সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল যৌনপল্লি থেকে শহর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ জনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে শহরে কান্দাপাড়ার যৌনপল্লি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাহ জনি টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর পাড়ার মো. ইসরাফিলের ছেলে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিনগত রাতে শহরের যৌনপল্লি থেকে শাহ জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, এর আগে গত বছরের ২ অক্টোবর রাতে টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শাহ জনিকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল শহরের বটতলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় কালিহাতীর চিনামুরা গ্রামের লাল মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। পরে লাল মিয়া বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শাহ জনি ওই মামলার ৪১ নম্বর আসামি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে আব্দুল জলিল (৮০) এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ৩৭ আপ ময়মনসিংহ মেইল ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল জলিলের বাড়ি উপজেলার টেঁপিবাড়ি গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ১০ টার দিকে আব্দুল জলিল ধান ক্ষেতে সার দিতে যাচ্ছিলেন। এসময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ভূঞাপুরগামী ৩৭ আপ ময়মনসিংহ মেইল ট্রেনটি টেঁপিবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে তার নিচে কাটা পড়ে সে। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল জলিলের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল কাদের জানান, শনিবার সকালে ট্রেনে কাটা পড়ে এক বৃদ্ধের নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির মালিকবিহীন নতুন কমিটির প্রতিবাদে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম রেজা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির ও অচল হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় ট্রাক মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রহমান আমির ও সেলিম রেজার নেতৃত্বে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রকৃত ট্রাক মালিকরা সমন্বিতভাবে সমিতি পরিচালনা করতে থাকে। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি শহরের মেইন রোডে অবস্থিত জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যালয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকৃত ট্রাক মালিকবিহীন একটি পকেট কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কাজী শফিকুর রহমান লিটনকে সভাপতি এবং আশরাফ পাহেলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। যদিও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যতিত অন্য কোন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে এই কমিটি আনা হয়েছে। যা ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল জেলার প্রকৃত ট্রাক মালিকরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক সুবিধাভোগীরা এই কমিটিতে স্থান পেয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। যা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়। তাছাড়া এই কমিটি বিদ্যমান থাকলে জেলা ট্রাক মালি সমিতি মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত এমনকি ধ্বংস হওয়ার আশংকা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রহমান আমির, সহ- সভাপতি হানিফ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম রেজা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান সুমন, প্রচার সম্পাদক আশরাফউজ্জামান আশরাফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি কাজী শফিকুর রহমান লিটন বলেন, সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে টাঙ্গাইল জেলার ট্রাক মালিকদের নিয়ে এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে যিনি নিজেকে টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন সে পূর্বের কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। বিগত ১৫ বছর সে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী কমিটির সাথেও সংগ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা ১০০ জন ট্রাক মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল জেলার সকল ট্রাক মালিকদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করছি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম ওরফে আজাদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কারপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের ডামি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া’, ‘আয়নাঘরের মাস্টারমাইন্ড ও হাজারো গুম-খুনের নায়ক বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়া’ এবং ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে আসাদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ব্যবসায় যুক্ত হন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর এলাকায় এসে তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। নিয়মিত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং তাঁর অনুসারীও তৈরি হন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হয়। সেখানে তাঁকে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও তাঁর স্ত্রীর ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে অভিযোগ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা অভিযোগ আসছিল। বিগত সরকারের ডামি নির্বাচনে ঢাকায় তিনি একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। পাশাপাশি আয়নাঘরের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। দফায় দফায় তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মেলায় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চোর সন্দেহে আব্দুল মুমিন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
নিহতের লাশ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত মুমিন পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রামে কয়েকদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটছিল। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে মুমিন ও আরও দুই ব্যক্তি ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তাদের নজরদারিতে রাখে। এক পর্যায়ে মুমিন হলুদিয়া গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে দুখু মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। দুখু মিয়ার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মুমিনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
এ সময় মুমিনের সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা মুমিনকে গণপিটুনি দেয়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মুমিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সকালে স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করে।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবির জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ।
গ্রেপ্তারকৃত হযরত আলী, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের ধুলবাড়ী গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
ওসি জানান, সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীকে শহরের ৩নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম ব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হযরত আলী গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি।
তিনি জানান, এবছরের ১৫ মার্চ মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৭। হযরত আলীর বিরুদ্ধে আরও কোন মামলা রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরমান কবীরঃ দেশের মধ্যাঞ্চলে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান হওয়ায় এবং সড়ক, নদীপথ ও রেলপথের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকায় মাদক চোরা চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে এই জেলাকে। ফলে জেলায় প্রতিনিয়ত নদী, রেল ও সড়ক পথে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এই জেলায় জালের মতো ছড়িয়ে আছে নদী। এইসব নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাদকের হট-স্পট।
জেলার নাগরপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নদী সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, রাবনা বাইপাস ও আশেকুর বাইপাসকে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। সুযোগ বুঝে মাদক পাচারের জন্য সড়ক পথকে ব্যবহার করছে এইসব মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই জেলাকে ব্যবহারের কারণে জেলায় বেড়েছে ব্যাপক মাদকের সরবরাহ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে মাদক বিক্রির জন্য। শহরে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে মাদক ঢুকছে টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এলেঙ্গা, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস ও আশেকুর এলাকায়। এরপর এই স্থান গুলো থেকেই ঢাকা, গাজীপুরসহ টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিনব পদ্ধতিতে মাদক ছড়িয়ে পরছে । শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় হচ্ছে সর্বনাশা এইসব মাদক। আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে হাতেহাতে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক।
বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া, বেড়াডোমা, কাগমারা, সাহাপাড়া, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মাঝিপাড়া, হাজেরাঘাট, দক্ষিণ কলেজপাড়া (মহিষ খোলা), ধুলেরচর, বইল্লা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কেনা-বেচা চলে বলে জানা গেছে। এইসব এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।
জানা গেছে, মাদকদ্রব্য পরিবহনে নিরাপদ রুট হিসাবে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা হয়ে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র, চর সলিমাবাদ, আটাপাড়া, শাহাজানি চরাঞ্চল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি, কাকুয়া, হুগড়া, ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী, অর্জুনা, গাবসারা, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি যমুনা নদীর চরাঞ্চল মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাব পৃথকভাবে কাজ করছে। গত সাত মাসে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ২’শত ৮ কেজি গাঁজা, ৫৭ হাজার ২’শত ৬৫ পিস ইয়াবা, ৭২৫.১০ গ্রাম হেরোইন, ১০৮৫.৩৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ ও ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
এসব মাদকের বেশিরভাগ বড় বড় চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ৪৭৩ জন মাদক কারবারির নামে ৩৩৮ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা পুলিশ ।
অপরদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সাত মাসে ৩৮ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৭’শত ৭৪ পিস ইয়াবা, ৮৫.৫ গ্রাম হেরোইন, ৪১.২৫ লিটার মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, টাপেন্টাডল ৩ হাজার ৪ শত ৮৮ টি ট্যাবলেট, ১০ হাজার লিটার ওয়াশ জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে।অভিযানে মাদক কারবারিদের থেকে নগদ ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকাসহ উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ১৯৭ জন মাদক কারবারির নামে ১৯৬ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এদিকে র্যাব ১৪, সিপিসি- ৩ সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে ৮২ কেজি গাঁজা, ৪৭৪৯ পিস ইয়াবা, ১৬৭ গ্রাম হেরোইন, ৯৮ লিটার দেশি মদ ও ৪৩১ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। উদ্ধার অভিযানে এই সাত মাসে ৭ জন মাদক কারবারির নামে ৩ টি মামলা রজ্জু করতে সহায়তা করেছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ত্রিমুখী অভিযানে বড় বড় মাদকের চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটকের পরেও থামছেনা জেলায় মাদকের ভয়াল থাবা। আইনের ফাঁকফোকড়ে আবারো বেরিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। আবার নতুন উদ্যেমে ভিন্নতর কৌশলে শুরু করছে মাদক ব্যবসা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলবাসীর জন-জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা পুলিশ। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদ-মন্দিরে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে । আবার তাদেরকে সুযোগও দিতে হবে সুপথে ফেরার। মাদক ব্যবসায়ির তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশে তা খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই মাদক নির্মূল হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়। পবিত্র ধর্ম ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জীবন ও কর্মের উপর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম ও পীরমাশায়েখরা আলোচনায় অংশ নেন। অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
হাজীবাগ দরবার শরীফের পীরে তরিকত আলহাজ্ব প্রফেসর আব্দুল কুদ্দুস খসরুর সভাপতিত্বে দিবসের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, করটিয়া আহমাদাবাদ শরীফের বিশিষ্ট খলিফা মোহাম্মদ শাহজালাল।
অন্যদের মধ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, আলালপুর ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব শাহ সুফি মাওলানা আব্দুল ওহাব সিরাজি, করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. সাইফুল মালেক আনসারী, ঘাটাইলের আমুয়াবইদ মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা হারুন অর রশিদ, ময়মনসিংহ দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মাহবুব আল হুসাইন, টাঙ্গাইল কাদেরিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জালালী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, টাঙ্গাইল জেলা তাহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যুব পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ আলম মাসুদ।
এরআগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং তাবারক বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ব্যাটারিচালিত অটোগাড়ির সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আসিফ (১৮) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক জন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাগরদীঘি-ঘাটাইল আঞ্চলিক সড়কের সাগরদীঘি আসলাম মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসিফ উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের পাহাড়িয়াপাড়া এলাকার আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে এবং সাগরদীঘি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার বিকেলে দুই বন্ধু বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সাগরদীঘি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মোটরসাইকেলটি সাগরদীঘি বাজারের পাশে আসলাম মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোগাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক আসিফ মাথা থেতলে নিহত হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী উজ্জলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোটরসাইকেলের সাথে একটি অটোগাড়ির সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে বাড়ছে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। গত সাত মাসে জেলায় সাপের কামড়ে ৫৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭২ জন রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ৪৬১ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ সময়ে সাপের কামড়ে জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, সর্প দংশনের প্রতিষেধক জেলায় ১৩টি হাসপাতালে ৩৪৫টি রয়েছে। আশা করছি এর সংকট হবে না।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত সাত মাসে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫ জন, জেনারেল হাসপাতালে ১২২ জন, মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ৬৪ জন, দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন, মিজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন, সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৮ জন, কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন, মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৮ জন এবং গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭২ জনকে স্থানান্তর করা হয়।
একই সময়ে সাপের ছোবলে আহত রোগীদের মধ্যে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৩ জন, জেনারেল হাসপাতালের ১২২ জন, কুমুদিনী হাসপাতালের ৬৪ জন, নাগরপুরে ১৬ জন, দেলদুয়ারে ৪ জন, বাসাইলে ৬ জন, মির্জাপুরে ২২ জন, সখীপুরে ৮১ জন, কালিহাতীতে ৪ জন, ঘাটাইলে ১০ জন, ভূঞাপুরে ১২ জন, গোপালপুরে ১৬ জন, মধুপুরে ২৯ জন এবং ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এ সময়ে সাপের ছোবলে আহত হয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুজন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন, নাগরপুর উপজেলার মন্টুর স্ত্রী আসমা খাতুন ও ভূঞাপুর উপজেলার আমিনুর রহমান। তাদের মধ্যে আমিনুর রহমানকে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি মারা যান।
সাপের ছোবলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আসমা খাতুনের মেয়ে হামিদা খাতুন বলেন, আমার মাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের ১১ জুন ভর্তি করি। ভর্তির পরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক ভ্যাকসিন ইনজেকশন দেওয়ার জন্য একটি কাগজে দ্রুত অ্যান্টিভেনম এনে দেওয়ার জন্য লিখে দেন। ভ্যাকসিন ইনজেকশনটি বাইরে থেকে কিনে এনে দিলে চিকিৎসক পুশ করে এবং তার মাকে স্যালাইন দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।
একই মাসে ভূঞাপুর উপজেলার আমিনুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করে দুই ঘণ্টা পর অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন পুশ করার প্রস্তুতির কালে তিনি মারা যান। আমিনুর রহমানের বোনের স্বামী পারভেজ বলেন, সাপের ছোবলে আহতাবস্থায় আমিনুর রহমানকে টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ২ ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা জানান সেখানে অ্যান্টিভেনম নেই। অ্যান্টিভেনম না থাকায় বাইরে থেকে কিনে আনতে পরামর্শ দেন। বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কিনে এনে দিলেও আমিনুর রহমানকে বাঁচানো যায়নি।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন নিয়ে সিন্ডিকেটে জড়িত। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম থাকলেও রোগীদের বাহির থেকে কিনে আনতে বলে। চিকিৎসক শাহরিয়া রহমান একটি কাগজে অ্যান্টিভেনম রোগী ভর্তির দুই ঘণ্টা পরে লিখে দিয়ে বলেন দ্রুত নিয়ে আসেন। যথারীতি ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে দেখতে পান একই হাসপাতালের চিকিৎসক আতিকুর রহমান। তার কাছ থেকে অ্যান্টিভেনম ১৪ হাজার টাকা দাম মিটায়। ২০০০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকি ১২ হাজার টাকা রেখে আসেন। ইনজেকশন নিয়ে আসার পর চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম মিকচার করে পুশ করা অবস্থায় রোগীকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে চিকিৎসক আতিকুর রহমান বলেন, আমার নিজের প্রয়োজনে ইনসেপ্টা কোম্পানির দুটি ইনজেকশন ফার্মেসিতে রেখে দিয়েছিলাম। কখন কার বিপদ আসে সেটাকে মোকাবেলা করাতে আমার রাখা।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুস কদ্দুছ বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম রয়েছে। এছাড়াও অ্যান্টিভেনম নিয়ে কোনো চিকিৎসক রোগীকে বিভ্রান্ত করার কথা নয়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, সর্প দংশনের প্রতিষেধক জেলায় ১৩টি হাসপাতালে ৩৪৫টি রয়েছে। আশা করছি এর সংকট হবে না।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিখোঁজের একদিন পর আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ বাড়ীর পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর)সকালে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম উত্তর পাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ নবগ্রাম উত্তরপাড়ার হাবিবুর রহমানের একমাত্র ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে নানীকে খুঁজতে গিয়ে শিশুটি নিখোঁজ হয় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, শিশু আব্দুল্লাহকে নানা আজাদের কাছে গ্রামে রেখে জীবিকার অন্বেষণে তার পিতা হাবিবুর রহমান সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন। আজাদের স্ত্রী রোজ সকালে হাঁসের খাবার শামুক আনতে বাড়ীর পাশে ডোবায় যায়। মাঝে মাঝে আব্দুল্লাহ নানীর সাথে ডোবার পাড়ে গিয়ে বসে থাকে। মঙ্গলবার নানী তার নাতীনকে রেখে একাই শামুক খুঁজতে বের হয়। সকালে নানীকে না পেয়ে আব্দুল্লাহ সবার অগোচরে ডোবার পাড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
এদিকে দিনভর স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ হারানো বিজ্ঞপ্তি দেন। পরদিন সকালে বাড়ীর পাশে একটি ডোবায় শিশুর লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের লোকজন লাশটি উদ্ধার করে সনাক্ত করেন।
গোপালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মামুন ভূঞা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মামুন মিয়া নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম এ দণ্ডাদেশ দেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মামুন মিয়া (৩০) উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাসাইল, দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় তিনটি ও দেলদুয়ার থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও দুইটি সাধারণ ডায়েরিও রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে প্রশাসন উৎপেতে ছিল। এক পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম রাত আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এসময় তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে বাসাইল থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী মামুনকে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পরে সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’