একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নে আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিয়োগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃৃৃস্পতিবার সকালে বার্ষিক এ ক্রীড়া প্রতিযোগীতার উদ্বোধন করেন আটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠতা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক মল্লিকের সভাপতিত্বে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মমর্তা( ইউএনও) ফারহানা আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুজিবুল আহসান,আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন আজাদ, আটিয়া মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ইকবাল হোসেন খান, আরফান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নারায়ন চন্দ্র দে দুলাল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত কুমার পাল,সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শাররীক শিক্ষক মো. রাসেল মিঞা। পরে প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পাুরস্কার বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার সময় গরুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে সিয়াম হোসেন বিদ্যুৎ (২৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাসাইল-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাঠালতলী এলাকায় ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সিয়াম উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার শাহজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সিয়াম মোটরসাইকেল যোগে বাসাইল থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি গরুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যান। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক জাকারিয়া জানান, গুরুত্বর আহত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, একটি গরুর ধাক্কায় সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী পড়ে গিয়ে নিহত হন। ঘটনাটি দুঃখজনক।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মাইক্রোবাস চাপায় ছাদের আলী (৫৫) নামের এক হোটেল শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার কদমতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ছাদের আলীর বাড়ি উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের মশাজান গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, ছাদের আলী কদমতলী এলাকায় একটি হোটেলে কাজ করতেন। রবিবার সকাল ৬টার দিকে হোটেলের পানি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় একটি অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় তার মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের জোকারচর এলাকায় ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল লাইনের পাশ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার বয়স আনুমানিক (৩৫) বছর। নিহত ওই যুবকের নাম পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
টাঙ্গাইল রেলওয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এএসআই) ফজলুল হক জানান, রবিবার দুপুরে কালিহাতী উপজেলার জোকারচর এলাকায় ঢাকা- উত্তরবঙ্গ রেললাইনের পাশে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, নিহতের নাম পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা হামলার সঙ্গে জড়িত। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি )দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে সদর উপজেলার করটিয়া মসজিদ রোড এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাদিদুল ইসলাম ও যুবদল কর্মী মাকসুদকে আটক করেছে পুলিশ।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল জানান, শনিবার দুপুরে মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া এলাকায় বিএনপির নেতা–কর্মীরা পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলার করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবদল কর্মী জীবন ও ছাত্রদল কর্মী সিদ্দিক হোসেন আহত হন। তাঁদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির দুই কর্মী আটক প্রসঙ্গে ফরহাদ ইকবাল আরো জানান, সদর উপজেলার করটিয়া মসজিদ রোড থেকে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি উপলক্ষে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। পাশেই শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ চলছিল। বিএনপির মিছিলটি বের হওয়ার পরই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে ওই মিছিল থেকে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাদিদুল ইসলাম এবং যুবদল কর্মী মাকসুদকে পুলিশকে আটক করে। এর আগে শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) রাতে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদুল মান্নানকে পুলিশ আটক করে।
বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম মিয়া জানান, করটিয়া থেকে শুক্রবার রাতে আটক একজন ও শনিবার দুপুরে আটক দুজনকে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বেই নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা ছিল।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গত বছর ১৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৯ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১৮৬ জন। এরমধ্যে ৪৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭৮ জন। ৫৪ জন অটোরিকশা যাত্রী এবং ৪৮ জন পথচারী এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে মহাসড়কের এলাকাভিত্তিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেলায়- বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বরে ১টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত, ১৭ জন আহত, ভূঞাপুরে ৫টি দুর্ঘটনায় ৯জন নিহত, ৮ জন আহত, কালিহাতীতে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত, ৭৯ জন আহত, রাবনা বাইপাসে ৪টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত, মির্জাপুরে ১৫টি দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়েছে।

গাজীপুর জেলায়- জয়দেবপুরে ৮টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত, ৮ জন আহত, গাজীপুর সদরে ১২টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, ৩ জন আহত, শ্রীপুরে ৯টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত, চন্দ্রায় ১টি দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, কালিয়াকৈরে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত, ১৮ জন আহত, কোনাবাড়িতে ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, গাছায় ৫টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ২ জন আহত, রাজেন্দ্রপুরে ২টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত, টঙ্গীতে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত, ৩ জন আহত, চন্দনায় ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, কড্ডায় ২টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত, ৩ জন আহত ও ফ্লাইওভারের ওপরে ২টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা পর্যালোচনা ও মন্তব্য করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরেও দুর্ঘটনা ও হতাহত কমছে না। এর কারণ মহাসড়কে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের পাশাপাশি হালকা ও স্বল্পগতির অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্যাডেল রিকশা ইত্যাদি চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কের যেকোনো স্থানে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। যানবাহনের বেপরোয়া গতিও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, এই পরিস্থিতিতে মহাসড়কটিতে দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলে সার্ভিস রোড নিশ্চিত করতে হবে, মহাসড়কে স্পিড ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য আলাদা লেইন আছে। তারপরেও অনেক সময় থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল মূল সড়কে উঠে পড়ে, ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনা রোধে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত জনসচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করি খুব দ্রুতই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে।
উল্লেখ্য, মহাসড়কের কালিহাতী, মির্জাপুর, শ্রীপুর, টঙ্গী এবং গাজীপুর সদর- এই স্পটগুলো অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এসব স্পটে দুর্ঘটনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরিভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া রেল পুলিশের তথ্যমতে, টাঙ্গাইল জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে মির্জাপুরের অংশ পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার টাঙ্গাইল অংশে চলতি বছর ২২টি অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে কাটা পড়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) এ র্যাগিং এ জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১৩ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্ষদ রিজেন্ট বোর্ডের ২৩ জানুয়ারির ২২৯তম সভায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১৯- ২০২০ শিক্ষাবর্ষের নাফিসুজ্জামানকে (শিক্ষার্থী আইডি -সিই ২০০৩৮) পরবর্তী ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া মিসাইল হোসেন আসিফকে (শিক্ষার্থী আইডি সিই- ২০০৩৯) ২ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. ফাহিম আল হাসানকে (শিক্ষার্থী আইডি সিই -২০০৩০) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার, রাফিয়া জামান মুক্তিকে (আইডি সিই ২০০১৭) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার, মাহবুবা আক্তারকে (শিক্ষার্থী আইডি সিই ২০০১১) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার, রূপা রানীকে (শিক্ষার্থী আইডি-সিই ২০০২৫) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
উপরোক্ত ছয়জনের বাইরেও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের আরো সাত শিক্ষার্থীকে মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে। তারা হলেন, আশিকুর রহমান আকিব (সিই-২০০০৯), হুসনে বানু বৃষ্টি (সিই- ২০০১৪), সৈয়দ মাহিদ ফয়সাল (সিই-২০০০৫), সিফাইত সারোয়ার (সিই-২০০৪২), নাইমুর রহমান (সিই-২০০০৬), ওয়াসিফ বিন জহির (সিই ২০০২২) ও মনির হোসাইন (সিই-২০০০২)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্ষদ রিজেন্ট বোর্ড থেকে উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, শাস্তিপ্রাপ্ত ১৩ জন শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১৯- ২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজার ওজন স্কেলের ২০০ গজ দূরে ঢাকাগামী লেনে অজ্ঞাত এক যুবক গাড়ি চাপায় নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশ।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টা ১০ মিনিটের দিকে ওজন স্কেলের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার রাতে সেতু পূর্ব টোলপ্লাজার ওজন স্কেলের ২০০ গজ দূরে অজ্ঞাত এক যুবক রাস্তা পার হচ্ছিলেন। পরে সে ঢাকাগামী লেনে পৌঁছলে অজ্ঞাত গাড়ি চাপায় থেতলে ঘটনাস্থলে মারা যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত যুবকটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। যুবকটির পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে। নাম-পরিচয় শনাক্তের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে যুবকটির মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ নানা আয়োজনে টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর “ঐতিহাসিক কাগমারী” সম্মেলনের ৬৬ বছর উদযাপন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডস্থ টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব।
মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রাবন্ধিক, কবি ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক শংকর দাস, মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হারুন অর রশিদ, টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক কবি মাহমুদ কামাল প্রমুখ।

সভায় ভাসানী ছাত্র, যুব ও সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করে । পরে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে।
উল্লেখ্য,১৯৫৭ সালের ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারীতে মওলানা ভাসানী ৫৪টি তোরণের মধ্য দিয়ে ‘ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন’ উদ্বোধন করেন। কাগমারী সম্মলনে পশ্চিম পাকিস্তানিদের ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম’ বলে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেন তিনি। সম্মেলনে মওলানা ভাসানী স্বায়ত্তশাসনের যে দাবি জানিয়েছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলন দানা বাঁধে।
কাগমারী সম্মেলনেই মওলানা ভাসানী সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর মনে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা দেন। কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানীর দাবিকৃত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনই পর্যায়ক্রমে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
একতার কণ্ঠঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে বহিরাগত কালীচরন দাস ওরফে কেডি (২৫) নামে এক উত্যক্তকারীকে আটক করা হয়ছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। এর আগে ওই ছাত্রীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে কেডি ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
আটককৃত কালীচরণ দাস (২৫) সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার আনন্দ কুমার দাসের বড় ছেলে। সে এবছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল এমবিএ কোর্সে ভর্তি হয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
জানা যায়, কালীচরন দাস (২৫) বিগত ৩ বছর ধরে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোন কলে, মেসেজে নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। এর প্রেক্ষিতে মেয়েটি ওই ছেলের ৯০টিরো অধিক নাম্বার ব্লক করে রাখে। তবুও সে মেয়েটিকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে হুমকি দেয় যে সে তার ক্যাম্পাসে এসে মেয়েটিকে দেখে নেবে।
এরই ধারাবাহিকতায় আটকের দুইদিন আগে কালীচরণ দাস ওরফে কেডি ভাসানী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ক্যাম্পাসে তার এলাকার পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪১৪-(গ) সিটে সুজন কুমার দাস নামে এক শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দকৃত সিটে বহিরাগত এই কালীচরণ দাস অবস্থান করে আসছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানা যায়, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র দাসসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য আদান প্রদান করে। পরে মেয়েটির সাথে তার নানারকম সম্পর্ক আছে বলে অপবাদ ছড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ওই ছাত্রীকে ফলো করে উক্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে। কালী চরণ দাসের ক্যাম্পাসে অবস্থান এবং মেয়েটির ব্যাপারে নানারকম অপবাদ ছড়ানোর বিষয় আইসিটি বিভাগের ওই মেয়ে জানতে পেরে তার সহপাঠীদের জানায়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে উত্ত্যক্তকারীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বক্তব্য শুনে সত্যতাও পাওয়া যায়। সেই সাথে তদন্ত সাপেক্ষে জানা গেছে বিভিন্ন অবৈধ হোটেল ব্যবসার সাথে কালী চরন দাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার পিতা আনন্দ কুমার দাস তার পুত্র কালীচরন দাস ভবিষ্যতে এই ধরনের কোন কাজ করবে না এই মর্মে মোবাইল কোর্টকে মুচলেকা দিয়েছেন। আনন্দ দাসের মুচলেকায় আমরা তার ছেলেকে ছেড়ে দিয়েছি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীম আল মামুন জানান, হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাউকে হলে রাখা হলের আইনের পরিপন্থি।
তিনি আরো জানান, হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বহিরাগত হলে রাখলে তার সিট তৎক্ষনাৎ বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের গুরুত্ব বাড়ছে রাজনীতিতে। এই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব কমে এসেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাদের কাছে টানছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
একাধিক নেতা জানান, আগামী নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত দুটি সিদ্দিকী পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। নির্বাচনে দলের পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। এ কারণে বিভিন্ন অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্তদের দলে ফেরানোর নীতি নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় এটাকে নির্বাচনের আগে ‘উদারনীতি’ বলে আখ্যা দিচ্ছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে সিদ্দিকী পরিবারের পৈতৃক নিবাস। এই পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার স্নেহধন্য ছিলেন। পরিবারের সদস্য, বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। আরেক ভাই আবদুল কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রাখায় বীর-উত্তম খেতাব পান। তিনি ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। আরেক ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে তুলে নেন সিদ্দিকী পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁরা ভারতে আশ্রয় নেন। দেশে ফিরলে কারাবন্দি হন লতিফ সিদ্দিকী। সাত বছর জেল খাটেন। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিদ্দিকী পরিবারের সদস্যরা পরে একে একে আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়েন।
১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গড়েন কাদের সিদ্দিকী। তাঁর সঙ্গে যান ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীও। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যের জেরে দল থেকে বাদ পড়েন লতিফ সিদ্দিকী। তাঁকে হারাতে হয় মন্ত্রিত্ব, প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্য পদও।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানায়, মাস দেড়েক আগে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাদের সিদ্দিকী। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর প্রায় দুই যুগের দূরত্ব কমতে থাকে।
ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ এখন পুরনোদের দলে ফেরানোর নীতিতে চলছে। দল এখন উদারনীতি নিয়েছে। অতীতে যে যাই করে থাকুক, অতীতে যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করলেই মাফ করে দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনে আ. লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে থাকবেন কাদের সিদ্দিকী : আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানে থাকলেও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকবেন কাদের সিদ্দিকী। তবে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে থাকবেন নাকি আসন সমঝোতা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এবং ২০০১ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে এমপি হন। গত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করেন। টাঙ্গাইল-৪ ও ৮ আসনে তাঁর দলের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। নিজে নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাঁর মেয়ে কুড়ি সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন।
তবে গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাতের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে কাদের সিদ্দিকীর এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস। এ অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কাদের সিদ্দিকীর উদ্দেশে মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ‘আসুন আমরাও আপনাকে নিয়ে পথ চলতে চাই।
অনুষ্ঠানে যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৃণাল কান্তি জানান, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে আদিষ্ট হয়ে আমি কাদের সিদ্দিকীর অনুষ্ঠানে যোগদান করি। তিনি একজন কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত বিশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে।’
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীর প্রতীক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাতের পর দেশের মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা নতুন ভাবনা ভাবছেন।
এলাকামুখী হয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা হলো লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকা। তিনি ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব, প্রেসিডিয়াম সদস্য, দল ও সংসদ সদস্য পদ হারানোর পর এলাকায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি বা তাঁর স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন।
সম্প্রতি কালিহাতীতে একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন লতিফ সিদ্দিকী। ফলে তিনি আবারও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
কালিহাতীর নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর বলেন, ‘সময় ও জাতির প্রয়োজনে তাঁকে দলে নেওয়ার দাবি করছি।’
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, দলের একটি সূত্র মতে, শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকী বা তাঁর সহধর্মিণী লায়লা সিদ্দিকীকে দলের মনোনয়ন দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। লায়লা সিদ্দিকী ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এবং ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই দুটি নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকী কারাবন্দি ছিলেন।
জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি লতিফ সিদ্দিকী। তবে লায়লা সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক পরিবারের মানুষ। পুরো সিদ্দিকী পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল ছিল, আছে।’ তিনি বলেন, ‘দল বা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেন আমরা সেটার সঙ্গে থাকব।’
লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল ছোট ভাই কাদের সিদ্দিকীর। সম্প্রতি সে বিরোধও কমেছে। একাধিক অনুষ্ঠানে দুই ভাইকে এক মঞ্চে দেখা গেছে।
জেলা আ. লীগে স্থান পাচ্ছেন মুরাদ সিদ্দিকী : আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পেতে যাচ্ছেন মুরাদ সিদ্দিকী। তিনি ২০০৮ সাল পর্যন্ত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলে কোনো পদ পাননি।
মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার একজন কর্মী। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত। কৃষিমন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে আমি সম্মেলনে অংশ নিই। সারা জীবন দলের হয়ে কাজ করে যেতে চাই।’
ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁকে নিয়ে জেলার নেতাদের কোনো আপত্তি আছে বলে আমার জানা নেই।’
নাখোশ জেলা আ. লীগের একটি অংশ : ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সমালোচনা করেন কাদের সিদ্দিকী। তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান আনছারী বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী জোটে আসার ইঙ্গিত পেয়ে আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু তিনি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিন্দনীয়।’
সংবাদ সূত্র – “কালের কণ্ঠ” অনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া সানজিদা আক্তার উত্তীর্ণ হয়েছে। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি জিপিএ ৪.৭৫ পেয়েছেন।
তার বাবা শামীম আল মামুন গত ১২ নভেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পর দিন রোববার (১৩ নভেম্বর) ইংরেজি দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা দেন তিনি।
সানজিদা আক্তারের বাড়ি সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাইমাইল গ্রামে।
সানজিদা টাঙ্গাইল শহরের সরকারি কুমুদিনী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি শহরের সরকারি শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।
সানজিদা আক্তারের বড় ভাই ইমরান হোসেন জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাবা পাকস্থলীর সমস্যা নিয়ে টাঙ্গাইল শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চার দিন চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ নভেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরও জানান, সকালে বাবার লাশ বাড়িতে আনা হয়। বাবার লাশ রেখে ছোট বোন সানজিদা এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যায়। পরে বাইমাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে তার বাবাকে দাফন করা হয়।
সানজিদা আক্তার জানান, ‘আমি বাবাকে খুব ভালোবাসতাম’। তার নির্দেশনা মোতাবেক মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতাম। আমার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
তিনি আরো জানান, বড় হয়ে ডাক্তার হতে চান সানজিদা। সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।