আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ৫৪ বছরে অনেক নির্বাচন হয়েছে, অনেক ওয়াদা দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ওয়াদা ওয়াদার জায়গায় রয়ে গেছে। জুলাই যুদ্ধে যুবকরা একটা দাবি করতেন : ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ইনসাফ থাকবে, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে, নিরাপত্তা থাকবে। আমরা আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বসন্তের কোকিল নই। ইতিপূর্বে অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করার পরও দেশ ছাড়ি নাই, এই মাটি ছেড়ে যাই নাই। আমরা দুঃখের সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, সুখের সময়ও আপনাদের সঙ্গে থাকব। আমরা জাতিকে পিছিয়ে নিতে চাই না, আমরা জাতিকে এগিয়ে নিতে চাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু নির্বাচন জাতি আদায় করে ছাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। দেড় হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে এবারের নির্বাচন।’ জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে ‘হ্যা’ ভোটের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি ঐক্যজোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের ঢাকা উত্তরাঞ্চলের সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান মাদানী, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম ও খেলাফত মজলিশের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
জনসভাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনস্রোত পরিলক্ষিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
আরমান কবীরঃ One Way School আয়োজিত National Tech Award 3.0 – 2026-এ টাঙ্গাইলের Zayn Builders & Developer Ltd–এর Managing Director আমিনুর রহমান (আমিন) “Entrepreneur”(উদ্যোক্তা) ক্যাটাগরিতে দেশসেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর IDEB ভবনে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর এই অর্জন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা অঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সাফল্য শুধু একটি ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়; বরং এটি দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে বলে জানিয়েছেন এই আয়োজনের উদ্যোক্তারা।
জানা গেছে,আমিনুর রহমান (আমিন) দীর্ঘদিন ধরে রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন খাতে সততা, দক্ষতা এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কাজ করে আসছেন। Zayn Builders & Developer Ltd–এর নেতৃত্বে তিনি গুণগত মানসম্পন্ন আবাসন নিশ্চিতকরণ, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই ব্র্যান্ড গড়ে তুলেছেন। তাঁর উদ্যোক্তা যাত্রায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন দর্শন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান,National Tech Award 2026-এর “Entrepreneur” ক্যাটাগরিতে এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকেই জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন সম্ভব। এই অর্জনের মধ্যে দিয়ে আমিনুর রহমান দেখিয়েছেন—সফল উদ্যোক্তা হতে হলে শুধু মূলধন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিরলস পরিশ্রম, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং সমাজের জন্য মূল্য সংযোজনের মানসিকতা।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই সাফল্য টাঙ্গাইল জেলার তরুণদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণ ধারণা করে যে বড় সাফল্য অর্জনের জন্য রাজধানীকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা অপরিহার্য। কিন্তু আমিনুর রহমানের এই অর্জন প্রমাণ করে—নিজ জেলা থেকেই বড় স্বপ্ন দেখা যায় এবং কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে দেশসেরা হওয়াও সম্ভব। তাঁর এই বিজয় তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস জোগাবে এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলবে।
এ প্রসঙ্গে আমিনুর রহমান (আমিন) জানান এই সম্মান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম কেবল চাকরির সন্ধানেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান দিতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। One Way School আয়োজিত National Tech Award-এর মতো উদ্যোগগুলো সেই সম্ভাবনাকে সামনে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও জানান,এই অর্জন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সব পর্যায়েই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এক শক্তিশালী দিকনির্দেশনা, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং বাংলাদেশের উদ্যোক্তা সংস্কৃতির জন্য এক গর্বের অধ্যায়।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল সফরে আসছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিন ঢাকা-যমুনাসেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের দরুন চরজানা এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।
এ দিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জনসভার প্রস্তুতি ও সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দরুন চরজানা বাইপাস এলাকাকে জনসভাস্থল হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।
এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমাননের নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ)-এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী জনসভার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভেন্যু পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। টাঙ্গাইলে যেভাবে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই জনসভা স্মরণকালের জনসমাগমে পরিণত হবে বলে আমরা আশাবাদী। টাঙ্গাইলের জনগণ অধীর আগ্রহে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি আগামী দিনের বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। ইনশাআল্লাহ, এই জনসভা থেকেই নির্বাচনে বিজয়ের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী সফরের পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ঘুরে ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সফরে আসবেন তারেক রহমান। সফরের দিন দুপুর ২টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে দরুন বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন।
তার আগমনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভা সফল করতে মঞ্চ নির্মাণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরাও এই সফরকে ঘিরে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চললেও টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না। গণভোটকে কেন্দ্র করে বিস্ময়কর নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জেলা তথ্য অফিস জুড়ে।
জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণভোটের হ্যাঁ ও না ভোটের আমেজ নির্বাচনী মাঠে উজ্জীবিত করা হোক।
ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলেও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে,পোস্টারিং বা উঠান বৈঠকের মতো ন্যূনতম কার্যক্রমও শুরু করেনি সংস্থাটি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার তথা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় জনমনে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে জেলা সদর ও জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গণভোটের সমর্থনে বা তথ্য সম্বলিত কোনো ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানার টাঙ্গাইল তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়নি।
অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায়ে এ দপ্তরের প্রচারণা চালানোর কথা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও জানেন না গণভোটের ভোটদানের নিয়মাবলী। শুধুমাত্র ২-১টি স্থানে নির্বাচন কমিশনের বড় বড় ব্যানার টানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধরেরবাড়ি গ্রামের আজমত আলী, সবদের মিয়া, মজনু প্রামাণিক, কোনাবাড়ি গ্রামের আমজাদ আলী সরকার ও নাছির উদ্দিন; কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুরের আজাহার তালুকদার, ময়ছের আলী, নাগবাড়ীর আকবর সওদাগর, রতনগঞ্জের লাবু মিয়া, হোসেন আলী, বল্লা গ্রামের মিন্টু মিয়া ও আব্দুস সামাদ; নাগরপুর উপজেলার ছলিমাবাদের আব্দুল হাকিম ও নওশের তালুকদার; মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুরের আরশেদ আলী ও জমির উদ্দিন; সখীপুর উপজেলার মাইধারচালা গ্রামের নসীব উদ্দিন ও কালোমেঘার জমির আলী; ধনবাড়ী উপজেলার মুসুদ্দীর আবুল কাশেম ও নাজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণভোট সম্পর্কে তথ্য অফিসের কোনো প্রচারণা তাদের চোখে পড়েনি।
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে তা-ই জানেন না। তাদের কাছে হ্যাঁ ভোট বা না ভোট দিলে কী হবে সে প্রশ্ন তো অবান্তর। অনেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে অবগত হলেও গণভোট সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না।
স্ব স্ব স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তথ্য অফিসের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাধারণ ভোটাররা গণভোট বিমুখ হতে পারেন যা মোট ভোটদানের হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে প্রচারণার অভাব প্রকট। রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের প্রার্থীরা স্ব স্ব প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালালেও গণভোটের বিষয়ে কোনো প্রচারণা নেই। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে নেতিবাচকতা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা তথ্য অফিসের জনৈক কর্মচারী জানান, তারা মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে শুধুমাত্র দুই দিন সদর উপজেলার দুই স্থানে মাইকিং করার বাইরে কোনো প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেন নাই। তারা মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার চেয়ে দাপ্তরিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত জানান, বিভিন্ন দপ্তর থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন আলাদাভাবে, তারা কোনো বিশেষ প্রচারণা চালান না। তারা গণভোটের প্রচার-প্রচারণা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। তবে দু’টি স্থানে মাইকিং ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকেই গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা ৩৬০টি বড় বড় ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পেয়েছেন। ব্যানারগুলো প্রতিটি উপজেলা ও জেলা সদরে টানানো হয়েছে। লিফলেটগুলোও দ্রুতই জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ‘গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(১৪ জানুয়ারি) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।
এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।
রিসোর্স পার্সন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব(উপ-সচিব) মো. আব্দুস সবুর।
কর্মশালায় ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকালীন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি প্রতিপালনের গুরুত্ব’ এবং ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৯৭৪ এর প্রয়োগ’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি-১৯৯৩(২০০২ সালে সংশোধিত), তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট অঅইন-২০১৪ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন নয়- ঐক্যবদ্ধতা জরুরি। বিভাজিত জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারেনা। এজন্য ঐক্যবদ্ধার বিকল্প আমাদের সামনে নেই।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা- এজন্য কোনো নির্দিষ্ট মিডিয়ায় সংযুক্ত না থেকেও ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে সাংবাদিকতা করা যায়, দেশের কল্যাণে কাজ করা যায়। সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব বা কোনো সংগঠনে সংযুক্ত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই কিম্বা জরুরীও নয়।
ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় টাঙ্গাইলের প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ও টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা অংশ নেন। পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
সোমবার(১২ জানুয়ারি )দুপুরে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্বাচনী কার্যালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এতে সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আজাদ, হুগড়া ইউনিয়নের সাবেক সম্পাদক মফিজুর রহমান, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ, মগড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহবুব হাসান ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিন্নাহ খানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী যোগদান করেন।
বিএনপিতে যোগদান করা নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নির্বাচিত করার জন্য। সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে টুকুর জন্য কাজ করবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ।
আসাদুজ্জামান রুমেল জানান ,বিক্রয় রশিদ না থাকায় এবং অধিক দামে বিক্রি করার দায়ে সদর উপজেলায় করটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন বাজারে জামান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, একই ইউনিয়নের কুমুল্লি বাজারের আসমা ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা এবং করটিয়া বাজারের আজাদ ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে কজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল বলেন, জেলায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রি করছে।
ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন থেকে চারশো টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যোক্তিক। প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারে সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযানে সদর উপজেলার সেনেটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তারসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নিজের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণ ভোট দেবেন।
এখন পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে টুকু আরও বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোরগ্যাংমুক্ত করে একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী, টাঙ্গাইল-২(ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে ২১ ডিসেম্বর তিনি জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে পর ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শনিবার ও শুক্রবার দুই দিনের যাচাই-বাছাইয়ে এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মোট ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ত্রুটি ও শর্ত পূরণ না করায় ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এর মধ্যে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনের নয়জন এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাকি চারটি আসনের ১৯জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন কারণে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হচ্ছেন- গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার, খেলাফতে মজলিসের হাসনাত আল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হাসরত খান ভাসানী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলমুয়ার) আসনে আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার, রিপন মিয়া, শরিফুল ইসলাম, সাইফুর রহমান ও জাতীয় পার্টির মো. মামুনুর রহিম।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম রেজাউল করীম আল রাজি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হায়দার খান, খেলাফত মজলিসের মো. আবু তাহের।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির আওয়াল মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফজল মাহমুদুল হক, এসএম হাবিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান কামাল, আমজনতা দলের মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনের নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদের মনোনয়ন বাতিল হয়। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন সাগরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া।টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা ও ডা. শাহ আলম তালুকদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, দুই দিনের যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি, আয়-ব্যয়ের সত্যায়িত কপি জমা না দেওয়া, সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং অবসর পরবর্তী নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়া। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের কাছে তিনি তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, ইনশাআল্লাহ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করবেন। জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইল সদরকে উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে একটি মডেল টাঙ্গাইল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। আগামী দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষে সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। ব্যক্তি নয়, দল বড়- আর দলের চেয়েও দেশ বড়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
তিনি সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে ২১ ডিসেম্বর তিনি জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জেলা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এদিকে,সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইল-৫ সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি হয়রানিমূলক মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এ সময়ে তিনি মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডে থাকতে হয় তাকে।
আরমান কবীরঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কৃষক উইং এর প্রধান সমন্বয়কারী ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর )রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।তিনি জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে আমি যুক্ত হয়েছিলাম। শুরু থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের এক ধারাবাহিক অধ্যায় হিসেবে আত্মস্থ করেছি। তেপ্পান্ন বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল আমার সেই পথচলার প্রেরণা।’
তিনি আরও বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী পালনবাদী রাজনীতির স্বপ্ন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হই। সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও গ্রহণ করি।’
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন এখানে তার স্পষ্ট ঘাটতি আমি অনুভব করেছি। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি।’
মওলানা ভাসানীর নাতি বলেন, ‘এই বাস্তবতায় বেশ কিছুদিন ধরে সরাসরি সক্রিয় না থেকেও দলটির সঠিক রাজনীতি ও সাফল্য কামনা করে গেছি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই দায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতেই আজ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।’
তিনি বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে আমার এই স্বল্পকালীন পথচলায় কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। তারুণ্যের অভিযাত্রী দলটির প্রতি রইলো আন্তরিক শুভকামনা। গণমানুষের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামে তারা যেন সঠিক পথ খুঁজে পায় এই প্রত্যাশাই থাকলো।’
এর আগে এ বছরের গত ৬ সেপ্টেম্বর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর অনুমোদনক্রমে কৃষক উইংয়ের প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছিল আজাদ খান ভাসানীকে।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমানে কার্য্যক্রম স্থগিত থাকা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী সদরের তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম-নির্বাচনে অংশ নেবো কি নেবো না। আমি সবসময় জনগণের মতামত ও জনরায়কে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করি। আমার কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়েই আমি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে গণসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি। ঘোষণার সময় তার শুভানুধ্যায়ী ও কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কালিহাতী আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।