একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল এখন ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে গেছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আক্রমণ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে এই অবস্থা চলছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে আছেন পৌর মেয়র আবু হানিফ আজাদ। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান।
সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বিরোধীদের অভিযোগ, এক বছর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। তারপর গত অক্টোবরে সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বসে একটি খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেন। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি যে কমিটি প্রকাশ করা হয়, সেখানে খসড়া কমিটির ২৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। সেখানে সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজনসহ অন্য দলের লোকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংসদ সদস্যের অনুসারীদের দাবি, অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আগে মূল্যায়ন করেননি। এবার সংসদ সদস্য তাঁদের মূল্যায়ন করছেন।
২৯ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা নবগঠিত হতেয়া-রাজাবাড়ি ইউনিয়নে কর্মিসভার আয়োজন করে। সেখানে অধিকাংশ বক্তাই সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সভায় হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গিয়াস উদ্দিন সংসদ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জোয়াহেরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সংসদ সদস্য হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বড়চওনায় এক সমাবেশ করেন। সেখানে অধিকাংশ বক্তা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান এবং সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত শিকদারকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ওই সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান শরীফ তাঁদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম বক্তব্যে বলেন, অনুপম শাহজাহান ও শওকত শিকদারকে তিনি টাকাপয়সা ও সোনা দিয়েছেন। তখন তাঁর অনেক মূল্যায়ন ছিল। এখন তাঁর টাকাও নেই, মূল্যায়নও নেই।
বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, শওকত শিকদার যখন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তাঁকে প্রকল্প দেওয়ার কথা বলে টাকাপয়সা নিয়েছেন। কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল হোসেন বলেন, ‘ওনাদের টাকা দিলেই মজা, না দিলেই তাঁরা বেজার।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান বলেন, এ অবস্থা জোয়াহেরুল ইসলামই শুরু করেছেন। তাঁর সঙ্গে বসে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি খসড়া করেছিলেন। তিনি সেখান থেকে ২৩ জনের নাম কেটে ইচ্ছামতো নাম বসিয়ে দিয়েছেন। দলতো পরিবার নিয়ে হয় না। তিনি আত্মীয়স্বজন দিয়ে দলের কমিটি ভরে ফেলেছেন।
বিরোধিতার জন্যই নেতারা বিরোধিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এর কোনো মানে হয় না। আমি সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করছি। কিছু লোক আমাকে হেয় করার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তৃতা করছেন। তাঁরা আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত রেষারেষি করছেন। এটা ঠিক নয়।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, এক পক্ষ আরেক পক্ষের নেতাদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ তুলছেন। এতে দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দলের ও সরকারের ইমেজ এলাকায় নষ্ট হচ্ছে। বৃহত্তর স্বার্থে সবার একযোগে কাজ করা উচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে খলিলুর রহমান (৬০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে একমাত্র আসামীকে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের ভাদুরীরচর গ্রামের মৃত মসলিম উদ্দিনের ছেলে ও ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
জানা যায়, শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) খলিলুর রহমান মাদরাসার গেট থেকে ওই ছাত্রীকে ডেকে নেন। তারপর চকলেট দেওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশের পুকুর পাড়ের নির্জন ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে আসামি দৌঁড়ে পালিয়ে যান।
গোপালপুর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, ওই শিশুটির মা বাদি হয়ে শনিবার রাত, ১১ টায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরো জানান, মামলার একমাত্র আসামী খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করায় সময় টিভির বার্তাপ্রধান মুজতাবা দানিশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে করা মামলা ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী জেলায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা পালন করেন এ কর্মসূচি।
এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জাফর আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক ও আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার কাজী জাকেরুল মাওলা, বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি আতাউর রহমান আজাদ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখরসহ জেলায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে সাংবাদিকরা জানান, ডিজিটাল অ্যাক্ট আইন করে প্রতিনিয়তই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করায় সময় টিভির বার্তাপ্রধান মুজতাবা দানিশ ও রংপুর ব্যুরোপ্রধান রতন সরকারের নামে ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে মামলা করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই সাংবাদিক সমাজ মেনে নিতে পারে না।
সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, সম্প্রতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে সাংবাদিকদের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান। তারপরও এই আইনেই সাংবাদিকরাই হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। তাই অনতিবিলম্বে সময় টিভির বার্তাপ্রধান ও সাংবাদিক রতন সরকারের নামে দায়ের করা ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে করা মামলা প্রত্যাহারসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ না হলে অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ।
উল্লেখ্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের তোয়াক্কা না করে ফল প্রকাশ, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে পাস করানোসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়লেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল হক। বিতর্কিত সাবেক ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সময়কালে সংঘঠিত এসব অপকর্মের বিচার চাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবেক ভিসি কলিমুল্লাহ চক্রের প্রভাবশালী সামসুল হক। সময় টিভিতে এসব সংবাদ প্রচারের অভিযোগে সময় টিভির বার্তাপ্রধান ও রংপুর ব্যুরোপ্রধানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনে মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ নদী-চর-খাল-বিল গজারির বন, টাঙ্গাইল শাড়ী তার গরবের ধন। টাঙ্গাইলের ফুসফুস খ্যাত মধুপুরের শাল গজারির বন নব্বইয়ের দশক থেকে পর্যায়ক্রমে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের কারণে বিলীন হওয়ার পথে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় ৪৫ হাজার ৫৬৫.৩৮ একর এলাকা জুড়ে মধুপুরের শালবন বিস্তৃত ছিল। দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় প্রভাবশালীদের জবর দখলের কারণে শালবনের বিস্তৃতি এসে দাড়িয়েছে ৯ হাজার একরে। এ হিসেবে মধুপুর বনাঞ্চলের পাঁচ ভাগের চার ভাগই এখন জবর দখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিক ও বনাঞ্চলের নিকটবর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে বহিরাগত প্রভাবশালীরা স্থানীয় নৃ-জনগোষ্ঠীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার একর বনভূমি উজাড় করে নিচ্ছে। সম্প্রতি দোখলা রেঞ্জ অফিসের প্রায় ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব পার্শ্বের গহীন শালবনের মাগিচোরাচালা এলাকায় গজারি, সিদা, আজুগিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩ শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় একটি চক্র।

সরেজমিনে, মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা রেঞ্জের আওতাধীন মাগিচোরাচালা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বনখেকো একটি চক্র বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে গেছে। শুধু ডালপালাগুলো ওইখানে অযাচিতভাবে পড়ে আছে। উজারকৃত বনের পাশেই রয়েছে কয়েকটি উডলট বাগান। জয়নাগাছা গ্রামের দক্ষিণপার্শ্বে ওইসব উডলট বাগানের মালিক সেলিম মিয়া, রনজিত মেম্বার ও দেলু ফকির। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, পার্শ্ববর্তী হরিনধরা গ্রামের তোতা মিয়া বন বিভাগকে ম্যানেজ করে প্রাকৃতিক বাগানের গাছ কেটে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আনারস রোপনের পায়তারা করছে।
তারা আরো জানান, দোখলা রেঞ্জ অফিসার হামিদুল ইসলাম তোতা মিয়ার চাচা শ্বশুর হওয়ার সুবাদে অর্থের বিনিময়ে তাকে ম্যানেজ করে গাছ কেটে আনারস বাগান করার পায়তারা করছে।

তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নতুন নতুন বনভূমির গাছ কেটে প্রথমে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে ওই জমিতে আনারস কলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেন। এভাবেই পর্যায়ক্রমে মধুপুর গড়ের হাজার হাজার একর বনভূমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে।
তোতা মিয়া জানান, তিনি কখনো কোন বনের জায়গা জবর দখল করেননি। তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে আনারস কলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে থাকেন। এছাড়া অন্যের কলা বাগান কিনেও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলা বিক্রি করে থাকেন। রেঞ্জ অফিসার হামিদুল হক তার চাচা শ্বশুর নন।
মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা রেঞ্জের দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, তিনি গত মাসে এই রেঞ্জে দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের গাছকাটা এবং বনের জায়গা জবর-দখলের প্রচলন থাকলেও তিনি এসে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় জবর-দখলকারীরাই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুৎসা রটাচ্ছেন।
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, বনের গাছ চুরি ও ভূমি জবর-দখলের বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক মসজিদ ও মাদরাসার পেশ ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে স্থানীয় আমরা মির্জাপুরবাসী নামে একটি সংগঠন। এসময় তারা আসামীদের গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ঘোষণা দেন।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুফতি আব্দুর রহমান, মুফতি এরশাদুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ, হাফেজ মাওলানা আব্দুর মামুন, জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রহীম ও হাবিুল্লাহ প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, সমজিদ ও মাদরাসার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পেম ইমামের উপর হামলা করা হয়।
হামলায় অভিযুক্তরা হলেন যুবলীগ নেতা ও হাতকুড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ আলীর ছেলে আসাদুল্লাহ আসাদ ও তার ভাই কদম আলী।
আয়োজকরা জানান, হাতকুড়া গ্রামের সামাজিক মসজিদ ও মাদরাসার জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জানুয়ারি যুবলীগ নেতা আসাদ ও তার ভাই কদম আলীসহ কতিপয় সন্ত্রাসী মসজিদ ও মাদরাসার পেশ ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এসময় তারা ইমামের মুখের দাড়ি কেটে নেয়।
জানা গেছে, এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা হলেও ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার আমরা মির্জাপুরবাসী নামে একটি সংগঠন এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রতিবাদ সমাবেশে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আয়োজকরা।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মোশারফ হোসেন জানান, মামলার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বাংলাদেশ একদিকে উন্নয়নের ধারায় অগ্রসর হচ্ছে অন্যদিকে দেশে বৈষম্য এবং দূর্নীতি চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদি শক্তি আক্রমনের মাত্রা ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে জামায়াতসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নেমেছে।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সূবর্ণ জয়ন্তীর আলোচনা সভায় বক্তব্যে দেয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন হলেও এর ফলাফল জনগন পাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বিরোধী দলে বসার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন তাকে বলেছিলাম, আমরা একটি প্লার্টফর্মে নির্বাচন করেছিলাম। একটা বক্তব্য দিয়ে এখানে বিরোধীদলে বসার কোন জায়গা নেই। আমরা এখনও ১৪ দল জোটে আছি। আগামীতে জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচন করার আশা করি।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি টাঙ্গাইল শাখার জেলা সভাপতি কমরেড গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, মো. আজাদ খান ভাসানী, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পিপলু প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে এক জেলের জালে ৫৫ কেজি ওজনের একটি বাঘাইর মাছ ধরা পড়েছে। বাঘাইড়টি ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদী অংশ থেকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি এলাকার সুনীল নামে এক জেলের জালে আটকা পড়ে ওই বাঘাইর মাছটি।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার গোবিন্দাসী বাজারে বাঘাইর মাছটি তোলা হয়। পরে বাজারে তোলা মাত্রই স্থানীয় উৎসুক জনতা মাছটি এক নজর দেখতে ভিড় জমায়। এসময় মাছটি কেনার জন্য অনেক ক্রেতা দাম কাষাকষি করেন। দুপুরে মধুপুরের সাগর নামে এক ব্যবসায়ী বাঘাইর মাছটি ৭৫ হাজার টাকায় কিনে নেন।
জানা যায়, প্রথমে ওই বাঘাইর মাছটি বাজারে তোলেন সুনীল নামের ওই জেলে। এ সময় ওই মাছটি গোবিন্দাসী বাজারের স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী বাবলু হাওলাদার মাছটি কেনেন। পরে বাবলু হাওলাদার মাছটি ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়াও আরও ছোট-বড় বেশ কয়েকটি বাঘাইর মাছও বাজারে তোলা হয়।
স্থানীয় আমিনুল ইসলামসহ অনেকে জানান, এত বড় বাঘাইর মাছ এরআগে কখনো দেখেনি। যমুনা নদীতে সুনীল নামে জেলের জালে ধরা পরেছে মাছটি। সকালে মাছটি গোবিন্দাসী বাজারে তোলা হলে এক নজর দেখতে অসংখ্য লোকজন ভিড় করেন। দাম কষাকষির একপর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জেলে সুনীল জানান, যমুনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার রাতে আমরা কয়েকজন জেলে নদীতে জাল ফেলি। পরে রাতের শেষ ভাগে বাঘাইর মাছটি জালে ধরে পড়ে। এত বড় বাঘাইর মাছ এরআগে কখনো জালে ধরে পরেনি। আমি প্রথম জালে এত বড় বাঘাইর মাছ ধরেছি।
এ বিষয়ে বাঘাইর মাছটির ক্রেতা সাগর জানান, গোবিন্দাসী মাছ বাজারে অনেক লোকে ভিড় দেখে এগিয়ে যাই।
বিশাল আকৃতির বাঘাইর। মাছটি দেখে কিনতে ইচ্ছে হল। এসময় অনেকেই মাছটির দাম করছিলেন। বিক্রেতা লাখ টাকা চাইলে পরে একপর্যায়ে ৫৫ কেজি ওজনের বাঘাইরটি আমি ৭৫ হাজার টাকায় কিনে নেই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ২০১ গম্বুজ মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার ইচ্ছা ছিল রাসেল লাল বিশ্বাসের। সেই ইচ্ছা পূরণে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে ফরিদপুরের মধুখালী থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পৌঁছেছেন তিনি। আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে আবার একইভাবে বাড়ি ফিরবেন ৫৮ বছর বয়সী রাসেল বিশ্বাস।
রাসেল বিশ্বাসের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী পৌর এলাকার পশ্চিম গারাখোলা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল ছাত্তার বিশ্বাসের ছেলে। পেশায় রাসেল বিশ্বাস বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি।
রাসেল বিশ্বাস বলেন, ‘পত্রিকার মাধ্যমে গোাপালপুরের পাথালিয়ায় অবস্থিত ২০১ গম্বুজ মসজিদের কথা জানতে পারি। এই মসজিদে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ জুমার নামাজ পড়তে আসেন বলেও জানতে পারি। তাই শখ হয় এই মসজিদে নামাজ পড়ার।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসে আসলে আশে পাশের কোনো কিছু দেখা হবে না। কিন্তু সাইকেল নিয়ে আসলে ফরিদপুর থেকে গোপালপুর পর্যন্ত নানা এলাকা দেখা হবে। অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে। তাই গত বুধবার ভোর ৬টার দিকে মধুখালির নিজ বাড়ি থেকে সাধারণ একটি সাইকেল নিয়ে গোপালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কোন বিরতি না দিয়ে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। ফেরিতে নদী পার হয়ে আরিচা প্রান্তে পৌঁছাই। তারপর আবারও সাইকেল চালানো শুরু করি। মানিকগঞ্জের শিবালয়, ঘিওর হয়ে দৌলতপুর উপজেলা সদরে পৌঁছাই বুধবার দুপুরে। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে আবারও যাত্রা শুরু করি। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অলোয়া এলাকার একটি মসজিদে রাত্রি যাপনের উদ্যোগ নেই। কিন্তু ওই এলাকার মতিয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তি আমাকে তার বাড়িতে রাত্রি যাপনের সুযোগ দেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭ টায় আবারও যাত্রা শুরু করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল দুপুর ১২টার দিকে গোপালপুরের পাথালিয়া গ্রামের ২০১ গম্বুজ মসজিদে এসে পৌঁছেছি।’
রাসেল বিশ্বাস বলেন, গোপালপুরে পৌঁছে ওই এলাকা ঘুরে দেখেছি। শুক্রবার (আজ) জুমা নামাজের পর আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে সাইকেল নিয়ে রওনা হবো।’
রাসেল বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ এই পথ আসতে নতুন নতুন অনেক জায়গা দেখেছি। আমার খুব ভালো লেগেছে। তাই পথে কোন ক্লান্তবোধ হয়নি।’
টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখারুল অনুপম বলেন, ‘সাইকেল চালানো একটি ভালো অভ্যাস। নিয়মিত সাইকেল চালালে শরীর, স্বাস্থ্য ও মন ভালো থাকে। তাছাড়া সাইকেল একটি পরিবেশ বান্ধব যান। রাসেল বিশ্বাসের এই সাইকেল চালানো দেখে অনেকেই সাইকেল চালাতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন বলে আশা করছি।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পুরস্কার প্রদান ও স্বরচিতা কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে ও বুরো বাংলাদেশের সহযোগিতায় টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ঠা ডক্টর ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার নাজিম উদ্দিন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদের উপদেষ্টা কবি জাকিয়া পারভিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি মাহমুদ কামাল।
অনুষ্ঠানে চারজন কবি-সাহিত্যিককে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পুরস্কার ও চারজন কবি-সাহিত্যিককে অরণি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, ডা. ইউসুফ খান, শুকুমার বাগচি, তরুণ লেখক মিশুক মঞ্জুর ও হারুণ অর রশীদ।
অরণি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, ফরিদ আহম্মেদ, চৈতালী চট্রপাধ্যায়( পশ্চিম বঙ্গ), মুনজু রহমান, অলক বিশ্বাস (পশ্চিম বঙ্গ)।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছদ্মবেশ ধারণ করে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে কালিহাতী পৌর এলাকার সিলিমপুর চাটিপাড়া আক্তার হোসেনের মার্কেটের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো- ঘাটাইল উপজেলার জামালপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম মনির (৩৫) ও গোপালপুর উপজেলার কামাক্ষাবাড়ি গ্রামের সুমন ভূঁইয়া (৩২)।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, মাদক সমাজের জন্য ভয়ংকর অভিশাপ। সমাজ তথা দেশকে মাদক থেকে রক্ষার জন্য আমরা কঠোর পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।
তিনি জানান, তারই ধারাবাহিকতায় দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস আই মিন্টু চন্দ্র ঘোষ ও সঙ্গীয় ফোর্স লুঙ্গি-গামছা পরে ছদ্মবেশ ধারণ করে কালিহাতী পৌর এলাকার সিলিমপুর চাটিপাড়া আক্তার হোসেনের মার্কেটের সামনে থেকে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ ওই মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করেন।
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফেরদৌস (২০) নামের এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দামিয়া গ্রামে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফেরদৌস গাইবান্ধা জেলার সাধুল্লাপুর উপজেলার আলিনগর গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে। তিনি সখীপুরে ফুপার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক সুকান্ত জানান, ফেরদৌস উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের দামিয়া গ্রামের হেকমত আলীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে রডের কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাতের আঁধারে চার কবর থেকে কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাতের কোন এক সময় উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে কঙ্কালগুলো চুরি হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে গ্রামের লোকজন কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মাটির স্তূপ দেখে কাছে যান। সেখানে গিয়ে চারটি কবর থেকে কঙ্কাল চুরির বিষয়টি দেখতে পান। খবর পেয়ে গ্রামের মানুষ কবরস্থানে গিয়ে ভিড় করেন।
গোড়াইল গ্রামের নয়াপাড়ার বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন জানান, চারটি কবর থেকে তিনজন নারী ও একজন পুরুষের কঙ্কাল চুরি হয়। এর আগেও দুই দফায় এ কবরস্থান থেকে আরও ৬টি কঙ্কাল চুরি হয়।
তিনি আরো জানান, কবরস্থানে সৌর বিদ্যুতের দুটি লাইট থাকলেও একটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল এবং অপরটিও মিটিমিটি করে জ্বলে।
গোড়াইল কবরস্থান কমিটির সভাপতি মো. মকবুর হোসেন জানান, দুর্বৃত্তরা পুরাতন কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি করে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, বিষয়টি কেউ পুলিশকে অবহিত করেনি।
এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।