একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়েছে ঐতিহাসিক ৭মার্চ। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার(৭ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক।মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ারহোসেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার কাজী নুসরাত এদীব লুনা।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল জেলা সাবেক কমান্ডার মো. ফজলুল হক (বীর প্রতিক), খন্দকার জহুরুল হক ডিপটি, টাঙ্গাইর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ জাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (৭মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলাউদ্দিন-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস্থ বঙ্গবন্ধুর মুর্যালে পুস্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় অফিসার্স এসোসিয়েশন, তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি,বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ভাসানী পরিষদের পক্ষ থেকেও পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে স্বাধীনতা সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবনকে উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছেন তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।এরপর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হয়।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেশ্টারোন দুই গুরুত্বপূর্ণ হরমোন গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মা ও সন্তানের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে; ভ্রƒণের প্রতিস্থাপন, বিকাশ এবং সফলতার সঙ্গে নবজাতকের জটিলতাবিহীন জন্ম এ হরমোনদ্বয়ের ওপর নির্ভরশীল।
যদিও গর্ভের সফলতার জন্য এ হরমোনদ্বয় অত্যাবশ্যকীয়, বিশেষভাব প্রজেশ্টারোন, গর্ভাবস্থায় নানাবিধ অস্বস্তিকর উপসর্গগুলোর সূচনার জন্যও দায়ী। গর্ভাবস্থায় পরিপাকতন্ত্রের ওপর প্রজেশ্টারোনের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রজেশ্টারোন পরিপাকতন্ত্রের মাংসপেশির শৈথিল্যের জন্য বহুলাংশে দায়ী। মাংসপেশির শৈথিল্য খাদ্য পরিপাক এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্যের পরিভ্রমণের সময় বাড়িয়ে দেয় এবং প্রাথমিকভাবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সূচনা করে।
পরিপাকতন্ত্রের শৈথিলতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্যই নয়, কোষ্ঠকাঠিন্য সংশ্লিষ্ট জটিলতা, যেমন পাইলস, ফিশার, থ্রোম্বস্থ পাইলসের সূচনা করতে পারে। এছাড়াও পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্র মাংসপেশির শিথিলতা অজীর্ণ, বদহজম, অগ্নিমন্দার মতো অস্বাচ্ছন্দ্যদায়ক উপসর্গের সৃষ্টি করে।
গর্ভাবস্থায় এসব উপসর্গ অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং গর্ভবতী মায়েদের এ জন্য লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
কোষ্ঠকাঠিন্য স্বভাবতই শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর, মলত্যাগ সময়বহুল, মল শক্ত এবং ছোট আকারের হয়, পেটে চাপ বা কোঁত দিতে হয়, মলত্যাগে স্বস্তি হয় না এবং মলত্যাগ প্রক্রিয়া অনেক সময়ই ক্লান্তিকর অনুভূত হয়। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য তলপেট ও নিচের পিঠে ব্যথা, পেটফাঁপা, বমিবমি ভাবের উদ্রেক করা ইত্যাদি একক অথবা একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ প্রদর্শন করতে পারে। একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে প্রদর্শন কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবলতার ওপর নির্ভরশীল।
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য এতই স্বাভাবিক যে অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যতাকেও গর্ভধারণের একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের জন্য বেশ কয়েকটি কার্যকরী চিকিৎসা আছে। এছাড়াও প্রতিকারের পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্রের উপসর্গ পরিহার করতে আমি সব সময়ই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস অনুসরণ এবং সহজে অনুকরণযোগ্য জীবন-পদ্ধতি পরিবর্তনের উপদেশ দিয়ে থাকি। এ উপদেশগুলো গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করে।
আমার উপদেশগুলো
১। প্রচুর পানি পান করা।
২। ফাইবারসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, যেমন- ফাইবারযুক্ত বাদামি পাউরুটি, ফল, শাক-সবজি, ডাল ও মটরশুঁটি।
৩। একবারে অনেক খাবার একসঙ্গে খাবার পরিবর্তে অল্প করে সারাদিনে বেশ কয়েকবার খাওয়া অভ্যাস করা যা পরিপাকতন্ত্রের ওপর থেকে চাপ বা ধকল কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।
৪। মনে রাখতে হবে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেলে খাবারের সঙ্গে সারাদিনে পানি পানের পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে হবে।
জীবনপ্রণালী পরিবর্তনে আমার উপদেশ হবে-
১। অল্প করে কিন্তু নিয়ম করে প্রত্যেহ হালকা ব্যয়াম করা।
২। পিঠের নিুদেশে ওপর থেকে নিচে মর্দন করা।
৩। সকালে ঘুম থেকে ওঠার অথবা খাবার খাওয়ার পরপরই নিয়ম করে মলত্যাগের চেষ্টা করা। মলত্যাগের অনুভূতি এলে দেরি না করে মলত্যাগ করা।
গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের জন্য কার্যকর চিকিৎসা
১। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং জীবন পদ্ধতি অনুসরণ করার পরেও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় না হয় তাহলে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। অবশ্য মনে রাখতে হবে যে কোনো ওষুধ মায়ের শরীরে প্রবেশ করলে ভ্রƒণ/পেটের বাচ্চার ওপর তার পতিক্রিয়া হতে পারে। আর তাই বিশেষজ্ঞের উপদেশ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো এখন ধাত্রী বিদ্যায় শিক্ষিত মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছে এবং মিডওয়াইফ দ্বারা গর্ভকালীন মায়েদের সেবার অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে।
২। কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের জন্য যেসব ওষুধ পরিপাকতন্ত্রে থেকে যায় কিন্তু রক্তে প্রবেশ করে না যেমন ল্যাক্টুলোজ, গর্ভকালীন মায়েদের ব্যবহারযোগ্য কিন্তু সেনা জাতীয় ওষুধ নয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে পেটে ব্যথা হলে সবচেয়ে কম পরিমাত্রায় প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে শুধু স্বল্প সময়ের জন্য। কোষ্ঠকাঠিন্য যদি আরও জটিলতার সৃষ্টি করে তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
এর পরের সংখ্যায় গর্ভকালীন মায়েদের পাইলস সম্পর্কে আলোচনার ইচ্ছা রাখি।
গর্ভকালীন মায়েদের পাইলস বা হিমোরয়েডস
পাইলস বা হিমোরয়েডস পায়ুপথ ও মলাশয়ের শেষ অংশে অবস্থিত গদি বা বালিশের ন্যায় রক্তনালিসমৃদ্ধ স্ফীত অংশ, যা পায়ুপথ দিয়ে মল নির্গমণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যদিও সব মানুষের স্বাভাবিক দেহের অংশ, শুধু উপসর্গ দেখা দিলেই ওই স্ফীত রক্তনালিসমৃদ্ধ অংশগুলোকে পাইলস বা হিমোরয়েডস বলা হয়ে থাকে। যদিও পাইলসের উপসর্গ যে কোনো মানুষের হওয়া সম্ভব গর্ভকালীন মায়েদের গর্ভকালীন হরমনের প্রভাবে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি পায়, অনেক ক্ষেত্রেই পায়ুপথের বাইরে বেরিয়ে আসে এবং জটিলতার সম্ভবনা বহুলাংশে বেড়ে যায়।
পাইলসের যেসব উপসর্গ লক্ষণীয়
পায়ুপথে রক্ত যাওয়া সাধারণত টকটকে লাল, চুলকানি, বেদনা, জ্বালা অথবা পায়ুপথের চারিধারে ফোলা, মলত্যাগের সময়ে পায়ুপথে ব্যথা অনুভব করা এবং মলত্যাগের পর শ্লেষা নির্গমন, এক বা একাধিক পাইলস পায়ুপথের বাইরে বেরিয়ে আসা যেগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে মলত্যাগের পর পায়ুপথের মধ্যে ফিরে যায় অথবা চাপ দিয়ে ভিতরে পৌঁছে দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পাইলসগুলো সব সময়ে বাইরেই অবস্থান করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসের উপসর্গ সৃষ্টি করে ও বৃদ্ধি করে এবং তাই কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসের সঙ্গে থাকলে তার চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার আগে অথবা পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের উপসর্গ পরিহার করতে আমি সব সময়ই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস অনুসরণ এবং সহজে অনুকরণযোগ্য জীবন-পদ্ধতি পরিবর্তনের উপদেশ দিয়ে থাকি। এ উপদেশগুলো গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলস থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করে। এ উপদেশগুলো আমি আগেই কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কে আলোচনার সময় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি।
গর্ভকালীন সময়ে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা অথবা টয়লেটে বেশি সময় বসে থাকা সমীচীন নয়। অনেক সময় কাপড় বরফযুক্ত পানিতে ভিজিয়ে খুব হাল্কাভাবে পাইলসে চেপে রাখলে আরাম পাওয়া যেতে পারে। পাইলস বেরিয়ে এলে সাবধানতার সঙ্গে পিচ্ছিল লুবরিকেন্ট জেলি দিয়ে ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করতে হবে। মলত্যাগের সময় অযথা চাপ বা কোঁত দেয়া পরিহার করতে হবে। মলত্যাগের পর শুষ্ক কাগজের পরিবর্তে ভেজা কাগজ দিয়ে হাল্কা ছোঁয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার করতে হবে।
পাইলস ফুলে বা বেরিয়ে থাকলে ওমা গরম পানিতে পাইলস ডুবিয়ে বসলে অনেক সময় আরাম লাগতে পারে। উপসর্গ বেশি হলে ডাক্তার বা মিডওয়াইফের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রদাহনাশক ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করতে পারা যাবে। ডাক্তার বা মিডওয়াইফের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করা উচিত হবে না। জীবন সংকটময় জটিলতা না হলে গর্ভকালীন সময়ে সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা পরিহার করা হয় কারণ বাচ্চার জন্মের পরে সাধারণত পাইলস উপসর্গের উন্নতি হয়। বাচ্চা জন্মের পর যাদের গর্ভাবস্থায় পাইলস ছিল তাদেরকে ডাক্তারের অথবা মিডওয়াইফের কাছে পুনঃপরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
সংবাদ সূত্রঃ যুগান্তর অনলাইন নিউজ পোর্টাল
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ প্রশ্ন: বর্তমানে বডি স্প্রে বা পারফিউমে অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে স্প্রে ব্যবহার করে নামাজ আদায় করা যাবে কিনা? আর এই স্প্রে বিক্রি করা শরীয়তসম্মত কিনা?
উত্তর: প্রচলিত অধিকাংশ বডি স্প্রে ও সেন্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার ও বিক্রিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে না করাই উত্তম। এর বিপরীতে অ্যালকোহল মুক্ত আতর ব্যবহার করা উচিত।
অ্যালকোহল মিশ্রিত পারফিউম নিয়ে কিছু কথা মনে রাখা জরুরিঃ-
১) যেসব অ্যালকোহল খেজুর বা আঙ্গুর দ্বারা তৈরি করা হয়নি, সেগুলো মৌলিকভাবে নাপাক নয় এবং যতটুকু ব্যবহারে নেশার উদ্রেক হয় না ততটুকু ব্যবহার জায়েজ। এটি ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এবং ইমাম আবু ইউসুফের (রহ.) মতানুসারে।
(ফাতহুল ক্বদীর-৮/১৬০, ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-৫/৪১২, আল বাহরুর রায়েক-৮/২১৭-২১৮, ফাতওয়ায়ে মাহমূদিয়া-২৭/২১৯; তানভীরুল আবসার মা’আত দুররিল মুখতার ২/২৫৯)
২) বর্তমানে সুগন্ধিযুক্ত বস্তু যেমন- সেন্ট, বডি স্প্রে ইত্যাদি অ্যালকোহল ছাড়া প্রস্তুত করা দুষ্কর।
আর এখনকার সেন্ট বা বডি স্প্রেগুলোতে সাধারণত আঙুর, খেজুর বা কিসমিস থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছপালার ছাল, ভাত, মধু, শস্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট, অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদি থেকে প্রস্তুতকৃত অ্যালকোহল মেশানো হয়।
(এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪৪- প্রকাশকাল ১৯৫০)
আল্লামা তাকী উসমানীসহ বেশ কিছু আলেমদের স্বতন্ত্র গবেষণাতেও দেখা গেছে যে, বর্তমানে বেশিরভাগ অ্যালকোহল আঙ্গুর ও খেজুর থেকে তৈরি হয় না।
সুতরাং এসব বৈধ উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। তদ্রুপ ওষুধ তৈরিতে বা চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা যাবে। অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩৪৮,৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ ১/২৯৮)
৩) অনুরূপভাবে বিভিন্ন হালাল-হারাম উপাদান মিক্সড করে যদি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রিফাইন করার মাধ্যমে এর মৌলিকত্ব নিঃশেষ করা হয় তাহলে সেটিকে হারাম বলা যাবে না।
আর যদি সেসব হারাম বস্তুর মৌলিকত্ব বাকি থাকে, তাহলে এ বস্তু যাতে মিশ্রিত করা হবে তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে না। (নিহায়াতুল মুহতাজ লির রামালি-৮/১২)
কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৪৩৪৩)
মদকে যখন লবণ বা অন্য কিছু দ্বারা সিরকা বানিয়ে ফেলা হয়, তখন তা আমাদের (হানাফীদের) কাছে হালাল হয়ে যায়। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৪১০, মাজমাউল আনহুর-৪/২৫১, ফাতওয়ায়ে মাহমূদিয়া-২৭/২১৮)
তাই এসব বডি স্প্রে ও সেন্ট নাপাক নয়। আর এগুলো নেশার উদ্রেকও হয় না। উপরন্তু এসব উপাদানগুলো রিফাইনও হয় এবং শরীরে কোনো প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করে না। তাই এগুলো ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে এরূপ সেন্ট পরিত্যাগ করাই উত্তম। (জাদীদ ফিকহি মাসাইল: ১/৩৮; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম: ১/৩৪৮, ৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ : ১/২৯৮)
৪) আর যদি এতে নেশাজাতীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে, তবুও আহনাফদের কাছে এটি খাওয়া ব্যতীত এর পানীয় কাপড়ে বা অন্য কোথাও ব্যবহার করা সরাসরি হারাম ও নাপাক নয়। সুতরাং এক্ষেত্রে বডি স্প্রে ব্যবহার করলেও সালাত আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
ইমাম আবূ হানীফার (রহ.) মতে পানি না পেলে নাবীয (এক প্রকার মাদকতাময় পানীয়) দিয়ে ওজু করা যাবে। এদিক বিবেচনা করলেও সেন্ট ও বডি স্প্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম বলা যায় না।
একইসঙ্গে এই বিধান হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেমন হ্যাক্সিসল ইত্যাদি। যদিও এতে শতকরা ৭০ ভাগ অ্যালকোহল থাকে। তবুও এটি হাতে দিয়ে নামাজ আদায়ে সমস্যা নেই।
সংবাদ সূএঃ- যুগান্তর আনলাইন নিউজ পোর্টল
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ মাশরুমের চাষ করে স্বপ্ন দেখছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া গ্রামের সন্তান সাইফুল ইসলাম(৩০)। সাইফুল ইসলাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাশড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইফুল ইসলাম তার নিজ বাড়িতে শুরু করেছেন মাশরুমের খামার।তিনি তার মাশরুম খামারের নাম দিয়েছেন “সিনথিয়া মাশরুম খামার।এলাকার করিম বাজারে দিয়েছেন সিনথিয়া মাশরুম ফাস্ট ফুডের দোকান।
মাশরুম চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন,আমি দেশের বাহিরে ছিলাম। করোনার আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে নিজ বাড়িতে আসি।সারা বিশ্বে যখন করোনা মহামারি শুরু হয় তখন দেশ-বিদেশে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমি লকডাউনে আটকা পড়ে যাই।ইতিমধ্যে আমার বিদেশ যাওয়ার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।ফলে আমি বিদেশে যেতে পারি নাই।তখন চিন্তা ভাবনা শুরু করি দেশে নিজের একটা কিছু করতে হবে।
তিনি আরোও জানান, ইউটিউবে মাশরুমের খামারের ভিডিও দেখি।স্বপ্ন দেখতে শুরু করি মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।বাসাইল কৃষি অফিসের উপ-সহকারী রাশড়া ব্লকের আব্দুল মোতালবের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করি।তিনিই সাভার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের নাম্বার জোগাড় করে দেন।তারপর সাভার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউটে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নেই। মহামারি করোনার সময় বাড়িতে থেকেই মোবাইলে অনলাইন প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম সিটিং আইডির মাধ্যমে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ করি।
তিনি জানান,সাভারে গিয়ে ৭ দিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করি।সাভার থেকে বীজ নিয়ে এসে বাড়িতে মাশরুম চাষ শুরু করি।তিন মাস পর থেকে মাশরুম আসা শুরু করে।তার পর থেকে প্রতিদিন ৪-৫ কেজি মাশরুম পাচ্ছি।আমার মাশরুম খামারে ৪৫০টি স্পন বীজ প্যাকেট রয়েছে।প্রতিটি প্যাকেট থেকে দুইশ থেকে তিনশ গ্রাম মাশরুম পাচ্ছি।প্রতিটি প্যাকেটে খরচ হয়েছে ১৫-২০ টাকা।এবং খড়ের প্যাকেট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ৫৫০ টি। প্রতিটি খড়ের প্যাকেট করতে খরচ হয়েছে ৫০-৬০ টাকা।
আমার লক্ষ্য দুই হাজার বীজের প্যাকেট করবো।এছাড়াও কেউ যদি মাশরুমের প্যাকেট বীজ নিতে চায় তাদেরকে আমি দিবো।
উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী রাশড়া ব্লকের মোঃ আব্দুল মোতালেব বলেন,সাইফুল আমার সাথে যোগাযোগ করে আমি সাভার জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের কথা বলি।সাভার থেকে মাশরুমের প্রশিক্ষণ নেয়।তার খামারে এখন ৪৫০ টি স্পন বীজ প্যাকেট রয়েছে।মাশরুম খামার করে সে প্রতিদিন ৪-৫ কেজি মাশরুম পাচ্ছে।তাকে বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি যাতে করে অন্যরা তাকে দেখে মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
উপজেলা কৃষি অফিসার নাজনীন আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার( ৪ মার্চ)তার মাশরুম খামার দেখতে গিয়েছিলাম।কৃষি অফিস থেকে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।যাতে করে মাশরুম চাষ করে সে লাভবান হতে পারে।
তিনি আরো জানান,অল্প খরচে মাশরুম চাষ করে লাভবান হওয়া যায়।কম খরচে মাশরুম চাষ করা যায়।মাশরুম চাষ করতে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন হয় না।তাই বেকার বসে না থেকে এখনই মাশরুম চাষে আগ্রহী হওয়া।মাশরুম চাষের উপর প্রশিক্ষণ নেওয়া।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ দলের ভেতর-বাইরে চাপের মুখে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগের চাপ থাকলেও আমলে নেয়নি দলটি। একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এখন কিছুটা আত্মোপলব্ধি করছে বলে জানিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল। তারই অংশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বছরব্যাপী কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না জামায়াতকে।
অথচ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোটের শরিকসহ বিকল্পধারাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যজোট’ গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জামায়াতকে ত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। জোট গঠনের খসড়া রূপরেখাও তৈরির কাজ চলছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘ইতিবাচক’ রাজনীতির অংশ হিসেবে এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের পাশাপাশি আগামী ১০ এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার গঠনে’র দিনসহ বছরব্যাপী সব ঐতিহাসিক দিনকে উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে ২ মার্চ আ স ম আবদুর রবের পতাকা উত্তোলন দিবস এবং ৩ মার্চ শাজাহান সিরাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের দিনটিকে উদযাপনে কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচিতে জেএসডির সভাপতি আ স ম রবকেও আমন্ত্রণ করেছে বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতের ইস্যুসহ সব জোট নিয়েই বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন চলছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত ২০ দলীয় জোটের শরিক হলেও বিএনপির সব দলীয় কর্মসূচিতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। জোটের শরিক দলগুলো যার যার মতো করে দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্যজোট গঠন নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগ করলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে ওই জোটের ‘রূপরেখা’র খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ওই খসড়া রূপরেখা তৈরি করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিচ্ছেন। ওই জোটে যেসব দলকে টানতে চাচ্ছে, তারা জামায়াত ইস্যুতে কৌশলী ভূমিকা পরিহার করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের শর্ত দিয়েছে। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বাম ও অন্যান্য বড় ইসলামী দল।
সূত্র জানিয়েছে, ওই দলগুলোর বক্তব্য হচ্ছে, বিএনপি জামায়াত ইস্যুতে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে চায়। বিগত ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময়ও কৌশলী ভূমিকা নিয়েছিল। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের না জানিয়ে নিবন্ধনহীন জামায়াতকে ঐক্যফ্রন্টের বাইরে রাখলেও শেষ মুহূর্তে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিল, যা ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতাকর্মীরা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি।
নাম প্রকাশ না করে বৃহত্তর জোটে আসতে আগ্রহী কয়েক নেতা জানান, বিএনপিকে এবার বৃহত্তর ঐক্যজোট গড়তে হলে অবশ্যই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে। জামায়াতকে সঙ্গে রেখে বিএনপির রাজনৈতিক গুণগত মানোন্নয়ন হবে না। তারা বিষয়টি এখনই নিষ্পত্তি করতে চান। বিএনপিকে এবার আরও কৌশলী ভূমিকা নিলে ক্ষমতার বাইরে থাকার মেয়াদ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী তিন জোটের রূপরেখা বা প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়ন না করার বিষয়টিও সামনে স্মরণ করে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, জামায়াতকে জোট থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন বৃহত্তর ঐক্য গঠনের কাজ চলছে। ওই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে জামায়াতকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বোঝানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের। তারা আশা করেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, শুধু দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ পশ্চিমা শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকেও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ২০১২ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাত দিনের ভারত সফরের সময়ও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে অনুরোধ করেছিল দেশটি। তখন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান শিব শঙ্কর মেননের একান্ত বৈঠকে জামায়াত ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কাশ্মীরে বিভিন্ন হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন। ওই সময় খালেদা জিয়া অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। প্রমাণিত হলে জামায়াতকে জোটে রাখার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, দেশে আসার পর ছয় মাসের মাথায় জামায়াতের ডাকা হরতালের কারণে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করেন খালেদা জিয়া। জামায়াতপন্থি বিএনপি নেতাদের পরামর্শে খালেদা জিয়ার ওই সিদ্ধান্ত বিএনপির অনেক ‘বড় ভুল’ হয়েছে বলে মনে করেন দলের অনেক শীর্ষ নেতাও। এমনকি ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের তৃণমূল নেতাদের মতামত নিয়েছিল বিএনপি। তৃণমূল নেতারাও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ওই মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলী ভূমিকা নিয়ে জামায়াত ছাড়াই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছিল দলটির হাইকমান্ড।
নাম প্রকাশ না করে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, এখন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপি রাজনৈতিক গুণগতমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জামায়াত ইস্যুতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিকে এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রস্তাবনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপির সার্বিক রাজনৈতিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য একজন সদস্যকে একটি প্রস্তাবনা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই নেতা তার প্রস্তাবনায় জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে বের করে দেওয়ার সুপারিশ করেন। ওই প্রস্তাবের পর সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য জামায়াতের সঙ্গ ছাড়লে বিএনপির ভবিষ্যৎ মঙ্গল হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তবে স্থায়ী কমিটির দু’জন সদস্য জামায়াতের ভোটব্যাংকের কথা স্মরণ করে জোট থেকে বাদ দিলে সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সূত্র জানিয়েছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনও তার মতামত দেননি। এটি বিএনপির কৌশল বলে মনে করেন দলটির জামায়াতবিরোধী নেতারা। মির্জা ফখরুল দলের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শের বাইরে মতামত দেবেন না। তা ছাড়া স্থায়ী কমিটির নেতারা যাই বলুন- শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুই শীর্ষ নেতার মতামতই চূড়ান্ত।
২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই নানা ইস্যুতে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বিএনপিতে। জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের ফাঁসিতে বিএনপির প্রতিক্রিয়া না দেওয়া, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনার দায়ভার, খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়ার পরও জামায়াতের কোনো ভূমিকা না রাখাসহ নানা ইস্যুতে দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। এক যুগের টানাপোড়েনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনার পর দলের হাইকমান্ড কবে নাগাদ জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন- তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে।
১০ এপ্রিল ‘মুজিবনগর সরকার গঠনে’র দিন ‘দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করবে :বিএনপির নীতিনির্ধারক সূত্র জানিয়েছে, নানামুখী চাপ ও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে ১ মার্চ থেকে বছরব্যাপী বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিনগুলোতেও প্রথমবারের মতো নানা কর্মসূচি দিয়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের শরিক দলগুলোকে দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিবসেও কর্মসূচি রেখেছে দলটি। আগামী ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের দিনকে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বছরব্যাপী অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিবসগুলো পালন করবে, যা অতীতে কখনও পালন করেননি।
অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস ও স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। কোন স্বপ্নটি পূরণ হয়েছিল, কোনটি পূরণ হয়নি- তা জানানো। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার প্রধান আকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্র স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও পূরণ হয়নি। আমাদের এ উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের যাতে প্রকৃত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।
সংবাদ সূত্রঃ- সমকাল আনলাইন নিউজ পোর্টাল
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ লেখক ও সাংবাদিক মুসতাক আহমেদ ও সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে এবং স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েলের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা সেচ্ছাসেবকদল আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিল পুলিশির বাঁধায় পন্ড হয়ে গেছে।
শনিবার(৬মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আনসার ক্যাম্প রোড থেকে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে পৌঁছুলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয়। বাঁধা পেয়ে সেখানেই বিক্ষোভ মিছিলটির সমাপ্তি ঘোষনা করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, সহ-সভাপতি মনির হোসেন, লিটন পাল, অ্যাডভোকেট রিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান খান, প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামিম আল মামুন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী জুয়েলসহ স্বেচ্ছাসেবকদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে জেলা অটোরিক্সা, অটোটেম্পু ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবীতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার(৫ মার্চ) সকালে জেলার আঞ্চলিক শাখা কার্যলয় বেবীস্ট্যান্ডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা অটোরিক্সা অটোটেম্পু ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, সাবেক সভাপতি আব্দুল হালিম মিয়া ও হারুন অর রশিদ; কার্যকরী সভপতি শফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এস ইসলাম মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হাসান দুলাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অটোরিক্সা,অটোটেম্পু ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের ৩ বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা । কিন্তু বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৬ বছর অতিবাহিত হলেও নির্বাচন দেওয়া হচ্ছে না। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে একটি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের দাবী জানানো হয় সভায় । বক্তারা বলেন, নির্বাচের মাধ্যমে নেতা-কর্মী বাছায়ের ফলে কমিটির কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।
জেলা অটোরিক্সা, অটোটেম্পু ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন বলেন, আমরা শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী ১৪ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চেষ্টা করবো। এ লক্ষ্যে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি নির্বাচন নিয়ে কাজ করবে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন, দ্রুতই আহবায়ক কমিটি গঠন করে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করা হবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ঐতিহ্যবাহী পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্থআত্মসাত ও এক মহিলাকে যৌন হয়রানির অডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ফরহাদআলীকে (৪৫) স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে ।
তার বিরুদ্ধে আনিত অর্থ আত্মসাত ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ সন্দেহাতিত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাকে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করা হয়। রবিবার (১ মার্চ )সকালে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুই সন্তানের জননীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে শিক্ষক ফরহাদ আলীর যৌন উত্তেজক আপত্তি কর কথপোকথনের একাধিক অডিও ক্লিপস ভাইরাল হয়। এ ঘটনা বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রচার হলে এলাকা সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী উপজেলার শাখাইল গ্রামের দুঃখু মিয়ার ছেলে।
সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের ভারড়া গ্রামের হত দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রী আ. মোতালেবের স্ত্রী (৩৭) কে চাকুরী দেওয়ার সূত্র ধরে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হন পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
চাকুরী প্রত্যাশী ভুক্তভোগীর দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে মোবাইলফোনে ও সরাসরি প্রতিনিয়ত শারিরিক মিলনের জন্য কু-প্রস্তাব দিতে শুরু করে। পরে ভুক্তভোগী নারী টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাগরপুর আমলী আদালতে ৩ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি সে সময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার হলে কতৃপক্ষ ২১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অডিটের নামে সহকারী শিক্ষকদের নিকট টাকা নিয়ে তা আত্মসাত ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এ সকল অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় অবশেষে তাকে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্কুল পরিচলনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ তাহেরুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে স্পর্শকাতর । এখানে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করে। জেনে শুনে চরিত্রহীন ও বিদ্যালয়ের অর্থআত্মসাত কারিকে বহাল রাখতে পারিনা। প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের ফের স্কুল মুখী করতে এ সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার( ২ মার্চ) বিকালে ধর্ষণের শিকার এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।অভিযুক্ত হায়দার আলী (৪৮) উপজেলার দামিয়া এলাকার আবদুল কদ্দুস মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত হায়দার আলী দীর্ঘদিন ধরে কচুয়া বাজারে মনোহারী দোকান করে আসছিল। সে দুই সন্তানের জনক।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি জানান, ব্যবসায়ী হায়দার আলী প্রতিবেশী দুই শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে তার নিজ ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে প্রথমে শিশু দু’টিকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশু দু’টি অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়।
সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বদিউজ্জামান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। শিশু দু’টিকে ডাক্তারি পরীক্ষা জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই দুই শিশু অভিভাবকদের হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ অভিযুক্ত হায়দার আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে যথাযথ মর্যদায় পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালন করা হয়েছে। সোমবার (১ মার্চ) সকালে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে দায়িত্ব পালন কালে আত্ম-উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মানে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
পরে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেড মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক।
আয়োজিত স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-সদর(৫) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমাড্যান্ট ডিআইজি মো. ময়নুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে আত্ম-উৎর্সকারী টাঙ্গাইলের ৭৯ পুলিশ সদস্যের পরিবারকে সম্মাননা, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয় ।এদের মধ্যে গত বছর দায়িত্ব পালনকালে আত্ম-উৎর্সকারী আট পুলিশ সদস্যের পরিবারকে আইজিপি’র পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার করে টাকা, ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারকসহ উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।