আরমান কবীরঃ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের আয়োজন এবং ভোট চুরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে এমপি নির্বাচিত করার অভিযোগে টাঙ্গাইলে সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভূঞাপুর থানা আমলী আদালতে কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজাম মামলাটি আমলে নিয়ে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদি কামরুল হাসান (৫৫) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে।
মামলায় আসামির তালিকায় শেখ হাসিনাসহ ১৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী আব্দুল আওয়াল, তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
বাদি মামলায় উল্লেখ করেন, ‘আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারতের নির্দেশক্রমে শেখ হাসিনা অন্য আসামিদের সাথে যোগসাজশ করে বিগত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি একটি ডামি নির্বাচনের আয়োজন করেন। বাদি কামরুল হাসান ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের ভারই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন। তিনি অন্য ভোটারদের সাথে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা তাকে মারপিট করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। নির্বাচনে পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এভাবে অন্যের ভোট চুরি করে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনিরকে এমপি পদে নির্বাচিত করা হয়। এতে দেশ ও জনগণের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।’
বাদিপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইল বার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু রায়হান খান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে ভূঞাপুর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেইসাথে আগামী ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। আশা করি আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে রবিবার (১৮ মে) দুপুরে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।
রবিবার বিকেলে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর আলী, দেলদুয়ার থানা যুব লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, টাঙ্গাইল সদর থানা যুবলীগের সদস্য আহসানুজ্জামান খান ইমরান, টাঙ্গাইল নির্মাণ শ্রমিক প্রকৌশলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খন্দকার বাবু, মেহেদী হাসান মহসিন, সজিব সরকার, নবী নূর মিয়া, সোহেল রানা টিটু ও মজিবর রহমান।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সহযোগী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) বিকালে গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের মধ্যে তিনজনকে টাঙ্গাইল সদর থানায় সোপর্দ করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। অপরজনকে মির্জাপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৬ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পাথাইলকান্দি এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ দুইজন আসামিকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাগর আলী (২৭), ছাত্রলীগের সক্রিয়কর্মী ও আব্দুস ছাত্তার ফকিরের ছেলে সুমন ফকির (৩২) এবং অপরজন চর পাথাইলকান্দি গ্রামের শাহ আলম প্রামাণিকের ছেলে মামুন প্রামাণিক (৩০)।
অন্যদিকে, মির্জাপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলায় এজাহার ভুক্ত আসামি নিষিদ্ধ সংগঠনের যুবলীগ নেতা পাকের আলীকে একইদিন রাতে নিজ এলাকা থেকে আটক করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে রাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়। তিনি উপজেলা পৌর শহরের বীরহাটি গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, গত ১৪ এপ্রিল বুধবার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে মশাল মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের নির্দেশ দেয় টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক এমপি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি তানভীর হাসান ছোট মনির। জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়টি স্বীকার করে গ্রেপ্তারকৃত পাকের আলী, সাগর আলী ও সুমন। মামুন তাদের সহযোগী ছিল। পরে তাদের শনিবার বিকালে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মিছিলে আরও যারা অংশ নেন তাদেরকেও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত রোজার ঈদে ছোট মনির টাঙ্গাইলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও মিছিল-মিটিংয়ের জন্য গ্রেপ্তারকৃত সাগরকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। সেই টাকা তিনি তার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে কৌশলে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে প্রদান করতেন বলেও জানায় সাগর আলী।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, আমরা গ্রেপ্তারকৃত দুইজন আসামিকে বুঝে পেয়েছি। ৩ জনের মধ্যে একজন আসমিকে ভূঞাপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে চালান করে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের গত ১৪ এপ্রিল (বুধবার) টাঙ্গাইলে মশাল মিছিল করার অভিযোগে এপর্যন্ত ১২ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর আহবানে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের ৫০তম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইল নিরালা মোড়ে অবস্থিত সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্থ করে একতরফা ভাবে নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহার করেছে ভারত। যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। আলোচনা সভায় অবিলম্বে বাংলাদেশে ভারত কর্তৃক অবৈধ বাঁধ প্রত্যাহার এবং ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের দাবি করা হয়।
আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল খান মাহবুবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক শানুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিমউদ্দিন, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির সদস্য এডভোকেট আল রুহী, মাওলানা ভাসানী ছাত্র ফাউন্ডেশনের নেতা নুরুল ইসলাম, সদর থানা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব ও হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বড় ভাইয়ের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির এবং তার ভাই জাহিদুল ইসলাম খোকা।
মনির ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার ভাই জাহিদুল ইসলাম খোকা ইতালি প্রবাস ফেরত এবং তিনিও এই দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
রবিবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার জিগাতলা ঈদগাহ্ মাঠে তাদের বড় ভাই নাজমুল হক ওরফে তারা মেম্বারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কুকাদাইর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তবে জানাজায় মনিরুজ্জামান মনির ও জাহিদুল ইসলাম খোকাকে দেখা যায়নি।
জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। ডেভিল হান্ট নামক অভিযানে নাশকতার মামলায় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। সেই আতঙ্কে মনির ও খোকাও আত্মগোপনে রয়েছেন।
শনিবার (১০ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমুল হক তারা মেম্বার মৃত্যুবরণ করেন। রবিবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও স্থানীয় মুসল্লিদের অনেকেই জানাজায় অংশ নেন, তবে আত্মগোপনে থাকা দুই ভাই জানাজায় আসেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হকের ছেলে অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন বাবু জানান, গ্রেপ্তার আতঙ্কের কারণে তার দুই চাচা—সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির ও ইতালি প্রবাস ফেরত জাহিদুল ইসলাম খোকা জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
আরমান কবীর: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, “আওয়ামী লীগ কচুর পাতার পানি নয়”।সেটা সিদ্ধ হবে, না নিষিদ্ধ হবে; রায় দেয়ার মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা জিনিস বুঝতে হবে শেখ হাসিনার দল, মাওলানা ভাসানীর তৈরি করা দল, বঙ্গবন্ধুর লালন পালন করা দল, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনেছে; সেটা সিদ্ধ হবে, না নিষিদ্ধ হবে; রায় দেয়ার মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ।’’
রবিবার (১১ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতীহাটি গ্রামে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘‘কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলেই নিষিদ্ধ হয়ে যায় না; জনগণ যদি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অনুমোদন দিলেও সেই দল দাঁড়াতে পারে না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের যারা অন্যায় করেছেন, তাদের বিচার হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের শাস্তি হবে। কিন্তু কোনো পরিষদ সিদ্ধান্ত নিলেই সেটা কার্যকর হবে বা সেটাই শুদ্ধ, সেটা ঠিক না।’’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ, কালিহাতী উপজেলা যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম নাজমুল আলম ফিরোজ, বল্লা ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি মোস্তফা আনসারী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র জনতা।
শনিবার (১০ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে তারা। পরে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক আল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক ইমতিয়াজ জাবেদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারদিন ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, আওয়ামী লীগকে অতিদ্রুতই নিষিদ্ধ করতে হবে। এখন পর্যন্ত কি কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলো না তা আমরা জানতে চাই। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অনেকেই এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
আরমান কবীর: গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সন্ধ্যায় এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা এই মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এসে পথসভায় মিলিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) টাঙ্গাইল শাখার সদস্য সচিব আবু আহমেদ শের শাহ, সহ মুখপাত্র মাহামির খান, যুগ্ম আহবায়ক মনসুর হেলাল, এনসিপির সংগঠক মাসুদুর রহমান রাশেল, কামরুজ্জামান শাওন, খন্দকার মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।
এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে করিডোর নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমির মালিক এই দেশের জনগণ। সেটি আপনি যদি কাউকে ব্যবহার করতে দেন তাহলে জনগণের অনুমতি লাগবে। এই জমিটি আপনি অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন কিনা যারা মালিক অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত। কাজটি দ্রুত এই দেশের জনগণের যে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের করিডোর কেউ ব্যবহার করবে সেটি জনগণ জানবে না সেটি হতে পারে না। দেশটি সকলের। সকলের আগে বাংলাদেশ। আমাদের দেশের স্বার্থ আমরা সকলে মিলে রক্ষা করবো।
তিনি বলেন, এই দেশের মালিক এই দেশের জনগণ। দেশের মালিকানা, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার মানুষ ফেরত চায়। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তিন কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার তারা ভোট দিতে পারেনি। এই দেশের মালিক কেউ এককভাবে নয়। ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, বিদায় হওয়ার পর একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে এটাই মানুষের প্রত্যাশা। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন সেটিই বিএনপি চাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। তাকে বরণ করার জন্য আনন্দিত সকলেই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান প্রমুখ।
আরমান কবীর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিন কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ মে )সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বোয়ালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মধুপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আল আমিন (৩৫) জেলার ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামের মৃত আয়াত আলী মুন্সীর ছেলে।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি )এরমানুল কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুরের বোয়ালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে (বৃহস্পতিবার ১ মে) সকাল ১১ টার সময় সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
তিনি আরও জানান ,গ্রেফতারকৃত আল আমিনকে শুক্রবার(২ মে) সকালে টাঙ্গাইল কোটে প্রেরণ করা হবে।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রার পরিবর্তে শুধুমাত্র শোভাযাত্রা করেছি। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্রের বাংলাদেশ।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে নববর্ষের শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সকলে মিলে সন্ত্রাস মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, নৈরাজ্য মুক্ত এবং কিশোর গ্যাং মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ দোসরদের প্রতি বিএনপি সচেতন রয়েছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এর আগে শহরের শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন।
এ ছাড়া শোভাযাত্রায় জেলা বিএনপি সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল , সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বা শেখ হাসিনা গণহত্যা করে টিকে থাকতে পারেনি। তেমনি গাজায় গণহত্যা চালিয়ে ইসরায়েলও টিকে থাকতে পারবে না।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফিলিস্তিন মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কেউ এই গণহত্যা সমর্থন করে নাই। আমরা কোনো গণহত্যাকে প্রশ্রয় ও সমর্থন দেব না। আজকে সারা বিশ্বের মানুষ ইসরায়েলি পণ্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। ছাত্র জনতার আন্দোলনে খুনি হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন তার দোসররা বিভিন্ন কায়দায় মিছিল থেকে দোকানপাটে হামলা ও লুটতরাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
টুকু আরও বলেন, যারা এই আন্দোলনের নামে ভাঙচুর লুটপাট করছেন তারা কখনো মুসলিম হতে পারেন না। যারা ভাঙচুর করছেন তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এম এ বাতেনের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল ও সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।