একতার কণ্ঠঃ এসো হে নবীন, এগিয়ে চল অবিরাম, অন্তহীন ভোরের সুর্যের প্রথম আলো, স্বপ্নডানা মেলে জয়ের অগ্নি হৃদয়ে ঢালো এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার বানিজ্যিক এলাকা করটিয়া এইচ এম স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীন বরণের মাধ্যমে কলেজে ভর্তি হওয়া নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের বরণ করে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুরে স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতায় বরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন, কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাংসদ ছানোয়ার হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আনছারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান টি সঞ্চালনা করেন, কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম ও প্রভাষক মো. সোলায়মান দেওয়ান।
এসময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মণ্ডলী, ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক বিমল চন্দ্র সুত্র ধর সহ অনেক শিল্পী গান পরিবেশন করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
শনিবার (১১ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের কাগমারী-চারাবাড়ী সড়ক ৩ ঘন্টা অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা- কাগমারী মোড় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকে পুলিশ বক্স স্থাপন, গতিরোধক ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবস্থা, প্রধান ফটক থেকে দ্বিতীয় গেটে পর্যন্ত ফুটপাত স্থাপন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিঘী সংলগ্ন দোকান অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইমনকে ধাক্কা দেওয়া সিএনজি অটোরিকশা চালকের বিচারসহ ৫ দফা দাবি জানান তারা।
এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। এছাড়া সিএনজি চালকসহ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য আইনের আশ্রয় নেব।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মুছা মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা মানিক শীল ও হুমায়ূন কবির।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের কাছে গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. ইমন সিএনজি অটোরিকশার চাপায় আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে ইমনের মাথায় রক্তক্ষরণের অপারেশন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ব্যবসায়ী কহিনূর হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-১৪।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিন হায়দার চৌধুরি সাদি (৪৩)। তিনি মামলার প্রধান আসামি সামী চৌধুরির বড় ভাই। অপরজন হলেন, বায়েজিদ হোসেন বাজে (৪৫)। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ)রাতে পৃথক জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে তাদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ মামলার অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত ২ আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যম জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কহিনুর আলী হত্যা মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামীকে গ্রেফতার করে র্যাব । গ্রেফতারকৃতরা হলো, ঘাটাইল উপজেলার উত্তর ধলাপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বায়োজিত ওরফ বাজ (৪৫) ও একই এলাকার মৃত বজলুল হায়দার চৌধুরীর ছেলে ববিন হায়দার চৌধুরী। বায়োজিত ওরফে বাজকে ঘাটাইল উপজলার মমিনপুর এলাকা এবং ববিন হায়দার চৌধুরীকে টাঙ্গাইল শহরের পলিটেকনিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরা জানায়, শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবাইয়াৎ ফেরদৌস, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম ও ময়মনসিংহের কারিতাসে আঞ্চলিক পরিচালক অপূর্ব ম্রং।
স্বাগতিক বক্তা হিসেবে আদিবাসী ছাত্র সংগঠন সাবেক সাধারণ সম্পাদক বকুল চন্দ্র বর্মণ ও সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন আনসেং দালবত ও স্নেহা স্নাল।
প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান হিসেবে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ডেভিড নোয়েল বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের বাংলা ভাষার পাশাপাশি নিজেদের মাতৃভাষাতেও কথা বলতে হবে। যদি পারি তবে ইংরেজি ভাষাতেও কথা বলতে হবে। বর্তমানে আমাদের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো গ্রহণ করতে হবে এবং সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে টাঙ্গাইলের চার নারী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছ। বুধবার (৮ মার্চ) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধিত চার বীর নারী মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন- ঘাটাইল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরা খাতুন, সখীপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছা. ফাতেমা খাতুন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শেফালী ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল গ্রামের রবিজান বেওয়া।
এদেরকে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের পক্ষ থেকে নতুন শাড়ি ও উত্তরীয় পরিয়ে, ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সন্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্বর্ধনা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিজান বেওয়া তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এতো সম্মান পাবো সেই লোভে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেইনি। তারপরও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সময়ে আমরা অনেক সম্মান পাচ্ছি। এ জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাতেমা খাতুন বলেন, দেশকে ভালবেসে ও দেশ মাতৃকাকে রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার আমাদের যে সম্মান করছে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্য কোন সরকার আমাদের এতো সম্মান করেনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার প্রতিটি ভালো কাজে আমাদের সাথে রাখায় আমরা গর্বিত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেফালী বলেন, গত ১৪ বছরে অনেক সম্মান পেয়েছি। আমার বাড়ি ঘরের অবস্থা ভাল নয়। আমাকে সরকারিভাবে বীর নিবাস করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, টাঙ্গাইলের আট নারী বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে দুই জন নিহত ও দুই জন অসুস্থ থাকায় বাকি চার নারী মুক্তিযোদ্ধাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে সংবর্ধনা জানাতে পারায় জেলা প্রশাসন গর্বিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দিবস পালন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি, টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আহসানুল বাসার, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতীক, সাবেক ডেপুটি জেলা কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রম ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ। পরে এক মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের জনসেবা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকালে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় ১২ ল্যাপটপ উদ্ধারসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। সোমবার(৬ মার্চ) বিকেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক ৩ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। চুরির ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এপ্রিল পল মৃ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মো. রেজাউল করিম (২১),শোলাকুড়ি কুড়ালিয়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে শরীফ ওরফে শুভ (২০),ধনবাড়ী উপজেলার উখারিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মুক্তার হোসেন (২৪),মমিনপুর কাউচিবাজার গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. ইমরান (১৯) একই গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো.খায়রুল ইসলাম (১৯) মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাইদ (২২), ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর নয়াপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে ওমর সানি (২৫)।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গত ২২ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের যে কোন সময় ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৬ টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ল্যাপটপ সহ যার আনুসাঙ্গিক মালামালের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। চুরির ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের নির্দেশনায় দ্রুত মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম এস আই মনির হোসেনের নেতৃত্বে নিরন্তর চেষ্টা চালায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চুরির ঘটনার সাথে জড়িত মো. রেজাউল করিমকে রবিবার ভোর রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানা এলাকার ওমর সানি ও আবু সাইদকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে মুক্তার হোসেন, মো. ইমরান, মো. খায়রুল ইসলাম ও মো. শরীফ ওরফে শুভকে জেলার মধপুর ও ধনবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রেজাউল করিমের হেফাজতে থাকা ৬টি ,ওমর সানির কাছ থেকে ২ টি ও আবু সাইদ, ইমরান, খায়রুল মুক্তারের নিকট থেকে ১টি করে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক রেজাউল, ওমর সানি ও আবু সাইদকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এছাড়াও বাকি চার জন চোরাইকৃত ল্যাপটপ ক্রেতা ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে তৃতীয় সমাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মনোনীত কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি সভাপতিত্ব করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন, সেণ্টার ফর দ্যা রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্যা প্যারালাইজডের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ও কো-অর্ডিনেটর ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন। পদক প্রদান নীতিমালায় পরিবর্তন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবারের সমাবর্তন বয়কট করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, তৃতীয় সমাবর্তনে এবার এক হাজার ৭২৮ জন নিবন্ধন করেছেন। রোববার সকাল থেকেই তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতে শুরু করেন। অনেকে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে আসেন। তারা সমাবর্তনস্থলে ছবি তুলে, আড্ডা দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগ পর্যন্ত নানা খুনসুটিতে সময় কাটান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান তার মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সমাবর্তনে আসেন। তিনি জানান, কৃষক মা-বাবা অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। তাই এই দিনে মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, আগের দুটি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর ও ডিনস পদক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন এনেছে।
পরিবর্তিত নীতিমায় স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ডিনস পদক দেওয়া হচ্ছে না এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে কোনো পদকের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সমাবর্তনে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ তত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইসতিয়াক আহমেদ তালুকদার জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ৫২ জন ছাত্র বর্তমানে শিক্ষক হিসেবে চাকুরি করছেন।
এছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষক পদক নীতিমালার পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তাদের অনেকে সমাবর্তনে অংশগ্রহন করেন নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুইজন শিক্ষার্থী ও ভাইস চ্যান্সেলর পদক পাচ্ছেন তিন জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার হাজার ৪৩৩ জন বিএসসি (অনার্স) মাস্টার্সের শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে দুই হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী সনদ নেন।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ঘোষণা করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের পর স্মার্ট বাংলাদেশের পরিকল্পনা এ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত।
রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণে আপনাদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আদর্শের দিকে তাকান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং তাঁর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের দিকে তাকান, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ, অকুতভয় মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। আজ দেশ ও জাতি আপনাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। আপনাদের মেধা, শ্রম ও গবেষণার দ্বারাই এই জাতির যাবতীয় সংকটের অবসান ঘটবে। আপনারা দেশ ও জাতির সামনে আশার আলোস্বরূপ। আপনাদের কর্মস্পৃহা এই দেশকে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদে ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আমাদের মতো দেশে যাঁদের প্রাকৃতিক সম্পদ খুব সীমিত, সেখানে দক্ষ মানবসম্পদ বেশি গুরত্বপূর্ণ। আপনাদের মতো তরুণরাই আমাদের দেশের বিরাট শক্তি ও প্রকৃত সম্পদ। এই তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগাতে বর্তমান সরকারও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় আপনাদের নিজেদেরও দক্ষ করে তুলতে হবে।’

খাদ্য নিরাপত্তার প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ, অবরোধ-পাল্টা অবরোধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী ‘খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা’ বেড়েছে। বেড়েছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং বহুমুখী দুর্যোগের মধ্যেও বিশ্বে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তব্য দেন পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজডের (সিআরপি) পরিকল্পক ও প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরহাদ হোসেন, সহ–উপাচার্য এআরএম সোলাইমান, রেজিস্ট্রার তৌহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন ও খন্দকার মমতা হেনা, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ সেণ্টার ফর দ্যা রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্যা প্যারালইজডের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ও কো-অর্ডিনেটর ভ্যালেরি অ্যান টেইলর টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছেন, আজ এই শুভ দিনে সরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনারা ডিগ্রি গ্রহণ করে জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে চলেছেন।
আপনাদের শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের প্রচুর টাকা ব্যয় হয়েছে। এই টাকা এসেছে এদেশের কৃষকের কাছ থেকে, শ্রমিকের কাছ থেকে, মেহনতি মানুষের কাছ থেকে। তাই রাষ্ট্রের জনগণের প্রতি আপনাদের কৃতজ্ঞ হতে হবে। তাদের প্রতি আপনাদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে। রবিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
তিনি বলেন- আশাকরি, আপনাদের মেধা, শ্রম, সেবা, নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজকে আধুনিকায়ন, বিজ্ঞানমুখী ও প্রগতিশীল করতে এগিয়ে আসবেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবেন এবং নিজেও সফলতা অর্জন করবেন।
ভ্যালেরি বলেন, শুরুতে জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল জ্ঞান শক্তির বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে জীবিকা, সম্পদ ও মানবসেবাও করা যায়। এভাবে শিল্প, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বিকাশ ঘটে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভাবে মানুষের ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে।
তিনি বলেন, মানব সভ্যতার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি অপরিহার্য। প্রযুক্তি জ্ঞানের ব্যবহারিক দিক এবং এটি বিজ্ঞানের অনুশীলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। পশ্চিমে আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতি মূলত বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। অনেক মহান বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং পন্ডিত এই অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন।
সমাবর্তন বক্তা ভ্যালেরি বলেন, আমাদের সাধারণ ধারণা হলো সমাবর্তন শুধুমাত্র স্নাতকদের জন্য, তবে এটি সম্পূর্ণ সত্য নাও হতে পারে। সমাবর্তন যতটা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ততটা তাদের অভিভাবকদের জন্য। আমি স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিনন্দন ও স্বীকৃতি জানাই।
এসময় মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদের পক্ষে কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এআরএম সোলাইমান, রেজিস্ট্রার ডক্টর মোহা. তৌহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ডক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের), সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ সমাবর্তন প্যান্ডেলের সামনে মানববন্ধন করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) অ্যালামনাই শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৪ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে পদক প্রদানে নতুন নীতিমালা বৈষম্যমূলক দাবি করে তা বাতিলসহ আগের নীতিমালা বহালের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের দুইটি সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর এবং ডিনস তিনটি ক্যাটাগরিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় পদক দেওয়া হয়েছিল। আসন্ন তৃতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদক দেওয়ার নীতিমালায় পরিবর্তন আনে। এতে বর্তমানে স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ডিনস লিস্ট ও পদক ক্যাটাগরি সম্পূর্ণ বাতিল এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে পদকের জন্য বিবেচনা করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অর্ডিন্যান্স পরিপন্থী।
বক্তারা আরও বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস লিস্ট ও পদক অতিগুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানীয় বলে বিবেচনা করা হয়।
তাই এ ধরেনের বৈষম্য আর অবমাননাকর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা। সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠান বর্জনসহ নানা কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এসময় বক্তব্য দেন, অ্যালামনাই শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইসতিয়াক আহমেদ তালুকদার, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, মোছাদ্দিক হাসান, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদা আক্তার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রভাষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাবিবুর রহমান।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদার রহমান, সিএসই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. তারেকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান বখতিয়ার, ইএসআরএম অ্যালামাইন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা মিয়া, সিপিএস অ্যালামাইন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফয়সাল হক, সিপিএস অ্যালামাইন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনমুন বিনতে আজিজ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, সাবেক অ্যালামনাই শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জরুরি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন।
প্রকাশ, টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন রবিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মনোনীত কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি থাকবেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, বাংলাদেশ সেন্টার ফর দি রিহ্যাবিলেশন অব প্যারালাইসড (সিআরপি) এর ফাউন্ডার ও কো-অর্ডিনেটর ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা দেশের বৃহত্তম হাটগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলের করটিয়া কাপড়ের হাট অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হাট। বেশ কয়েকবছর যাবত হাটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় সরকার বঞ্চিত হয়েছে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে। সিন্ডিকেটের কারণে বছরে এই হাটের ইজারা মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৬% হারে বাড়েনি। এ বছর সেই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে মাইসা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ২৩ লাখ টাকায় হাটটি ডেকে নিয়েছে। যা গত বছর ছিলো ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ১০৭ টাকা।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা করটিয়া হাটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এতে যুক্তকরা হয় স্থানীয় করটিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাদের। ফলে বিগত বছরগুলোতে প্রকৃত ইজারাদারগণ হাট ডেকে নিতে কিম্বা দরপত্র দাখিল করতে পারেনি। এতে করে বছরের পর বছর বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
এ বছর স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা বছরের শুরু থেকেই এ সিন্ডিকেট ভাঙ্গার জোর তৎপরতা চালায়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মককর্তার কার্যালয় থেকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী করটিয়া হাটসহ ১৮ হাট বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়। সিন্ডিকেট ভাঙ্গার ফলে এবছর করটিয়া হাট ইজারা নেওয়ার জন্য দশটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি দরপত্র খোলার শেষ দিন ছিল। একই দিনে বিকেল চারটায় দরপত্র খোলা হয়। এতে দেখা যায় মাইশা এন্টারপ্রাইজ নামের এক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দরপত্র দাখিল করেছে। দুই কোটি ২৩ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করে ওই ইজারাদার। যা গত বছর করটিয়া হাটের ইজারা মূল্যর চেয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বেশি ও বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশী।
সিন্ডিকেট ভাঙ্গার ফলে এ বছর করটিয়া হাটের ইজারা মূল্য হয়েছে দুই কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ বছর এই হাট থেকে সরকারের কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হবে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

মাইসা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, এবছর উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দশটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। সর্বোচ্চ দর দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠান করটিয়া হাটের একবছরের জন্য ইজারা পায়। আশাকরি, হাটে আসা সকল ধরনের ব্যবসায়ীদের সমন্বয় করে হাটটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবো। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোছা. রানুয়ারা খাতুন জানান, বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। কারণ সরকার এবছর এই হাট থেকে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাবে। করটিয়া হাটের ইজারা পেতে ১০ জন ইজারাদার অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি আরো জানান, প্রতি বছর ৬% হারে দর বৃদ্ধি পায়। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মেই দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দরদাতাদের প্রতিযোগিতার কারণে হাট বাজারের ইজারা দর আরো বেড়ে যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় ইজারদাররা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা না দেওয়ায় দ্বিতীয় দরদাতাকে ইজারা দিতে হয়।