একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার(৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিক্ষার্থী আল আমিন (২০) উপজেলার বেতুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের শামছুল আলম ছেলে।
এ ঘটনায় ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হাফেজিয়া মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত আল-আমিন সবার সাথে রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে। সকালে সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠলেও আল- আমিন ওঠেনি। ওই মাদ্রাসায় কর্মরত হাফেজ শিক্ষক খোঁজ নিয়ে দেখেন আল আমিন অসুস্থ। পরে অভিভাবকে মোবাইল ফোনে জানান। অভিভাবকেরা এসে ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
কালিয়ান হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি মো.আনোয়ার হোসেন জানান,আল আমিনের মৃগী রোগ ছিলো, ভোর রাতে আল আমিন অবস্থা গুরুতর জেনে ওর মাকে ডেকে এনে মাদরাসার তিনজন ছাত্রসহ সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেই। এমন গুরুতর অবস্থায় আল আমিনকে হাসাপাতালে পাঠানোর সময় শিক্ষক বা সচেতন কাউকে সাথে না পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
নিহতের বড় ভাই মিনহাজ উদ্দিন জানান, আমার ভাই কোন অসুস্থ ছিলো না। হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মিথ্যা বলেছে। আমার ভাই সুস্থ ছিলো।মৃত্যুর পর আমার ভাইয়ের নাকের দুই ছিদ্রে রক্ত লেগে ছিলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বহেড়াতৈল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. উজ্জ্বল মিয়া জানান, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য সম্মতি দিয়েছি।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন (অবৈধ) বালুবাহী ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে রুবায়েত (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের ল্যাংড়া বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই শিশু উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িয়াটা গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাতা বিষয়ক কাজ শেষে প্রতিবন্ধী রিপন মিয়া তার ছেলে রুবায়েতকে নিয়ে বাড়ী ফিরছিলেন। এসময় ল্যাংড়া বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক পার হওয়ার সময় ভেঙ্গুলা বাজার থেকে ছেড়ে আসা বালুবাহী একটি ট্রাক শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকের চালককে আটক করে হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দূর্ঘটনায় হালিম মিয়া ( ৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। এই ঘটানায় আহত হয়েছে আরো একজন । বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হালিম মিয়া কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের জোকারচর এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,মঙ্গলবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কের উপজেলার জোকারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় । এতে ঘটনাস্থলেই হালিম মিয়া নিহত হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা যোগে বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্ত্বরের দিকে যাচ্ছিলেন হালিম। এসময় অটোরিক্সাটি জোকারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ওই বৃদ্ধ নিহত হয়।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আহত একজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ছোট কালীবাড়ি নিবাসী সাবেক প্রফেসর সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২.৩০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় তিনি মৃত্যুবরন করেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৫ ছেলে, ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর ঢাকা উত্তরা ১০ নং সেক্টর কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে ঢাকা ১২ নম্বর সেক্টর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাসহ শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ।
উল্লেখ্য, তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে তিনি টাঙ্গাইল কাগমারী কলেজ, করটিয়া সাদত কলেজ এবং ঢাকা বিজ্ঞান কলেজে অত্যন্ত সততা ও সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন।
সর্বশেষ তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসরে যান।
একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের একযুগ পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি র্যালি একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
র্যালী শেষে ১২-তলা একাডেমিক ভবনের সামনে যুগপূর্তির কেক কাটা হয়।

এসময় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীনে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ, হিসাববিজ্ঞান বিজ্ঞান বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুরের হাতকুড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাতকুড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের দুই ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩৫) ও আশরাফুল ইসলাম কদম আলী (৩০)।
জানা গেছে, হাতকুড়া জামে মসজিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিটির সঙ্গে বিরোধের জেরে ১৮ জানুয়ারি ওই দুই ভাই মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করলে তাদের ওপরও ক্ষিপ্ত হয় তারা। একপর্যায় ইমাম বাড়ি চলে যান। আসাদ ও কদম আলী গালিগালাজ করতে করতে ইমামের বাড়ি গিয়ে তাকে মারপিট করে এবং দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর ২০ জানুয়ারি মির্জাপুর থানায় মামলা করেন ভোক্তভুগি মুফতি সাইফুল ইসলাম।
এদিকে মামলা হওয়ার ১৫ দিনেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় কওমি ওলামা পরিষদ টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর শাখার উদ্যোগে শনিবার (৪ জানুয়ারি) উপজেলার কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করেন। সমাবেশে দুই ভাইকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রোববার দিনগত রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের সন্তান মুরাদ সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগে যোগদান ও জেলা কমিটিতে পদ পাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। তাঁকে জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে দলের কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। তবে মুরাদ সিদ্দিকীকে দলে নেওয়ার ঘোরবিরোধী জেলার কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ।
মুরাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ভাই। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এ অবস্থায় মুরাদ সিদ্দিকী জেলা আওয়ামী লীগে পদ পাচ্ছেন, নাকি এবারও দলে ঢুকতে ব্যর্থ হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৯৯ সালে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন দল গঠন করেন। মুরাদ সিদ্দিকী তখন ভাই কাদের সিদ্দিকীর দলে যোগ দেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
মূলত ২০০৯ সাল থেকে মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০১৫ সালে মুরাদ সিদ্দিকীর অনুসারী টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান ওরফে মিরনসহ অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁরা পরবর্তী সময় জেলা আওয়ামী লীগে পদ-পদবিও পান। কিন্তু মুরাদ সিদ্দিকী যোগ দিতে ব্যর্থ হন। দলে ঢুকতে না পারলেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং দলীয় কার্যালয়ে মুরাদ সিদ্দিকী যাতায়াত শুরু করেন।
গত ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সেখানে মুরাদ সিদ্দিকী বড় মিছিল নিয়ে অংশ নেন। সম্মেলনে ফজলুর রহমান খানকে সভাপতি এবং সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে এখনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি।

মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের আদর্শের বাইরে কেউ নই। সব সময়, সব অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেছি। আওয়ামী লীগের সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়, তা পালন করার জন্য প্রস্তুত আছি। এ জেলার কৃতী সন্তান দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, জেলা শাখার সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের নেতৃত্বে আমি কাজ করতে চাই।’
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে জেলার নেতাদের বলা হয়েছে মুরাদ সিদ্দিকীকে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখার জন্য। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য চান না মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে পদ পাক। তাঁরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে মুরাদ সিদ্দিকীর পদপ্রাপ্তি ঠেকাতে চেষ্টা করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও একাধিক সংসদ সদস্য বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ভালো চলছে। মুরাদ সিদ্দিকীকে দলে পদ দেওয়া হলে আবার একটি নতুন বলয় সৃষ্টি হতে পারে। তাই তাঁরা এ মুহূর্তে মুরাদ সিদ্দিকী দলে আসুক, তা চান না। তিনি দলে এলে টাঙ্গাইল সদর অথবা কালিহাতী আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর যোগদান ওই আসন দুটির বর্তমান সংসদ সদস্যদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘মুরাদ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে যোগদানের চেষ্টা করছেন, এটা সত্য। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম “আলোচনা সাপেক্ষে তাঁকে নেওয়া যেতে পারে” বলে কিছুটা সম্মতি দিয়েছেন। আগামী দুই একদিনের মধ্যে আমরা বসব। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান সাহেব আছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৫টি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৭ লাখ টাকার প্রতারণা মামলায় ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুনিরা সুলতানা এ জামিনের আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফেন্সি খান জানান, ২০২২ সালে সদর উপজেলার রাসেদ্দুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ৫টি চেক জালিয়াতির মোট ৪৭ লাখ টাকার প্রতারণার মামলা করেন। আজ সেই মামলায় ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে রাসেলকে টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হয়।
পরে তিনি ২টি এবং তার সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির ৩টি মামলার জামিন আবেদন করেন। আদালত ৫টি মামলায় আসামি রাসেলকে জামিন দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র ও টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের এমপি প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ। তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
দুটি প্রাইভেটকার ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।এসময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে আহত হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
পরে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।এ হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ ১২জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন, নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি অভিজিৎ ঘোষ, ডিবিসি টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন আশিকুর রহমান ও ঢাকা প্রকাশের জেলা প্রতিনিধি ফরমান শেখ।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আলমনগর বোর্ড বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়রের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য এমপি তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশবাসীকে জানাতে লিফলেট ও কম্বল বিতরণ করতে যাচ্ছিলাম। এসময় স্থানীয় এমপি ছোট মনিরের নির্দেশে তার ক্যাডার বাহিনী আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় নেতৃত্ব দেন গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ।
হামলায় আহত সাংবাদিক ফরমান শেখ জানান, ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ গোপালপুরের কম্বল ও সরকারের উন্নয়নমূলক লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠান কভার করছিলাম আমরা কয়েকজন সাংবাদিক। এসময় অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় তিনজন সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয়।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, হামলার ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দুইপক্ষকে দুই দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর- গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। উপজেলা আওয়ামী লীগকে না জানিয়ে ভূঞাপুরের মেয়রের এইভাবে কম্বল বিতরণ করা ঠিক হয়নি।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি বাজারে আগুন লেগে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসময় চারটি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার আইসড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম আইসড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
তিনি বাজারে টেইলার্সের দোকান করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ২টার দিকে আইসড়া বাজারে হঠাৎ করে একটি দোকানে আগুন জ্বলে ওঠে।
এসময় বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এরমধ্যেই চারটি দোকানে আগুনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় টেইলার্সের দোকানের ভেতরে থাকা মঞ্জুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল সরকার বলেন, হঠাৎ করে টেইলার্সের দোকান থেকে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় ওই দোকানের ভেতরে মঞ্জুরুল ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে বের হতে না পারায় আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়। আগুনে চারটি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বাসাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম বলেন, টেইলার্সের দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করছি টেইলার্সের দোকানে থাকা ব্যক্তিটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে সেখানেই মারা যান। এ ঘটনায় চারটি দোকান ঘর পুড়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাসাইল সদর এবং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বংশাই নদীর পূর্ব-উত্তর তীরে রাশড়া-সৈয়দামপুর গ্রামে দিনব্যাপী কয়েক হাজার লোকের সমাগমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
দেবতার (মাদব ঠাকুর) মূর্তিতে প্রণাম স্মরণ করে ভোরে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে মেলার বা পূজার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পাপ মোচনের লক্ষে ভোরে মানত ও গঙ্গাস্নান পর্ব সমাপন করে।
তবে চলাচলের সুবিধা না থাকায় মেলায় আগতরা মেলাস্থলে যাতায়াত এবং ঠিক সময়ে গঙ্গাস্নানের জন্য পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত এই সন্যাসীর (মাদব ঠাকুর) মূর্তি প্রতিস্থাপন করে মনোবাসনা পূর্ণ করতে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা করা শুরু হয়। ওই সময়ে অনেকে এসব করে সফল হয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত। তখন থেকে প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার রাত থেকে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা চলতে থাকে এবং পরে স্থানীয় সনাতনীরা একে মেলা এবং আনন্দ উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। ওই সময় থেকে এটা ডুবের মেলা নামে পরিচিত।
মেলায় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাঁশবেতের তৈজসপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, হাঁড়িপাতিল, বড় মাছ এবং চিড়া-দই, খইসহ বিভিন্ন দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসে। মেলায় আসা দোকানি সাধুকর বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে এত লোকের সমাগম হয় এটা অবিশ্বাস্য। বেচাকেনাও ভালো।
মিষ্টি দোকানি দীপক বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১০ মণ মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বিক্রি করি। কোন বাকি নেই । নগদ বিক্রি হয় বলে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের এই মেলায় দোকান দেবার বেশি আগ্রহ দেখা যায়।
ডুবের মেলার আয়োজক জীবন মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়’শ বছর ধরে মাঘীপূর্ণিমার সময় আমার পূর্বপূরুষেরা এই মেলার আয়োজন করে আসছে। আমি এই মেলায় ষাট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী সখিপুর, মিজার্পুর, ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার লোকজনের সমাগম হয়। ভোর স্নানের মাধ্যমে শুরু করে দিনব্যাপী এই মেলা চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমির আইল ধরে পায়ে হেঁটে এই মেলায় আসতে হয় দর্শনার্থীদের। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় গতবছর অনেক পূর্ণার্থী গঙ্গাস্নানে আসতে পারেনি।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন জানান, শুনতে পেরেছি ডুবের মেলা যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, জমির আইল ধরে দর্শনার্থীরা যাতায়াত করছে। চেষ্টা করছি এবছর নিজ উদ্যোগে বা প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তা করে দেবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার সালিস বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় হান্নান (২৬) নামের এক যুবক মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হান্নানের বড়ভাই আবু হানিফাও গুরুতর জখম হয়েছেন।
শনিবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের আশ্রা দক্ষিণপাড়া মাস্টারবাড়ি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আশ্রা গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ইদ্রিস আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী হাতেম আলীর জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়। শনিবার বিকেলেও মাস্টারবাড়ি মোড়ে এ নিয়ে সালিস বৈঠক চলছিল। বৈঠক চলাকালেই হাতাহাতি ও মারামারি হয়। এর একপর্যায়ে বড়ভাই আবু হানিফার ওপর আক্রমণকারীরা চরাও হলে ছোট ভাই হান্নান ফেরাতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হন। তখন হান্নান আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে গিয়ে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুল কাদের তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই রাস্তায় আহত রোগীর মৃত্যু হয়েছে।’
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহিষমারা ইউপির এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরাফত আলী ও তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল রানাকে লাউফুলা পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে আনা হয়েছে। এ নিয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’