একতার কণ্ঠঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে বহিরাগত কালীচরন দাস ওরফে কেডি (২৫) নামে এক উত্যক্তকারীকে আটক করা হয়ছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। এর আগে ওই ছাত্রীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে কেডি ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
আটককৃত কালীচরণ দাস (২৫) সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার আনন্দ কুমার দাসের বড় ছেলে। সে এবছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল এমবিএ কোর্সে ভর্তি হয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
জানা যায়, কালীচরন দাস (২৫) বিগত ৩ বছর ধরে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোন কলে, মেসেজে নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছিলেন। এর প্রেক্ষিতে মেয়েটি ওই ছেলের ৯০টিরো অধিক নাম্বার ব্লক করে রাখে। তবুও সে মেয়েটিকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে হুমকি দেয় যে সে তার ক্যাম্পাসে এসে মেয়েটিকে দেখে নেবে।
এরই ধারাবাহিকতায় আটকের দুইদিন আগে কালীচরণ দাস ওরফে কেডি ভাসানী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ক্যাম্পাসে তার এলাকার পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪১৪-(গ) সিটে সুজন কুমার দাস নামে এক শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দকৃত সিটে বহিরাগত এই কালীচরণ দাস অবস্থান করে আসছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানা যায়, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র দাসসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য আদান প্রদান করে। পরে মেয়েটির সাথে তার নানারকম সম্পর্ক আছে বলে অপবাদ ছড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ওই ছাত্রীকে ফলো করে উক্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে। কালী চরণ দাসের ক্যাম্পাসে অবস্থান এবং মেয়েটির ব্যাপারে নানারকম অপবাদ ছড়ানোর বিষয় আইসিটি বিভাগের ওই মেয়ে জানতে পেরে তার সহপাঠীদের জানায়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানতে পেরে উত্ত্যক্তকারীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বক্তব্য শুনে সত্যতাও পাওয়া যায়। সেই সাথে তদন্ত সাপেক্ষে জানা গেছে বিভিন্ন অবৈধ হোটেল ব্যবসার সাথে কালী চরন দাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার পিতা আনন্দ কুমার দাস তার পুত্র কালীচরন দাস ভবিষ্যতে এই ধরনের কোন কাজ করবে না এই মর্মে মোবাইল কোর্টকে মুচলেকা দিয়েছেন। আনন্দ দাসের মুচলেকায় আমরা তার ছেলেকে ছেড়ে দিয়েছি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীম আল মামুন জানান, হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাউকে হলে রাখা হলের আইনের পরিপন্থি।
তিনি আরো জানান, হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কোন বহিরাগত হলে রাখলে তার সিট তৎক্ষনাৎ বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের গুরুত্ব বাড়ছে রাজনীতিতে। এই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব কমে এসেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাদের কাছে টানছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
একাধিক নেতা জানান, আগামী নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত দুটি সিদ্দিকী পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। নির্বাচনে দলের পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। এ কারণে বিভিন্ন অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্তদের দলে ফেরানোর নীতি নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় এটাকে নির্বাচনের আগে ‘উদারনীতি’ বলে আখ্যা দিচ্ছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে সিদ্দিকী পরিবারের পৈতৃক নিবাস। এই পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার স্নেহধন্য ছিলেন। পরিবারের সদস্য, বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। আরেক ভাই আবদুল কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রাখায় বীর-উত্তম খেতাব পান। তিনি ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। আরেক ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে তুলে নেন সিদ্দিকী পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁরা ভারতে আশ্রয় নেন। দেশে ফিরলে কারাবন্দি হন লতিফ সিদ্দিকী। সাত বছর জেল খাটেন। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিদ্দিকী পরিবারের সদস্যরা পরে একে একে আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়েন।
১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গড়েন কাদের সিদ্দিকী। তাঁর সঙ্গে যান ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকীও। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যের জেরে দল থেকে বাদ পড়েন লতিফ সিদ্দিকী। তাঁকে হারাতে হয় মন্ত্রিত্ব, প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্য পদও।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানায়, মাস দেড়েক আগে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাদের সিদ্দিকী। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর প্রায় দুই যুগের দূরত্ব কমতে থাকে।
ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ এখন পুরনোদের দলে ফেরানোর নীতিতে চলছে। দল এখন উদারনীতি নিয়েছে। অতীতে যে যাই করে থাকুক, অতীতে যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করলেই মাফ করে দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনে আ. লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে থাকবেন কাদের সিদ্দিকী : আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানে থাকলেও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকবেন কাদের সিদ্দিকী। তবে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে থাকবেন নাকি আসন সমঝোতা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এবং ২০০১ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে এমপি হন। গত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করেন। টাঙ্গাইল-৪ ও ৮ আসনে তাঁর দলের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। নিজে নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাঁর মেয়ে কুড়ি সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন।
তবে গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাতের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে কাদের সিদ্দিকীর এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস। এ অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কাদের সিদ্দিকীর উদ্দেশে মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ‘আসুন আমরাও আপনাকে নিয়ে পথ চলতে চাই।
অনুষ্ঠানে যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৃণাল কান্তি জানান, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে আদিষ্ট হয়ে আমি কাদের সিদ্দিকীর অনুষ্ঠানে যোগদান করি। তিনি একজন কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত বিশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে।’
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীর প্রতীক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাক্ষাতের পর দেশের মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা নতুন ভাবনা ভাবছেন।
এলাকামুখী হয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা হলো লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকা। তিনি ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব, প্রেসিডিয়াম সদস্য, দল ও সংসদ সদস্য পদ হারানোর পর এলাকায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি সম্প্রতি এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি বা তাঁর স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন।
সম্প্রতি কালিহাতীতে একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন লতিফ সিদ্দিকী। ফলে তিনি আবারও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
কালিহাতীর নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর বলেন, ‘সময় ও জাতির প্রয়োজনে তাঁকে দলে নেওয়ার দাবি করছি।’
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, দলের একটি সূত্র মতে, শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকী বা তাঁর সহধর্মিণী লায়লা সিদ্দিকীকে দলের মনোনয়ন দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। লায়লা সিদ্দিকী ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এবং ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই দুটি নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকী কারাবন্দি ছিলেন।
জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি লতিফ সিদ্দিকী। তবে লায়লা সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক পরিবারের মানুষ। পুরো সিদ্দিকী পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল ছিল, আছে।’ তিনি বলেন, ‘দল বা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেন আমরা সেটার সঙ্গে থাকব।’
লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল ছোট ভাই কাদের সিদ্দিকীর। সম্প্রতি সে বিরোধও কমেছে। একাধিক অনুষ্ঠানে দুই ভাইকে এক মঞ্চে দেখা গেছে।
জেলা আ. লীগে স্থান পাচ্ছেন মুরাদ সিদ্দিকী : আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পেতে যাচ্ছেন মুরাদ সিদ্দিকী। তিনি ২০০৮ সাল পর্যন্ত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলে কোনো পদ পাননি।
মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার একজন কর্মী। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত। কৃষিমন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে আমি সম্মেলনে অংশ নিই। সারা জীবন দলের হয়ে কাজ করে যেতে চাই।’
ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। তাঁকে নিয়ে জেলার নেতাদের কোনো আপত্তি আছে বলে আমার জানা নেই।’
নাখোশ জেলা আ. লীগের একটি অংশ : ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সমালোচনা করেন কাদের সিদ্দিকী। তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান আনছারী বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী জোটে আসার ইঙ্গিত পেয়ে আমরা খুশি হয়েছি। কিন্তু তিনি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিন্দনীয়।’
সংবাদ সূত্র – “কালের কণ্ঠ” অনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া সানজিদা আক্তার উত্তীর্ণ হয়েছে। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি জিপিএ ৪.৭৫ পেয়েছেন।
তার বাবা শামীম আল মামুন গত ১২ নভেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পর দিন রোববার (১৩ নভেম্বর) ইংরেজি দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা দেন তিনি।
সানজিদা আক্তারের বাড়ি সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাইমাইল গ্রামে।
সানজিদা টাঙ্গাইল শহরের সরকারি কুমুদিনী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি শহরের সরকারি শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।
সানজিদা আক্তারের বড় ভাই ইমরান হোসেন জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাবা পাকস্থলীর সমস্যা নিয়ে টাঙ্গাইল শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চার দিন চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ নভেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরও জানান, সকালে বাবার লাশ বাড়িতে আনা হয়। বাবার লাশ রেখে ছোট বোন সানজিদা এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যায়। পরে বাইমাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে তার বাবাকে দাফন করা হয়।
সানজিদা আক্তার জানান, ‘আমি বাবাকে খুব ভালোবাসতাম’। তার নির্দেশনা মোতাবেক মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতাম। আমার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
তিনি আরো জানান, বড় হয়ে ডাক্তার হতে চান সানজিদা। সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ দেশের ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরে প্রবাহমান ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পূনঃখনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া এলাকায় সুন্দরী খাল পূনঃখনন কাজ বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ছয়শত ও সোনালীয়া গ্রামের ভুক্তভোগীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নিজ নামে রেকর্ডের জমিতে খাল খনন করা যাবে না। আমরা এই জমিতে আবাদ করি। আমরা যদি ফসল আবাদ করতে না পারি তাহলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। আমাদের জমিতে সরিষা রোপন করেছি। এই রেকর্ডের জমি কেটে ফসলের উপর মাটি ফেলে ফসল নষ্ট করছে। আমরা এর ক্ষতিপূরণ চাই। এই খাল খনন বন্ধ করা হোক।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- হাবলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান নাদু, ইউপি সদস্য সুজন, ফজলুল হক, জমির মালিক বিমলা রানী সরকার, সূর্য বানু, সুরেশ চন্দ্র মন্ডল, মো: আলী আযমসহ অনান্য ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।
উল্লেখ্য, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আত্ততাধীন ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরে প্রবাহমান ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পূনঃখনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া এলাকায় সুন্দরী খাল ও সুন্দরী শাখা খাল পূনঃখনন চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি শুরু হয়। এ কাজের প্রাক্কালিত মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ, ৯৩ হাজার ৩৪০ টাকা। মের্সাস এম রহমান নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খাল পূনঃখননের কাজটি পেয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এমপি ও মেয়র সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুইগ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসুচীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের সমর্থকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে তারাকান্দি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মাসুদুল হক টুটু, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদার, অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব খান, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আজহারুল ইসলাম আজহার, নিকরাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরজুুসহ উপজেলা ছাত্রলীগ,আওয়ামী যুবলীগ, কৃষকলীগের নেতৃকর্মীরা।
পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদুল হক মাসুদকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিস্কারের দাবী করেন।
অপরদিকে, বেলা ১২টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের সমর্থকরা পৌরসভা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারাকান্দি সড়ক হয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় যাওয়ার পথে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। পরে নেতাকর্মীরা অগ্রনী ব্যাংকের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভা করেন।
এসময় পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ, জেলা পরিষদের সদস্য খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলু, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মন্ডল, অলোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদলসহ স্থানীয় ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, কৃষকলীগের নেতৃকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভুঞাপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়রের উপর হামলার সঠিক বিচার না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন।
এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দু’পক্ষের বিক্ষোভ মিছিল শেষে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভুঞাপুর-গোপালপুর আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও ভুঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ গোপালপুরের আলমনগর এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত না করে শীতবস্ত্র ও লিফলেট বিতরণ করার অভিযোগে বাঁধা ও হামলা করে স্থানীয় এমপি অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে মেয়রের গাড়ি বহরের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তারা। এতে সাংবাদিকসহ ১৫জন আহত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার(৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিক্ষার্থী আল আমিন (২০) উপজেলার বেতুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের শামছুল আলম ছেলে।
এ ঘটনায় ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হাফেজিয়া মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত আল-আমিন সবার সাথে রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে। সকালে সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠলেও আল- আমিন ওঠেনি। ওই মাদ্রাসায় কর্মরত হাফেজ শিক্ষক খোঁজ নিয়ে দেখেন আল আমিন অসুস্থ। পরে অভিভাবকে মোবাইল ফোনে জানান। অভিভাবকেরা এসে ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
কালিয়ান হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি মো.আনোয়ার হোসেন জানান,আল আমিনের মৃগী রোগ ছিলো, ভোর রাতে আল আমিন অবস্থা গুরুতর জেনে ওর মাকে ডেকে এনে মাদরাসার তিনজন ছাত্রসহ সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেই। এমন গুরুতর অবস্থায় আল আমিনকে হাসাপাতালে পাঠানোর সময় শিক্ষক বা সচেতন কাউকে সাথে না পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
নিহতের বড় ভাই মিনহাজ উদ্দিন জানান, আমার ভাই কোন অসুস্থ ছিলো না। হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মিথ্যা বলেছে। আমার ভাই সুস্থ ছিলো।মৃত্যুর পর আমার ভাইয়ের নাকের দুই ছিদ্রে রক্ত লেগে ছিলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বহেড়াতৈল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. উজ্জ্বল মিয়া জানান, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য সম্মতি দিয়েছি।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন (অবৈধ) বালুবাহী ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে রুবায়েত (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের ল্যাংড়া বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই শিশু উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িয়াটা গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাতা বিষয়ক কাজ শেষে প্রতিবন্ধী রিপন মিয়া তার ছেলে রুবায়েতকে নিয়ে বাড়ী ফিরছিলেন। এসময় ল্যাংড়া বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক পার হওয়ার সময় ভেঙ্গুলা বাজার থেকে ছেড়ে আসা বালুবাহী একটি ট্রাক শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকের চালককে আটক করে হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দূর্ঘটনায় হালিম মিয়া ( ৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। এই ঘটানায় আহত হয়েছে আরো একজন । বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হালিম মিয়া কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের জোকারচর এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,মঙ্গলবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কের উপজেলার জোকারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় । এতে ঘটনাস্থলেই হালিম মিয়া নিহত হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা যোগে বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্ত্বরের দিকে যাচ্ছিলেন হালিম। এসময় অটোরিক্সাটি জোকারচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ওই বৃদ্ধ নিহত হয়।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আহত একজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ছোট কালীবাড়ি নিবাসী সাবেক প্রফেসর সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২.৩০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় তিনি মৃত্যুবরন করেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৫ ছেলে, ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর ঢাকা উত্তরা ১০ নং সেক্টর কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে ঢাকা ১২ নম্বর সেক্টর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাসহ শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীগণ।
উল্লেখ্য, তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে তিনি টাঙ্গাইল কাগমারী কলেজ, করটিয়া সাদত কলেজ এবং ঢাকা বিজ্ঞান কলেজে অত্যন্ত সততা ও সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন।
সর্বশেষ তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসরে যান।
একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের একযুগ পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি র্যালি একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
র্যালী শেষে ১২-তলা একাডেমিক ভবনের সামনে যুগপূর্তির কেক কাটা হয়।

এসময় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীনে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ, হিসাববিজ্ঞান বিজ্ঞান বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুরের হাতকুড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাতকুড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের দুই ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩৫) ও আশরাফুল ইসলাম কদম আলী (৩০)।
জানা গেছে, হাতকুড়া জামে মসজিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিটির সঙ্গে বিরোধের জেরে ১৮ জানুয়ারি ওই দুই ভাই মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করলে তাদের ওপরও ক্ষিপ্ত হয় তারা। একপর্যায় ইমাম বাড়ি চলে যান। আসাদ ও কদম আলী গালিগালাজ করতে করতে ইমামের বাড়ি গিয়ে তাকে মারপিট করে এবং দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর ২০ জানুয়ারি মির্জাপুর থানায় মামলা করেন ভোক্তভুগি মুফতি সাইফুল ইসলাম।
এদিকে মামলা হওয়ার ১৫ দিনেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় কওমি ওলামা পরিষদ টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর শাখার উদ্যোগে শনিবার (৪ জানুয়ারি) উপজেলার কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করেন। সমাবেশে দুই ভাইকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রোববার দিনগত রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের সন্তান মুরাদ সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগে যোগদান ও জেলা কমিটিতে পদ পাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। তাঁকে জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে দলের কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। তবে মুরাদ সিদ্দিকীকে দলে নেওয়ার ঘোরবিরোধী জেলার কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ।
মুরাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ভাই। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এ অবস্থায় মুরাদ সিদ্দিকী জেলা আওয়ামী লীগে পদ পাচ্ছেন, নাকি এবারও দলে ঢুকতে ব্যর্থ হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৯৯ সালে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন দল গঠন করেন। মুরাদ সিদ্দিকী তখন ভাই কাদের সিদ্দিকীর দলে যোগ দেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
মূলত ২০০৯ সাল থেকে মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০১৫ সালে মুরাদ সিদ্দিকীর অনুসারী টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান ওরফে মিরনসহ অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁরা পরবর্তী সময় জেলা আওয়ামী লীগে পদ-পদবিও পান। কিন্তু মুরাদ সিদ্দিকী যোগ দিতে ব্যর্থ হন। দলে ঢুকতে না পারলেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং দলীয় কার্যালয়ে মুরাদ সিদ্দিকী যাতায়াত শুরু করেন।
গত ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সেখানে মুরাদ সিদ্দিকী বড় মিছিল নিয়ে অংশ নেন। সম্মেলনে ফজলুর রহমান খানকে সভাপতি এবং সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে এখনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি।

মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের আদর্শের বাইরে কেউ নই। সব সময়, সব অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেছি। আওয়ামী লীগের সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়, তা পালন করার জন্য প্রস্তুত আছি। এ জেলার কৃতী সন্তান দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, জেলা শাখার সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামের নেতৃত্বে আমি কাজ করতে চাই।’
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে জেলার নেতাদের বলা হয়েছে মুরাদ সিদ্দিকীকে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রাখার জন্য। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য চান না মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে পদ পাক। তাঁরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে মুরাদ সিদ্দিকীর পদপ্রাপ্তি ঠেকাতে চেষ্টা করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও একাধিক সংসদ সদস্য বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ভালো চলছে। মুরাদ সিদ্দিকীকে দলে পদ দেওয়া হলে আবার একটি নতুন বলয় সৃষ্টি হতে পারে। তাই তাঁরা এ মুহূর্তে মুরাদ সিদ্দিকী দলে আসুক, তা চান না। তিনি দলে এলে টাঙ্গাইল সদর অথবা কালিহাতী আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর যোগদান ওই আসন দুটির বর্তমান সংসদ সদস্যদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘মুরাদ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে যোগদানের চেষ্টা করছেন, এটা সত্য। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম “আলোচনা সাপেক্ষে তাঁকে নেওয়া যেতে পারে” বলে কিছুটা সম্মতি দিয়েছেন। আগামী দুই একদিনের মধ্যে আমরা বসব। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান সাহেব আছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’