একতার কণ্ঠঃ ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার টাকা ও সাজা কমানোর আশ্বাসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২ এর গাড়ী চালক সাদ্দাম এর বিরুদ্ধে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মানিকের দোকান ও আবাসিক বসত বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণে বেসপ্লেটহীন মিটার ও মিটারের যন্ত্রাংশ পায় বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ (বিউবো)এর সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী দলের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ অপরাধে বিবাদীর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিসাধনের মামলা দায়েরসহ সমন জারি করা হয়।
মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাসে বিবাদীর কাছ থেকে অগ্রীম তিন লাখ টাকা ঘুষ নেন গাড়ী চালক সাদ্দাম বলে জানিয়েছেন বিবাদী মানিক মানিয়ার ওরফে হোসেন।
৩২(১)/৩৩/৩৮ ধারায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও আব্দুল আজিজের ছেলে মানিক ওরফে মানিয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের বিদ্যুৎ আইনের দায়েরকৃত মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিবাদীর দোকান ও আবাসিক বসত বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণে বেসপ্লেটহীন মিটার ও মিটারের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। এ সময় তার বিরুদ্ধে মিটার টেম্পারিং এর বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেম্পারিং ও পার্শ্ব সংযোগ ব্যবহার করে বিউবোর আনুমানিক ৪ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
ওইদিন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বিদ্যুৎ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রেজোয়ানা রশীদ সাক্ষরিত আসামীর প্রতি জারীকৃত সমনে আগামী ২০ মার্চ বিবাদী অথবা উকিলের মাধ্যমে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবাদী মানিক ওরফে মানিয়ার হোসেন বলেন, আমার বৈদ্যুতিক দোকান আর বাড়ির সংযোগ একটি। এছাড়াও স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় বৈদ্যুতিক সমস্যায় পরে আমার স্মরণাপন্ন হন। সমস্যাগুলোর বেশির ভাগই হয় মিটারে। তবে বিকল হওয়া মিটার মেরামত করা সম্ভব নয় বলে আমি নতুন মিটার লাগিয়ে সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করি। বিকল হওয়া তিন/চারটি মিটার আমার বাড়ি ও দোকানে পান পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ অপরাধে আদালতের বিচারক মামলা দায়ের করাসহ একটি সমন দেন। তার কাছে মিটার রাখা অপরাধ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমি ভীত থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযানে থাকা বিদ্যুৎ অফিসের গাড়ী চালক সাদ্দাম আমাকে দেড় বছরের জেল আর ১৭ লাখ টাকা জরিমানার ভয় দেখান। এ জরিমানা আর জেল থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন দিলেও এ সাজা মওকুফ হবে না বলে তার ব্যক্তিগত নম্বরটি আমাকে দিয়ে যান। ওই দিন বিকেলে গাড়ী চালক সাদ্দামের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোনে কথা না বলে দ্রুত সাক্ষাত করতে বলেন। আমি বেবীস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়ী চালক সাদ্দামের সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাকে মামলা থেকে মুক্ত করাসহ সাজা মওকুফ করার জন্য নয় লাখ টাকা দাবি করেন। আমি বাধ্য হয়ে ওই দিন বিকেলেই একাধিক স্বাক্ষী নিয়ে তিন লাখ টাকা গাড়ী চালক সাদ্দামকে দিই। এরপর আমি আদালত থেকে মামলার নকল তুলে দেখতে পাই সেখানে চার লাখ টাকা ক্ষতিসাধনের মামলা করা হয়েছে।
দায়েরকৃত মামলার জরিমানার বিষয়টি গাড়ী চালক সাদ্দাম ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্ জিহাদকে জানাই। এ সময় তারা বলেন. এত টাকা আমি পরিশোধ করতে পারবোনা বলে তারা অনুরোধ করে মামলার ক্ষতিসাধন চার লাখ টাকা হয়েছে সেটি নির্ধারণ করতে সহায়তা করেছেন।
টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গাড়ী চালক আসাদুজ্জামান সাদ্দাম। তিনি বলেন, আমি একজন গাড়ী চালক, আমার পক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা বা জরিমানা মিমাংসার ক্ষমতা আছে কি ? তাহলে কেন আমি টাকা নিব আর টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ আছে কিনা সে বিষয়টিও জানতে চান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই তার শ্বশুর আমিনুর সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে সংবাদ প্রচার নিয়ে সতর্ক করাসহ এক সংবাদকর্মীকে চাঁদাবাজ বলে উল্লেখ করেছেন।
টাঙ্গাইল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২ (বিউবো) এর সহকারি প্রকৌশলী মো. আব্দুল আল আজমাইন বলেন, আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকালে আলোকদিয়ার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মানিকের দোকান ও আবাসিক বসত বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণে বেসপ্লেটহীন মিটার ও মিটারের যন্ত্রাংশ পাই। একই সময় তার বিরুদ্ধে মিটার টেম্পারিং এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেম্পারিং ও পার্শ্ব সংযোগ ব্যবহার করে বিউবোর আনুমানিক ৪ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এ কারণে পরিচালিত অভিযানে আমি বাদী হয়ে মানিকের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে মামলা করি। এ ব্যাপারে ২০১৮ সালের বিদ্যুৎ আইন ৩২(১)৩৩/৩৮ ধারায় মামলা নং ১০৯/২৩ দায়ের করাসহ সমন জারি করেছেন আদালতের বিচারক।
তিনি আরও জানান, জরিমানার টাকা নগদ গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। নির্দেশনা অনুযায়ি ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানা টাকা আদায় করাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ পরিশোধের একটি প্রত্যায়ন দেয়ার বিধান রয়েছে। পরিচালিত ওই অভিযানে থাকা গাড়ী চালক সাদ্দাম বিবাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
টাঙ্গাইল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২ (বিউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহগির হোসেন জানান, হাতে টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি বিদ্যুৎ অফিসের গাড়ী চালক এ ধরণের প্রতারণা করে থাকেন, তাহলে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ওই চালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
টাকা পরিশোধের নিয়ম সম্পর্কে তিনি জানান, বিদ্যুৎ অফিস থেকে গ্রাহককে একটি বিল করে দেওয়া হবে। গ্রাহক সেই বিল অনুপাতে টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করবেন। গ্রাহক ব্যাংকের ওই পরিশোধের স্লিপ আদালতে জমা দিবেন। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহককে একটি প্রত্যায়ন দেবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মাদক সেবন করার সময় এক ছাত্রলীগ ও এক যুবলীগের নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন গোপালপুর সরকারি কলেজ শাখার আহ্বায়ক। এছাড়া গ্রেপ্তার খোকন যুবলীগ নেতা।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপালপুর পৌরসভার একটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ মল্লিক। পরে গোপালপুর থানা পুলিশ তাদের দুইজনকে ওইদিনই কারাগারে প্রেরণ করে।
জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন এর আগেও মাদক মামলায় চার মাস কারাবরণ শেষে ১৫ দিন আগে মুক্তি পান। এরপর আবারও মাদক সেবন করার সময় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করেন।
তিনি আরো জানান, পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও ছাত্রলীগ নেতা মাদকের কারণে হাজত বাস করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের অকুর টাকুর পাড়ায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত নাহিদ চৌধুরীকে উদ্ধার ও ৮ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার(২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অপহরণকারীদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান(২৮), গাজীপুর জেলার মৌচাক চা বাগান গ্রামের(বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের পারদিঘুলিয়ায় বসবাসরত) মো. শহীনের ছেলে রাকিব(১৯), টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ কলেজপাড়ার রমজান মন্ডলের ছেলে মহম্মদ মন্ডল(৪০), সঞ্জু মন্ডলের ছেলে নাউম মন্ডল(২০), আনোয়ার হোসেনের ছেলে রনি(১৯), আরজু মিয়ার ছেলে আলম মিয়া(১৯), জমের মোল্লার ছেলে কাশেম মোল্লা(১৯) ও পারদিঘুলিয়ার মৃত মজিবর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া(৪০)।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের আ. কাইয়ুম রুবেল চৌধুরীর ছেলে মো. নাহিদ চৌধুরীকে(২৫) একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান ১২-১৩ জন মিলে কুমিল্লা জেলা সদরের কোতওয়ারী থানা এলাকা থেকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে তাকে টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর মুসলিমপাড়া একটি বাসায় আটকে রেখে তার মা মোছা. নাছিমা আক্তার শিমার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।
এক পর্যায়ে নাহিদ চৌধুরীর মা মোছা. নাছিমা আক্তার শিমা বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা অপহরণকারীদের কাছে পাঠায়। এতে অপহরণকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদ চৌধুরীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে মোছা. নাছিমা আক্তার শিমা কুমিল্লা কোতওয়ালী থানায় বিষয়টি অবগত করলে তারা টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
টাঙ্গাইল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে শহরের আকুর টাকুর মুসলিমপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে অপহৃত নাহিদ চৌধুরীকে উদ্ধার ও উল্লেখিত ৮ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া জানান, অপহৃত নাহিদ চৌধুরীর মা নাছিমা আক্তার শিমা বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপহৃতকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তারকৃত ৮ অপহরণকারীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সদরের আদালত চত্বর এলাকায় ভুয়া কাজির ছড়াছড়ি হওয়ায় অবাধে চলছে বাল্যবিবাহ। অধিক লাভের আশায় এসব ভুয়া কাজিদের পরোক্ষ মদদ দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে বাল্য বিয়ে পড়াতে সমর্থ হচ্ছে এসব কাজিরা।
টাঙ্গাইল জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মাহফুজুর রহমান খান জানান, এ বিষয়ে লিখিতসহ একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মহাদয়ের পরামর্শক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এই এলাকার জন্য নির্ধারিত নিবন্ধন প্রাপ্ত কাজির ডিআর বই ব্যবহার না করে অন্য এলাকার কাজির ডিআর বই নিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ে পড়ানো হচ্ছে হরহামেশাই। তাদের দৌরাত্ব্যে বঞ্চিত হচ্ছে অত্র এলাকার জন্য নিবন্ধন প্রাপ্ত কাজি।
এ বিষয়ে তদারকির জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের উপর দায়িত্ব থাকলেও অজ্ঞাত কারণে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সখিপুর উপজেলার নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীর বিয়ে পড়াচ্ছেন মো. শাহীন মিয়া নামের এক কাজি। তিনি দীর্ঘ পনের বছর যাবত কোন রকম বৈধ কাজির সনদ ও কাগজপত্র ছাড়াই কোর্ট চত্বরে বিয়ে পড়িয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের আব্দুল হাই কাজির ডি আর বইসহ মধুপুর, মির্জাপুর ও সখিপুরের ডিআর বই ব্যবহার করে অধিক টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহ পড়াচ্ছেন। এসব বাল্যবিয়ে পড়িয়ে টাঙ্গাইল শহরের একটি ক্লিনিকের অংশীদারসহ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি।
তার ছত্রছায়ায় একাধিক কাজি কোর্ট চত্বরে দেদারছে চালাচ্ছে বিবাহ রেজিস্ট্রি ও তালাক নিবন্ধন। অধিক মুনাফার আশায় আদালত চত্বরে কর্মরত বেশ কিছু আইনজীবী তাদের সেরেস্তা ব্যবহার করতে দিচ্ছেন এই সব ভুয়া কাজিদের। ফলে আইনজীবীদের সেরেস্তা ব্যবহার করেই এসব বাল্যবিবাহ পড়ানো হচ্ছে।
কোর্ট চত্বর এলাকা ব্যবহার করে অবাধে চলছে ভুয়া জন্মসনদ, নকল কাবিননামা আর জাল সিল-স্বাক্ষরে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে আসা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিট করে প্রাপ্তবয়স্ক বানিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
গ্রাম অঞ্চলে এক শ্রেনীর দালালদের মাধ্যমে গুঞ্জণ আছে কোর্ট চত্বরে গেলে অভিভাক ছাড়াই বিয়ে পড়ানো যায়। এর সুযোগ নিচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর-কিশোরী ও ঘর পালানো প্রেমিক-প্রেমিকারা।
এসব কাজি তাদের প্রয়োজনে নকল কাবিননামা, তালাকনামা ও বয়স প্রমানের এফিডেফিটের ঘোষণাও দিচ্ছেন। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন আতঙ্কে রয়েছেন তেমনি পরকীয়ার বলি হচ্ছে রেমিটেন্স যোদ্ধা (প্রবাসীদের) সংসার।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. শাহিন মিয়া জানান, তার কোন বৈধ কাজির কিম্বা বিবাহ পড়ানোর অনুমোদন নেই। তিনি সাব-কাজি হিসেবে কাজ করেন। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহ পড়ান তিনি,তবে বয়স প্রমানের কাগজপত্র জমা না দিলে কাবিনের সার্টিফাইড কপি দেন না তিনি।

তিনি আরো জানান, আমি ছাড়াও আরো অনেকেই কোর্ট চত্বরে বিয়ে পড়াচ্ছে, তারা হচ্ছে-মো. জয়নাল আবেদিন, মো. হামিদুল ইসলাম,আকরাম হোসেন ও কায়সার আহম্মেদ সহ আরো অনেকেই।
টাঙ্গাইল জেলা সদরের ১নং ওয়ার্ড ও কোর্ট চত্বর এলাকার ভারপ্রাপ্ত কাজি আব্দুল সামাদ জানান, এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তিনি আশা করেন, জেলা রেজিষ্ট্রার যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন।
টাঙ্গাইল জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মাহফুজুর রহমান খান জানান, এ বিষয়ে লিখিতসহ একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মহাদয়ের পরামর্শক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
“একতার কণ্ঠ-এক্সক্লুসিভ”
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিবন্ধীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২২ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের আয়োজনে গ্রামীন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কেন্দ্রের ( সিআরডিডি) সহযোগিতায় চারান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল মাঠে এ আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়।
এসময় বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ডের ৪৩ জন শারীরিক,মানসিক, শ্রবণ,বাক,দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ২ হাজার এবং একজনকে ১ হাজার করে মোট ৮৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাছান ইমান খান সোহেল হাজারী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আনছার আলী বি.কম,ভাইস চেয়ারম্যান মো.আখতারুজ্জামান, কোকডহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.নরুল ইসলাম প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, গ্রামীন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কেন্দ্রের ( সিআরডিডি) সভাপতি আবরার এইচকে ইউসুফজাই তনু,সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাজি, নারী ও শিশু বিষায়ক সম্পাদক সুইটি খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গ্রামীন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কেন্দ্রের ( সিআরডিডি) নির্বাহী পরিচালক সিফাত মোহাম্মদ আরেফিন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুব আলম মল্লিক ঋণ খেলাপির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান।
জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি মাহবুব আলম মল্লিক চেয়ারম্যান হওয়ার অযোগ্য ও তিনি অপসারণযোগ্য মর্মে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহাকারী সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত এক স্বারকে ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব কেন চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবেনা তার জবাব দেয়া প্রসঙ্গ পত্র ইস্যু করা হয় এবং উক্ত পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগকে লিখিত জবাব নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
গত বছরের ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মাহবুব আলম মল্লিক। তবে ওই নির্বাচনে ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে নিজের মনোনয়ন পত্র বৈধ করতে সক্ষম হন তিনি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন।
তবে গত বছরের ৩ এপ্রিল সেই রিট পিটিশনের শুনানীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীতার পক্ষে ইস্যুকৃত রুল খারিজ করে দেন বিজ্ঞ আদালত। ফলে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ২৬ (২) (জ) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে মাহবুব আলম মল্লিক অযোগ্য বিবেচিত হন।
উয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মল্লিক জানান, সাময়িক বরখাস্তের একটি চিঠি পেয়েছি। আমি আইনী সহায়তা গ্রহণ করবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বন্ধুদের সাথে টিকটক করার সময় পৌলী নদীতে ডুবে অপু (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে পৌলী নদীর সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের নওগাঁ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই যুবক সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের হাতিলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরের হাতিলা থেকে ৫-৬ জন যুবক নওগাঁ এলাকার নদীর পারে টিকটক করতে যান। এ সময় টিকটক করার জন্য সবাই এক সাথে নদীতে ডুব দেয়। অন্যরা উঠলেও অপু নদীর স্রোতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইদ্রিস মিয়া জানান, স্থানীয়রা হটলাইনে কল করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ২০ মিনিট উদ্ধার কাজ চালিয়ে মরদেহ উদ্ধারে সক্ষম হই। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বিনম্ব শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহিদ দিবস পালিত হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের পুষ্পস্তবকের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।
এসময় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পরে জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, পৌরসভার পক্ষে পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের পক্ষে সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা পরিষদ, পিবিআই, নৌ পুলিশ, পৌরসভা, সদর উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা জনতা শহিদদের স্মরণে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর আগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দেশাত্ববোধক গানের অনুষ্ঠান।
এছাড়া জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে দিনব্যাপী চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা এডভোকেট বার সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সর্মথিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরত্বপুর্ণ ৫টি পদে জয়লাভ করেছে।
সোমবার (২০ ফ্রেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত ফলাফলে আওয়ামী লীগ সর্মথিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ৯টি পদে জয় লাভ করে।
ঘোষিত ফলাফলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত মো. মইদুল ইসলাম শিশির ৩৫৩ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী পন্থী সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের একেএম শামীমুল আক্তার পেয়েছেন ৩৪৫ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল কাশেম মো. মুনসুর আহম্মেদ খান বিপন ৩৬৭ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু পেয়েছেন ৩২৫ ভোট।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মো. জামিউল হক সুমন, নির্বাহী সদস্য পদে আতোয়ার রহমান মল্লিক ও তোফাজ্জল হোসেন (আলম) নির্বাচিত হয়েছেন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ সর্মথিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি ইমরুল কায়েস বুলবুল, জোয়াহেরুল ইসলাম,সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শামস, লাইব্রেরী সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক অনুপম দে অপু, নির্বাহী সদস্য মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন, মো. আল আমিন, সৈয়দ মুহাম্মদ শাহানুর আল আজাদ ও শামসুন্নাহার স্বপ্না নির্বাচিত হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আতোয়ার রহমান আলো বলেন, শান্তিপুর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে বিএনপি সর্মথিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৫টি পদ ও যুুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে আওয়ামী লীগ সর্মথিত সম্মলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ জয় লাভ করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দুই বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের নিজ নিজ মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমাদানকারীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে বর্তমান মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী, সদ্য ঘোষিত এলেঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজিনা আখতার, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক মেয়র শাফী খান ও পৌর বিএনপির সদস্য এসএম সফিকুল ইসলাম তালুকদার।

এছাড়াও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তিনটি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪ জন এবং নয়টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৪ জন কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এলেঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল থেকে দুই জন করে প্রার্থী হওয়ায় দল দুটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
তারা বিদ্রোহী প্রার্থীকে বুঝিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে আশাবাদী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
তবে এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ নেবেনা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এলেঙ্গা পৌরসভায়ও মেয়র পদে দলীয় সিদ্ধান্তে তাদের কেউ প্রার্থী হয়নি। দুই জন বিএনপি নেতা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই প্রার্থী হয়েছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জানান, এ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামি ১৬ মার্চ ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহন হবে।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে এলেঙ্গা পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৪৬৭ জন।
উল্লেখ্য, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা ইউনিয়ন এবং আশপাশের কিছু এলাকা নিয়ে ২০১১ সালে এলেঙ্গা পৌরসভা গঠিত হয়। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও প্রসিদ্ধ ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই পৌরসভার ২০১৩ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তরকৃত ছয় ডাকাতের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার(২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতের বিচারক মনিরা সুলতানা এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহমেদ।
তিনি জানান, টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ছয় ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায়। আদালত শুনানী শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ক্ষিদ্র মাটিয়া গ্রামের মোতালেবের ছেলে ইউসুব আলী (৪২), পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ধানুয়াঘাটা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে নুরুল ইসলাম(৩৬), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যুগনী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল (৩১), একই গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. ইদুল মিয়া (২০) ও মো. সুরুত আলীর ছেলে সহিদুল ইসলাম (৩০) এবং একই উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের মো. জহর আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩০)।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় একদল লোক ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর ৪-৫ ব্যক্তি দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি সুইস গিয়ার ছুঁরি, একটি শাবল ও গাড়ি থামানোর জন্য রশিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হলুদ ও নীল রংয়ের একটি মিনিট্রাকও (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৩৩৮৩) জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাচার সাথে ঘুরতে গিয়ে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরে পিষ্ট হয়ে ইমন (৯) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের চাপাইদ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু মধুপুর পৌরসভার বিপ্রবাড়ী এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। সে মধুপুর মুকুল একাডেমির দ্বিতীয় শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালবেলা চাচা আলহাজ উদ্দিন প্রতিদিনের মত কৃষি হালচাষের জন্য ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় আদরের ভাতিজাকে সাথে নিয়ে যান। ভাতিজা ইমনকে পাশে বসিয়ে জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করছিলো। চাচার অজান্তে শিশুটি ট্রাক্টরের নিচে পড়ে পিষ্ট দেহ খণ্ড বিখণ্ড হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন (বিপিএম) মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।