একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বাকিতে ইয়াবা না দেওয়ায় এক মাদক ব্যবসায়ীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে সেবনকারীরা। ঘটনার তিন দিন পর তিন সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (১ মার্চ)দুপুরের টাঙ্গাইলের পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা গ্রামের মো. আনোয়ার তালুকদারের ছেলে মো. অলি তালুকদার (১৯), মৃত সিরাজ মন্ডলের ছেলে মো. কামাল হোসেন (২৯) ও শালিয়ারা গ্রামের মো. শফিকুল আলমের ছেলে মো. সোহানুর ইসলাম ফারদিন (২০)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে নাগরপুর উপজেলার বীরসলীল গ্রামের সেচ পাম্পের ঘর থেকে ফরিদ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন বিকালে ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা লিলি বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে নাগরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পিবিআই গ্রহণ করে।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর কৃষি জমিতে পানি দেওয়ার জন্য ফরিদ উদ্দিন তার সেচ পাম্পের ঘরে যান। পর দিনও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। ২৫ ফেব্রুয়ারি তার চাচাতো ভাই মধু মিয়া ও প্রতিবেশী পান্নু মিয়া সেচ পাম্পের ঘরের কাছে কাজ করার সময় ঘরটি তালাবদ্ধ দেখেন। এ দিকে ফরিদ উদ্দিনের পোষা কুকুর উচ্চশ্বরে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। তখন মধু ও পান্নু ঘরের ফাঁক দিয়ে দেখতে পান ফরিদ বিছানার উপর পড়ে আছে। তারা বিষয়টি তার পরিবার ও পুলিশকে অবগত করে। মামলার পর তদন্ত করে মঙ্গলবার রাতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, ফরিদ উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবার ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। তার কাছ থেকে আসামিরা ইয়াবা কিনে সেবন করতো। ঘটনার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে আসামিরা ফরিদের কাছে ইয়াবা বাকি চাইলে দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা স্লাইডরেঞ্জ দিয়ে ফরিদের মাথার পেছনে আঘাত করলে সে পড়ে যায়। পরবর্তীতে রশি দিয়ে তার হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে তারা তিনজনই জড়িত ছিল বলে তিনি আরো জানান।
একতার কণ্ঠঃ বাৎসরিক ওরশ মাহফিলে যাওয়ার পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে তিন নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৮-২০ জন।
বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়কের উপজেলার আনালিয়াবাড়ী নামক এলাকায় ১০ নং ব্রীজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন নারী যাত্রী হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার গান্দাইল এলাকার গাদুগানের মেয়ে শাহারা ওরফে শাহানা বেগম (৬০), পেচামানিক এলাকার মাহতাব আলীর মেয়ে নুর জাহান (৫০) এবং অপরজন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার গৌরাং এলাকার জাবেদ আলীর মেয়ে ফিরোজা বেগম (৬০)।
এদিকে, আহতরা সবাই জামালপুর সদর উপজেলার গান্দাইল ও পেচামানিক এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তারা ওরশ মাহফিলের যাত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জামালপুর সদর উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা একটি খোলা পিকআপযোগে ৩০/৩৫ জন যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ওরশ মাহফিলে যাচ্ছিল। তারা দুপুরে মহাসড়কের আনালিয়াবাড়ী পৌঁছলে ঢাকাগামী একটি বাস ওভারটেকিং করতে গিয়ে পিকআপটিকে চাপ দেয়।
এসময় পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে পিকআপের দুই নারী যাত্রী মারা যায়। আহত হয় কমপক্ষে ১৮-২০ জন যাত্রী। পরে খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে গুরুতর আহত আরও এক নারী মারা যায়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদেরকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রেরণ করা হয়। আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আওয়ামী লীগের ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি )বিকেলে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে ময়মনসিংহ-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে এই সংঘর্ষ হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম লেবুর সমাবেশ ছিল। একই স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের অনুসারীরাও সমাবেশ করতে চায়।
এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয়পক্ষের ৮ জন এবং ২ জন স্থানীয় সাংবাদিক আহত হন। সংঘর্ষের পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, গত মাসের ২৮ তারিখে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির সভাপতি ও ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু কমিটির কথা জানান।
‘জামাত-বিএনপি সমর্থকদের’ রেখে কমিটি ঘোষণা করার অভিযোগ এনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের অনুসারীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গতকাল সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
এর জেরে সোমবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম লেবু ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ করতে যান। একই স্থানে সংসদ সদস্যদের অনুসারীরাও সমাবেশ করতে চায়।
সংঘর্ষের বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, ‘আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পৃথক পৃথক স্থান থেকে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা।
রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের গাছ কুমুল্লি গ্রামের মৃত দুখিরাম ঘটকের স্ত্রী রাসমণি ঘটক (৪৫) এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাসমণি ঘটক রান্না ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে দেলদুয়ার থানা সুত্রে জানা যায়।
অপরদিকে উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের স্বল্প বড় টিয়া গ্রামের মৃত শওকত আলীর মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী সাথি আক্তার (১৫) তার নিজ বসত ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস নেয়। পরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুজনেই আত্মহত্যা করেছে। থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক-ড্রাম ট্রাক, কভারভ্যান, ট্যাংকলড়ী, মিনি ট্রাক ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে বালা-মাহতাব পরিষদের কমিটিকে অবৈধভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে গোলাম-সোবহান পরিষদ।
রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নগর জলফৈ এলাকায় শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচির পালন করে শ্রমিক ও নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জেলা ট্রাক-ড্রাম ট্রাক, কভারভ্যান, ট্যাংকলড়ী, মিনি ট্রাক ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী গোলাম মোস্তফা, শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: সোবহান মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি বাদশা মিয়া, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, সাবেক দপ্তর সম্পাদক ঝলক, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আসাদ, সাবেক সহ-সড়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদসহ অনান্য শ্রমিক নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, আমরা সবাই আশা করেছিলাম একটি প্রতিযোগিতামূূলক সুষ্ঠ এবং সুন্দর ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু একটি চক্র টাকা নিয়ে বালা-মাহতাব পরিষদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা চাই একটি সুষ্ঠ নির্বাচন। নির্বাচনে যে বিজয়ী হবে তাকেই আমরা মেনে নিবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বালুবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে । এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরো একজন।
রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভুয়াপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গুলিপেঁচা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোটরসাইকেল আরোহীর নাম টিটু খন্দকার (৩৮) সে উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ভেঙ্গুলা গ্রামের মোস্তফা খন্দকারের ছেলে।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নুরুল ইসলাম (৬০) । সে উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার বিকালে দুইজন আরোহীসহ মোটরসাইকেলটি ভুয়াপুর থেকে গোপালপুরের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে বালুবাহী ট্রাকটি নলিন বাজার থেকে ভুয়াপুরে যাচ্ছিল।
ভুয়াপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গুলিপেঁচা এলাকায় পৌছালে মোটরসাইকেল ও বালুবাহী ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী টিটু খন্দকারের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত মোটরসাইকেলের অপর আরোহী নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।
হেমনগর পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বালুবাহী ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধ করেছে উপজেলা পদ বঞ্চিত আওয়ামী লীগের একাংশ।
রবিবার(২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা শিক্ষক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বন্ধ করে টায়ারে অগ্নি সংযোগ করে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মোহাম্মদ শাজাহান বলেন,গত মাসের ২৮ তারিখে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়। কিন্তু ওই কমিটিতে জামায়াত- বিএনপি ও দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ব্যাক্তিদের স্থান দেয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম লেবু। এই অবৈধ কমিটি বাতিল না করলে সামনে মার্চের ২০ তারিখে নতুন সম্মেলন করে তারা নতুন কমিটি ঘোষনা করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা শিল্পি ও লোকেরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন মিয়া প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলন শেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের মতো বন্ধ যান চলাচল বন্ধ রাখে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ নেতাকর্মীরা। এসময় মহাসড়কের দুইপাশে যানযটের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে পদ বঞ্চিতরা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে সড়কের অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক অপরাজনীতির বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন।
শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে শান্তি শোভাযাত্রা করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শান্তি সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ রৌফ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
এই শান্তি সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ফরিদ মিয়া (৪০) নামের এক কৃষক খুন হয়েছে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতের কোন এক সময় তাকে খুন করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাত মুখ বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বীর সলিল গ্রামে। সে ওই গ্রামের তোরাফ আলীর ছেলে।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নিহত ফরিদ তার বাড়ির পাশে জমিতে বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প বন্ধ করতে মেশিন ঘরে যায়।ওই রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি।
নিহত ফরিদের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন জানান, ফরিদের সাথে শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে বাড়ীর সামনে তার দেখা হয়। এ সময় ফরিদ তাকে জানায় সেচ পাম্প (মেশিন) বন্ধ করে বাড়ি ফিরবে।
আরেক চাচাতো ভাই মধু মিয়া জানান, তিনি শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে জমি দেখতে সেচ মেশিন ঘরের দিকে যায়। মেশিন ঘর বন্ধ থাকায় দরজার ফাঁক দিয়ে উকি মেরে দেখে,ফরিদের নিথর আংশিক দেহ চৌকির উপর পড়ে আছে। পা নিচে ঝুলছে। পরে তার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মেশিন ঘরের দরজা খুলে ফরিদের হাত ও মুখ বাঁধা মৃত মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই। নিহতের গলায় মুখে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। সে মাদক সেবী ছিলো। মাদক নিয়ে খুন হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, তবে ময়নাতদন্ত রির্পোট পেলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে ও তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মর্জিনা নামের চিহ্নিত এক মাদক কারবারির বাড়ির পাশ থেকে ২০ বছর বয়সী রায়হান নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মাদক কারবারির বাড়ি-ঘর ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।
শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের গাদতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রায়হান দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে দেলদুয়ার থানা পুলিশ।
এদিকে পুলিশ রায়হানের লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের পাথরাইল-গাদতলা সড়কের স্থানীরা একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হয় রায়হানকে হত্যা করে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, মাদক কিনতে এলে দর-নামেলায় মর্জিনার পরিবার বা কোন লোক দিয়ে রায়হানকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, রায়হান শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেনি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারে রায়হানের লাশ পাওয়া গেছে। পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রায়হানের লাশ শনাক্ত করেন।
মাদক কারবারি মর্জিনার বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, তিনি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। মাঝে মাঝে পুলিশ তাকে আটক করে। আবার জামিনে বেড়িয়ে এসে মাদক কারবারি শুরু করে। গত ১০/১২ দিন আগে মর্জিনা পুলিশের কাছে আটক হয়েছে। তার তিন ছেলে রয়েছে। তাদের নামেও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। তার পিতা মৃত মুসলেম উদ্দিনও মাদক কারবারি ছিলেন। এ ঘটনায় মর্জিনার বাড়ির পাশে মৃত মুসলিম উদ্দিনের বাড়িও ভাংচুর করার চেষ্টা করে বিক্ষুব্ধরা।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা(পিপিএম) জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রায়হানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে রাতে মাদক সেবন নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটছে। পরে নিহতের লাশ মাদক ব্যবসায়ী মর্জিনার বাড়ির সামনে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তিনি আরো জানান, এদিকে এঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে তারা মাদক ব্যবসায়ী মর্জিনার বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
মামালার বিষয়ে তিনি জানান, নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ময়না তদন্তের শেষে মামলা এজাহার হবে। মর্জিনা গত ১০/১২ দিন আগে মাদক মামলায় আটক হয়ে জেলখানায় রযেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির পরিচিতি সভা ও চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপির জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে কেক কাটা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে জেলা সদর রোডে অবস্থিত টাঙ্গাইল রাইফেল ক্লাব মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এড. আব্দুস ছালাম চাকলাদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহিম সুমন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রেজাউল করিম ও দেলোয়ার হোসেন খান মিলন, সদস্য সোহেল মিয়া প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টি প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তাহের, সৈয়দ শামসুদ্দোহা যুবরাজ, মো. ইব্রাহিম মোল্লা, আহসান খান আছু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
অনুষ্ঠানে জেলা, উপজেলা, শহর, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সিংহটিয়া গ্রামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে অপহরণের পর পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে যৌন নিগ্রহে বাধ্য করার অভিযোগে পুলিশ আল আমিন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গ্রেপ্তারকৃত যুবককে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, পাইকড়া ইউনিয়নের সিংহটিয়া গ্রামের পিতৃহীন কিশোরী (১৫) গত ১৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী আলতাফ আলীর ছেলে আল আমিন (৩০) ও আজিজুলের ছেলে সিএনজি চালক শহিদুল (২৫)সহ ৩-৪ যুবক অপহরণ করে।
পরদিন শনিবার দুপুরে স্থানীয়দের কাছে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই কিশোরীর মা পাশের পৌজান বাজারের কাছে মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
জেনারেল হাসপাতালের একজন কনসালটেন্টকে প্রধান করে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করে ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. লুৎফর রহমান আজাদ জানান, ওই কিশোরীর চিকিৎসায় তিন সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। যৌন নিগ্রহের ঘটনা হলেও হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিকেল টিম দ্বায়িত্বের সঙ্গে অসহায় কিশোরীর চিকিৎসা নিশ্চিত করছে। থানা পুলিশ এসে কিশোরীর জবানবন্দি নিয়ে গেছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ওই কিশোরীর বড় বোন বাদী হয়ে অপহরণ ও যৌন নিগ্রহের অভিযোগে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এসআই সুমী সিকদার তদন্ত করছেন। তিনি হাসপাতালে গিয়ে ওই কিশোরী ও তার মা-বোনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।