একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় রুমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহিনী একসঙ্গে তিন সন্তান প্রসব করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাত ১০টায় ঢাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি তিন সন্তান জন্ম দেন। নবজাতক তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
বর্তমানে তিন সন্তান ও তাদের মা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন পরিবার।
রুমা আক্তার উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের প্রবাসী শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে দিগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন ফারুক হোসেন ফনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনটি সন্তানের জন্ম দেন রুমা আক্তার। বর্তমানে বাচ্চাসহ মা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত রয়েছে। দেশবাসীর কাছে সন্তানদের জন্য দোয়া চেয়েছেন। একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় বাবা-মা, দাদা-দাদিসহ আত্মীয়স্বজনরাও খুশি। তবে নবজাতক তিন শিশুর এখনও কোন নাম রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে নবজাতকদের বাবা প্রবাসী শরিফ উদ্দিন জানান, আল্লাহ আমাকে তিনটি সন্তান এক সাথে দান করেছেন। আশা করি, দুই ছেলে এক মেয়ে এই তিন সন্তান লালন-পালনে কোনো সমস্যা হবে না। আল্লাহ সুস্থ রাখলে পরিবারের সবাই মিলে লালন-পালন করতে পারবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজিয়াবাড়ি গ্রামে ওয়াজ মাহফিলের খিচুড়ি খেয়ে শিশুসহ দুইশতাধিক গ্রামবাসী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে রাহেলা বেগম (৯৪) নামে এক বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেছে । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.মো.আশরাফুল আলম ।
মৃত রাহেলা বেগম দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত বিষা চৌধুরীর স্ত্রী।
এতে বুধবার(১৬ নভেম্বর) ভোরে এলাকা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় আক্কাস মিঞার বাড়িতে এক ওয়াজ মাহফিলে আয়োজন করা হয়। ওয়াজ মাহফিল শেষে তোবারক হিসেবে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বাবুর্চি আব্দুল গণির রান্না করা খিচুড়ি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গজিয়াবাড়ী গ্রামের শিশুসহ দুুশতাধিক নারী পুরুষ। খবর পেয়ে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম গজিয়াবাড়ি গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।এছাড়া স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করে আক্রান্তদেন দ্রুত চিকিৎসকদের জন্য ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিকের বাড়িতে আসতে বলা হচ্ছে।
আলেয়া নামের এক নারী জানান, ওয়াজ মাহফিলের খিচুড়ি খেয়ে তিনদিন ধরে গ্রামের শিশু, নারী-পুরুষ ডাইরিয়া আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার ভোরে অবস্থা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। অনেকেই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে।
আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, রবিবার রাতে খিচুড়ি খাওয়ার পর এখন পর্যন্ত গ্রামের শিশুসহ দুই শতাধিক নারী পুরুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাহেলা বেগম নামে গজিয়াবাড়ি গ্রামের এক বৃদ্ধার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।
ডা: মো আশরাফুল আলম জানান, আক্রান্তদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেলদুয়ার উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রাহেলা বেগম নামে এক বৃদ্ধা মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুবরণ করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের কাগমারীপাড়া শিয়ালকোল এলাকার গৃহবধু জহুরা বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মেয়ে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভূঞাপুর থানা) আমলী আদালতে তার মেয়ে মো. সেলিনা বেগম (৪১) বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।
মামলায় নিহত গৃহবধুর স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন তালুকদার, তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া বেগম ও ছেলের শ্বশুড় মো. আনছার আলী মন্ডলকে (৬৫) আসামী করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বেল্লাহ হোসেন তালুকদারের জমি-জমা লিখে দেয়ার জন্য তার ছেলের স্ত্রী মোছা. আম্বিয়া খাতুন চাপ দিতেন। এক পর্যায়ে বেল্লাল হোসেন তালুকদার জমি লিখে দিতে চাইলে তার স্ত্রী বাঁধা দেয়।
পরে তার ছেলের স্ত্রী ও শ্বশুড় হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে জহুরা বেগমকে মারধর করে আসামীরা। এক পর্যায়ে জহুরা বেগমের মৃত্যু হয়।
মেয়ে খবর
মার মৃত্যুর খবর পেয়ে মামলার বাদী তার মেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে ৯৯৯ ফোন করে। পুলিশ গিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে আসামীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার(১৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামেরই ফজলুর রহমান খানের ছেলে।
তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জাহাঙ্গীর কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফেরার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তিনি নিজের ঘরেই ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন জানান, ‘মরদেহটির সুরতহাল তদন্তে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। তারপরও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইলে জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত সোহরাব মিয়ার লাশ নিয়ে সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। তারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নাগরপুরের বেকড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বেকড়া গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব মিয়া (৫০) প্রতিপক্ষের হামলায় গত ৯ নভেম্বর আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১২ নভেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকায় ময়না তদন্ত শেষে রোববার (১৩ নভেম্বর) রাতে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। দাফনের আগে এলাকাবাসী এই হত্যার বিচারের দাবিতে বেকড়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, বেকড়া গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নিহত সোহরাবদের পরিবারের সঙ্গে রহিম ও রৌফ মিয়ার পরিবারের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত বুধবার (৯ নভেম্বর) সোহরাবদের বাড়িতে প্রতিপক্ষ হামলা করে। এতে সোহরাব ছাড়াও তার অপর তিন ভাই চান মিয়া (৫২), জহিরুল ইসলাম (৪৫), ফরিদ মিয়া (৩০), এবং দুই ভাইয়ের স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৫০) ও নাজমা বেগম (৪০) আহত হন। তাদের মধ্যে সোহরাবসহ চার ভাইকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোহরাবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই হামলার পর সোহরাবের ভাই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে নয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এখন ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে ওই মামলায় হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ ‘সব দোষ আমার। আমার জন্যই সে বিদেশে গিয়েছিল। বিদেশে না গেলে আজ হয়তো এভাবে তার মৃত্যু হতো না। আমি অসুস্থ মানুষ, আমাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমার স্ত্রীর লাশটা দেখতে চাই। তার লাশটা নিজ হাতে কবর দিতে চাই। টাকা চাই না, আমার স্ত্রীর লাশটা চাই।’
কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একটি বাড়িতে আগুন লেগে মারা যাওয়া আছিয়া বেগমের (৫০) স্বামী ইসমাইল হোসেন। তিনি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভার কুমারগাতা এলাকার বাসিন্দা জরিপ আলীর মেয়ে আছিয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর ইসমাইল হোসেনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর ইসমাইল অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বামী অসুস্থ ও চার ছেলেমেয়ে ছোট থাকায় পরিবারের হাল ধরতে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন আছিয়া বেগম।
২০১০ সালে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। তার স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো। কিন্তু এর আগেই মালদ্বীপে আগুনে তিনি পুড়ে মারা যান। গত ১০ নভেম্বর সকাল ১০টায় হঠাৎ বড় মেয়ে নুর নাহারের মোবাইল ফোনে কল আসে মালদ্বীপ থেকে। সে সময় তার মায়ের মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। এই খবরে মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আছিয়া বেগমের মেয়ে নুর নাহার বলেন, ‘আমার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমরা চার ভাই-বোনও ছোট ছিলাম। পরিবারে অভাব-অনটন থাকায় সংসারের হাল ধরতে মা মালদ্বীপে পাড়ি জমান। মা চেয়েছিল সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে। কিন্তু তার ইচ্ছাটা আর পূরণ হলো না। এখন আমার মায়ের লাশটা ফেরত চাই। আমার মায়ের লাশটা দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
বড় ছেলে আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন মা বিদেশে যায়। আমি রিকশা চালাই, ছোট ভাই ইটভাটা শ্রমিক। আমাদের রোজগারের টাকা মাকে খাওয়াতে পারলাম না। শেষবারের মতো মায়ের লাশটা দেখতে চাই। মায়ের লাশটা ফেরত দেন।’
আছিয়া বেগমের ছোট ভাই তাজমল হোসেন বলেন, ‘স্বামী অসুস্থ থাকায় সংসারের হাল ধরতে আমার বোন বিদেশে পাড়ি জমায়। তার ইচ্ছা ছিল স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারে অভাব-অনটন দূর করার। বাড়িতে ভালো ঘর করার। কিন্তু তার ইচ্ছাটা আর পূরণ হলো না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মালদ্বীপে মারা যাওয়া আছিয়ার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তার পরিবার খুবই দরিদ্র। তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তার জন্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে একটি বাড়িতে আগুন লেগে বাংলাদেশিসহ ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মালের মাফান্নু এলাকার ওই বাড়িতে থাকতেন তারা। যেখানে আগুন লেগেছিল, এটি ঘনবসতি এলাকা হিসেবে পরিচিত।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাকের চাপায় রহিম বাদশা (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর)সকালে উপজেলার সাগরদীঘি-গারোবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুরাইদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রহিম বাদশা মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের টিক্কার বাজার এলাকার ময়েজ আলীর ছেলে। তিনি ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সানবান্ধা এলাকার ইকো ফ্রেন্ডস গ্রিন ব্রিকস কম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে সাগরদীঘি-গারোবাজার সড়কের মুরাইদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহি ট্রাক তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাগরদীঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আতোয়ার রহমান জানান, ট্রাকটিকে আটক করা যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একমাত্র মেয়ের মৃত্যুশোকে হেক্সিসল পান করে বাসন্তী বণিক (৫১) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগর ভাতগ্রাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বাসন্তী বণিক নগর ভাতগ্রাম গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ বণিকের স্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
শুক্রবার দুপুরে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাসন্তী ও প্রাণকৃষ্ণ দম্পত্তির একমাত্র সন্তান পূজা বণিক (১৮) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর)সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পূজার মত্যু হয়।
শুক্রবার ভোরে একমাত্র সন্তানের মরদেহ বাড়িতে আনা হলে বাসন্তী শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন। মেয়ের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে সবার অজান্তে বাথরুমে ঢুকে হেক্সিসল পান করেন তিনি। পরে অসুস্থ অবস্থায় মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। পরিবার আবেদন করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রেমিক বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর)সকালে তার নানা বাড়ী উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়া বোয়ালী গ্রামের প্রবাসী রিপন মিয়ার মেয়ে।
জানা যায়, রিয়া আক্তার উপজেলার তক্তারচালা গ্রামে তার নানা ফয়েজ আলীর বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতো।
সম্প্রতি ক্লাসেরই এক ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রিয়ার পরিবার বিষয়টি জানার পর অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করে। রিয়া তার প্রেমিককে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে ছেলেটি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিমানে শুক্রবার সকালে তার ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলে মাদক পাচারের দায়ে চার ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে দণ্ডিতদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (০৯ নভেম্বর)দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সুরুজ সরকার এ আদেশ দেন।
দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন- ঢাকা মহানগরীর ছোট দিয়াবাড়ী এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে পিয়াস, সাভারের বেগুনবাড়ী এলাকার আমজাত আলীর ছেলে খোরশেদ আলম, পাবনা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মোশারফ শেখের ছেলে ইকবাল শেখ ও মনোহোরপুর গাছপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম শেখের ছেলে হারুন অর রশিদ শেখ।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলী মনিরুল ইসলাম খান জানান, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি দল টাঙ্গাইল শহরের বাইপাসের রাবনা মোড়ে দুটি ট্রাকে তল্লাশি চালায়। এ সময় একটি ট্রাক থেকে ৯৮৬ বোতল এবং অপর একটি ট্রাক থেকে ৯৫৭ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
পরে দুই ট্রাকে থাকা চার জনকে আটক করা হয়।
এরপর জিজ্ঞাসাবাদে দণ্ডিত মাহমুদুল হাসান র্যাবকে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সীমান্ত থেকে তারা এসব ফেনসিডিল সংগ্রহ করেন। পরে দুই ভাগে ভাগ করে দুইটি ট্রাকে লুকিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় র্যাবের অতিরিক্ত সহকারি পরিচালক শাহিনুল আলম মিয়া বাদি হয়ে ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত চার জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে দু’টি ধারায় আলাদাভাবে আলমগীর হোসেন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (০৯ নভেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।
সেই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ এবং এপিপি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান, ২০০৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটি স্কুলে যায়।সেখান থেকে শিশুটিকে অপহরণ করে আলমগীর তার মামার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে আলমগীর হোসেনের নামে গোপালপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর গোপালপুর থানার সেই সময়ের উপপরিদর্শক (এসআই) তাজাম্মেল হক একমাত্র আসামি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৭ ধারা এবং ৯(১) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বুধবার এ দু’টি ধারায় আলাদাভাবে আসামিকে সাজা দেন আদালত। তবে উভয় অপরাধের সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন। আসামি হাজতবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপন করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর আব্দুস ছোবাহান (৪২) নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের সদর উপজেলায় রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের সুপারিন্টেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) অমল চন্দ্র সরকার।
ঘারিন্দা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নাজমুল হুদা বকুল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে আব্দুস ছোবাহান সদর উপজেলার ঘারিন্দা রেলস্টেশনের বসে ছিলেন।সেখান থেকে উঠে চলে যাওয়ার সময় ঢাকাগামী সিল্ক সিটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।