একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গৃহবধূ সাহিদা বেগমকে (৪০) হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী সোনা মিয়াকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ৯ মাস পর মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) সকালে সাভারের ধামরাই এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাউদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ নভেম্বর সকালে উপজেলার কৈয়ামধু গ্রামের কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোনা মিয়া তাঁর স্ত্রী সাহিদাকে নিয়ে লাকড়ি কাটতে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে দেওবাড়ি বনে যান। সেখানে দুজনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সোনা মিয়া দা দিয়ে সাহিদাকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
এ সময় মাথার মগজ ও ভুঁড়ি বের হয়ে ঘটনাস্থলেই সাহিদার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই সোনা মিয়া পলাতক ছিলেন। তিনি উপজেলার কৈয়ামধু গ্রামের কারিগরপাড়া এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাহিদার বড় ভাই হাফেজ আলী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সোনা মিয়াকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রেল লাইনে মাথা দিয়ে মহসিন রাব্বী (২০) নামে এক যুবককের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জয়দেবপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু রেল লাইনের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মহসিন রাব্বী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের বড় ইছাপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রাজাবাড়ী রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, রেল ক্রসিং থেকে একটু দূরে রেললাইনের ওপর বসেছিলেন মহসিন রাব্বী। এ সময় ঢাকাগামী আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি হুইসেল দিচ্ছিল। মহসিন রাব্বী হুইসেল উপেক্ষা করে ট্রেনের নিচে মাথা পেতে দেয়। এতে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাংড়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি জানান, রাব্বীর মা কিছু দিন আগে মারা গেছেন। তারপর থেকে রাব্বী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ আলী আকবর জানান, খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে রাব্বীর লাশ শনাক্ত করে। লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান বলেছেন, খেলা হবে এদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে, খেলা হবে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে, খেলা হবে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।
২০০৪ সালে ২১ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগ ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যৌথ আয়োজনে সোমবার (২১ আগস্ট)বিকালে শহরের শহীদস্মৃতি পৌর উদ্যানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
শামীম ওসমান এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু আপনার আমার ভবিষ্যত নয়, আমার-আপনার সন্তানদেরও ভষিষ্যত। শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে কিসে এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে, কিসে এদেশের মানুষের ভালো হবে সেই চিন্তায় করে। শেখ হাসিনা হাসলে এদেশের মানুষ হাসে। সারা দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা চোখে পরার মতো। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই তা আজ সম্ভব হয়েছে।
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতোয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশরাফ উজ্জামান স্মৃতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রৌফ ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা।
এ সময় আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বংশাই নদীতে পড়ে সাদিকুল ইসলাম(৩) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার (২১ আগস্ট) সকালে মধুপুর পৌর এলাকার দামপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শিশুটি দামপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের ছেলে।
নিখোঁজ শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা প্রতিবন্ধী। সোমবার সকালে প্রতিবন্ধী মা শিশুটিকে তার কাছে রেখে রান্না করছিলেন। রান্না শেষে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানায়। স্থানীয়রা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কে খবর দেয়। পরে টাঙ্গাইল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে বংশাই নদীতে খোঁজাখুজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি।
স্থানীয়রা বলছে, শিশুটি বাড়ির পাশের বংশাই নদীর কিনারে প্রায়ই চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে ছেলেটি নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছে।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার হেমাইল কবির জানান, টাঙ্গাইল থেকে ডুবুরি দল এসে নদীতে খোজাখুজি করে শিশুটির সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষনা করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (২০ আগষ্ট) বিকেলে গোপালপুর পৌরসভার সূতী পলাশ গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগের আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর পৌরসভার মেয়র মো. রকিবুল হক ছানা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম তরফদার বাদল, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, মীর রেজাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আলিফ নূর মিনি, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মনির, ভূঞাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল বাছেদ মন্ডল, ভূঞাপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল ইসলাম তালুকদার বাবলু, গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বিমান, গোপালপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ওয়াহিদুজ্জামান রিপন, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান তালুকদার, অর্জুনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী মোল্লা, অলোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাদল, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গাবসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বাছেদ আকন্দ বাদশাহ, ভূঞাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইউসুফ চকদারসহ গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ নজরুল ইসলাম ওরফে নজরুল পাগলা। বয়স প্রায় ৫৫। যমুনা নদীর ভয়াল থাবায় এক নিমিষেই তার ৬ শতাংশ বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন। এখন বসতভিটার অল্প কিছু অবশিষ্ট জায়গা রয়েছে। সেখানে কবর দেওয়া হয়েছিল তার মেয়ে নয়ন মণিকে। অবশেষে মেয়ের কবরটাও যমুনা নদী গ্রাস করছে। মেয়েটির কবর রক্ষায় শেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে কবরের পাশে কান্না করছে অসহায় মা-বাবা।
নজরুলের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা উত্তরপাড়া গ্রামে। নজরুলের বাড়িটি ছিল নদীরপাড় ঘেষা। সে প্রতিবন্ধী। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে ছিল। প্রায় ৫-৬ মাস আগে ছোট মেয়েটি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে মেয়েটির লাশ নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। গত কয়েক দিনের যমুনার তীব্র ভাঙনে কবরটা ভেঙে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নজরুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে নয়ন মণি কোনাবাড়ি দাখিল মাদরাসায় ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিল। মণি বলেছিল, বাবা আমি কোরআন শরীফ হাতে নেব, তুমি কিনা দিও। তার কিছুদিন পরেই সকলের নজর এড়িয়ে মেয়েটি ওর ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে কবর দেই। কিন্তু যমুনার ভাঙনে মেয়ের কবর রক্ষা করতে পারলাম না, চোখের সামনে নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কলি আক্তার ও কলেজছাত্র রাজীব বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলছে। অথচ অসহায়দের বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে না। যার কারণে ৬ থেকে ৭০০ মিটার অংশে ব্যাপকহারে ভাঙছে। যদি জিওব্যাগ ফেলা হতো তাহলে তার বাড়ি ও মেয়ের কবরসহ অন্যদের বসতভিটা রক্ষা পেত। প্রশাসনের কাছে দাবি, ভাঙনরোধে যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, চলতি বন্যায় কমপক্ষে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যা এখনও চলমান রয়েছে। অনেকাংশে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙন কবলিত অন্যান্য এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশা করছি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এছাড়া ভাঙন কবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে।

যমুনা নদীর ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, মাটিকাটা ও পাটিতাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। নতুন করে যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে সেসব এলাকা পরির্দশন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ বিশ্ব মশা দিবসে টাঙ্গাইলে ২ জন ডেঙ্গু রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (২০ আগস্ট) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হামপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই গৃহবধূ মৃতুবরণ করেন।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারা হলেন- দেলদুয়ার উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামের গৃহবধূ লাভলী আক্তার(৩৮) ও একই উপজেলার দেলুয়াখাদি গ্রামের গৃহবধূ রেজিয়া বেগম(৪০)। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তারা মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুজ্বরে এ পর্যন্ত মোট চার জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইল জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।
এরমধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৩ জন, নাগরপুরে ৬ জন, সখীপুরে ৩ জন, মির্জাপুরে ৮ জন, মধুপুরে ২ জন, গোপালপুরে ৩ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৭ জন রয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই গৃহবধূ মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুজ্বরে মোট চার জন মৃত্যুবরণ করলেন। এ পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট এক হাজার ২৬৭ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট এক হাজার ১৩২ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৫ জন রোগী।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপির চেয়ারপর্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা এবং নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে টাঙ্গাইলে জেলা বিএনপি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার(১৯ আগষ্ট )সকালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীরা খন্ড-খন্ড মিছিল নিয়ে জমায়েত হয়।
পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করে দলটির নেতারা। পথসভা শেষে একটি বিশাল পদযাত্রা মিছিল বের করা হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শান্তিকুঞ্জের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এ পদযাত্রা ও পথসভা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন,সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল,জেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ,সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী,শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম,জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির,জেলা তাঁতীদলের সভাপতি শাহ আলম,জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ , সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদল,ছাত্রদল,মহিলাদল,তাঁতীদল,শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির এই পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয় ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম কে.আর.এস ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থী দীপ্ত সরকার (১৪) দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।
পরিবার ও জিডি সূত্রে জানা যায়, দীপ্ত সরকার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভাতগ্রাম কে.আর.এস ইনস্টিটিউশনে ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সকালে সে বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়। দীর্ঘসময় পর বাড়িতে না ফেরায় তাকে খোঁজাখোঁজি করা হয়। এরপর থেকেই দীপ্তর পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শুক্রবার (১৮ আগস্ট) ওই ছাত্রের বাবা মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
দীপ্তর বাবা প্রণব কান্তি সরকার বলেন, মির্জাপুর ও পার্শ্ববর্তী দুটি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তার কোনো সন্ধান মিলছে না। পুলিশ জানিয়েছে তারা দীপ্তকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার এস.আই মাহফুজুর রহমান জানান, একটি জিডির কপি পেয়েছি। ওই ছাত্রকে উদ্ধারের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদের (৭৫) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আব্দুল বাছেদের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহসিনা আক্তার আঁখি জানান, তার বাবা টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়াস্থ বাসায় থেকে টাঙ্গাইল জজ কোর্টে নিয়মিত প্র্যাকটিস করতেন। গত ১৪ আগস্ট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রথমে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৮টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এদিন জুমার নামাজের পর টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে প্রথম এবং বাদ আছর বাসাইল উপজেলার আইসরায় নিজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সামাজিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) রাতে জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার উত্তর রাজবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নাম মোঃ আব্দুল মান্নান। সে এলেঙ্গা পৌরসভার উত্তর রাজবাড়ী এলাকার মৃত হামিদ সিকদারের ছেলে।
এ প্রসঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত্রে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি দক্ষিণ)পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার উত্তর রাজবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান কালে এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আবুল মান্নানকে নিষিদ্ধ মাদক ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান, আটককৃত নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। গ্রেফতারকৃত মান্নানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতেই কালিহাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ককে জেরে ডেকে এনে প্রেমিকাকে সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা মোহাম্মদ আলীকে শুক্রবার ( ১৮ আগস্ট) ভোরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আলী(২৫) উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার মহেলা এলাকার সেকান্দর আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাযিল ইউনিয়নের এক তরুণীর সঙ্গে কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে গত সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগী তরুণীকে বিয়ের কথা বলে নিয়ে আসে। পরে ভুক্তভোগীকে উপজেলার পৌলী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রেমিক মোহাম্মদ আলী । ধর্ষণের পর তার বন্ধু সোহেলের কাছে ভুক্তভোগী তরুণীকে তুলে দেয়। বন্ধু সোহেলও ওই তরুনীকে ধর্ষণ করে।
এ সময় ভুক্তভোগীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশকে সংবাদ দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ আরো জানায়,ভুক্তভোগী তরুণীর পিতা থানায় প্রেমিক মোহাম্মদ আলী (২৫) ও বন্ধু সোহেল (৩০)কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে কালিহাতী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে এসআই সাজ্জাত হোসেন ও এএসআই রাকিবুল ইসলামের একটি পুলিশী টীম উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামী মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামীর বন্ধু ফটিকজানী গ্রামের শাজাহানের ছেলে সোহেল রানা (৩০) কে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়। ভিকটিম ওই তরুণীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পাঠানো হয়।