একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুড়িয়ে পাওয়া একলাখ টাকা ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাদরাসার শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ।
ওই শিক্ষার্থী উপজেলার কালিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার ৫ম শ্রেণিতে পড়েন। কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন ওই মাদ্রাসার ছাত্রী।
জানা যায়, (৪ জানুয়ারি) বুধবার সকালে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া মারিয়া ও সহপাঠী রাবিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে এক লাখ টাকা কুড়িয়ে পান।এদিক-ওদিক কাউকে না পেয়ে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য সবার কাছে বলাবলি করতে থাকে। ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া টাকা খোঁজার জন্য প্রকৃত মালিক প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম ছুটাছুটি করে জানতে পারেন মাদরাসা ছাত্রী টাকা পেয়েছেন । শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফিরত দেন ওই মাদ্রাসার ছাত্রী।
টাকার মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি সকাল বেলা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় কখন যে পড়ে যায় বুঝতে পারিনি। পাগলের মত খোঁজ করছিলাম পরে জানতে পারি মাদ্রাসায় পড়ুয়া টাকা পেয়েছেন। ওদের সততা দেখে অবাক হয়ে গেছি,তারা চাইলে কাউকে না বলে নিজেদের কাজে খরচ করতে পারত। আমি ওদের সামান্য কিছু টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করেছি।
ওই মাদ্রাসার ছাত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা প্রবাসে থাকেন সৎ পথে টাকা উপার্জন করা কতটা পরিশ্রমের এবং কষ্টের আমার পরিবার সেটা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে। পরিবারের আদর্শ, শিক্ষকদের উপদেশ অন্যের টাকায় লোভ করতে নেই। তাই কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়েছি।
এবিষয়ে কালিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের গুলজারী বলেন,ওই ছাত্রীর এমন কার্য অবশ্যই তার পরিবার ও মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট সকলেই উচ্ছ্বসিত। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ভাতিজার দায়ের কোপে চাচা নিহতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার(৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান দক্ষিণপাড়া বাবুল বাজারের এক চায়ের দোকানের পাশে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত চাচা মো. শরিফ উদ্দিন (৩৫) ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
এই ঘটনায় ভাতিজা মো. ইদ্রিস আলীকে (৫০) উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান দক্ষিণপাড়া নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ভাতিজা ইদ্রিস আলী একই গ্রামের মৃত করিম উদ্দিনের ছেলে । সে বানিয়াজান ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সভাপতি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানদার হায়দার আলীসহ স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দোকানের পাশে প্রস্রাব করতে বসে শরিফ। হঠাৎ করে ইদ্রিস ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়ারা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা হাজেরা বেগম জানান, ‘রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপালের নেয়ার পথে মধুপুরে মারা যায় শরিফ। পূর্ব শত্রুতার জেরে ইদ্রিস শরিফকে খুন করেছে। আমরা এর বিচার চাই। শরীফ ও ইদ্রিস সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী আফরোজা বেগম জানান ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে আমার অবুঝ মেয়াটার এখন কি হবে। সে আর বাবা বলে ডাকতে পারবে না বলে কাঁদতে কাঁদতে মুর্ছা যান তিনি।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জবান , ‘এই ঘাতকের কঠোর বিচার হওয়া দরকার।’
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইদ্রিস আলীর স্ত্রী খালেদা বেগম জানান ‘রাতে পুলিশ এসে তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম জসিম জানান, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৪ জানুয়ারি সকালে)আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান,নিহতের বড় ভাই বাবুল হোসেন বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে প্রতিবেশি পাঁচ বছরের এক শিশুকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক সন্তানের জনক মো. সুজন মিয়াকে (৩২) গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) আদালতে পাঠিয়েছে ধনবাড়ী থানা পুলিশ।
এর আগে সোমবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের এক গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. সুজন মিয়া পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার দিকপাইত সদরের মাতারপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। সে ধনবাড়ীতে বিয়ে করে ঘর জামাই হিসাবে থেকে আসছিল।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, সোমবার দুপুরে শিশুটি তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর সাথে বাড়ির পাশে খেলা করছিল। সঙ্গীরা চলে গেলে প্রতিবেশি সুজন মিয়া শিশুটিকে ডেকে নিয়ে নিজ ঘরে নির্যাতন চালায়। শিশুটির ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সুজন মিয়াকে আটক করে। পরে এলাকাবাসী তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। রাতেই সুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ধনবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস আলী জানান, শিশুটির বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুজন মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মাত্র ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ডিমসহ মোরগ পোলাও। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বাজারে এমন উদ্যোগ অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই সত্য। প্রায় তিন মাস ধরে ভ্রাম্যমাণ হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে টাঙ্গাইল পাসপোর্ট ও নির্বাচন অফিস চত্বরে।
‘রাযীয বিরিয়ানি’ নামে ভ্রাম্যমাণ ওই হোটেলটি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় তিন যুবক। কমমূল্যে সুস্বাদু মোরগ পোলাও বিক্রির এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রেতাসহ স্থানীয়রা।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মাহুতি আর ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ এর মূল্য ৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। ৭১ টাকায় ডিমসহ মোরগ পোলাও বিক্রির ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে ৭০ টাকা রেখে বাকি ১ টাকা জমা করে হতদরিদ্রদের মাঝে খাবার সরবরাহ করছেন উদ্যোক্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল পাসপোর্ট ও নির্বাচন অফিস চত্বরে খোলা জায়গায় বসেছে ভ্রাম্যমাণ রাযীয বিরিয়ানি নামের হোটেলটি। ১০-১২টি প্লাস্টিকের টুল রাখা হয়েছে ক্রেতাদের জন্য। এর কয়েকটিতে বসে ক্রেতারা খাচ্ছেন। খাওয়া শেষে প্লাস্টিক জারে পানির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো বাবুর্চি বা শ্রমিক নেই হোটেলটিতে।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, হাজী বিরিয়ানি হাউজে ডিমসহ মোরগ পোলাও হাফ প্লেট ১৫০ আর ফুল প্লেট ৩০০ টাকা, নান্না বিরিয়ানিতে শাহী মোরগ পোলাও হাফ প্লেট ১৫০ আর ফুল প্লেট ২৮০ টাকা, নবাব বিরিয়ানি হাউজে মোরগ পোলাও হাফ প্লেট ১৪০ টাকা আর স্পেশাল শাহী বিরিয়ানি হাউজে মোরগ পোলাও বিক্রি হচ্ছে হাফ প্লেট ১৪০ আর ফুল প্লেট ২৮০ টাকায়।
এদিকে রাযীয বিরিয়ানির উদ্যোক্তা কালিহাতীর এলেঙ্গা শামসুল হক মহাবিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ জানান, টাঙ্গাইল পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডের হাউজিং এলাকার বাসিন্দা বড় ভাই রাজীব হোসেন, সাদিক আর আমি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছি। তবে কারও চাকরি ভালো লাগেনি। এ কারণে আমরা বাড়িতে ফিরে আসি। আমাদের উপার্জনসহ সমাজের জন্য কিছু করার কথা মাথায় আসে। ভাবনা থেকেই হোটেল করা আর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মাহুতি ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ আমাদের ভ্রাম্যমাণ হোটেলে মোরগ পোলাওয়ের দাম নির্ধারণ হয়েছে ৭১ টাকা। এর মধ্যে ১ টাকা অবহেলিত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই খেতে না পারা ওই ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি জমা হওয়া ১ টাকা থেকে খাবার।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার ব্যতীত পাঁচদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই হোটেল। হোটেলে গড়ে প্রতিদিন তাদের ১০-১২ কেজি চালের মোরগ পোলাও বিক্রি হচ্ছে। এই পরিমাণ চালে ১০০-১২০ প্লেট মোরগ পোলাও হয়।
স্পেশাল শাহী দম বিরিয়ানি নামের মোরগ পোলাও তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে চিনিগুড়া চাল, ব্রয়লার মুরগি ও সরিষার তেল। এক প্লেট মোরগ পোলাওয়ে দেওয়া হচ্ছে পোলাওসহ এক টুকরো মুরগির মাংস, হাফ ডিম, লেবু আর শসা। নিজেরাই রান্না করাসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করায় এত কম টাকায় বিক্রির পরও তাদের লাভ হচ্ছে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ বলেও জানান এ উদ্যোক্তা।
টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসের গ্রাহক ও হোটেলের ক্রেতা গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল গ্রামের সুমী বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ৭১ টাকায় বিরিয়ানি মানে অনেক কিছু। এই বিরিয়ানি যদি আমরা হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খেতে যাই তাহলে সর্বনিম্ন বিল হবে ১৪০-১৮০ টাকা। পরিবেশসহ খাবারের মানও ভালো। সরিষার তেল দিয়ে খাবারটি রান্না করায় এটি খুবই স্বাস্থ্যসম্মত।
পাসপোর্ট অফিসে আসা আরেক গ্রাহক ও হোটেলের ক্রেতা এম রতন মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল ফুডিস নামের একটি গ্রুপে এই হোটেলটির খোঁজ পাই। বেশ কয়েকবার এই হোটেলের মোরগ পোলাও খেয়েছি। খুবই মানসম্মত। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) পাসপোর্ট অফিসে কয়েকজন বন্ধু মিলে এসেছি। এই সুযোগে পাঁচ প্যাকেট নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অনেকেই ভাবতে পারেন এই মোরগ পোলাওয়ের দাম কম তাই মান ভালো হবে না। তাদের বলছি, এমনটা নয়। এই হোটেলের মোরগ পোলাও খুবই মানসম্মত ও সুস্বাদু। রিকশা, ভ্যানচালকসহ সব শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়েছে এই মোরগ পোলাওয়ের দাম।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ এই হোটেলের মালিক রাজীব হোসেন জানান, মানুষকে কম দামে ভালো খাবার দেওয়ার জন্য আমরা এটি প্রাথমিকভাবে শুরু করি। শুরুর পর থেকেই আমরা ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাই। এরই মধ্যে ক্রেতারা এর মান ভালো বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, প্রকৃত বাবুর্চি না হওয়ায় প্রথম দিকে রান্নায় কিছুটা সমস্যা হলেও আড়াই মাসের বেশি সময় হওয়ায় এখন আমরা মানসম্মত রান্না করতে পারছি। এ খাবার প্রতিদিন দুপুরে আমরাও খাই।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কাজে যাওয়ার সময় ড্রাম ট্রাকের চাপায় মো. সোহাগ (২৫) নামে বাকপ্রতিবন্ধী এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) সকলে ঘাটাইল পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের ছোনোটিয়া গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, সোহাগসহ পাঁচজন ভ্যানে করে সকালে কাজে যাচ্ছিল। তারা শিশু পার্কের সামনে পৌঁছলে অপর দিক থেকে আসা ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত অপর চারজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজ জানান, মরদেহের সুরতহাল করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার(১ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সিআইডি’র একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে স্থানীয়রা বিক্ষোভ-মানববন্ধন ও পাল্টা বিক্ষোভ-মানববন্ধনের কারণে তিনি আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিতি পান।
২০১৮ সালের ২৯ মার্চ(বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের আগের রাতে সোনামুড়ি গুপ্ত বৃন্দাবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের সময় পুলিশের গুলিতে গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামের নেছার আলীর ছেলে যুবদল নেতা মালেক মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করে। পরে নিহত যুবদল নেতা মালেক মিয়ার পরিবারের দায়েরকৃত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারকে আসামি করা হয়। মামলাটি একাধিক তদন্তকারী সংস্থা তদন্তের পর সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল সিআইডি’র পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান আকন্দ জানান, তারা সরেজমিনে ঘটনার পূর্বাপর তদন্ত শেষে রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হেকমত সিকদারকে গ্রেপ্তারের পর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহাম্মেদ জানান, সিআইডি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে উপস্থাপন করে। আদালত আগামি সোমবার(২ জানুয়ারি) রিমান্ড শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করে হেকমত সিকদারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রকাশ, ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বদলি করার হুমকি, কর্মসৃজন প্রকল্পের অতিদরিদ্রদের টাকা আত্মসাৎ, বন বিভাগের জমি দখল করে লেবু ও কলা বাগান, ড্রাগন বাগান তৈরি করা, সংরক্ষিত বনের শাল ও গজারির বাগান কাটা, সরকারি ভূমি দখল করার এন্তার অভিযোগে স্থানীয়রা বিক্ষোভ-মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এছাড়া তিনি সাগরদীঘি এলাকার অ্যাডভোকেট ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে খ্রিষ্টীয় বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২৭টি নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আব্দুর রহিম সুজন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুহাম্মদ সরোয়ার আলম, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ। পরে অতিথিরা টাঙ্গাইল কালেক্টেরট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৯ লাখ ৭ হাজার ১১৮টি এবং চার লাখ ৪০ হাজার মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর মাঝে ৫৭ লাখ ২৯ হাজার ৩০৯ টি বই বিতরণ করা হচ্ছে।
এছাড়াও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (১লা জানুয়ারী) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন বই বিতরণ করে টাঙ্গাইল সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শেখ ফরিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পর্ষদের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম বাদশা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক ইউপি সদস্য মো. আফজাল হোসেন খান, ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্দ।
বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনীর শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে রেল সেতুর স্লিপার ক্লিপে নাট-বল্টুর (ডগ ক্লিপ) পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে কাঠের কুচি। এমটাই ঘটেছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলপথের কালিহাতী উপজেলার কয়েকটি রেল সেতুতে। সেতুগুলোর নষ্ট হওয়া লোহার ক্লিপে নাট-বল্টুর পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে কাঠের কুচি।
তবে, ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলপথ মেরামতে থাকা শ্রমিকদের দাবি, নাট-বল্টু চুরি আর মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় রেল চলাচলে সুবিধায় কাঠের ওই কুচি লাগানো হচ্ছে। কাঠের কুচির কারণে ট্রেন চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না বলেও দাবি তাদের।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈশ্বরদী থেকে থেকে ঢাকার জয়দেবপুর পর্যন্ত ৩০৪ কিলোমিটার রেলপথের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত ছোট-বড় ছয়টি রেল সেতু রয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেকটি সেতুর স্লিপার আটকানো লোহার ক্লিপ দিয়ে। সম্প্রতি কিছু ক্লিপ চুরি ও মরিচা ধরে নষ্ট হলে লোহার ক্লিপের পরিবর্তে কাঠের কুচি লাগানো হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু রেলপথের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় দেখা যায়, রেলপথ মেরামতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। প্রতিটি রেল সেতুতেই স্লিপার আটকানো হয়েছে কাঠের কুচি দিয়ে। এছাড়া কাচের ওই কুচিগুলো স্লিপারের ভেতরে ঠুকাতে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হচ্ছে।
টাঙ্গাইল ঘারিন্দা স্টেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোনোভাবেই স্লিপার আটকানোর জন্য নাট-বল্টুর (ডক পিন) পরিবর্তে কাঠের কুচি বা অন্যকিছু ব্যবহার করা যাবে না। কারণ যখন ট্রেন চলে তখন স্লিপারগুলো ওঠানামা করে। এজন্য এটি স্থির রাখতে ডক পিন বা নাট-বল্টু ব্যবহার করা হয়। স্লিপারে কাঠের কুচি ব্যবহার করলে যেকোনো সময় ছুটে গিয়ে রেল দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ (পাকশী) বীরবল মণ্ডল বলেন, স্লিপার রেলের লোড বহন করে না। একটি স্লিপার অন্যটির সঙ্গে যেন না লাগে সে কারণে এখানে নাট-বল্টু (ডক পিন) ব্যবহার করা হয়। নাট-বল্টু বা ডক পিন নষ্ট হলে সেখানে কাঠের কুচি ব্যবহার করা যায়। অনেক সময় চুরি রোধে ডক পিনের পরিবর্তে কাঠের কুচি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে রেল চলাচলে কোনোরকম ঝুঁকি নেই বলেও দাবি করেছেন এ কর্মকর্তা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৩৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজন আপন সহোদর।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিসা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় জব্দ করা হয় মাদক পরিবহনে কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২১-১৯৬৩)।
আটককৃতরা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার মহেন্দ্রগাঁও গ্রামের মো. সাহেব আলীর ছেলে মো. মরতুজা আলম (২৫) ও মো. সাহাবুদ্দিন আলম (২৩), মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মাসুদ রানা (২১) ও পীরগঞ্জ উপজেলার খরসিংরা গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৪২)।
র্যাব-১৪ এর সিপিসি ৩ কোম্পানি অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, শুক্রবার ভোরের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাব্বিসা এলাকায় তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়। পরে মাদক কারবারিদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ব্যাক ডালার ভেতর দুইটি প্লাস্টিকের বস্তা ও একটি স্কুল ব্যাগ থেকে ৩৪০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ হয়। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে নগদ তিন হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদক কারবারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতো তারা।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান ‘গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শান্তিপুর্ন পরিবেশে বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সকালে ভোট গ্রহন শুরুর সময় ঘন কুয়াসার কারনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট প্রদান করতে দেখা যায়। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাচনী এলাকায়।
এছাড়াও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল রয়েছে পুরো নির্বাচনী এলাকা জুড়ে।
ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর, সংগ্রামপুর, রসুলপুর, লক্ষিন্দর ও ধলাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২১জন, সাধারন সদস্য পদে ১৪৩ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন এক লাখ দুই হাজার ৩শ’৮১ জন।
অপরদিকে,কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছয় জন, সাধারন সদস্য পদে ৩২ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ২২ হাজার ৪শ’৫৫ জন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান জানান,এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটারদের ভোট দানের হারও সন্তোষজনক। আশা করি, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় লৌহজং নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।
বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জোকারচর সংলগ্ন লৌহজং নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, লৌহজং নদীতে রাতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি হাইকোর্টে জামিন পাননি। তার জামিন আবেদনটি ফেরত দিয়েছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার জামিন আবেদন ফেরত দেন।
আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান। জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম এ মুনতাকিম।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান জানান, রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেছে। আদালত জামিন না দিয়ে আবেদন ফেরত দিয়েছেন।
মুক্তি এ মামলার আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই। তার বাবা আতাউর রহমান খান এ আসনের বর্তমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।
দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। আদালতে এ দুজনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি মুক্তিকে জামিন দেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করেন আদালত।
এরপর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। গত ২৭ এপ্রিল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ মুক্তিকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।
পরে হাইকোর্টে রুল শুনানি হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর রুল শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ হয়। এরপর টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন মুক্তি। গত ২৪ অক্টোবর তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করা হয়। পরে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।