টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মাদ্রাসার জমির বিরোধে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা


০৯:৫৯ পিএম, ৪ অগাস্ট ২০২১
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মাদ্রাসার জমির বিরোধে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা - Ekotar Kantho

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে একটি মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাতশ্রী জামে মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। ৩০০ পরিবারের সমাজ থেকে ৫০টি পরিবার আলাদা হওয়ায় ওই সমাজে দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে এসে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, বিগত ১৯৯৬ সালের ১৬ জুন তাতশ্রী মৌজার ১৮১ ডিপি খতিয়ানের (সাবেক খতিয়ান ১৩৯) ৪৬৮ হাল দাগের (সাবেক দাগ ২৯৭) ২৪ শতাংশ ভূমি স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তি তাতশ্রী দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে ওয়াক্ফ দলিলমূলে দান করেন।

২০০৫ সালে মাদ্রাসার আয় বাড়ানোর জন্য পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। মার্কেটের কক্ষগুলোর মধ্যে স্থানীয় আব্দুল কাইয়ুম দুইটি ও ওসমান গনি একটি দোকান ভাড়া নেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দোকান তিনটি যথারীতি ভাড়া পরিশোধ করে পরিচালনা করা হয়। পরে কৌশলে দোকানের ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে ওসমান গনি ও তার দুই ভাই বাদী হয়ে দোকান ঘরের মালিকানা দাবি করে টাঙ্গাইলের সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা(নং-৮/২০২০খ্রি.) দায়ের করেন।

মামলার নোটিশ পাওয়ার পর মাদ্রাসা ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল(শুক্রবার) বাদ জুমআ তাতশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে লাউহাটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ফিরোজের সভাপতিত্বে এক গ্রাম সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। সালিশে মাদ্রাসার দোকান ওসমান গনি মাদ্রাসা কমিটির কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওসমান গনির দখলে থাকা দোকানটি তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।

তাতশ্রী দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. মনির উদ্দিন, স্থানীয় সাহাদাৎ হোসেন খান, তোফায়েল আহাম্মেদ, নুরনবী আলামিন, আবুল হাসেম মিয়া সহ গ্রামের অনেকেই জানান, তাতশ্রী জামে মসজিদের আওতাভুক্ত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের দান-অনুদানে দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসার মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে ২৪ শতাংশ ভূমির বিএস রেকর্ড রয়েছে। ভূমির খাজনা-খারিজ ও ডিসিআর মাদ্রাসর সাধারণ সম্পাদকের নামে রয়েছে।

মামলার অন্যতম বাদী ইয়াছিন আলী জানান, পৈত্রিকসূত্রে তারা মাদ্রাসার ২৪ শতাংশের মধ্যে ১২ শতাংশের মালিক। তার চাচা মরহুম খোরশেদ আলী জীবদ্দশায় তার বাবা আহাদ আলীর অংশ সহ মাদ্রাসায় ওয়াক্ফ করে গেছেন। তাই তারা ভূমির স্বত্ত্ব দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

লাউহাটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ফিরোজ জানান, তাতশ্রী দুখী হাজী মাদ্রাসার ভূমি যথারীতি ওয়াক্ফকৃত। গ্রাম্য সালিশে মাদ্রাসার মার্কেটের দোকান মাদ্রাসা কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে মাদ্রাসাটি ‘দুখী হাজী’র নামে প্রতিষ্ঠা করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অসুস্থ থাকায় বিষয়টি সমাধান হয়নি, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টির মিমাংসা করা হবে।


পাঠকের মতামত

-মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।