আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ১ হাজার পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবাসহ এক ইউপি সদস্য ও এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন রহমান (৩৫)। সে হাবলা ইউনিয়নের জয়শত গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে। অপরজন হলেন, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দুবলাবাড়ি গ্রামের মো. রজত আলীর ছেলে মো. তহর আলী (৩৭)।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি দক্ষিণ) উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাইজ উদ্দিন জানান, রবিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর বাইপাস এলাকার আব্দুর রহমানের খাবার হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য সুজন রহমান ও তহর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা ১ হাজার পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় দুটি রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চার প্রকৌশলী এবং দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. বাসেদ আলী টাঙ্গাইলের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
একটি মামলার আসামিরা হলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্রেন্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী শহীদুর রহমান খান, এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং ও মূল্যায়ন শাখায় কর্মরত) রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান (বর্তমানে বিদেশে শিক্ষা ছুটিতে), একই উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খান এবং মাইনুল হক (বর্তমানে ঘাটাইলে কর্মরত)।
অপর মামলায় আসামি করা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৈয়দ মজিবর রহমানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মজিবর রহমান এবং এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খানকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ রিজিওনাল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের তেবাড়িয়া জিসি-দপ্তিয়র ইউপিসি অফিস সড়কে বিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজে ডাব্লিউবিএম ও সাববেইজের ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫০৯ টাকার কাজ কম করা হয়। এছাড়া, ৭৫ মিটার সড়কের কোনো কাজ না করেই ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬ টাকা অর্থাৎ মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ৫৪৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একই রাস্তায় প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে ৩১ লাখ ১ হাজার ৫৯১ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অপরদিকে, এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের সিংজোড়া-গয়হাটা (ভাররা জিসি-সলিমাবাদ আরডিএস ভায়া গয়হাটা ইউপি) ১১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কে বিসি সার্ফেস উন্নয়ন কাজে প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৫১০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফখরুল ইসলাম জানান, রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে গত ২০ এপ্রিল একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নাগরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী, বর্তমানে কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখানো রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দ্বারা পরিমাপ গ্রহণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, তদন্তে কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শ্রমিকদল নেতা ফজল হক (৫৫) নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৪৫) এবং ছেলে মনিরুজ্জামান (২৫)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশিনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ফজল হক বংশিনগর গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বাঁশতৈল ইউনিয়ন শ্রমিকদলের প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি ও ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৭ বছর আগে ফজল হকের দাদি ৫৫ শতাংশ জমি তাকে রেজিস্ট্রি করে দেন। বিষয়টি তিনি সম্প্রতি জানতে পেরে জমিটি দখল বুঝে নিতে উদ্যোগ নেন। তিনি এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলাও করেছিলেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং মাতব্বরদের নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়েছে। তবে তাতে কোন সমাধান হয়নি।
রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফজল হকের ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে পারভেজ দেশীয় অস্ত্রসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক নিয়ে ওই জমিতে বেড়া দিতে যান। খবর পেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রতিবাদ করতে ঘটনাস্থলে গেলে ফজল হককে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে।
এ সময় ফজল হকের স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং ছেলে মনিরুজ্জামানকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজল হককে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ফজল হকের সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, লাশের সুরতহাল হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সাইফুল আলম (৪০) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার ডুবাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত সাব্বির আহমেদের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে তিন টার দিকে সাইফুল আলম এক জেলেকে সাথে নিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে মির্জাপুরের একটি হ্যাচারিতে মাছের রেনু কিনতে যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ডুবাইল এলাকায় পৌঁছলে তিন ছিনতাই মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাইফুল আলম তাদের বাঁধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সাইফুল আলমকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেব খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে প্রবেশ করে উল্টে গিয়ে সেই ট্রাকের নিচে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ী মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ভূঞাপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনন্ত দাস মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রমেচা বেগম (৫৫) একই এলাকার আব্দুল কদ্দুসের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার ফজর নামাজ আদায় করে রচেমা বেগম ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার স্বামী কদ্দুস নামাজ পড়তে মসজিদে চলে যান। এরমধ্যেই হঠাৎ জামালপুরগামী পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রমেচার বসতঘরে ঢুকে উল্টে পড়ে এবং সেই ট্রাক চাপায় ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এসময় স্থানীয়রা ট্রাক চালককে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনন্ত বলেন, পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে উল্টে যায় এবং সেই ট্রাকের চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় এক নারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাক চালকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়া দুর্বৃত্তদের কোপের আঘাতে আহত চালক আবু হানিফ (৪৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হানিফ সখীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের খানপাড়া এলাকার শামসুল হক খানের ছেলে। গত ৫ এপ্রিল রাতে যাত্রীবেশে অটোরিকশায় ওঠা তিন ব্যক্তি হানিফকে কুপিয়ে তাঁর রিকশাটি নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সখীপুর পৌর শহর থেকে নলুয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে তিন ব্যক্তি হানিফের অটোরিকশা ভাড়া করেন। পথিমধ্যে বোয়ালী বাজার পার হলে একটি পিকআপ ভ্যান রিকশাটির গতি রোধ করে। এ সময় অটোরিকশায় থাকা যাত্রীবেশী একজন হানিফের মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে পিকআপে তুলে তিন কিলোমিটার দূরে দেওদীঘি বাজারের কাছে ফেলে যায়। সেই সঙ্গে রিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
রাত ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন হানিফকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অন্যদিকে পরদিন নলুয়া-কালমেঘা সড়কের কানু মার্কেট এলাকা থেকে রিকশাটি জব্দ করা হয়।
এদিকে হানিফকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে সোমবার (২১ এপ্রিল) তাঁকে বাসায় আনা হয়। মঙ্গলবার তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই ইমরান খান বলেন, অটোরিকশাটি পাওয়া গেলেও হানিফ ভাইকে ফেরানো গেল না। আমরা ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পরদিনই পুলিশ অটোরিকশাটি জব্দ করে হানিফের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছিল। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিনব কায়দায় পায়ুপথে লুকিয়ে হেরোইন পাচারকালে এক মাদক ব্যবসায়ী বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সইবুর রহমান (৬৬) রাজশাহীর দরগাপাড়া এলাকার মৃত নইমুদ্দিনের ছেলে। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ি থেকে ঢাকায় হেরোইন পাচারের জন্য পায়ুপথে বহন করছিলেন বলে জানায় র্যাব।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর মিডিয়া অফিসার নাজমুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই এলাকা থেকে প্রথমে সইবুর রহমানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে হেরোইনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সইবুর তার পায়ুপথে হেরোইন লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পায়ুপথে লুকিয়ে রাখা ৬৪ গ্রাম হেরোইন বের করা হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে । সোমবার (২১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতু সরকার উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের আটঘড়ি গ্রামের দীলিপ সরকারের স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে উপজেলার আটঘড়ি গ্রামের দীলিপ সরকারের সাথে গাজীপুর জেলার কাশিপুর গ্রামের মিতু সরকারের বিয়ে হয়। সংসারে তাদের এক মেয়ে ও ছেলে রয়েছে। দীলিপ সরকার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সোহাগপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সোমবার সকালে সকলের অগোচরে মিতু সরকার অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে তাকে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে মিতু অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেছেন তা জানাতে পারেনি তার পরিবার।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ক্ষতিকর রং-কেমিক্যাল দিয়ে মেয়াদহীন আইসক্রিম উৎপাদন করায় দুই আইসক্রিম ফ্যাক্টরি মালিককে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলী এলাকা ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর টাঙ্গাইল এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নাজিমুদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, ভেজাল ওই দুই আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে অনুমোদনহীন বিভিন্ন ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল, বিভিন্ন নামে বেনামে ঠিকানা ব্যবহার করে মেয়াদহীন আইসক্রিম উৎপাদন করে আসছিল এই দুই ফ্যাক্টরি। পরে পৌলী বাজার এলাকায় জিথী আইসক্রীম ও স্বাধীন আইসক্রীম কারখানায় অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জিথী আইসক্রীম কারখানা মালিককে ৫০ হাজার এবং স্বাধীন আইসক্রীম কারখানা মালিককে ১৫ হাজার টাকা করে মোট দুই কারখানা মালিককে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, দুই আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক অঙ্গীকার করেছেন বৈধ কাগজপত্র না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। আগামীতে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশ।
রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সখিপুর পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হারুন মিয়া (৪৫) উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের সাপিয়াচালা গ্রামের ফয়েজ আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল ডিবির (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখীপুর পৌর শহরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হারুনের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪), সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সাগরদীঘি বাজার থেকে ৩২ কেজি গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চট্রগ্রামের বুজপুর উপজেলার উদিয়া পাথর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম খলিল (৩৫) ও জোড়ারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সোনাই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেন (২৮)।
র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল অফিস সুত্রে জানা যায়, র্যাবের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী-ভালুকা-ঘাটাইল আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স হাজী থাই এ্যালুমিনিয়াম এন্ড টাইলস হাউজের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে । উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৯,৬০,০০০/-(নয় লাখ ষাট হাজার টাকা)। এ সময় ৩২ কেজি গাঁজা ও মাদকদ্রব্য গাঁজা বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং গাড়িতে রক্ষিত ১৪ টন সরিষাসহ আটক করা হয়।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, এ ঘটনায় ঘাটাইল থানায় মামলা দায়েরর্পূবক আসামী ও আলামত হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ দুর্ণীতি প্রমানিত হওয়ার পরেও স্বপদে বহাল হলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্বরত প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। বুধবার (১৬ এপ্রিল) লঘুদন্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সচিব মো.রেজাউল মাকসুদ জাহেদী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিনি বহাল হন।
জানাযায়, টাঙ্গাইল শহরের আলোচিত বেড়াডোমা ব্রিজের দায়িত্ব পালনকালে নির্মাণাধীন অবস্থায় ঢালাইকাজের পূর্বেই সেন্টারিং-এ ড্রইং ও ডিজাইন অনুসারে না করে গাছের বল্লী ও বাঁশের খুটি ব্যবহারে ঠিকাদারকে শুধু চিঠির মাধ্যমে নিষেধ করেন তিনি। ঢালাই কাজ বন্ধ না করে এবং ঢালাইয়ের সময় উপস্থিত না থাকায় চরম দায়িত্বে অবহেলা করেন পৌর প্রকৌশলী শিব্বির আহম্মেদ আজমী। একারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৯৯২ সালের বিধি ৪০-এর উপ বিধি (ক) ও (খ) অনুয়ায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ওই প্রকৌশলীর নামে বিভাগীয় মামলা (নং-৪/২০২৩) দায়ের করা হয়।
পরে মামলাটি ২০২৩ সালের ১১ জুলাই শুনানীতে অভিযোগ প্রমানিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা টাঙ্গাইল পৌরসভার বরখাস্তকৃত ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, কারণ দর্শানোর জবাব, বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে বর্নিত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪০-এর উপ বিধি ক’ ও খ; অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা এবং অসদাচারনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা ১৯৯২ এর বিধি ৪১-এর উপ বিধি (ই) অনুযায়ী আদেশ জারির তারিখ হতে ০১ (এক) বছরের জন্য বেতন বর্ধন স্থগিত রাখার লঘুদন্ড প্রদান করেন এবং বরখাস্তকালীন সময় অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে বহাল রাখেন তাকে।
এদিকে, অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলীকে বহালের খবরে টাঙ্গাইল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইল পৌরভার প্রকৌশলী শিব্বর আহম্মেদ আজমী মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহতীত প্রমানিত হওয়ায় পৌর কর্মচারী আইন অনুযায়ী বিভাগীয় কর্মকর্তা বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে। তিনি রবিবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় যোগদান করবেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌসভার প্রসাশক মো. শিহাব রাহয়ান মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে পৌরসভার প্রকৌশলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। তবে অফিসিয়ালভাবে তিনি কোন চিঠি বা কাগজপত্র পাননি।