একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বুলবুল (৬০) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকায় জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার ভাই কামরুজ্জামান খান জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে পহেলা এপ্রিল এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার আড়াইটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ টাঙ্গাইল আনা হবে। তারাবির নামাজের পর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান মসজিদে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রকাশ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে টাংগাইল সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক, টাংগাইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, টাংগাইল জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনিরুজ্জামান বুলবুল দায়িত্ব পালন করেছেন।
মনিরুজ্জামান বুলবুল ১৯৯৭ সালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ৯০ দশকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির দায়ে তিন মাটি ব্যবসায়ীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (১২ এপ্রিল) ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন উপজেলার চাঁনপুর এলাকায় অভিযানকালে এই জরিমানা করেন।
জানা যায়, উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের চাঁনপুর নদীর পাড় থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল কয়েকজন অসাধু মাটি কারবারি। খবর পেয়ে সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানকালে চাাঁনপুর গ্রামের রইজ উদ্দিনের ছেলে মিলন দেওয়ান, বেলতৈল গ্রামের তোতা শিকদারের ছেলে আলহাজ্ব শিকদার ও গোড়াই গ্রামের তারিফ মিয়ার ছেলে মোস্তফার ট্রাক আটক করেন বিচারক। পরে প্রত্যেককের কাছ থেকে ১ লাখ করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক জুবায়ের হোসেন জানান, জনস্বার্থ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে পুড়ে গেছে ২৩ টি দোকান। সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নিকরাইল বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার একাব্বর আলী জানান, দুপুরে নিকরাইল বাজারে একটি লেপতোষকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগেই পুড়ে যায় টিভি-ফ্রিজ, ইলেক্ট্রনিক ও মনোহারি সহ ২৩ টি দোকান। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে , এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা।
একতার কন্ঠ ডেস্কঃ বেগুনের বস্তায় ভরে ৩৫৫ বোতল নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতীয় ফেন্সিডিল পাচার কালে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। রবিবার(১১এপ্রিল)সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকা থেকে একটি পিকআপ সহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরাহলো, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী গ্রামের মৃত দুলা মিঞার ছেলে মোঃ নাজমুল ইসলাম (২২) এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদাই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম(২৫)।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ এরশাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি টহল দল বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় রংপুর থেকে ঢাকাগামী একটি সবজি বোঝাই পিকআপ (ঢাকা মেট্র-ছ ১২-০৩৬৮) আটক করে। পরে তল্লাশী চালিয়ে পিকআপে থাকা চারটি বেগুনের বস্তা থেকে ৩৫৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং ট্রাকের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফেন্সিডিল বহনকারী ট্রাকটিকেও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক বার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় অবশেষে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে পার হওয়ার সময় একটি বালুবাহী ট্রাক সহ ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কসহ পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর, সাটুরিয়া ও ঢাকাগামী সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।এর আগে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
জানা গেছে, নাগরপুর দরগ্রাম ভায়া ছনকা বাজার সড়কের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সংলগ্ন ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে এবং মাঝখানে ডেবে গিয়েছিল। এরপরও ওই সড়কে যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতো। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রিজটির এমন দশা থাকলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও তাদের উদাসীনতার কারণে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, রাতে ঝুকিপূর্ণ ওই ব্রিজ দিয়ে একটি বালুবাহী ট্রাক পারাপার হওয়ার সময় ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এরপর থেকেই ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রাকটি উদ্ধারে কাজ চলছে।
উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্রিজ ভাঙার বিষয়টি জানা নেই। আর বন্ধের দিন রাতে ফোন দিয়ে কেন বিরক্ত করছেন। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।’
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় ফাঁসি নিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার(৯ এপ্রিল)দিবাগত রাতের কোন এক সময় করটিয়া শীলপাড়া ভবতোষ মাঝির পরিত্যক্ত ঘরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের নাম মল্লিকা বেগম (৩০)। সে সদর উপজেলার গোসাইবাড়ী কুমল্লি গ্রামের মো. মিন্টু মিয়ার মেয়ে।
জানা গেছে, আট বছর পুর্বে মির্জাপুর উপজেলার হাট ফতেপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে বাদল মিয়ার সাথে পারিবারিক ভাবে মল্লিকার বিবাহ হয়। তাদের ঘরে মোস্তাকিন (৬) ও মুজাহিদ (৪) নামের দু’টি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী বাদল মিয়া অটোরিক্সা চালক। শুক্রবার রাত থেকে মল্লিকার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া জানান, শনিবার সকালে শীলপাড়া এলাকার ভোজন শীল ফোনে তাকে জানায়, শীল পাড়ায় তার মেয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিনকে ঘটনাটি জানান। পরে শাহীন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্বার করে।
এ বিষয়ে করটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,যেহেতু ফাঁসির ঘটনা, ময়না তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না ।
টাঙ্গাইল মডেল থানার সহকারী পরিদর্শক(এস আই) মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই । নিহতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের বাম হাতে একাধিক ক্ষত চিহ্নের দাগ পাওয়া গেছে।সম্ভবত ব্লেড দিয়ে কাটার ফলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতকে কেউ আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
প্রকাশ, এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ভোজন শীলের সাথে নিহত মল্লিকার সর্ম্পক ছিল। মনমালিন্যের কারনে মল্লিকা আতœহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন’ প্রকল্পে জনবল নিয়োগ দেবে। এই প্রকল্পে ২টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যে কেউ পদগুলোয় যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে যোগ দিতে পারবেন । অনলাইনে পদগুলোর জন্য আবেদন শুরু হয়েছে বুধবার (৭ এপ্রিল) থেকে। আবেদন করা যাবে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
পদের নাম- হিসাবরক্ষক
পদের সংখ্যা -১টি।
আবেদন যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে ১ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেতন স্কেল-১০২০০-২৪৬৮০ টাকা।
পদের নাম- অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর
পদের সংখ্যা- ১টি।
আবেদন যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে। কম্পিউটার চালনা ও অফিস অ্যাপ্লিকেশনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেতন স্কেল- ৯৩০০-২২৪৯০ টাকা।
আবেদনের বয়স ও নিয়ম
*আবেদনের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বেপরোয়া গতির দুই মোটর সাইকেল সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল-নাগরপুর আঞ্চলিক সড়কের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই মোটর সাইকেল চালক হচ্ছেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বরুহা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে নাজিম মিয়া (২৫)।
আহতরা হচ্ছেন, বরুহা এলাকার গোলাপ মিঞার ছেলে সোহেল রানা (২২) ও টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আশেকপুরের তারেকের ছেলে তন্ময় (২৬)।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার থানার এসআই এম এ আলমগীর জানান, দুই মোটরসাইকেলে দুই দিক থেকে তিন জন যুবক বেপরোয়া গতিতে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুইমোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে জেলায় ৪১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবউদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১৯ জন, দেলদুয়ারে তিন জন, মির্জাপুর নয় জন, কালিহাতীতে দুই জন, ঘাটাইলে দুইজন, মধুপুরে একজন এবং ভূঞাপুরে পাঁচজন নিয়ে মোট ৪১ জন।
এ নিয়ে জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো চার হাজার ২৭৪ জন। এদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন তিন হাজার ৮৭৯ জন। এ পর্যন্ত জেলা মোট মৃত্যুবরণ করেছে ৬৮ জন।
এদিকে, টাঙ্গাইল করোনা ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালে সর্বমোট ২১৮ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ১৫৭ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে ৫৪ জন করোনা রুগীকে। বর্তমানে টাঙ্গাইলে জেনারেল হাসপাতালে ছয় জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কাগমারা মেছের মার্কেট এলাকায় মাটিচাপা পড়ে মো. কবির মিয়া (৩৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কবির দেলদুয়ার উপজেলার গোমজানি এলাকার মো. আফাজ উদ্দিনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম জানান, মেছের মার্কেট এলাকায় করিম মিয়ার বাড়িতে কুপ খননের কাজ করছিলেন কবিরসহ তিন শ্রমিক। খননের একপর্যায়ে ওপর থেকে মাটির একটি বড় চাপ কবিরের ওপরে পড়ে। এতে তিনি মাটি চাপা পড়েন।
বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলার প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নে একটি আরসিসি ব্রিজ ও প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক স্থানীয় বৈরাণ নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে। পাউবো’র সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না করে নদী খননের কারণে সরকারের প্রায় কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বৈরাণ নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ধস নেমে এসেছে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৈরাণ নদী খনন করছে। বৈরাণ নদীর মোট ৩৭.৫ কিলোমিটার ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন ধাপে খনন করা হচ্ছে। এরমধ্যে ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দী থেকে গোপালপুর উপজেলার হাটবৈরাণ পর্যন্ত প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬ কিলোমিটার নদী খনন ২০২০ সালের জুনে শেষ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বৈরাণ নদীর ভাটিতে আরও সাড়ে ১১ কিলোমিটার খনন কাজ চলছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) কর্মকর্তারা নদী খননে পরিকল্পনাকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও এলজিইডি’র সঙ্গে সমন্বয় না করার কারণে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৪ লাখ চার হাজার ৬৫১টাকায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি আরসিসি ব্রিজ ও বন্দহাদিরা গ্রামের অংশে এলজিইডি’র প্রায় ৮০ লাখ টাকায় নির্মিত এক কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে গত বর্ষায় পাকা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে নগদাশিমলা বাজার থেকে হাদিরা হয়ে ধনবাড়ী উপজেলা সদরে সরাসরি যান চলাচল দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। শুস্ক মৌসুমেও ওই অংশে পাকা সড়ক ভেঙে পড়ছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও মালামাল নিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করায় মানুষের খরচ ও ভোগান্তি বেড়েছে। রাতে চলাচল করতে গিয়ে ইতোমধ্যে ১০-১২ ব্যক্তি আহত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমেই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বন্দহাদিরা গ্রামের অনেক বাড়িঘর আগামি বর্ষায় নদীগর্ভে চলে যাবে।
অন্যদিকে, হাদিরা ইউনিয়নের ভাদুরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পূর্ব-পশ্চিমে ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করে। ব্রিজটি বৈরাণ নদীর পূর্ব ও পশ্চিম(ডান ও বামতীরে) পাশের ৮-১০টি গ্রামের সেতুবন্ধন। পাউবো বৈরাণ নদীর ওই অংশে খনন করতে গিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজেদের প্রকল্পের স্বার্থে ব্রিজের অ্যাপ্রোচের মাটি কেটে তীরে জমা করে রেখেছে। অ্যাপ্রোচের মাটি কেটে ফেলায় ইতোমধ্যে গত বর্ষায় ব্রিজের আরসিসি পিলারে ফাঁটল ধরে দেবে গেছে। শুস্ক মৌসুমে ব্রিজের দুই পাশে বাঁশের সাঁকো লাগিয়ে স্থানীয়রা জরুরি প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে চলাচল করছে। কোন প্রকার ভ্যান-রিকশা বা অন্য যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্দহাদিরা গ্রামের ব্যবসায়ী আজহার আলী, হাদিরা গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম ফারুখ সহ অনেকেই জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার গোয়ালবাড়ী ঘাট ব্রিজের উত্তরে জনৈক প্রভাবশালীর জবরদখল করা জমি রক্ষার জন্য পূর্বদিকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে নদী খনন সম্পন্ন করেন। এতেই পাকা সড়ক ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে।
হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোজাম্মেল হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফিল্ড অফিসার এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে একাধিকবার বলেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের চ্যানেলে খনন করানো যায়নি। ফলে বর্ষায় নদীর ¯্রােত ওখানে বাঁক খেয়ে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করায় নদীতীর ও এলজিইডি’র পাকা সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।
তিনি আর জানান, ভাদুরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ৬০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটির অ্যাপ্রোচের মাটি না কেটে নদী খনন করার জন্য স্কুলের শিক্ষক-অভিভাবক সহ স্থানীয় লোকজন অনুরোধ করলেও ঠিকাদার ও পাউবো’র ফিল্ড অফিসার কথা রাখেন নি। এতে শুকনো মৌসুমেই ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, বৈরাণ নদী খনন পাউবো একতরফাভাবে করেছে। এলজিইডি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাথে তারা কোন সমন্বয় করে নাই। ফলে নির্মিত পাকা সড়ক ও ব্রিজের সুফল থেকে স্থানীয় জনসাধারণ বঞ্ছিত হচ্ছে।
গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে তাদের কোন কথাই হয়নি। পাউবো’র ঠিকাদার স্থানীয় সমস্যা বিবেচনায় না নিয়ে কাজ শেষ করেছে। এছাড়া জেলা নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তাদের ব্রিজটি সরিয়ে নেওয়ার কথা হয়েছিল কি-না তা তিনি জানেন না। ব্রিজের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার অবশ্যই পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
গোপালপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারের খামখেয়ালির কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এলজিইডি’র নগদাশিমলা-হাদিরাবাজার সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে হাত দিয়েছেন। কিন্তু বন্দহাদিরা এলাকায় নদীতীর না থাকায় সড়ক সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষা আসার আগেই কাজ শেষ করা হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঐতিহ্যবাহী বৈরাণ নদী যথাযথভাবে খনন করা হচ্ছে। বন্দহাদিরায় গত বর্ষায় তীর ভেঙে যাওয়ায় এলজিইডি’র সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটি যেহেতু এলজিইডি’র সুতরাং সংস্কার বা মেরামতের দায়িত্বও তাদের। নদীতীর সুরক্ষায় বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়ে থাকে- তখন ওখানে কাজ করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, বৈরাণ নদী খননের প্রাক্কালে জেলা নদী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ভাদুরীরচরের ৬০ ফুট ব্রিজটি সরিয়ে নিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত ব্রিজটি কেন সরানো হয়নি তা বোধগম্য নয়।