সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে দুই যুবকের বিরুদ্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী ভিক্ষুককে (২০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আশিক খান (২৪) নামের এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
শনিবার (২২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর পূর্ব কাজিরাপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ আশিককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত আশিক খান উপজেলার ঢংপাড়া মাঝিবাড়ি এলাকার কাশেম খানের ছেলে। অভিযুক্ত অপর যুবকের নাম মামুন (২৪)। সে উপজেলার কাঞ্চনপুরের দক্ষিণ বাইদপাড়া এলাকার শফিকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী ভিক্ষা করার জন্য উপজেলার কাঞ্চনপুরের পূর্ব কাজিরাপাড়া এলাকায় যায়। ওই নারী ঝিনাই নদীর পাড়ে পৌঁছলে আশিক ও মামুন নামে দুই যুবক মিলে জোরপূর্বক তাকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ওই নারীকে ফেলে তারা দুজনে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে একপর্যায়ে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আশিককে স্থানীয়রা ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সামির মিয়া ও যুগ্ম সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান বাসাইল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলে, ওই যুবককে থানায় আনা হয়েছে। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাকাতেরা গুলি করে গরু ব্যবসায়ীদের ৭৮ লাখ টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার(২২ মার্চ) সন্ধায় গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা হলেন, রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে পিয়ারোল, একই এলাকার লিটন মিয়া, মনিরুল ও জেবেল মিয়া।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলে গরুর অন্যতম বৃহৎ হাট হচ্ছে মির্জাপুরের কাইতলা। শনিবার ছিল সাপ্তাহিক হাটবার। ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা বেচাবিক্রি শেষে সন্ধায় প্রাইভেট কারে হাট থেকে ফিরছিলেন। পথে নয়াপাড়া এলাকায় ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাসে এসে ডাকাতেরা ব্যবসায়ীদের প্রাইভেট কারের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে ডাকাতেরা প্রাইভেট কারের গ্লাস ভেঙে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের সঙ্গে থাকা ৭৮ লাখ টাকাভর্তি দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এর পর খাটিয়ারহাট সড়ক দিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান মাহাবুব সিদ্দিকী ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন পুলিশের একাধিক টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা এ ব্যাপারে গরু ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
গরু ব্যবসায়ী পিয়ারোল বলেন, ‘ডাকাতেরা গুলি ছুড়লে আমরা ভয় পেয়ে যাই। পরে অস্ত্র ঠেকিয়ে আমাদের ৭৮ লাখ টাকাভর্তি দুটি ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন।’
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )মো. মোশারফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের একটি নাশকতা মামলায় টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও ভূঞাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ মার্চ) বিকালে উপজেলার শিয়ালকোল হাট থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে একটি নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, টাঙ্গাইলের একটি নাশকতা মামলায় খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গাতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শুরুতেই একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে তারা এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এলেঙ্গা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মেহেদি হাসান, শাহরিয়ার খান আকাশ, শান্ত ও সিয়াম প্রমুখ। এসময় কয়েক শতাধিক ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মুরতুজ গংরা ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাস থেকে সমিতির নামে চাঁদাবাজির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরী করছেন। ছাত্রদের রক্তের দাগ এখনো না শুকালেও তারা চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যস্ত আছে। আমরা হুশিয়ার করে বলেতে চাই কোন অপশক্তিই এখন থেকে আর এই এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতে পারবে না। যারা চাঁদাবাজি করবে তাদের এলেঙ্গার মাটিতে জায়গা হবে না।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে এক যুবদল নেতার মিথ্যা মামলা ও ক্রমাগত হুমকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এক প্রবাসী ও তার পরিবার। প্রতিকারে মামলা দায়ের করেও সুফল না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওই যুবদল নেতার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন সৌদী প্রবাসী মো. আশিকুর রহমান তালুকদার।
আশিকুর রহমান কালিহাতী উপজেলার বাসজানা মালতি গ্রামের শাহজাহান তালুকদারের ছেলে।
বুধবার (১৯ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মো. আশিকুর রহমান তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরবের একটি ভিসা ব্যবসার কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। ২০২২ সালে তিনি কোম্পানির ভিসা ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং সুনামের সঙ্গে ভিসা ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার গ্রামের আমিনুর ইসলাম রুবেল বাংলাদেশে ভিসা ব্যবসা করার আগ্রহ প্রকাশ করে সহযোগিতা চান। ওই সময় কালিহাতী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও এলেঙ্গা পৌরসভার চিনামুড়া গ্রামের হাসমত আলী রেজা তার পার্টনার বলে জানান। অত:পর যুবদল নেতা হাসমত আলী রেজা তার সাথে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকেন। যোগাযোগের এক পর্যায়ে হাসমত আলী রেজা ১৩টি রিক্রুটিং লাইসেন্সের নাম্বর দিয়ে ভিসা পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরে তিনি ওই ১৩টি লাইসেন্সের মাধ্যমে ৩ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১১৯টি ভিসা পাঠান। ভিসার বিপরীতে মোট টাকার মধ্যে ৫৮ লাখ টাকা হাসমত আলী রেজা তাকে পাঠান। বাকি টাকা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। কোম্পানির মালিক বাকি টাকার জন্য চাপ দিলে তিনিও যুবদল নেতা হাসমত আলী রেজা ও আমিনুর ইসলাম রুবেলকে চাপ দেন। কিন্তু তারা পাওনা টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করতে থাকেন।
তিনি বলেন, কোম্পানির পাওনা টাকার চাপে তিনি বাংলাদেশে গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে মালিকের টাকা পরিশোধ করে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে আমিনুর ইসলাম রুবেল ও হাসমত আলী রেজার কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে ঢাকার অফিসে যেতে বলেন। তাদের কথা মতো ঢাকার অফিসে গেলে তারা কোন টাকা দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এক পর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে টাকা দাবি করলে তাদের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে নাজেহাল করে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এর কিছুদিন পর যুবদল নেতা হাসমত আলী রেজা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতী আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন পান। পরে পাওনা টাকার দাবিতে তিনিও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হলে হাসমত আলী ও রুবেল স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে আদালত থেকে জামিন পান। এরপরও বাকি টাকা পরিশোধ না করে বা আপোষ-মীমাংসায় না বসে তাদের পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় আটক করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসবের পরেও মামলা তুলে না নেওয়ায় হাসমত আলী রেজা আবার তার নামে সাজানো অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, ন্যায্য পাওনা টাকা দাবি করায় এহেন হয়রানি ও অত্যাচার-নির্যাতন এবং ক্রমাগত হুমকিতে পরিবার নিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর পরিবারসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ র্যাব পরিচয়ে চাঁদা নিতে আসা অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খান (৪৫) ওরফে সোহেল রানার নামে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় মামলা হয়েছে। মো. আমিনুর সিকদার নামের এক ব্যক্তি মির্জাপুর থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামি হলেন, উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন।
এর আগে রবিবার (১৬ মার্চ) রাতে উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খানকে মির্জাপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃত হানিফ খান টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা উত্তরপাড়া গ্রামের বক্তার খানের ছেলে। সোমবার (১৭ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খান রবিবার বিকেলে একটি গুম ও হত্যা মামলার তদন্তের নাম করে উপজেলার তরফপুর চকবাজার এলাকায় যান। একপর্যায়ে তিনি কৌশলে মামলার আসামির কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তিনি ২ লাখ টাকায় হত্যা মামলা নিষ্পত্তি করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করেন। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লোকজনের উপস্থিতি বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে তার আরো অপকর্ম প্রকাশ পেতে থাকে।
সে ইতিপূর্বে নিজেকে র্যাব সদস্য, পিবিআই, সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় চাঁদাবাজি করেছে। পুলিশের চাকরি দেওয়া, মামলার তদন্ত রিপোর্ট পক্ষে-বিপক্ষে দেওয়া, পাওনা টাকা তুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজের কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকার লোকজন পুলিশকে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
এ বিষয়ে তরফপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ আনোয়ার বলেন, কয়েকদিন পূর্বে প্রতারক অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খান র্যাব পরিচয় দিয়ে মোবাইলফোনে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে টাকা দাবি করেন। রবিবার টাকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে এলাকায় আনা হয়। পরে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামি বিল্লাল হোসেন বলেন, ৫ থেকে ৬ বছর আগে পরকীয়া করে টাকিয়া কদমা উত্তরপাড়া গ্রামের ইনছ আলীর স্ত্রী রওশন আরা বেগম গর্ভবতী হন। তারপর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। রওশন আরা আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে খুন করা হয়েছে এ বিষয়টি তখন আলোচনায় ছিল। এছাড়া উত্তরকদমা তেতুলা বিলে দুলালের স্ত্রীর বস্তাবন্দি কঙ্কাল পাওয়া যায়। ঘটনা দুটি অমীমাংসিত থাকায় হানিফ খান র্যাব সদস্য পরিচয় দেওয়ায় তাকে ঘটনা দুটি তদন্তের জন্য ইনফরমেশন দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, জনতার হাতে আটক র্যাবের সদস্য পরিচয় দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য হানিফ খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনকে সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে চার মামলায় মোট ১৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালত একটি হত্যাসহ তিনটি মামলায় ১৪ দিন এবং মির্জাপুর আমলী আদালত একটি হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেনকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানার পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ভাটারা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। রিমান্ড শেষে কেরানিগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন তিনি।
সোমবার দুপুরে তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল সদর থানায় স্কুল ছাত্র মারুফ হত্যা মামলা এবং আরও দুইটি ভাঙচুর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ সময় মামলাগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক গোলাম মাহবুব খাঁন মারুফ হত্যা মামলায় ও দ্রুতবিচার আইনে দায়েরকৃত মামলায় ৫ দিন করে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর হামলা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে তাকে মির্জাপুর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত কলেজ ছাত্র মারুফ হত্যা মামলায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোছা: রুমি খাতুন ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো: লুৎফর রহমান ১৯ দিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মদ জানান, সোমবার থেকেই ছানোয়ার হোসেনকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন।
উল্লেখ্য, ছানোয়ার হোসেন ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বেসরকারী সংস্থা সোনিয়া ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া লোক পাঠানোর নাম করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ এর অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দুই ঘন্টা ব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি এমএম আলী কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট আজীম উদ্দিন বিপ্লব, ভাসানী পরিষদের খোদা-ই-খেদমতগারের হাসরত খান ভাসানী, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রকি হায়দার, জোবায়ের হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বেসরকারি সংস্থা সোনিয়া ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া আক্তার আস্ট্রেলিয়ায় ভালো বেতনে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত অস্ট্রেলিয়া নিতে না পারায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সম্প্রতি সোনিয়া টাঙ্গাইল পৌরসভার সন্তোষ এলাকার সাজু মিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়েছেন। অবিলম্বে সাজুর মুক্তির দাবি জানান তারা। বক্তারা অনতিবিলম্বে সোানিয়াকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান মানববন্ধন থেকে।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে শহরের নিরালা মোড় হয়ে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে নেশার টাকা না দেওয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ছেলে রাজিবকে শুক্রবার রাতেই একই ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ পুলিশ।
নিহতের নাম রেজিয়া খাতুন (৫০)। সে ওই এলাকার খায়রুল পাগলের স্ত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত রাজিবের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শালিকা পাগুর মোড়ের পূর্ব পাশে খাইরুল পাগলের ছেলে রাজিব ইফতারের পর তার মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় মাকে কুপিয়ে হত্যার পর বাড়ির পাশে আনারস বাগানে নিয়ে পুতে রাখার সময় তার স্ত্রী বাধা দেয়। এসময় রাজিব তার বউকে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাকে বাধা দিতে গেলে আরো দুইজন আহত হয়। এরপর স্থানীয়রা রাজিবের স্ত্রীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমরানুল কবীর জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ। লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখল করে ‘পাগলের আশ্রম’ চালু করার ঘটনায় ছাত্র প্রতিনিধি মারইয়াম মুকাদ্দাসকে (মিষ্টি) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
রোববার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে আকুরটাকুর পাড়া হাউজিং এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) রাতে সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি হিসেবে মারইয়াম মুকাদ্দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে নয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মারিয়ামের স্বামীর নাম শাহ্ আলমাস, বাবার নাম মাজাহারুল ইসলাম। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের যশিহাটী গ্রামে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়া ছোট কালীবাড়ি সড়কে জোয়াহেরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের কেঁচিগেটের ছয়টি তালা ভেঙে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি অজ্ঞতনামা আরও আট থেকে নয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ভবনে ঢোকেন। তাঁরা ৫ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যান। এ ছাড়া আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁরা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিন্নমূল মানুষকে ভবনের কক্ষে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাদী (রওশন আরা খান) বাসায় গিয়ে মারইয়াম মুকাদ্দাসকে ঘটনার বিষয় জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় মারিয়াম ক্ষিপ্ত হয়ে রওশন আরাকে বলেন, এ বাড়িতে বসবাস করতে হলে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় আগামী সাত দিনের মধ্যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মারিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে সোমবার (১০ মার্চ) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মারইয়াম মুকাদ্দাসের নেতৃত্বে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াত সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ও সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি দখল করে বৃদ্ধাশ্রম, পাগলদের আশ্রম, পশু আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
শনিবার (৮ মার্চ) জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখল করে ছিন্নমূল মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের ওঠানো হয়। পরে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন শরিফের নেতৃত্বে ১৭ জন ছিন্নমূল মানুষকে উদ্ধার করে দখল হওয়া বাড়িটি খালি করা হয়। শনিবার রাত দুইটার দিকে মুচলেকা নিয়ে মারিয়ামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে ময়মনসিংহের ধলা ও গাজীপুরের কাশিমপুর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরে ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের করায় প্রকাশ্যে হামলা ও ক্রমাগত হুমকীতে বাদি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ কারণে অবিলম্বে ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাদী বিএনপি নেত্রী জাহানারা আক্তার।
টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি জাহানারা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তার নাগরপুর উপজেলা সদরের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা তাকে ও তার ছোট ছেলে জাহিদ হাসানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারপিট ও নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে নাগরপুর থানায় মামলা (নং-২, তাং-১/০৩/২০২৫) দায়ের করেন। এদিন তিনি ও তার বড় ছেলে সিরাজ আল মাসুদ ছোট ছেলে জাহিদ হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে বাড়ি থেকে বের হলেই ৫ থেকে ৬ জনের একদল লোক দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। এ সময় তার বড় ছেলে সিরাজ আল মাসুদ হামলা প্রতিহত করতে গেলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রনক (১৯) নামে একজনকে আটকে ফেলেন। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নাগরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা আক্তার বলেন, রনককে পুলিশে সোপর্দ করার পর থেকে ডাকাতরা নানা পরিচয়ে নানাভাবে (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল) হুমকী-ধমকি দিতে থাকে। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বাবনাপাড়া গ্রামের কিরন মিয়ার ছেলে ফাহাতকে (২০) গ্রেপ্তার করে। এতে ডাকাতরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকী-ধমকি দিয়ে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হলেও তারা কার্যত বাস্তব কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি এসএম মহিউদ্দিন মাহমুদ ওরফে মোহন (তিনটি মামলার আসামি) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি নিজে এবং অন্যদের সহযোগিতায় গুলি করে মেরে লাশ গুম করাসহ নানা হুমকী-ধমকি দিচ্ছেন। তাদের ক্রমাগত হুমকীতে ভীত হয়ে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে পুলিশের অধিক কর্মতৎপরতার পাশাপাশি প্রধান আসামিসহ অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, দেলদুয়ার উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রেবেকা পারভিনসহ পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাহাবউদ্দিন মানিক, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলাসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ ছাত্র প্রতিনিধি ও সমন্বয়ক পরিচয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন দখল করে ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে আবাসনের চেষ্টা করেছেন মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি। এ ঘটনায় শনিবার (৮ মার্চ) রাতে মুচলেকার মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে ছাড়া পান তিনি।
রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন শরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) রাতে বাড়ি দখলের খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন শরিফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাসাটি দখলমুক্ত করতে সক্ষম হন।
মুচলেকায় মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি বলেন, আমি আইনি অধিকার ব্যতিরেকে অন্যের ব্যক্তিগত বাড়িতে মানসিক ভারসাম্যহীন ১৭ জন নারী-পুরুষকে আবাসনের চেষ্টা করে অপরাধ করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার পোস্টের কারণে ক্ষেত্র বিশেষে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে তার দায় আমার ওপর বর্তায়। আমি আমার নেতিবাচক ও বে-আইনি কৃতকর্মের জন্য মানবিক বিবেচনায় ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয় এমন ফেসবুক পোস্ট করা এবং ব্যক্তিগত বা সরকারি সম্পদ দখল বা ভাঙচুর করাসহ অন্য কোনো প্রকার অপরাধে লিপ্ত হব না। আমি প্রদত্ত মুচলেকা ভঙ্গ করলে প্রচলিত আইনে আমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে তার বিপরীতে আমার কোনো আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন শরিফ বলেন, মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি নামে এক নারী সাবেক সংসদ সদস্যের বাসাটি অবৈধভাবে দখল করে মানসিক ভারসাম্যহীন ১৭ জন নারী-পুরুষকে আবাসনের চেষ্টা করে। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। বাড়িটি কয়েক ঘন্টার মধ্যে অবৈধ দখলমুক্ত করা হয় এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে সরকারের ব্যবস্থাপনায় স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত নারী এ ধরণের কর্মকাণ্ড করে অপরাধ করেছেন মর্মে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ করবেন না মর্মে প্রত্যয়ন দেন। মুচলেকায় তার স্বামীসহ মোট ৫ জন সাক্ষী স্বাক্ষর করেন। বিশ্ব নারী দিবস ও আত্মশুদ্ধির মাস রমজান বিবেচনায় ভুল শুধরে নেওয়ার একটি সুযোগ দিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরূপ পোস্ট করলে এবং সরকারি বা বেসরকারি সম্পদ ভাঙচুর বা দখলসহ অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হলে আইনগভাবে অধিকতর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে, জেলার বেশ কয়েকজন ছাত্র প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটনার বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তারা মিষ্টির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিবৃতি প্রদান করে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।
এদিকে, ঘটনাস্থল শহরের ছোট কালিবাড়ীর এলাকাবাসী জবরদখলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের কর্মকাণ্ড ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।