আরমান কবীরঃ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদ আব্দুর রউফের ২১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল,স্মরণসভা ও গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ২৮ অক্টোবর) রাতে শহীদ আব্দুর রউফ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পার দিঘুলিয়ায় শহীদ রৌফের বাসভবনের সামনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সাবেক ছাত্রদল নেতা আকিবুর রহমান ইকবালের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, শহর বিএনপির সদস্য নুরুল ইসলাম ভিপি প্রমুখ।
এর পূর্বে দুপুরে শহীদ রউফের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পার দিঘুলিয়া শহীদ রউফের বাসায় সামনে দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়।
এই দোয়া মাহফিল ও গণভোজে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সদর উপজেলার বিএনপি’র সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল , শহর বিএনপির সহ-সভাপতি শাহিন আকন্দ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ভিপি মনির প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
আরমান কবীরঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমরা মনে করি শাপলা না দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। যেহেতু আইনগত বাধা নেই। আমাদের জায়গা থেকে শাপলা আদায় করে নেব।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংগঠনের জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সারজিস আলম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়া শুধুমাত্র নির্বাচনকেন্দ্রিক হতে পারে না। আমরাও চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উত্তরণের জন্য নির্বাচন হোক।ফেব্রুয়ারিতেও হলে সমস্যা নেই।
তিনি আরও বলেন, যখন একটা জিনিস আমার প্রাপ্য, এনসিপির প্রাপ্য, যখন সেটা দেওয়া হবে না, অবশ্যই স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিরুদ্ধে আমার লড়াই করতে হবে। এনসিপির যদি প্রয়োজন হয়, এনসিপি এই লড়াইটা রাজনৈতিকভাবে রাজপথে করবে। যদি প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলার এনসিপির অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ রাজপথে নেমে এই অধিকারের জন্য লড়াই করবে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মনে করি আমরা শাপলা প্রতীক নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।
সভায় এনসিপির টাঙ্গাইল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ স্লোগানে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হয়েছে। এ সময় বিনামূল্যে হেলমেটও বিতরণ করা হয়।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের হাতে হেলমেট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমিরী খান জানান, সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নিরাপত্তা সচেতনতা জাগ্রত করতেই চালকদের মধ্যে হেলমেট বিতরণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, একটি হেলমেট শুধু আইন মেনে ব্যবহার করা কোনো বস্তু নয়, এটি জীবনের নিরাপত্তার প্রতীক। সড়কে চলাচলের সময় হেলমেট ব্যবহার ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য সকল মোটরসাইকেল চালকদের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এ সময় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল ট্রাফিক বিভাগের টিআই দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ দইয়ের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, বেশ কিছু পরিমাণ পচে যাওয়া দই উদ্ধার এবং মিষ্টান্ন তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল পাওয়ার দায়ে টাঙ্গাইলের বিখ্যাত গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পার্ক বাজার সংলগ্ন গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
তিনি জানান, দোকানে থাকা দইয়ের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, বেশ কিছু পরিমাণ পচে যাওয়া দই দোকানে সংরক্ষণ করা এবং মিষ্টান্ন তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল পাওয়ার দায়ে টাঙ্গাইলের গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে, আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবেন।
অভিযানে পৌর স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী স্বপ্নন কুমার ঘোষ জানান, সাধারণত তিনি খুচরা ভাবে দধি বিক্রি করে থাকেন। ফলে তৈরিকৃত দধিতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে এখন থেকে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত পচে যাওয়া দধিগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। এছাড়া যে মিষ্টি তৈরীর বড় কড়াইয়ে টিকটিকির মল হাওয়া গেছে, সেটি বর্তমানে মিষ্টি তৈরীর কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে না। আমরা সবসময় চেষ্টাকরি গ্রাহককে সর্বোচ্চ মানের দধি ও মিষ্টান্ন সরবরাহ করার।
আরমান কবীরঃ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে দলীয় নেতাকর্মী আর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শেষ বারের মতো বিদায় জানানো হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহনকে।
এদিকে, হামিদুল হক মোহনের মৃত্যুতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
এরপূর্বে মঙ্গলবার বাদ যোহর টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড-অফ-অনার প্রদান করা হয় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
জানাজা নামাজে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা জামায়েত ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদ, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতির অঙ্গনের প্রায় তিন সহস্রাধিক বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার নির্বাচনী এলাকায় এক মত বিনিময় সভায় বক্তব্য শেষ করে টাঙ্গাইল ফেরার পথে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর হামিদুল হক মোহন বিএনপি’র জেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। আমৃত্যু তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল- ৬ (নাগরপুর- দেলদুয়ার) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গনসংযোগ চালাচ্ছিলেন।
হামিদুল হক মোহন জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছাড়াও টাঙ্গাইল নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সভাপতি, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা, টাঙ্গাইল কালচারাল রিফর্মেশন ফোরামের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের বোন জামাই।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীতে সরকার ঘোষিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণে লক্ষ্যে অভিযান’ পরিচালনা করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) সদর উপজেলার কাকুয়া ও মাহমুদনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীতে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আসিফ পেলে। এসময় মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে প্রায় ১৩ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। অভিযানে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের ফেসবুকে পেইজে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ গত এক দশকে অনেক বেড়েছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে শুরু করেছে যে ভবিষ্যতের দুনিয়ায় টিকে থাকার অন্যতম শর্ত হচ্ছে প্রযুক্তি দক্ষতা। মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা সাইবার সিকিউরিটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রোগ্রামিং অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, আগ্রহ বাড়লেও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। শহরের কিছু শিক্ষার্থী সুযোগ পেলেও গ্রামের অধিকাংশ তরুণ এই প্রতিযোগিতা থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, উন্নত দেশগুলো প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের কোডিং শেখাচ্ছে। এস্তোনিয়া প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রোগ্রামিং শিক্ষা চালু করেছে। চীন শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিক্স ও এআই ভিত্তিক কারিকুলাম তৈরি করেছে। ভারত সরকার কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে কোডিং শেখানোর জাতীয় পরিকল্পনা নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এখনো প্রোগ্রামিংকে একটি মৌলিক দক্ষতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে তরুণরা আগ্রহী হলেও সঠিক পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের বৈষম্যও এখানে বড় বাধা। ঢাকাসহ বড় শহরে কিছু আইটি ট্রেনিং সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ল্যাব কিংবা কো-ওয়ার্কিং স্পেস আছে। কিন্তু গ্রামের শিক্ষার্থীরা পুরনো কম্পিউটার, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং সীমিত শিক্ষকের উপর নির্ভর করছে। অনেকে ইউটিউব বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিখতে চেষ্টা করে, কিন্তু ইংরেজি দুর্বলতা ও লজিক্যাল চিন্তার অভাবে বেশিরভাগই মাঝপথে থেমে যায়। এর ফলে শেখার আগ্রহ থাকলেও সেটি পূর্ণতা পায় না।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখনও সবার কাছে পৌঁছেনি। অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার নেই, আর যারা আছে তাদের ডিভাইসগুলো বেশিরভাগ সময় পুরনো এবং ধীরগতির। ফলে সফটওয়্যার ইন্সটল করা, কোড রান করা বা অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার মতো মৌলিক কাজগুলো করতে গিয়েই তারা সমস্যায় পড়ে। একদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকতার অভাব, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের স্বল্পতা এই দ্বৈত সংকটে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের বিশাল একটি অংশ।
বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। তরুণরা বিশ্বাস করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত আয় করা সম্ভব, তাই তারা এই দিকেই ঝুঁকছে। নিঃসন্দেহে এতে আর্থিক উপার্জন হচ্ছে, অনেকেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। কিন্তু এর বাইরে গবেষণা, উদ্ভাবন কিংবা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। যখন ভারত, চীন কিংবা ভিয়েতনাম নিজেদের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে, তখন আমরা আউটসোর্সিংয়ের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছি।
তবে সম্ভাবনা কম নয়। বাংলাদেশ যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়, তবে তরুণদের এই আগ্রহকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রোগ্রামিংকে আধুনিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃভাষায় মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে। গ্রাম পর্যন্ত দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হবে এবং সাশ্রয়ী দামে কম্পিউটার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা, স্টার্টআপ কালচার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ যেমন বাড়ছে, বাস্তবতার চ্যালেঞ্জও তেমনি বড়। যদি আমরা সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে বাংলাদেশ শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এটাই হতে পারে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী বড় অর্জন।
লেখক – সামির তালুকদার
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের এলংজানি নদী থেকে রবি দাস(৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, প্রাথমিক সুরতহালে রবিদাসের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহত যুবকের নাম জীবন রবি দাস। সে জেলার ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের মৃত রংলাল রবি দাসের ছেলে। সে পেশায় মুচি ছিল বলে জানা গেছে।
পোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, সোমবার রাতে পোড়াবাড়ী খেয়া ঘাটের সামনে দিয়ে মরদেহটি ভেসে যেতে দেখে স্থানীয়রা তাকে খবর দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মরদেহটি ভেসে পাশের সিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা ব্রিজের কাছে চলে যায়। পরে মরদেহটি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের কাছে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, পরে সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দিলে তাঁরা এসে মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, স্থানীয় ভাবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
তিনি আরও জানান, থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ ১৯৭৪ সালে টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়া এলাকায় ৫০ শয্যার সুবিধা নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে যার শয্যা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০ ।
এ ছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় তড়িঘড়ি করে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড চালু করা হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দক্ষ জনবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে জেলার জন্য অতি জরুরি এই সেবাটি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাসপাতালের নেই দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টার। ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। আইসিইউ সেবা ও ট্রমা সেন্টার না থাকাতে রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হচ্ছে অধিকাংশ গুরুতর আহত রোগীর।
বর্তমানে চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানে সেবা নিতে আসা হাজার হাজার সাধারণ রোগীগণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এই হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসেন।
এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দাদের জন্য জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ৪৪জন চিকিৎসক নিতান্তই অপ্রতুল বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে অনুমোদিত জনবলের প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মচারীর পদ রয়েছে ৪০১টি। এর মধ্যে চিকিৎসকসহ ৭২টি পদ শূন্য। হাসপাতালে ৫৮ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৮টি পদ শূন্য। সিনিয়র কলসালটেন্ট (মেডিসিন) ও সিনিয়র কলসালটেন্ট (সার্জারি) দুইটি পদই শূন্য, সিনিয়ন কলসালটেন্ট (স্কিন ভিডি) পদও শূন্য, সিনিয়র নার্সের ৬টি পদই শূন্য, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ৭২টি পদের বিপরিতে শুন্য রয়েছে ৩৫টি পদ। এ প্রতিষ্ঠানে ৭৭জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে লোক নিয়োগ করেছে মাত্র ৪৮ জন, ১৬ জন সুইপার পদের বিপরিতে ৯টি পদ শূন্য। এত স্বল্প সংখ্যক আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নকর্মীর কারনে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দিকে ডায়াবেটিক রোগীর তিন মাসে সার্বিক অবস্থা জানার একমাত্র এইচবিএওয়ানসি মেশিনটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এই হাসপাতালে সাধারণ মানের কিছু বেসিক টেস্ট করা হয়, কিন্তু সিটি স্ক্যান, এমআরআই, হরমোন টেস্ট, কালচার, হিস্টোপ্যাথলজি—এরকম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, কারণ সরঞ্জাম নেই। এ ছাড়াও মেডিসিন ও সার্জারি পোস্টে কোনো কনসালট্যান্ট নেই। স্ট্যান্ডার্ড সেটাপে ১৭৮ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, কিন্তু এখানে সর্বমোট চিকিৎসক রয়েছেন ৪৪ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হলেও পুরোপুরি চালু হয়নি, যার কারণে জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকে। এ ছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগী ও স্বজনরা হয়রানির শিকার হন। ৪৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৫ জন প্রতিদিন বহির্বিভাগে, ৪ জন ইমারজেন্সিতে এবং বাকি ২৫ জন ইনডোরে ডিউটি করেন।
হাসপাতালে ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে: ১নং প্রসূতি, ২নং শিশু, ৩নং গাইনি, ৪নং মেডিসিন (মহিলা), ৫নং মেডিসিন (পুরুষ), ৬নং সার্জারি (পুরুষ), ৭নং সার্জারি (মহিলা), ৮নং অর্থোপেডিক (পুরুষ), ৮এ অর্থো (মহিলা), ৯নং ডায়রিয়া, ১০নং ইএনটি, ১১নং সিসিইউ, ১২নং আইসিইউ, ১৩নং করোনা সাসপেকটেড, ১৪নং করোনা পজিটিভ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ৪টি (গাইনী, সার্জারি, অর্থোপিডিক)। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১৩ জন, আউটসোর্সিং ভিত্তিতে।
এ দিকে এ হাসপাতালে ১০ বেডের আইসিইউ থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় ডাক্তার এবং দক্ষ জনবল না থাকার কারনে রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আইসিইউ সেবা বন্ধ রয়েছে। তারপরও আরও একটি ১০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুুত করা হয়েছে। সময় মতো সেটি চালু না করা গেলে মূল্যবান মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রয়োজন ৭৫ জন। হাসপাতালের খাবারের মান ভালো, তবে ২৫০ জন রোগীর বাইরে খাবার পরিবেশন সম্ভব নয়। ঔষধের বরাদ্দ রয়েছে, তবে অনেক রোগী ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগও করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, কিছু সিনিয়র চিকিৎসকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে এখানে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জনবল নেই। এ কারনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষাও ঠিকমত হচ্ছেনা। জনবলের অভাব হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সচল যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ রোগী বাইরের বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করছেন। আর এ ক্ষেত্রেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ১জন রেডিওলজিস্ট দিয়ে কোনভাবে এত পরিমান রোগীর সেবা প্রদান করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা জেলার গোপালপুরের রফিজ উদ্দিন বলেন, ডাক্তার আমাকে ব্রেনের এমআরআই পরীক্ষা করতে বলেছিলেন। সদর হাসপাতালে এমআরআই নেই, তাই প্রাইভেট হাসপাতালে ৭,৫০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করেছি। সরকারি হাসপাতালে এই ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের ভোগান্তি কম হতো।
আব্দুর রাজ্জাক নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের আশেপাশের ঔষধের দোকানদাররা রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ঔষধের স্লিপ নিয়ে বেশি দাম চায়। প্রতিবাদ করলে দাপট দেখানো হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও সহকারী স্টাফ না থাকায় রোগীরা পুরোপুরি সেবা পাচ্ছে না। তবে যারা আসেন তাদের উপযুক্ত সেবা দেওয়া হয়। ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ বেশি হলে বেগ পোহাতে হয়। আইসিইউ, ডাক্তার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বৃদ্ধি করলে আশানুরূপ সেবা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফার ২৭ দফা অবলম্বনে নির্মিত ‘কৃষি কথা’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইউনিয়নের বহুলী পার বহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় ২০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। তারাই ছিলেন এই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। অনুষ্ঠানের পুরো অংশজুড়েই তাদের মূল্যবান মতামত শোনা হয়। গ্রহণ করা হয় তাদের বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শ।
স্থানীয় কৃষক জাবাত আলী, মজিদ মিয়া, আজিজুল হক, শাহজামান মন্ডল জানান, এতোদিন যেকোনো অনুষ্ঠানে কৃষকরাই ছিলো সবচেয়ে অবহেলিত। কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠা তো দূরের কথা, মঞ্চের কাছাকাছিও কৃষকদের যেতে দেওয়া হতো না। আজ এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিও আমরা, বিশেষ অতিথিও আমরা। আমাদের এই সম্মান দেওয়ার জন্য বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচক ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি নির্বাচিত হতে পারে, বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য ফারমার্স কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আমি যদি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে এই এলাকার কৃষকদের প্রাণের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে একটি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণ করা হবে। এছাড়া যমুনা নদীর ভাঙ্গন রোধে বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে। অতিতে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাভের জন্য টাঙ্গাইল ভিক্টোরিয়া খালকে ভরাট করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই টাঙ্গাইল শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য খাল খননের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে সকলকে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলবো। সেই টাঙ্গাইল হবে সারা বাংলাদেশের কাছে মডেল টাঙ্গাইল।
সোনিয়া শমীর সঞ্চালনায় ও পার্বণ মিডিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠানে মাহমুদনগর ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক কৃষক, ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আরমান কবীরঃ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, যে কতিপয় রাজনৈতিক দল পিআরের কথা বলে আন্দোলনের মাঠে যাচ্ছে। তারা একদিকে মনোনয়ন দিয়ে প্রার্থীকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে, আবার তারা আন্দোলনের কথা বলছে। এটা কতটা স্ববিরোধী। ওইসব কতিপয় রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘কতিপয় রাজনৈতিক দল দেশের সমৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে চায়। আমরা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যে ভাবে ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদ। ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে যেভাবে তুলে আনতে চাই এবং একটি সমৃদ্ধি বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সামনে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে ওই কতিপয় রাজনৈতিক দল বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছি।’
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব ভবনের ৪র্থতলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্দোলন সংগ্রামের দেশ। ১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করে, এই ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত, যতবার বাংলাদেশকে টেনে পেছনে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যত অশুভ শক্তি, সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সারা জাতি একত্রিত হয়ে আন্দোলন করেছে এবং বিজয় অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো জাতি পরাজিত হয়নি, না মুক্তিযুদ্ধে, না ভাষা আন্দোলন, না ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে, কিংবা স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনে, আমরা সবসময় বিজয়ের জাতি। সমস্ত ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে আমরা আবারও বিজয় অর্জন করব, এবং আগামি নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জয়ী হবো।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, আফরোজা আব্বাস, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি, হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রক্সি প্রমূখ।
আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ব্যানারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন,জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস।
টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয় আলোচনা সভা থেকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদি এবং যুগ্ম-সম্পাদক খালেদা আক্তার স্বপ্না।