একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠিবারি খেলা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যান থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয় ।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা
শোভাযাত্রাটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
এই সকল কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমানে বীথি আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার শোলা প্রতিমা গ্রামের বাবার বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ‘প্রেমিকের হাতে’ প্রবাসীর স্ত্রী খুনের অভিযোগ
নিহত বীথি আক্তার উপজেলার শোলা প্রতিমা গ্রামের তুলা মিয়ার মেয়ে এবং কৈয়ামধু গ্রামের সৌদি প্রবাসী আসরব আলীর স্ত্রী। তাঁদের ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বেশ কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে গৃহবধূ বীথির কথা-কাটাকাটি চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে গৃহবধূর মা ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বীথি আক্তারকে দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সখীপুর থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কলা বোঝাই একটি ট্রাকের ধাক্কায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান (৭০) নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের বেইলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বেইলা-সাগরদিঘী আঞ্চলিক সড়কে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ‘প্রেমিকের হাতে’ প্রবাসীর স্ত্রী খুনের অভিযোগ
নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমান উপজেলার বেইলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আকন্দের বাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসরে যান ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে অটোভ্যান যোগে বেইলা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে সাগরদিঘী বাজারে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর গেলে বেইলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে আসা একটি কলাবাহী ট্রাক তার অটোভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুরুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে সাগরদিঘী বাজারে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করেছে সাগদিঘী পুলিশ ফাঁড়ি । তবে চালক পলাতক রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে সুপরিচিতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নে দলের ভিত মজবুত করতে দীর্ঘদিন যাবত নেতাকর্মী ও মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি । এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বিতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য (মেম্বার)নির্বাচিত হয়েছেন।বর্তমানে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানের হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ‘প্রেমিকের হাতে’ প্রবাসীর স্ত্রী খুনের অভিযোগ।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে দলের জন্য কাজ করে স্হানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর বিশ্বস্ততা অর্জন করেছেন । দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে নেতাকর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছেন আস্থাভাজন।
কিছুদিনের মধ্যেই গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন হবে।আর এই কমিটির সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন নরুল ইসলাম। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সমর্থকরাও নুরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদকের পদে দেখতে চায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্হানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, নুরুল ইসলামের জনপ্রিয়তার রয়েছে। যার কারণে তার মতো নিঃস্বার্থ আওয়ামীলীগকর্মীকে অন্য দলের তকমা লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
এ ব্যাপারে নুরুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছি। তৃণমূল পর্যায়ে আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে নিয়ে গুটিকয়েক হীন চরিত্রের মানুষ মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছেন পদ পাওয়ার আশায়।
গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাসুদ সরকার জানান, ছাত্রজীবনে নুরুল ইসলাম বিদেশ চলে যান। প্রবাসে জীবন শেষ করে এলাকায় এসে তার বড় ভাই গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল বাছেদের হাত ধরে আওয়ামীলীগের কর্মী হয়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। তাহলে কীভাবে সে বিএনপির রাজনীতি করেছেন এটা আমার বোধগম্য নয়।
গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি খায়রুল আলম বলেন,নুরুল ইসলামের রাজনীতির শুরুটাই আওয়ামীলীগ দিয়ে।তার মতো কর্মীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করলে দলের জন্য উপকার হবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সংরক্ষিত আসনের সদস্য মোরশেদা খানম ডলি বলেন,কয়েক যুগ ধরে আওয়ামীলীগ করি।এই ইউনিয়নে কে কোন দল করে আমি খুব ভালো করেই জানি।নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট। দলের মধ্যে এমন বিভেদ সৃষ্টি যারা করছে তারা কখনো দলের মঙ্গল চায় না।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন,নুরুল ইসলাম আওয়ামীলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে সে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে
একতার কণ্ঠঃ উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, অসাধু কিছু জেলে যমুনা নদীতে অবৈধ চায়না (আপা) জাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন শুরু করেছেন।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ঝড়ে ঘরের নিচে চাপা পড়ে নিহত ১
এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামান জাটকা ধরা বন্ধে নদীতে অভিযান চালায়।
এ সময় অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটকসহ অবৈধ চায়না জাল জব্দ করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করেন গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
এরপর গোবিন্দাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মো. আলাউল ইসলাম।
এ সময় আটককৃত ১০ জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া জব্দকৃত ৬টি চায়না জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মো. আলাউল ইসলাম জানান, নদীতে অবৈধ চায়না জাল দিয়ে জাটকা নিধন বন্ধে প্রশাসন তৎপর। জাটকা ধরা বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঝড়ের সময় ঘরের নিচে চাপা পড়ে আছাতন নেছা নামের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে।রবিবার (১০ এপ্রিল) ইফতারের পর বয়ে যাওয়া মাঝারি ঝড়ে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ওই ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৩
নিহত আছাতন নেছা উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ কিসমত আলীর মাতা।
জানা যায়, ঝড়ের সময় বাতাসে ঘরের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়লে ঘরের নিচে চাপা পড়ে তিনি মারা যান।এ সময় ঘরে তিনি একাই ছিলেন। তার স্বামী শাহাবুদ্দিন মুদি দোকানদার ঝড়ের সময় বাজারের দোকানে ছিলেন।
পরিবার সুত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ এপ্রিল) সকালে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বজ্রপাতে মঈন উদ্দিন (৫০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা দুটি গরুও মারা গেছে।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
রোববার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার গোলাবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন কাইতকাইত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গোলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বলেন, ‘মঈন উদ্দিন সন্ধ্যায় মাঠে গরু আনতে যায়। বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা একটি গাভী ও বকনা বাছুরও বজ্রপাতে মারা যায়।’
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের নামদার কুমল্লি খান পাড়া গ্রামে ”মেসার্স জিহাদ মটর’স নামে একটি শো-রুম বৃহস্পতিবার(৭ এপ্রিল) রাতে দুর্বত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ঘটনাটি পুর্বপরিকল্পিত এবং এতে শো-রুমের দুইটি সিএনজি , কাগজ পত্র ও নগদ টাকাসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি শো-রুমের মালিক মো. ইব্রাহীম খাঁন অনিকের।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইল কারাগারে নারী হাজতির মৃত্যু
জানাগেছে, প্রতিদিনের ন্যায় মেসার্স জিহাদ শোরুমের মালিকের শ্বশুর মো. মনির হোসেন খান(৬৫) আছরের আযান দেওয়ার পর শো-রুম বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। রাত সাড়ে দশটার দিকে শোরুমে আগুন দেখেন আশেপাশের লোকজন। এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের আনার চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই জিহাদ মটরসে বিক্রয়ের জন্য রাখা দুইটি নতুন সিএনজি (বাজাজ), গুরুত্বপূর্ন কাগজ-পত্রসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত অনিকের পিতা, মো. সোরহাব আলী খান বলেন, তিনি পয়ত্রিশ বছর সৌদি আরবে থেকে তার সারাজীবনের অর্জিত টাকা দিয়ে ছেলেকে শোরুম করে দিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন, পুর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলের শোরুমে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে ত্রিশ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কারাগারে নাদিরা জাহান শেলী (৪০) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ( ৯ এপ্রিল) ভোর রাতে কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
তিনি সখীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিনহাজের স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
জেল সুপার জানান, ‘গত সোমবার ৪২০ ধারায় প্রতারণা মামলায় সখীপুর থানা থেকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত শেলী সুস্থ ছিলেন। রাত ৩টার সময় সবাই সাহরি খাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠলে তাঁর আশপাশের লোকজন শেলীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, ‘ধারণা করা হচ্ছে-শেলী ঘুমের মধ্যে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার দাপনাজোড় রেল ক্রসিং এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
নিহত কলেজছাত্র অন্তর খান (১৮) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার টি-ভাতকুড়া এলাকার মো. নজরুল খানের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল সৃষ্টি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে অন্তর খান মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে তিনি বাসাইল উপজেলার দাপনাজোড় এলাকার রেল ক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে কাটা পড়েন।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশেই পার্কিং করা ছিল। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশের ঘারিন্দা ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘারিন্দা রেলের স্টেশন মাস্টার সোহেল খান বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে চাওয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এর প্রতিবাদে ভাতিজা হিমেল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী শনিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হিমেল রহমান জানান, তার বাবার মৃত্যুর পরে তাদের গ্রামের বাড়ি ও জমি ভাগ বন্টন করা হয়। তার চাচা লুৎফর রহমান সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেয়। তার সকল সিদ্ধান্তই ছিলো আইন বহির্ভূত ছিল। ওই সময় তারা দুই ভাই থাকায় জমি-জমা সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলো না। বর্তমানেও জমির কাগজপত্র তেমন বুঝে না। চাচা লুৎফর রহমান সরলতার সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের জমিগুলো তাদেরকে দিয়ে এবং চাচা ভালো মানের জমিগুলো নিয়েছে। ঠিক তেমনভাবে তাদের শহরের বাসায় রাস্তার সাথের দামি জমি লুৎফর রহমান নিয়েছে এবং তাদেরকে পেছনের জমি দিয়েছে।
তিনি আরো জানান, সেই জমির পরিমানও কম ছিলো। শহরের পূর্ব আদালত পাড়াই তাদের বাসায় তিনিসহ তার তিন চাচার জমি। সাড়ে ১৭ শতাংশ জমিতে ডেভোলাপারের কাছে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দেয়া হয়। সেখানে তার জমি রয়েছে সারে ৪ শতাংশ। আর বাকি জমি লুৎফর রহমানসহ তার তিন চাচার। ডেভোলাপার কাজ শুরু করলে তার চাচা বিভিন্ন সময় ডেভোলাপারের সাথে খারাপ আচরণ করত। তার এই খারাপ আচরণের কারণে ডেভোলাপার কাজ বন্ধ করে চলে যায়। এই ভবন নির্মাণের কাজ বিভিন্ন কারণে শুরুতেই ৪ বছর বন্ধ থাকে। এদিকে তারা অনেকবার ডেভোলাপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েকজন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন।
তিনি আরও জানান, তার চাচা তাদেরকে জানান কোন ডেভোলাপারকে কাজ দেয়া যাবে না। তিনি নিজেই কাজ করবেন। তখন তিনিসহ তার আরও দুই চাচা লুৎফর রহমানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। লুৎফর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীপ ইঞ্জিনিয়ার। তিনি এই বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তালবাহানা করতে থাকেন। চারটি ছাদ করার পর হঠাৎ একদিন তাদের চাচা জানান, তার পক্ষে এই ভবনের আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে তিনি ছেলে ও মেয়ের সাথে আমেরিকায় চলে যান। এই ভবনের ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমানের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। পরে তিনি ৮০ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করে। তারপর পুনরায় ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে পর্যায়ক্রমে ১০ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই শেষ করে। দুই বছর পর ২০২০ সালে চাচা দেশে চলে আসে। দেশে এসে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তার চাচা মাঝে মধ্যে এসে তার কাছ হতে ফ্লাট বিক্রি করার টাকা ধাপে ধাপে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এই ভবনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করে চাচা। এক পর্যায়ে তিনি ভবন নির্মাণের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ভবন নির্মাণের যাবতীয় টাকা দাবি করলে টাকা ও ফ্লাটও রেডি কওে হিমেলকে দেয়া হয়নি।
হিমেল জানান, বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মামুনকে জানানো হলে ২০২১ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরের মাধ্যমে শালিসী বৈঠক করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ শালিসী বৈঠকে ৩ মাসের মধ্যে ৬টি ফ্লাট তাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। কোনভাবেই তার চাচা মানতে রাজি হয়নি। প্রতিবাদ করলে তার চাচা ও চাচীর নির্দেশে ৬ তলার আমার ফ্লাটটি ভেঙে দেয়া হয়। বিষয়টি তার চাচার কাছে জানতে চাইলে হুমকি দেয় হিমেলকে। গত ১৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় দুই কোটির টাকার মামলা দেয়া হয়। তার চাচা প্রভাবশালী ও বিত্তশালী হওয়ার কারণে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া তাকে ধরার জন্য পুলিশ মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি আইনজীবীদের পরামর্শে হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসেন। সরকার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা কামনা করেন হিমেল।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চাচা লুৎফর রহমান বলেন, আমরা আমেরিকায় চলে যাওয়ার পরে হিমেলকে এ ভবনটি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন সে বেশ কয়েকটি ফ্লাটও বিক্রি করেছে। আমি হিমেলকে কোন প্রকার ভয়ভীতি দেখায়নি। উল্টো হিমেল আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। পরে আমি টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দিয়েছি। অপরদিকে হিমেলও আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ পাপ-শাপ মোচনে ভোরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে মহাষ্টমীতে স্নান করতে পূণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেছেন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা।
আরো পড়ুনঃ ইউএনওর বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
করোনার ভয়াবহতা কাটিয়ে শনিবার (৯ এপ্রিল) সকালে প্রতিবারের মতো এবারো যমুনা নদীর পাড়ে ৩০০ বছরের পুরোনো শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে পূণ্যস্নান উৎসব এবং মেলার আয়োজন করেছেন উপজেলার খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া ও গোবিন্দাসী গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাশঁ-বেতের আসবাবপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, পুতুল, ঘোড়া, ট্রাক গাড়ি, হাড়ি-পাতিল, মাছের দোকান, চিড়া-মুড়ি, দইসহ দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই পূণ্যস্নানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ছাড়াও গোপালপুর, কালিহাতী, ঘাটাইলসহ সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নানা বয়সী হাজারো ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা যমুনা নদীর পাড়ে আসছেন।
এ সময় তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে বিভিন্ন মানত ও দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন। সব মিলিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
স্নান করতে আসা ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের সাবেক প্রভাষক সুহাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘যমুনায় স্নান তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে পুণ্যার্থীরা স্নান করছে তাদের মনবাসনা পুরণের জন্য।’
সাধন দাস, রঞ্জিত কর্মকর্তা, সুবীরসহ অনেকেই জানান, নদীর পাড়ে নতুন জলে পূণ্যস্নান করেছি ও পূজা দিয়েছেন। মহাষ্টমীতে এখানে স্থানীয় লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মেলা দেখতে আসেন।
পূণ্যস্নান ও মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ বলেন, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাপ মোচনের আশায় যমুনা নদীতে স্নান করতে এসেছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় স্নান উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।