একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি কুকুরের কামড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৭ ব্যক্তি। তবে এলাকাবাসীর তথ্যমতে, কামড় খাওয়া লোকের সংখ্যা ৬০-এর ওপর। ৩৭ জনের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যামকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে কুকুরটির তাণ্ডব। ঘটনাটি ঘটেছে ঘাটাইল পৌর এলাকার কয়েকটি গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৫ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পৌর এলাকার ফতেহপাড়া ও রতনপুর এলাকায় ৮ থেকে ১০ জন লোককে কামড় দেয় কুকুরটি। পরে লোকজন লাঠি নিয়ে ধাওয়া করলে কুকুরটি ঘাটাইল উত্তরপাড়া এলাকায় চলে আসে। সেখানেও কয়েজনকে কামড় দেয়।
উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু মিয়া জানান, শুরুতে তার বাবা জুলহাস উদ্দিনকে কামড় দেয় কুকুরটি। এর পর আরও অনেককে কামড় দিয়ে চলে যায় ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড হয়ে কলেজ মোড়ের দিকে। তার দাবি, এর পরই তার পক্ষ থেকে পাগল কুকুরের বিষয়ে মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হয়।
ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলী জানান, সেখানেও প্রায় ১০ জনকে কামড় দেয়। কুকুরটি এর পর চলে আসে কলেজ মোড়ে। এখানকার কয়েকজন জানান, স্থানীয়সহ ঢাকাফেরত কয়েকজনকে কামড়িয়েছে কুকুরটি। পরে সেখান থেকে পৌরসভার চান্দুশী গ্রামের দিকে চলে যায়।
চান্দুশী গ্রামের মো. কায়সার জানান, শুরুতে ঘাটাইল সরকারি জিবিজি কলেজ গেট-সংলগ্ন ঢাকা কম্পিউটারের মালিক লিটনকে কামড় দেয়। এর পর আরও অনেককে কুকুরটি কামড় দিয়েছে বলে শুনেছেন।
এ ধরনের আরও একটি কুকুরের আবির্ভাব হয়েছে বলে শুক্রবার(৬ জানুয়ারি) সকাল সকলে জানিয়েছেন পৌরসভার ঝরকা এলাকার লোকজন। ওই কুকুরটিও নাকি অনেককে কামড় দিয়ে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড দিকে চলে এসেছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ মিয়া।
ঘাটাইল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজওয়ানা হায়দার জানান, বৃহস্পতিবার (৫ডিসেম্বর) রাত থেকে শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩৭ জন কুকুরে কামড় দেওয়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান ক্ষতস্থান দেখে ইনজেকশন ও খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালেও হাসপাতালে এ ধরনের তিনজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ মিয়া জানান, সরকারিভাবে কুকুর নিধন নিষিদ্ধ। কুকুর যেহেতু পাগল হয়েছে, তাই সেই কুকুর নিধনের জন্য মাঠে পৌরসভার লোক কাজ করছে। পাশাপাশি মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি যদি দলীয় ভাবে নির্বাচনে না আসে, এমন হতে পারে দলের একটা অংশ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে ।একই সাথে অন্যন্য অনেক দল অংশ গ্রহণ করবে। দেশের নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সংবিধান অনুযায়ী সময় মতো অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসলো না আসলো তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপ্র্যাণ চেষ্টা করবো বিএনপি যাতে নির্বাচনে আসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা অপেক্ষা করেন এর জবাব বিএনপির কাছে থেকেই পাবেন।
শনিবার (৭ জানুয়ারি ) সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছিল, সেই নির্বাচনকেও বিএনপি সহজভাবে নেই নাই। বিএনপি কোনো দিনও বলে নাই নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। গত ১৪ বছর যাবত একই রের্কড বিএনপি বার বার বাজাচ্ছে। যে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে না। পৃথিবীর কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। একমাত্র আমাদের দেখে শুরু করেছিল পাকিস্তান, যারা আজকে দাবি করছে বিএনপি জামাত তাদের পাকিস্তানিরাই প্রভু। সেই ধারায় বিএনপি জামাত চলতে চায়। বিএনপি জামাত একি কথা বার বার বলছে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলহাজ মো. নুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) শরফুদ্দীন আহমেদ,উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মো. ছারোয়ার আলম খান আবু,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমীন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি,মধুপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. সিদ্দিক হোসেন খানসহ প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বাসাইল থানার একটি মামলায় ৩৩ বছর পলাতক থাকার পর শুক্রবার(৬ জানুয়ারি) পূর্বরাতে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকা থেকে তাকে র্যাবের একটি চৌকশ দল গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলা বাসাইল উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের মুকছেদ আলীর ছেলে।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-১৪ এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৯৮৪ সালে বাসাইল থানার একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায়(নং-৪, তাং-২৯/০৯/১৯৮৪ইং, ধারা-দ.বি. ৩৯৫/৩৯৭) ১৯৮৯ সালে আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলা ফেরারী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা নামে বসবাস করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে এনআইডি পরিবর্তন করে মিথ্যা নাম-পরিচয়ে ৩২৯৮৭০০১৪১ নং জাতীয় পরিচয়পত্র(গ্রাম-দেলুটিয়া, ডাকঘর-ভাবনদত্ত-১৯৭০, থানা-ঘাটাইল, জেলা-টাঙ্গাইল) বহন করা শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন মাজারে নিজেকে ‘আগুন পাগলা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভক্তিমূলক গানে নিয়মিত অংশ গ্রহন করতেন।
র্যাব-১৪ জানায়, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়েরের নেতৃত্বে র্যাবের একটি চৌকশ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জপুল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল ইসলাম পাকুল ওরফে আগুন পাগলা স্বীয় অপরাধ স্বীকার করেছে। পরে তাকে বাসাইল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সেনাবাহিনীর শীতকালীন অনুশীলনের চূড়ান্ত মহড়া পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। পরে শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র, ত্রাণ ও ওষুধ বিতরণ করেন তিনি।
চূড়ান্ত মহড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ সেনবাহিনীর তিন সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত শীতকালীন প্রশিক্ষণ ২০২২-২০২৩ অনুশীলন।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন সফলভাবে এই অনুশীলন পরিচালনা করে। এই অনুশীলনে সাঁজোয়া বহর, এপিসি এর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ছত্রীসেনা অংশগ্রহণ করে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ সাইফুল আলম, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরীসহ সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারবৃন্দ, অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে শীতকালীন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ফরমেশনসমূহ স্ব-স্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অসহায় ও দুস্থ শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র ও ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেনবাহিনী প্রধান।
এ সময় সেনবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাস্তবসম্মত ও যুগোপযুগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি বিশ্বমানের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে কঠিন প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
এসময় তিনি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অবদান স্মরণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তেলবাহী ট্রাক ও ভ্যানের সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের বাগবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার বিলচাপড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী শহিদুলের স্ত্রী পারুল বেগম (৩৫) ও তাদের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ছোঁয়া মনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহত পারুল বেগম তার কন্যাশিশুকে নিয়ে ভ্যানগাড়ি যোগে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গ্রামের বাড়ি বিলচাপড়া যাচ্ছিলেন। এসময় তাদের বহনকারী ভ্যানগাড়িটি ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের বাগবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় ।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ট্রাক চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘি ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মালেক হত্যা মামলার আসামি হেকমত সিকদারের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মালেকের স্ত্রী মর্জিনা বেগম, বোন রোমেছা খাতুন, মামা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ, এলাকাবাসী রফিকুল ইসলাম, মো. শামসুদ্দিন প্রমুখ।
এই মানববন্ধনে প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে প্রায় তিন শতাধিক এলাকাবাসী অংশ গ্রহণ করে।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ ঘাটাইলের সাগরদিঘি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাত ৩টায় গুলিতে আব্দুল মালেক (৪৫) নামে এক স্থানীয় যুবদল নেতা নিহত হন। পরদিন ২৯ মার্চ গুপ্তবৃন্দাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
স্থানীয়রা জানায়, সাগরদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হেকমত সিকদারের লোকজন ব্যালট পেপারে সিল মারছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুল্লাহ বাহারের সমর্থকসহ এলাকাবাসী সেখানে হামলা চালায়। এ সময় স্কুলঘরের ভেতর থেকে হামলাকারীদের প্রতি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আব্দুল মালেক নিহত হন।
তিনি গুপ্তবৃন্দাবন গ্রামের বাসিন্দা নেছার উদ্দিনের ছেলে। পরে ২ এপ্রিল আব্দুল মালেকের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি একাধিক তদন্তকারী সংস্থা তদন্তের পর সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান আকন্দ জানান, তারা সরেজমিনে ঘটনার পূর্বাপর তদন্ত শেষে রোববার (১ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হেকমত সিকদারকে গ্রেপ্তারের পর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সোমবার তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছানোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ডে পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় তিনি নিহত হন।
নিহত ছানোয়ারের বাড়ি জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার জানোকিপুর গ্রামে।সে ওই গ্রামের
শহিদুর হোসেনের ছেলে।
তিনি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রাফিক হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাঙ্গাইল-ময়মেনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। সে ট্রাকটি মোটরসাইকেল আরোহী ছানোয়ার ওভারটেকিং করতে যান। এরই মধ্যে দ্রুতগতির অপর একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে চালক গুরুতর আহন হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন জানান, ঢাকা বিমানবন্দরে ট্রাফিক হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ছানোয়ার হোসেন (৩৫)। সেখান থেকে মোটরসাইকেল যোগে সকালে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। পথিমধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
তিনি আরো জানান,নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তার করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুড়িয়ে পাওয়া একলাখ টাকা ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাদরাসার শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ।
ওই শিক্ষার্থী উপজেলার কালিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার ৫ম শ্রেণিতে পড়েন। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন ওই মাদ্রাসার ছাত্রী।
জানা যায়, (৪ জানুয়ারি) বুধবার সকালে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া মারিয়া ও সহপাঠী রাবিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে এক লাখ টাকা কুড়িয়ে পান।এদিক-ওদিক কাউকে না পেয়ে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য সবার কাছে বলাবলি করতে থাকে। ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া টাকা খোঁজার জন্য প্রকৃত মালিক প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম ছুটাছুটি করে জানতে পারেন মাদরাসা ছাত্রী টাকা পেয়েছেন । শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফিরত দেন ওই মাদ্রাসার ছাত্রী।
টাকার মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি সকাল বেলা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় কখন যে পড়ে যায় বুঝতে পারিনি। পাগলের মত খোঁজ করছিলাম পরে জানতে পারি মাদ্রাসায় পড়ুয়া টাকা পেয়েছেন। ওদের সততা দেখে অবাক হয়ে গেছি,তারা চাইলে কাউকে না বলে নিজেদের কাজে খরচ করতে পারত। আমি ওদের সামান্য কিছু টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করেছি।
ওই মাদ্রাসার ছাত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা প্রবাসে থাকেন সৎ পথে টাকা উপার্জন করা কতটা পরিশ্রমের এবং কষ্টের আমার পরিবার সেটা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে। পরিবারের আদর্শ, শিক্ষকদের উপদেশ অন্যের টাকায় লোভ করতে নেই। তাই কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়েছি।
এবিষয়ে কালিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের গুলজারী বলেন,ওই ছাত্রীর এমন কার্য অবশ্যই তার পরিবার ও মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট সকলেই উচ্ছ্বসিত। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচা নিহতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার(৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান দক্ষিণপাড়া বাবুল বাজারের এক চায়ের দোকানের পাশে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত চাচা মো. শরিফ উদ্দিন (৩৫) ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
এই ঘটনায় ভাতিজা মো. ইদ্রিস আলীকে (৫০) উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান দক্ষিণপাড়া নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ভাতিজা ইদ্রিস আলী একই গ্রামের মৃত করিম উদ্দিনের ছেলে । সে বানিয়াজান ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সভাপতি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানদার হায়দার আলীসহ স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দোকানের পাশে প্রস্রাব করতে বসে শরিফ। হঠাৎ করে ইদ্রিস ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়ারা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা হাজেরা বেগম জানান, ‘রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপালের নেয়ার পথে মধুপুরে মারা যায় শরিফ। পূর্ব শত্রুতার জেরে ইদ্রিস শরিফকে খুন করেছে। আমরা এর বিচার চাই। শরীফ ও ইদ্রিস সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী আফরোজা বেগম জানান ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে আমার অবুঝ মেয়াটার এখন কি হবে। সে আর বাবা বলে ডাকতে পারবে না বলে কাঁদতে কাঁদতে মুর্ছা যান তিনি।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জবান , ‘এই ঘাতকের কঠোর বিচার হওয়া দরকার।’
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইদ্রিস আলীর স্ত্রী খালেদা বেগম জানান ‘রাতে পুলিশ এসে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম জানান, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৪ জানুয়ারি সকালে)আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,নিহতের বড় ভাই বাবুল হোসেন বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে প্রতিবেশি পাঁচ বছরের এক শিশুকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক সন্তানের জনক মো. সুজন মিয়াকে (৩২) গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) আদালতে পাঠিয়েছে ধনবাড়ী থানা পুলিশ।
এর আগে সোমবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের এক গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. সুজন মিয়া পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার দিকপাইত সদরের মাতারপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। সে ধনবাড়ীতে বিয়ে করে ঘর জামাই হিসাবে থেকে আসছিল।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, সোমবার দুপুরে শিশুটি তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর সাথে বাড়ির পাশে খেলা করছিল। সঙ্গীরা চলে গেলে প্রতিবেশি সুজন মিয়া শিশুটিকে ডেকে নিয়ে নিজ ঘরে নির্যাতন চালায়। শিশুটির ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সুজন মিয়াকে আটক করে। পরে এলাকাবাসী তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। রাতেই সুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ধনবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস আলী জানান, শিশুটির বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুজন মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মাত্র ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ডিমসহ মোরগ পোলাও। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বাজারে এমন উদ্যোগ অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই সত্য। প্রায় তিন মাস ধরে ভ্রাম্যমাণ হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে টাঙ্গাইল পাসপোর্ট ও নির্বাচন অফিস চত্বরে।
‘রাযীয বিরিয়ানি’ নামে ভ্রাম্যমাণ ওই হোটেলটি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় তিন যুবক। কমমূল্যে সুস্বাদু মোরগ পোলাও বিক্রির এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রেতাসহ স্থানীয়রা।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মাহুতি আর ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ এর মূল্য ৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। ৭১ টাকায় ডিমসহ মোরগ পোলাও বিক্রির ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে ৭০ টাকা রেখে বাকি ১ টাকা জমা করে হতদরিদ্রদের মাঝে খাবার সরবরাহ করছেন উদ্যোক্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পাসপোর্ট ও নির্বাচন অফিস চত্বরে খোলা জায়গায় বসেছে ভ্রাম্যমাণ রাযীয বিরিয়ানি নামের হোটেলটি। ১০-১২টি প্লাস্টিকের টুল রাখা হয়েছে ক্রেতাদের জন্য। এর কয়েকটিতে বসে ক্রেতারা খাচ্ছেন। খাওয়া শেষে প্লাস্টিক জারে পানির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো বাবুর্চি বা শ্রমিক নেই হোটেলটিতে।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, হাজী বিরিয়ানি হাউজে ডিমসহ মোরগ পোলাও হাফ প্লেট ১৫০ আর ফুল প্লেট ৩০০ টাকা, নান্না বিরিয়ানিতে শাহী মোরগ পোলাও হাফ প্লেট ১৫০ আর ফুল প্লেট ২৮০ টাকা, নবাব বিরিয়ানি হাউজে মোরগ পোলাও হাফ প্লেট ১৪০ টাকা আর স্পেশাল শাহী বিরিয়ানি হাউজে মোরগ পোলাও বিক্রি হচ্ছে হাফ প্লেট ১৪০ আর ফুল প্লেট ২৮০ টাকায়।
এদিকে রাযীয বিরিয়ানির উদ্যোক্তা কালিহাতীর এলেঙ্গা শামসুল হক মহাবিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ জানান, টাঙ্গাইল পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডের হাউজিং এলাকার বাসিন্দা বড় ভাই রাজীব হোসেন, সাদিক আর আমি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছি। তবে কারও চাকরি ভালো লাগেনি। এ কারণে আমরা বাড়িতে ফিরে আসি। আমাদের উপার্জনসহ সমাজের জন্য কিছু করার কথা মাথায় আসে। ভাবনা থেকেই হোটেল করা আর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মাহুতি ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ আমাদের ভ্রাম্যমাণ হোটেলে মোরগ পোলাওয়ের দাম নির্ধারণ হয়েছে ৭১ টাকা। এর মধ্যে ১ টাকা অবহেলিত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই খেতে না পারা ওই ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি জমা হওয়া ১ টাকা থেকে খাবার।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ব্যতীত পাঁচদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই হোটেল। হোটেলে গড়ে প্রতিদিন তাদের ১০-১২ কেজি চালের মোরগ পোলাও বিক্রি হচ্ছে। এই পরিমাণ চালে ১০০-১২০ প্লেট মোরগ পোলাও হয়।
স্পেশাল শাহী দম বিরিয়ানি নামের মোরগ পোলাও তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে চিনিগুড়া চাল, ব্রয়লার মুরগি ও সরিষার তেল। এক প্লেট মোরগ পোলাওয়ে দেওয়া হচ্ছে পোলাওসহ এক টুকরো মুরগির মাংস, হাফ ডিম, লেবু আর শসা। নিজেরাই রান্না করাসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করায় এত কম টাকায় বিক্রির পরও তাদের লাভ হচ্ছে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ বলেও জানান এ উদ্যোক্তা।
টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসের গ্রাহক ও হোটেলের ক্রেতা গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল গ্রামের সুমী বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ৭১ টাকায় বিরিয়ানি মানে অনেক কিছু। এই বিরিয়ানি যদি আমরা হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খেতে যাই তাহলে সর্বনিম্ন বিল হবে ১৪০-১৮০ টাকা। পরিবেশসহ খাবারের মানও ভালো। সরিষার তেল দিয়ে খাবারটি রান্না করায় এটি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত।
পাসপোর্ট অফিসে আসা আরেক গ্রাহক ও হোটেলের ক্রেতা এম রতন মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল ফুডিস নামের একটি গ্রুপে এই হোটেলটির খোঁজ পাই। বেশ কয়েকবার এই হোটেলের মোরগ পোলাও খেয়েছি। খুবই মানসম্মত। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) পাসপোর্ট অফিসে কয়েকজন বন্ধু মিলে এসেছি। এই সুযোগে পাঁচ প্যাকেট নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অনেকেই ভাবতে পারেন এই মোরগ পোলাওয়ের দাম কম তাই মান ভালো হবে না। তাদের বলছি, এমনটা নয়। এই হোটেলের মোরগ পোলাও খুবই মানসম্মত ও সুস্বাদু। রিকশা, ভ্যানচালকসহ সব শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়েছে এই মোরগ পোলাওয়ের দাম।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ এই হোটেলের মালিক রাজীব হোসেন জানান, মানুষকে কম দামে ভালো খাবার দেওয়ার জন্য আমরা এটি প্রাথমিকভাবে শুরু করি। শুরুর পর থেকেই আমরা ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাই। এরই মধ্যে ক্রেতারা এর মান ভালো বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, প্রকৃত বাবুর্চি না হওয়ায় প্রথম দিকে রান্নায় কিছুটা সমস্যা হলেও আড়াই মাসের বেশি সময় হওয়ায় এখন আমরা মানসম্মত রান্না করতে পারছি। এ খাবার প্রতিদিন দুপুরে আমরাও খাই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কাজে যাওয়ার সময় ড্রাম ট্রাকের চাপায় মো. সোহাগ (২৫) নামে বাকপ্রতিবন্ধী এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) সকলে ঘাটাইল পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের ছোনোটিয়া গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, সোহাগসহ পাঁচজন ভ্যানে করে সকালে কাজে যাচ্ছিল। তারা শিশু পার্কের সামনে পৌঁছলে অপর দিক থেকে আসা ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত অপর চারজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজ জানান, মরদেহের সুরতহাল করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।