একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আব্দুর রহমান (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র চারদিন যাবত নিখোঁজ রয়েছে। এতে করে চিন্তায় রয়েছে আব্দুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, আব্দুর রহমান উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের হাসড়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের আবুল হোসেন (মুন্সির) ছেলে এবং পার্শ্ববর্তী দারুল ইসলাম মোহাম্মদীয়া বল্লা ফাজিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় নিখোঁজ আব্দুর রহমানের বড় ভাই ইব্রাহিম শনিবার(২ নভেম্বর )রাতে কালিহাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
নিখোঁজ আব্দুর রহমানের বড় ভাই ইব্রাহিম জানান, গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকেলে মাদ্রাসা থেকে অন্য ছাত্রদের সাথে হাটতে বের হয় আব্দুর রহমান। মাগরিবের নামাজের পর মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় মাদ্রাসা হোস্টেল সুপার ইসলাম হোসেন ফোন করে জানান আব্দুর রহমানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরে আমরা বিভিন্ন স্বজনদের কাছে খোঁজ নিয়েও কোথাও তার সন্ধান পায়নি।
দারুল ইসলাম মোহাম্মদীয়া বল্লা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সাত্তার ইবনে ইমাম বলেন, প্রতিদিনের মতো আসরের নামাজের পরে ফ্রি সময় দেওয়া হয় আবাসিকের ছাত্রদের। শুক্রবারেও আসরের নামাজের পরে সকল ছাত্ররা বাহিরে ঘুরে এলেও আব্দুর রহমান ফিরে আসেনি।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম জানান, পুলিশ নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুর রহমানকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষ বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করায় ৬ ব্যবসায়িকে ১৬ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা ও ৪৪ কেজি পলিথিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (৩ নভেম্বর)দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার ও মোহাইমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক তুহিন আলম, সদর উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর ও খাদ্য পরিদর্শক সাহেদা বেগমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার জানান, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও মূল্য তালিকা না থাকায় ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে মনোরঞ্জন ও মো. আলমগীরকে ৫ হাজার টাকা করে, মো. আলিম, দীপক ও মো. রানাকে ২ হাজার টাকা করে এবং দীপককে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তাঅধিকার ও পরিবেশ আইনে এদের জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান,অন্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে একটি কাঁঠালগাছ থেকে আনোয়ার হোসেন (৪২) নামের এক মাছ বিক্রেতার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার(২ নভেম্বর) ভোররাতে উপজেলার আড়াইপাড়া গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
নিহত আনোয়ার হোসেন আড়াইপাড়া গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার আব্দুল বাছেদ খানের ছেলে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. হবি মিয়া বলেন, আনোয়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে মাছ বিক্রি করতেন। শনিবার ভোররাতে আড়াইপাড়া গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার বনের পাশে একটি কাঁঠাল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। তাঁর আত্মহত্যার কারণ বলতে পারছি না।
তিনি আরো বলেন,প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের কারণে এমনটি করে থাকতে পারে।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন,আনোয়ারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় তৈরিতে ‘গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি’ স্থাপন নামে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে শহরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’।
‘পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, এদের রক্ষায় এগিয়ে আসুন’ প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার(৩১ অক্টোবর) দিনব্যাপী ওই সংগঠনের ব্যানারে টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছে অর্ধশতাধিক মাটির হাঁড়ি স্থাপন করা হয়।

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের’ প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঠাগারের সদস্য শামীম আল মামুন, মনসুর হেলাল, সাজ্জাদ হোসেন, জাহিদ হাসান, রাকিব হোসেন, শহীদ ইসলাম এবং স্থানীয় শামীম-শাহীন নামক বিজ্ঞান একাডেমীর শিক্ষার্থীরা হাড়ি স্থাপনে অংশগ্রহণ করেন।
পাঠাগারের স্থায়ী সদস্য জাহিদ হাসান জানান, পাখিরা আমাদের পরিবেশের অপরিহার্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের নিরাপদ ঘর ও বসবাস নিশ্চিত করা সকলের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। পাখিরা প্রকৃতির অপরিহার্য সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্যের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। সবাই মিলে পাখির ঘর গড়ে তুলি, প্রকৃতির সুন্দর মায়ায় আপলোকিত হই- এটাই তাদের প্রত্যাশা।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান জানান, তারা বইপাঠ কার্যক্রমের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে থাকেন। এবছর থেকে পাখিদের জন্য গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব মাটির হাঁড়ি ঝড়-বৃষ্টি ও শীত থেকে সুরক্ষিত থাকার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রজননে পাখিদের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ উদ্যোগ ধীরে ধীরে জেলা-উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এ উদ্যোগ অন্যান্য পাখিপ্রেমীদের উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানে বিগত ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি গ্রামের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণুপাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দিনব্যাপী টাঙ্গাইলে পাখির নিরাপত্তা আশ্রয় তৈরিতে গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি স্থাপন কর্মসূচি পালন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক।চলতি বছরে অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারে চলে যাবে এবং শীতকালীন সবজি বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রতিবছর এ জেলায় উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণ করে থাকে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় সব ধরনের শীত কালীন সবজি চাষ হয়ে থাকে। যমুনা, ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী বিধৌত এই জেলার ভুমি বিন্যাস উর্বর হাওয়ায় বিশেষ করে জেলার চরাঞ্চল ও সমতল উপজেলায় প্রচুর শীত কালীন শাক-সবজি চাষ হয়ে থাকে।
এ ছাড়া জেলার পাহাড়ি তিনটি উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে শীতের সবজি চাষ হয়ে থাকে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর জেলার ১১ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবজির ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছর বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে সবজি চাষে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। নষ্ট হয়ে যায় বীজ ও চারা। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে জেলার বাজারগুলোতে। হঠাৎ বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বেড়ে যায়। বর্ষা মৌসুম কেটে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুরু করেছেন শীতকালীন সবজি চাষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চাষ করা সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, পাতাকপি, মুলা, টমেটো, শিম, লাউ, পালংশাক, লালশাক সহ হরেক রকমের সবজি। কৃষকদের মধ্যে কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ জমিতে বীজ বা চারা রোপণ করছেন। কেউ আবার জমিতে গজিয়ে ওঠা সবজির চারা গাছের পরিচর্যা করছেন। সব মিলিয়ে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার ক্ষেতের পর ক্ষেত যেদিকে চোখ যায় শুধু শীতের সবজি চাষাবাদের দৃশ্য। সবজি ক্ষেত নিংড়ানো, আগাছা পরিষ্কার ও পানি দিতে ব্যস্ত কৃষক ও কৃষাণিরা। অনাগত ফসলের দিকে তাকিয়ে তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গালার চরের রহিম বাদশা বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে আমাদের এলাকায় প্রতি বছরই বাড়ছে শীতকালীন সবজি চাষের জমির পরিমাণ। এই অঞ্চলে এক সময় ধানের চাষ হতো। এখন সে জায়গায় নতুন নতুন বসতি হওয়াতে চাষের জমিগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সেই ধান চাষের পরিবর্তে এখন এ এলাকায় হচ্ছে সবজির আবাদ।
সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বাগুনটাল গ্রামের কৃষক মজিদ মন্ডল বলেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে শীতকালীন সবজি আবাদ করে বেশি লাভবান হওয়া যায়। এ কারণে আমি প্রতি বছরই সবজি চাষ করি। তাতে বাজারে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদাও থাকে, আবার লাভবান হওয়া যায়।
জেলার ঘাটাইল উপজেলার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের এই আগাম সবজি বাজারে উঠার পরই কমে যাবে সবজির দাম। একই সঙ্গে বাজারে সবজির সংকটও কেটে যাবে। আশা করছি, এ বছর সবজি চাষে লাভবান হবো।
টাঙ্গাইলের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা ফারজানা খান জানান ,এ জেলা সবধরনের সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর জেলায় বিপুল পরিমাণ সবজির চাষ হয়। তাতে জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।এদিকে সব ধরনের সবজির দামও ভালো পাওয়া যায়। সে জন্যই এ বছর কৃষকরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে শীতকালীন সবজি আবাদে।
টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. দুলাল উদ্দিন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও টাঙ্গাইলে সবজির বাম্পার ফলন হবে। এর ফলে বাজারে সবজির সংকট কেটে যাবে, একই সঙ্গে দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে মনে করছেন তিনি।
শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক। ছবি সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের রাবনা এলাকা থেকে তোলা
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির অভিযানে তিনটি দোকানে সাড়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদেরকে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ অক্টোবর)সকালে সদর উপজেলার করটিয়া বাজারের পাইকারী ও খুচরা দোকানে পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়ার সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসান।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য ব্রদ্ধি রোধ, পণ্যের অবৈধ মজুদ প্রতিরোধ এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতকরনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হতে গঠিত জেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কয়েকটি দোকানের অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রী এবং পণ্য বিক্রির মূল্য তালিকা টানানো না থাকার অপরাধে তিনটি দোকানে সাড়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও কয়েকটি দোকানের মালিকদের সর্তক করা হয়।
অভিযানে টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও বিশেষ টাস্ক ফোসের সদস্য সচিব শাহীনুর আলম, কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলাা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বিশেষ টাস্ক ফোর্সের সদস্য আবু জুবায়ের উজ্জলসহ ছাত্র প্রতিনিধি, কৃষি বিপনীন ও মৎস অদিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কন্ঠঃ বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা ইনফোর্সমেন্ট অব হিউম্যান রাইটস এর উদ্যোগে “মানব পাচার মামলার বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিকতা দূরীকরণের উপায়” বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউএসএইড এর অর্থায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর সার্বিক সহযোগিতায় সোমবার ( ২৮ অক্টোবর )বিকেলে শহরের এসএসএস রেস্ট হাউজের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক (জেলা জজ) কাউসার আহমেদ।
সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, আইনজীবী ও সাংবাদিক আতাউর রহমান আজাদ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ,জেলা বার সমিতির সভাপতি এ কে এম শামীমুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু, টাঙ্গাইল ল কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদ, জেলা শ্রম ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পযার্য়ের সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যতা, বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব আর উন্নত জীবনের হাতছানি -এ সব কারনেই নারী-পুরুষ ও শিশু পাচার ক্রমশ বেড়ে চলেছে। প্রেম, বিয়ে কিংবা বিদেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এধরণের ঘটনা গুলো ঘটে। সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। পাচারের কাজে শুরু থেকে শেষ পর্ষন্ত বিভিন্ন পযার্য়ে একাধিক ব্যক্তি এই কাজের সাথে জড়িত থাকে। জেলায় বর্তমানে ১৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে অবৈধ পথে মানুষকে বিদেশে চাকুরীর জন্য যাওয়ার প্রবনতা ঠেকাতে হবে। সেই সাথে আইন শৃঙ্খলার আরো উন্নতি ঘটিয়ে নিশ্চিত জীবন যাপনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এছাড়া মানব পাচার মামলায় ভিকটিমরা কিভাবে সঠিক ও ন্যায় বিচার পাবে এবং এ মামলা গুলোতে যে সকল প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় তা থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সে বিষয়গুলোর উপর আলোচনা করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সিএনজিকে পাশ কাটাতে গিয়ে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক আকাশ (২৪) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার মুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী তানজিনা রাস্তার ছিটকে খাদে পড়ে আহত হলেও অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন।
নিহত মোটরসাইকেল চালক আকাশ কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ মধ্যেপাড়া গ্রামের হারুনের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিজ বাড়ি থেকে আকাশ স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে টাঙ্গাইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কালিহাতীর মুলিয়া এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলটি একটি সিএনজি পাশ কাটাতে গিয়ে পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই আকাশের মৃত্যু হয়।
নিহত আকাশের স্ত্রী তানজিনা ছিটকে পাশের খাদে পড়ে আহত হলেও অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিহাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন । সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে চলে গেছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতীর মুলিয়া এলাকায় পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক আকাশ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ আইনিগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কন্ঠঃ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ১১ জন জেলেকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী জেলার সদর উপজেলা ও কালিহাতি উপজেলায় যমুনা নদীতে ইলিশ মাছ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের এ কারাদণ্ড আদেশ দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার লোকমান মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম, আক্তার হোসেনের ছেলে বাদশা, রফিকুলের ছেলে হোসেন ও সোহাগ, আবু সাইদের ছেলে আসলাম, মাজম শেখের ছেলে আশরাফ।
এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জের আবু সামার ছেলে আলিম, তুফানের ছেলে গোলাম, ছকেরের মোল্লার ছেলে লতিফ, শাহা আলমের ছেলে আসাদুল ইসলাম ও বোরহান মণ্ডলের ছেলে আসাদুল।
টাঙ্গাইলের মৎস কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী জানান, অভিযানে জেলেদেরকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং মা ইলিশসহ হাতেনাতে ধরা হয়েছে। উদ্ধার করা জালের দৈর্ঘ্য প্রায় দশ হাজার মিটার। যার আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ টাকা।
তিনি আরও জানান, মা ইলিশ মাছ সংরক্ষণের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, আটক করা জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। আর অভিযানে আটকৃত ১১ জেলেকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানে কালিহাতি মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি রোধ, পণ্যের অবৈধ মজুদ প্রতিরোধ এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অধিনে গঠিত জেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পৌর শহরের সবচেয়ে বড় পাইকার বাজার পার্ক বাজারের পাইকারি ও খুচরা দোকানে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাফিসা আক্তার।
অভিযানে কয়েকটি দোকানের অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি এবং পণ্য বিক্রির মূল্য তালিকা টানানোর অপরাধে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও কয়েকটি দোকানের মালিকদের মৌখিক ভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযানে সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রাকিবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম, টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও বিশেষ টাস্ক ফোর্সের সদস্য সচিব শাহীনুর আলমসহ ছাত্র প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুইটি অবৈধ সীসা তৈরির কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার(২৩অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের মালির চালা ও আমবাগান এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করেন ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট(ভূমি) কিশোর কুমার দাস ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম ও পরিদর্শক মোতালেব হোসেন প্রমূখ।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম জানান ,পুরাতন ব্যাটারী হতে সীসা উৎপাদনকারী দু’টি কারখানার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও জানান,এ সময় ভ্যেকু দিয়ে কারখানার সকল স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনার সময় কারখানার মালিকদের কাউকে পাওয়া যায়নি।পরিবেশ সুরক্ষায় টাঙ্গাইল জেলার অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
তিনি জানান,ঘাটাইল উপজেলার পুলিশ সদস্যবৃন্দ এই উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নগরজফৈ বাইপাস এলাকায় বাস চাপায় দুই মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ অক্টোবর)বিকেল সোয়া ৫ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সোমবার বিকেলে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নগরজফৈ বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এসময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একতা পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে আরেকজনের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান,বাসটি আটক করলেও এর চালক ও সহকারি পলাতক রয়েছে।