আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশ।
রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সখিপুর পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হারুন মিয়া (৪৫) উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের সাপিয়াচালা গ্রামের ফয়েজ আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল ডিবির (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখীপুর পৌর শহরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হারুনের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪), সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সাগরদীঘি বাজার থেকে ৩২ কেজি গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চট্রগ্রামের বুজপুর উপজেলার উদিয়া পাথর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম খলিল (৩৫) ও জোড়ারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সোনাই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেন (২৮)।
র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল অফিস সুত্রে জানা যায়, র্যাবের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী-ভালুকা-ঘাটাইল আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স হাজী থাই এ্যালুমিনিয়াম এন্ড টাইলস হাউজের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে । উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯,৬০,০০০/-(নয় লাখ ষাট হাজার টাকা)। এ সময় ৩২ কেজি গাঁজা ও মাদকদ্রব্য গাঁজা বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং গাড়িতে রক্ষিত ১৪ টন সরিষাসহ আটক করা হয়।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, এ ঘটনায় ঘাটাইল থানায় মামলা দায়েরর্পূবক আসামী ও আলামত হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ দুর্ণীতি প্রমানিত হওয়ার পরেও স্বপদে বহাল হলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্বরত প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। বুধবার (১৬ এপ্রিল) লঘুদন্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সচিব মো.রেজাউল মাকসুদ জাহেদী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিনি বহাল হন।
জানাযায়, টাঙ্গাইল শহরের আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্ব পালনকালে নির্মাণাধীন অবস্থায় ঢালাইকাজের পূর্বেই সেন্টারিং-এ ড্রইং ও ডিজাইন অনুসারে না করে গাছের বল্লী ও বাঁশের খুটি ব্যবহারে ঠিকাদারকে শুধু চিঠির মাধ্যমে নিষেধ করেন তিনি। ঢালাই কাজ বন্ধ না করে এবং ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত না থাকায় চরম দায়িত্বে অবহেলা করেন পৌর প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। একারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৯৯২ সালের বিধি ৪০-এর উপ বিধি (ক) ও (খ) অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ওই প্রকৌশলীর নামে বিভাগীয় মামলা (নং-৪/২০২৩) দায়ের করা হয়।
পরে মামলাটি ২০২৩ সালের ১১ জুলাই শুনানীতে অভিযোগ প্রমানিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা টাঙ্গাইল পৌরসভার বরখাস্তকৃত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর জবাব, বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে বর্নিত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪০-এর উপ বিধি ক’ ও খ; অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা এবং অসদাচারনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪১-এর উপ বিধি (ই) অনুযায়ী আদেশ জারির তারিখ হতে ০১ (এক) বছরের জন্য বেতন বর্ধন স্থগিত রাখার লঘুদন্ড প্রদান করেন এবং বরখাস্তকালীন সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বহাল রাখেন তাকে।
এদিকে, অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীকে বহালের খবরে টাঙ্গাইল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইল পৌরভার প্রকৌশলী শিব্বর আহম্মেদ আজমী মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহতীত প্রমানিত হওয়ায় পৌর কর্মচারী আইন অনুযায়ী বিভাগীয় কর্মকর্তা বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে। তিনি রবিবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় যোগদান করবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌসভার প্রসাশক মো. শিহাব রাহয়ান মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে পৌরসভার প্রকৌশলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। তবে অফিসিয়ালভাবে তিনি কোন চিঠি বা কাগজপত্র পাননি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ঘোনারচালা গ্রামের প্রবাসী দুলাল মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগমকে (৪৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে সোপর্দ করে সখীপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হক (৪১) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হযরত আলীর ছেলে।
এর আগে হত্যা মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্তকে টাঙ্গাইল সদর থানার করটিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সখীপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
নিহত আমেনার মেয়ে লিতু আক্তার জানান, বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তার মা আমেনা বেগম স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলতে ঘর থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘক্ষণ ঘরে না ফেরায় বাড়ির লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে ভোরে বাড়ির পাশের একটি ধানখেতে মায়ের লাশ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি জাকির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হক কুড়িগ্রাম থেকে সখীপুর উপজেলার পূর্ব ঘোনারচালায় নিহত আমেনাদের বাড়িতে এসে গত ৮ বছর ধরে কাজ করছেন। আমেনার স্বামী দুলাল দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। এ সময় আমেনার সাথে এনামুলের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে এনামুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার শর্তে বিয়ের জন্য রাজি হয়। এনামুল শর্ত অনুযায়ী নিজের স্ত্রীকে তালাক দিলেও আমেনা বিয়ে করতে গড়িমসি করায় এনামুল ক্ষুব্ধ হয়। পরে সুযোগ বুঝে আমেনাকে ডেকে নিয়ে গলায় উড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির পেছনের ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তবে গ্রেপ্তারকৃত এনামুলের বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন নিহত আমেনার ছেলে পারভেজ। তিনি বলেন, আমার মা কেমন তা প্রতিবেশীরা খুব ভালো করেই জানেন। মূলত সে আমার মাকে হত্যা করে এমন মনগড়া অপবাদ দিচ্ছে। এনামুল এর আগেও এলাকার অনেক নারীর বিরুদ্ধে এমন অপবাদ দিয়েছিল। তার অপবাদের কারণে অনেকের সংসারও ভেঙে গেছে।
পারভেজ আরও বলেন, এনামুল একা আমার মাকে হত্যা করেনি। সে একা এমন কাজের সাহস করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে। আমি এনামুলসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার চাই।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুকন্যাকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে বাবা মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাতে ফেনী জেলা সদর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
উপজেলার গোড়াই বালুর মাঠ এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে। মোজাম্মেল হোসেন রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার তেঁতুলিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের দেলাজ মিস্ত্রির ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মোজাম্মেল হোসেন স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে উপজেলার গোড়াই বালুর মাঠ এলাকায় একটি টিনশেড বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। মোজ্জামেল গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কে সিএনজি চালাতেন। তার স্ত্রী গোড়াই সাউথ ইস্ট টেক্সটাইল মিলে চাকরি করেন।
গত ২৭ মার্চ সকাল ছয়টা দশ মিনিটে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু মেয়েকে বাসায় রেখে মা মিলে কাজ করতে যান। এর ফাঁকে লম্পট বাবা শিশু মেয়েটিকে বাসায় একা পেয়ে ধর্ষণ করে। দুপুরে মিল থেকে মা বাসায় ফিরলে শিশু মেয়ে জানায়, তার স্পর্শকাতর জায়গায় ব্যথা করছে। পরে ব্যথার ওষুধ কিনে খাওয়ান মা। কিন্তু তাতেও ব্যথা না সারায় ৫ এপ্রিল শিশুটি তার মাকে জানায়, বাড়িতে একা পেয়ে তার বাবা ব্যথা দিয়েছে।
এ কথা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকিও দেয় তার বাবা। ঘটনা জানার পর শিশুটির মা ওই দিনই মির্জাপুর থানায় শিশুটির বাবা মোজাম্মেল হোসেনের নামে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মামলার পর ধর্ষক মোজাম্মেল আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী জেলা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা শেষে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী জেলা সদর থেকে ধর্ষক মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ সমাজে যখন মা-সন্তানের সম্পর্ককে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন টাঙ্গাইলে এক মায়ের অমানবিকতা পুরো দেশকে কাঁদিয়েছে। নিজের চার মাসের অবুঝ সন্তানকে মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিলেন এক মা! সেই টাকায় কিনেছেন নাকের নথ, পায়ের নুপুর, মোবাইল ফোন আর জুতা!
ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের পুন্ডুরা শেওড়াতলা এলাকায়।
এই পাষণ্ড মায়ের নাম লাবনী আক্তার লিজা। দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর বিয়ে হয়েছিল রবিউল ইসলামের সঙ্গে। সংসারে অভাব ছিল, কলহ ছিল, কিন্তু তা বলে একজন মা কীভাবে নিজের রক্তমাংসের সন্তানকে বিক্রি করতে পারেন?
জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৪০ হাজার টাকায় চার মাস বয়সী তামিমকে বিক্রি করে দেন লাবনী। এরপর সেই টাকা দিয়ে নিজের জন্য কেনাকাটা করেন—মোবাইল ফোন, পায়ের নুপুর, নাকের নথ, এমনকি জুতা পর্যন্ত।
স্বামী রবিউল ইসলাম বলেন, তামিমের জন্মের পর আমরা একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিছুদিন আগে লাবনী সন্তানকে নিয়ে তার বোনের বাড়ি বেড়াতে যায়। এরপর তাকে অনেকবার অনুরোধ করি ফিরে আসার জন্য, কিন্তু সে ফিরে আসেনি। একসময় সে নিজেই জানায়—সে আমাদের সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছে।
পাষণ্ড এই মাকে কৌশলে ডেকে এনে স্বামী পুলিশের সহযোগিতা নেন। মধুপুর থানা পুলিশের একটি টিম রাতভর অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে মায়ের কোলেই ফিরিয়ে দেয়।
লাবনী নিজেই স্বীকার করে বলেন, আমার মাথা ঠিক ছিল না। মনির নামে একজনের সহায়তায় শিশুটিকে বিক্রি করি। এটা আমার ভুল হয়েছে, আমি অনুতপ্ত।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—একজন মা কীভাবে এমন ভুল করতে পারেন? নিজের সন্তানকে পণ্য করে কীভাবে নিজের শখ পূরণে ব্যস্ত হতে পারেন?
মধুপুর থানার অফিসার (ওসি) মো. এমরানুল কবীর বলেন, ঘটনা জানার পরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি এবং তার বাবা-মার কাছে বুঝিয়ে দিই।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আমিনা বেগম (৪৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পরনে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে যায় তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ঘোনারচালা গ্রামে বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আমেনা বেগম একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী।
নিহতের গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল, আর শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে আমেনা বেগম প্রতিদিনের মতো পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করেন। রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি তার স্বামী দুলাল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ঘর থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ঘরে ফিরে আসেননি।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা সারা রাত ধরে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে আমেনা বেগমর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের মেয়ে লিতু আক্তার বলেন, আম্মু ফোনে আব্বুর সঙ্গে কথা বলছিল। কিছু বুঝে উঠতে পারছি না—কে, কীভাবে, কেন এমন করল! আমাদের কিছুই নেই, কারো সঙ্গে কোনো বিরোধও নেই।
নিহতের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বোন একজন সহজ-সরল গৃহবধূ ছিলেন। কারো সঙ্গে কখনো ঝগড়া বা শত্রুতা হয়নি। আমরা ভাবতেই পারছি না, কীভাবে এই নির্মম ঘটনা ঘটলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, এই এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড এর আগে কখনো ঘটেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, আমেনা বেগমের মরদেহে শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে এবং পরনে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর, আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছি। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডের পর ঘোনারচালা গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাত হলে অনেকে ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কলেজছাত্র আলীম হত্যার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) গভীর রাতে পুলিশ উপজেলার দক্ষিণ পাড়া সাতুটিয়া গ্রামের রকিবের বাড়ী থেকে নোমান, শরিফ, জামিল, ইমরান ও শাকিলকে আটক করে কালিহাতী থানায় নিয়ে আসে ।
এদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আলীমের সহপাঠী নোমানকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত নোমান উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের মহিষজোড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। সে কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
এছাড়া একই উপজেলার ঘড়িয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সাব্বিরের বাড়ী থেকে নিহত আলীমের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাব্বির ও শাকিলকে স্বাক্ষী হিসেবে টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠানো হয়েছে বলে এসআই মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশ, গত শনিবার (১২ এপ্রিল) ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনতারা গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের ছেলে ও কালিহাতী শাহ্জাহান সিরাজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুল আলীম বাড়ী থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কালিহাতী পৌর এলাকার দক্ষিণ সাতুটিয়া গ্রামের জামাল বাদশার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে নিখোঁজ ওই কলেজছাত্রের মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আলীমের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, সাতুটিয়ায় অবস্থিত রকিবের বাড়িতে প্রধান আসামি নোমানসহ চারজন কালিহাতী নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া জানান, হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর একজনকে অভিযুক্ত করে ও দুজনকে স্বাক্ষী হিসেবে টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে রাকিব (২৬) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ভূঞাপুর রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিব কালিহাতী উপজেলার সিংগুরিয়া সোনাকান্দর গ্রামের তৈয়ব আলী ফকিরের ছেলে। তবে কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে ভূঞাপুর স্টেশনের রেললাইনে এক যুবক মাদক সেবন করছিল। এ সময় জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয় ওই যুবক। এতে ঘটনাস্থলে সে মারা যায় এবং তার শরীরের হাত-পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও রেলের লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুল কাদের বলেন, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভূঞাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সে ট্রেনের নিচে ঝাপিয়ে পড়ে। এতে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। নিহত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চলমান এসএসসির বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার নারান্দিয়ায় তোফাজ্জল হোসেন তুহিন কারিগরি স্কুলে (ভোকেশনাল) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় শিক্ষকদের সহায়তায় বই দেখে পরীক্ষা দেয় শিক্ষার্থীরা বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল ) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।
তোফাজ্জল হোসেন তুহিন কারিগরি স্কুল কেন্দ্রের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন তুহিন বলেন, এটা আগের ভিডিও। ওই দিন যে শিক্ষকরা দায়িত্বে ছিলো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে স্বীকার করেছেন ভিডিও অনেক আগের। মঙ্গলবারের পরীক্ষা নিয়ম মেনে নেয়া হয়েছে।
কালিহাতী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কবীর বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। কেন্দ্র সচিব জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, মঙ্গলবার সকালেই বিষয়টি জানতে পারি। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানতে পেরে কালিহাতীর ইউএনওকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছিলাম। গত পরীক্ষায় যে ঘরগুলোতে শিক্ষকরা ডিউটিতে ছিলেন তারা আর এসএসসি পরীক্ষায় ডিউটি করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের পরীক্ষার ডিউটিতে ওই শিক্ষকরা নেই। এখন আমরা একটি কমিটি করে দেব। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ৩ দিন পর সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে আব্দুল আলিম (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়া থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আলিম ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের চানতারা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী জহুরুল ইসলামের ছেলে।
নিহত আলিমের মা আকলিমা আক্তার জানান, আলীম কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
সে গত ১২ এপ্রিল(শনিবার )সকালে কালিহাতীতে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে একটি সুজকি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ওই দিন দুপুর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। বাড়ি ফিরে না আসায় এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
গত তিন ধরে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকার জামাল বাদশা বসতঘরের পেছনে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লাশটি উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে আলিমের মা আকলিমা আক্তার কালিহাতী থানায় গিয়ে লাশের পরনের পোশাক দেখে লাশটি আলিমের বলে তার শনাক্ত করেন
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আদিবুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বনবিভাগের লোকজন নওমুসলিম নারীর বাড়ি ভেঙে দেওয়ায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ওই সড়কের মধুপুর উপজেলার পচিশ মাইল এলাকায় তারা বিক্ষোভ শেষে সড়ক অবরোধ করে। রাত আটটা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখা হয়।
জানা যায়, মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ি এলাকা এক খৃষ্টধর্মীয় গারো নারী কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে সুমাইয়া নামের ওই নারী পচিশমাইল এলাকায় ফারুক হোসেন নামের এক ব্যাক্তির বাড়িতে একটি কক্ষে বিনা ভাড়ায় বসবাস করেন। ওই নারীর প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অর্থ দিয়ে পচিশ মাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে বসতিপূর্ণ এলাকায় ৪ শতাংশ জমির দখলস্বত্ব কিনে দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দেন। সেই ঘরটির নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। বুধবার সকালে বন বিভাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সুমাইয়া নামের ওই নওমুসলিম নারীর ঘরটি ভেঙে দেয়।
সুমাইয়া শেখ জানান, ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় এখন একেবারে অসহায়। বর্তমানে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছি। স্থানীয় বাসিন্দারা অনুদান ও যাকাতের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করায় বাড়িটি করা সম্ভব হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো আমি ওই ঘরে উঠতে পারিনি। বুধবার সকালে বনবিভাগের লোকজন সেনাবাহিনী নিয়ে এসে আমার ঘর ভেঙে ফেলে। ঘরে বেড়া চাল দা, শাবল, কুড়াল দিয়ে কেটে নষ্ট করে ফেলে।
তিনি আরো বলেন, কোনো প্রকার নোটিশ দেওয়া হয়নি। ঘর করা যাবে না বা ঘর সরিয়ে নিন এমন কোনো বার্তাও কেউ কখনো দেয়নি। হঠাৎ করেই বুধবার সকালে আমার ঘর ভেঙে দেয় বনবিভাগ। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই। চারদিকে শতশত বাড়ি ঘর। আমার ওপর এই নিষ্ঠুরতার বিচার চাই।
এদিকে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা আসরের নামাজের পর থেকেই জলছত্র থেকে পচিশমাইল এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। মাগরিবের আগে পচিশমাইল এলাকায় সমাবেশ শেষে বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন, বিএডিসি মসজিদের ইমাম ইব্রাহীম তকী, মুফতি আরিফ আদনান, পচিশমাইল জামে মসজিদের খতিব আব্দুল বাছেদ, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, ব্যবসায়ি আব্দুল মজিদ, আব্দুস সামাদ খান, আবু হানিফ, হাফেজ সোহাইল আহমেদ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে সড়কেই তারা মাগরিবের নামাজ আদায় করেন।
এই অবরোধের ফলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ হয়ে চলাচলকারি সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সড়কের উভয় প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে গাছাবাড়ী বিটের বন কর্মকর্তা আব্দুল কদ্দুছ জানান ,রেঞ্জ অফিস থেকে বলেছে তাই উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েছি। নতুন এসেছি এর বেশি কিছুই জানিনা।