একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ(ওএসসি, এনডিইউ, পিএসসি) বলেছেন, সারা বাংলাদেশের মতো টাঙ্গাইল জেলায়ও করোনা পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরকার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে- আপাতত লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পেট্রোল কার্যক্রমও সেইভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে।
তিনি বলেন, আবারও যদি করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়, সরকার যদি আবারও কঠোর লকডাউন দেয় তাহলে সেনাবাহিনী তার কার্যক্রম চালাবে। মঙ্গলবার(১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলে সেনাবাহিনীর অপারেশন কোভিড শিল্ড(পর্ব-২) এর আওতায় টহল কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনী প্রধান আরও বলেন, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। যে সহযোগিতা সবার কাছ থেকে পেয়েছি তাতে আমি খুব খুশি। বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সবার সাথে মিলে সেনাবাহিনী কিন্তু এবার অত্যন্ত ভালোভাবে কাজ করেছে। সব থেকে ভালো লাগছে যে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে আমরা কিন্তু করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।
আমরা যদি এইভাবে সবাই মিলে কাজ না করতাম এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারতো। তারপরও করোনা পরিস্থিতি তেমনটা ভালো হয়নি। তবে ইনশাল্লাাহ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে এবং জনগণ যদি সবাই সচেতন থাকে আমাদের এই পরিস্থিতি দ্রুত অনেক উন্নতি হবে।
এর আগে তিনি হেলিকপ্টারযোগে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে শহরের নিরালামোড় ও ভিক্টোরিয়া রোডে টহলরত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন ও কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সাথে লকডাউনের বিষয়ে কথা বলেন।
এ সময় ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, ৯৮ সংমিশ্রিত বিগ্রেড বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এসএম আসাদুল হক পিএসসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বরুহা বাজার।পাশেই দেলদুয়ার উপজেলার গোমজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়ক। মাঝখানে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। সড়কটি পাকাকরণ না হওয়ায় ছয় গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জানাগেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বরুহা বাজারের পরেই দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানী গ্রামের উত্তর পাশ দিয়ে দীর্ঘদিন আগে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়ক। সড়কটির দুপাশে কোন বসতবাড়ি নেই, তাই আটিয়া ইউনিয়ন তথা দেলদুয়ার উপজেলার ভোটারও নেই। সড়কটি দিয়ে সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা, কুইচামারী ও চরপাড়া এবং দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানী, পাথরাইল ইউনিয়নের বান্দাবাড়ি ও বরুটিয়া গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ায় তারা সংক্ষিপ্ত সড়ক হিসেবে ওই কাঁচা সড়কটি ব্যবহার করে থাকে। বর্ষাকালে কাঁদা ও শুকনো মৌসুমে ধূলাবালি মাথায় নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
সরেজমিনে গোমজানী গ্রামের মো. জুলু মিয়া, মো. লিটন আহাম্মেদ; বরুহা গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিন, আফছার আহাম্মেদ, চাকুরিজীবী শারমিন আক্তার, কুইচামারী গ্রামের কলেজছাত্রী তমা আক্তার, গৃহবধূ রহিমা বেগম, বান্দাবাড়ি গ্রামের আনিসুর রহমান, সাহান হাসান , রেজাউল করিম সহ অনেকেই জানান, এক কিলোমিটার ওই কাঁচা সড়কের দুই পাশে কোন বসতবাড়ি না থাকায় ভোটারও নেই। তাই স্থানীয়দের অতিপ্রয়োজনীয় হওয়া স্বত্বেও ওই সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে আশপাশের ছয়টি গ্রামের মানুষকে ৩-৫ কিলোমিটার ঘুরে সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করে বরুহা বাজার ও আটিয়ায় সুফি সাধক আলী শাহান শাহ্ধসঢ়; বাবা আদম কাশ্মিরীর মাজার সহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়।
সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আল মামুন জানান, বরুহা থেকে গোমজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়ক পর্যন্ত কাঁচা সড়কটির এক কিলোমিটারের প্রায় পুরোটাই দেলদুয়ার উপজেলায় পড়েছে। ফলে সদর উপজেলা বা স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষে প্রকল্প দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। ওই সড়ক দিয়ে আশপাশের ছয় গ্রামের মানুষ চলাচল করলেও ভোটার না থাকায় দেলদুয়ার উপজেলা প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সড়কটি পাকাকরণে কোন আগ্রহ নেই।
আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, তিনি ভোটারের কথা বিবেচনায় না নিয়ে জনস্বার্থে সড়কটিতে মাটিভরাটের মাধ্যমে উঁচু করেছেন। পাকাকরণের এখতিয়ার তার নেই। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলে পাকাকরণের উদ্যোগ নেবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনের পরিত্যক্ত একটি বাক্সের সূত্র ধরে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)। রোববার(৮ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল পিবিআই কার্যালয়ে জণাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন ভূঞাপুরে অজ্ঞাত যুবতীর পরিচয় উদ্ধার ও মামলায় জড়িত চার ব্যক্তির গ্রেপ্তার সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে বীরভরুয়া নামকস্থান থেকে গত ৩ আগস্ট এক অজ্ঞাত যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না পেয়ে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে স্থানীয় ছাব্বিশা গোরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে টাঙ্গাইলের পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে গত ৫ আগস্ট মামলাটির দায়িত্ব নেয়। ওইদিনই পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার জানান, পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্ব পিবিআইয়ের একটি চৌকশ টিম গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। বিভিন্ন সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের ইসপিনজারপুর গ্রামে মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমানের ভাড়া বাড়িতে যোগাযোগ করেন।
তদন্ত টিম মো. মিজানুরকে কৌশলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে তার ঘরে পড়ে থাকা মোবাইল ফোনের পরিত্যক্ত একটি বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটিতে দুটি মোবাইল ফোনের ভাঙা অংশ ছিল। পরে ওই বাক্সের গায়ে লেখা আইএমই নম্বরের সূত্র ধরে অজ্ঞাত যুবতীর বাবা গোপালপুর উপজেলার জয়নগর গ্রামের মো. খোকন মন্ডলের সন্ধান পান। ছবি ও পড়নের কাপড় দেখে মো. খোকন মন্ডল অজ্ঞাত ওই যুবতী তার মেয়ে খোদেজা খাতুন বলে শনাক্ত করেন।
মো. খোকন মন্ডল পুলিশকে জানান, তার মেয়ে খোদেজা খাতুন গত ২ আগস্ট তার নানিবাড়ি একই উপজেলার মনতলা থেকে বাড়ি আসার পথে নিখোঁজ হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, অজ্ঞাত যুবতীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্ত কাজ দ্রুত এগুতে থাকে। পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর তদন্ত টিম তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে সোর্সের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার্থী খোদেজা খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক প্রেমিক সহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, গোপালপুর উপজেলার ভেঙ্গুলা গ্রামের স্বর্গীয় নগেন চন্দ্র দাসের ছেলে ঘাতক প্রেমিক কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ওরফে সানি আহাম্মেদ(২৮), ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে সৌরভ আহাম্মেদ হৃদয়(২৩), একই উপজেলার কেরামজানী গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. মেহেদী হাসান টিটু(২৮) এবং একই উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান(৩৭)। গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার দুপুরে ৩ দিনের করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ওরফে সানি আহাম্মেদ পুলিশকে জানায়, পেশায় তিনি একজন নরসুন্দর(নাপিত)। মোবাইল ফোনে মিস কলের মাধ্যমে খোদেজা খাতুনের সাথে তার পরিচয় হয়। তিনি মুসলিম নাম সানি আহাম্মেদ ধারণ করে খোদেজার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
পরে দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে তার বন্ধু সৌরভের মোটরসাইকেলে ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামে অপর বন্ধু মো. মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে খোদেজা খাতুনকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
চিৎকার-চেঁচামেচিঁ করায় ঘরে থাকা গামছা গলায় পেঁচিয়ে তারা চার বন্ধু মিলে খোদেজাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশটি বস্তাবন্দি করে একটি ভাড়াকৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে বীরভরুয়া নামকস্থানে ফেলে রাখে। এরআগে তারা খোদেজার ওড়না ও ভ্যানিটিব্যাগ যমুনা নদীতে ফেলে দেয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে একটি মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাতশ্রী জামে মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। ৩০০ পরিবারের সমাজ থেকে ৫০টি পরিবার আলাদা হওয়ায় ওই সমাজে দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে এসে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, বিগত ১৯৯৬ সালের ১৬ জুন তাতশ্রী মৌজার ১৮১ ডিপি খতিয়ানের (সাবেক খতিয়ান ১৩৯) ৪৬৮ হাল দাগের (সাবেক দাগ ২৯৭) ২৪ শতাংশ ভূমি স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তি তাতশ্রী দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে ওয়াক্ফ দলিলমূলে দান করেন।
২০০৫ সালে মাদ্রাসার আয় বাড়ানোর জন্য পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। মার্কেটের কক্ষগুলোর মধ্যে স্থানীয় আব্দুল কাইয়ুম দুইটি ও ওসমান গনি একটি দোকান ভাড়া নেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দোকান তিনটি যথারীতি ভাড়া পরিশোধ করে পরিচালনা করা হয়। পরে কৌশলে দোকানের ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে ওসমান গনি ও তার দুই ভাই বাদী হয়ে দোকান ঘরের মালিকানা দাবি করে টাঙ্গাইলের সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা(নং-৮/২০২০খ্রি.) দায়ের করেন।
মামলার নোটিশ পাওয়ার পর মাদ্রাসা ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল(শুক্রবার) বাদ জুমআ তাতশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে লাউহাটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ফিরোজের সভাপতিত্বে এক গ্রাম সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। সালিশে মাদ্রাসার দোকান ওসমান গনি মাদ্রাসা কমিটির কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওসমান গনির দখলে থাকা দোকানটি তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।
তাতশ্রী দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. মনির উদ্দিন, স্থানীয় সাহাদাৎ হোসেন খান, তোফায়েল আহাম্মেদ, নুরনবী আলামিন, আবুল হাসেম মিয়া সহ গ্রামের অনেকেই জানান, তাতশ্রী জামে মসজিদের আওতাভুক্ত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের দান-অনুদানে দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসার মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া দুখী হাজী এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে ২৪ শতাংশ ভূমির বিএস রেকর্ড রয়েছে। ভূমির খাজনা-খারিজ ও ডিসিআর মাদ্রাসর সাধারণ সম্পাদকের নামে রয়েছে।
মামলার অন্যতম বাদী ইয়াছিন আলী জানান, পৈত্রিকসূত্রে তারা মাদ্রাসার ২৪ শতাংশের মধ্যে ১২ শতাংশের মালিক। তার চাচা মরহুম খোরশেদ আলী জীবদ্দশায় তার বাবা আহাদ আলীর অংশ সহ মাদ্রাসায় ওয়াক্ফ করে গেছেন। তাই তারা ভূমির স্বত্ত্ব দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
লাউহাটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ফিরোজ জানান, তাতশ্রী দুখী হাজী মাদ্রাসার ভূমি যথারীতি ওয়াক্ফকৃত। গ্রাম্য সালিশে মাদ্রাসার মার্কেটের দোকান মাদ্রাসা কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে মাদ্রাসাটি ‘দুখী হাজী’র নামে প্রতিষ্ঠা করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অসুস্থ থাকায় বিষয়টি সমাধান হয়নি, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টির মিমাংসা করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরস্থ শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদার আর নেই। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে বুধবার(৪ আগস্ট) ভোরে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি শিক্ষিকা স্ত্রী কল্পনা পারভীন ও একমাত্র ছেলে র্যাইয়ান উৎসব তালুকদার সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
ভূঞাপুরস্থ নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রথম ও বাদ আছর ভূঞাপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভূঞাপুরের ছব্বিশাস্থ কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। সদালাপী নিরহঙ্কার তরুণ বুদ্ধিজীবী শফিউদ্দিন তালুকদারের জানাজা নামাজে টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, পৌর মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, সংগঠক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজসেবী সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আপাদমস্তক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠক শফিউদ্দিন তালুকদার ১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চরাঞ্চল গাবসারা ইউনিয়নের জুঙ্গীপুরে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা কুদরত আলী তালুকদার ও মাতা সখিনা বেগম। তিনি ১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরস্থ নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। অধ্যাপনাকালেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংগ্রহে মনোনিবেশ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার স্বাধীনতা বিরোধীদের হামলার শিকার হন। বহু ঘাত-প্রতিঘাত ও হায়েনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শফিউদ্দিন তালুকদার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহ ও গবেষণা করেছেন।
তার গবেষণামূলক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে ভূঞাপুর, বাংলাদেশের আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের গণহত্যা :: যমুনার পূর্ব পশ্চিম, একাত্তরের বয়ান- প্রথম খন্ড, ভূঞাপুরের জনজীবন ও সংস্কৃতি ইত্যাদি। তার প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে হাজং আদিবাসী, আদিবাসী গারো মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিচারণ :: আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে ভূঞাপুরের ঐতিহাসিক ঘটনা, সাটিয়াচড়া-গোড়ান গণহত্যা, আদিবাসী নারী মুক্তিযোদ্ধা সন্ধ্যারাণী সাংমা, সিরাজকান্দি জাহাজমারা যুদ্ধ, ছাব্বিশা গণহত্যা দিবস, ভূঞাপুর ডাকবাংলো মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর হোক ইত্যাদি। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- স্বজনেরা ঘুমায়, বুকের সরোবরে প্রভৃতি। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও তিনি ফোকলোর ও আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ সম্পর্কিত তার কিছু বইও প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি,বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, বাংলা একাডেমি ও ইতিহাস একাডেমির সদস্য ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী পশ্চিমপাড়ায় মঙ্গলবার(৩ আগস্ট) সকালে অভিযান চালিয়ে ২৯ গ্রাম হেরোইনসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। মঙ্গলবার র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের ফজর আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম(৩০), আজহার আলীর ছেলে হারুন(৩৮), একই উপজেলার পুরুলি মাইজবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে সজিব(২২) এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেড়াবুচনা(সবুজবাগ) গ্রামের নেওয়াজ আলীর ছেলে ফরিদ হোসেন(৪০)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৯ গ্রাম হেরোইন(যার মূল্য প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা) ও নগদ ৭০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাব কমান্ডার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ হেরোইন সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছিল। গোপনে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে মঙ্গলবার (৩ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই।
মৃত্যুবরণকারী দুই ভাই হচ্ছে- চরডাঙ্গা গ্রামের রাসেল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান(৭) ও জাহিদ মিয়ার ছেলে তালহাজ(৭)।
জানা যায়, দুই চাচাতো ভাই আব্দুর রহমান ও তালহাজ এবং পাশের বাড়ির রবিউলের ছেলে রাফি(৬) মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে খেলা করতে যায়। খেলার সময় সকলের অগোচরে রহমান ও তালহাজ পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তখন রাফি দৌঁড়ে গিয়ে রহমান ও তালহাজের বাড়িতে খবর দেয়।
এসময় পরিবারের সদস্য সহ স্থানীয় কবির, শওকত, সাগর ও জহিরুলসহ অনেকেই পুকুরের পানিতে নেমে তাদেরকে খোঁজাখুজি করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়া মন্ডল দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। ডা. প্রিয়া মন্ডল জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা রেল ক্রসিংয়ের পাশে মঙ্গলবার(৩ আগস্ট) সকালে অভিযান চালিয়ে ৩০০ বস্তা সরকারি সার সহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে র্যাব-১২। এ সময় মো. সোহাগ মিয়া(৩০) ও মো. মঞ্জিল ইসলাম(২০) নামে দুই কলোবাজারীকে নগদ দুই লাখ টাকা সহ র্যাব গ্রেপ্তার করে। র্যাব-১২’র সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মো. সোহাগ মিয়া জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার কান্দারপাড়া গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে ও মো. মঞ্জিল ইসলাম টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাইতকাই গ্রামের মো. মোতালেবের ছেলে।
র্যাব কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গা রেল ক্রসিংয়ের পাশের সড়কে অভিযান চালানো হয়।এ সময় ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক থেকে অবৈধ ২০০ বস্তা পটাশ ও ১০০ বস্তা ডিএপি সরকারি সার জব্দ এবং উল্লেখিত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা অধিক মুনাফার আশায় সরকারি সার সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ নিয়ে যাচ্ছিল। এ বিষয়ে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কে পাশে অর্জুণা ইউনিয়নের ভরুয়া নামক স্থানে মঙ্গলবার(৩ আগস্ট) সকালে জলাশয় থেকে সাদা প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অজ্ঞাত(২৫) এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কে ভরুয়া নামক স্থানে জলাশয় থেকে মঙ্গলবার সকালে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি ) আব্দুল ওহাব মিয়া জানান, বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ২৫ বছর বয়সী ওই যুবতীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ধারণা করা হচ্ছে- রাতের কোন এক সময় কেউ তাকে হত্যার পর লাশ সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিরিঞ্জে করোনার ভ্যাকসিন রেখে সূচ পুশ করার ঘটনায় সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খান মঙ্গলবার(৩ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, টাঙ্গাইলের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম, জেলা ইপিআই কর্মকর্তা মো. সোলাইমান ও দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শামিম সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করে। তদন্ত প্রতিবেদনে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিনের নামে আনিত অভিযোগের সত্যতা
নিশ্চিত হয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে তিনি মঙ্গলবার সকালে সুপারিশ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
প্রকাশ, রোববার(১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২নং বুথে টিকা দিচ্ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন। এ সময় সাজেদা আফরিন টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে ভ্যাকসিন প্রবেশ না করিয়ে শুধু সূচ পুশ করে সিরিঞ্জ ফেলে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় এক যুবকের নজরে আসে। তিনি ঘটনাটি আবাসিক চিকিৎসক ডা. শামিমকে জানালে তিনি পরিত্যক্ত সিরিঞ্জগুলো বাছাই করে ২০টি সিরিঞ্জের ভেতর সম্পূর্ণ ভ্যাকসিনের উপস্থিতি দেখতে পান। সূচ পুশ করা হলেও শরীরে ভ্যাকসিন প্রবেশ করানো হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত হন।
এ ঘটনায় সোমবার(২ আগস্ট) তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সুলতানা খাতুন (২৪) নামে এক নারী স্ত্রীর অধিকার আদায়ে বিষের বোতল আর কাবিননামা হাতে নিয়ে গত তিনদিন তিনরাত ধরে স্বামীর বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন।
গত শনিবার (৩১ জুলাই) থেকে উপজেলার দাড়িয়াপুর দক্ষিণপাড়া ফাইলা পাগলার মাজার এলাকায় অধিকার আদায়ের জন্য এ অনশন চলছে তার।
স্ত্রীর অধিকার না পেলে তিনি সেখানেই বিষপানে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজগর আলীর মেয়ে। খবর শুনে দলবেঁধে আশপাশের লোকজন ওই নারীকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন।
জানা যায়, সুলতানা খাতুন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজগর আলীর মেয়ে। গাজীপুর চৌরাস্তায় সেবা এনজিও নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর ফাইলা পাগলার মাজার এলাকার মৃত মোজাফ্ফর মিয়ার ছেলে আবদুর রহিম মিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ওই এনজিওতে সুলতানা ছিলেন মাঠকর্মী আর রহিম ছিলেন সহকারী ম্যানেজার। ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তারা বিয়ে করেন। সেই থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গাজীপুর চৌরাস্তার ভাওয়াল কলেজ সংলগ্ন আক্কাছ আলীর বাসায় ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রহিম বাসা থেকে চলে যান এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বর পাল্টিয়ে গ্রামের বাড়ি দাড়িয়াপুরে চলে আসেন। পরবর্তীতে ওই নারী রহিমের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে ঠিকানা মোতাবেক ৩১ জুলাই শনিবার স্ত্রীর অধিকার আদায়ে কাবিননামা এবং বিষের বোতল হাতে নিয়ে রহিমের বাড়ি চলে আসেন সুলতানা। তার আসার খবর শুনে রহিম ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুর রহিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওই নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী আসিফ জানান, বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে বুধবার (৪ আগস্ট) স্বামী রহিমসহ উভয়পক্ষের লোকজনকে ডাকা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় রোববার(১ আগস্ট) দিনগত রাত নির্ঘুম কাটায় এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাড়ীগ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে এক ইউপি সদস্য প্রথমে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন। এ খবরটি মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সেল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার মসজিদে মসজিদে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়। এতে জনমনে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ডাকাত আতঙ্কে জান-মাল রক্ষায় এলাকাবাসী রাত জেগে পাহারা দেয়। রাতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় জনগণের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ বাড়ীগ্রাম সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করে।
মামুদনগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন জানান, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে ৫-৬ জন অপরিচিত লোক বাড়ীগ্রামের ত্রি-রাস্তার মোড়ে আসেন। সেখানে তারা চা পানের ফাঁকে ফোনে কথা বলতে থাকেন। তাদের ফোনালাপ ও গতিবিধি স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরে তাদেরকে সেখানে আর দেখতে না পেয়ে তিনি মসজিদে মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন।
মামুদনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের বাড়ীগ্রামে ডাকাত পড়েছে এ খবরটি ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রথমে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করেন। পর্যায়ক্রমে কলমাইদ, শুনসী, বেলতৈল, মেঘনা, চারাবাগ, পংবাইজোড়া ও বেটুয়াজানী গ্রামের মানুষকে সতর্ক করার জন্য মসজিদে মসজিদে মাইকিং করা হয়। এরপর নাগরপুর সদর সহ পুরো উপজেলা জুড়ে ডাকাতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমনটা প্রচারে মাইকিং করা হয়।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ডাকাতের খবরটি নিছক গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। রোববার রাতে খবর পেয়ে ৪-৫টি টিম ভোর ৫টা পর্যন্ত টহলে ছিল। কোথাও কোন ডাতাতির ঘটনা ঘটেনি। এক শ্রেণির মানুষ গুজবটি মাইকিং করে জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।