/ হোম / একতার কণ্ঠ
টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাদিয়া আক্তার (১৯) নামে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। দুই হাত বাঁধা ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার(১৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের জুড়ান মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।

নিহত সাদিয়ার বাবার অভিযোগ, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির দাবিকৃত যৌতুকের টাকা ও নোনাসের জামাইয়ের কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি, নোনাস ও নোনাসের জামাইকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার পর থেকে সাদিয়ার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে। সাদিয়া উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের সেলিম হোসেনের মেয়ে ও বাঁশতৈল মুনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ জানায়, আড়াই বছর আগে আজগানা ইউনিয়নের জুড়ান মার্কেট এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়ার দক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী ছেলে ওয়াজেদ আলীর সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের তিনমাস পর ওয়াজেদ আলী পুনরায় দক্ষিন আফ্রিকা চলে যায়।এরপর থেকে সাদিয়া এক সময় বাবার বাড়ি এক সময় শ্বশুড় বাড়িতেই থাকতেন।

মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম বলেন, সোমবার রাতে খবর পেয়ে দুই হাত বাধা ঘরের ধন্যার সঙ্গে ঝুলানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে সাদিয়ার বাবা সেলিম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জামাই আফ্রিকা যাওয়ার পর মেয়ের শ্বশুড় রফিকুল ইসলাম ও শুশুড়ি মিলে তাদের ছেলে আফ্রিকায় দোকান ভাড়া নেবে বলে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তারা সাদিয়াকে নানাভাবে অত্যাচার নির্য়াতন করতে থাকে।

অন্যদিকে স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে সাদিয়ার ননাস জামাই জুয়েল সাদিয়াকে নানা সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। এ বিষয়ে সাদিয়া তার শ্বশুড়-শ্বাশুরিকে জানালে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয় বলে সেলিম হোসেন জানান। এরপর তার উপর শুরু হয় শ্বশুড়-শ্বাশুরি এবং ননাস রোজীনা ও তার স্বামী জুয়েল মিয়ার নির্যাতন শুরু হয়। প্রায়ই সাদিয়াকে খাবার দেয়া হতো না।
গত ২ এপ্রিল সাদিয়া তার মামা মিনহাজ উদ্দিনকে ফোনে জানান, তাকে খেতে দেয়া হচ্ছে না এবং শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছে। যা তার মামা মিনহাজ উদ্দিন মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন। রবিবার সাদিয়া বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুড় বাড়িতে আসলে সোমবার দিনের কোন এক সময়ে তারা পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে খুঁনের অভিযোগ থেকে বাঁচতে তারা তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা হয় বলে সাদিয়ার বাবা অভিযোগ করেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সাদিয়ার সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই হাত ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূ সাদিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা করা হয়েছে। ময়না তদন্ত মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যা না আত্মহত্যা জানতে চাইলে ঘটনাটি রহস্যজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. এপ্রিল ২০২১ ০৪:১৬:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যু

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে ট্রাক চাপায় তিন বছরের এক শিশুর  মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কচুয়া- কীর্তণখোলা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম  কামরুল ইসলাম। সে কচুয়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাক ও চালককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন।

জানা যায়, সকাল ১১টায় উপজেলার কচুয়া-কীর্তণখোলা চৌরস্তা সড়কের পাশে খেলা করছিলো কামরুল। এ সময় কীর্তণখোলা বাজার থেকে আসা গরুভর্তি একটি ট্রাক শিশুটিকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে, সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে সাইদুল হক বলেন, ঘাতক ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে।  এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. এপ্রিল ২০২১ ০২:৫৪:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার(১৯ এপ্রিল) বিকালে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় শহরের কাগমারী, সন্তোষসহ আশে পাশে এলাকায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তানভীরুল ইসলাম হিমেল ও শাফিউল আলম মুকুল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাইয়ুম চাকলাদার, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ ফরিদ, সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য রওনক সবুজ বাবু, রুহুল আমিন রানা, জুয়েল রানা, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের রতন চাকলাদার, বিজয়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময়  কাগমারী, সন্তোষসহ আশে পাশে এলাকার ১২০ জনের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. এপ্রিল ২০২১ ০২:৩০:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে যুবক আটক, সামাজিক ভাবে মীমাংসা! - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পরকীয়ার জেরে যুবক আটক, সামাজিক ভাবে মীমাংসা!

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় পরকীয়ার জের ধরে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এক যুবকে আটক আটক করেছে এরাকাবাসী। আটককৃত যুবক কালিহাতী উপজেলার পাইকরা গ্রামের জগন্নাথ সুত্রধরের ছেলে অমিত সুত্রধর(২৩)।পরে শনিবার (১৭ এপ্রিল) শনিবার সকালে স্থানীয় কমিশনার ও ইউপি সদস্যর মাধ্যমে সমঝোতার মাধ্যমে অমিত সুত্রধরকে ছেড়ে দেওয়া হয় । এ ব্যাপারে এলাকায় আলেড়ন সৃস্টি হয়েছে।

জানাগেছে,বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের ভাংরা গ্রামের নিমাই চন্দ্রের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র(৩৫) সিংগাপুর থাকার সুবাধে নিমাই চন্দ্রের পুত্রবধু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।এক পর্যায় সম্পর্ক গভীরে পৌছালে প্রেমিক অমিত সুত্রধরকে তার স্বামীর বাড়ি ভাংরা গ্রামে আসতে বলে।পরে বেরসিক জনতা তাদেরকে আটক করে। খবর পেয়ে উৎসুক জনতা এলাকায় ভীড় করে। ঘটনাটি কাশিল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.লিটন মেম্বার সামাজিকভাবে মীমাংসা করে প্রেমিক অমিত সুত্রধরকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।। এলাকাবাসী জানান, রাতের আঁধারে জনগন দুইজনকেই আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। সেই ঘটনায় কোন প্রকার শাস্তিমুলক বিচার না করেই স্থানীয় ইউপি সদস্য ছেলের পক্ষের সাথে আঁতাত করে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

এ ব্যপারে ইউপি সদস্য মো.লিটন মেম্বার বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করি এবং ঘটনাস্থলে একজন অফিসার এসে বিস্তারিত জানার পর সামাজিক ভাবে আপোষ-মীমাংসা করি।

এ বিষয়ে, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে লোকমুখে শুনেছি, তবে কেউ কোন অভিয়োগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা যায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. এপ্রিল ২০২১ ০৩:২২:এএম ৫ বছর আগে
একাত্তরের এই দিনে শহীদ হন ছাত্রনেতা আলী আজগর - Ekotar Kantho

একাত্তরের এই দিনে শহীদ হন ছাত্রনেতা আলী আজগর

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ছাত্রনেতা আলী আজগর টাঙ্গাইলের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে তৎকালীন ঢাকাইয়া হোটেলে (গ্রীন হোটেল) অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদাররা আচমকা এসে গুলি করলে তিনি শাহাদৎ বরণ করেন। পরে শহীদ আলী আজগরকে কালিহাতীর ঝগড়মান কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শহীদ আলী আজগর টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়ায় ১৯৫০ সালের ৩১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুন্সী আলীম উদ্দিন এবং মাতার নাম হালিমা বেগম। ছোটবেলা থেকেই আলী আজগর ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও মিশুক স্বভাবের। তিনি ১৯৬৬ সালে কালিহাতী রামগতি শ্রীগোবিন্দ (আরএস) পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন টাঙ্গাইলের কাগমারীর মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে। নিজ দক্ষতায় ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন তুখোড় ছাত্রনেতা। আলী আজগর ১৯৬৮-৬৯ কার্যসালে কাগমারী কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে তিনি তৎকালীন সময়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন- সংগ্রামে সাহসের সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। কালিহাতী তথা টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠক হিসেবে কাজ করতেন।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আলী আজগরের বিশেষ গেজেট নং- ১৫৬৫, শহীদ নং- ০২, মুক্তিবার্তা লালবই নং- ০১১৮০২০৫৩৬, বাংলাদেশ গেজেট নং- ২৪১০। শহীদ আলী আজগরের তিন ভাই কছিম উদ্দিন, আব্দুল করিম ও আব্দুল হামিদ এবং চার বোন ফুলজান নেছা, শামছুন্নাহার বেগম, আয়েশা বেগম ও আমেনা বেগম।

শহীদ আলী আজগরকে আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তার এলাকাবাসী। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে আলী আজগরের স্মৃতি সংরক্ষণে কালিহাতীতে গঠণ করা হয়েছে শহীদ আলঅ আজগর নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে ১৯৯০ সালে ১০/১৫ ফিটের একখন্ড জমি ১ টাকার বিনিময়ে কালিহাতী কলেজ কর্তৃপক্ষ সংঘটির নামে বরাদ্দ করে।

 

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. এপ্রিল ২০২১ ০৩:৫৮:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শতাধিক ধান কাটা শ্রমিককে ট্রাকে রাতভর আটকে রাখার অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শতাধিক ধান কাটা শ্রমিককে ট্রাকে রাতভর আটকে রাখার অভিযোগ

একতার কণ্ঠ ডেস্ক ঃ টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ায় শতাধিক ধান কাটা শ্রমিককে রাতভর আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে কৃষি অফিসের অনুমতিপত্র নিয়ে ওই শ্রমিকরা দুটি ট্রাকে করে পাবনা থেকে হবিগঞ্জে ধান কাটতে যাচ্ছিলেন। তবে পুলিশের দাবি কঠোর বিধিনিষেধ মানাতেই শ্রমিকদের ট্রাক আটকে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, পাবনার আতাইকুলা এলাকা থেকে জীবিকার তাগিদে ধান কাটা শ্রমিক হিসেবে হবিগঞ্জে যাচ্ছিলেন শতাধিক ব্যক্তি। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ তাদের বহন করা দুটি ট্রাক আটকে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা।
রবিউল ইসলাম নামে ৬৫ বছর বয়সী এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, এই বয়সে শুধুমাত্র পেটের দায়ে অন্য জেলায় ধান কাটতে যাচ্ছি। যদি আটকেই দেবে তবে এলাকাতেই আটকে দিত। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তো আমরা ধান কাটতে যাচ্ছি। এই বয়সে কয় বেলা না খেয়ে থাকা যায়? এখন জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলেই বাঁচি। সেখানেই না হয় পরিবারের সঙ্গে না খেয়ে মরবো।

শ্রমিকরা বলেন, পাবনা থেকে এলেঙ্গা পর্যরাত আসতে কোনো সমস্যা হয়নি। এলেঙ্গা আসার পর পুলিশ তাদের ট্রাক আটকে দেয়। এ সময় টাকা দাবি করে পুলিশ। টাকা দিতে না পারায় ট্রাক দুটি ফাঁড়ির সামনে নিয়ে যায়। রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। না খেয়ে রাত থেকে কষ্ট করতে হচ্ছে। পায়খানা-প্রসাবের জায়গা না থাকায় কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
তারা আরও বলেন, কাজ না থাকায় আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছিলাম। তাই আমাদের উপজেলা কৃষি অফিসার ও চেয়ারম্যানের প্রত্যায়নপত্র নিয়ে ধান কাটতে হবিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলাম। পুলিশ আমাদের অনুমতিপত্র জব্দ করে রেখেছে।

ট্রাকচালক উজ্জল মিয়া বলেন, শুক্রবার বিকেলে পাবনা থেকে রওনা দিয়েছি। রাত ১১টার দিকে এলেঙ্গা আসলে পুলিশের এক অফিসার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ট্রাকের সব শ্রমিককে নামিয়ে দিতে বলেন। শ্রমিকদের বাসে যেতে বলেন। পরে অপর এক পুলিশ অফিসার এসে শ্রমিকসহ ট্রাক ফাঁড়িতে নিয়ে যান। গাড়ির কাগজপত্রও পুলিশ জব্দ করেছে।
পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান রশিদ হোসাইনী বলেন, তাদের অনুমতিপত্র দেওয়া আছে। তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছি। পুলিশ হয়তো আইনগত ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিতে কাজটি তেমন ভালো হয়নি। আরেকটি বাসের ব্যবস্থা করে পুলিশ তাদের গন্তব্য পৌঁছাতে সহযোগিতা করতে পারত।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, টাকা দাবির বিষয়টি মিথ্যা। একটি ট্রাকে ৪৮ ও অপর ট্রাকে ৭২ জন শ্রমিক ছিল। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তারা গন্তব্য যাচ্ছিলেন। এছাড়াও গতকাল মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সব কিছু মিলিয়ে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ পরিপন্থী কাজ করায় তাদের ট্রাক আটক করা হয়েছে। পরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে দু’টি বাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এতে শ্রমিকদের কোনো বাস ভাড়া দিতে হবে না। এছাড়া বাসটি যাতে কোথায় না আটকায় সেজন্য একটি প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. এপ্রিল ২০২১ ০২:০৪:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানঃ  ৩ জনকে অর্থ দন্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানঃ ৩ জনকে অর্থ দন্ড

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে, শহরের  পাঁচআনি বাজার ও ছয়আনি বাজার এলাকায় , টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খাইরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারনে , পাঁচআনি বাজারে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা  ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ছয়আনি বাজারে এক দোকানিকে ৫ হাজার টাকা এবং ছয়আনি বাজারে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মাস্ক ব্যবহার না করার , একজনকে ২ শত টাকা সহ সর্বমোট ১৫২০০( পনেরো হাজার দুইশত)  টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর য সদস্যরা উপস্থিত ছিল।

এ প্রসঙ্গে  সহকারী কমিশনার( ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খাইরুল ইসলাম  জানায়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য লকডাউন পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমান আদালতের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. এপ্রিল ২০২১ ০৩:৩৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহতঃ আটক ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহতঃ আটক ২

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার  পৌর এলাকার কাচারী পাড়ায় মহল্লাবাসির মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে আইয়ুব আলী (৭০) নামক এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন। পুলিশ খুনের সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে।

এ প্রসঙ্গে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত বুধবার (১৪ এপ্রিল) ওই মহল্লার আইয়ুব আলীর স্বজনদের সঙ্গে পড়শি সোহেলদের সাথে মারামারি হয়। এতে তিনজন আহত হয়। সন্ধ্যায় কাচারী পাড়া মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে প্রতিপক্ষ সোহেল ও আলাদিনের নেতৃত্বে ৪/৫ জন আইয়ুব আলীকে মসজিদের ভিতর বেদম পেটায়। গুরুতর আহত আইয়ুবকে প্রথমে গোপালপুর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

নিহত আইয়ুব আলীর পুত্র মোজাম্মেল হক জানান, বৃদ্ধ মানুষটিকে অমানুষিকভাবে পেটানো হয়। চিকিৎসার ত্রুটি ছিলনা।  শুক্রবার(১৬ এপ্রিল) দুপুরে তার পিতা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এদিকে তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইয়ুব হত্যার বিচারের দাবিতে মহল্লাবাসি শহরের নন্দনপুর এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. এপ্রিল ২০২১ ০৩:৪৫:এএম ৫ বছর আগে
ঢাকা-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩ - Ekotar Kantho

ঢাকা-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকা-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার চর বাবলা নামক  স্থানে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও দুইজন। শুক্রবার(১৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিক ভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড় থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গগামী একটি টিন বোঝাই ট্রাক চর বাবলা স্থানে দাড়িয়ে থাকা  অপর একটি ট্রাককে পিছন  দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত দুইজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহত ও আহতদের কারো পরিচয় জানা যায়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. এপ্রিল ২০২১ ০২:৪৬:এএম ৫ বছর আগে
যে কারণে হঠাৎ বেড়ে গেলো করোনা সংক্রমণ - Ekotar Kantho

যে কারণে হঠাৎ বেড়ে গেলো করোনা সংক্রমণ

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ কেন হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ এত বেড়ে গেলো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ যখন সীমিত ছিলো তখন সবার অবারিত চলাফেরাই এর জন্য দায়ী। তাছাড়া যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার  টাইপ করোনা দেশে ছড়িয়ে পড়া বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে ঢেউয়ের ঊর্ধ্বমুখীতা যেমন আছে তেমনই আছে নিম্নমুখী প্রবণতা। তাই সরকারের নতুন পদক্ষেপ সংক্রমণ কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।

চারদিকে আতঙ্ক, শুনশান নীরবতা আর সতর্কতা ও সচেতনতা। এর ওপর ভর করেই গেলো বছরের জুলাই মাসের পর থেকে করোনা সংক্রমণ নিচের দিকে নামতে থাকে।

আতঙ্ক, নীরবতা, সতর্কতা আর সচেতনতা একসময় সবই উঠে যায়। সাধারণের মধ্যে একটা দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় করোনা হয়তো বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়; হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট সব জায়গায় উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। যা প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞরা এই অনিয়ন্ত্রিত জীবন ধারাকেই দ্বিতীয় ঢেউয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সঙ্গে যোগ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যের করোনার নতুন ধরন।

বাংলাদেশ ডক্টরস ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরুপম দাশ বলছেন, প্রায় ১০ লাখের মতো মানুষ কক্সবাজারেই ছিলো। বাজার, গণ-পরিবহন প্রভৃতি জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিলো না। এছাড়া আমাদের দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ধরণ যোগ হওয়ার জন্য সংক্রমণ হয়তো বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করেছি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছি। এসব আমাদের সংক্রমণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দিনকে দিন পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ এখন পরীক্ষার বিপরীতে ২০ শতাংশের ওপরে। ২৩ শতাংশও টপকেছে বেশ কয়েকদিন। ২৮ মার্চ থেকে আট এপ্রিল কেবল এই ১১ দিনেই শনাক্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৩২৬ জন। এই সময় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিলো ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪টি। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছে ২১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এমন চলতে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া দুঃসাধ্য হয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ডা. নিরুপম দাশ আরও বলছেন, এখন যদি কোনোভাবে এই শনাক্তের হারকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে এই হার আরও বেড়ে যাবে।

সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ৭ দিনের লকডাউন দিয়েছিলো। করোনা সংক্রমণ রোধে কাজ না হওয়ায় আরও আটদিনের কঠোর লকডাউন দিয়েছে। এর মাধ্যমে একটা সুফল আসবে বলে মনে করেন তারা। গেলো জানুয়ারি দিকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছিলো সংক্রমণের হার। ৮ শতাংশের ওপরে উঠলেই বলা হয় সংক্রমণের হাই ফ্লো। এখন ২০ এর ওপরে। বোঝাই যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।তারা  আশাবাদী বাংলাদেশ সংকট কাটিয়ে উঠবে খুব সহসাই।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. এপ্রিল ২০২১ ০৬:৪১:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নতুন করে ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু এক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নতুন করে ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু এক

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে একজন।টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো সাহাবুদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ছয় জন, দেলদুয়ারে তিনজন, সখীপুরে একজন, মির্জাপুরে চারজন, বাসাইলে তিনজন, কালিহাতীতে একজন, ঘাটাইলে একজন এবং ভূঞাপুরে ছয়জন সহ মোট ২৫ জন।

এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো চার হাজার ৪৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে তিন হাজার ৯০২ জন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যুবরণ করেছে ৭০ জন।

এদিকে টাঙ্গাইল করোনা ডেডিকেটেড সেন্টারে সর্বমোট ভর্তি হয় ২২৭ জন। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে ১৬০ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয় ৫৪ জন। বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে দুইজন রোগী ভর্তি রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. এপ্রিল ২০২১ ১০:১০:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মেয়ে সেজে যুবকের সঙ্গে বিয়ে, অতঃপর গণধোলাই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মেয়ে সেজে যুবকের সঙ্গে বিয়ে, অতঃপর গণধোলাই

একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ  টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এক ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নিজেকে নারী সাজিয়ে এক যুবককে বিয়ে করে এলাকায় তুলকালাম সৃষ্টি করেছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দিয়ে এলাকা ছাড়া করে।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার দাড়িয়াপুর ফালু চাঁনের মাজারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে বর জুবায়ের হোসেন (২৫) বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিনমাস আগে ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে আলতাফ আলী (৩৫) নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে দাড়িয়াপুর মাজারপাড় এলাকায় আসে। ওই কবিরাজ মাঝেমধ্যে শাড়ী পরেও এলাকায় ঘুরাফেরা করত। সে সন্তানহীন মহিলাদের সন্তান দানের ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন বাড়িতে গত তিনমাস ধরে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে ওই এলাকার কৃষক রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের হোসেনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। জুবায়ের ও তার পরিবারকে কবিরাজ আলতাফ আলী টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বলেন- ‘আমি রাত ১২টার পর মেয়ে মানুষে রূপান্তরিত হবো, আমাকে বিয়ে করলে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হবেন’।

গত ১৩ এপ্রিল রাতে জুবায়ের ও কবিরাজ আলতাফের সম্মতিতেই তাদের বিয়ের প্রস্তুতি চলে। এতে লোভে পড়ে জুবায়েরের পরিবারেরও সম্মতি ছিল বলে জানা গেছে। বুধবার সকালে এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওই কবিরাজকে ধরে এনে পড়নের শাড়ী-ব্লাউজ খুলে গণধোলাই দিতে থাকে।

পরে দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী আসিফ, সাবেক চেয়ারম্যান শাইফুল ইসলাম শামীম, সানোয়ার হোসেন মাস্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কবিরাজকে গণধোলাই থেকে রক্ষা করেন।

স্থানীয়রা দাবি করেন, দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের কাজী মাসুদ রানা একলাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে পড়িয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে কাজী মাসুদ রানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে হবে বলে আমাকে ওই এলাকায় যেতে বলা হয়েছিল। ওই বাড়িতে গিয়ে মেয়ের (পাত্রীর) জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে বলি। পরিচয়পত্র দিতে না পারায় আমি সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এসেছি। রেজিস্ট্রি বা বিয়ে পড়ানোর তো কোনো প্রশ্নই উঠেনা। কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।

সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর স্থানীয়রা ওই কবিরাজকে হিজরা দাবি করেন। পরে স্থানীয়দের অনুরোধেই তাকে ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কবিরাজ আলতাফের পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ভাতিজা ইয়ামিন ফোন ধরেন। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আলতাফ আলী আমাদের এলাকায়ও (ঘাটাইল) কবিরাজি করত। কিন্তু সে একটি ছেলেকে বিয়ে করবে এটা মেনে নিতে পারছিনা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. এপ্রিল ২০২১ ০৪:৫৯:পিএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।