪) ক্যাম্পাসে ফেরার পথে কাগমারী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়।

গত বছরের ২৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাসেল নিহত হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯২ টি মামলা হয়েছে। এতে ১৩৪ জন নিহত ও ১০৭ জন আহত হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিন জন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

জেলা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ঝান্ডা চাকলাদার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যায়, তাদের বেশির ভাগই কিশোর ও যুবক। রেজিষ্ট্রেশন ও লাইনেন্সবিহীন বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারনে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক বাবা মার বুক খালি হচ্ছে। তবে জেলায় এক বছরে কত গুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ও কত জন প্রাণ হারিয়েছে তার কোন তথ্য নেই।

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে অভিভাবক, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. অক্টোবর ২০২৩ ০২:৪৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ, শিশু-কিশোররা ঝুঁকছে অনৈতিক কাজে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ, শিশু-কিশোররা ঝুঁকছে অনৈতিক কাজে

একতার কণ্ঠঃ ১৩৬ বছরের প্রাচীন ২৯.৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ। বিগত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হারিয়ে গেছে ১৬টি খেলার মাঠ। আরও বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ হারাতে বসেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন পৌর বাসিন্দাদের খেলাধুলা ও শরীর চর্চা করার মাঠগুলোতে গড়ে উঠেছে বড় বড় আকাশচুম্বী অট্টালিকা। কোন কোন মাঠে কাঁচা বাজার বসানো হয়েছে। আবার অনেক মাঠের জায়গার মালিকেরা প্লট আকারে বিক্রি করে দিয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত জায়গা।

আবার কোন মাঠে বছর জুড়ে বানিজ্য মেলাসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই ব্যস্ত থাকে। যে কারণে উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েরা খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে অভিভাবকরা যেমন আতঙ্কিত তেমনি সুশীল সমাজের নাগরিকেরাও শংকিত। আর এসবের জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে।

এছাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো রয়েছে সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) তাঁদের গবেষণায় বলছে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ১ ঘন্টা করে খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন।

টেকসই নগরায়ন-সংক্রান্ত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন-হ্যাবিটেটের মতে, হাঁটার দূরত্বে খেলার মাঠ থাকা উচিত। অতিঘন নগর এলাকায় প্রতি অর্ধবর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যা বিবেচনায় ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত মাঠ না থাকায় টাঙ্গাইল পৌর শহরের উঠতি বয়সের শিশু-কিশোর ও যুবকেরা খেলাধুলার সুযোগ না পেয়ে ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ছে মোবাইল গেমসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়ায়। এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তৈরি হচ্ছে কিশোরগ্যাং। বাড়ছে পৌর এলাকায় অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড।

জেলা প্রশাসন, পৌর পিতাসহ টাঙ্গাইলের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে নেই কোন মাথাব্যথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৩নং ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি খেলার মাঠের জায়গায় বসতভিটা গড়ে উঠেছে। এই ওয়ার্ডের থানাপাড়া এলাকার রেঞ্জার মাঠ, সবুজ সেনা মাঠ, থানাপাড়া ইস্টার্ন ক্লাব মাঠের (বাবুর্চির মাঠ) জায়গায় ইতিমধ্যে বসতি গড়ে উঠেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন এইসব মাঠগুলোর এখন আর অস্তিত্ব নেই। ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডে ৩টি খেলাধুলার ক্লাব থাকলেও তাদের কোন খেলার মাঠ নেই।

২নং ওয়ার্ডের ঠাকুর বাড়ির মাঠটি মালিকানা দ্বন্দ্বে এলাকার শিশু-কিশোরদের ওই মাঠে খেলাধুলা প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে, বর্তমানে শিশু-কিশোররা ওই মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ওই মাঠের জায়গা প্লট আকারে বিক্রির আলোচনা চলছে।

৩নং ওয়ার্ডের মির্জা মাঠ ও হাউজিং মাঠে নিকট অতীতে ওই এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতো। এছাড়া সকাল ও বিকালে স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন শরীরচর্চা করতো এই মাঠ দুটিতে। বর্তমানে মাঠ গুলোতে বসতি গড়ে উঠেছে।

৬নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়ার বালুর মাঠে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল ইমারত। একই এলাকার পানির ট্যাংকের মাঠে এখন আর শিশু-কিশোরদের প্রবেশ অধিকার নেই। দক্ষিণ কলেজ পাড়ার বড় বড় চক গুলোতে এক সময় ওই এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো। বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি।

১১নং ওয়ার্ডের খালপাড় মাঠে এখন গড়ে উঠেছে বসতি। ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই এই ওয়ার্ডে।

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৬নং ওয়ার্ডের ছোট কালিবাড়ী খেলার মাঠ ও কেওছার মাঠের এখন আর অস্তিত্ব নেই। এছাড়া নজরুল সেনা মাঠের জায়গায় গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান। এই ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে এক সময় টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় ব্যস্ত থাকতো। বর্তমানে এই মাঠের অধিকাংশ জায়গা জুড়ে বসেছে ট্রাকস্ট্যান্ড। ফলে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মাঠটি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য এখন আর ব্যবহার করতে পারছে না। এই ওয়ার্ডের আউটার স্টেডিয়ামে ৮টি কংক্রিটের ক্রিকেট পিচ রয়েছে। কিন্তু বছরের প্রায় সময়ই এই জায়গায় বাণিজ্য মেলাসহ বিভিন্ন ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় জেলা টিমের ক্রিকেটারসহ বিভিন্ন বয়সের ক্রিকেটারগণ অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন।

১৭নং ওয়ার্ডের শিমুলতলী এলাকার বালুর মাঠে এখন গড়ে উঠেছে বসতি ও বিভিন্ন ধরনের ফল ও গাছের বাগান।

১৮নং ওয়ার্ডের কোদালিয়া মাঠটি এখন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া একই ওয়ার্ডের সাবালিয়া এলাকার ফুলকুঁড়ি মাঠটি অনেক আগেই তার অস্তিত্ব হারিয়েছে।

শহরের নামকরা একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র জিসান আহমেদের (ছদ্মনাম) সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে। জিসান জানান, বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে পৌর উদ্যানে আড্ডা দেন তিনি। এক সময় তার ওয়ার্ডে ৩টি খেলার মাঠ থাকলেও বর্তমানে কোন খেলার মাঠ নেই। ফলে খেলাধুলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই পৌর উদ্যানে এসে আড্ডা দেন তিনি।

শহরের আরেকটি স্বনামধন্য বেসরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র রাতিন খানের (ছদ্মনাম) সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে অবস্থিত বাঁশ বাজারে । রাতিন বলেন, তিনি একাদশ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তার এলাকায় মাঠ না থাকায় কোন ধরনের খেলাধুলার সুযোগ পাননি তিনি। মাদকাসক্তির পাশাপাশি তিনি অনলাইন জুয়ায় (ক্রিকেট বেটিং) আসক্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে হতাশায় ভুগছেন। তিনি আফসোস করে বলেন, তার এলাকায় খেলাধুলার মাঠ অথবা খেলাধুলার কোন ক্লাব থাকলে তিনি হয়তো এসবের মধ্যে নিজেকে জড়াতেন না।

সরকারি সৈয়দ মহাব্বত আলী কলেজর সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া একতার কণ্ঠকে বলেন, পৌর শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকার ফলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেম ও জুয়াতে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া একশ্রেণীর উঠতি বয়সী শিশু-কিশোর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এদের এসবের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পৌর এলাকায় শিশু-পার্ক ও খেলার মাঠের কোন বিকল্প নেই। পৌর শহরে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো অবশিষ্ট আছে সেগুলো রক্ষা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস,এম সিরাজুল হক আলমগীর একতার কণ্ঠকে বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠগুলোর ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের করণীয় কিছু নেই। তবে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্, জেলা পরিষদ মাঠ ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কিছু জিনিসপত্র রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১ মাসের মধ্যেই মাঠগুলো পরিষ্কার করে আবার খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের হাউজিং স্টেটে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি খেলার মাঠ তৈরি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন একতার কণ্ঠকে বলেন, পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠ, জেলা পরিষদ মাঠ, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ ও জেলখানার পাশে যে মাঠটি রয়েছে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা হচ্ছে মাঠগুলোতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার উপযুক্ত করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠটি শুধুমাত্র শিশু-কিশোরাই খেলাধুলা করে না। এখানে স্বাস্থ্য সচেতন বিভিন্ন বয়সের লোকজন সকাল বিকাল শরীর চর্চা করে থাকেন। ঈদগাহ্ মাঠকে যত দ্রুত সম্ভব খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে আমি এ বিষয়ে পৌর মেয়রের সাথে আলোচনা করেছি।

তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের জন্য টাঙ্গাইল পৌর শহরের অদূরে দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুরে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন বলেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরীর প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. অক্টোবর ২০২৩ ০২:২৭:এএম ৩ বছর আগে
দখল ও দূষণে মৃত প্রায় এককালের খরস্রোতা লৌহজং নদী - Ekotar Kantho

দখল ও দূষণে মৃত প্রায় এককালের খরস্রোতা লৌহজং নদী

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের এক সময়ের খরস্রোতা নদী লৌহজং। যা টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। সময়ের বিবর্তনে নদীটি এখন অবৈধ দখলদারদের দখলে।

প্রতিনিয়ত পড়ছে দূষণের কবলে। ভরা মৌসুমে ঢেকে আছে কচুরিপানায়। নাব্যতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নদীটি যেমন জেলার অংশীদার ছিল তেমনি শোভাবর্ধন করেছিল জেলা শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরও।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদী জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীতে পড়েছে। এক সময় এই নদীকে কেন্দ্র করে শহরের নিরালা মোড় এলাকায় নৌবন্দর ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা বাণিজ্যে আসতো এই নৌবন্দরে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল এখানে। বর্তমানে এসবের কিছুই নেই।

উজানে যমুনা ও এর শাখা ধলেশ্বরীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে লৌহজং নদীতেও। ফলে নাব্যতা হারাতে থাকে নদীটি ফলে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বড় নৌকার চলাচল।

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা কর্ম পরিকল্পনার (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান/ ফ্যাপ-২০) অধীনে ১৯৯১ সালে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যোগিনীতে লৌহজং নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণ করায় মরে যেতে শুরু করে নদীটি। শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এর তীর দ্রুত দখল হয়ে যেতে শুরু করে। শুরু হয় ঘর নির্মাণ ও ধান ও সবজি চাষ।

পাশাপাশি, পৌর এলাকার বসতবাড়ি থেকে নির্গত ময়লা পানি, আবর্জনা ও বিসিক শিল্প এলাকার কয়েকটি কারখানা ও সদর উপজেলার ক্ষুদিরামপুরে টেক্সটাইল মিল থেকে নির্গত বর্জ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করতে থাকে। লৌহজংয়ের পানি মানুষ ও গবাদি পশুর ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নদীর জলজ প্রাণীও বিলুপ্ত হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন যাবৎ ড্রেজিং না করায় নদীটি তার নাব্যতা হারিয়েছে। এই সুযোগে দুই পাড়ের সুবিধাবাদী মহল কৌশলে প্রথমে ময়লা আবর্জনা ফেলে দখল করেছে। পরবর্তীতে স্থায়ী ভবন, দেয়াল ও স্থাপনা নির্মাণ করে নদীটি দখল করেছে।

নদীটি দূষণ ও দখলমুক্ত করার জন্য ২০১৬ সালে আন্দোলনে নামে স্থানীয়রা। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর নদীটি দূষণ ও দখলমুক্তকরণ শুরু করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন। শহরের পুলিশ লাইনস হাজরাঘাট এলাকা থেকে বেড়াডোমা ব্রিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার দূষণ ও দখলমুক্ত করা হয়। এরপর তিন বছরের মাথায় এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরই ফাঁকে অবৈধ দখল আর দূষণে ফিরে যাচ্ছে আগের রূপে। কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে নদীটি কচুরিপানায় ভর্তি। পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে নদীর দুই পাড়ের পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রভাব পড়ছে পুরো জীববৈচিত্র্যে। নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি স্থানীয়দের।

২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত সচিব ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন।

শহরের প্যারাডাইস পাড়া এলাকার বাসিন্দা আরমান কবীর জানান, ১৫ বছর আগেও যে নদীতে গোসল ও গৃহস্থালি কাজ করতাম, সেই নদীর পানি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। নদীতে মাছ তো দূরের কথা, পানিতে বসবাসকারী কোনও পোকাও থাকে না। নদীটি উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর পর দখলমুক্ত হলেও কার্যক্রম না থাকায় আবার নদীর পাড়ের বাসিন্দারা কৌশলে দখলের চেষ্টা করছে।

শহরের আকুর টাকুর পাড়া এলাকার সাহান হাসান বলেন, বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ফেলে নদীটি বিভিন্নভাবে দূষণ করা হচ্ছে। পানি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নদীটি উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হলেও আবার বন্ধ হয়ে যায়। এটি উদ্ধার হলে টাঙ্গাইল শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়বে। তাই নদীটি উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

টাঙ্গাইল নদী, খাল-বিল, জলাশয়, বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন সিদ্দিকী জানান, লৌহজং নদী উদ্ধারে ২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অভিযান শুরু হয়। এই নদী উদ্ধারে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। ওই সময় তিনি আমাদের নদীটি উদ্ধারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এজন্য আমরা আর আন্দোলনে যাইনি। বর্তমানে নদীটি পুনঃখননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে অনুমোদিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র বলেন, কয়েক বছর যাবৎ লৌহজং নদীর উদ্ধার কার্যক্রম থমকে আছে। বিষয়টি নিয়ে এনজিও সমন্বয় সভায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পরিবেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে আইন লঙ্ঘন করে নদী দখল করা হচ্ছে। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন ড্রেনের লাইন নদীতে দেওয়া আছে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারাও ময়লা আবর্জনাসহ বাসায় টয়লেটের লাইন নদীতে দিয়ে দূষণ করছেন। নদী দখল ও দূষণে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। নদীটি উদ্ধারে যথাযথ আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, লৌহজং নদীটি পুনঃখননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। অনুমোদন পেলে নদীটি খনন করা হবে। এ ছাড়াও ধলেশ্বরীসহ সংযুক্ত কয়েকটি নদী পুনঃখননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো আছে।

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, লৌহজং নদী উদ্ধার কার্যক্রম আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. অক্টোবর ২০২৩ ০৩:৩০:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে আলোচিত শিশু সামিয়া হত্যাকান্ডের মূল আসামি গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে আলোচিত শিশু সামিয়া হত্যাকান্ডের মূল আসামি গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী সামিয়া (৯) হত্যাকান্ডের ২২ দিন পর মূল আসামি সাব্বির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর)রাতে সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)বিকেলে সখীপুর থানা কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ ও সখীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথদল এ অভিযান পরিচালনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার সাব্বির হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ঋণের টাকার পরিশোধ করতে সাব্বির মুক্তিপণের পরিকল্পনা করেছিল। সে ছিল ঋণগ্রস্ত। পাওনাদার তাকে ঋণ পরিশোধে চাপ দিচ্ছিল। পাওনাদারদের কথায় অপমানও বোধ করে সে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধান্ত নেয়, এমন কাউকে সে ‘অপহরণ’ করবে, যার বাবার কাছে নগদ অর্থ আছে এবং নগদ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সে ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে নিতে পারবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশু সামিয়ার পরিবারের কাছে নগদ অর্থ আছে। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে (সামিয়া) অপহরণের সিদ্ধান্ত নেয় সাব্বির।

তিনি আরও জানান, সে পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ঘটনার দিন (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে সামিয়া বিদ্যালয় থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে সাব্বির তার নিজের মুদির দোকান থেকে নেমে সামিয়ার পিছু ছুটে। সামিয়া তার বাড়ির ২০০ গজ মধ্যে পৌঁছালে হঠাৎ করে পেছন থেকে তার (সামিয়া) গলার মধ্যে চেপে ধরে পাশের বাঁশ ঝাড়ের দিকে নিয়ে যায়। বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে গেলে সামিয়া বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করে বলে পুলিশ সুপারকে জানায় গ্রেপ্তার সাব্বির। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলেও জানায় সাব্বির।

পুলিশ সুপারকে আরও জানায়, মুক্তিপণের জন্য সিদ্ধান্ত নিলেও, যখন সামিয়া সাব্বিরকে চিনে ফেলেছে এবং ছেড়ে দিলে তার মহাবিপদ হবে, ভেবে সে সামিয়াকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বঁাশের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে।সাব্বির পুলিশ সুপারকে আরও জানায়, সকাল নয়টার মধ্যে সামিয়াকে হত্যার পর সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে ‘ইমু’ আইডি থেকে অডিও বার্তায় ৫ লাখ টাকা ‘মুক্তিপণ’ দাবি করে সামিয়ার বাবার মোবাইলে পাঠায়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, সাব্বির জানায় ‘সে একাই সামিয়াকে খুন করেছে’। মুক্তিপণই ছিল তার মূল পরিকল্পনা।

গ্রেফতারকৃত সাব্বির উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার সাব্বির হোসেন ও সামিয়ার বাবা প্রতিবেশী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)। খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ ও সখীপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথদল কাজ করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। খুনের মূল ও একমাত্র আসামি সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত চলছে। ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামি সাব্বিরকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৪:৪১:এএম ৩ বছর আগে
এবার বাতিঘরের উদ্যোগে টাঙ্গাইল রেলস্টেশনে অণু-পাঠাগার - Ekotar Kantho

এবার বাতিঘরের উদ্যোগে টাঙ্গাইল রেলস্টেশনে অণু-পাঠাগার

একতার কণ্ঠঃ এবার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে টাঙ্গাইলে যাত্রা শুরু করেছে স্টেশন অণু-পাঠাগার।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনে এই অণু-পাঠাগার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

এই স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে অর্ধ-শতাধিক বিভিন্ন ধরনের বই নিয়ে এ অণু-পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

অণু-পাঠাগার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কবি টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ কামাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমুদিনী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার খান, সহ-সভাপতি ডাঃ রাজেন্দ্র দেবনাথ, কর পরিদর্শক খন্দকার মিজানুর রহমান, টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার রকিবুল হাসান, বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান প্রমুখ।

টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি ট্রেনের অপেক্ষমাণ যাত্রী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ট্রেনের জন্য বিভিন্ন সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়। তখন মোবাইলে সময় অপচয় করি। অপেক্ষার এ সময়টুকু এখন আমরা বই পড়ে আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারবো, খুবই ভালো লাগছে।

বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান জানান, যাতায়াতের পথে ট্রেনের জন্য স্টেশনে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় যাত্রীরা গল্পগুজব করে অলস সময় পার করেন। স্টেশনে বই পড়ার সুযোগ থাকলে যাত্রীরা বই পড়ে আনন্দে সময় কাটানোর মধ্যদিয়ে মনোজগতকে পরিশুদ্ধ করতে পারবেন। বই পড়ার এ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। ইতোমধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি বাজারে সেলুন অণু-পাঠাগার ও বাসস্ট্যান্ড অণু-পাঠাগার চালু করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০২:২২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী’র জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী’র জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পবিত্র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভা ও জশনে জুলুছে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন।বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই।

সম্মানিত মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ ঢাকা সাবেক প্রিন্সিপাল শাহ্ সুফি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আমীরুল ইসলাম (পি.এইচ.ডি), আহমাদাবাদ শরীফ করটিয়ার পীর সাহেব শাহ্ সুফি সাইফুল্লাহিল ক্বাতেয়ী, আহমাদাবাদ দরবার শরীফ বুহুলী টাঙ্গাইলের পীর সাহেব শাহ্ সুিফ ক্বারী মাওলানা হাবিবুল্লাহ আল আহমাদি।

বিশেষ মেহমান ছিলেন টাঙ্গাইল সরকারি এম এম আলী কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, সরকারি সা’দত কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. ছাইফুল মালেক আনসারী, পিচুরিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব শাহ সুফি আহমাদ আলী, দেলদুয়ার মৌলভীপাড়া শাহীবাগ দরবার শরীফের পীর সাহেব শাহ্ হারুন-অর-রশিদ।

জেলা ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির সভাপতি ও হাজিবাগ দরবার শরীফের খাদেম অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস খসরু সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর আল কাদেরী, দেলদুয়ার আলালপুর ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ সুফি আব্দুল ওহাব সিরাজী।

সরকারি এম এম আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগি অধ্যাপক আলী আশরাফ খান আর গাউছিয়া কমিটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোর্শেদ আলম মাসুদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিম প্রমুখ।

মহানবীর জন্মদিনের আলোচনা শেষে পৌর উদ্যান থেকে বেলা ১২টায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জশনে জুলুছের একটি বিশাল র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূনরায় পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০১:৩৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর খাদিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর খাদিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা আক্তার (২৩) হত্যা মামলার প্রধান আসামি তার কথিত স্বামী রাশেদকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৪)।

বৃহস্পতিবার( ২৮ সেপ্টেম্বর)ভোরে ঢাকার সাভারের আমতলীর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রাশেদুল ইসলাম (৩৫) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের নলখোলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪ ও র‌্যাব-১ এর যৌথ একটি দল অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যা কান্ডের পর থেকে রাশেদ পলাতক ছিল।

তিনি আরও জানান,খাদিজা আক্তার ও রাশেদ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে টাঙ্গাইল শহরের বটতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের বিয়ের বিষয়টি খাদিজা আক্তারের পরিবারের লোকজন জানতে পারেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের কোন খোঁজ খবর না পেয়ে পরিবারের লোকজন বাসায় গিয়ে রুমের দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পরিবারের লোকজন ও বাসার মালিকসহ তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে তারা খাদিজা আক্তারকে খাটের উপরে পড়ে থাকতে দেখতে পান।

এসময় খাদিজার পায়ের গোড়ালীর পিছনের রগ কাটা ছিল। ঘটনার পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের বড় ভাই ইমান আলী (২৫) বাদী হয়ে রাশেদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল ইসলাম জানায়, মুন্নি আক্তার নামে তার স্ত্রী ও ৩ সন্তান রয়েছে। খাদিজা আক্তারের সম্পর্কের কথা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্বের স্ত্রীর সাথে তার মনোমালিন্য ছিল। খাদিজাকে নিয়ে সংসার করা অবস্থায় খাদিজা আক্তারও রাশেদের কাছে টাকা দাবি করেন।বারবার টাকা দাবি করায় এক পর্যায়ে রাশেদ উত্তেজিত হয়ে খাদিজাকে হত্যা করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০১:৪৪:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।