একতার কণ্ঠঃ অন্যান্য দিনের মতো রোববার (২২ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের লাউহাটি বাজারে নিজের স্টেশনারি দোকানে কাজ করছিলেন হাসমত আলী খান। তখন খবর পান, একটি মহিষ এসেছে তাঁদের এলাকায়। যাঁকে সামনে পাচ্ছে, তাঁকেই আক্রমণ করছে। দোকান ফেলে তিনি মানুষকে রক্ষা করতে ছুটে যান। সেখানে মহিষের আক্রমণের শিকার হন। পরে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসমত আলী খান উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি তারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক জানান, হাসমত তাঁকে ফোন করে মহিষের আক্রমণের কথা জানান। এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। এর মধ্যে মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য তিনি মহিষটির আশপাশেই অবস্থান করছিলেন। মানুষকে সতর্ক করছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ তাঁকেই আক্রমণ করে বসে মহিষটি।
হাসমত আলীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্বজন ও এলাকার মানুষ। এই মহিষের আক্রমণে হাসমত আলী ছাড়াও হাজেরা বেগম ও কিতাব আলী নামের দুজন মারা গেছেন। তাঁদের মৃত্যুতে এলাকার সবাই শোকাহত।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, রোববার পার্শ্ববর্তী বারোপাখিয়া গ্রামের শরীফ মিয়ার মহিষ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। যাঁকে সামনে পায়, তাকেই গুঁতা দিতে থাকে। মহিষের আক্রমণে শরীফ মিয়া আহত হন। একপর্যায়ে মহিষটিকে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। পরে মহিষটি লাউহাটি এলাকায় চলে আসে। সেখানেও মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে।
লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন মোহাম্মদ খান জানান, মহিষের আক্রমণে ১০–১২ জন আহত হন। এর মধ্যে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪২) রোববার বিকেলে মারা যান। সোমবার রাতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাসমত আলী (৫৭)। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বারোপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলীর অবস্থার অবনতি হয় সোমবার রাতে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটিতে পাগলা মহিষের আক্রমণে নারীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতরা হলেন, লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী খান, লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম, এলাসিন ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলী।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, রবিবার সকালে একটি পাগলা মহিষ লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামে জনসাধারণের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় মহিষটির আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কমুদিনী ও টাঙ্গাইল জেনালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে ৩টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজেরা বেগম। খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সেখানে যান। তার আগেই স্থানীয়রা মহিষটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এদিকে হাসমত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার রাতেই সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কারণে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। অপর আহত কিতাব আলী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সোমবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া জানান, অতি উৎসাহী লোকজন পিছু নেওয়ায় মহিষটি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। লোকজন মহিষটিকে ধাওয়া না করলে হয়তো হতাহতের সংখ্যা আরো কম হত । খবর পেয়ে ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে জানিয়েছিলাম।
তিনি আরো জানান,রবিবার বিকেলে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণি ফ্রাংকুলাইজেশ (অচেতন) দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন মহিষটিকে মেরে ফেলে।
একতার কণ্ঠঃ নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি। ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।
মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। বাবার কথায় স্বামীর সংসার ছেড়ে গ্রামে চলে যান পারুল। এবার ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান করায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস খাঁ মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে জয়পুরহাটে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুদ্দুসের সঙ্গে তাঁর বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান।
সেখানে যাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে পারুলকে তাঁর বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন।
২০ জানুয়ারি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার এমন লোমহর্ষক, বর্বরোচিত বিবরণ তুলে ধরেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। তিনি এখন কারাগারে। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি আজ রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন হয় ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারুল সব ভাইবোনের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। স্কুলে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। বাবা কুদ্দুসের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করবেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে করায় বাবা ক্ষুব্ধ হন।
বনজ মজুমদার বলেন, তখন থেকেই কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল মেয়ে তাঁকে যে অসম্মান করেছে, তাতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সেই সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েকে হত্যা করেন। কুদ্দুসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুসের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তাঁর মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাঁকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।
পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।
পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জহিরুল ইসলাম (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার(২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি ২ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
জহিরুল ইসলাম নাগরপুর উপজেলার মীর কুটিয়া গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ২০১৩ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় আউয়াল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট মির্জাপুর থানার এসআই শ্যামল কুমার দত্ত বাদি হয়ে হত্যা মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক জহিরুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। মামলা চলাকালে জহিরুল ইসলাম পালিয়ে যান।
তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার সকালে জহিরুলকে মির্জাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পাগলা মহিষের তান্ডবে হাজেরা বেগম(৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২৪ জন।
রবিবার (২২ জানুয়ারী) সকালে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় এ পাগলা মহিষটি।
নিহত ওই নারী উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রসাশন ও স্থানীদের সহযোগীতায় মহিষটিকে মেরে ফেলা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা।
তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকেই উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে তারটিয়া গ্রামে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় পাগলা মহিষটি। এতে স্থানীয় ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরতর আহত হাজেরা বেগম নামের এক নারী মির্জাপুর কুমুদিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারধীন অবস্থায় বিকাল ৩ টায় মৃত্যু বরণ করেন। বাকি ২৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতায় জেলা প্রণি সম্পদ অধিদপ্তর ও পুলিশ ঘন্টাব্যাপী প্রচেষ্টার ফলে মহিষটিকে মারতে সক্ষম হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুর ঘাটে কাজ করার সময় বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামে এক ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) মালিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও তিনজন।
শনিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া এলাকার ভাবীর ঘাট নামে পরিচিত বালুর ঘাটে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘাটের ইজারাদার হাশেম প্রামানিক।
নিহত রাশেদুল উপজেলার পলশিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত জুয়েল (২৪) সিরাজকান্দি গ্রামের অহসান প্রামানিকের ছেলে।
এ ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বালু চাপায় রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামের ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) এর মালিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিকরাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সারপলশিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য নুহু।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুর স্তুপ ছিল অনেক উঁচু। এতে তিন চারজন সেই বালুর স্তুপে উঠে সেখানে থাকা পাইপ খুলতে গিয়েছিল। এ সময় বালুর স্তুপ ভেঙে তাদের উপর পড়ে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে ভেকুর মালিক রাশেদুলের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত জুয়েল নামের একজনকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় হলুদ ফুলকপি চাষে আরশেদ আলী নামে এক কৃষক সফলতা পেয়েছেন। ভূঞাপুর পৌরসভার ছাব্বিশা এলাকায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষা মূলকভাবে রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি।
বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে।
এ ব্যাপারে আরশেদ আলী বলেন, নিজ বাড়ির আঙিনার ৩৩ শতক জমিতে প্রতি বছর নানা ধরনের সবজি চাষাবাদ করে থাকি। এবার সেই জমির অর্ধেকাংশে পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। আমার এ জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার প্রয়োগে রঙিন ফুলকপি চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছি। আমার এমন সফলতা দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। এছাড়া আমার এই রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেকেই আসেন বাড়িতে। কেউ কেউ কিনে নিয়ে যান। আবার অনেকেই আগ্রহ থেকে পরামর্শ নেন। কেউ রঙিন ফুলকপির সঙ্গে ছবি তোলাসহ ভিডিও ধারণও করেন। আমার রঙিন ফুলকপির সাফল্যে খুশি স্থানীয় কৃষি বিভাগও।
আরশেদ আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ও কৃষি অফিস থেকে নতুন জাতের রঙিন ফুলকপির ৪০০ চারা, জৈব সার, পোকা দমন কীটনাশকসহ সব ধরনের সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশে মাত্র ১৫ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। এতে ৪ রঙের ফুলকপি রয়েছে। চারা রোপণের ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে জমিতে পূর্ণাঙ্গভাবে ফসলতা পেয়েছি। এই কপি বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যায়। দামও পাচ্ছি ভালো ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চীনে এ জাতের ফুলকপি সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও খুব সুন্দর। অন্যান্য ফুলকপির চাষের যে পদ্ধতি ওই একই পদ্ধতিতে রঙিনটিও চাষ করা হয়। খরচ ও সময় একই। পাশাপাশি শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফুলকপি চাষ করা যায়। স্থানীয় হাট-বাজার রয়েছে এর অনেক চাহিদা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, উপজেলায় এই প্রথম রঙিন ফুলকপি পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন কেউ আগ্রহী ছিল না। পরে আরশেদ আলী নামে এক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে কৃষি অফিস থেকে ৪০০ ফুলকপির চারা, জৈব সার, পোকারোধক কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৪ রঙের ফুলকপি চাষ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আহসানুল বাসার বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে জেলার ১২ উপজেলাতে পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মধ্যে সবার আগে ভূঞাপুর উপজেলায় সফলতা পাওয়া গেছে। এ জাতের ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। ক্যান্সার রোধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে এ ফুলকপি। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ায় অনেক কৃষক আগামী বছরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকে রামদা নিয়ে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে স্থানীয় জনতা এক যুবককে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এসময় তার কাছ থেকে একটি রামদা, হাতুড় উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃত যুবকের নাম মেহেদি হাসান। সে সখিপুর উপজেলার গোহাইলবাড়ী গ্রামের মৃত নাজমুল হাসানের ছেলে।
ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখার দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম রনি জানান, আমি ক্যাশে বসে দায়িত্ব পালন করছিলাম। হুট করে দেখি মুখোশ পড়া এক যুবক প্রবেশ করে বড় রামদা নিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। তখন আমি ক্যাশের ড্রয়ার বের করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি এবং ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সহকারী পুলিশ সুপার (কালিহাতী সার্কেল) শরীফুল হক জানান, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক ডাকাতি প্রস্তুতিকারী যুবককে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে । আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ভালোবেসে বিয়ে করেও ঘর বাঁধতে পারছেন না নুরজাহান আক্তার (২০) নামের এক তরুণী। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে পাঁচ দিন ধরে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভাতগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দেড় মাস আগে ওই গ্রামের রমজান খানের ছেলে নীরবের হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নুরজাহান ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলতলা গ্রামের দরিদ্র সুরুজ মিয়ার মেয়ে।
নুরজাহান জানান, গত ১ বছর আগে নীরবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে দেড় মাস আগে পরিবারের অজান্তে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা। কিছুদিন আগে তাকে ফেলে নীরব বাসা ছেড়ে দেন এবং মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি গত মঙ্গলবার নীরবের বাড়িতে আসেন এবং স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন শুরু করেন। এ সময় নীরবের মা ও খালাতো বোন নুরজাহানকে ঘরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেন। ফলে চাচার বাড়িতে নুরজাহান একাকী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। দুই পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটা আমার জানা নেই। তবে মেয়েটি যদি আইনের সাহায্য চায়, তাহলে তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধভাবে মজুদ সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) ২০০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের ধুবলিয়া এলাকা থেকে বাবুল নামের এক চাল ডিলারের গোডাউন থেকে ওএমএসের ২০০ বস্তা চাল জব্দ করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না রহমান জ্যোতি।
ধুবলিয়া গ্রামের অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কুঠিবয়ড়া গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে বাবুল সরকারি চাল কেনাবেচা করছেন।
হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা চালসহ সরকারের বিভিন্ন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল কিনে কালোবাজারি জন্য ধুবলিয়া এলাকার একটি ঘরে মজুদ করে রাখতেন। পরে সেখান থেকে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন খাদ্য গোডাইন ও চালের ডিলারদের কাছের বিক্রি করতেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কালোবাজির উদ্যোশে মজুদ রাখার খবরে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। এতে ধুবলিয়া এলাকায় চালের ডিলার বাবুলের গোডাইন থেকে ২০০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল রয়েছে। এতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না রহমান জ্যোতি।
ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু বলেন, এখানে গোডাউন ভাড়া নিয়ে সরকারি চাল কালোবাজারি হচ্ছে, সেটা জানা ছিল না। ডিলার বাবুলের বাড়ি অর্জূনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়াতে। বাবুলের শাস্তি দাবি করছি।
ইউএনও মো. বেলাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ২০০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। যাচাই বাচাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভার আভুঙ্গী চরপাড়ার জনৈক কামরুল ইসলামের বাড়িতে পর্ণগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরিকালে অভিযান চালিয়ে ৮ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পর্ণগ্রাফি ভিডিও ও ছবি প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত ৮টি ল্যাপটপ ও কম্পিউটার জব্ধ করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালপুর থানা পুলিশ বুধবার(১৮ জানুয়ারি) রাতে ওই অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অজ্ঞাত আরও ১০-১৫জন পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- আভুঙ্গী চরপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে রনি মিয়া(২৭), শামছুল হকের ছেলে নাজমুল ইসলাম(১৯), মুসলিম উদ্দিনের ছেলে শাহিন মিয়া(২৭), হাকিম মিয়ার নাতি আমিরুল ইসলাম(২৪), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে সানি মিয়া(১৯), গোলাম হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন(২৩), মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. আলম(২৫), বাখুরিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে ফজলুল হক(৪০)। এ ঘটনায় পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করার পর তাদেরকে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জব্ধকৃত ল্যাপটপ ও কম্পিউটার থেকে বিপুল পরিমাণ অশ্লীল ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব অশ্লীল কণ্টেণ্ট দিয়ে অসাধু উপায়ে টাকা উপার্জন করছিল।
গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হক, তারা মিয়া, আরিফুল ইসলাম সহ স্থানীয়রা জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তারা জানতেন। এই পরিচয়ের আড়ালে তারা এসব অপকর্ম করতেন তা জানা ছিলনা। গ্রেপ্তারের পর এখন শোনা যাচ্ছে- পাশের মধুপুর পৌরসভার কোন এক জায়গায় তাদের প্রধান কর্যালয় রয়েছে। সেখান থেকে তারা অবৈধ কাজের প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায়। গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দি অনুযায়ী এই চক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার অনত্যম প্রতিবাদকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার(১৮ জানুয়ারি) হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয় ।
বুধবার(১৮ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় প্রয়াত নেতা ফারুক আহমদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া তার নিজ বাসা শহরের কলেজ পাড়ায় কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
দুপুরে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন ও সুভাষ চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক প্রমুখ।
এ সময় আওয়ামী লীগ ছাড়াও ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামি ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
২০১৪ সালে ওই মামলায় জড়িত থাকা সন্দেহে আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা এবং মোহাম্মদ আলী নামক দুই জনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সাথে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ওরফে কাকন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি সানিয়াত খান ওরফে বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমানরা চার ভাইসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার আসামি আমানুর রহমান খান আত্মসমর্পনের পর তিন বছর হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তার অপর ভাই সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান দুই বছর আগে আদালতে আত্মসমর্পনের পর এখন পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন। আরও কারাগারে রয়েছেন আলমগীর হোসেন। আমানুরের অপর দুই ভাই জাহিদুর রহমান খান ও সানিয়াত খানসহ মো. কবির এবং ছানোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিদের মধ্যে আনিসুর রহমান রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। অপর আসামি মোহাম্মদ আলী, মাসুদুর রহমান, নাসির উদ্দিন নুরু, ফরিদ আহমেদ ও বাবু জামিনে রয়েছেন।