একতার কণ্ঠঃ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার শশীনাড়া গ্রামের ৫০টি পরিবার ঈদ পালন করছেন।
স্থানীয় ঈমান আব্দুর রহমান জানান, সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। তিনি ঈদের নামাজ পড়ান। নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন মুসল্লিরা। বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়। সৌদি আরবের সাথে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন মুসল্লিরা।
লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন মোহাম্মদ খান জানান, শশীনাড়া একটি ছোট গ্রাম।এই গ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস।এই গ্রামের একটি সমাজের শতাধিক মানুষ সৌদির সাথে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করে।আমি শুনেছি ১০-১২ বছর ধরে এই গ্রামের ৫০-৬০ পরিবার ঈদ উদযাপন করে আসতেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সাল থেকে এ গ্রামের মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা পালন করে আসছে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি বলছে এ সরকারের প্রতি বিদেশিদের সমর্থন নেই, দেশের মানুষের সমর্থন নেই। বিদেশিদের সমর্থন দরকার নেই আমাদের। আমরা চাই দেশের জনগণের সমর্থন। জনগণ এদেশের মালিক। জনগণ নির্ধারণ করবে আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন আছে কি না। সেটা নির্বাচনে প্রমাণ হবে।
শনিবার(২৪ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর অডিটোরিয়ামে শিক্ষক ফেডারেশনের আত্মপ্রকাশ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবার দেশটাকে উত্তাল করতে চায়। সংবিধানের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা বিদেশিদের কাছে হাত পাতছেন, তাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন, তাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও অনেক বিদেশি শক্তি আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। সেই সময় দেশের জনগণ আমাদের পক্ষে ছিল। সরকার নির্বাচিত সরকার। এ সরকার জনগণের সরকার। জনগণের জানমাল, সম্পদ ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ১৪ ও ১৫ সালের মতো আর তাণ্ডব চালাতে দেব না বিএনপিকে। মানুষকে জীবন্ত হত্যা করবেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেবেন তা হবে না এখন। বর্তমান সরকার এগুলোকে প্রতিহত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি তারা আবার দেশটাকে উত্তাল করতে চাচ্ছে। তারা ১৪ সালে যে তাণ্ডব চালিয়েছে সে রকম আর তাণ্ডব চালাতে পারবে না। পুলিশকে হত্যা করবেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেবেন তা হবে না। বর্তমান সরকার দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, উন্নয়ন করেছে, জনগণ সরকারের সঙ্গে রয়েছে, জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ করবো।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক বেশি সুশৃঙ্খল, অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে, অনেক বেশি সংগঠিত। তাদের দায়িত্ব বর্তমান সরকারকে নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা সে সক্ষমতা রাখে। তারা কোনো রাজনৈতিক অশ্লীলতা সৃষ্টি করতে পারবে না।
এ সময় মধুপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুশীল কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. আবু হাদী নুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ,মধুপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইয়াকুব আলী প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পূর্ব শত্রুতার জেরে মামার হাতে ভাগ্নি খুন হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ জুন) ভোর রাতে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের মুরাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ঘাতক মামা সুমন মিয়া সহ আরও দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত তুলিন (৫) ঘাটাইল উপজেলার একই গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। নিহত তুলিনের বাড়ি এবং নানার বাড়ি পাশাপাশি। মাঝে মাধ্যেই তুলিন তার নানার বাড়িতে মামা মামীর কাছে থাকতো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তুলিন তার মামা মামীর কাছে থাকতে যায়। রাত গভীর হলে তুলিনের মামা সুমন তার দুলাভাইকে ( শিশু তুলির বাবাকে) ফোন করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তার মেয়েকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। শুক্রবার সকালে তুলিনকে খুজতে তার বাবা-মা তুলিনের মামার বাড়ি যায়। এসময় তুলিনের মামা ও পরিবারের অন্যান্য লোকজন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় এলাকাবাসী তুলিনের মামা সুমন মিয়া, স্ত্রী সুমাইয়া ও নানী মরিয়মকে আটক করে। পরে স্বজন ও এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে সুমনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পানির ট্যাংকি থেকে তুলির লাশ উদ্ধার করে।এ ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান,সুমন তার ভাগ্নিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় সুমন, তার মা মরিয়ম বেগম এবং স্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি । থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, এবারের ঈদে একটু ভিন্নমাত্রা আছে। এ ঈদে পশুবাহী গাড়ির বেশি চলাচল করে। মহাসড়কের সংলগ্ন ও অদূরেই হাট থাকে। এই চ্যালেঞ্জগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি, এর সমাধানের পথ জানি, সেগুলো সমাধানের পথও আমরা চিহ্নিত করেছি। ইজারাদারসহ স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন সকলে মিলে এবারও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা হবে। আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও অঙ্গীকারবদ্ধ। সেভাবে আমরা মাঠে আছি ও কাজ করছি।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক পরিদর্শনকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদউত্তীর্ণ যানবাহন নিয়ে যে আমরা শুধু ঈদের আগে কাজ করি তা না। প্রতিনিয়ত এসব যানবাহন নিয়ে আমরা কাজ করে থাকি। প্রতিনিয়ত ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদউত্তীর্ন যানবাহন ডাম্পিং করা হচ্ছে। গত মে মাসে এ রকম যানবাহনের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়াও অনেক গাড়ি আটক করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার কারনে কিন্তু গত ঈদ এ যাবতকালের স্বস্তি দায়ক ঈদ যাত্রা হয়েছে। যানজট ও নিরাপদ ঈদ আমরা উপহার দিতে পেরেছি। ফিটনেসবিহীন, রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ও লাইসেন্সসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা বর্তমানেও অব্যাহত আছে, আশা করছি এর সুফল এবারও পাবো।
অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাইওয়ে পুলিশের প্রধান মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, তারপরও ভাল গাড়ি যদি তাৎক্ষনিক বিকল হয় সে গুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সব মহাসড়কের যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপের মালিকদের নম্বর আমরা রেখেছি। বিকল হওয়া গাড়ি যাতে তাৎক্ষনিক চালু করা যায় সে বিষয় জোরদার করা হয়েছে। যে সব যানবাহন চালু করা যাবে না সেগুলো রেকার দিয়ে অপসারণ করবো।
তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের হেড কোয়ার্টার ,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ আমরা সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে থাকি। আমাদের গুরু দায়িত্ব মনে করি ঈদের সময়ে জন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে স্বাধচ্ছন্দে স্বজনদের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকি। যখন এলেঙ্গা থেকে উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ির চাপ বেশি থাকবে তখন বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের গোলচত্বর হয়ে ভূঞাপুর দিয়ে এলেঙ্গা দিয়ে ঢাকায় যাবে। গাড়ির চাপ কম বেশির উপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন, বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল, কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হাসান প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মনোনীত গামছা প্রতীকের প্রার্থী রাহাত হাসান টিপু ৪ হাজার ৭শ’ ৪২ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহিম আহমেদ পেয়েছেন ৪ হাজার ৬শ’ ২১ ভোট।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল করিম অটল নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৩শ’ ৫৪ ভোট পেয়েছেন ।
বুধবার(২১ জুন) সন্ধ্যায় সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসাইল উপজেলা হলরুম থেকে বেসরকারিভাবে পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
বাসাইল পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে তিন জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ফসলের মাঠ (চক) থেকে গরু আনতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ফজলুল হক (৫০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এতে ফজলুল হকের শরীরের বিভিন্ন অংশ ভষ্মিভুত হয়ে যায়।
বুধবার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফজলুল হক ওই গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন।
তিনি জানান, ফজলুল হক দুপুরে মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতের কবলে পড়েন তিনি। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে তার মরদেহ স্বজনরা বাড়ি নিয়ে গেছে।
একতার কণ্ঠঃ জনগনের বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ রাতদিন পরিশ্রম করছেন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের জন্য।
ইউনিয়নে ২২টি গ্রামে অবাধ যাতায়াত তার। বাংলাদেশের অন্যতম কনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে খুশি তার ইউনিয়নের জনগন। তার পিতা মরহুম রুহুল আমীন খান খোকন ছিলেন ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ফলে তোফায়েল আহম্মেদকে এক প্রকার ঘরের ছেলে মনে করেই তার প্রতিটা কর্মসুচিতে ইউনিয়নের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে স্বর্তস্ফুতভাবে অংশ গ্রহন করছে।
২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই ইউনিয়নের অসমাপ্ত ৪৬টি গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নের কাজ করেছেন তিনি। এদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে, সুরুজ পুর্বপাড়া থেকে হাজী বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার ইটের সোলিং ও আরসিসি ঢালাই। আউলটিয়া থেকে কলেজ গেইট পর্যন্ত রাস্তা পাঁকাকরণ। দরুণ জামাই পাড়া থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত নতুন রাস্তা তৈরী। নিয়োগী জোয়াইর পাকা রাস্তা থেকে পুরাতন মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন। সুরুজ কবরস্থানের রাস্তার উন্নয়নসহ এ পর্যন্ত ৪৬টি রাস্তার উন্নয়নের কাজ করেছেন তিনি।
এছাড়া ইউনিয়নের ৫টি মসজিদ,৩ টি গোরস্থান ও ৩টি মন্দিরের সংস্কারের কাজ করেছেন তিনি। দায়িত্ব নেয়ার পর ইউনিয়নে বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা,বিধবা ভাতার কার্ড প্রদান করেছেন প্রায় ১ হাজার জনকে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ৩’শ মা পেয়েছেন মাতৃকালীন ভাতা। এর বাইরেও প্রতিমাসে ১৩জনকে নতুন করে দেওয়া হচ্ছে মাতৃকালীন ভাতা।

দরুণ গ্রামের জব্বার আলী,জোয়াইর গ্রামের আবু বক্কর, পাকের আলী, ঘারিন্দা গ্রামের রুবেল মিঞা, বীর নাহালী গ্রামের ওসমান মিঞা, রানাগাছা গ্রামের সোনাভানু, অনিতা রাণী জানান, আমাদের ইউনিয়নে এর আগেও অনেক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু কেও আমাগো তোফায়েল চেয়ারম্যানের মতো এত্ত কাজ ও জনগনের খোঁজখবর রাখেনাই। তার কাছে প্রয়োজনে দিনেরাতে যেকোন সময় যাওয়া যায়।
তারা আরও জানান, ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো আমাদের ওই রাস্তাগুলোর সংস্কার ও নতুন রাস্তা তৈরী করার জন্য। সামান্য বৃষ্টি হলেই যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত গ্রামবাসীর, জনদূর্ভোগ পৌঁছাতো চরমে। রাস্তাগুলো তৈরী হওয়াতে এখন আমাদের চলাচলের আর কোন সমস্যা হয়না। এছাড়া বৃষ্টির দিনে সুরুজ কবরস্থানে যাতায়াত খুব কষ্টকর ছিলো। রাস্তাটি করে দেওয়ার ফলে বৃষ্টির দিনেও মৃতদের দাফনে কোন প্রকার সমস্যা হবেনা। দরুণ গ্রামটি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার একদম লাগোয়া হলেও বিশ্বরোড কিম্বা শহরে যাতায়াতের কোন রাস্তা ছিলো না। বর্ষাকালে আমাদের নৌকায় যাতায়াত করতে হতো। বর্তমানে রাস্তাটি হওয়ায় আমরা শহরে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছি।
ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ইউনিয়নটি টাঙ্গাইল শহরের লাগোয়া হওয়ায় ইউনিয়নের অনেক লোক শহরে গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে শহরের গিয়ে তাদের কাজ করা খুবই কঠিন হয়ে পরতো। আমি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের কাঁচাপাকা ৪৬টি গ্রামীন সড়ক নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করেছি। বিশেষ করে দরুণ গ্রামের যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তাই ছিলোনা। বর্তমানে বিশ্বরোড থেকে দরুণ জামাইপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটি তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ছানোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগীতায় ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমুলক কাজের চিত্র প্রায় প্রতি দিনই বিভিন্ন গ্রামে, চা স্টলে ও শুক্রবার জুম্মা নামাজের পুর্বে বিভিন্ন মসজিদে ইউনিয়নের জনগনের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে জনগনের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার ইউনিয়ন থেকে নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ আগামী ২১ জুন টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের উপজেলা শাখার সভাপতি রাহাত হাসান টিপু মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৩৭। এর মধ্যে নারী ভোটার ৯ হাজার ৫৩০ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৯০৭জন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তারা গোপনে আব্দুর রহিম আহমেদের বিরোধীতা করছে। আব্দুর রহিম আহমেদ স্থানীয় সংসদ সংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের অনুসারী। তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে এমপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। একারণে এমপি বিরোধী গ্রুপ চায়না এমপির অনুসারী মেয়র পদে জয়লাভ করুক। তারা প্রকাশ্যে বিরোধীতা না করলেও গোপনে বিরোধীতা করছেন এবং নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।
এছাড়াও মেয়র হয়েও গত পাঁচ বছরে তিনি পৌরসভার তেমন কোন কাজ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ গত পাঁচ বছরে পৌরসভার কোন উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
তবে এসব বিষয় উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, গত পাঁচ বছর মেয়র হয়ে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। দলের ভেতরে কোন দ্বন্দ নেই। শুধু আওয়ামী লীগই নয় দল মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাকে ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করবে। আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও পৌরসভার জনগণ একত্রিত হয়েছে। গত পৌরসভার নির্বাচনের ন্যায় এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা উপহার দিবে।
এদিকে বাসাইল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দূর্বল। দলের ভেতরেও রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আওয়ামী লীগ সরকারের অধিনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলেও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল করিম অটল এবারও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি গত মঙ্গলবার জেলা বিএনপির সভাপতির কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেনও বলে জানান জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ।
তবে এনামুল করিম অটল বলেন, উপজেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী আমার সাথে রয়েছে। জীবন যৌবন শেষ করেছি এ দলের জন্য। বাসাইল কলেজের ভিপি ছিলাম। বিএনপির দুইবার উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে বাসাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।
তিনি আরও বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে আমি মাত্র ১৯ ভোটে হেরে গেছি। বর্তমান সরকার আমাকে নীলনক্সা করে হারিয়েছে। এবার ৭০ ভাগ ভোটার আমার পক্ষে। জনগণ ভোট দিতে পারলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। এ অবস্থায় মাঠ ছেড়ে দিলে জনগণ আমাকে ক্ষমা করবে না। জনগণ আমার সাথে আছে। আমি শতভাগ আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে ।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল করিম অটল দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সে এখন দলের কেউ নন। বিএনপির কোন নেতাকর্মী তাঁর নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম তার মনেনাীত প্রার্থী উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি রাহাত হাসান টিপুকে জয়ী করার জন্য ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। সভা সমাবেশ করছেন।
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের মেয়র প্রার্থী রাহাত হাসান টিপু বলেন, গত নির্বাচনে সামান্য ভোটে হেরেছিলাম। ১০ বছর ধরে মাঠে রয়েছি। বাসাইলের জনগণ আমাকে চায়। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।
তবে সাধারণ ভোটাররা সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত ও উন্নয়নশীল ও আধুনিক পৌরসভা গড়তে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় বলেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ মা–বাবা মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু কিশোর সাব্বির আলম (১৭) নাছোড়বান্দা। ছেলের জেদে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেল সাব্বির আলম ও তাঁর বন্ধু হামিদের (১৭)। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সাব্বিরের মা–বাবা। হামিদের বাড়িতেও চলছে মাতম।
সাব্বিরদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. সুরুজ্জামান পেশায় রংমিস্ত্রি। মা গৃহিণী। সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ছেলেরে শখ পূরণ করতে মোটরসাইকেল কিইনা দিলাম, সেই মোটরসাইকেলেই তাঁর জীবন গেল।’
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত রোববার(৪ জুন) সকালে সাব্বির তাঁর বন্ধু হামিদ ও সাদিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়। তারা মধুপুরের রাবারবাগান এলাকায় ঘুরে বাড়ির দিকে ফিরছিল। পথে মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। তবে সে শঙ্কামুক্ত।
মধুপুর থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সন্ধ্যায় সাব্বিরের লাশ টেপিকুশারিয়ায় তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। হামিদের লাশ নেওয়া হয় মানিকপুরের গ্রামের বাড়িতে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রোকিবুল ইসলাম জানান, এ সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। গ্রামের মানুষ তাদের লাশ দেখতে ভিড় করে। সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা–বাবার বড় সন্তান। তার সাত বছর বয়সী আরেক ভাই রয়েছে। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘাটাইল ও মধুপুর এলাকায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ১৯ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১০ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁরা ঘাটাইলে একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।
২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।
এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিনজন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল–কলেজপড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিং ব্যবসার ভয়াল থাবা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে জেলার মধুপুর উপজেলা এখন স্ক্যামারদের স্বর্গরাজ্য।
এসব সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে যেমন রেমিট্যান্স আসে, তেমনি লাখো যুবকের কর্মসংস্থান হয়। তাই সরকার এ বৈধ পেশাকে নানাভাবে উৎসাহিত করে চলেছে। কিন্তু স্ক্যামিং অনলাইনে একটি প্রতারণামূলক অবৈধ ব্যবসা। টিনএজার পর্নো, অ্যাডাল্ট সাইট এবং ডেটিং সাইট নিয়ে স্ক্যামাররা কাজ করে থাকে। এটি এক ধরনের অন্ধকার জগতের ব্যবসা। আর এ পেশায় যৌনতা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানায়, মধুপুর উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার আয়ের ধান্ধায় এখন স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা এমনকি গৃহবধূরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন। এই স্ক্যামিং যেমন নব্য ধনকুবের তৈরি করছে, তেমনি মাদক, জুয়াসহ নানা সামাজিক ব্যাধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ তৌফিক-ই- হাসেম শরীফ জানান, স্ক্যামাররা সাধারণত আমেরিকান মডেল, পর্নোস্টার বা এসকর্টদের নগ্ন ছবি, ভিডিও বা নানা তথ্য ওয়েবসাইট থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে অ্যাডাল্ট ডেটিং সাইটে আইপি হাইড করে পোস্ট দেয়। এরপর টেক্সট নাউ নামের ভার্চুয়াল নাম্বার সার্ভিসের মাধ্যমে স্ক্যামাররা এসকর্ট সেজে হাজির হয়। যাদের এসকর্ট সার্ভিস দরকার সেই গ্রাহকরা নক করলে এসকর্ট সাজা স্ক্যামাররা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য গ্রাহকের সঙ্গে ডলার নিয়ে দর কষাকষি শুরু করে। নগ্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ারের পরেও অনেক গ্রাহক ভিডিও বা ভয়েস কলে রিয়েল পার্সন ভেরিফাই করতে চায়। রোবট সফটওয়্যার দিয়ে ভয়েস বা ভিডিও কল ভেরিফিকেশনেও গ্রাহকরা সন্তুষ্ট না হলে ভাড়াটে নারীদের হাজির করে স্ক্যামাররা। এসব নারীরা স্বল্প আলোতে ন্যুড হয়ে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে। এরপর গ্রাহকের কাছ থেকে কিছু ডলার অ্যাডভান্স নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্ক্যামাররা এসব ডলার রিসিভ করে বিভিন্ন ক্যাশ অ্যাপ, কার্ড বা বিট কয়েনের মাধ্যমে। এরপর বিশেষ কায়দায় ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার বিট কয়েনে কনভার্ট করে বাংলাদেশি টাকায় রুপান্তর করে।
মধুপুরের একজন স্ক্যামার জানান, অভিজ্ঞ স্ক্যামাররা গ্রাহকদের সঙ্গে চ্যাট করে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, এসএসএস উইথ সেলফি সংগ্রহের পর বিশেষ কায়দায় গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের সমুদয় ডলার হাতিয়ে নেয়।

স্ক্যামার রনি সরকার জানান, ডেটিং স্ক্যাম ছাড়াও স্ক্যামাররা আমেরিকায় সম্পত্তি কেনা-বেচা, বাড়ি ভাড়া বা রিয়েল এস্টেট সাইটে গিয়ে ক্রেগলিস্ট অর্গানাইজেশনের আইপি হাইড করে লোভনীয় তথ্যে পোস্ট দেয়। আর একই কায়দায় অ্যাডভান্স ডলার নিয়ে কেটে পড়ে তারা। আমেরিকার জনপ্রিয় ক্লাসিফায়েড সাইট ব্যাকপেইজ ডটকমের আদলে মধুপুরের স্ক্যামাররা ক্লাসিফায়েড ডেটিং সাইট তৈরি করে প্রতারণামূলকভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, টু ব্যাকপেইজ ডটকম, ব্যাকলিস্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং স্কিপ দ্য গেইমস ডটকম নামের সাইটগুলোর মালিক মধুপুরের কয়েকজন স্ক্যামার। এরা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন মধুপুর পৌরশহরের নয়াপাড়া ও মাস্টারপাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পর্নো ও ডেটিং সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একজন স্ক্যামারকে ১২ লাখ টাকা আয় করার প্রমাণ পান।
মধুপুর ছাড়াও ঘাটাইল, গোপালপুর, ধনবাড়ী, কালিহাতী ও ভূঞাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে এই স্ক্যামিং ব্যবসা। মধুপুরের একটি বেসরকারি আর্কিটেক্ট কনসালটেন্টের তথ্যে দেখা যায়, দেড় বছরে মধুপুর উপজেলায় তিন শতাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে, যার প্রায় সবগুলোই স্ক্যামিং পার্টির।
স্থানীয়ভাবে স্ক্যামারদের বলা হয় নেট ব্যবসায়ী। দুই বছর আগে যারা রিকশা চালাতেন, ইটভাটায় কাজ করতেন, তার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন নিজেদের বহুতল ভবনে বসবাস করেন। দামি গাড়িতে চড়েন। অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শোরুম ও কারখানাও গড়ে তুলেছেন।
বি জেড এম গ্রাফিক্সের কর্ণধার প্রযুক্তিবিদ আপেল মাহমুদ জানান, স্ক্যামারদের এখনি থামাতে না পারলে ফ্রিল্যান্সিং পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। আস্থার সংকটে পড়ে এ শিল্প ধ্বংস হবে। ফরেনাররা তখন কাজ দেবে না।
মধুপুরের ফ্রিল্যান্সার ও ওয়েব ডেভেলপার সবুজ মিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা ফাইভার থেকে ভালো আয় করছিলেন, তারাও কু-মতলবে স্ক্যামিংয়ে চলে যাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।
মধুপুরের নকরেক আইটির কর্ণধার সুবীর নকরেক জানান, যেখানে বৈধ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর আয় করা যায়, সেখানে স্ক্যামিংয়ের মতো প্রতারণামূলক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এতে দেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর একটি নেগেটিভ রেজাল্ট আসবে শিগগিরই।
শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, অনলাইন স্ক্যামিংয়ের টাকা এখন হাওয়ায় উড়ছে। এক শ্রেণির কিশোর ও যুবকের হাতে অঢেল অর্থ আসায় মাদক, জুয়াসহ নানা অসামাজিক কাজ বেড়ে গেছে। এর ফলে সমাজে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।
মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশ কাজ করেছে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমিন পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে জানান, অবৈধ স্ক্যামিং ব্যবসার কাঁচা টাকা ভয়াবহ মাদকের প্রসার ঘটাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গিয়ে প্রতারণা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬ জন স্ক্যামারকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিছু ভবন সিলগালা এবং স্ক্যামারদের যেন বাড়ি ভাড়া না দেওয়া হয়, সেজন্য অনেক ভবন মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার তামজিদ আহমেদের (১৯ ) বজ্রপাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩১ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বজ্রপাতের শিকার হয় তামজিদ। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত তামজিদ টাঙ্গাইলের ভুঞাপর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের কদিম নিকলা গ্রামের মোঃ ইমান আলীর ছেলে।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান জানান, বুধবার দুপুরে স্টেডিয়ামটিতে গোপালগঞ্জ আবাহনী ক্রিকেট একাডেমি ও ঢাকার ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমির মধ্যে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ চলছিল। ম্যাচটিতে তামজিদ ঢাকার ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমির হয়ে খেলছিল।
তিনি জানান, দুপুর দেড়টার দিকে আকাশে সামান্য মেঘ ছিল। তামজিদ আহমেদ ডিপ স্কোয়ার লেগে ফিল্ডিং করছিলেন। খেলার ৩৫তম ওভারের সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সতীর্থরা দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখতে পান, তামজিদের পরিহিত জার্সির অনেকাংশ পুড়ে গেছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনসার আহমেদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে ঢাকা ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন তামজিদ। গোপালগঞ্জ আবহানী ক্রিকেট একাডেমির সঙ্গে সিরিজ খেলতে দলের সঙ্গে গোপালগঞ্জে এসেছিলেন তিনি। তামজিদ টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেট প্র্যাকটিসের পাশাপাশি তামজিদ ঢাকায় জীবিকা নির্বাহের জন্য ফুড পান্ডায় ডেলিভারি ম্যানের কাজ করতো।
তামজিদের অকাল মৃত্যুতে টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের চাঞ্চল্যকর পার্ক বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আলী আকবর বাপ্পী(৩৩) হত্যার ঘটনায় ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। এছাড়াও তাদের কাছে থাকা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাড় দিঘুলিয়া এলাকার মোঃ নূরু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু (৩০), একই এলাকার ঝন্টু বেপারীর ছেলে মোঃ খোকন (৩১) ও মৃত শহীদ বেপারীর ছেলে ওলি (৩০)।
শনিবার (২৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।
ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান,ব্যবসায়ী বাপ্পি হত্যাকাণ্ডটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সোহেল রানার নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান ও তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) মোরাদুজ্জামান’সহ অন্যান্য অফিসার ফোর্সের অংশগ্রহণে একাধিক টিম ঘটনার পর থেকেই সাড়াশি অভিযান চালাতে থাকে। পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত তিন দিনে আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়। পরে বিজ্ঞ আদালতে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি (১৬৪) প্রদান করেছে।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবসায়ী বাপ্পির মা আজিমন বেগম (৫৫) মঙ্গলবার (২৩ মে) অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে মাছ বিক্রির দুইটি দোকানের মালিকানাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। নিহত বাপ্পি দীর্ঘদিন যাবৎ পার্ক বাজারে খুচরা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। পার্ক বাজারে দুইটি মাছের দোকান আসামি খোকন, ওলি ও নিহত বাপ্পি তিনজনের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত দোকান ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি তিনজন মিলে পরিকল্পনা করে, বাপ্পিকে মারপিট করে ভয় দেখিয়ে দুইটি দোকানকে তিন ভাগ করে তারা তিনজন দোকান তিনটি নিয়ে নিবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার (২২ মে) বিকাল অনুমানিক ৩ থেকে ৪ ঘটিকার মধ্যে শহরের পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর এলাকায় খোকনের অটোরিক্সা গ্যারেজে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি বসে বাপ্পিকে মেরে ফেলার (হত্যা করার) পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু নিহত বাপ্পিকে রাত্রী অনুমানিক ১০.৩০ মিনিটে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দিঘুলিয়া ব্রীজের পশ্চিম-দক্ষিন পার্শ্বে লৌহজং নদীর পাড়ে বটগাছের নিচে আসামী খোকন ও ওলি আসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
তিনি জানান, মেয়েলি বিষয়ে টাকা পয়সা নিয়ে একটি পার্টি আসবে এই লোভ দেখিয়ে নিহত বাপ্পিকে নিয়ে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু সময়ক্ষেপন করতে থাকে। সোমবার (২২ মে) দিনগত রাত আনুমানিক ১.৩০ মিনিটের দিকে আসামী খোকন ও ওলি তাদের হাতে থাকা ধারালো দা-বটি সহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে নিহত বাপ্পির কাছে এসে প্রথমে আসামী খোকন বাপ্পিকে বসা অবস্থায় পিছন দিক থেকে দা দিয়ে কোপ মারলে বাপ্পি উঠে রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। পরে রাস্তার কোনায় বাপ্পি পিছলে পরে যায়, ওই সময় আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি বাপ্পিকে পিছন থেকে ধাওয়া করে শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে দা-বটি‘সহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে মাথা, হাত ও পিঠের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়।
তিনি আরোও জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাজু আহম্মেদ হাবলুকে বৃহস্পতিবার (২৫ মে) আদালতে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ওলি ও খোকনকে শুক্রবার (২৬ মে) আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জান্নাত রিপা ওই তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (১৬৪) রেকর্ড করেন।