আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, দু’টি খালি মদের বোতলসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলীও রয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ফুলের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শতাব্দী ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী (৫০), কালিবাড়ি এলাকার বিধুণ ভুষনের ছেলে রক্ষিত বিশ্বজিৎ (৫৫), সবুর খান বীর বিক্রমের ছেলে মো. শাহ আলম খান মিঠু (৫৫), দিঘুলিয়ার জসিম উদ্দিন (৫৭), বাঘিলের গোলাম মাওলা (৪৮), থানাপাড়ার শাহিন আহমেদ (৫০), আবু জাফর খান (৪৪), বিশ্বাস বেতকার মো. আব্দুর রশিদ (৫৫), আকুর টাকুর পাড়ার মঈন খান (৬০), করটিয়ার ইসমাইলের ছেলে মোস্তফা কামাল (৫৮), সাবালিয়ার বিশ্বনাথ ঘোষ (৫৪), একে এম মাসুদ (৫৫), বেতকার শিপন (৫৮), আকুর টাকুর পাড়ার দেওয়ান শফিকুল ইসলাম (৬০), বেপারী পাড়ার এস এম ফরিদ আমিন (৫৫), কবির হোসেন (৫০), আদালত পাড়ার মোশারফ উদ্দিন (৫০), ঘারিন্দা এলাকার হাবিল উদ্দিন (৪০), বেতকার মহব্বত আলী (৫৫), আকুর টাকুর পাড়ার জাহিদ (৪৪), থানা পাড়ার প্রিন্স খান (৬৫), সৈয়দ শামসুদ্দোহা (৪৫), আদালত পাড়ার রফিকুল (৫৫), বিশ্বজিৎ (৪৫), পাড় দিঘুলিয়ার সাদেকুর, কাজিপুরের সেলিম (৪৫), আদালত পাড়ার হাসান আলী (৫০), বিশ্বাস বেতকার রফিক, আদালত পাড়ার শাহ আলম (৫৫), সিরাজুল (৪৫), বিশ্বাস বেতকার আশিকুর রহমান (৪৬), আদি টাঙ্গাইলের শফিক (৫২), বিশ্বাস বেতকার আখতারুজ্জামান (৪৩), আশেকপুর এলাকার আরমান (৪৩) ও শহরের ছয়আনি পুকুরপাড় এলাকার শামসুল হক (৫৬)।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত ফুলের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শতাব্দী ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও ২’দুটি খালি মদের বোতলসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান, বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে আটককৃতদের টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে আমানুরের তিন ভাই, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) রয়েছেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ২৩ জুলাই এ আদেশ দেন। আদালত ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার নথিও তলবের আদেশ দিয়েছেন।
হাইকোর্টের এ আদেশ রবিবার (১০ আগস্ট) ডাকযোগে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পৌঁছায়। তবে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি জানা যায়। উভয় আদালতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহমুদুল হাসান গত ২ ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত ফারুক হত্যা মামলার রায় দেন। আদালত মোহাম্মদ আলী ও কবির হোসেন নামের দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মোহাম্মদ আলী ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফারুক হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দিতে এই হত্যার সঙ্গে আমানুর রহমান ও তাঁর ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি পলাতক। অপর দণ্ডিত কবির হোসেন ২০১৪ সাল থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আমানুররা চার ভাই ছাড়া অন্যরা হলেন সানোয়ার হোসেন, নাসির উদ্দিন, বাবু, ফরিদ হোসেন, মাসুদুর রহমান, আলমগীর হোসেন। মামলা চলাকালে দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মারা যান।
নিহত ফারুক আহমেদের ছেলে আহমেদ সুমন মজিদ মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিলের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আমি নিজে উচ্চ আদালতে আপিলের উদ্যোগ নিই। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটরি অনুবিভাগ আমাকে গত ২৬ জুন নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে ফৌজদারি রিভিশন মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল দায়ের করি।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আহমেদ সুমন মজিদের আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ জুলফিকার আলম শিমুল এবং বাদীপক্ষে ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুরদের চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক সারোয়ার হোসেনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
শনিবার (৯ আগষ্ট ) রাতে সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেন সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ি গ্রামের ‘মাদ্রাসা ক্বাসিমুল উলূম’ নামক প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগের এক ছাত্রকে (১৩) জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন। বৃহস্পতিবার( ৭ আগষ্ট) রাত আনুমানিক ১০ টায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শুক্রবার (৮ আগষ্ট) সকালে পরিবারকে বিষয়টি জানালে শনিবার রাতে তারা অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে ড্রাগন ফল খাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মাদ্রাসার ভিতর ডেকে নেয় ও তার সাথে রাত্রিযাপন করতে বলে। রুমের বাতি বন্ধ করে তার হাত পা টিপে দিতে বলে। এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলৎকার করে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। এ বিষয়ে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত আইনে মামলা রজ্জু করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লাইব্রেরীতে সাত শিক্ষার্থীর গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে বেসরকারি লিটন একাডেমির ওই সাত শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি ভর্তি করাসহ প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে ওই সাত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেওয়াসহ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িত শিক্ষকদের বদলী ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ সুধীজনেরা।
জানা যায়, ১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পাড়দিঘুলিয়া মৌজায় স্থাপিত হয় মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা-৭৯০। এর মধ্যে বালক-৪০৬ আর বালিক ৩৮৪। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সংখ্যা-২১০। এর মধ্যে বালক-১২৪ আর বালিকা-৮৪। ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন তসলিমা জাহান।
নিয়ম বর্হিঃভুত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, আরাধ্যা শীল, খন্দকার আফসানা হেরা, জাকিয়া তাবাসুম বুশরা, সাবিহা বিনতে শামীম, সৈয়দ আনানূর, আয়শা সিদ্দিকা মুন, রনিত বসাক অর্পণ ও কুঞ্জ রায়।
বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মন্ত্রণালয় নির্দেশিত ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাই করা হচ্ছিল বলে শিক্ষকরা দাবি করলেও শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাইয়ের কোন খাতা দেখাতে পারেননি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও লিটন একাডেমির ৫ম শ্রেণীর উপস্থিতি খাতায় বিদ্যালয়ের গোপন ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে।
সরকারি নিয়মানুযায়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বশেষ ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ থাকলেও এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সম্প্রতি ওই সাত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
সরেজমিনে অভিভাবকদের তোলা অবৈধভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চলমান ওই পরীক্ষার ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন এই সংবাদের প্রতিবেদকসহ উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।
কোচিং শিক্ষার্থীদের গোপনে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় অভিভাবক ও সংবাদকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ দরজা বন্ধ করে দেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। কৌশলে পরীক্ষার খাতা সরিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের গল্পের বই পরতে দেন তারা।
গত ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার সর্বশেষ তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হলেও প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রথম সাময়িক পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে অধ্যায়নরত ৫ম শ্রেণীর ৪০ভাগ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে বলে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২১,২২,২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃত্তি প্রাপ্তির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কোচিং সেন্টারে অধ্যায়নরত ওই সাত শিক্ষার্থীকে গোপনে ভর্তি করানোসহ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার লাইব্রেরী কক্ষে গোপনে মে মাসে শেষ হওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নিচ্ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদর উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইন। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার, লায়লা সিদ্দিকী আর স্বপন কুমারকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
টানা পনের বছর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতি বছরই অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে আর বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে বেসরকারি কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তসলিমা জাহান বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগি অভিভাবকরা।
গোপনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ না হলে এবারও বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত বেশ কিছু শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত। এখনও কেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা টাঙ্গানো হয়নি এমন প্রশ্ন তোলাসহ গোপনে পরীক্ষা নেওয়া কোচিং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত শিক্ষার্থী তালিকায় তোলার শঙ্কা দেখছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুযোগ বঞ্চিত করা সকল শিক্ষকের অন্যত্র বদলীসহ জড়িত সকলের কঠোর বিচার দাবি করেছেন তারা।

অভিভাবক কানিজের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির অপচেষ্টায় বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরতদের বাদ দিয়ে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন। ওই সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা সুবিধা ভোগ করছেন তারা। তাদের যোগসাজসে প্রতিবছরই বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে কোচিংয়ের সাত শিক্ষার্থীর গোপনে মে মাসে শেষ হয়ে যাওয়া প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। আমিসহ সাংবাদিকরা পরীক্ষা চলাকালীন লাইব্রেরী কক্ষে প্রবেশ করি। শিক্ষার্থী আমাদের কাছে পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দায়িত্বরত সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী। তারা আমাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ও লাইব্রেরী কক্ষ বন্ধ করে দেন। আমার মেয়েও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী, তাদের এই অনৈতিক চেষ্টায় আমার মেয়েটি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবে কি? এ নিয়ে চরম শঙ্কায় আছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নষ্টকারী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারি শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও লায়লা সিদ্দিকী।
লিটন একাডেমির পরিচালক লিটন রাহা বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাই। কোন শিক্ষার্থী কোন স্কুলে ভর্তি আছে বা হবে সেটি আমার কাজ না।
বুধবার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোপনে নেওয়া পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের নাম আপনার পঞ্চম শ্রেণীর উপস্থিতি তালিকায় কিভাবে আসলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এক নামে একাধিক জন থাকতেই পারে। মডেলের গোপন পরীক্ষার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার একাডেমির খ্যাতি দেখে আমার বিরুদ্ধে এখন অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে বলেও জানান তিনি।
মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তসলিম জাহান বলেন, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রীর অভিভাবক কানিজ বৃত্তি তালিকায় তার মেয়ের নাম দেওয়া হবেনা এমন শঙ্কা থেকে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছেন।
শ্রেণী কক্ষ থাকতে কেন লাইব্রেরীতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কারণে লাইব্রেরী কক্ষে নিয়ে ওই সাত শিক্ষার্থীর শিখন অবস্থান যাচাইয়ের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক লায়লা। কানিজ সেটিকে ওই শিক্ষার্থীদের গোপনে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রচার করছে। সাংবাদিকদের দেখে কেন ওই শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই পরীক্ষার খাতা সরিয়ে গল্পের বই পরতে দেওয়া হয় এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থীদের শিখন যাচাইয়ের খাতা দেখতে চাওয়া হলে সেটি দেখাতে পারেননি তিনি। এবার বিদ্যালয় থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মোজাহারুল বলেন, প্রধান শিক্ষকের ফোন পেয়ে তিনি এসেছেন। পরীক্ষার বিষয়টি জানতেন না তিনি। তবে বিতর্কিত ওই সাত শিক্ষার্থীর নাম বৃত্তি তালিকায় যাবেনা বলে আমাকে কথা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক তসলিমা জাহান।
বুধবার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয়নি বলে জানান সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আলমগীর হোসাইন। তাহলে কর্মস্থল ছেড়ে বিদ্যালয়ে কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক ফোন দিয়ে বিদ্যালয়ে সাংবাদিকরা এসেছে বলে জানানোর কারণেই তার আসা। অভিযোগের বিষয় যাচাই বাছাই করার আশ্বাস দেন তিনি।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো.শামসুজ্জামান বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখতে বলা হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আরমান কবীরঃ গাজীপুরে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে বিরুপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এতে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, সাংবাদিক কাজী তাজউদ্দিন রিপন, মামুনুর রহমান মামুন, শামিম আল মামুন মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক তুহিনকে যেভাবে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা একটি স্বাধীন দেশে কল্পনাও করা যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যৌথবাহিনীর অভিযানে দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের ১৬ হাজার ৫’শত টাকা অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌধুরী মালঞ্চ গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে মো. মাসুদ রানা (২৭), টাঙ্গাইল পৌরসভার ভালুককান্দি এলাকার সোনাউল্লার ছেলে মো. খোকোন হোসেন (২৫), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গালা গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২২), কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের সল্লা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদ হোসেন (২৩), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সারটিয়া গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. আনিস মিয়া (২২)।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ জানান, দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের সদস্যরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছিল। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরো জানান, এসময় দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করে ১৬ হাজার ৫’শত টাকা অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড অন্য প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪-ইবি ব্যাটেলিয়নের ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ফারুকের নেতৃত্বে একটি টহল দলসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুরস্থ হযরত ফাতেমা (রা.) মাদ্রাসার হিফজ শাখার এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১০) যৌন নিগ্রহের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ (২৫) ও তার বড় ভাই ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর (বৈল্যা) থেকে ওই মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহকে ও বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, শহরের এনায়েতপুর (বৈল্যা) পালপাড়ার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদুল্লাহ ধুলেরচর মাদ্রাসার পাশে হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে পরিচালক হিসেবে চালাচ্ছিল। পরে তার ছোট ভাই ওবায়দুল্লাহকে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি নানা অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া ইত্যাদি অপকর্ম করে আসছিলেন।
গত ২৭ জুলাই আবাসিকে থেকে মাদ্রাসার হিফজ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে চোখ বেঁধে পড়নের কাপড় খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ সহ যৌন নিগ্রহের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে ওই শিশু শিক্ষার্থী পালিয়ে কক্ষ থেকে দৌঁড়ে বেড়িয়ে গিয়ে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। তার মা স্থানীয় মাতব্বরদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লার কাছে বিচার চান। পরিচালক মাদ্রাসার ওই শিক্ষক তার ভাই হওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়।
এ সময় পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বলেন, শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ পালিয়ে গেছে, সে যদি অপরাধী হয়ে থাকে আইন তাকে শাস্তি দিবে- আপনারা থানায় যান।
এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোহাম্মদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই শিশুশিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-৮, তাং-৬/৮/২০২৫ইং) দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর বুধবার বিকালে পুলিশ মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকাবাসী জানায়, হযরত ফাতেমা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ মাদ্রাসার ওয়াশরুমে ক্যামেরা লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ‘জিনের’ ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অপকর্ম করে। ইতোপূর্বে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে তিনি শিকার বানিয়েছেন। মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে অভিযোগ করা হলে মোহাম্মদুল্লাহ সব ক্ষেত্রেই ঘটনা ধামাচাপা দেন। হিফজ শ্রেণির শিক্ষার্থীর ঘটনাটিও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা ও অভিভাকদের সচেতনতায় এবার তিনি সফল হতে পারেনি। এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠনটির পরিচালক ও তার লম্পট ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
যৌন নিগ্রহের শিকার শিশু শিক্ষার্থীর মা ও মামলার বাদী জানান, লম্পট শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ ইতোপূর্বেও এ ধরণের কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনটিরই বিচার হয়নি। শাস্তি না হওয়ায় সাহসী হয়ে তার শিশুকন্যাকে তার লালসার শিকার বানিয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান, মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিগ্রহ করার চেষ্টার অভিযোগে তার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদুল্লাহ ও তার ভাই ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পুরাতন ব্যাটারি থেকে সীসা উৎপাদনকারী দু’টি অবৈধ কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বীর সলিল এলাকায় (এলসিন ব্রিজ সংলগ্ন) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন, নাগরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক।
অভিযানকালে একটি অবৈধ কারখানা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অপর একটি কারখানায় তালা ঝুলিয়ে সীলগালা করে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর মো. মাসুদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্রব কুমার সূর্যসেন উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক জানান, পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা রেলস্টেশনের পাশে এক যুবতীকে (২২) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ জুলাই ) সকালে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকুশিয়া সুতার পাড়া এলাকার সেন্টু চন্দ্র দাশের ছেলে দুলাল চন্দ্র (২৮), হালিম খানের ছেলে সজিব খান (১৯) ও মৃত কিসমত মিয়ার ছেলে রুপু মিয়া (২৭)। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশায় সিএনজি চালক।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাতে ওই যুবতি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাছিরনগর থেকে ঢাকা এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে আসেন। সেখান থেকে তিনি চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ভুলবশত উত্তরবঙ্গগামী দ্রুতযান ট্রেনে উঠে পড়ে। এসময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে উঠে অন্যযাত্রীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা টাঙ্গাইলের কথা বলেন। পরে ওই যুবতী রাত সাড়ে ১২ টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলস্টেশনে নামেন। এসময় ওই নারী স্টেশনে নেমে জিআরপি পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। জিআরপি পুলিশের এক সদস্য সিএনজি চালক দুলালকে ঢাকার ট্রেনে উঠিয়ে দেয়ার কথা বলে।
এ সময় ওই তরুণীকে ফুসলিয়ে প্রথমে স্টেশনের পিছনে কাঠবাগানে নিয়ে দুলাল ধর্ষণ করে। পরে স্টেশন সংলগ্ন ব্রাহ্মণকুশিয়া গ্রামে অভিযুক্ত রুপু মিয়ার বাড়িতে নিয়ে রুপু মিয়া ও সজিব খান ধর্ষণ করে।
এ ঘটনার পর ওই যুবতি শনিবার ভোরের দিকে রেলস্টেশনে গিয়ে রেল পুলিশকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে তারা থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সকালে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় ওই নারী বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত আসামীদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলের (৩৮) পুলিশ হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে আটককৃত রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেল সখিপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞার দাবি অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিহত রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় জুরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ৩টার দিকে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে পুলিশ রুবেলকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।
সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, সখীপুর থানার এসআই লিবাস নাইট ডিউটি করার সময় বেপরোয়া আচরণের কারণে রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় তার প্রেসার বাড়ার কারণে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা বেগতিক হলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেলের মা বলেন, আমার সুস্থ ছেলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। হঠাৎ শুনি পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশ তাঁকে টাঙ্গাইল নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুনি আমার ছেলে মারা গেছে! মা হিসেবে এই রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই, বিচার চাই।
এদিকে রুবেলের চাচা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, আমরা প্রথমে রুবেলের সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছিলাম। এখন পুলিশ যদিও রুবেলকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে থাকে, তবে বিষয়টি আমাদের জানানো উচিত ছিল। না জানিয়ে কেনো তারা থানায় নিয়ে গেল? পুলিশের কথা যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তবে আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে হার্ট অ্যাটাকে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি দেখছি না। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে লাশ চেয়েছিল। কিন্তু আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্যে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে বিএনপি নেতা রুবেলের মৃত্যুর খবর শুনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে রুবেলের বাসায় গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক তারেক শামস খান হিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নাগরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তারেক শামস খান হিমু নাগরপুর উপজেলার তেবারিয়া গ্রামের মৃত হুমায়ন খানের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তার নামে নাগরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকার পর সোমবার ভোরে দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নাগরপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশের একটি দল তাকে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, নাগরপুর থানা পুলিশ সোমবার বেলা ৩টার দিকে তারেক শামস হিমুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করেছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুটের অভিযোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আরও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৯জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা হলো, সহকারী উপ-পরিদর্শক শামীম আল আজাদ।
বরখাস্তকৃত এই ৪জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ১৮ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তারা ভূঞাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সালেহা বেগমের বাড়িতে অভিযানে গিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করেছেন তারা।
উপ-পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দোষী প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালেহা বেগম তার অভিযোগে বলেছেন, কর্মকর্তারা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য না পেয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি তাদের ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরে তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। সে সময় তারা ঘরে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন, পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান।
টাঙ্গাইলে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত