আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের গোহালিয়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আতোয়ার রহমানের স্ত্রী খোদেজা বেগমের (৫৮) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার নিজ বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আতোয়ার রহমানের স্ত্রী খোদেজা বেগম বাড়িতে একা বসবাস করতেন। গত দু-দিন যাবত পরিবারের কোন সদস্যের ফোন না ধরায় তার ছেলে আসাদুল শনিবার সকাল ১১ টার দিকে বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন এবং ঘরের সিঁধ কাটা দেখতে পান।
পরবর্তীতে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলে মায়ের হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পান তিনি। ঘরের মধ্যে কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় ছিল।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, গোহালিয়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আতাউর রহমানের বাড়িতে সিধ কেটে অজ্ঞাত নামা লোক ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে হাত-পা বেধে তার স্ত্রী খোদেজা বেগমকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরের মধ্যে কাপড়চোপড় এলোমেলো ছিল।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে পেটে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) সকালে শহরের বটতলা সিটি বাজারে ওই মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
জানা গেছে,টাঙ্গাইল শহরের বটতলা সিটি বাজারে ‘সোহেল মাংসের দোকান’-এ দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন সদর উপজেলার চিলাবাড়ির পাইকপাড়া গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল মিয়া। শুক্রবার বটতলা সিটি বাজারে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক সিল মারতে গিয়ে গর্ভবতী গাভি শনাক্ত করেন। এর পর সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, জবাই করা গাভিটির পেটে বাচ্চা ছিল।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. শাহিন আলম জানান, বটতলা সিটি বাজারে সোহেল মাংসের দোকানে একটি গর্ভবতী গাভি জবাই করা হয়েছে, এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে যাই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, গাভিটির পেটে প্রায় দুই মাসের ভ্রুণ ছিল।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, শুক্রবার সকালে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বটতলা সিটি বাজারে যাই। মাংস ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো তিনি অকপটে সব দোষ স্বীকার করেন। তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা গাভির ৭০ কেজি মাংস সবার সামনে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সেনিটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও এএসআই মিলনসহ পুলিশের একটি দল।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে গলায় ফাঁস দিয়ে ইশীকা আরাত (২০) নামের এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পুরাতন বটতলা মুরগির বাজার এলাকার এক বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
নিহত ঈশীকা আরাত পৌরসভার বাগানবাড়ি এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে। সে বটতলা এলাকার মালেক ভূঁইয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন।
বাগান বাড়ি এলাকার স্থানীয়রা জানান, ঈশীকার ৩ বছর আগে হাজরাঘাট এলাকার রিয়াদ খানের সাথে বিয়ে হয়েছিল। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। তাদের সংসারে বনি-বনা না হওয়ায় এক বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে বাগান বাড়ি এলাকার একটি ছেলের সাথে তার আবারও বিয়ে হয়। সে সংসারও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন পূর্বে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। যে কারণে সে বটতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেমরাজুল ইসলাম রুবেল একতার কণ্ঠ-কে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিখোঁজের একদিন পর জঙ্গল থেকে অধীর সূত্রধর (৬৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের পীরগাছা এলাকার সেগুনবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অধীর সূত্রধর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কোনাবাড়ী এলাকার গোপি সূত্রধরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
অধীর সূত্রধরের ভাতিজা মুকুল সূত্রধর জানান, তার চাচা গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। সারাদিন বাড়ি না ফেরায় তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বনের মধ্যে ঝুলন্ত একজনের মরদেহ দেখে তিনি চাচাকে শনাক্ত করেন। পরে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, স্থানীয় লোকজন জঙ্গলে গরু চড়াতে গিয়ে সেগুনবাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে তিনি জানান।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রায়হান (২৮) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর তিনটার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম ইব্রাহিম (৩৫)। সে কালিহাতী উপজেলার রামপুর হাটিপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে।
ওসি আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার ২নং আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার দিবাগত রাতে কালিহাতী উপজেলার রামপুর কুকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে রায়হানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় ইব্রাহিম ও তার সহযোগীরা। নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর কোকরাইল গ্রামে রায়হান নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহত রায়হানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ।
নিহত রায়হান উপজেলার কোকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।সে হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।’
নিহতের পরিবার জানায়, রায়হান সোমবার ভোররাত ২টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকালে গ্রামের একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা বাদল মিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে মুন্না নামের একজন আমাকে ডাকতে যায় এবং বলে আপনার ছেলেকে মেরে ফেললো, আমি খবর শুনে ছুটে আসি এবং আশপাশে খোঁজ করি। খোজাখুজির একপর্যায়ে কোকরাইল গ্রামের রিপনের পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী রাত দুইটার দিকে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ কেটে রাখতে বলে। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে কেটে রাখা পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, সে সময় তিনি প্রচুর মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার সাথে আরও একজন লোক ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রয় এবং হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, নিহত রায়হান নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়াও নিহত রায়হান বহু আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকে দুর্বৃত্তরা ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২ মে) রাতে উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাইঘাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম শহীদুল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মিজানুর রহমান উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের সান্ডালপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল মান্নানের ছেলে।
সে ধোপাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একজন পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
মিজানুরের চাচা মহির উদ্দিন ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার ভাইঘাট বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে মিজানুর একটি দোকানের সামনে বসে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ডেকে মসজিদের কাছের একটি গলিতে নিয়ে যায় অপরিচিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত। ওই গলিতে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে সটকে পরলে স্থানীয়রা মিজানুরকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। টাঙ্গাইল নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম শহীদুল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ মে ) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার শামীম আল মামুন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ এপ্রিল খোকন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় আমাকে ২০নং আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক মো: উজ্জল মিয়া, ইসলাম খান ও এনামুল হক রৌফকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত আমরা ৪ জন টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছি। আমরা কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমি ও আমার স্ত্রীসহ গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গমন করি এবং একই মাসের ২৭ তারিখে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দেশে ফিরে আছি। যার প্রমাণ আমার পাসপোর্টের ভিসা, ইমিগ্রেশনে বহির্গমন, অন্তগমন সিল।
আর মামলার নথিতে ঘটনার বিবরণীতে বলা হয়েছে, অপরাধ সংগঠিত হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখ সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে। যেখানে আমি দেশেই উপস্থিত ছিলাম না, আমি কিভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করি। একই অবস্থা মামলার ১১০নং আসমি মো: উজ্জল মিয়ার। তিনিও উন্নত চিকিৎসার জন্য উল্লেখিত সময় চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার প্রমাণ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার ১৮নং আসামি সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিক্রেট কোচ ইসলাম খান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ও তার ক্রিকেট একাডেমির ছাত্ররা আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে। যার প্রমাণ স্বরূপ আন্দোলনে অংশগ্রহণের ছবি আপনাদেরকে দেখানো হয়েছে। মামলার ৮৮নং আসামি টাঙ্গাইলের সাবেক কৃতি ফুটবলার এনামুল হক রৌফ তার দু’বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। তিনি ঘটনার দিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামীম আল মামুন জানান, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলী ইমাম তপন ও বিসিবি নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান এই মিথ্যা মামলার মূল কারিগর। তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বর্তমানে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের হাত থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা করায় আমাদের এই ৪ জন সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠককে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা এই মিথ্যা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়ারদের নিয়ে একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলাম খান, মো. হামিদুর রহমান, মেহেদী ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, এনামুল হক, রাশেদুল আলম মনি, মো. উজ্জ্বল মিয়া প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলাম।
এর পূর্বে সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ২ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
আরমান কবীর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিন কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ মে )সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বোয়ালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মধুপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আল আমিন (৩৫) জেলার ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামের মৃত আয়াত আলী মুন্সীর ছেলে।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি )এরমানুল কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুরের বোয়ালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে (বৃহস্পতিবার ১ মে) সকাল ১১ টার সময় সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
তিনি আরও জানান ,গ্রেফতারকৃত আল আমিনকে শুক্রবার(২ মে) সকালে টাঙ্গাইল কোটে প্রেরণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ নাজির উদ্দিনকে প্যাকেজিং কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে নেওয়া হয় রাশিয়ায়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর পাঠানো হয় সামরিক প্রশিক্ষণে। ১৪ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর পাঠানো হয় রণাঙ্গনে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে যাওয়ার পর থেকে বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই নাজিরের। চিন্তায় অস্থির তাঁর বাবা, নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন স্ত্রী। শিশুসন্তান আছে বাবার অপেক্ষায়।
৩৭ বছর বয়সী নাজির উদ্দিনের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কুরমুশী গ্রামে। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফয়েজ উদ্দিনের একমাত্র সন্তান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, ২০১৭ সালে নাজির ইরাকে গিয়েছিলেন। তিন বছর সেখানে চাকরি করে দেশে ফিরে আসেন। নিজ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করার উদ্যোগ নেন, কিন্তু সফল হননি। তাই আবার বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সঙ্গে ঢাকার মিরপুর এলাকার এসপি গ্লোবাল নামের একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের মামুন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১২ লাখ ২০ হাজার টাকায় গত ১৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন নাজির উদ্দিন। দুবাই হয়ে রাশিয়ায় পৌঁছান তিনি। তারপর তাঁকে একটি ক্যাম্পে কয়েক দিন রাখা হয়। কিছুদিন পর সেখান থেকে বিমানে আরেক জায়গায় নেওয়া হয়। ওই জায়গায় ১৪ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও কয়েকজনের সঙ্গে ইউক্রেন সীমান্তে নেওয়া হয়।
১৬ এপ্রিল সকালে নাজির টেলিফোনে কান্নাকাটি করে বাবা ও স্ত্রীকে জানান, তাঁদের ইউক্রেনের সম্মুখযুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেদিনের পর থেকে বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই নাজিরের।
সরেজমিনে ঘাটাইলের কুরমুশী গ্রামে নাজিরদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের চিন্তায় উদ্বিগ্ন বাবা ফয়েজ উদ্দিন। ছেলের খবরের আশায় প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন।
ছেলেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ সরকার ও রুশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফয়েদ উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে প্যাকেজিং কোম্পানিতে চাকরির আশা নিয়ে রাশিয়ায় গেছে। তাকে কেন যুদ্ধে পাঠানো হলো? তাকে যারা চাকরি দেওয়ার মিথ্যা কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠিয়েছে, তাদের বিচার চাই।
চিন্তায় অস্থির নাজিরের স্ত্রী কুলসুম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নাজির। রাশিয়ায় যাওয়ার পর যখন যুদ্ধের প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা জানতে পারেন, তখন থেকে নাজির প্রতিদিন টেলিফোন করে কান্নাকাটি করতেন। ১৬ এপ্রিলের পর থেকে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন, এ বিষয়ে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
কুলসুম বেগম আরও বলেন, আমার একমাত্র মেয়ের বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। সেও প্রতিদিন বাবার খবরের আশায় মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে। সরকারপ্রধানের কাছে আমার দাবি, আমার স্বামীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মামুনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর বাবা এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, থানা থেকে যেকোনো সহযোগিতা করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের( এলজিইডি) জেলা কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রসঙ্গে দুদক জানায়, জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতি, একাধিক প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করেই বিধিবহির্ভূতভাবে অগ্রিম বিল উত্তোলন, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে গ্রাম-গঞ্জের রাস্তা এবং ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের গুণগতমান বজায় না রাখা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে এলজিইডি’র বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দুদক টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. নুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। অভিযোগ গুলো মাঠ পর্যায়ে গিয়ে যাচাই বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে জেলার কালিহাতী, মধুপুর, ভূঞাপুর ও সখীপুর উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিখোঁজের ১৬ দিন পর জয়নাল আবেদীন (৪৫) নামে এক কৃষকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন সুইচগেট সংলগ্ন যমুনার শাখা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ছোট শাখারিয়া গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
জানা গেছে, ১৬ দিন পূর্বে যমুনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয় জয়নাল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার পরিবারের সদস্যরা সে সময় নদীতে ডুবুরী নামিয়ে অনেক খুঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। সোমবার দুপুরের দিকে এলাকাবাসী নদীর তীরে কচুরিপানার সাথে একটি অর্ধগলিত মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা লাশটি সনাক্ত করেন।
হেমনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ওমর আলী জানান, গলিত মরদেহর বিষয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
অপরদিকে, গোপালপুরে আলতাফ হোসেন (৬২) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে বাদে মাকুল্লা গ্রামে তার নিজ বাড়ীর পাশে জামগাছে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
নিহত আলতাফ উপজেলার নগদা-শিমলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক ছিলেন। সে বাদে মাকুল্লা গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে।
গোপালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।