একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সড়কের সংস্কারের অভাবে দুই গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। নাগরপুরের দপ্তিয়র ইউনিয়নের ধূনাইল-দৌলতপুর চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সারোটিয়া গাজি ও পাছ আরড়া গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারছেনা। সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় ওই দুই গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিপণ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবরে পশ্চাৎপদ জনপদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সাথে মানিকগঞ্জের(তৎকালীন ঢাকা জেলার) দৌলতপুরের যোগাযোগ স্থাপনে পাকিস্তান আমলে ধূনাইল-দৌলতপুর ভায়া সারোটিয়া গাজি ও পাছ আরড়া চার কিলোমিটার কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটি এখন সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে কাঁদা ও শুকনো মৌসুমে ধূলায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ওই সড়কে নাগরপুর ও দৌলতপুরকে দ্বিখন্ডিত করেছে একটি খাল। বর্ষায় বানের পানিতে খালটি পরিপূর্ণ থাকে। বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
সারোটিয়া গাজি গ্রামের আমিরুল ইসলাম আলোক ও মনির হোসেন সহ অনেকেই ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বৃষ্টি হলে কাঁদা আর শুকনায় ধূলার সাগর পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হয়। রিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলতে পারে না। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সময়মতো যেতে পারেনা। প্রসূতিদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়না। পণ্য পরিবহনে ঘোড়া ও গরুর গাড়ির কোন বিকল্প নেই।
তারা আরও জানান, এই সড়ক দিয়ে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচল। নির্বাচন এলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বার বার সড়কটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ কথা রাখেনি।
দপ্তিয়র ইউপি চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী জানান, গ্রাম দুটির যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নাজুক। ইউনিয়ন পরিষদের ছোট-খাট প্রকল্প দিয়ে এ সমস্যার সমাধান আদৌ সম্ভব নয়। মেগা প্রকল্প গ্রহন করার যোগ্যতা ইউনিয়ন পরিষদের নেই। তবে তিনি বিষয়টি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই প্রথম কোনো চিকিৎসক মারা গেলেন। শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেলে মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মাজেদ আলী মিয়া (৫৮) টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে( আইসিইউ) মারা যান।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মাজেদ আলী মিয়া ছাড়াও আরও তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, মাজেদ আলী মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী ও চিকিৎসক মেয়ে ১ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হন। পরে তারা বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
অবস্থার অবনতি হওয়ার পর মাজেদ আলী ও তার স্ত্রীকে জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটায় মাজেদ আলীর মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।
চিকিৎসক মাজেদ আলীর বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সিংজোড়া গ্রামে। তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৮ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যু হয় গত বছর ২০ এপ্রিল। এই প্রথম টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত কোনো চিকিৎসক মারা গেলেন।
একতার কন্ঠঃ প্রমত্ত্বা যমুনা বর্ষার শুরুতেই টাঙ্গাইলের চার উপজেলায় হানা দিয়ে শতাধিক বাড়িঘর, রাস্তা, হাট, তাঁত ফ্যাক্টরি, স’মিল ও ফসলি জমি গিলে ফেলেছে।ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরিভাবে ফেলা জিওব্যাগও যমুনার করাল থাবা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। যমুনার প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিতে এক রাতেই শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।
জানাগেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, নাগরপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় বর্ষার শুরুতেই যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন শুরু হলেও গত বুধবার(৭ জুলাই) থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার(৮ জুলাই) এক রাতে শুধুমাত্র সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের শতাধিক বাড়িঘর, তাঁত ফ্যাক্টরি, স’মিল ও হাট যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।এ সময় তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে বঙ্গবন্ধুসেতুর যোগাযোগের সংযোগের অসমাপ্ত শেখ হাসিনা সড়কের একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে।মাহমুদ নগর ইউনিয়নের মাকরকোল, কেশবমাইঝাইল, তিতুলিয়া, নয়াপাড়া, কুকুরিয়া, বারবাড়িয়া; কাতুলী ইউনিয়নের দেওরগাছা, রশিদপুর, ইছাপাশা, খোশালিয়া, চানপাশা ও নন্দপাশা; হুগড়া ইউনিয়নের মসপুর, বারবেলা, চকগোপাল ও কচুয়া।
কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর, ভৈরববাড়ী। নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকশা মাইঝাইল, খাস ঘুণি পাড়া, খাস তেবাড়িয়া,চর সলিমাবাদ, ভূতের মোড়; ভারড়া ইউনিয়নের শাহজানি, ভারড়া, পাঁচতারা, আগদিঘলীয়া। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়া এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি।
সরেজমিনে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের উত্তর চরপৌলী, দশখাদা, হাটখোলা, পানিকোড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরপৌলী হাটখোলা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড হাটখোলাটি রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ৩০০মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে।জিওব্যাগগুলোও যমুনার তীব্র ঘূর্ণাবর্ত স্রোতে তলিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বার বার জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্ত এলাকা উত্তর চরপৌলী ও আলীপুর গ্রামের অংশে অসমাপ্ত শেখ হাসিনা সড়ক(নর্দান প্রজেক্ট) রক্ষার জন্য ১০০মিটার এলাকায় ফেলা জিওব্যাগ তলিয়ে গিয়ে ভাঙনে সড়কটির ৫০০-৬০০মিটার নদীগর্ভে চলে গেছে।
কাকুয়া ইউনিয়নের উত্তর চরপৌলীর নুরুল ইসলামের দেড় একর জায়গায় স্থাপিত তাঁত ফ্যাক্টরি, ঠান্ডু মিস্ত্রির স’মিল, একই এলাকার আ. জলিল, আ. বাতেন, আব্দুস সামাদ, মো. ইসমাইল, মোতালেব হোসেন, আব্দুল খালেক প্রামাণিক, আব্দুল আলিম, আব্দুর রহিম,বাবুল মোল্লা, নুর আলম মোল্লা, আব্দুল্লাহ, আবু বকর, আব্দুল মান্নান, লালচান মিয়া, মেকাম্মেল হক, শামসুল আলম, শাহ আলম, নজরুল ইসলাম; দশখাদা ও হাটখোলা এলাকার নুরুন্নাহার বেগম, মিনা আক্তার, সোনা খা, শিবলু তালুকদার, আলেয়া বেগম;পানকোড়া ও কবরস্থানপাড়ার মন্টু শেখ, মো. রোশনাই মিয়া, আব্দুস ছবুর, আনছের মন্ডল, গোলাপ খা, আব্দুল গফুর মন্ডল ও আজিজ মন্ডল সহ শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি ভাঙনের শিকার হয়ে যমুনা গর্ভে চলে গেছে।
উত্তর চরপৌলী গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, দেড় একর জায়গায় তার তাঁত ফ্যাক্টরি ছিল। ফ্যাক্টরিতে ৫০টি পাওয়ারলোম চালু অবস্থায় ছিল।বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাতে যমুনার ভাঙনের কবলে পড়ে। তিনি শ্রমিকদের নিয়ে ফ্যাক্টরির তাঁতগুলো কোন রকমে সরিয়ে নিতে পারলেও ঘরটি নদীর পেটে চলে গেছে।
হাটখোলা এলাকার গৃহবধূ মিনা আক্তার জানান, তাদের ৬০ শতাংশের বসতবাড়ি ছিল। সাম্প্রতিক ভাঙনের শিকার হয়ে এখন ১২-১৩ শতাংশ ভূমির উপর মাত্র একটি ঘর টিকে আছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সেটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।তারা বর্তমানে চরপৌলী খামার পাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমিতে বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করছেন।
কবরস্থান পাড়ার আব্দুল গফুর মন্ডল ও আজিজ মন্ডল জানান, বুধবার(৭ জুলাই) বিকালে হঠাৎ যমুনা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রলয়ঙ্করী তান্ডব চালিয়ে মাত্র ৩০মিনিটের মধ্যে ৬০ শতাংশের বাড়িঘর নদীর পেটে চলে গেছে।তারা পাশের হাটে বাজার সদাই করাবস্থায় চিৎকার-চেচাঁমেচি শুনে দৌঁড়ে এসে দেখেন তাদের বাড়িঘর নেই। মুহুর্তের মধ্যে যমুনা গ্রাস করে নিয়েছে।
কাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, ভাঙনের শিকার হয়ে তার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ৩-৪দিনের ভাঙনে ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম চরপৌলীর বহু স্থাপনা ও বাড়িঘর যমুনার যমুনা গিলে খেয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেললেও তা কোন কাজে আসছে না। তারা সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের গোলচত্তর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা প্রতিবছরই যমুনার ভাঙনের শিকার হয়। এ ভাঙনরোধে তিন বছর আগে একটি স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।দীর্ঘ তিন বছরেও প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের কোনড়া গ্রামে একটি গাভীর জোড়া বাচ্চা প্রসবের বিরল ঘটনা ঘটেছে। শফিক আহাম্মেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করা দুটো বাছুরের ছবি দেখে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কোনড়া গ্রামের শিক্ষক রিয়াজ মিয়ার পালের একটি গাভী গত মঙ্গলবার(২২ জুন) দিনগত রাতে জমজ বাচ্চা প্রসব করেছে।
সরেজমিনে, গাভীর মালিক রিয়াজ মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে প্রায় ১০ বছর যাবৎ গাভী পালন করে আসছে। মঙ্গলবার মধ্য রাতে তার গাভীটি একটি পুরুষ বাচ্চা প্রসব করে। গাভী ও বাচ্চাকে পরিচর্যা শেষে চলে যাওয়ার সময়, গাভীটি আরো ১টি পুরুষ বাচ্চা প্রসব করে। এমন বিরল ঘটনায় আনন্দিত রিয়াজ মিয়া।
তিনি বলেন, এ খবর শুনে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছে গাভীর জোড়া বাচ্চা দেখতে। এখন পর্যন্ত গাভী ও বাচ্চা দুটোেই সুস্থ আছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তিনি এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার শুনলেন। তার ১৫ বছর চাকরি জীবনে এর আগে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন। এমন ঘটনা সত্যিই বিরল, প্রতি লাখে একটি ঘটনা ঘটে বলে তিনি মনে করেন । তিনি আরো মন্তব্য করেন, এগুলো আসলে সত্যিই আল্লাহ প্রদত্ত ব্যাপার, মানুষের এতে কোন হাত নেই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের বাড়ি গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজে নবনির্মিত তিনতলা একাডেমিক ভবন ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা।
রবিবার (২৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে নাগরপুর বাসীর পক্ষ থেকে সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানান নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত ই জাহান।
প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালায় কর্তৃক ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ৫০টি মুজিব কিল্লার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং ১১০টি বহুমুখী ঘূর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ৩০টি জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, তথ্যকেন্দ্র ও ৫টি মুজিব কিল্লাসহ মোট ১৭৫টি স্থাপনার উদ্বোধন করা হয় ।
জানা গেছে, বাড়িগ্রাম স্কুল এন্ড কলেজে নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধার একাডেমিক ভবনটি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভবন হিসেবেই ব্যবহার করবে। এতে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে ভবনটিতে বন্যা সহ যে কোনও দুর্যোগে কমপক্ষে ৪০০ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।
ভবনটিতে বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও নানা সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে বড় আকারের একটি শেড। যেখানে শতাধিক গবাদি পশুও আশ্রয় নিতে পারবে।
প্রসঙ্গত, আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয়পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে বাড়ি গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজে একাডেমিক ভবন ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছে তিন কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬৮ টাকা।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছামিনা বেগম শিপ্রা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস, উপজেলা এলজিডি কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার মো. হাবিবুর রহমান, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকী সহ ইউনিয়ন চেয়াম্যান মো. আনোয়ার হোসেন ও বাড়ীগ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমাছ উদ্দিন প্রমুখ।
উদ্বোধন শেষে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হিমেল (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার (৫ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের সহবতপুর ইউনিয়নের দাস পাড়া মোড় এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মটরসাইকেল আরোহী হিমেল দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নান্দুরিয়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় আহত একই গ্রামের কদর খানের ছেলে ইমরানকে (২৫) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) বাহালুল খান বাহার জানান, হিমেল ও ইমরান মোটরসাইল নিয়ে দেলদুয়ার থেকে নাগরপুর আসার পথে দাস পাড়া মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এসময় হিমেল ও ইমরান আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক হিমেলকে মৃত ঘোষণা করেন। মটরসাইকেলের অপর আরোহী ইমরান গুরুত্বর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বালু মহালে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুরের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে হামলা চালিয়েছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীরা এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নাগরপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা তারিন মসরুরকে শারীরিক ভাবেও লাঞ্ছিত করে। বৃহস্পতিবার(২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দপ্তিয়র ইউয়িনের বাগ কাটারী বালু মহালে এ ঘটনা ঘটে।
পরে এই ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ও র্যাব-১২ কে অবহিত করা হয়। টাঙ্গাইল র্যাব-১২ এর ডিএডি মো.আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল ও নাগরপুর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে ভূমি কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও হামলাকরী সেনা সদস্য শরিফ উদ্দিন সহ ২ জন কে আটক করে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, উপজেলার বাগ কাটারী যমুনার শাখা নদীতে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেণীর অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে জাহাঙ্গীর ও উজ্জ্বল নামে দুই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে সেনা সদস্য শরীফ উদ্দিন দল বল নিয়ে মোবাইল কোর্টে হামলা করে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত ও আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
সেনাসদস্য শরিফ উদ্দিন (আইডি নং-১৩০৫৭২)কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায়। সে বর্তমানে দুই মাসের ছুটিতে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান সন্ধ্যায় তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারী সেনা সদস্য শরিফউদ্দিনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার(২৩ এপ্রিল) তাকে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে হস্তান্তর করা হবে। পরে সেনা আইনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান ইউএনও সিফাত-ই-জাহান।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক বার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় অবশেষে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে পার হওয়ার সময় একটি বালুবাহী ট্রাক সহ ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কসহ পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর, সাটুরিয়া ও ঢাকাগামী সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।এর আগে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
জানা গেছে, নাগরপুর দরগ্রাম ভায়া ছনকা বাজার সড়কের উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সংলগ্ন ব্রিজটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে এবং মাঝখানে ডেবে গিয়েছিল। এরপরও ওই সড়কে যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতো। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রিজটির এমন দশা থাকলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও তাদের উদাসীনতার কারণে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, রাতে ঝুকিপূর্ণ ওই ব্রিজ দিয়ে একটি বালুবাহী ট্রাক পারাপার হওয়ার সময় ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এরপর থেকেই ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রাকটি উদ্ধারে কাজ চলছে।
উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্রিজ ভাঙার বিষয়টি জানা নেই। আর বন্ধের দিন রাতে ফোন দিয়ে কেন বিরক্ত করছেন। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।’
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আম গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সালাম শেখ(৪২) খুনের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রোববার (২১ মার্চ) নাগরপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আ. মান্নান মাষ্টার, ঠান্ডু মিয়া, শাহনাজ বেগম, শামীম মিয়া, শাহ আলম, নিহতের মা ছামিরন বেগম প্রমুখ। এ সময় বক্তরা সালাম শেখ হত্যা মামলায় দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের রসুলপুর বনগ্রামবাসী আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচির আগে গয়হাটা বাজার থেকে হত্যা মামলার বিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরে আসে।
নিহত সালাম শেখের আট বছরের শিশু পুত্র শামিম শেখ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমি বাবা হত্যার বিচার চাই, জড়িতদের ফাঁসি চাই’।
উল্লেখ্য, আম গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ মিমাংসার জন্য গত ১৫ মার্চ স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে বসেন। সালিশে প্রতিপক্ষ মাসুদ-জুয়েলরা সশন্ত্র হামলা করে। হামলায় গুরুতর আহত সালাম শেখকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরদিন ১৬ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাম শেখের মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী সহ বিভিন্ন সংগঠনের নানাবিধ কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে রবিবার(৭মার্চ) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করে প্রতিটি সংগঠন। সকালে উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহানের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জি এম ফুয়াদের সঞ্চালনায় ৭ই মার্চের তাৎপর্য নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ৭ই মার্চের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো.হুমায়ুন কবীর, ছামিনা বেগম শিপ্রা, নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আনিসুর রহমান প্রমূখ।
পরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ভাষন প্রতিযোগীতা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে অংশ নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো.কুদরত আলী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলীম দুলাল, নাজমুল হক তপন, আব্দুস সবুর, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম অপু, জাহিদুল ইসলাম ও শেখ শামসুল হক প্রমূখ।
অন্যদিকে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করায় দেশের প্রতিটি থানার ন্যায় নাগরপুর থানা পুলিশ বিকেলে থানা কমপ্লেক্স ভবনে এক আনন্দ উৎসবের আয়োজন করে। এ সময় কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ঐতিহ্যবাহী পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্থআত্মসাত ও এক মহিলাকে যৌন হয়রানির অডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ফরহাদআলীকে (৪৫) স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে ।
তার বিরুদ্ধে আনিত অর্থ আত্মসাত ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ সন্দেহাতিত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাকে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করা হয়। রবিবার (১ মার্চ )সকালে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুই সন্তানের জননীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে শিক্ষক ফরহাদ আলীর যৌন উত্তেজক আপত্তি কর কথপোকথনের একাধিক অডিও ক্লিপস ভাইরাল হয়। এ ঘটনা বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রচার হলে এলাকা সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী উপজেলার শাখাইল গ্রামের দুঃখু মিয়ার ছেলে।
সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের ভারড়া গ্রামের হত দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রী আ. মোতালেবের স্ত্রী (৩৭) কে চাকুরী দেওয়ার সূত্র ধরে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হন পচাসারটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
চাকুরী প্রত্যাশী ভুক্তভোগীর দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে মোবাইলফোনে ও সরাসরি প্রতিনিয়ত শারিরিক মিলনের জন্য কু-প্রস্তাব দিতে শুরু করে। পরে ভুক্তভোগী নারী টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাগরপুর আমলী আদালতে ৩ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি সে সময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার হলে কতৃপক্ষ ২১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অডিটের নামে সহকারী শিক্ষকদের নিকট টাকা নিয়ে তা আত্মসাত ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এ সকল অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় অবশেষে তাকে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্কুল পরিচলনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ তাহেরুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে স্পর্শকাতর । এখানে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করে। জেনে শুনে চরিত্রহীন ও বিদ্যালয়ের অর্থআত্মসাত কারিকে বহাল রাখতে পারিনা। প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের ফের স্কুল মুখী করতে এ সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।