/ হোম / জাতীয়
টাঙ্গাইলে এলংজানি নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে এলংজানি নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার 

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের এলংজানি নদী থেকে রবি দাস(৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, প্রাথমিক সুরতহালে রবিদাসের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

নিহত যুবকের নাম জীবন রবি দাস। সে জেলার ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের মৃত রংলাল রবি দাসের ছেলে। সে পেশায় মুচি ছিল বলে জানা গেছে।

পোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, সোমবার রাতে পোড়াবাড়ী খেয়া ঘাটের সামনে দিয়ে মরদেহটি ভেসে যেতে দেখে স্থানীয়রা তাকে খবর দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মরদেহটি ভেসে পাশের সিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা ব্রিজের কাছে চলে যায়। পরে মরদেহটি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের কাছে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, পরে সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দিলে তাঁরা এসে মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, স্থানীয় ভাবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

তিনি আরও জানান, থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. অক্টোবর ২০২৫ ১১:০৬:পিএম ৬ মাস আগে
ডাক্তারসহ জনবল সংকটে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত - Ekotar Kantho

ডাক্তারসহ জনবল সংকটে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

আরমান কবীরঃ ১৯৭৪ সালে টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়া এলাকায় ৫০ শয্যার সুবিধা নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে যার শয্যা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০ ।

এ ছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় তড়িঘড়ি করে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড চালু করা হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দক্ষ জনবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে জেলার জন্য অতি জরুরি এই সেবাটি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাসপাতালের নেই দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টার। ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। আইসিইউ সেবা ও ট্রমা সেন্টার না থাকাতে রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হচ্ছে অধিকাংশ গুরুতর আহত রোগীর।

বর্তমানে চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানে সেবা নিতে আসা হাজার হাজার সাধারণ রোগীগণ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এই হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসেন।

এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দাদের জন্য জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ৪৪জন চিকিৎসক নিতান্তই অপ্রতুল বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে অনুমোদিত জনবলের প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মচারীর পদ রয়েছে ৪০১টি। এর মধ্যে চিকিৎসকসহ ৭২টি পদ শূন্য। হাসপাতালে ৫৮ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৮টি পদ শূন্য। সিনিয়র কলসালটেন্ট (মেডিসিন) ও সিনিয়র কলসালটেন্ট (সার্জারি) দুইটি পদই শূন্য, সিনিয়ন কলসালটেন্ট (স্কিন ভিডি) পদও শূন্য, সিনিয়র নার্সের ৬টি পদই শূন্য, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ৭২টি পদের বিপরিতে শুন্য রয়েছে ৩৫টি পদ। এ প্রতিষ্ঠানে ৭৭জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে লোক নিয়োগ করেছে মাত্র ৪৮ জন, ১৬ জন সুইপার পদের বিপরিতে ৯টি পদ শূন্য। এত স্বল্প সংখ্যক আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নকর্মীর কারনে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দিকে ডায়াবেটিক রোগীর তিন মাসে সার্বিক অবস্থা জানার একমাত্র এইচবিএওয়ানসি মেশিনটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এই হাসপাতালে সাধারণ মানের কিছু বেসিক টেস্ট করা হয়, কিন্তু সিটি স্ক্যান, এমআরআই, হরমোন টেস্ট, কালচার, হিস্টোপ্যাথলজি—এরকম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, কারণ সরঞ্জাম নেই। এ ছাড়াও মেডিসিন ও সার্জারি পোস্টে কোনো কনসালট্যান্ট নেই। স্ট্যান্ডার্ড সেটাপে ১৭৮ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, কিন্তু এখানে সর্বমোট চিকিৎসক রয়েছেন ৪৪ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হলেও পুরোপুরি চালু হয়নি, যার কারণে জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকে। এ ছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগী ও স্বজনরা হয়রানির শিকার হন। ৪৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৫ জন প্রতিদিন বহির্বিভাগে, ৪ জন ইমারজেন্সিতে এবং বাকি ২৫ জন ইনডোরে ডিউটি করেন।

হাসপাতালে ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে: ১নং প্রসূতি, ২নং শিশু, ৩নং গাইনি, ৪নং মেডিসিন (মহিলা), ৫নং মেডিসিন (পুরুষ), ৬নং সার্জারি (পুরুষ), ৭নং সার্জারি (মহিলা), ৮নং অর্থোপেডিক (পুরুষ), ৮এ অর্থো (মহিলা), ৯নং ডায়রিয়া, ১০নং ইএনটি, ১১নং সিসিইউ, ১২নং আইসিইউ, ১৩নং করোনা সাসপেকটেড, ১৪নং করোনা পজিটিভ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ৪টি (গাইনী, সার্জারি, অর্থোপিডিক)। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১৩ জন, আউটসোর্সিং ভিত্তিতে।

এ দিকে এ হাসপাতালে ১০ বেডের আইসিইউ থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় ডাক্তার এবং দক্ষ জনবল না থাকার কারনে রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আইসিইউ সেবা বন্ধ রয়েছে। তারপরও আরও একটি ১০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুুত করা হয়েছে। সময় মতো সেটি চালু না করা গেলে মূল্যবান মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রয়োজন ৭৫ জন। হাসপাতালের খাবারের মান ভালো, তবে ২৫০ জন রোগীর বাইরে খাবার পরিবেশন সম্ভব নয়। ঔষধের বরাদ্দ রয়েছে, তবে অনেক রোগী ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগও করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, কিছু সিনিয়র চিকিৎসকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে এখানে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জনবল নেই। এ কারনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষাও ঠিকমত হচ্ছেনা। জনবলের অভাব হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সচল যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ রোগী বাইরের বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করছেন। আর এ ক্ষেত্রেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ১জন রেডিওলজিস্ট দিয়ে কোনভাবে এত পরিমান রোগীর সেবা প্রদান করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসা নিতে আসা জেলার গোপালপুরের রফিজ উদ্দিন বলেন, ডাক্তার আমাকে ব্রেনের এমআরআই পরীক্ষা করতে বলেছিলেন। সদর হাসপাতালে এমআরআই নেই, তাই প্রাইভেট হাসপাতালে ৭,৫০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করেছি। সরকারি হাসপাতালে এই ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের ভোগান্তি কম হতো।

আব্দুর রাজ্জাক নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের আশেপাশের ঔষধের দোকানদাররা রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ঔষধের স্লিপ নিয়ে বেশি দাম চায়। প্রতিবাদ করলে দাপট দেখানো হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও সহকারী স্টাফ না থাকায় রোগীরা পুরোপুরি সেবা পাচ্ছে না। তবে যারা আসেন তাদের উপযুক্ত সেবা দেওয়া হয়। ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ বেশি হলে বেগ পোহাতে হয়। আইসিইউ, ডাক্তার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বৃদ্ধি করলে আশানুরূপ সেবা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. অক্টোবর ২০২৫ ০২:৫৪:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে ব্যতিক্রমধর্মী ‘কৃষি কথা’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ব্যতিক্রমধর্মী ‘কৃষি কথা’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফার ২৭ দফা অবলম্বনে নির্মিত ‘কৃষি কথা’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইউনিয়নের বহুলী পার বহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় ২০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। তারাই ছিলেন এই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। অনুষ্ঠানের পুরো অংশজুড়েই তাদের মূল্যবান মতামত শোনা হয়। গ্রহণ করা হয় তাদের বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শ।

স্থানীয় কৃষক জাবাত আলী, মজিদ মিয়া, আজিজুল হক, শাহজামান মন্ডল জানান, এতোদিন যেকোনো অনুষ্ঠানে কৃষকরাই ছিলো সবচেয়ে অবহেলিত। কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠা তো দূরের কথা, মঞ্চের কাছাকাছিও কৃষকদের যেতে দেওয়া হতো না। আজ এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিও আমরা, বিশেষ অতিথিও আমরা। আমাদের এই সম্মান দেওয়ার জন্য বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানের মূল আলোচক ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি নির্বাচিত হতে পারে, বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য ফারমার্স কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আমি যদি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে এই এলাকার কৃষকদের প্রাণের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে একটি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণ করা হবে। এছাড়া যমুনা নদীর ভাঙ্গন রোধে বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে। অতিতে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাভের জন্য টাঙ্গাইল ভিক্টোরিয়া খালকে ভরাট করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই টাঙ্গাইল শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য খাল খননের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে সকলকে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলবো। সেই টাঙ্গাইল হবে সারা বাংলাদেশের কাছে মডেল টাঙ্গাইল।

সোনিয়া শমীর সঞ্চালনায় ও পার্বণ মিডিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠানে মাহমুদনগর ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক কৃষক, ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৩৫:এএম ৭ মাস আগে
যারা পিআরের কথা বলে, তারা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়: আহমেদ আযম - Ekotar Kantho

যারা পিআরের কথা বলে, তারা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়: আহমেদ আযম

আরমান কবীরঃ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, যে কতিপয় রাজনৈতিক দল পিআরের কথা বলে আন্দোলনের মাঠে যাচ্ছে। তারা একদিকে মনোনয়ন দিয়ে প্রার্থীকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে, আবার তারা আন্দোলনের কথা বলছে। এটা কতটা স্ববিরোধী। ওইসব কতিপয় রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘কতিপয় রাজনৈতিক দল দেশের সমৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে চায়। আমরা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যে ভাবে ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদ। ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে আনতে চাই এবং একটি সমৃদ্ধি বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সামনে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে ওই কতিপয় রাজনৈতিক দল বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছি।’

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব ভবনের ৪র্থতলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্দোলন সংগ্রামের দেশ। ১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করে, এই ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত, যতবার বাংলাদেশকে টেনে পেছনে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যত অশুভ শক্তি, সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সারা জাতি একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছে এবং বিজয় অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো জাতি পরাজিত হয়নি, না মুক্তিযুদ্ধে, না ভাষা আন্দোলন, না ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে, কিংবা স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে, আমরা সবসময় বিজয়ের জাতি। সমস্ত ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে আমরা আবারও বিজয় অর্জন করব, এবং আগামি নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জয়ী হবো।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, আফরোজা আব্বাস, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি, হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রক্সি প্রমূখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:০৯:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা 

আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ব্যানারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন,জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস।

টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয় আলোচনা সভা থেকে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদি এবং যুগ্ম-সম্পাদক খালেদা আক্তার স্বপ্না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:৪২:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে জমি বরাদ্দ পেলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি আধুনিক বাস টার্মিনালের, জনদুর্ভোগ চরমে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জমি বরাদ্দ পেলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি আধুনিক বাস টার্মিনালের, জনদুর্ভোগ চরমে

আরমান কবীরঃ ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২ কিলোমিটার দূরে বর্তমান নতুন বাস টার্মিনালটি উদ্বোধন করেন। তখন এই টার্মিনাল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে বাস চলাচল করতো। ফলে আশির দশকের জন্য টার্মিনালটি যথেষ্ট ছিল। বর্তমানে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে, যা এটিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। এ ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতে টাঙ্গাইল থেকে সরাসরি বাস চলাচল করছে।

এক যুগ আগে পৌরসভার মেয়র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাস টার্মিনালের ভবন ও যাত্রী ছাউনি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। সেই পরিত্যক্ত ভবনে এখনও চলছে টার্মিনালের সমস্ত কার্যক্রম। ভবনটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

গত তিন বছর আগে আধুনিক বাস টার্মিনালের জন্য শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় প্রায় পাঁচ একর সরকারি জমি বরাদ্দ পায় টাঙ্গাইল পৌরসভা। বরাদ্দ পেলেও এখনো টার্মিনালের ‌নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি পৌর কতৃপক্ষ। বর্তমানে টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে যানবাহনের সংখ্যা অনেক, যায়গা সংকটের কারনে যানবাহনের চাপে রাস্তা বন্ধ হয়ে প্রতিনিয়ত যানযটের সৃষ্টি হয়। এই যানযটের কারনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় চলাচলকারী বড় সংখ্যক পথচারীদের। এছাড়া টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হওয়ায় হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা টাঙ্গাইল। আয়তনের দিক থেকে ঢাকা বিভাগের সর্ববৃহৎ জেলা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগের ২য় সর্ববৃহৎ জেলা টাঙ্গাইল। এর আয়তন প্রায় ৩,৪১৪.৩৫ বর্গ কিলোমিটার।

টাঙ্গাইলকে ‘উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার’ বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার যানবাহন দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যুক্ত হয়। টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে, যা এটিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।

কিন্তু টাঙ্গাইলে নেই কোনো আধুনিক বাস টার্মিনাল। নতুন বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত টাঙ্গাইল পৌরসভার দেওলা ও কোদালিয়া এলাকায় বাস টার্মিনাল নির্মিত হয়েছে ৮০ দশকে। সময়ের ব্যবধানে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। হাজার হাজার মানুষ তাদের গন্তব্যে রওয়ানা দেয় এই বাস টার্মিনাল থেকে। বর্তমানে এই নতুন বাস টার্মিনালের অবস্থা খুবই নাজেহাল। প্রয়োজনের তুলনায় যায়গা সংকট থাকার কারনে সব সময় যানযট লেগেই থাকে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে লোকজন কর্মের উদ্দেশ্যে আসে এই জেলা শহরে।

টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের পাশেই রয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে বড় সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে এখানে। নতুন বাস টার্মিনালে প্রতিনিয়ত যানযট লেগে থাকার কারনে রোগী ও তাদের স্বজনদের যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে আসা মুমূর্ষ রোগিদের ঘন্টার পর ঘন্টা নতুন বাস স্ট্যান্ডের যানজটে অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেন।

গত ২০২২ সালের জুলাই মাসের ৪ তারিখে ১ লক্ষ ১ টাকা মুল্যের দলিল মুলে টাঙ্গাইল পৌরসভা ৩০ বছর মেয়াদী ৪.৯৪ একর সরকারি জমি লিজচুক্তি বন্দোবস্ত পায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য। যায়গাটি রাবনা বাইপাসের পাশেই অবস্থিত। দীর্ঘ সময় পার হলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি এই আধুনিক বাস টার্মিনালের।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৮০০টি গাড়ি। প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০টি গাড়ি চলে জেলা শহরের বাস টার্মিনাল থেকে, বাকি ৪০০ গাড়ি চলে বিভিন্ন উপজেলা বাস টার্মিনাল থেকে। এছাড়াও ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ব্যটারী চালিত ইজিবাইকের আলাদা স্ট্যান্ড না থাকায় বাস টার্মিনালেই এসব যানবাহনের স্ট্যান্ড হিসেবেও রুপ নিয়েছে। ফলে দিন দিন যায়গা সংকটটি প্রকট আকার ধারণ করছে।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম লাভলু জানান, গত ১০ বছর আগে পৌরসভা থেকে এই বাস টার্মিনাল পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়। এরপর বাস টার্মিনালের মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এবং যাত্রী ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কার করা হয়নি। জেলার যানবাহনের সাথে সম্পৃক্ত মালিক, শ্রমিক সবারই কাম্য আধুনিক বাস টার্মিনাল।

মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ইউসুফ আলী মিয়া (তরুন ইউসুফ) জানান, তার বাসা টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের পাশেই, প্রতিদিন কলেজে যাওয়া আসার সময় বাস টার্মিনালের রাস্তায় যানজটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাকে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৪০ মিনিট সময় বেশি লাগে কলেজে পৌঁছাতে। এছাড়াও বাস টার্মিনালের কাছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বাস টার্মিনালের এই যানজটের কারণে।

তিনি আরোও জানান, যানজটের কারণে ডেলিভারি রোগী বাস টার্মিনালেই বাচ্চা প্রসব করার ঘটনাও ঘটেছে। বাস টার্মিনালের আশেপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ নিতে যাওয়ার সময়ও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এই যানযটের কারনে। আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করে পরিকল্পিতভাবে যানবাহন চলাচল করলে এই যানজটের নিরসন হবে এবং পথচারীদের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে মনে করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পথচারী জানান, বাস টার্মিনালে এমনিতেই জায়গা সংকট, এখানে বাস রাখার পাশাপাশি ট্রাক, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ব্যাটারী চালিত ইজিবাইককের অলিখিত স্ট্যান্ডও রয়েছে। এছাড়াও বাস টার্মিনালের উত্তর পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা বাজার। এই বাজারের দোকানগুলো প্রায় রাস্তার উপরেই বসেছে, যে কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি হতে পারে মানুষের। অতি দ্রুত অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই কাঁচা বাজার অপসারণ করা দরকার বলে দাবি করেন প্রশাসনের কাছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান জানান, আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য টাঙ্গাইল পৌরসভার অনুকূলে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া জমিতে মাটি ভরাট করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুতই মাটি ভরাট করে বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৩:১৮:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামী গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামী গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামীকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ১৭/এ রোডের ৫/এ নাম্বার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ ।

গ্রেপ্তারকৃত বাইজীদ বোস্তামী জেলার মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। সে শহরের থানা পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।

ওসি তানবীর আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল বুধবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাইজীদ বোস্তামীকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাইজীদ বোস্তামীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ইতিমধ্যে ওয়ারেন্ট বের হয়েছে। তাকে ওই ওয়ারেন্ট বলে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাকে টাঙ্গাইল কোর্টে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:৫৯:এএম ৭ মাস আগে
টাঙ্গাইলে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, ভয়াবহ ঝুঁকিতে জেলার যুবসমাজ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, ভয়াবহ ঝুঁকিতে জেলার যুবসমাজ

আরমান কবীরঃ দেশের মধ্যাঞ্চলে টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান হওয়ায় এবং সড়ক, নদীপথ ও রেলপথের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকায় মাদক চোরা চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছে এই জেলাকে। ফলে জেলায় প্রতিনিয়ত নদী, রেল ও সড়ক পথে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এই জেলায় জালের মতো ছড়িয়ে আছে নদী। এইসব নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাদকের হট-স্পট।

জেলার নাগরপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নদী সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং শহরের কান্দাপাড়া যৌনপল্লী, রাবনা বাইপাস ও আশেকুর বাইপাসকে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। সুযোগ বুঝে মাদক পাচারের জন্য সড়ক পথকে ব্যবহার করছে এইসব মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই জেলাকে ব্যবহারের কারণে জেলায় বেড়েছে ব্যাপক মাদকের সরবরাহ। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে মাদক বিক্রির জন্য। শহরে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হিরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে মাদক ঢুকছে টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এলেঙ্গা, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস ও আশেকুর এলাকায়। এরপর এই স্থান গুলো থেকেই ঢাকা, গাজীপুরসহ টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিনব পদ্ধতিতে মাদক ছড়িয়ে পরছে । শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় হচ্ছে সর্বনাশা এইসব মাদক। আবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে হাতেহাতে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে বাড়িতেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদক।

বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়া, বেড়াডোমা, কাগমারা, সাহাপাড়া, শান্তিকুঞ্জ মোড়, মাঝিপাড়া, হাজেরাঘাট, দক্ষিণ কলেজপাড়া (মহিষ খোলা), ধুলেরচর, বইল্লা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কেনা-বেচা চলে বলে জানা গেছে। এইসব এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।

জানা গেছে, মাদকদ্রব্য পরিবহনে নিরাপদ রুট হিসাবে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা হয়ে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র, চর সলিমাবাদ, আটাপাড়া, শাহাজানি চরাঞ্চল, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি, কাকুয়া, হুগড়া, ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী, অর্জুনা, গাবসারা, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি যমুনা নদীর চরাঞ্চল মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র‍‍্যাব পৃথকভাবে কাজ করছে। গত সাত মাসে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ২’শত ৮ কেজি গাঁজা, ৫৭ হাজার ২’শত ৬৫ পিস ইয়াবা, ৭২৫.১০ গ্রাম হেরোইন, ১০৮৫.৩৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ ও ৫৯৫ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

এসব মাদকের বেশিরভাগ বড় বড় চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ৪৭৩ জন মাদক কারবারির নামে ৩৩৮ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা পুলিশ ।

অপরদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত সাত মাসে ৩৮ কেজি গাঁজা, ৫ হাজার ৭’শত ৭৪ পিস ইয়াবা, ৮৫.৫ গ্রাম হেরোইন, ৪১.২৫ লিটার মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, টাপেন্টাডল ৩ হাজার ৪ শত ৮৮ টি ট্যাবলেট, ১০ হাজার লিটার ওয়াশ জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে।অভিযানে মাদক কারবারিদের থেকে নগদ ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকাসহ উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৪৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। উদ্ধার অভিযানে গত সাত মাসে ১৯৭ জন মাদক কারবারির নামে ১৯৬ টি মামলা রজ্জু করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এদিকে র‍‍্যাব ১৪, সিপিসি- ৩ সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাসে ৮২ কেজি গাঁজা, ৪৭৪৯ পিস ইয়াবা, ১৬৭ গ্রাম হেরোইন, ৯৮ লিটার দেশি মদ ও ৪৩১ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। উদ্ধার অভিযানে এই সাত মাসে ৭ জন মাদক কারবারির নামে ৩ টি মামলা রজ্জু করতে সহায়তা করেছে র‍‍্যাব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ত্রিমুখী অভিযানে বড় বড় মাদকের চালান উদ্ধার ও মাদক কারবারিদের আটকের পরেও থামছেনা জেলায় মাদকের ভয়াল থাবা। আইনের ফাঁকফোকড়ে আবারো বেরিয়ে আসছে মাদক কারবারিরা। আবার নতুন উদ্যেমে ভিন্নতর কৌশলে শুরু করছে মাদক ব্যবসা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, টাঙ্গাইলবাসীর জন-জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা পুলিশ। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয় মসজিদ-মন্দিরে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।

তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে । আবার তাদেরকে সুযোগও দিতে হবে সুপথে ফেরার। মাদক ব্যবসায়ির তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশে তা খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মাদক নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই মাদক নির্মূল হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৮. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৩:৪২:এএম ৭ মাস আগে
Ekotar Kantho

বিএনপি প্রতিষ্ঠায় দু’টি ঐতিহাসিক ঘটনা – প্রফেসর ড.জি.এম. শফি

একতার কণ্ঠঃ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পালিত হচ্ছে বিএনপি’র ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।গত বছর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি চমৎকার মাল্টি কালার পোস্টার করা হয়, সেখানে দলের প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি দেওয়া হয়, মূল বিষয়টি হলো সেই পোস্টার লেখা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততাই আমাদের প্রেরণা। এতোবছর পরেও কিন্তু শহীদ জিয়ার সততাকেই সামনে নিয়ে আশা হয়েছে। সত্যি কথা জিয়াউর রহমানের সততা বিশ্বব্যাপী সর্বজন স্বীকৃত। আজ বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময়কালে দুটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবো।

১৯৭৮ সালের পহেলা জানুয়ার জাতীয়তাবাদী অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন হবে ৩২ নম্বর পুরানা পল্টনে। শরীক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ অফিসে এসে আগেই উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিনিয়র নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া, বিচারপতি আব্দুস সাত্তার,গোলাম হাফিজ, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মতিন চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আকবর হোসেন,ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ডাক্তার আব্দুল মতিন ও ফিরোজ নুন। কেন্দ্রীয় অফিসে জিয়া আসলেন বুশশার্ট প্যান্ট ও চোখে সানগ্লাস পরা অবস্থায়, অবশ্য মাথায় সাদা ক্যাপ ছিল। কার্পেট বিছানো ফ্লোরে পূর্বেই আগত সবার সাথে বসে পড়লেন এবং মোনাজাতে অংশগ্রহণ করলেন।মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ভাসানী ন্যাপ, বিচারপতি আব্দুল সাত্তার সাহেব, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আকবর হোসেনের ইউপিপি, লেবার পার্টির মাওলানা আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহ আজিজ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির এস এম সোলাইমান নেতৃত্বে গঠিত হলো জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জাগদল এর চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনীত করা হলো এবং ১৯৭৮ সাল ২৩ জুনের নির্বাচনের তাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনীত করা হলো।অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ওসমানী সাহেব কে। মোনাজাত পর্ব শেষ হলে প্রেসিডেন্ট জিয়া আগত সকল নেতৃবৃন্দর সাথে করমর্দন করেন, কুশল বিনিময় করেন,আলোচনা করেন। ২৩ জনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কর্মপন্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছিল, তখন পাশে বায়তুল মোকাররম থেকে জোহরের নামাজের আযানের শব্দ শোনা গেল, জিয়া বাইতুল মোকাররমের নামাজ পড়তে যাবেন তাই সবার সাথে হাত মিলিয়ে বিদায় নিলেন । জেনারেল জিয়া চললেন মোকাররম মসজিদের দিকে। পল্টনের প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি বাসাবাড়ির জানালা, বারান্দা অফিসগুলোর ছাদ থেকে তাকে দেখার জন্য, অভিবাদন জানানোর জন্য দাঁড়িয়েছিল সকল শ্রেণীর মানুষ । এদেশ সকল মানুষের তিনি কাছে কতটুকু প্রিয় ছিলেন এটা তাই প্রমাণ করে। মানুষের ভালবাসা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াকে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

আরেকটি আলোচিত ঘটনা উল্লেখ করছি।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। রাজধানী ঢাকার রমনা রেস্তোরার পাশে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আসলেন এই অনুষ্ঠানে, অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্যান ব্যক্তিত্ব আগে থেকে এসে উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চের সামনে আছেন রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। শহীদ জিয়া বক্তৃতা করলেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলটির প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করলেন। দলটির চেয়ারম্যান হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১১ জন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যের নাম ঐদিন ঘোষণা করলেন।

১)প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান- চেয়ারম্যান, ২)
বিচারপতি আব্দুল সাত্তার ভাইস- চেয়ারম্যান, ৩)ডাক্তার বদরুদ্দোজা চৌধুরী- মহাসচিব, ৪) শাহ আজিজুর রহমান – সদস্য ৫)ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার- সদস্য, ৬) ডাক্তার ইউসুফ আলী- সদস্য( চট্টগ্রাম), ৭)শেখ রাজ্জাক আলী-সদস্য ( খুলনা) ৮)প্রফেসর একরামুল হক -সদস্য( রাজশাহী, সাবেক ডাকসু ভিপি)৯) সৈয়দ মহিবুল হাসান – সদস্য(সিলেট) ,১০) আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী -সদস্য( বরিশাল বর্তমানে পটুয়াখালী),১১)ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা-সদস্য। কর্নেল আলাউদ্দিনকে স্ট্যান্ডিং কমিটি সচিব হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সাংবাদিকরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে আলোচনা করলেন, প্রশ্ন উত্থাপন করলেন। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল আপনি সৎ ব্যক্তি, পার্টি চালানোর টাকা কোথায় পাবেন? প্রেসিডেন্ট জিয়া উত্তরে বললেন money is no problem if you work in the interest of the people the country. এভাবেই জন্ম হলো বিএনপি’র।

ইতিপূর্বে ১৯৭৮ সালের ২৮ আগস্ট মাসে জাগদল বিলুপ্ত করা হয়। চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী নতুন দলটির নাম প্রস্তাব করেছিলেন জাস্টিস পার্টি হিসেবে। কিন্তু দলটির তেমন দুধসুই হয়নি বিদায় এবং জাতীয়তাবাদী শব্দটি যুক্ত না থাকায় গ্রহণ করা হয়নি। অবশেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেই নবগঠিত দলটির নামকরণ করেন “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

লেখক – প্রফেসর ড.জি.এম. শফিউর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সহ-সভাপতি, ইউট্যাব, কেন্দ্রীয় কমিটি

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:২১:এএম ৭ মাস আগে
তারেক রহমান দেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন: আযম খান - Ekotar Kantho

তারেক রহমান দেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন: আযম খান

আরমান কবীরঃ বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান খুব তাড়াতাড়িই দেশে ফিরবেন। তার আসার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বাংলাদেশের আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যেদিন দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশে আসবেন। সেদিন সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই টেলিভিশনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রেডিওসহ সব মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি।

দেশের আইন-শৃঙ্খালা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যারা চায় না, যারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়। এর পেছনে তাদের হাত রয়েছে।

আমি মনে করি, আমরা সব রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনমুখী হই, তাহলে সবার সহযোগিতায় নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।’

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এই দিনে শহিদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের সমৃদ্ধির জন্য, দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। তাই আজকের এই দিনে বলতে চাই নির্বাচন গণতন্ত্রের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। মানবাধিকারের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। মানুষের সব চেয়ে বড় স্তম্ভ। তাই নির্বাচনের বিকল্প শুধুই নির্বাচন।’

পরে তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরনবী, আবু হায়াত খান নবু, পৌর বিএনপির সভাপতি আকতারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাশেদা সুলতানা রুবি প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৩:৪৯:এএম ৮ মাস আগে
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য রক্ষা ও শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য রক্ষা ও শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইলের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির ব্যানারে ঘন্টা ব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে টাঙ্গাইল শহরের মাঝখান দিয়ে এককালে প্রবাহিত শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধার, ভাসানী হল ও ব্রাহ্ম সমাজের মন্দিরসহ হারিয়ে যাওয়া ও দখল হওয়া সকল ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়াও মানববন্ধন থেকে—সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, কবি ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, নাগরিক অধিকার সুরক্ষার সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রাজ্য, সদস্য ফরহাদ হোসেন, এবং পরিবেশবিদ ফজলে সানি প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:২৫:এএম ৮ মাস আগে
টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ 

আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির(কাদের) অফিস ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের থানার পাশে ছয় আনি বাজার রোড অবস্থিত জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়।

জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য জাতীয় পার্টি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নিরালা মোড় পার হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার পাশে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে যায়। এসময় নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে নেতা-কর্মীরা। প্রায় ঘন্টা খানেক সেখানে খানেক অবস্থানের পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলাম। বর্তমানে ঐ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করাহয়েছে।

শনিবার সকালে জেলা জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. অগাস্ট ২০২৫ ০৭:৪৬:পিএম ৮ মাস আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।