আরমান কবীরঃ ‘কবিতা, তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিও না’, ‘দিওয়ানা দিওয়ানা তোমার প্রেমের দিওয়ানা’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’ ‘দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভে ধারণ’ ‘আসবার কালে আসলাম একা’, ‘দুষ্ট ছেলের দল’, ‘বিজলী চলে যেওনা’, ‘মীরা বাঈ’, ‘পাগলা হাওয়ার তোড়ে’, ‘না জানি কোহি’সহ জনপ্রিয় অনেক গান গেয়ে টাঙ্গাইল মাতালেন নগর বাউল জেমস।
মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ (বিবিএফসি) উপলক্ষে আয়োজিত ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক দর্শককে মাতালেন এই রকস্টার।
দর্শক-শ্রোতাদের উল্লাসে নিজেও মেতে উঠেন তিনি। গানে গানে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান রঙিন করে তুলেন জেমস। এছাড়াও পারফর্ম করেন টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পীরা। বিকাল থেকেই শুরু হওয়া কনসার্ট চলে রাত পর্যন্ত।
এর আগে দুপুর থেকে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলাসহ আশপাশের জেলা থেকে জেমসের ভক্তরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়া শুরু করেন।
আয়োজক কমিটি জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিএনপি ও আয়োজক কমিটির নেতারা।
টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ার মারুফ হাসান বলেন, মঞ্চে জেমস মানেই যেন অন্যরকম উন্মাদনা। দর্শকদের পাগলামো আর হৈ-হুল্লোড়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রকস্টারও মেতে উঠেন।
শহরের আকুর-টাকুর পাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ আজগর আলী বলেন, ইতোপূর্বে টাঙ্গাইলে এত দর্শক নিয়ে কেউ প্রোগ্রাম করতে পারেনি। মঙ্গলবার শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
কলেজছাত্র সুমাইয়া রহমান বলেন, অনুষ্ঠানে আসতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। গুরু জেমসের গান শুনে তা পূরণ হয়েছে। জেমস টাঙ্গাইলে এসে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন।
চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের শিল্পীদের ব্যান্ডিং করার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম আমরা হাতে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিন্দুবাসিনী চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। আমাদের প্রথমেই লক্ষ্য রাখতে হবে- সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ১৭ বছর পরে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্যাসিবাদ বিদায়ের জন্য সকলে মিলে ভূমিকা পালন করেছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আদর্শিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়েছে।
আরমান কবীরঃ রোহিঙ্গা ইস্যুতে করিডোর নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমির মালিক এই দেশের জনগণ। সেটি আপনি যদি কাউকে ব্যবহার করতে দেন তাহলে জনগণের অনুমতি লাগবে। এই জমিটি আপনি অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন কিনা যারা মালিক অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত। কাজটি দ্রুত এই দেশের জনগণের যে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের করিডোর কেউ ব্যবহার করবে সেটি জনগণ জানবে না সেটি হতে পারে না। দেশটি সকলের। সকলের আগে বাংলাদেশ। আমাদের দেশের স্বার্থ আমরা সকলে মিলে রক্ষা করবো।
তিনি বলেন, এই দেশের মালিক এই দেশের জনগণ। দেশের মালিকানা, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার মানুষ ফেরত চায়। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তিন কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার তারা ভোট দিতে পারেনি। এই দেশের মালিক কেউ এককভাবে নয়। ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, বিদায় হওয়ার পর একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে এটাই মানুষের প্রত্যাশা। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন সেটিই বিএনপি চাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। তাকে বরণ করার জন্য আনন্দিত সকলেই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ লাইন্স আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান প্রমুখ।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ মে) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ৭২ হাজার ৬২ পরীক্ষার্থী আবেদন করে। মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ১ হাজার ৮১৯ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করে।
জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ২৮ এপ্রিল। আগামী ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
‘এ’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে আবেদন করে এক লাখ ৪২ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটে আবেদন করে সাত হাজার ৩০৭ জন পরীক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।
কমিটির আহ্বায়ক ও মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, দেশের জিএসটি গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভাইস-চ্যান্সেলরদের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ‘সি’ ও ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী শুক্রবার ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষাও সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে হবে বলে আশা করছি। পরীক্ষা চলাকালীন পর্যন্ত দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি ভর্তি পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাহান হাসানঃ ছয় দফা দাবিতে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচী পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।
সারাদেশ ব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসাবে মঙ্গলবার টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়াম রুমে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে একটি মিছিল বের করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে অচল করে দেয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এই শাটডাউন অব্যাহত রাখবেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আরমান কবীরঃ ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের করা মামলায় হাইকোর্টের রায় বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পলিটেকনিক থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রাবনা বাইপাস এলাকা অবরোধ করে। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।
এর আগেও টাঙ্গাইল পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। তখন প্রশাসন তাদের আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে।
এদিকে অবরোধের কারণে মহাসড়কের রাবনা বাইপাসের উভয়দিকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় শিক্ষার্থীরা।
পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্প্রতি হাইকোর্ট ৩০% পদ দিয়ে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের পদোন্নোতির পক্ষে রায় দেয়। ফলে তারা প্রমোশন পেয়ে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হবে। আর এই পদটি হচ্ছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য। যারা ডিপ্লোমা পাস করে বের হবে তাদের চাকরির শূন্য পদ ৩০% কমে গেল। হাইকোর্টের এমন রায় টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। হাইকোর্টের রায় বাতিল করতে হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে। এছাড়া ৬ দফা যে দাবি ঘোষণা করা হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।
অবরোধের ফলে মহাসড়কে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও চালকরা।
চালকরা জানান, শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এতে যে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে সেটা চিন্তা করছে না।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে অবরোধ তুলে নেয়ার পর দুপুর আড়াইটা থেকে যান চলাচল শুরু হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চলমান এসএসসির বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার নারান্দিয়ায় তোফাজ্জল হোসেন তুহিন কারিগরি স্কুলে (ভোকেশনাল) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় শিক্ষকদের সহায়তায় বই দেখে পরীক্ষা দেয় শিক্ষার্থীরা বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল ) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।
তোফাজ্জল হোসেন তুহিন কারিগরি স্কুল কেন্দ্রের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন তুহিন বলেন, এটা আগের ভিডিও। ওই দিন যে শিক্ষকরা দায়িত্বে ছিলো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে স্বীকার করেছেন ভিডিও অনেক আগের। মঙ্গলবারের পরীক্ষা নিয়ম মেনে নেয়া হয়েছে।
কালিহাতী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কবীর বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। কেন্দ্র সচিব জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, মঙ্গলবার সকালেই বিষয়টি জানতে পারি। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানতে পেরে কালিহাতীর ইউএনওকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছিলাম। গত পরীক্ষায় যে ঘরগুলোতে শিক্ষকরা ডিউটিতে ছিলেন তারা আর এসএসসি পরীক্ষায় ডিউটি করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের পরীক্ষার ডিউটিতে ওই শিক্ষকরা নেই। এখন আমরা একটি কমিটি করে দেব। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সিয়াম আহম্মেদ (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল খনকারচালা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সিয়াম উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল খনকারচালা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আমিনুর রহমানের ছেলে। সিয়াম মির্জাপুরের বংশাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে খাবারের পর সিয়ামের মা ও ছোট বোন পাশের বাড়িতে যান। এ সময় সিয়াম তার কক্ষে পড়তে বসে। মা আর বোন বাড়ি এসে সিয়ামের কক্ষ আটকানো দেখতে পায়। ডাকাডাকি পারলে সিয়ামের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে সিয়াম ঘুমিয়েছে এমন ধারণা করেন তারা। তবে দীর্ঘ সময় পরেও সিয়াম না ওঠায় এলাকার লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় সিয়ামকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি।
আরমান কবীর/সাহান হাসানঃ আগামী ৩১মে (শনিবার) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২৫ (বিবিএফসি) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান গেয়ে দর্শকদের মাতাবেন নগর বাউল ব্র্যান্ডের রক তারকা জেমস।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান, বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ এর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক মিয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান খান, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদ হক সানু, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন দুরন্ত-১৬ ব্যাচের অসিফ তুষার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০১৬ সালে বিন্দুবাসিনীর ২০০৮ সালের এসএসসি ব্যাচের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন শুরু করা হয়। এ বছর এই চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হচ্ছে দুরন্ত-১৬ (এসএসসি ব্যাচ-২০১৬)। এবারের আসরে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের মোট ২৫টি দল অংশগ্রহণ করবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, আগামী ৩১মে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে বিবিএফসি-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে । ঈদুল আজহার পরবর্তী তিনদিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট চলবে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হবে চূড়ান্ত পর্ব ও জমকলো সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার) গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ (বুধবার) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হামিদুল হক মোহন বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যথানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এটাই সঠিক ইতিহাস নয়। মুক্তিযুদ্ধে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ আরো অনেকের অবদানও কম ছিল না। এ সব বিষয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জানতে দেওয়া হয়নি। এ জন্য তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকান্ডই ছিলনা, এটা ছিল মূলতঃ বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলংকজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র। ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, আ.ন.ম বজলুর রহমান প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রচনা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বই বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমরা কবীরঃ টাঙ্গাইলে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের করা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু করে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।
এই মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গমুখী দু’পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, মঙ্গলবার হাইকোর্ট ৩০ শতাংশ পদ দিয়ে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের পদন্নোতির পক্ষে রায় দিয়েছেন। এতে তারা প্রমোশন পেয়ে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হবে। আর এই পদটি হচ্ছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য। যারা ডিপ্লোমা পাস করে বের হবে তাদের চাকরির শূন্য পদ ৩০ শতাংশ কমে গেল। হাইকোর্টের এমন রায় টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে আমরা টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের সব ক্লাস এবং চলমান পর্ব মধ্য পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বর্জন করছি। দাবি না মানলে মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করব না।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
আরমান কবীরঃ মাহে রমজানের প্রথম রোজায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)’র এতিম শিশুদের সাথে ইফতার করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
রবিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ও সরকারি শিশু পরিবার (বালক) টাঙ্গাইল-এ মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আব্দুল্যাহ আল মামুন, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান, সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহবুব উল আলম খাসনবীশ, উপ-তত্বাবধায়ক তানিয়া আক্তার প্রমুখ।
সাহান হাসানঃ টেবিলে থরে থরে সাজানো বই। কেউ জমা দিচ্ছেন, কেউ নিচ্ছেন। পড়া শেষে বাসার সেলফে পড়ে থাকা বই দিয়েও নিচ্ছেন আরেকটি পছন্দের বই। সংগ্রহ করা যাচ্ছে প্রিয় লেখকের প্রিয় বইটি। সঙ্গে আছে একাডেমিক ও ম্যাগাজিন সেকশন থেকে অফুরন্ত বই বিনিময়ের সুযোগ। কেবল বই দিয়েই বই বিনিময়, পুরো দিনটিই ছিল বই বিনিময়ের।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে টাঙ্গাইলে এই প্রথমবারের মতো ‘বই বিনিময়’ উৎসবের আয়োজন করে ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’ নামের একটি সংগঠন।
উৎসব শুরুর পর থেকেই ব্যতিক্রমী এ বই বিনিময়ে বইপ্রেমী তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের শুরুতেই কুরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- লেখক ও গবেষক অধ্যাপক বাদল মাহমুদ, লেখক ও গবেষক ড. আলী রেজা, অধ্যাপক আলীম আল রাজী ও প্রাবন্ধিক জহুরুল হক বুলবুল প্রমুখ।
‘বই হোক বিনিময়, বই জীবনের কথা কয়’ – জানা যায়, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বইকে মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলা ও বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বই বিনিময় উৎসবটি। উৎসবে ছিল বইয়ের ৬টি স্টল এবং ২টি রেজিস্ট্রেশন বুথ। ছয়টি স্টলে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বই বিনামূল্যে বিনিময় করা হয়েছে।

জানা যায়, উৎসবের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করে রাখা হয় এক হাজারের বেশি বই। সারা দিন প্রায় তিন হাজার বই বিনিময় হয়।
এছাড়াও উৎসবে উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্পগ্রন্থসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় সহস্রাধিক বই টেবিলে সাজিয়ে রেখেছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। বইগুলোর পরিবর্তে পাঠকরা তাদের ঘরে পড়ে থাকা বা সাজিয়ে রাখা বইটি বদলে অপঠিত বই নিয়েছেন, এটাই হচ্ছে বই বিনিময়। শিক্ষা ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এমন বইয়ের খোঁজও করেছেন অনেকে। হাজারো বইয়ের ভিড়ে পছন্দের বইটি খুঁজে পেতে একজন বইপ্রেমীর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, লেখকসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয়েছিল মিলনমেলায়।
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিবা রহমান বই বিনিময় করতে এসে বলেন, ‘ছোট থেকেই বই পড়তে ভালো লাগে। তাই আমার কাছে থাকা বই পড়া শেষে নতুন বই পড়ার আগ্রহ থেকে বই বিনিময় করতে এসেছি। এই উদ্যোগটা অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং আমাদের মতো পাঠকেরা খুব উপকৃত হয়।’
সরকারি সা’দত কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন ‘আমার বন্ধু ফেসবুকের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বই বিনিময় উৎসবে। তাই ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি অনুষ্ঠান দেখতে। এটা ব্যতিক্রম আয়োজন, খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে ’।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, ‘পড়া বই ঘরে না রেখে নতুন কিছু জানার আশায় বই বিনিময় করতে পেরে ভালো লাগছে। কারণ এতে নতুন বই পড়তে টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে না। এরকম আয়োজন আরো হওয়া প্রয়োজন’।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও বই বিনিময় উৎসবের আয়োজক কামরুজ্জামান বলেন, বইকে পাঠকের কাছে সহজ করতে আমাদের এই উদ্যোগ যা থেকে নতুন প্রজন্মের পাঠক তৈরি হবে। এতে তরুণ ও কিশোররা স্মার্টফোন বিমুখ হয়ে বই পড়ার দিকে ধাবিত হবে। তাছাড়া অর্থ ব্যয় করে নতুন বই কেনার চেয়ে পুরোনো বই বিনিময়ের এই উৎসব পাঠের অভ্যাস বাড়াবে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুধীজনরা।