আরমান কবীরঃ উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে জেলার মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদ (১৪) এবং সখীপুর উপজেলায় হতেয়া কেরানিপাড়া গ্রামের হুমায়রের বাড়িতে গিয়ে তারা সমবেদনা জানান। পরে নিহতদের কবর জিয়ারত করা হয়।
এসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু তানভীর এবং হুমাইয়ার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় নিহতের বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, গত ২১ তারিখ দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরদিন টাঙ্গাইলের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে এশিয়ান মেডিকেল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ও ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের ক্লাব রোডে অবস্থিত মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডাক্তার মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এশিয়ান মেডিকেল ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. আশরাফ সিদ্দিকী।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মো: মোস্তাফিজুর রহমান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান জিন্নাহ, টাঙ্গাইলের যুব-উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক রনজিৎ কুমার সূত্রধর, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের চিকিৎসক সানজিদা আক্তার, মেহেদী আব্দুল্লাহ ও রাসেল মিয়া।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলের (৩৮) পুলিশ হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে আটককৃত রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেল সখিপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞার দাবি অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিহত রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় জুরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ৩টার দিকে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে পুলিশ রুবেলকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।
সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, সখীপুর থানার এসআই লিবাস নাইট ডিউটি করার সময় বেপরোয়া আচরণের কারণে রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় তার প্রেসার বাড়ার কারণে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা বেগতিক হলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেলের মা বলেন, আমার সুস্থ ছেলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। হঠাৎ শুনি পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশ তাঁকে টাঙ্গাইল নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুনি আমার ছেলে মারা গেছে! মা হিসেবে এই রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই, বিচার চাই।
এদিকে রুবেলের চাচা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, আমরা প্রথমে রুবেলের সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছিলাম। এখন পুলিশ যদিও রুবেলকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে থাকে, তবে বিষয়টি আমাদের জানানো উচিত ছিল। না জানিয়ে কেনো তারা থানায় নিয়ে গেল? পুলিশের কথা যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তবে আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে হার্ট অ্যাটাকে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি দেখছি না। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে লাশ চেয়েছিল। কিন্তু আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্যে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে বিএনপি নেতা রুবেলের মৃত্যুর খবর শুনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে রুবেলের বাসায় গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেল, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সদস্য সচিব আবু আহমেদ শেরশাহ, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান শাওন, সদস্য ইসরাত জাহান রুমি, ধনবাড়ীর মুখ্য সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম আপন, মধুপুরের মুখ্য সমন্বয়কারী সবুজ মিয়া, ঘাটাইলের মুখ্য সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম রাজন, মির্জাপুরের মুখ্য সমন্বয়কারী মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের বিচার ও শহিদদের হত্যার বিচারের দাবির পাশাপাশি গোপালগঞ্জে হামলার তীব্র নিন্দা জানান আন্দোলনকারীরা।
এ সময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের উপর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে জেলা আমীর আহসান হাবীব মাসুদের নেতৃত্বে শহরের পুরাতন কোর্ট মসজিদের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমীর বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা গোপালগঞ্জ থেকে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠার ষড়যন্ত্র করছে। এনসিপির প্রোগ্রামে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। সুতরাং জুলাই আন্দোলনের সহকর্মীদের বিভেদ ভুলে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানান তিনি ।
তিনি সকলকে ১৯ তারিখের ঢাকার সমাবেশে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহবান জানান।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা হুমায়ুন কবির, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সেক্রেটারী মো. আব্দুর রাজ্জাক, শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন সদর উপজেলা আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন বাদল।
মিছিলে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়াসহ দিল্লির গোলামীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
আরমান কবীরঃ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা’র প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ করেছে জেলা যুবদল।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে জেলা শহরের শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমবেত হন।
পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী, আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মালা, সৈয়দ হাবিবুল আলম সাথিল, একে এম আব্দুল্লাহ, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কবিরুজ্জামান কবিরসহ শহর যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদ খান সোহাগ প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে যাদের হাত রয়েছে, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নাম জড়িয়ে ‘অপপ্রচার’ চালানোর প্রতিবাদ জানান বক্তারা। তারা এসব ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ বিচারের দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা ও উপজেলা যুবদল ছাড়াও বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে পুরাতন রেট সিউিল বাতিল পূর্বক ৮০ শতাংশ রেট সিডিউল বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন ও স্বারক লিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিনি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মিনি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি জেলা শাখার সভাপতি মো. মাছুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আসিফ খান শেলী, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নূল আবেদীন, দপ্তর সম্পাদক সজিব চন্দ্র দে, কোষাধ্যক্ষ মো. আমিরুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তব্যরা বলেন, প্রতি বছরই কর, ভ্যাট বৃদ্ধি পাচ্ছে, কাজের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এছাড়া শ্রমিকের মুজুরীও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পুরাতন রেট সিডিউল বাতিল পূর্বক ৮০ শতাংশ রেট সিডিউল বৃদ্ধির দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
মানববন্ধন শেষে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ ছানোয়ার হোসেনের বারবার একটি স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধন ও স্বারক লিপি প্রদান কর্মসূচিতে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক প্রমুখ।
এ সময় বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ও দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
ড্যাব টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হাবিবুল আলম শাতিল, জাহিদ হোসেন মালা ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনের এই সময় বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটানো হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।
সমাবেশ থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে ড্যাব ও ছাত্রদলের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিছন দিক থেকে আম ভর্তি একটি পিকআপ ধাক্কা দিলে শুভ (২০) নামে এক আম ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার বানিয়াপাড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন।
নিহত আম ব্যবসায়ী শুভ শেরপুর জেলার খোয়ারজ গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় একটি মালভর্তি ট্রাক রাস্তায় দাড়ানো ছিল। আম ভর্তি একটি শেরপুরগামী পিকআপ দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়ে মোচড়ে যায়। ব্যবসায়ী শুভ ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপের চালক পালিয়ে যায়।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গোপন তৎপরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করা ও সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদল।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূণরায় পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা মেনে নিতে না পেরে একটি চিহ্নিত মহল তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্তরসূরি। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারেক রহমান ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বরদাশত করা হবে না।
এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার’ স্বৈরাচার আর রাজাকার, মিলেমিশে একাকার’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেবো রক্ত’ সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দূর্জয় হোড় শুভ, সদস্য সচিব এম এ বাতেন, যুগ্ম-আহবায়ক রাকিবুল ইসলামসহ ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা।
আরমান কবীরঃ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম রূপকার ও স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৪ জুলাই ৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সোমবার (১৪ জুলাই) দিনটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজ কলেজের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল- কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজে স্থাপিত শাজাহান সিরাজের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণ সভা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ইত্যাদি।
আলোচনা সভায় কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহুরুল হক বুলবুলের সভাপতিত্বে অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক মাইন উদ্দিন মিয়া ও শিক্ষক প্রতিনিধি রশিদুল ইসলাম রতনসহ কলেজের শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।
এ উপলক্ষে ঢাকা ও তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, শাজাহান সিরাজ ৬৬-এর ছয় দফা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে নতুন রাজনৈতিক দল জাসদ (সিরাজ) গঠন করেন এবং পরে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জাসদ বিলুপ্ত করে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন।
তিনি জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শাজাহান সিরাজ ১৯৯১ সালে বিএনপির শাসনামলে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারের কাজের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েক লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে এই বর্ষায় এই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়ক ব্যবহারকারী জনসাধারণের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।
টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল অংশে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের আওতায় ২৪.৬৫০ কি.মি. অংশে রিজিড প্রেভমেন্ট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ। এতে টাঙ্গাইল অংশে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয় ২শত ৯৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা।
প্রকল্পের কাজ পায় আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ও এনডিই নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন ৫টি প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় প্যাকেজ ১ ও প্যাকেজ ২ এর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ৫ এর অন্তর্ভুক্ত ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুটি প্যাকেজ ৩ ও ৪ এ কাজ করছে এনডিই নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরমধ্যে আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ১ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ৮.৭৫ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
প্যাকেজ ২ এ ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ২৯.৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
প্যাকেজ ৫-এর ২টি ব্রীজ ও ২টি কালভার্টের বিপরীতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র ২.২১ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শেষ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সময় বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে কোন আবেদন জমা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিএল-র্যাব-আরসি।
তবে এনডিই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২টি প্যাকেজর মধ্যে একটির ৩-এর ৯২ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। বাকি প্যাকেজ ৪-এর ৬৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
এই নির্মানাধীন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুর রহমান বলেন, সড়কের এমন অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই যাওয়ার উপায় নেই। না যায় হাটা না চালানো যায় রিকশা। যে টাকা আয় করি তার বেশিরভাগই রিকশা মেরামত করতেই খরচ হয়ে যায় ।
মোটরসাইকেল আরোহী ইকবাল কবীর বলেন, উন্নয়নের নামে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। কষ্ট লাঘবের জন্য সড়কের উন্নয়ন অথচ কষ্ট আরো বেড়ে গেছে। লাভ হলো কি?
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা তো নাই। তাহলে ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।
আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদারের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথমে যে সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করে তাদের অপারগতায় দীর্ঘদিন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আমরা উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নমিনেটেড সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, ব্রিজ নির্মাণের সময় আছে। নির্দিষ্ট সময়েই তা শেষ হবে বলে আশা করছি। রাস্তার কাজ শেষ করতে ব্যাংক জটিলতা দেখা দিয়েছে। একারনে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আশা করছি আমাদের প্রতিষ্ঠান খুবশীঘ্রই ব্যাংক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে । তাছাড়া নকশায় রাস্তা অন্তর্ভুক্ত জমির মালিকগণ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বিলম্ব করা ও জমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করায় কাজের গতি ধীর হয়েছে। তবে শীঘ্রই এইসব সমস্যা সমাধান পূর্বক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আইসিসিএল-র্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ (প্যাকেজ ১, প্যাকেজ ২ ও প্যাকেজ ৫) গাফিলতির কারনে গত কয়েক মাস যাবত কাজটি শেষ করার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক তাগিদ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহাদয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। তবুও কাজটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের চুক্তির সাথে নিরাপত্তা জামানতের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন নিরাপত্তা জামানত দাখিল না করায় সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়কে গত ৫ জানুয়ারী এ বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, গত বছরই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাদেরকে গত ৪ মার্চ সড়ক বিভাগ টাঙ্গাইল, ১০ মার্চ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহোদয় ও পিপিআর ২০০৮ মোতাবেক চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৩ জুন স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ওই সড়কের বিষয়ে সচিব মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনেশন করা হবে। পরবর্তীতে তাদের লাইন্সেস হ্যাম্পার করা হবে।