মোঃ আব্দুল্লাহ আকন্দঃ “আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম”
(কুল্লিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তু’তিল মুলকা মানতাশাউ, ওয়া তানযিউল মুলকা মিম্মান তাশাউ, ওয়া তু’যিয্যু মান তাশাউ, ওয়া তুযিল্লু মান তাশাউ, বিইয়াদিকাল খাইর, ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদির।)
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস নবী (সা:) এর আদর্শকে ধারণ করে লালন করা গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দলের নাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেদিন ঘাতকের বুলেটে শহীদ হন, সেদিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে উনার ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজে ছিল একটি জায়নামাজ, একটি টুপি ও একটি তসবি। উনার বাসা থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা, সম্পদ, স্বর্ণ অলংকার, গাড়ি-বাড়ি এমন কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি ছিলেন দুর্নীতিমুক্ত, মিতব্যয়ি, ধর্মভীরু, বিচক্ষণ স্বাধীন বাংলাদেশের এযাবৎকালের সবচাইতে জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। তার সততা ও জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ হয়ে পরবর্তী সরকার তার পরিবারকে একটি বাড়ি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন।
আমরা যারা বিএনপিকে ভালোবাসি বা বিএনপি করি আমরা মূলত জিয়াউর রহমানের আদর্শ তথা নবী (সা:) এর আদর্শকে ধারণ বা লালন করি। যাহারা বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই মুদ্রার এপিঠ–ওপিঠ, অথবা একদল খেয়েছে, অন্য দল খাওয়ার জন্য রেডি হয়ে আছে, তাহারা মূলত ভুল বলেছেন।
দাড়িওয়ালা-টুপিওয়ালা-জুব্বা পরা লোক যারা একজন ইসলামিক স্কলার, মিজানুর রহমান আজহারির মত লোককে হ*ত্যা করতে চায় তাহারা যেমন মুসলমান হতে পারে না, অন্যদিকে বিএনপি’র লেবাসধারি আমরা যারা বিএনপিকে ব্যবহার করে দুর্নীতির প্রশ্রয় নিয়ে আওয়ামি কায়দায় হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যেতে চাই, মূলত আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের বিএনপি হতে পারি নাই।
আমরা যে যত বড় নেতাই হইনা কেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক জিয়া আমাদের বিরুদ্ধে এমন কিছু দেখলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন, ইনশাল্লাহ।

বিনীত,
মোঃ আব্দুল্লাহ আকন্দ
কোনাবাড়ি বাজার, গোপালপুর, টাঙ্গাইল।
মোবাইল: 01718593754
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল আছে কিছু নতুন, কিছু পুরাতন। তারা জনগণকে বোঝাতে চেষ্টা করছে বিএনপি নাকি সংস্কার চায় না। সংস্কার কী? খায় না মাথায় দেয়। বাংলাদেশে সকল কল্যাণকর সংস্কার করেছে বিএনপি। বিএনপি যে ৩১ দফা দিয়েছে তার পুরোটাই সংস্কার কর্মসূচি। সংস্কারের প্রত্যেকটা বিষয় ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সদ্য কারামুক্ত বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টুর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য বিএনপি’র নেতাকর্মীরা লড়াই করেছে। এখনও লড়াই শেষ হয়ে যায় নাই। লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকের কারাগারে বা গুম অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ৫ আগস্ট আমি জেলখানায় ছিলাম। আমাদের ৫১৮ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী কারাগারে ছিল। অনেক লড়াই, সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার পর দেশে পরিবর্তন এসেছে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র এখনও পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় নাই। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় না। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচন হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেজন্য বলি সবার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। বলি নাই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেন। যারা জয়লাভ করবে, তারাই সরকার গঠন করবে।
তিনি বলেন, আব্দুস সালাম পিন্টু মৃত্যুদন্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে কারাগারেও অনিশ্চিত জীবন কাটিয়েছেন। শতশত নেতাকর্মী গুম-খুনের স্বীকার হয়েছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র ভাইচ চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি’র সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোরহাব, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধাা হামিদুল হক মোহন, জেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, ৯০এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের ছাএদল নেতা মোঃ আব্দুল্লাহ আকন্দ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
এদিকে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর আব্দুস সালাম পিন্টু নিজ জেলা টাঙ্গাইলে পৌছলে শহরের নগর জলফৈ বাইপাসে তাকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। বিকেলে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত সংবর্ধনাস্থলে প্রিয় নেতাকে দেখতে নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের ঢল নামে। নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পৌর উদ্যান এলাকা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে আব্দুস সালাম পিন্টু দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত ও দোয়া পাঠ করেন।
সাহান হাসানঃ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দেশ একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভিআইপি অডিটোরিয়ামে পার্টির সাংগঠনিক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল হক বলেন, এদেশের মানুষ ১৬ বছর ধরে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন, নাহলে জনগণ কিন্তু সহ্য করবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করে, তাহলে দেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এক কথায় এটি একটি হঠকারিতা।
তিনি বলেন, সরকারকে বলব- আপনারা প্রতিটা কমিশনকে দায়িত্ব দিন তাড়াতাড়ি সংস্কারের রোড ম্যাপ দেওয়ার জন্য। আমরা চাই খুবই তাড়াতাড়ি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সাইফুল হক আরও বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার যেমন দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়েছে, ঠিক তেমনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা যেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশটা স্বাধীন করেছি, সেই স্বাধীনতা এখন নেই। বর্তমান সরকারকে বলব- অতিদ্রুত আপনারা নির্বাচন দিন। দেশবাসী ১৬ বছর ধরে অপেক্ষা করছে একটি জাতীয় নির্বাচনের।
টাঙ্গাইল জেলা সাংগঠনিক সভা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সাইফুর রেজা মামুনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য শহিদুজ্জামান লাল মিয়া, বহ্নিশিখা জামালী, জেলা জেএসডির সভাপতি মতিয়ার রহমান মতি, সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম, জেলা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান পিপলু প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আব্দুল আলীম (৩০) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় লুৎফর রহমান নামে এক আ’লীগ নেতাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ যুবদলের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জহিরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
আহত আব্দুল আলীম উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি এবং তিনি একই ওয়ার্ডের বাংগাল শেখের ছেলে।
এদিকে, শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে লুৎফর রহমান নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ যুবদলের নেতাকর্মীরা।
লুৎফর রহমান উপজেলা গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক। তিনি টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পলাতক ছোট মনিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
জানা যায়, শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে স্থানীয় তানিয়া খাতুন নূরানী মাদরাসার সামনে একদল দুর্বৃত্ত যুবদল নেতা আলীমকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে রাস্তার পাশে বালুর স্তুপে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এরপর গোবিন্দাসী এলাকার জহিরুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। পরের দিন শনিবার সকালে গোবিন্দাসী যুবদলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমানের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার জুলহাস উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল আলীমকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে হামলা করেছে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিও চলছে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ নিবন্ধন পুনর্বহালসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা জামায়াতের উদ্যােগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ শেষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসট্রিক্ট হেলিপ্যাড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদ, জেলা নায়েবে আমীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শাখার সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীরসহ অন্য নেতাকর্মীরা। এসময় বক্তারা দলের নিবন্ধন পুনর্বহালসহ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময় জেলা ও উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পযার্য়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সমাবেশের উদ্দেশে জমায়েত হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রুবেলকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত, রুবেল পৌর শহরের ১৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত মনিরুজ্জামান খানের ছেলে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন ।জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর থানায় আনা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, আসাদুজ্জামান রুবেল টাঙ্গাইল সদর থানায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর দায়ের করা মামলার (মামলার নং-৮) এজাহার নামীয় আসামি।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সং/১৯) এর ৪/৫ ও দন্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৬/১০৯/১৪৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রকাশ, আসাদুজ্জামান খান রুবেল টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুনের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে পোষ্ট দিয়ে সক্রিয় ছিল।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেছেন, দেশের মানুষ গত প্রায় দেড় যুগ ধরে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছে। এ জন্য বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল-জুলমসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপি’র ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের সাথে ছাত্রদের আন্দোলন যুক্ত হয়ে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হলে ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়। গত ৫ আগষ্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর আবার কেন গণতন্ত্রমনা মানুষের সমাবেশ করতে হচ্ছে। ভোট নিয়ে কোন ধরনের তালবাহানা জনগন মেনে নেবেনা।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর এখনো কেন প্রশাসনসহ সকল স্তরে ফ্যাসিষ্টদের দোসররা বহাল তবিয়তে রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছেনা। বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয়ার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। কিন্তু ভোট নিয়ে নানা বাহনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে থাকতে রাজি আছে কিন্তু ভোট না দিয়ে থাকতে পারেনা।
তিনি বলেন, দ্রব্যমুল্যের দাম এখনো সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। আসন্ন রমজানে যেন কোনভাবেই দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি না পায় তার জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেন ড. মঈন খান।
নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের মুল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি ও দ্রুত গনতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ দাবিসহ বিভিন্ন জনদাবিতে টাঙ্গাইলে এই সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশটি এক পর্যায়ে জনসভায় রুপ নেয়।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি’র শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, বিএনপি’র সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
সমাবেশে বিএনপিসহ এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহন করে। নির্ধারিত সময়ের পুর্বেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
আরমান কবীরঃ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তিকে হামলার ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে (৫৪) তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।
একইসঙ্গে আরও দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবু মুসা আনসারী (৫৬) ও ভাটারা থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন সালেক ওরফে সালেক ঢালী (৫৮)।
সোমবার সকালে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত শনিবার রাতে ভাটারায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের পর রবিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। একই দিন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাজধানীর ভাটারা থানার এসআই মো. ফরহাদ কালাম সুজন।
রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরে তাদের কারাগারে পাঠান এবং রিমান্ড শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ভাটারা থানার বারিধারা এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন মিঠুন ফকির। পরে আসামিদের ছোড়া ছিটা গুলিতে আহত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১১ আগস্ট বাসায় ফেরেন তিনি। এ ঘটনায় গত ১৯ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী মিঠুন ফকির ৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ছানোয়ার। তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে টাঙ্গাইলে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়, নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে একটি আনন্দ মিছিল শহরের নিরালা মোড় থেকে বের হয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
এই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের নেতৃত্বদেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু। এসময় দ্যাইনা ইউনিয়নের বিএনপি’র বেশ কিছু নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।
এ প্রসঙ্গে লাভলু মিয়া লাবু বলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন আমার বড় ভাই দ্যাইনা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক চেয়ারম্যানের হত্যাকান্ডের অর্থদাতা। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফারুক চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের সমস্ত তথ্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ছানোয়ারের বাহামভূক্ত দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে অনেক নিরীহ গ্রামবাসী এলাকা ছাড়া হয়েছিল। অবিলম্বে আফজাল চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমারা শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছি। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দ্যাইনা ইউনিয়ন থেকে একটি বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই টাঙ্গাইল শহরসহ সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতা আনন্দ উল্লাস করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। লোকটি নিজেকে সাদা মনের মানুষ বলে দাবি করলেও এমন কোন অন্যায় কাজ নেই যেটা সে করেনি। আমি দ্রুত তাকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার পেশায় তামাক ব্যবসায়ী, যিনি গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর থানায় শিক্ষার্থী মারুফ ও ইমন হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
সরকার পতনের দুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের কৌশল ঠিক করতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছিলেন তিনি।
আরমান কবীরঃ রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভাটারা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় ভাটারা থানার জে ব্লকের ৯ নম্বর রোডের সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মিঠুন ফকির (২৮) হামলায় আহত হন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ১৯ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন। তদন্তাধীন এ মামলায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সালাউদ্দিন সালেক ওরফে সালেক ঢালী এ মামলায় এজাহারনামীয় ও এমপি ছানোয়ার হোসেন ও আবু মুসা আনসারী মামলার সন্দেহভাজন আসামি। গ্রেপ্তারকৃতদের রবিবার দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, বিনা ভোটে নির্বাচিত টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন গ্রেপ্তারের খবরে শহরে আনন্দ উৎসব হচ্ছে। আশা করি, অতি দ্রুত বিচার করে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এদিকে, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের খবরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ লাবলু মিয়া লাবুর নেতৃত্বে শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নারী সমন্বয়ক ফাতেমা রহমান বীথি উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভিক্টোরিয়া ফুড জোনের সামনে সমন্বয়ক বীথিসহ তার সঙ্গে থাকা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে চার বখাটে যুবক।
প্রতিবাদ করলে উল্টো ওই নারী সমন্বয়কের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এ সময় আশে পাশে থাকা লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলেও তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে জানা গেছে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের একজন অমিয় ও অন্যজন মুন্না। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও মেলেনি।
ফাতেমা রহমান বীথি টাঙ্গাইল আইন কলেজের শিক্ষার্থী এবং জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থগিত হওয়া কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের ওপর বসা দুই যুবক সমন্বয়ক বীথির সঙ্গে তর্কাতর্কি করছে। এ সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে ফাতেমা রহমান বীথি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ওই বখাটেরা অনুসরণ করছিল। পরে সেখান থেকে ভিক্টোরিয়া ফুড জোনে আসার পর তারা উত্ত্যক্ত করে। এ সময় তারা বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেছে। পরে প্রতিবাদ করলে তারা খারাপ আচরণ করে। একপর্যায়ে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ওই বখাটেদের শাস্তি দাবি করছি।’
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, ঘটনার পর ফাতেমা রহমান বীথি আমাকে ফোনে জানালে আমি ছুটিতে থাকায় সাব-ইন্সপেক্টর (এস আই) নজরুলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, দেশে একটা হতাশা কাজ করছে। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চলছে না। সামনে মাহে রমজান। এটি সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র মাস। রমজান নিয়ে সাংঘাতিক শঙ্কায় আছে দেশের মানুষ। বাজারে কী অবস্থা হবে, দ্রব্যমূল্য কী হবে—এ সব নিয়ে।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আকলিমা বেগমের আমন্ত্রণে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, সাধারণ মানুষ যা চায় সেটাই হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষ স্বস্তি চায়, শান্তি চায়, ভালোবাসা চায় এবং ভালোভাবে থাকতে চায়। সেখানে সবাই কষ্টে আছে। মানুষের উপার্জনের সঙ্গে ব্যয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। ভীষণ কষ্টে আছে মানুষ। আবার এটা সাধারণ মানুষ কখনও প্রত্যাশা করে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বাসাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র রাহাত হাসান টিপু, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান খান, জেলা যুব আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ইবনে হাসান টিটু, বাসাইল পৌর যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সমির নাগ, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সদস্য রকিবুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ।