একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে প্রথম দিনের লকডাউন। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্টে কঠোর নজরদারি ছিল। ফলে প্রয়োজন ছাড়া সাধারন মানুষকে খুব বেশী ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি।
জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষ ঘর থেকে বের হলেও গণপরিবহন, মার্কেট ও বিপনি বিতান বন্ধ ছিল। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সকাল থেকেই জেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী মাঠে তৎপরতা ছিল চোখে পরার মতো। টাঙ্গাইল শহরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন চলাচলে লকডাউনের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে দেখা গেছে। অকারণে কেউ যানবাহন নিয়ে বের হলে তাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কেউ লকডাউনের নির্দেশ অমান্য করলে বাধ্য হয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এদিকে শহরের বটতলা বাজার, পার্ক বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্য সামগ্রী ও কাঁচা বাজারের দোকানপাট খোলা থাকলেও বাজারে ক্রেতা কম। বাজারে আসা বেশির ভাগ লোকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বুলবুল (৬০) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকায় জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার ভাই কামরুজ্জামান খান জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে পহেলা এপ্রিল এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার আড়াইটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ টাঙ্গাইল আনা হবে। তারাবির নামাজের পর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান মসজিদে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রকাশ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে টাংগাইল সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক, টাংগাইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, টাংগাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনিরুজ্জামান বুলবুল দায়িত্ব পালন করেছেন।
মনিরুজ্জামান বুলবুল ১৯৯৭ সালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ৯০ দশকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির দায়ে তিন মাটি ব্যবসায়ীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (১২ এপ্রিল) ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন উপজেলার চাঁনপুর এলাকায় অভিযানকালে এই জরিমানা করেন।
জানা যায়, উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের চাঁনপুর নদীর পাড় থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল কয়েকজন অসাধু মাটি কারবারি। খবর পেয়ে সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানকালে চাাঁনপুর গ্রামের রইজ উদ্দিনের ছেলে মিলন দেওয়ান, বেলতৈল গ্রামের তোতা শিকদারের ছেলে আলহাজ্ব শিকদার ও গোড়াই গ্রামের তারিফ মিয়ার ছেলে মোস্তফার ট্রাক আটক করেন বিচারক। পরে প্রত্যেককের কাছ থেকে ১ লাখ করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক জুবায়ের হোসেন জানান, জনস্বার্থ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক বার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় অবশেষে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে পার হওয়ার সময় একটি বালুবাহী ট্রাক সহ ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কসহ পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর, সাটুরিয়া ও ঢাকাগামী সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।এর আগে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
জানা গেছে, নাগরপুর দরগ্রাম ভায়া ছনকা বাজার সড়কের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সংলগ্ন ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে এবং মাঝখানে ডেবে গিয়েছিল। এরপরও ওই সড়কে যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতো। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রিজটির এমন দশা থাকলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও তাদের উদাসীনতার কারণে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, রাতে ঝুকিপূর্ণ ওই ব্রিজ দিয়ে একটি বালুবাহী ট্রাক পারাপার হওয়ার সময় ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এরপর থেকেই ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রাকটি উদ্ধারে কাজ চলছে।
উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্রিজ ভাঙার বিষয়টি জানা নেই। আর বন্ধের দিন রাতে ফোন দিয়ে কেন বিরক্ত করছেন। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।’
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় ফাঁসি নিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার(৯ এপ্রিল)দিবাগত রাতের কোন এক সময় করটিয়া শীলপাড়া ভবতোষ মাঝির পরিত্যক্ত ঘরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের নাম মল্লিকা বেগম (৩০)। সে সদর উপজেলার গোসাইবাড়ী কুমল্লি গ্রামের মো. মিন্টু মিয়ার মেয়ে।
জানা গেছে, আট বছর পুর্বে মির্জাপুর উপজেলার হাট ফতেপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে বাদল মিয়ার সাথে পারিবারিক ভাবে মল্লিকার বিবাহ হয়। তাদের ঘরে মোস্তাকিন (৬) ও মুজাহিদ (৪) নামের দু’টি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী বাদল মিয়া অটোরিক্সা চালক। শুক্রবার রাত থেকে মল্লিকার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া জানান, শনিবার সকালে শীলপাড়া এলাকার ভোজন শীল ফোনে তাকে জানায়, শীল পাড়ায় তার মেয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিনকে ঘটনাটি জানান। পরে শাহীন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্বার করে।
এ বিষয়ে করটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,যেহেতু ফাঁসির ঘটনা, ময়না তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না ।
টাঙ্গাইল মডেল থানার সহকারী পরিদর্শক(এস আই) মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই । নিহতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের বাম হাতে একাধিক ক্ষত চিহ্নের দাগ পাওয়া গেছে।সম্ভবত ব্লেড দিয়ে কাটার ফলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতকে কেউ আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
প্রকাশ, এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ভোজন শীলের সাথে নিহত মল্লিকার সর্ম্পক ছিল। মনমালিন্যের কারনে মল্লিকা আতœহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ মধুুপুরে আদিবাসী কোচ সম্প্রদায়ের সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত এক কিশোরীকে অপহরণের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও তার কোন সন্ধান মেলেনি। অপহৃতা সৃষ্টি বর্মন’র বাবা রাম চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
রহস্যজনক কারণে পুলিশ ঘটনার ৪ দিন পর রোববার (৪ এপ্রিল) রাতে মামলাটি রেকর্ড করেন। সাতদিনেও সৃষ্টি বর্মন উদ্ধার না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে মেয়েটির পরিবার।
স্থানীয় পীরগাছা সেন্ট পৌলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওই কিশোরীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করত মান্নান। এছাড়া অপহরণের হুমকিও দিত । এ বিষয়ে মেয়েটি নিজেই মধুপুর থানায় দুই মাস আগে একটি সাধারন ডাইরী করেছিল। বুধবার রাতে মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মান্নানের বাড়ি যান। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
মধুপুর কোচ আদিবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ বর্মণ অনতিবিলম্বে অপহৃতা কিশোরীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রতন কুমার বর্মণ বলেন, অপহরণের এ ঘটনা দুঃখজনক। মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু জানান, ওই যুবক আগে থেকেই মেয়েটিকে উত্যক্ত করত। দুই মাস আগে থানায় আমার উপস্থিতিতে ভূক্তভোগি ওই কিশোরী জিডি করেছিল।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক কামাল বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত মান্নানকে গ্রেফতার ও অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে মাকে বেঁধে রেখে ছিনতাই করা শিশু জুনায়েদকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ভোরে দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রাম থেকে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও সখীপুর থানার পুলিশ যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পিবিআই টাঙ্গাইলের এসআই মেহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিশুটি বর্তমানে পিবিআই টাঙ্গাইলের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসআই মেহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, সখীপুর থানা পুলিশ ও পিবিআই যৌথ উদ্যোগে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুকে বিক্রি করার জন্য তারা জাঙ্গালিয়া গ্রামে নিয়ে রেখেছিলো। বিক্রির আগেই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় কালিহাতীর হাবলা গ্রামের পরান ডাকাত ও তার স্ত্রীসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রকাশ, গত বুধবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার শোলাপ্রতিমা এলাকার ট্রাকচালক আছর উদ্দিনের ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রী কল্পনা আক্তারের মুখ বেঁধে আড়াই মাসের শিশু জোনায়েদকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) শিশুর মা কল্পনা আক্তার বাদি হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল জেলা কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনি হাসপাতালের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দীপংকর বলেন, গত সোমবার (২২ মার্চ) রেদওয়ানা ইসলাম প্রসব ব্যথা নিয়ে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই তিনি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এরপর থেকে সন্তানটি আইসিওতে (নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে) রাখা হলেও চারদিন আগে রেদওয়ানা ইসলামকে চিকিৎসকরা ছুটি দিয়ে দেন। কিন্তু নবজাতক হাসপাতালে থাকার কারণে রেদওয়ানা হাসপাতালের একটি কক্ষ নিয়ে থেকে যান।
শনিবার (২৭ মার্চ) সকালে তার স্বামী মিজান হাসপাতালে রেদওয়ানার সাথে দেখা করতে আসেন। বিকেলে হাসপাতালের নার্স রেদওয়ানার কক্ষ বাইরে থেকে লক (তালা) দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে হাসপাতালের লোকজন কক্ষের ডুব্লিকেট চাবি দিয়ে তালা খুলে ভেতরে রেদওয়ানার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত রেদওয়ানা ইসলামের মামী খোদেজা বেগম ও মর্জিনা বেগম বলেন, ‘শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পর যখন আমরা বের হই তখন তার স্বামী কেবিনেই ছিলেন। ফিরে এসে তারা ওই কক্ষ বন্ধ দেখেতে পাই।’
তারা আরও বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে রেদওয়ানা ইসলাম টাঙ্গাইলে বদলী হয়ে আসেন। তার স্বামী টাঙ্গাইলের একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তিনি অন্যত্র বদলী হয়ে যান। স্বামী-স্ত্রী দুইজন জেলা প্রশাসনের কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।’
কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. আলী হোসেন বলেন, ‘প্রসবজনিত কারণে খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম গত সোমাবার (২২ মার্চ) সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই দিন সিজার অপারেশনের মধ্যেমে কন্যা সন্তান প্রসব করেন তনি। বাচ্চা অসুস্থ থাকায় তিন তলায় ভর্তি রাখা হয়। মা সুস্থ হয়ে উঠায় শুক্রবার রেফার্ড করা হয়েছিল।’
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বংশাই নদীর মির্জাপুর উপজেলার ‘একাব্বর হোসেন এমপি সেতু’র পশ্চিম পাশ থেকে রোববার(২১ মার্চ) সকালে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকালে বংশাই নদীও ওই স্থানে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন জানান, নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে পঁচে-গলে গেছে। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সড়কে ঝড়ল আরো একটি প্রাণ। এবার প্রাণ গেল অলিম্পিক কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার মাহমুদুর রহমানের(৫০)।টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে কালিহাতী পৌরসভার বাগুটিয়া ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে রোববার(২১ মার্চ) সকালে ট্রাক চাপায় প্রান হারান তিনি । এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহত মাহমুদুর রহমান দিনাজপুর জেলার শ্রীবর্দীপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে এবং অলিম্পিক কোম্পানীর টাঙ্গাইলের আরএম।
কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মনজুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম জানান, এলেঙ্গার দিক থেকে মোটরসাইকেল যোগে অলিম্পিক কোম্পানীর আরএম মাহমুদুর রহমান কালিহাতীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাগুটিয়া ব্রিজ পাড় হওয়ার সাথে সাথে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৭৪৩৪) ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে পড়ে যান। এ সময় ওই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ সদ্য প্রয়াত দেশ বরেণ্য সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট, ও ভাসানী গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের স্মরণ সভা টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ মার্চ) সকালে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারে এ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।
স্মরণ সভায় মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মো. মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের ছেলে সৈয়দ নাফিস মকসুদ, মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সৈয়দ ইরফানুর বারী, আব্দুর রাজ্জাক, ডঃ আজাদ খান, সাধারণ গ্রন্থাগারের সদস্য সচিব কবি মাহমুদ কামাল প্রমুখ।
আরো বক্তব্য রাখেন মওলানা ভাসানী যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন, যুব ফাউন্ডেশনের নেতা মো. হাসান মিয়া সহ আরো অনেকে। স্মরণ সভায় মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন ও ভাসানী ছাত্র ও যুব ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্মরণ সভা শেষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বক্তারা তার কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ সারা জীবন তার লেখনির মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমতাভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি তার গবেষণা কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকবেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ ইয়াং টাইগার অনুর্দ্ধ-১৮ ডিভিশনাল ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধণী দিনে জয় পেয়েছে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলা।শনিবার(২০ মার্চ )বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত ইয়াং টাইগার অনুর্দ্ধ-১৮ ডিভিশনাল ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ঢাকা ডিভিশন উত্তরের দু’টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে “ক”গ্রুপের খেলায় ময়মনসিংহ ৩ উইকেটে নরসিংদী জেলা পরাজিত করে শুভ সূচনা করেছে । অপর দিকে, কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে “খ” গ্রুপের খেলায় টাঙ্গাইল জেলা ১৫ রানে নেত্রকোনা জেলাকে পরাজিত করেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে টাঙ্গাইল জেলা প্রথমে ব্যাটিং করে ৪১.২ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান করে। টাঙ্গাইল জেলা দলের স্কোর এক পর্যায়ে ৩৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান ছিল।
তারপরও ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে ৪১.২ ওভারে ১৩৮ রান করতে সমর্থ হয়। দলের পক্ষে মাইনুল সর্বোচ্চ ৪১ রান করে।এছাড়া ফেরদৌস ৩৪ ও তাসিন ১৯ রান করে। নেত্রকোনার পক্ষে বোলিংয়ে শেখ আওয়াল ১৬ রানে ৬টি এবং আহনাফ নাবিদ ২৯ রানে ৩টি উইকেট দখল করে।
বোলিংয়ের শুরুতেই টাঙ্গাইল জেলার ইমতিয়াজ ও তারেকের চমৎকার বোলিংয়ে নেত্রকোনা ১৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।সেই চাপ নেত্রকোনা আর সামাল দিতে না পারলে নেত্রকোনা ৪৪.৪ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান করে। খেলায় টাঙ্গাইল জেলা দল ১৫ রানে জয় লাভ করে।
নেত্রকোনা জেলা দলের পক্ষে শাহিদ সর্বোচ্চ ৬৪ ও ফাহিম ২২ রান করে। টাঙ্গাইল জেলার পক্ষে ইমতিয়াজ ২০ রানে ৩টি উইকেট দখল করে। এছাড়া তারেক ২৪ রানে ২টি এবং ফেরদৌস ২১ রানে ২টি করে উইকেট দখল করে।
টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে টস জয়ী নরসিংদী জেলা প্রথমে ব্যাটিং করে ৪৭.৩ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান করে।দলের পক্ষে সিরাজুল ৩০ ও সালাউদ্দিন ২৯ রান করে। বোলিংয়ে ময়মনসিংহের শামুসর রহমান ১৯ রানে ৩টি উইকেট দখল করে। জবাবে ময়মনসিংহ জেলা ৪৩.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান করে। দলের পক্ষে রোহান সর্বোচ্চ ৩৫ রান করে। বোলিংয়ে নরসিংদী জেলার পক্ষে চঞ্চল ৩৬ রানে ৪টি উইকেট এবং তানজীন ২৫রানে ৩টি উইকেট দখল করে।
আগামী ২৩ মার্চ কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে টাঙ্গাইল জেলা দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে শেরপুর জেলার বিপক্ষে এবং টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা খেলবে মানিকগঞ্জের বিপক্ষে।
ঢাকা ডিভিশন নর্থের “ক” গ্রুপের দলগুলো হল ময়মনসিংহ জেলা, নরসিংদী জেলা, কিশোরগঞ্জ জেলা ও মানিকগঞ্জ জেলা এবং “খ” গ্রুপের দল গুলো হল টাঙ্গাইল জেলা, নেত্রকোনা জেলা, গাজীপুর জেলা ও শেরপুর জেলা।
কিশোরগঞ্জের জেলা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল ম্যাচে অংশগ্রহন করবে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ান ও রানারআপ দল।
এর পূর্বে সকালে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে “খ” গ্রুপের খেলার উদ্বোধন করে টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান আলো, টাঙ্গাইল জেলা কোচ আরাফাত রহমান ও ধারাভাষ্যকার তমাল বিহারী দাস।