একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে আমির খান নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের কালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু আমির ওই গ্রামের আকাশ খানের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে আমির বাড়ির ভেতরে খেলা করছিলো। এ সময় সবার অগোচরে বাড়ির সামনে তাদের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পযার্য়ে পুকুরের পানিতে আমিরকে ভেসে থাকতে দেখে। দ্রুত পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দাদা মো. আবুল হোসেন খান জানান, খেলতে গিয়ে সকলের অগোচরে পানিতে পড়ে যায় আমির। এ কারণে পানিতে ডুবে সে মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন,অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
শিক্ষাবোর্ড থেকে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও এই বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আরও ২ হাজার ৫’শত টাকা নেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন।
তবে সহকারি প্রধান শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিনের দাবি, ভালো ফলের জন্য কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থী প্রতি ফরম পূরণের সময় শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত ২ হাজার ৫’শত টাকা কোচিং ফি বাবদ নেয়া হয়েছে। এছাড়া কোন বেতন নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নে অবস্থিত মগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফরমপূরণ করেছে মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থী। এবছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া যাবে সেটি নির্ধারণ করে দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য বোর্ড ফি ১ হাজার ৬২৫ টাকা ও কেন্দ্র-ফি ৫১৫ টাকাসহ মোট ২ হাজার ১৪০ টাকা। বাণিজ্য বিভাগ ও মানবিক বিভাগের প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড ফি ১ হাজার ৫৩৫ টাকা ও কেন্দ্র-ফি ৪৮৫ টাকাসহ মোট ২ হাজার ২০ টাকা হারে নির্ধারণ করে গত ১৭ অক্টোবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ফরম পূরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না উল্লেখ করা হলেও মগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে ৪ হাজার ৭০০ টাকা রশিদ ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানায়, ৫ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে এসএসসি ফরম পূরণ করতে হয়েছে। মেয়ে বাড়ি গিয়ে জানিয়েছে, এ টাকা না দিলে নাকি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না। তাই কি করমু ডাবল টাকা দিয়ে ফরমপূরণ করতে বাধ্য হয়েছি। এভাবে কি সন্তাদের লেখাপড়া করানো সম্ভব?
তারা আরও জানায়, ফরম পুরণের সময় দুই বছরের বেতন বাবদ ৬০০ ও ৩ মাসের কোচিং ফি বাবদ ২৫০০ টাকা আগে পরিশোধ করতে হয়েছে। এরপর ফরমপূরণের টাকা নিছে।
মো.রফিকুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক জানান, আমার সাথে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির ছোট ভাইয়ের সাথে সখ্যতা থাকায় ৩ হাজার ১’শত টাকা দিয়ে মেয়ের ফরমপূরণ করেছি।
তিনি আরও জানান, আমাদের এলাকায় বেশিরভাগ লোক কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাদের জন্য ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে ফরমপূরণ করা খুবই কষ্টের ব্যাপার।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলের নবম শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন তার নিজের রুম পরিষ্কার করাচ্ছেন।
বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে গত দুই বছর যাবত আয়া নেই। তাই শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ক্লাসরুম আর অফিস পরিষ্কার করানো হয়।
বিদ্যালয়ের একাধিক সুত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম গত কয়েক বছর যাবত শারিরীকভাবে অসুস্থ থাকায় সহকারি প্রধান শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন ও অফিস সহকারী আমীর হোসেন মিলে বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করে আসছেন। তারা দুজনেই স্থানীয় হওয়ায় বিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষকরা প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।
সুত্র আরও জানায়, এবারের মোট এসএসসি পরিক্ষার্থী সংখ্যা ১০৫জন। এর মধ্যে অনিয়মিত পরিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ৭ থেকে ৮জন। শুধু নিয়মিত পরিক্ষার্থীরাই কোচিং ফি বাবদ টাকা জমা দিয়েছে।
মগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মেনহাজ উদ্দিন বলেন, ছাত্রীদের ভালো ফলের জন্য কোচিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থী প্রতি ফরম পূরণের সময় শিক্ষাবোর্ড নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত ২ হাজার ৫’শত টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে কোচিং নিষিদ্ধ হলেও কিভাবে তারা সেটি করাচ্ছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য বেসরকারি স্কুল গুলো কোচিং এর আয়োজন করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত টাকার বাহিরে অতিরিক্ত টাকা শুধু আমরাই নিচ্ছি না,অনেক বিদ্যালয়ই নিচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হক এর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান-বিন-মুহাম্মাদ আলী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য প্রমান পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার বাদী কলেজছাত্রী আফরোজ মির্জা এশা’র ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত সৌরভ পাল টাঙ্গাইল পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার শ্যামল পালের ছেলে। শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সৌরভের সঙ্গে নিহত বাদী এশার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আব্দুস ছালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার রাতেই নিহত কলেজছাত্রী এশা মির্জার বড় বোন লুনা মির্জা বাদী হয়ে সৌরভকে প্রধান ও তার আপন বড় ভাই জনি মির্জার নামে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, শনিবার রাতে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে এশা মির্জার বোন লুনা মির্জার আপন ভাই জনি মির্জা ও সৌরভ নামের একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। গ্রেপ্তারকৃত সৌরভ পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় নিহত এশা মির্জা বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় এশা ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্তা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পরে ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয় ওই কিশোরী।
এশার দায়ের করা ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনে আগুনের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ভোর রাতে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ট্রেনের তিনটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল রেলস্টেশন সহকারী মাস্টার তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাকারী কলেজ ছাত্রী এশা মির্জার (২২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ নভেম্বর )দুপুরে করের বেতকা এলাকায় তার নিজ বাসার ৩য় তালা থেকে এশার মরদেহ উদ্ধার করা করে পুলিশ।
নিহত আফরোজ মির্জা এশা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের করের বেতকা গ্রামের লতিফ মির্জার মেয়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শরফউদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুরে নিজ বাসার রুমের ভিতর শার মির্জার শিশু পুত্রের কান্না শুনতে পায় স্থানীয় তনিমা আক্তার নামের এক নারী। পরে আশপাশের লোকজনকে জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, আলোচিত ধর্ষণ মামলার বাদি মির্জা আফরোজ এশা তার তিনতলা বাসার নিজরুমে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল রাতে অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় এশা টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনির ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
সম্প্রতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির উচ্চ আদালতে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র প্রভাবে দমকা হাওয়ায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে গাছের ডাল পড়ে রাজ্জাক মিয়া (৪০) নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বাসাইল উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজ্জাক মিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিরিকপুর গ্রামের কুসুম মিয়ার ছেলে। তিনি বাসাইলের কোটিপতি মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজ পড়ে মোটরসাইকেলে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে পৌঁছালে ঝড়ো বাতাসে গাছের ডাল ভেঙে মাথায় পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা: নাঈম আব্দুল্লাহ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা নিহতের পরিবারের পাশে আছি।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, আমরা আমেরিকায় বাস করি না বাংলাদেশে বাস করি। আমেরিকা স্যাংশন দিবে এই ভয়ে আমরা বিয়ে করবো না বউ তালাক দিবো, মেয়ের বিয়ে হবে না ছেলের বিয়ে করাবো এটা চিন্তা ভাবনা করা উচিত না। এটা জাতীয় পার্টির জিএম কাদের জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ ভুল কথা বলেছেন। এটাও বলবো আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশে এত দৌঁড়াদৌড়ি ভালো না। এটা তার দেশের ইলেকশন না, ইলেকশন আমাদের দেশের।
শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম ওফাত দিবস উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তফসিল নিয়ে বঙ্গবীর বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা হয়েছে এটা নিয়ে অনেকে খুশি না। আমি নিজেও খুশি না। কিন্তু তার পরেও বলবো একটি গণতান্ত্রিক দেশে পাঁচ বছর পরপর অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ প্রভাব মুক্ত নির্বাচন হওয়া দরকার, বঙ্গবন্ধু নিজে বলেছে সকল প্রকার প্রভাব মুক্ত নির্বাচন করতে হবে। আমি বলবো এখন সরকার নাই, এখন সরকার নির্বাচন কমিশন। ইচ্ছে স্বাধীন যেনো কোন কিছু না করা হয়। গতবারের মতো ভোটারবিহীন ভোট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ও সব থেকে বেশি ক্ষতি হবে বাংলাদেশের আর তার থেকে বেশি ক্ষতি হবে আমার বোন শেখ হাসিনার।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ রাখায় তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
তিনি এ বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই ভাসানীর মাজার সকলের জন্য উম্মুক্ত রাখা। সকলেই যেনো ভাসানী হুজুরের মাজার জিয়ারত করতে পারে।
এসময় কাদের সিদ্দিকীর সাথে উপস্থিত ছিলেন সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, ভাসানীর নাতি হাসরত খান ভাসানীসহ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ঝিনাই নদীর তীরবর্তী আদাজান গ্রামের ৮’শ মিটার রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আদাজান উত্তর পাড়ার স্থানীয় ডা. শহিদের বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে আওয়ালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজটির উদ্ভোধন করা হয়।
৮’শ মিটার এই রাস্তার কাজ শেষ করতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হলেও (কাবিটা ১ম পর্ব) মাত্র ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে এই কাজ শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, নারীনেত্রী রেখা বেগম দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের কাছে তদবিরের মাধ্যমে বাসাইলের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাস্তার এই কাজটি শুরু করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মেম্বার আমির আলীসহ গ্রামের বয়োজেষ্ঠরা জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী ৫১ বছরে এই এলাকার সাধারণ মানুষ এই রাস্তা টুকুর জন্য বছরের ৭ থেকে ৮ মাস যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এই রাস্তার কাজ সমাপ্ত হলে স্থানীয় ৪শ পরিবারসহ পার্শ্ববর্তী ৪টি গ্রামের মানুষ যাতায়াতের সুফল ভোগ করবে।স্থানীয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসার প্রায় ৭ থেকে ৮’শ শিক্ষার্থীরাও এই রাস্তার সুফল ভোগ করবে।
রাস্তার কাজ উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে কাঞ্চনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আশরাফ উদ্ জামান বক্তার, ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি সাহেব আলী মিয়া, পরেশ চন্দ্র মন্ডলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কা লেগে আশিক মিয়া (২০) নামে এক যুবককের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোপালপুর পৌর শহরের ভূঞারপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক পৌর শহরের উত্তর গোপালপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে আশিক মোটরসাইকেলটি দ্রুত গতিতে চালিয়ে নবগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হাইড্রোলিক ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়েন ও গুরুতর আঘাত পায়। এরপর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
পরে ঢাকা নেয়ার পথে আশিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে পথিমধ্যে রোগীর স্বজনরা টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলিম আল রাজী জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আশিক নামে এক আরোহীকে নিয়ে আসে স্থানীয়রা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এ ব্যাপারে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি।
একতার কণ্ঠঃ উপজেলা পর্যায়ে একজন ইউএনওকে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়, বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারি প্রটোকল তো আছেই।
এসব দায়িত্ব পালন করে চাইলেও যে একজন ইউএনও সাধারণত সহজেই বাড়তি সময় বের করতে পারেন না। কিন্তু এদিক দিয়ে ব্যতিক্রম টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন।
তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে নানামুখী ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও আলোচিত হচ্ছেন।
কালিহাতীতে যোগদানের পর থেকেই নিষ্ঠার সহিত প্রশাসনিক দায়িত্বপালনের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাঁর কর্মকাণ্ডগুলো ফলপ্রসূ হতে শুরু করেছে।
শিক্ষা নিয়ে তাঁর ব্যতিক্রমী উদ্যোগসমূহের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে– আকস্মিক স্কুল পরিদর্শন, বিতর্ক প্রতিযোগীতা আয়োজন, স্কুলে স্বল্প সময়ের ক্লাস, দিক-নির্দেশনা প্রদানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলকে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম।
এছাড়া যখনই যে স্কুলে যান সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ছোট ছোট প্রতিযোগিতা আয়োজন করে শিক্ষার্থীদেরকে তাৎক্ষণিক পুরস্কার প্রদান করেন।

সম্প্রতি তিনি উপজেলার সাতুটিয়া ও সাকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের মাঝে কুইজ প্রতিযোগীতা ও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের জন্য পুরস্কার হিসেবে ‘পরিবেশ বান্ধব স্কুল ব্যাগ’ উপহার দেন। তিনি পর্যায়ক্রমে এক হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ ও কলম উপহার দিবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া যুক্তিতেই মুক্তি স্লোগানকে প্রতিবাদ্য হিসেবে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা। মাধ্যমিক পর্যায়েও এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হবে।
প্রোগ্রামটিকে ঘিরে উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক গঠন ঠিক রাখা ও মাদকমুক্ত রাখতে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন টূর্ণামেন্ট চলমান রয়েছে। তার উদ্যোগেই উপজেলা পরিষদের সামনে উন্মুক্ত ব্যাডমিন্টন কোট তৈরী করা হচ্ছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য পৌরসভার পাশে উপজেলা পরিষদের খালি জায়গায় মিনি পার্ক নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।
ইউএনও শাহাদাত হুসেইন একের পর এক স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শন, স্বল্প সময়ের ক্লাস, দিক-নির্দেশনা প্রদান, প্রতিযোগিতার আয়োজন ও পুরস্কার প্রদানের কারণে এখন প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধীর আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে! তারা অপেক্ষা করতে থাকেন কবে, কখন ইউএনও তাদের স্কুলে আসবেন! শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে বেশ আলোচনা ও উৎসাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তাছাড়া তাঁর সার্বিক কার্যক্রম, নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের ফলে শিক্ষকদের মধ্যেও এখন ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সরকারী শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কবীর বলেন, একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা যদি মনে করে তার দাপ্তরিক কাজের বাহিরে একটি উপজেলাকে সমৃদ্ধশালী করবে, তাহলে তার অবস্থান থেকে সম্ভব যদি সদিচ্ছা থাকে। তবে বর্তমান ইউএনও একজন শিক্ষাবান্ধব ব্যাক্তিত্ব। এরমধ্যে তার উদ্যোগ এবং চলমান কাজগুলো প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে তিনি অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে আসতে এবং সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগেগুলো ব্যতিক্রমী। তিনি প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দরভাবে করছেন। অচিরেই কালিহাতীবাসী এর সুফল দেখতে পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন জানান, সকলকে সাথে নিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ও নানামুখী সৃজনশীল কাজ করতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগীতার আয়োজন,আকস্মিক স্কুল পরিদর্শনসহ সেখানে ছোট ছোট কুইজ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে তাঁর এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমেই আমাদের আগামী প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
একতার কণ্ঠঃ:টাঙ্গাইলে ঘারিন্দা রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নাশকতার জন্য ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা স্টেশনে গিয়ে আগুন লাগা টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন পরিদর্শন করেছে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রাত ৩টার দিকে দাঁড়িয়ে থাকার ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। যদিও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
ঘারিন্দা স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একটি ট্রেন স্টেশনে থাকায় কমিউটার ট্রেনটি দেখা যাচ্ছিল না। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন ত্যাগ করার পরেই আগুনের ধোয়া দেখতে পায় স্টেশনে থাকা রেল কর্তৃপক্ষ। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের বুকিং মাস্টার সেলিম জানান, বুধবার সকাল সাতটা থেকে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনটি। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা এতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ট্রেনের দুটি বগি পুরোপুরি ও একটি বগির আংশিক পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইদ্রিস আলী জানান, আগুনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এ সময় ট্রেনের দুইটি বগির সিট, ফ্যানসহ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া একটি বগির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি নাশকতা।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, নাশকতা করার জন্য ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন যাবৎ অবরোধ চলছে। অবরোধে নাশকতা এড়াতে আগে থেকেই আনসার পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত ছিল। বুধবার দিবাগত রাতে দুষ্কৃতিকারীরা ট্রেনে আগুন দিয়েছে। এতে দুইটি বগি পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং একটি বগির আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এটি একটি নাশকতা। এই ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মামলা করবে। আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কমিউটার ট্রেনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের দুটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেনটিতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, রাত ৩টার দিকে খবর পেয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। ট্রেনের ইঞ্জিনের কাছাকাছি দুটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমিউটার ট্রেনটি টাঙ্গাইল টু ঢাকা অভিমুখে স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৩টায় পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন টাঙ্গাইল স্টেশন ত্যাগ করার পর আগুন লাগে। আগুনের সূত্রপাত তদন্ত শেষে জানা যাবে।
ঘারিন্দা রেলস্টেশনের বুকিংমাস্টার সেলিম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত ৩টার দিকে ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির তিনটি বগিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে এক ঘণ্টার মতো চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি কেউই।