একতার কণ্ঠঃ একসঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের হাইভোল্টেজের ১২টি খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন এলাকাবাসী। শনিবার( ৯ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার(১০ অক্টোবর) সকালে বাইপাস এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. মাসুদ মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসের উত্তর পাশে বংশাই রোডের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেন মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ।
পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে না জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের উত্তর পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটিকাটার খনন যন্ত্র (ভ্যেকু) দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে গর্ত করতে থাকেন।
খুঁটির আশপাশে থেকে মাটি সরানোর ফলে বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শনিবার রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে একসঙ্গে ১২টি খুঁটি ভেঙে বিকট শব্দের সৃষ্টি হয় এবং খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। আশপাশের লোকজন ঘুমন্ত অবস্থায় ঘটনাটি টের পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ, হাইওয়ে ও থানা পুলিশকে খবর দেন।ঘটনার পর পরই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকার নেমে আসে।
রবিবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেঙে পড়া রাস্তার ওপর থেকে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ যোগাযোগ সচল হবে তা কেউ সঠিক করে বলতে পারছেন না। এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খুঁটি ভেঙে যাওয়ার পর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর মির্জাপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাইভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ তাদের না জানিয়ে খুঁটির নিচ থেকে মাটি কেটে সরিয়ে নিয়েছে। লোড না থাকার কারণে রাতে একে একে ১২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। নতুন খুঁটির ব্যবস্থা করে লাইন সচল করার চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় সেফাতন নেছা খান (৯০) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই বৃদ্ধার নাতি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করেছেন স্থানীয়রা। রবিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের মহিষমারা গ্রামের বাগানবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
মৃত সেফাতন নেছা খান ওই গ্রামের মৃত সিরাজ খানের স্ত্রী। ঘাতক নাতির নাম মঞ্জুর হোসেন (২৫)। তিনি সেফাতন নেছার ছেলে মনসুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মঞ্জুর মাদকাসক্ত। তিনি নেশার টাকার জন্য দাদির কাছে টাকা চেয়েছিলেন। না পেয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
নিহতের স্বজনের বরাতে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল জানান, সেফাতন নেছা বাড়িতে একা ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে তার নাতি মঞ্জুর হোসেন তার কাছে টাকা দাবি করেন। সেফাতন নেছা টাকা দিতে অস্বীকার করলে মঞ্জুর একপর্যায়ে কুপিয়ে প্রথমে সেফতন নেছাকে আহত ও পরে তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। সেফাতন নেছার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসার পর মঞ্জুর পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। তারা হত্যাকারীকে আটক করার অভিযানে আছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ “ধর্ম যার-যার, উৎসব সবার”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শারদীয় দুর্গোৎসবে দুইশত দুস্থ পরিবারের মাঝে নিজস্ব অর্থায়নে শাড়ী বিতরণ করেছেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার।শনিবার (৯অক্টোবর) সন্ধায় শহরের ছোট কালিবাড়ী পুজা মণ্ডপে ওই শাড়ী বিতরণ করা হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন,টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর)আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম( ভিপি জোহের)।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি গোপাল চন্দ্র সাহা,সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ, যুগ্ম-সম্পাদক বিমল কুমারদে,দাইন্যা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলিপ সুত্রধর,সম্পাদক লক্ষন চন্দ্র, পোড়াবাড়ি পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র সাহা ,গালা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি খুশি মোহন দাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ দাস।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে লাভলী আক্তার (১৫)। এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী তিনি। কিন্তু হঠ্যাৎ করেই লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে তিনি মেয়ে থেকে ছেলেতে পরিণত হলেন। এমনকি নিজের নাম লাভলী থেকে পরিবর্তন করে রেখেছেন আব্দুল্লাহ জিসান।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের নঠুরচর পশ্চিম পাড়া গ্রামে। তাকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেছেন বিভিন্ন এলাকার উৎসুক জনতা। শনিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হালিমুজ্জামান তালুকদার।
লাভলী আক্তার (আব্দুল্লাহ জিসান) নঠুরচর পশ্চিম পাড়া গ্রামের লাভলু মিয়ার বড় মেয়ে ও মির্জাপুর বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
হালিমুজ্জামান তালুকদার জানান, প্রায় কয়েক মাস আগে লাভলী আক্তারের মধ্যে ছেলেদের মতো ভাব আসে। একবার তার বিয়েও ঠিক হয়েছিলো। লিঙ্গ পরিবর্তনের কারণে সে বিয়েতে মত দেয়নি। কিন্তু ওই সময়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি তার পরিবার। শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হলে লাভলী আক্তারের বাড়িতে উৎসুক জনতার ভীড় জমে। তাকে এক নজর দেখতে দূর দুরান্ত থেকে প্রচুর পরিমাণে লোকজন আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রানা খান জানান, প্রতিদিন লাভলী আক্তারের (আব্দুল্লাহ জিসান) বাড়িতে কয়েক হাজার মানুষ আসে তাকে দেখতে। সবাই কৌতুহল নিয়ে তাকে দেখছে।
লাভলী আক্তারের (আব্দুল্লাহ জিসান) বাবা লাভলু মিয়া বলেন, তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর দিনরাত মানুষ ভিড় করছে তাকে দেখার জন্য। এখন তার শারীরিক গঠন পুরুষের মতো। এছাড়া চেহারাতেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। মেয়ে থেকে ছেলেতে পরিণত হওয়ার পর তার নাম রাখেন আব্দুলাহ জিসান।
তিনি আরো বলেন, শনিবার দুপুরে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। মাথার চুল কেটে দেয়া হয়েছে। পায়জামা, পাঞ্জাবি কিনে দেওয়া হয়েছে।
তার মা পারভিন আক্তার বলেন, ছয় মাস আগে লাভনী আক্তারের (আব্দুল্লাহ জিসান) বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ে করতে অসন্মতি প্রকাশ করে সে সময় লাভলী আক্তার তার মাকে লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি জানান। কিন্তু তার মা ঘটনাটি বিশ্বাস করেননি। পরে তিনি সবকিছু জেনে শুনে বিশ্বাস করেন।
লাভলী আক্তার (আব্দুল্লাহ জিসান) বলেন, সাত মাস আগে থেকেই তিনি বিষয়টি বুঝছেন। প্রথমে তিনি তার চাচীকে জানান। এরপর তার বাবা মা বিষয়টি জানে। এসএসসি পরীক্ষার পর বিষয়টি প্রকাশ করার তার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু তার আগেই প্রকাশ পেয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিম আল রাজি জানান, ‘স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমাদের দেশে মাঝে-মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এটা সাধারণত হরমোন জনিত সমস্যার কারনে হয়ে থাকে। আমি এই বিষয়েরই ডাক্তার। রোববার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সেখানে টিউমার থাকতে পারে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কাগমারা এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ের বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হয়। এ বিয়ে আটকাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে কনে সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়ের বাবা প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি মেয়েকে মেজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে তারই এক তালাকপ্রাপ্ত আত্মীয়কে কনে সাজিয়ে হাজির করেন।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের বাবা ও তালাকপ্রাপ্ত ওই নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৯ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩নং ওর্য়াডের কাগমারা এলাকার গাড়ি চালক আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে ও স্থানীয়ে একটি বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়ার বিয়ে ঠিক হয়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই মেয়ের বাড়িতে যাওয়া হয়। এ সময় মেয়ের বাবা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তারই এক তালাকপ্রাপ্ত আত্মীয় এনি আক্তারকে মেয়ে সাজিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করেন। এনি আক্তারের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার বয়স দেখা যায় ২১ বছর। এনি দাবী করেন শুক্রবার তারই বিয়ে হচ্ছে।
পরবর্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট ওই বাড়ি থেকে চলে যান। কিন্তু পরে খোঁজ খবর নিয়ে রানুয়ারা খাতুন জানতে পারেন সাত্তার তাঁর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়ার বিয়ে দিচ্ছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুনরায় সাত্তারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় মেয়ের বাবাকে ৭দিন এবং প্রতারণা করে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা এনি আক্তারকে ৫দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রানুয়ারা খাতুন বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে কনের বাড়িতে হাজির হয়েছিলাম। প্রথমে তারা একজন তালাকপ্রাপ্ত মেয়েকে হাজির করে বলেন তার বিয়ে হচ্ছে। পরে তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চলে আসি। কিন্তু পরবর্তিতে খবর পাই তারা প্রতারণা করেছে। পরে আবারও বিয়ে বাড়িতে হাজির হই। তবে খবর পেয়ে বর পক্ষ বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়নি। মেয়ের বাবা মেয়েকে বাল্য বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। পরে মেয়ের বাবা ও তালাকপ্রাপ্ত ওই নারীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার প্রধান সড়ক সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে কলেজর শিক্ষার্থীরা। শনিবার( ৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের সরকারি মুজিব কলেজের মূল গেইটে ঘন্টাব্যাপি ওই কর্মসূচি পালন করে ওই কলেজের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এতে দুই পাশের শত-শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে সড়কটির দ্রুত সংষ্কারের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে রুমান সিকদার, বৃষ্টি আক্তার, মারুফ হাসান, তানজিম ইসলাম, রিফাত আহমেদ, বায়েজিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
পরে সখীপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) একে সাইদুল হক ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে শিক্ষার্থীদের আগামি তিন দিনের মধ্যে সড়ক চলাচলে উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।
এ প্রসঙ্গে একে সাইদুল হক ভূইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ, চলতি বর্ষায় সরকারি মুজিব কলেজে যাওয়ার দুই কিলোমিটার প্রধান সড়কটির পলেস্তারা উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর সৃষ্ট খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। প্রধান এবং একমাত্র সড়কটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাক চাপায় খন্দকার ফাহাদ (২১) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছে। ওই ঘটনায় অপর আরোহী আব্দুল্লাহ-আল-দিমান(১৭) গুরুত্বর আহত হয়।শুক্রবার (৮ অক্টেবর) বিকালে নলুয়া-বাসাইল সড়কের উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের কলাবাগান সংলগ্ন এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত খন্দকার ফাহাদ গাজীপুর জেলার মাওনা শ্রীপুর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।এ দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত আব্দুল্লাহ আল দিমান সখীপুর উপজেলার শোলাপ্রতিমা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল গনি মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, বালু ভর্তি একটি ট্রাক অপর দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনা স্থলেই মোটরসাইকেল চালক খন্দকার ফাহাদ (২১) মৃত্যুবরণ করে । মোটরসাইকেলের অন্য আরোহী আবদুল্লাহ আল দিমান (১৭) গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয়রা আব্দুল্লাহ আল দিমানকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে যাদবপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সৈয়দ আলী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত খন্দকার ফাহাদের মরদেহ সখীপুর থানা পুলিশ এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ছয়জন কবি–সাহিত্যিককে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার(৮ অক্টোবর) সকালে সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে সাহিত্য সংসদের ৩৩৩তম স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতার আসরে ওই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কবিতায় ফেরদৌস সালাম ও জাহিদ মুস্তফা। তরুণ লেখক পুরস্কার পেয়েছেন তৌফিক আহমেদ, শিশু সাহিত্যে কাশীনাথ মজুমদার, প্রবন্ধে আলী রেজা এবং কথাসাহিত্যে রুদ্র মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট, অর্থ ও সম্মাননা পত্র তুলে দেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তিসত্তাকে জাগ্রত করলে জাতিসত্তা এবং মানবসত্তা জাগ্রত হবে। কেউ কারও থেকে ছোট নয়, সবাই শ্রেষ্ঠ। শুধু কাজের মধ্য দিয়ে কেউ প্রকাশিত হয়। সাহিত্য সাধনা ও দর্শন সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষ নতুন সভ্যতার আবিষ্কার করে।
তিনি আরও বলেন, ‘টাঙ্গাইল সৃষ্টিশীলতার জায়গা। এখানে নিয়মিত সাহিত্য চর্চা হয়। সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে প্রতিমাসে দুবার কবিতা পাঠের আসর বসে। এ জন্যই টাঙ্গাইলকে আমরা আলাদা করে দেখি।’
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান। বক্তব্য দেন ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিন, সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি মাহমুদ কামাল, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, সাহিত্য সংসদের উপদেষ্টা জাকিয়া পারভীন ও রতন চন্দ্র সাহা, ছায়ানীড়ের নির্বাহী পরিচালক লুৎফর রহমান, কবি রোকেয়া ইসলাম প্রমুখ।
পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা হয়। সাহিত্য সংসদের সাবেক সভাপতি হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব। এতে অর্ধশতাধিক কবি অংশ নেন।
সাহিত্য সংসদের সভাপতি মাহমুদ কামাল জানান, ২০০৪ সালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর থেকেই সংগঠনটি প্রতি বছর কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা টাঙ্গাইলের কবি–সাহিত্যিকদের পুরস্কৃত করে আসছে।
ব্যুরো বাংলাদেশ ও সাধারন গন্থাগার যৌথ ভাবে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলাম নূরু’র (৫৭) মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার(৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন তিনি। নূরুল ইসলাম নূরু উপজেলার বাশকাইলের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে। তিনি নগদাশিমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।
শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বাইশকাইল পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদ গাঁ মাঠে নূরুল ইসলাম নূরু’র জানাজা নামাজ শেষে সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। মরহুমের জানাজা নামাজে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত জনসেবা ও গণসংযোগ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।বৃহস্পতিবার জোহর নামাজ আদায় করে থানাব্রীজ সংলগ্ম চা স্টলে স্থানীয়দের সাথে নির্বাচনী আলোচনা করেন তিনি। বিকাল ৪টার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে পাশেই নিজস্ব মালিকানায় পরিচালিত আলিফ ডিজিটাল ক্লিনিকে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা করে তাকে টাঙ্গাইলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে স্থানান্তর করেন। সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির সেখানে যান। তিনি বলেন,নুরুল ইসলাম একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকালে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই টিকা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। এতে করে খুশি টিকা গ্রহীতারা, বিশেষ করে বিদেশ গমনেচ্ছুকেরা খুশি।ফাইজারের টিকা জেলায় আসার পর থেকে টিকাগ্রহীতাদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছে টাঙ্গাইল স্বাস্থ্য বিভাগ।
“জেলায় এখন পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজসহ ১০ লাখ ২৩ হাজার ৫০ জন মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে”
এ সময় শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মোহাম্মদ আলী, অধ্যক্ষ নুরুল আমিন মিঞা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান, জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. সোলায়মান, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টিকা গ্রহীতারা জানান, ফাইজারের টিকা দিতে পেরে তারা খুশি। বিশেষ করে যারা বিদেশ যেতে চাচ্ছেন তাদের আর এখন ঢাকা যেতে হবে না।এ টিকার জন্য ঢাকা যেতে হতো । এতে করে এক দিকে যেমন টাকার অপচয় হতো অন্যদিকে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হতো বলেও মন্তব্য তাদের।
এ ব্যাপারে টাঙ্গােইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, “ফাইজার টিকা নেওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন ৯০০ থেকে এক হাজার মানুষকে এই ফাইজারের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা বিদেশগামী রয়েছেন তাদেরকে প্রথমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ টিকা দেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, জেলায় ১৯ হাজার ৮৯০ ডোজ ফাইজারের টিকা রয়েছে ।টাঙ্গাইলের মানুষকে সব ধরনের টিকা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজসহ ১০ লাখ ২৩ হাজার ৫০ জন মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে সংসদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, “টাঙ্গাইলে প্রবাসীদের সংখ্যা বেশি। আর প্রবাসীদের দাবি ছিল, টাঙ্গাইলে যেন ফাইজারের টিকা দেওয়া হয়। ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হওয়ায় তাদের দাবি পূরণ হল। এতে করে নিজ জেলায় তারা সহজেই টিকা দিতে পারবে।”
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাসহ তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বিচার আইনী জটিলতায় সাত বছরেও শুরু হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্ত্রী ও সন্তান হারানো মজিবর রহমান, তাঁর মা জবা বেগম ও শ্যালক মোফাজ্জল হোসেন।
আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে একজন আসামি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন। উচ্চ আদালত এই পিটিশনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত করেছেন। ফলে থেমে আছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার।
মামলার এজাহার জানাযায়, মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণ সোহাগপাড়া গ্রামের প্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম তাঁর তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। বড় মেয়ে মনিরা আক্তার মির্জাপুরের গোড়াই উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মনিরা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এতে তার পরিবারের সদস্যরা রাজি ছিলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে হাসনা বেগমের বসতঘরের দরজার নিচ এবং জানালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে দেন। পরে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে দগ্ধ হয়ে ঘরেই মারা যান হাসনা বেগম (৩৮), তাঁর তিন মেয়ে মনিরা আক্তার (১৪), বাক্প্রতিবন্ধী মীম আক্তার (১১) ও নার্সারির শিক্ষার্থী মলি আক্তার (৭)।
পরদিন হাসনা বেগমের ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জনকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার কিছুদিন পর জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মোহাম্মদ নামের দুই আসামি গ্রেপ্তার হন। দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলাটি প্রথমে মির্জাপুর থানা এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে। তদন্ত শেষে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন নয় আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম, নুর মোহাম্মদ, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, আবুল বাশার, আবদুল মান্নান, মীর আসাদুল, ওয়াসিম মিয়া ও হারুন অর রশিদ।
২০১৬ সালের ২ মে মামলাটি বিচারের জন্য টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে। পরে ওই বছর ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, অভিযোগ গঠনের পর মামলার আসামি হারুন অর রশিদ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য হাইকোর্টে একটি রিভিশন মামলা করেন। উচ্চ আদালত মামলার রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশ দেন। এ জন্য মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ হচ্ছে না। তিনি জানান, অভিযোগ গঠনের পর ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদীসহ তিন সাক্ষী হাজির করেছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম এখনো টাঙ্গাইলের কারাগারে। অন্য আসামিরা জামিনে।
মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন হাসনা বেগমের পরিবারসহ মানবাধিকারকর্মীরা।
হাসনা বেগমের স্বামী মজিবর রহমান আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘কত মাইনসের বিচার অইলো। ছয় মাসেও বিচার শ্যাষ অইলো শুনলাম। কিন্তু আমার বউ-পোলাহান মরার সাত বছর পর বিচারই শুরু অইলো না। এইডা কোন দ্যাশ।’
মজিবরের মা জবা বেগম জানান, ছেলের বউ আর নাতনিদের হত্যাকারীর বিচারের আশায় চেয়ে থেকে তাঁর স্বামী চাঁন মিয়া দেড় বছর আগে মারা গেছেন। ক্ষুব্ধ জবা প্রশ্ন করেন, ‘বিচার কি সব পানি হয়ে গেল?’
মামলার বাদী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বোন-ভাগনি যে কত আপন তা কেউ বুঝব না। আর আমি হেই আপন জিনিস হারাইছি। ওরা তো আর ফিরা আইবো না। ওগো মারার বিচারের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতাছি। কিন্তু কেউ মুখ ফিরা তাকায় না।’
টাঙ্গাইলের মানবাধিকারকর্মী মাহমুদা শেলী জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সব জটিলতা নিরসন করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এভাবে দিনের পর দিন বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকলে বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হবে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কর্তৃক সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্ব স্ব স্থানে বহাল রাখার দাবীর প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ভাসানী প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন টাঙ্গাইল-৫( সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ছানোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকালে সন্তোষের ঐতিহাসিক দরবার হলে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন এমপি।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সহ অবস্থান বজায় রেখেই মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব স্ব স্থানে রাখার পক্ষে জোড়ালো সমর্থন ব্যক্ত করেন।এসময় তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল পীর শাহজামান দিঘির পশ্চিম পাশে সরিয়ে নেয়া, সন্তোষ রাণী দিনমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পাশে হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরিয়ে নেয়াসহ সকল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে হাসরত খান ভাসানী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্ব স্ব স্থানে বহাল রাখার জোর দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি শিশু স্কুল, সন্তোষ রাণী দিনমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তালিমাতে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য ও মাতৃসদন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এসময় শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম এ রউফ, ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ভাসানী অনুসারীবৃন্দ, স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।