একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলওয়ে স্টেশনের পাশে রোববার(২৯ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে ২৪৪ গ্রাম হেরোইন সহ দুই বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালেদপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. সেন্টু মিয়া(৫৫) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. সাইদুর রহমান(৬৫)।
র্যাব-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্পেশাল কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এএসপি মি. জন রানার নেতৃত্বে র্যাবের একটি চৌকষ দল বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলওয়ে স্টেশনের পাশে অভিযান চালায়। অভিযানে উল্লেখিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ২৪৪ গ্রাম হেরোইন, দুইটি মোবাইল ফোন ও নগদ ২০০০ টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর সারণীর ৮(গ) ধারায় মামলা দায়ের করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানায় হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জনতা ব্যাংক লিমিটেড এর উদ্যেগে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক শ্যামল কৃষ্ণ সাহার মাধ্যমে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের অসহায়, দরিদ্র, কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংক লিমিটেড টাঙ্গাইল কর্পোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম, নাগবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টন সিদ্দিকী, জনতা ব্যাংক টাঙ্গাইল কর্পোরেট শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউপি সদস্য আয়নাল হক ও আঃ হামিদ, স্থানীয় মন্দির কমিটিরসাধারন সম্পাদক স্বপন পাল সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জনতা ব্যাংকের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তাগণ নাগবাড়ি ইউনিয়নের কৃতিসন্তান জনতা ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক শ্যামল কৃষ্ণ সাহার প্রতি কৃতজ্ঞতা সহ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বিতরণ কার্য সম্পাদিত হওয়ায় জনতা ব্যাংক লিমিটেড টাঙ্গাইল কর্পোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক নাগবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপস্থিত সুধীজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীদিনে জনতা ব্যাংকের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ পচাত্তরের ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হেকমত আলী (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ী। শনিবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হেকমত ওই গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে। তিনি ধান ও গাছের ব্যবসার পাশাপাশি বাউল গানের আসর বসাতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য হেকমত ঘুম থেকে ওঠেন। এর পর অজু করে মসজিদে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। সকালে নিজ বাড়ির আমগাছের সঙ্গে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। স্বজনদের দাবি মানসিক সমস্যার কারণে তিনি এভাবে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ গিয়ে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন করেন।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, পরিবারের কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন। এছাড়া তাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে তার ঘনিষ্ট স্বজন আউট সোর্সিং হিসেবে প্রসেস সার্ভার পদে চাকরিরত এক ছেলেকে গলা কেটে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে সব বিচারকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিচারক খালেদা ইয়াসমিনসহ তার পরিবারের লোকজন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) খাকি রংয়ের খামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিনের নামে একটি চিঠি আসে। সেখানে প্রেরকের স্থানে জুবায়ের রহমান লেখা রয়েছে।
চিঠির লেখাটি হুবুহু তুলে ধরা হলো: ম্যাডাম- আপনাকে উদ্দেশ্য করে চিঠি দিলাম। বিস্তারিত পড়ে দেখুন।
আমরা জঙ্গি সংগঠনের লোক। তাই জীবনে চলার পথে অনেক অন্যায় কাজ করেছি। এমনকি এখনো করি। আমরা যখন যাকে ট্রার্গেট করি তখন তাকে ছলে বলে কৌশলে হত্যা করি। এটাই আমাদের পেশা। এবার আপনাকে হত্যা করার পালা। কারণ আপনি নারী ও শিশু কোর্টে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেকটি বড় ধরনের মামলার রায় দিয়েছেন। তাতে আমাদের লোকজনের খুব বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি যদি নিজের জীবনের প্রতি মায়া থাকে তাহলে টাঙ্গাইল থেকে বদলি হয়ে চলে যান। যদি কথা না শোনেন তাহলে আমরা আপনাকে হত্যা করতে বাধ্য হবো। আর আমাদের যারা সহযোগিতা করতেছে তারা কয়েকজন আইনজীবী এমনকি জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের স্টাফদের সমন্বয়ে।
আপনাকে যেভাবে হত্যা করা হবে তার ২টি নমুনা:
টার্গেট-১। অফিস থেকে বাসা এর মধ্যে আসা যাওয়ার পথে আপনার গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করা হবে।
টার্গেট-২। অফিস চলাকালীন সময়ে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে আপনার এজলাশ বা খাসকামড়ার মধ্যে বোমা নিক্ষেপ করা হবে।
তবে একটা কথা মনে রাখবেন আপনাকে পুলিশ যতই নিরাপত্তার মধ্যে রাখুক না কেন আপনাকে আমাদের বোমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তাই প্রাণ বাঁচাতে চাইলে টাঙ্গাইল থেকে তাড়াতাড়ি বদলি হয়ে চলে যান।
যদি আপনাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হই। তাহলে আমাদের হিংস্রতার টার্গেট রয়েছে আরেকটি। সেটা হলো-আপনার নারী ও শিশু কোর্টে ‘আউট সোর্সিং’ হিসেবে প্রসেস সার্ভার পদে যে ছেলেটি চাকরি করে সে নাকি আপনার খুব ঘনিষ্ট আত্মীয়। তাই আমাদের লক্ষ্য ছেলেটাকে অফিসে আসা যাওয়ার পথে বা কোর্ট থেকে বাহিরে যাওয়া মাত্রই আমরা তাকে অপহরণ করবো। পরে গহীন জায়গায় নিয়ে আটকে রেখে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করবো। আর যদি টাকা না দিতে পারেন তাহলে ছেলেটাকে জবাই করে হত্যা করা হবে। পরে লাশ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া হবে। কথাটা মনে রাখবেন।
ইতি
জঙ্গি সংগঠন।
এদিকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন জানান, চিঠিটি পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। এছাড়া তিনি ও তার পরিবারের লোকজন বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে বিচারক খালেদা ইয়াসমিন ও তার পরিবারের লোকজনদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, র্যাবের সব টিম বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে এক মাস পর টানা চার দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার( ২৬ আগস্ট) পর্যন্ত এই চার দিনে আক্রান্তের হারও অনেক কম। চার দিনে ১৯৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার( ২৬ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১৯, মধুপুরে ১১, গোপালপুরে ৬, কালিহাতীতে ৪, ভুঞাপুর ও ধনবাড়িতে ৩ জন করে, দেলদুয়ার ও নাগরপুরে দুজন করে ও বাসাইলে একজন রয়েছেন। আক্রান্তের হার ১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২৭৫ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ মারা যায়নি। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫১ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ১০ হাজার ৯৬৭ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪৯৫ জন।
এর আগে করোনায় মৃত্যু শূন্য ছিল গত ২২ জুলাই। তার আগে মৃত্যুশূন্য দিন ছিল এক জুলাই। জেলায় প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ এপ্রিল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুবরণ করে ওই বছরের ২০ এপ্রিল।
গত এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। জুন মাস থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। জুলাই মাসে সর্বাধিক ছয় হাজার ৩০ জন শনাক্ত হন এবং ১০৫ জন মৃত্যুবরণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে টাঙ্গাইলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) সকালে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার ধলেশ্বরীতে ৪ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেণ্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৯ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) জানায়, গত দুই দিন যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের করণে জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। ফলে জেলার চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, বাসাইল, ভূঞাপুর, মির্জাপুর, বাসাইল ও নাগরপুর উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। কোথাও কোথাও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল পাউবো ও কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়লেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীসহ জেলার সব নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদীর পানি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের ছিটমামুদপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) ভোরে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে আশিক(২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আশিক ছিটমামুদপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।
নিহতের চাচা শওকত হোসেন জানান, বুধবার রাতের খাবার শেষে আশিক প্রতিদিনের ন্যায় নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় গভীর রাতে তাকে সাপে কামড় দেয়। পরে রাতেই তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক জানান, সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যুর বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আইনী প্রক্রিয়া শেষে আশিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দ্বিতীয় স্ত্রী সৈয়দা আমেনা পিংকিকে হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে পৌর কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিচারের দাবি উঠেছে। বুধবার( ২৫ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দা আমেনার বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বলেন, টাঙ্গাইলে থাকার সময় ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে সৈয়দা আমেনাকে মোর্শেদের লোকজন অপহরণ করে। পরে মোর্শেদ আমেনাকে জোরপূর্বক বিয়ে করেন। এরপর মোর্শেদ আমেনাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘর সংসার করতে থাকে। মোর্শেদের দুই স্ত্রী থাকায় পরিবারে মাঝে মাঝে ঝগড়া হয়। তাদের সংসারে এক কন্যা সন্তান মায়শা জন্মগ্রহন করে, যার বয়স এখন ছয় বছর। আমেনার সংসারে এক মুহুর্তের জন্য শান্তি দেয়নি সন্ত্রাসী মোর্শেদ ও তার প্রথম স্ত্রী। তাকে প্রচুর মারধর করত। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মোর্শেদ তার এক সহযোগির বাসায় দাওয়াতের কথা বলে আমেনাকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়েই মোর্শেদ কয়েকজনের সহায়তায় আমেনাকে হত্যা করে লাশ গুম করে।
সৈয়দ শরিফ উদ্দিন জানান, এতো দিন মোর্শেদের ভয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে সাহস পাননি। সম্প্রীতি মোর্শেদ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন মোর্শেদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
সৈয়দ শরিফ উদ্দিন নীলফামারী শহরের হাড়োয়া আদর্শপাড়ার বাসিন্দা। তিনি এক সময় টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় মোর্শেদের বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতেন।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গত ১৯ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। পরে তার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে দু’টি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ।
আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে। মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ নিতেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি-দক্ষিণ) বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের টেংগুরিয়াপাড়া গ্রামে বুধবার(২৫ আগস্ট) দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৮০০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- ওই এলাকার মো. সাগর মিয়া(২৫) ও মো. জাকির হোসেন রিপন(৩৮)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. রাইজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চৌকশ দল টেংগুরিয়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়।
এ সময় ৮০০ পিস ইয়াবা সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের বাজার মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামে বুধবার (২৫ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে সাত বছরের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম(১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত শফিকুল ইসলাম আলোকদিয়া গ্রামের আলতাফ প্রামাণিকের ছেলে।
র্যাব-১২, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যাণ্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন (জি) বিএন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আলোকদিয়া এলাকায় সাত বছরের একজন প্রতিবন্ধী মেয়েকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে লেবু বাগানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চালিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শফিকুলের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি সুজন হত্যা মামলার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত ও আসামি পক্ষের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(২৪ আগষ্ট) সকালে মধুপুর প্রেসক্লাবে নিহত সুজনের পরিবার ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদসম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মামলার বাদী ধলপুর গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, তার ভাই সুজন মিয়া একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। একই গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে মহির উদ্দিনের সাথে বিদুৎতের মিটার সংযোগ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ওই কথা কাটাকাটির জের ধরে গত ৩ জানুয়ারি একই গ্রামের রেজাউল করিম (৩৫), মো. উজ্জল মিয়া (৩২), মো. শামীম(৩০), মো. ইউসুব আলী(৫০), মো. ইয়ামিন(২৮), মহির উদ্দিন(৫০), বাদশা মিয়া (৫৫), মো. রাসেল(২২), মো. সেলিম মিয়া(৩০), রুহুল আমিন(২৬), জয়নাল আবেদীন(৪৬), রেজিয়া বেগম(৪৫)ও বোয়ালী গ্রামের আ. জলিলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। এ বিষয়ে মধুপুর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, মামলার আসামিদের মধ্যে বর্তমানে পাঁচজন জেল-হাজতে রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুপুর থানার এসআই আল আমিন (বর্তমানে কালিহাতী থানায় কর্মরত) তদন্ত শেষে ৭ জনকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। চার্জশীটে বাদির অভিযোগ যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় তিনি আদালতে নারাজী আবেদন দাখিল করেন। আদালত নারাজী গ্রহন করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়।
বাদি আরও বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে সঠিকভাবে তদন্ত না করে এজাহারভুক্ত আসামীদের বাদ দিয়ে চার্জসীট দাখিল করেছেন। বর্তমানে বাদ পড়া আসামিরা নানাভাবে হুমকি- ধমকি দিচ্ছে। আসামিরা সুজন হত্যা মামলার বাদি পক্ষকে চারটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত সুজনের বাবা নজর আলী, মাতা ফাতেমা, বোন চায়না বেগম, ভাই দুলাল, আয়নাল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার(২৪ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সহিদুর সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আতাউর রহমান খানের ছেলে। আট মাস ধরে তিনি কারাগারে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৮ আগস্ট) বুকে ব্যথা অনুভব করায় সহিদুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর পরীক্ষা–নিরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে থাইরয়েড ও কিডনিতে কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী গতকাল সোমবার করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ হন তিনি।
টাঙ্গাইল আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, চিকিৎসার জন্য সহিদুরের আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার ও গতকাল সোমবার দুই দফা টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অন্তর্বর্তী জামিন আবেদন করেন। তাঁরা সহিদুরের চিকিৎসার জন্য যেকোনো শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ দুই দিনই তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করেন।
প্রকাশ, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর গত বছরের ২ ডিসেম্বর সহিদুর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। তার পর থেকেই তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে। এ পর্যন্ত ১৩ বার আদালতে জামিন আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।