একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রফেসর ড. এআরএম সোলাইমান। বৃহস্পতিবার(২৯ জুলাই) সকালে তিনি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত শেষে তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যায়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন, সকল অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ, গত ২৮ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে পরবর্তী ভাইস-চ্যান্সেলর নিয়োগ ও নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-২০০১ এর ১০(৩) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এআরএম সোলাইমানকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে করোনা টিকা নেওয়ার রেজিস্ট্রেশন(নিবন্ধন) করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাব্বির হোসেন রুবেল(৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ভোরে শহরের নগর জালফৈ(ঢাকা রোড) থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাব-১২ এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার কমান্ডার এএসপি মো. এরশাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সাব্বির হোসেন রুবেল টাঙ্গাইল শহরের নগরজালফৈ এলাকার সামাদ মিয়ার ছেলে।
র্যাব কমান্ডার জানান, চলমান মহামারী করোনার(কোভিড-১৯) টিকা নেওয়ার রেজিস্ট্রেশন(নিবন্ধন) করে দেওয়ার কথা বলে সাব্বির হোসেন রুবেল বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রতারণা করে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছিল। গোপনে সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে নগর জালফৈ এলাকার আরাফ ফটোস্ট্যাট অ্যান্ড কম্পিউটারের দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাব্বির হোসেন রুবেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
র্যাব কমান্ডার আরও জানান, তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৪১৭/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই জন ও উপসর্গ নিয়ে এক জন মারা গেছেন। জেলায় একদিনে নতুন করে ৭০৭টি নমুনা পরীক্ষায় ১৯৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জেলায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ৩৪৪ জন। বুধবার(২৮ জুলাই) টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জেলায় মোট আক্রান্ত ১৩ হাজার ৩৪৪ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ২২৫ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০৭ জন। বর্তমানে বাড়িতে ও আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পাঁচ হাজার ৮০৩ জন। জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে করোনা ডেডিকেটেড বেডে ১০৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মরহুম আনোয়ার সাদাৎ তানাকার স্মৃতি রক্ষার্থে ‘তানাকা স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। বুধবার(২৮ জুলাই) টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মোশারফ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ হাবিবুল আলম শাতিলকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
এরআগে টাঙ্গাইল শহরের পারদিঘুলীয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক কার্যালয় ‘তৃণমূল ভবনে’ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রয়াত কাউন্সিলর আনোয়ার সাদাৎ তানাকার বন্ধু মহলের উদ্যোগে এক সভা আহ্বান করা হয়। সভায় পৌরসভার জনপ্রিয় কাউন্সিলর তানাকার স্মৃতি রক্ষায় ‘তানাকা স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সংগঠনটি স্থানীয় মৃত ব্যক্তিদের সৎকার, অসহায়দের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ছিন্নমূল শিশুদের উন্নয়নে ভূমিকা সহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবে।
প্রকাশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রমের জ্যেষ্ঠপুত্র আনোয়ার সাদাৎ তানাকা টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচনে ৪নং ওয়াডের্র কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। গত ২০ জুন হদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যমুনার উন্মত্ততায় দুই দিনের ভাঙনের শিকার হয়ে কালিহাতী উপজেলার ৯২টি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। একই সময়ে জেলার ঝিনাই নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকার বাঁকে বাঁকে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বাসাইল উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি যমুনায় ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি পরিবারকে নগদ অর্থ ও অন্যদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, যমুনায় পানি কমতে থাকায় শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভৈরববাড়ী গ্রামে ভাঙন দেখা দেয়। শুক্রবার রাতের ভাঙনে ১৪টি পরিবারের বাড়ি পুরোপুরি যমুনার পেটে চলে যায়। পরে দফায় দফায় শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই গ্রামের ৭৮টি পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙন শুরু হওয়ায় তড়িঘড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙন কবলিত শতাধিক পরিবার আত্মীয়দের বাড়ি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও শতাধিক ঘর বাড়ি ভাঙনের হুমকির মুখের রয়েছে। এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে ভাঙনের শিকার পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে, গত এক সপ্তাহে বাসাইল উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনার শাখা ঝিনাই নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকার বাঁকে বাঁকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ১০-১২টি পরিবারের ভিটাবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে তীরবর্তী অনেকেই বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পাঁচ শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বিলপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বীর নিবাসটিও ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনার ভাঙনের শিকার ভৈরববাড়ী গ্রামে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হয়েছে। অপরদিকে, বাসাইল উপজেলায় ঝিনাই নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন পয়েণ্টে কাজ অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে ভাঙন কবলিত পয়েণ্টগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতি বছর নদী ভাঙন রোধে অস্থায়ী ব্যবস্থায় শুধু টাকার অপচয় হচ্ছে। নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। অহেতুক টাকার অপচয় ঠেকাতে ও নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সড়কের সংস্কারের অভাবে দুই গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। নাগরপুরের দপ্তিয়র ইউনিয়নের ধূনাইল-দৌলতপুর চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সারোটিয়া গাজি ও পাছ আরড়া গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারছেনা। সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় ওই দুই গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিপণ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবরে পশ্চাৎপদ জনপদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সাথে মানিকগঞ্জের(তৎকালীন ঢাকা জেলার) দৌলতপুরের যোগাযোগ স্থাপনে পাকিস্তান আমলে ধূনাইল-দৌলতপুর ভায়া সারোটিয়া গাজি ও পাছ আরড়া চার কিলোমিটার কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটি এখন সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে কাঁদা ও শুকনো মৌসুমে ধূলায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ওই সড়কে নাগরপুর ও দৌলতপুরকে দ্বিখন্ডিত করেছে একটি খাল। বর্ষায় বানের পানিতে খালটি পরিপূর্ণ থাকে। বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
সারোটিয়া গাজি গ্রামের আমিরুল ইসলাম আলোক ও মনির হোসেন সহ অনেকেই ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বৃষ্টি হলে কাঁদা আর শুকনায় ধূলার সাগর পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হয়। রিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলতে পারে না। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সময়মতো যেতে পারেনা। প্রসূতিদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়না। পণ্য পরিবহনে ঘোড়া ও গরুর গাড়ির কোন বিকল্প নেই।
তারা আরও জানান, এই সড়ক দিয়ে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচল। নির্বাচন এলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বার বার সড়কটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ কথা রাখেনি।
দপ্তিয়র ইউপি চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী জানান, গ্রাম দুটির যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নাজুক। ইউনিয়ন পরিষদের ছোট-খাট প্রকল্প দিয়ে এ সমস্যার সমাধান আদৌ সম্ভব নয়। মেগা প্রকল্প গ্রহন করার যোগ্যতা ইউনিয়ন পরিষদের নেই। তবে তিনি বিষয়টি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করবেন।
একতার কণ্ঠঃ কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়ক ফাঁকা। হঠাৎ দু-একটি দূরপাল্লার বাস চলাচল করতে দেখা গেলেও থ্রি হুইলারগুলো রীতিমত মহাসড়ক দখলে রেখেছে। জরুরি পণ্যপরিবহন, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার চলাচল করতে দেখা গেছে। শনিবার (২৪ জুলাই) কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন বঙ্গবন্ধু সেত-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের রাবনা ও আশেকপুর বাইপাসে সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে উত্তরবঙ্গ থেকে যাত্রী নিয়ে শ্যামলী পরিবহনের একটি এসি বাস ঢাকার দিকে এবং মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেণ্টারের একটি যাত্রীবাহী বাসকে টাঙ্গাইলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এছাড়া মহাসড়ক হয়ে থ্রি হুইলারে যাত্রীরা টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলাসহ গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত চলাচল করছেন।
মহাসড়কে পরিবহনের অপেক্ষারত নজরুল ইসলাম নামে এক পোশাক শ্রমিক জানান, পাঁচ দিনের ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। তিনি কাজ করেন গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায়। শনিবার(২৪ জুলাই) রাত থেকে তার ডিউটি শুরু। তাই তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। মহাসড়কে বাস নাই, থ্রি হুইলার গুলো ১০০ টাকার ভাড়া দ্বিগুন হাকাচ্ছে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোনা মিয়া জানান, শনিবার ভোর থেকে মহাসড়কে মাত্র ৪-৫টি বাস চলাচল করতে দেখেছেন। তবে বাসগুলোতে যাত্রী ছিল কিনা- তা তিনি খেয়াল করেন নাই। শুক্রবার(২৩ জুলাই) যে হারে বাস চলছে, শনিবার তা দেখা যাচ্ছেনা।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনায় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মহাসড়ক প্রায় ফাঁকা। এ সড়কে পণ্যপরিবহনে নিয়োজিত বাহন ও কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন ছাড়া কোন গাড়ি চলছে না। দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে না, এরপরও কোন বাস মহাসড়কে এলে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন দোকান, চায়ের স্টল ও মাস্ক পরিধান না করা, বিনা কারনে ঘর থেকে বের হওয়া ব্যক্তিদের উপর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার(২৪ জুলাই) দিনব্যাপী এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম । এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে ৩৩ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।ওই অভিযানে র্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম জানান, সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কলেজ পাড়ায় অবস্থিত গৌর ঘোঁষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডার এর ঘি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল বিধায় বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়াও মাইকিং করে লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি পালনে সকলকে সচেতন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ রাত পোহালেই ঈদ। কর্মস্থল ছুটি হওয়ায় নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। এতে করে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন ও ঘরমুখো মানুষের চাপে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে ২৫ কিলোমিটার এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) ভোর রাত থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আশেকপুর বাইপাস পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সকালে মহাসড়কের ঘারিন্দা, রাবনা, বিক্রমহাটি, রসুলপুর, পৌলি ও এলেঙ্গা এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। মাঝে মাঝে ঢাকামুখী লেনে গাড়ি চললেও উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ি আটকে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। গণপরিবহন চললেও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন। এ ছাড়াও ঘরমুখো মানুষদের তেমন স্বাস্থ্যবিধি মানতেও দেখা যায়নি।
যানজটের কারণে চালক ও যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি চরমে । এছাড়াও গরু নিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বেকায়দায়। সড়কেই কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এলেঙ্গা গ্যাস পাম্পে কথা হয় শ্যামলী পরিবহনের চালক মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের চার কিলোমিটার আসতে আমাকে আড়াই ঘণ্টা যাবত বসে থাকতে হচ্ছে।
ট্রাক চালক হায়দার আলী বলেন, সোমবার(১৯ জুলাই) সন্ধা সাড়ে ৭ টায় গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে রওনাহয়েছেন। টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার আসতে ১২ ঘণ্টা লেগেছে তার।
মাইক্রোবাস চালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এলেঙ্গাতে পৌনে দুই ঘণ্টা যাবত আটকে আছি। শুনতেছি সেতু পর্যন্ত জ্যাম। খাওয়া নাই, ঘুম নাই— সব মিলে খুব কষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ইয়াসির আরাফাত ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা ওসি শফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদেরসাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
জেলা পুলিশ বিভাগ সূত্র জানায়, ঈদে যানজট নিরসনে মহাসড়কে ৬০৩ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া দুই শতাধিক হাইওয়ে পুলিশও রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (১৯ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলী মনিরুল ইসলাম খান জানান, ফারুক হত্যা মামলায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের পর আদালত সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আরো নয় বার তার জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার( ১৫ জুলাই) সহিদুর রহমান খান মুক্তির পক্ষে তার আইনজীবীরা আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত সোমবার শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সহিদুর রহমান খান মুক্তির পক্ষে আইনজীবি আব্দুল বাকী মিয়া, আরফান আলী মোল্লা, শফিকুল ইসলাম রিপন, আনন্দ মোহন আর্য্য শুনানিতে অংশ নেন। তারা যে কোনো শর্তে মুক্তির জামিন মঞ্জুরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলী মনিরুল ইসলাম খান, বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল গফুর ও রফিকুল ইসলাম জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া বাসার সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। এ হত্যকান্ডের তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুইজনকে গ্রেফতার করে। আদালতে দুইজনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ হত্যার সঙ্গে তৎকালীন এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন।প্রায় তিন বছর হাজত বাসের পর জামিনে মুক্তি পান।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ভাই এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আতাউর রহমান খানের ছেলে।সহিদুর রহমান খান মুক্তি গত বছরের ২ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তার অন্য দুই ভাই এখনো পলাতক।
একতার কণ্ঠঃআসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি। সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ১০০ সাংবাদিকদের মাঝে ওই ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সঞ্জিত কুমার রায় বিপিএম, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা, টাঙ্গইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা প্রমুখ।
উপহার সামগ্রী হলঃ পোলাও চাল, সেমাই, তেল, গুড়ো দুধ, ডাল, চাল, চিনি ও আতর।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, করোনাভাইরাসে সময় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তা বিতরণ অব্যহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার সাংবাদিক বান্ধব। এই সরকারের সময় সাংবাদিকদের কল্যাণে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের সাংবাদিকরা যেন সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তা পায় তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ভুরভুরিয়া গরু-ছাগলের হাট। প্রতিবারের মতো এবছরও কোরবানীর পশুর ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে এই হাট।বাদ যায়নি পাইকার ও দালালদের আনাগোনা।আসন্ন ঈদুল-আজহা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলায় বেশ কয়েকটি কোরবানীর পশুর হাট বসানোর অনুমোদি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ভুরভুরিয়ায় অবস্থিত গরু-ছাগলের হাট অন্যতম ।
শনিবার(১৭ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে এই পশুর হাটটি।চলবে আগামী মঙ্গলবার(২০ জুলাই) ঈদুল-আজহার আগের দিন পর্যন্ত।এ হাটের সাথে টাঙ্গাইল,মানিকগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো।টাঙ্গাইল-নাগরপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে, টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে এই হাটের অবস্থান ।ফলে হাট বসার দ্বিতীয় দিনেই রবিবার(১৮ জুলাই) গরু-ছাগল নিয়ে হাজির জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারন কৃষক-খামারী। আদরে পালন করা খাসি নিয়ে হাটে হাজির বেশ কয়েকজন গৃহবধু।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভুরভুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ২ একর জায়গায় বসেছে গরুর হাট। বিদ্যালয় মাঠের পাশে মাছ বাজারে বসানো হয়েছে ছাগলের হাট। বিদ্যালয় ভবনেই পাইকার ও বিক্রেতাদের থাকার ব্যবস্থা করেছে হাট কতৃপক্ষ। যে কোন মূল্যের গরুর জন্য রওনা(খাজনা) ৫ শত টাকা আর ছাগল-খাসির জন্য ৩ শত টাকা ধার্য করেছেন হাট কতৃপক্ষ। এতে হাটে পশু কিনতে আশা ক্রেতাগণ অত্যন্ত খুশী। ইতিমধ্যে সারি সারি কোরবানীর গরুতে ভরে গেছে হাট প্রাঙ্গন। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে পশু কেনা নিয়ে দরদাম চলছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে গরু এনে নামাচ্ছেন খামারীগণ।বেশ একটা উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায় হাট জুড়ে। পাশের মাছের বাজারে বসেছে ছাগল-খাশির হাট। এখানে বেশ কয়েকজন গৃহবধু খাসি নিয়ে এসেছেন বেচার জন্য। খাশির হাটও জমজমাট।

টাঙ্গাইল শহরের মুসলিম পাড়া থেকে হাটে গরু কিনতে আসা রাশেদ সিদ্দিকি বলেন,তিনি প্রতি বছর এই হাট থেকে কোরবানীর গরু কেনেন। এবার তিনি দেখতে এসেছেন গরুর দাম কেমন যাচ্ছে। যদি দামে মিলে যায় তবে এখান থেকেই এ বছরও কোরবানীর গরু কিনবেন।
তিনি আরো বলেন, এখানে যে কোন মূল্যের গরুর রওনা(খাজনা) মাত্র ৫ শত টাকা। যোগায়োগ ব্যবস্থাও ভালো। সহজেই গরু কিনে বাড়ী ফেরা যায়। হাট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত ভালো। করোনা কালে শহরের ভিড় এড়িয়ে তাই আগে ভাগেই তিনি খোলামেলা এই হাটে এসেছেন কোরবানীর গরু কেনার জন্য।
এ ছাড়া পাথরাইল ইউনিয়নের বান্দাবাড়ী গ্রামের তাহেরুল ইসলাম,রেজাঊল করিম ও এনামুল হক পাশের অলোয়া বকুলতলী গ্রামের মোঃ ফজলুল হক, নাগরপুরের ভাররার আব্দুল মান্নান, বাঘিল ইউনিয়নের পাইকমুড়িল গ্রামের কবির খান, কাতুলির চৌবাড়ীয়া গ্রামের রাশেদ দেওয়ান জানান, এখানে অন্যন্য হাটের তুলনায় কোরবানীর পশুর দাম তুলনামূলক ভাবে অনেক কম।যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, কোন ধরনের উটকো ঝামেলা নেই এই হাটে। তাই প্রতি বছর এই হাটেই আসেন তারা কোরবানীর গরু-ছাগল কিনতে।

গরু বিক্রেতা বান্দাবাড়ী গ্রামের আনোয়ার হোসেন বেপারী, সিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা গ্রামের মোনসের আলী গরু নিয়ে এসেছেন এই হাটে। আশা করছেন, তাদের গরু ভালো দামে বিক্রি হয়ে যাবে। ক্রেতার উপস্থিতি নিয়ে তারা সন্তষ্ট। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গরু বিক্রি করেছেন তারা।
সিলিমপুর ইউনিয়নের চর পাকুল্ল্যা গ্রামের গৃহবধু হামিদা বেগম তার আদরে লালন-পালন করা খাসি নিয়ে এসেছেন ভুরভুরিয়া হাটে। তিনি তার খাসির দাম চাচ্ছেন ১৬ হাজার টাকা। তার আশা, এই দামেই তিনি খাসিটি বিক্রি করতে পারবেন।
বরুহা গ্রামের মীর শফিকুল ইসলাম জানান, এবছর কোরবানী দেওযান জন্য ১২ হাজার ৭ শত টাকা দিয়ে একটি খাসি কিনেছেন এই হাট থেকে। বাড়ি ফেরার পথে জানালেন, হাটের পরিবেশ ভালো। কোন রকম ঝামেলায় পড়তে হয়নি খাসি কিনতে গিয়ে।
ভুরভুরিয়া হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ শামিম-আল-মামুন জানান, ২০১১ সালে ভুরভুরিয়া হাটটি জেলা প্রশাসনের অনুমোদি নিয়ে বসানো হয়।হাটের আয়ের টাকা দিয়ে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান নিম্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেওয়া হয়।বিদ্যালয়টি এমপিও ভূক্ত না হওযায় হাটের আয়ের টাকা দিয়েই বিদ্যালয়ের সমস্ত ব্যয় নির্বাহ করা হয়।অন্য কোন খাতে এই হাটের আয়ের টাকা ব্যয় করা হয় না।
উল্লেখ,সরকারি হিসেবে জেলায় কোরবানির জন্য ৮৪ হাজার ২২০টি(গত দুই বছরের অনুপাতে) পশুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে এর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় ছোট-বড় ৬ শতাধিক গরু মোটাতাজা করণের খামার রয়েছে। খামারগুলোতে ৯৫ হাজার ২০০ কোরবানির গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া জেলার কৃষক পর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার পশু মোটাতাজা করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।