একতার কণ্ঠঃ বর্ণাঢ্য কর্মসূচি আয়োজনের মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
১১ ডিসেম্বর সোমবার সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে টাঙ্গাইল পৌরসভার উদ্যোগে দিনব্যাপি বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
দিনের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক।
কর্মসূচির মধ্যে ছিলো সূর্যদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন,বেলুন উড়ানো, কবুতর উন্মুক্ত করণসহ আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহরের শহীদস্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরত্বপুর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুূনরায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান গিয়ে শেষ হয়।
এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন,সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টুসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও সর্বস্তরের জনগণ সাধারণ উপস্থিত ছিলো।
এছাড়াও দিনটি উপলক্ষে বিকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে টাঙ্গাইলের সূর্য সন্তানেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইল মুক্ত করেন। এইদিন রাতে সদর উপজেলার পশ্চিমে অবস্থিত পোড়াবাড়ি দিয়ে কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক ভোলা(বর্তমানে কৃষিমন্ত্রী) সহযোদ্ধাদের নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।
খুব ভোরে পুর্ব দিক দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন কমান্ডার বায়েজিত আলম ও খন্দকার আনোয়ার হোসেন, দক্ষিন দিক দিয়ে আসেন ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান। আর উত্তর দিক থেকে ময়মনসিংহ সড়ক দিয়ে বীরদর্পে সাজোয়া বহর নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন কাদিরিয়া বাহিনীর কমান্ডার বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। এসময় সার্কিট হাউজে থাকা ৫’হাজার পাক বাহিনীর পরাজিত সদস্যরা কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসর্মপণ করেন। মুক্ত হয় টাঙ্গাইল। পরে সাধারণ জনগন রাস্তায় নেমে এসে বিজয় উল্লাসে টাঙ্গাইল শহরকে প্রকম্পিত করে তোলে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-২(ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর মনোনয়নপত্র আপিলে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিলের শুনানিতে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু বিকালে নিজেই এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আপিলে মনোনয়নপত্র বৈধ বলে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছি। কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জয়লাভ করব। ভূঞাপুর-গোপালপুর উপজেলার জনগণ আমার পাশে রয়েছে।
গত ২ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে স্বাক্ষর জটিলতার কারণ দেখিয়ে ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম। পরে নিয়মানুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তিনি। সেই আপিলেই তার মনোনয়নকে বৈধ ঘোষণা দিল নির্বাচন কমিশন।
গত ৩০ নভেম্বর ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেনের কাছে টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
প্রকাশ, ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের আশায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের বরাবর আবেদন করেন। পরে ৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠঃ সারাদেশে গুম, হত্যা, জেল-জুলুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের উদ্যোগে আদালত প্রাঙ্গনে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ফাইজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম (জহির),জেলা বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাইদুল ইসলাম শিশির, অ্যাডভোকেট শাহজাহান কবির প্রমুখ।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা মিয়া, এম এ রৌফ, সাইদুর রহমান স্বপন, আতিকুর রহমান জামিল, তারিকুল ইসলাম ইউসুফ, এমদাদুল হক সাইদ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন, অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ একেএম মনিরুল হক মনির, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান উজ্জলসহ জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ সরকারের আমলে গণতন্ত্র ভুলন্ঠিত। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বেআইনীভাবে কারারোধ করে রাখাসহ ভাইস চেয়ারম্যান আজ নির্বাসনে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। লাখ লাখ নেতাকর্মী মানবেতর জীবনযাপন করছে। গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার ও ছিনিয়ে আনার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা আর বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি বিহীন কোন নির্বাচন হতে পারে না। আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
একতার কণ্ঠঃ নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। অতীতের মতো সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। অতীতের জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিলো। এবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি।
বৃহস্পতিবার( ৭ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি নির্বাচনে আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের যে পর্যন্ত সুযোগ ছিলো তা বলেছি। এ মুহুর্তে কোন সুযোগ আছে বলে আমাদের আইন অনুযায়ী দেখছি না। যদিও তারপরে কেউ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চায়, সেক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে হবে। আমরা যা কিছু করি না কেন তা সংবিধানের আলোকে করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদেশীরা কখনোই আমাদের চাপ দেয়নি। আমাদের এ ধরনের চাপ দেয়ার রাইট তাদের নেই। আমাদের প্রতি কারও কোন চাপ নেই। শান্তিপূর্ণ অবাধ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন অন্য সবাইকে চাপ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনে গতকাল পর্যন্ত ৮২ জন বিদেশী পর্যবেক্ষকের আসার তালিকা পেয়েছি। ৪৬ জন বিদেশী সাংবাদিক আসবেন। নির্বাচনে একটি নীতিমালা রয়েছে। সে নীতিমালা সকল সাংবাদিকদের অনুসরন করতে হবে।
ইউএনও এবং ওসিদের বদলীর ব্যাপারে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে সংলাপ করেছেন। সেখানে তাদের অভিযোগ ছিলো সরকার প্রশাসনকে সাজিয়ে গুছিয়ে তাদের মতো করে নিয়েছেন। সরকারের অনুকুলে তারা কাজ করেন। এ অবস্থায় প্রশাসনে পরিবর্তন করতে হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিমত ছিলো।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ূর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় কাশিল ইউনিয়নের নাকাসিম এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সরকারি অনুমোদি মিলেছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দুইটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
এর মধ্যে টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি ও কক্সবাজার সদরে একটি।এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বৈঠক শেষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সাঈদ মাহবুব খান জানান, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেয়েছে যৌথভাবে রিনিউবেল এনার্জি ইউকে লিমিটেড, বাদল কনস্ট্রাকশন ও জি-টেক সলিউশন লিমিটেড কনসোর্টিয়াম। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ টাকা ৯৯ পয়সা হিসাবে সরকার তাদের আনুমানিক ৩ হাজার ৫৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে।
তিনি আরো জানান,কক্সবাজার সদর উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পেয়েছে যৌথভাবে কেএআই বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড ও অলটেক অ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কনসোর্টিয়াম। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে তাদের সরকার পরিশোধ করবে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রমজান মিয়া বলেন, কাশিল ইউনিয়নের নাকাসিম গ্রামের সায়ের মৌজার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থানীয় বেশ কিছু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও উপজেলার লোকজনের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ভুমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।
বাদল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ বাদল মিয়া জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্পটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ট্যারিফ অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বব্যাপি পরিবেশ রক্ষায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেয়া হচ্ছে। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জ্বালানি আমদানি কমাতে সরকারও এখাতে জোর দিয়েছে। যার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো বাদল কনস্ট্রাকশনের।এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
তিনি আরও জানান,তবে এখনও অনুমোদনের লিখিত কাগজ হাতে পাইনি। কাগজ হাতে পেলে বিস্তারিত বলবো। তবে এটা বলতে পারি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, কাশিল তথা বাসাইল উপজেলায় অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা শেষে বের হওয়ার পর সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদারকে মারধর ও তার গাড়িতে হামলার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার শওকত সিকদার এই হামলার জন্য টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের অনুসারীদের দায়ী করেছেন।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার দিনব্যাপী টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগ বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তরা, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ বর্ধিত সভা চলাকালে সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদারের বক্তৃতা চলাকালে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের তাকে ধমক দিয়ে বসতে বলেন। এ সময় দুই জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিকেলে বর্ধিত সভা শেষে প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে শওকত সিকদার তার জিপ গাড়ির কাছে আসেন। এ সময় এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার গাড়ির দিকে ধেয়ে আসেন। তখন শওকত সিকদার প্রাণের ভয়ে গাড়িতে উঠে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে জোয়াহের সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই গাড়ির ওপর হামলা করে এবং সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত সিকদারকে এলোপাথারি লাথি ও কিলঘুষি দিয়ে আঘাত করেন এবং গালাগালি করেন। পরে তিনি গাড়িটি নিয়ে দ্রুত প্রেসক্লাব এলাকা ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের অনুসারী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানের নির্দেশে তার কর্মীরা আমার গাড়িতে হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে। হামলার বিষয়টি আমি দলের নেতাদের জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে আমি বা আমার কোন লোকজন জড়িত না। অন্যরা কেউ করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের জানান, শওকত সিকদারের গাড়িতে হামলা হয়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে গাড়িতে দুই চারটা থাপ্পর দিয়েছে বলে শুনেছেন। এ ব্যাপারে তিনি আর কোন মন্তব্য করবেন না বলে জানান। তবে তিনি অনুসন্ধান করছেন, কারা এটা করেছেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান জয়। সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদার অনুপম শাহজাহান জয়ের পক্ষের নেতা হিসেবে পরিচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ মা, তার দুই ছেলে ও এক ছেলের স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯-এ কল পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং দুই জনকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মধুপুর পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের পুন্ডুরা গ্রামে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে।
নির্যাতিতরা হলেন- একই গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী শাফিয়া বেগম (৫৫), বড় ছেলে আলমগীর হোসেন, ছোট ছেলে জুব্বার আলী ও আলমগীরের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম।
ছেলে আলমগীর ও জুব্বারের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত আবু সেকের ছেলে কালু মিয়া ও তার ভাইদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুই পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমাও হয়েছে। ২৩ বছর বাটোয়ারা মামলা চলার পর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আদালত আলমগীর ও জুব্বাররের পক্ষে রায় দেন। রায় পেয়ে জমির খাজনা খারিজ করেন তারা। মাঠ ও প্রিন্ট পর্চা তাদের নামেই রয়েছে।
প্রতিপক্ষ কালু মিয়া শেখ, ভাই আজগর, সামাদ এ নিয়ে গত কয়েক মাস আগে ওই জমির মালিক দাবি করে আদালতে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত স্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আলমগীর, জুব্বাররা কাগজপত্রের ভিত্তিতে ১৪৪ ধারার বিপরীতে জজ কোর্টে আপিল করেছেন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে দুই পরিবারে উত্তেজনা চলছিল।
মঙ্গলবার সকালে কালু মিয়া গং ৬০ শতক জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এসময় আলমগীর ও জুব্বার বাঁধা দিতে গেলে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রড ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। এসময় তাদের মা শাফিয়া এগিয়ে এলে তাকেও গাঁছে বেঁধে রাখা হয়। শাশুড়িকে রক্ষায় এগিয়ে এলে আলমগীরের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমকেও হাত পা বেঁধে বসিয়ে রাখা হয় জমিতে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে ধাক্কা-ধাক্কি হয়েছে। তবে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়ে তিনি জানেন না। এধরনের কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে এবং কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ স্ত্রীর পরকীয়া সইতে না পেরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শশুর বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মোস্তফা কামাল (৪২) নামের এক ব্যক্তি ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার ফলদা ঘোনাপাড়ায় শশুর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মোস্তফা কামাল পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের আনন্দপাড়া গ্রামের আমির আলীর ছেলে। তিনি সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশের ধারণা, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে সে আত্মহত্যা করেছে। মরদেহের পকেটে একটি ‘চিরকুট’ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোস্তফা কামালের স্ত্রী রুনা খাতুনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, মোস্তফা কামাল ও স্ত্রী রুনা খাতুনের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ায় প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। এতে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে শশুর বাড়িতে এসে গলায় ওড়না পেঁছিয়ে আত্মহত্যা করে।
মোস্তফা কামালের বড় ভাই সাজেদুল করিম জানান, পরকীয়া নিয়ে ওদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। যে কারণে কামাল হতাশগ্রস্থ হয়ে তার স্ত্রীর ওড়না গলায় পেঁছিয়ে ফাঁস দিতে পারে বলে ধারণা করছি।
ফলদার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, গাছে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ্ বলেন, খবর পেয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তার পকেট থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে স্ত্রীর পরকীয়া করার বিষয়টি লেখা ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদী দখল ও দূষণ রোধে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এ সভার আয়োজন করেছে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী।
খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমীর উদ্দীন হায়দার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আবু জুবায়ের, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. ইকবাল বাহার বিদ্যুৎ, উন্নয়ন কর্মী মীর জালাল আহমেদ উজ্জল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ।
এ সময় বিভিন্ন বেসরকারি দপ্তর, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা ও সমাজকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় লৌহজং নদী দখল ও দূষণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিরুপম রাহা (৪০) নামে এক যুবক ঋণের দায়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে । সোমবার(৪ ডিসেম্বর )দুপুরে মির্জাপুর পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানী পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিরুপম রাহা উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোর্টবহুরিয়া গ্রামের নিমাই রাহার ছেলে। সে এক কন্যা সন্তানের জনক।
জানা যায়, নিরুপম রাহা আর্থিক অনটনে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়লে সদরের বাইমহাটী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। এক পর্যায় সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। সোমবার দুপুরে সে বাওয়ার কুমারজানী পূর্বপাড়া এলাকায় রেললাইনের উপর বসে থাকে। পরে নিলফামারী জেলার চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিলাহাটি একপ্রেস ট্রেনটি দুপুর সোয়া দুইটার দিকে ওই স্থানে পৌছালে নিরুপম রাহা ওই ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।
উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নিরুপম রাহার চাচাতো ভাই সুজন কুমার জানান, নিরুপম আর্থিক অনটনে ঋণে জর্জরিত হয়ে মাদকাসক্ত হয়। কয়েকদিন আগেও তিনি তাকে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান।
মির্জাপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল হাসান জানান, ট্রেনেকাটা পড়ে নিরুপম নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে।
একতার কণ্ঠঃ সমর্থককে আটকে রেখে মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ তুলেছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু।
ঘটনার সত্যতা যাচাই ও তদন্ত চেয়ে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তবে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে না দেখে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে তার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জানা যায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১২ (৩ ক) দফা ২ এর উপদফা (ক) অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মনোনয়ন পত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত স্বাক্ষর যুক্ত তালিকা সংযুক্ত করার বিধান রয়েছে। টাঙ্গাইল-২ নির্বাচনী আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৯৫,২৪৮। যার ১ শতাংশ ভোটার ৩৯৫২ এবং তিনি উক্ত তালিকা দাখিল করেছেন।
তার মনোনয়ন পত্রের সাথে সংযুক্ত ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত তালিকা হতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এর স্মারক নং ১১৭০০০০০০৩৪৩৬০১৮২৩৭৩৮, তারিখ- ২০ নভেম্বর ২০২৩ এর পত্র অনুযায়ী দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা সরজমিনে যাচাই বাছাই করা হয়েছে। যাচাই বাছাই ও তদন্তকালে ৩৯৫২ ভোটারের মধ্যে দাখিলকৃত সমর্থনযুক্ত তালিকার ক্রমিক নং যথাক্রমে ২১১৫, ৩২২৩, ৮৭২, ২২৮৬, ১৫৭৪, ৭৫১, ৫৪৩, ২১৫৩, ২৩৮৮ মোট নয় জনের স্বাক্ষরের বিষয়টি সত্যতা পাওয়া গেলেও ৩৪২৬ ক্রমিকে অন্তর্ভূক্ত ভোটার আরফান আলী শেখ, পিতা- খোরশেদ আলী, ভোটার নম্বর- ৯৩১৩১৩৭৯০৬৯৪, গ্রাম- মাদারিয়া ভূঞাপুর টাঙ্গাইলের বাড়িতে বিগত ১ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টার সময় তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, মো. আরফান আলী শেখ সমর্থন সম্বলিত তালিকায় প্রদত্ত টিপসহি নিজের নয় বলে উল্লেখ করেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১২ (৩ ক) দফা ২ এর উপদফা (ক) এর শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রার্থীতার পক্ষে সমর্থন যাচাই) বিধিমালা ২০১১ এর ৫ বিধির আলোকে এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১৪ (৩) (গ) এর বিধান অনুসারে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদারের দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্রটি বাতিল যোগ্য হওয়ায় বাতিল ঘোষনা করা হয়।
অন্যদিকে, গত ১ ডিসেম্বর প্রার্থীর সমর্থক ভূঞাপুরের মাদারিয়া গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে তালিকার ৩৪২৬ ক্রমিকে অন্তর্ভূক্ত ভোটার আরফান আলী শেখের নিখোঁজের বিষয়টি উল্লেখ করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
নিখোঁজ সমর্থককে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের দিন ভূঞাপুরের ফলদা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াররম্যান মো. সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদুর ব্যক্তিগত গাড়িতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসা যাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সত্যতা যাচাই ও নির্বাচনের পরিবেশ অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে জেলা প্রশাসনের অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা।
নিখোঁজ আরফান আলী শেখ বলেন, আমি কারো পক্ষে কোথাও কোন স্বাক্ষর দেইনি। এছাড়া নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

ফলদা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোন সমর্থক নিখোঁজের বিষয়টি জানেন না। আরফান আমার প্রতিবেশী ও আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। সেই হিসেবে আমি তাকে সাথে নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু বলেন, আমি ১ ডিসেম্বর সমর্থক নিখোঁজের বিষয়টি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। অভিযোগের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আমার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করা হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি, আমার বিশ্বাস আমি ন্যায় বিচার পাবো।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, সমর্থক নিখোঁজের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর একজন ভোটার স্বাক্ষর দেননি বলে দাবি করায় নিয়মানুযায়ী ওই মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন টাঙ্গাইলের আলোচিত সিদ্দিকী পরিবারের সহোদর ৩ ভাই। জেলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। নির্বাচনে অংশ নেয়া আসন গুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল-৩,৪,৫ ও ৮।
সিদ্দিকী পরিবারের প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আর ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুরাদ সিদ্দিকী।
এর মধ্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ ও ৩ দুটি আসন, মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ ও ৫ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
তবে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু ছাড়াও সহোদর ছোট ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী, স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠক ও বিএনপি’র সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের মেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সিদ্দিকী পরিবারের সহোদর এই ৩ ভাই স্ব স্ব আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সিদ্দিকী পরিবারের ৩ সহোদর ভাইয়ের নির্বাচনে অংশ নেওয়া আসন গুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে কৃষক শ্রমিক জনতালীগ প্রার্থী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানা। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে রয়েছেন- আজিজ খান (জাকের পার্টি) আব্দুল হালিম (জাতীয় পার্টি), মো. হাসান আল মামুন সোহাগ (এনপিপি), চৌধুরী হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র) ,মো. জাকির হোসেন (বিএনএম), ফরিদা রহমান খান (স্বতন্ত্র), মো. সাখাওয়াত খান সৈকত (বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল)।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু ছাড়াও সহোদর ছোট ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী, স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠক ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজের মেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী।
অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- মোন্তাজ আলী (জাকের পার্টি), শহিদুল ইসলাম (তৃণমূল বিএনপি),এস এম আবু মোস্তফা (জাসদ), মো.শুকুর মাহমুদ (বিএসপি), সাদেক সিদ্দিকী (জাতীয় পার্টি জেপি)।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকীর প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মামুনুর রশিদ, বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ, কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার আহসান হাবিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মোজাম্মেল হক।
এই আসনে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী মহিলালীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেরনিগার হোসেন তন্ময়, মো. তৌহিদুর রহমান চাকলাদার( বিএনএম), মো.দুলাল মিয়া (জাকের পাার্টি), হাসরত খান ভাসানী (ন্যাপ ভাসানী) ও মো.শরীফুজ্জামান খান (তৃনমুল বিএনপি)।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এর প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয়।
অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- মো. আবুল হাসেম (বাংলাদেশ বিকল্পধারা), আ.জলিল (জাকের পার্টি), শাম্বুল (তৃনমুল বিএনপি) আর রেজাউল করিম (জাতীয় পার্টি)।
আওয়ামী রাজনীতির এক সময়ের জেলার পরিচয়বহণ করা সিদ্দিকী পরিবারের বড় ছেলে ও বাংলাদেশ আওয়াশীলীগের বহিষ্কৃত প্রেসিডিয়াম মেম্বার আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটি সভায় হজ, তাবলিগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব হারান। এরপর তাঁকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দেশে ফেরার পর তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়। পরে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরবর্তীতে নির্বাচন থেকে সরে যান। দ্বাদশ নির্বাচনে আবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ১৯৯৯ সালে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেন। এরপর নিজ দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র নেতা মুরাদ সিদ্দিকী কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতালীগে যোগ দেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মুরাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ২০০৯ সাল থেকে মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৯ সাল থেকে মুরাদ সিদ্দিকী অদ্যবধিও আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে পরাজিত হন মুরাদ সিদ্দিকী।