একতার কণ্ঠঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পদত্যাগের বিষয় উল্লেখ করে স্ট্যাটাসটি দেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন- ‘আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান সাজু সভাপতি, সখিপুর উপজেলা বিএনপি। সাবেক সহ-সভাপতি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি। সাবেক চেয়ারম্যান ১নং কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদ। আমি আমার পারিবারিক এবং শারিরীক অসুস্থতার কারণে আজ থেকে সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করিলাম।

তিনি আরও লেখেন, আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেকে সকল পদ-পদবী থেকে সরিয়ে নিবো। বিএনপি পরিবারের সকলের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইলো। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন’।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু জানান, মামলা-হামলার ভয় আমি কোনদিনই করি নাই। এখনও করি না। শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সকল পদ-পদবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব।
পদত্যাগের বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান সাজুর পদত্যাগের ব্যাপারে এখনি কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।
একতার কণ্ঠঃ গঠনতন্ত্রে তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা থাকলেও টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগ এক বছরেও তা করতে পারেনি। গতবছর ৪ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর ভর করে এক বছর ধরে চলছে দলের স্থবির কার্যক্রম। ইতোমধ্যে এই কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকের আবার ছাত্রত্বও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর গত ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যানে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয়। পরে সার্কিট হাউজে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে সোহানুর রহমান সোহান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানকে দিয়ে কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটি গঠনের পরপরই ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ওই সময়ই পদ প্রত্যাশী ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, টাঙ্গাইল শহর বা সদর বাদ দিয়ে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনের এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির সমর্থনপুষ্ট ও গোপালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহানুর রহমান সোহানকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং বাসাইল-সখীপুর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের আর্শীবাদপুষ্ট সখীপুর উপজেলায় বাড়ি ইলিয়াস হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
ওই সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক কোনো কর্মসূচিই পালন করতে পারবে না। তাদের সেই কথা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সভাপতি সোহান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটগুলোর কার্যক্রম বা সম্মেলনও করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন সংগ্রাম প্রতিহত করার মতো সেই সাংগঠনিক শক্তিও তাদের মধ্যে নেই। দুইজনের এই কমিটি নিয়েই তারা এক বছর পার করে দিয়েছেন। সেই জেলা ছাত্রলীগের কমিটির এক বছর পূর্ণ হতে হয়েছে রোববার (৪ ডিসেম্বর)।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় একযুগ পর সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দিন সম্মেলন না হওয়ায় আগের কমিটির বেশির ভাগ নেতার ছাত্রত্ব অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। দীর্ঘ একযুগ পর ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে সোহানুর রহমান সোহানকে সভাপতি ও ইলিয়াস হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি তারা।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা জানায়, তারা দায়িত্ব পাওয়ার পর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোড, কালিবাড়ী রোডসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানও তারা সফলভাবে করতে পারেনি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগ, পৌর ছাত্রলীগ ও মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন এবং বিতর্কিত নেতাদের নিয়ে ওই তিন ইউনিটের কমিটি গঠন করে। এমন অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ওই তিন ইউনিট কমিটি স্থগিত করে দেয়। এতে করে জেলা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এদিকে জেলা ছাত্রলীগের শহরে অবস্থিত নিজস্ব অফিসে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কখনও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের শুধু তাদের নিজস্ব নেতা ও এমপির বাসায় বিভিন্ন তদবির, ঠিকাদারি কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের কোনো কর্মকাণ্ডে সাধারণ নেতাকর্মীদের উপস্থিত দেখা যায় না বলেও দলীয় সূত্র জানায়।
জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, খন্দকার মমতা হেনা লাভলী এমপি, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
জেলা ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বলেন, জেলা ছাত্রলীগের দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদ প্রত্যাশীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। সম্মেলন হওয়ার পর তাঁরা আশা করেছিলেন হয়তো পদ-পদবি পাবেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় তাদের সে আশা পূর্ণ হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, তারা অনেকে ৮-১০ বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করছেন। কিন্তু আজও কোনো পদ পাননি। তাদের অনেকেরই ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পথে। এতে অনেকেই হতাশ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের নিজ নিজ পছন্দের লোকদের কমিটিতে নিতে চান। সব নেতার সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হচ্ছে। তাই কমিটি করতে সময় লাগছে।
এসব বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান জানান কেন্দ্র থেকে আমাদের এক বছরের জন্য জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যার কারণে সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ত্যাগী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতাকর্মীদের যাচাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি ১৭১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ রোডের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিএনপির ওই নেতাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর উপজেলার শিয়ালকোল বাজার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৬ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
উপজেলার বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান শাহীন জানান, পুলিশের দায়ের করা নাশকতা মামলার আসামিদের রবিবার (৪ ডিসেম্বর) হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, জামিনের সেই কাগজ থানায় জমা দেওয়ার জন্য সাধারণ সম্পাদক সেলু ভাই আমার দোকানে বসেছিল। থানায় যাওয়ার আগেই পুলিশ এসে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে, থানায় নিয়ে গ্রেপ্তারের পরই সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু তার ব্যবহৃত ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আগাম জামিনের কাগজ দিতে এসে গ্রেফতার হলাম। দোয়া করবেন সকলে।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে বানচাল করতে পুলিশ গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সে মামলায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু আটক হয়েছেন। এর আগে আরও ৩ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থানায় কোনো জামিনের কাগজ জমা দিতে আসেননি। তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে নাশকতার মামলা ছিল থানায়। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলায় যাদের নাম রয়েছে তারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর সদস্যরা।
দুই বছর পলাতক থাকার পর সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে তাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করে র্যাব।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবা ও ছেলে হলেন মো. মজনু (৬১) ও ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩১)। তাদের বাড়ি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে।
বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুপুরে র্যাব ১৪ এর ৩নং কোম্পানির অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রেপ্তারকৃত জহুরুল ইসলাম তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে (২৭) যমুনা নদীতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে তার লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। গৃহবধূকে হত্যা ও লাশ গুমে তাকে তার বাবা মজনু সহায়তা করে।
ঘটনার পর তাছলিমার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মজনু ও জহুরুলকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তারা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা যৌতুক না দেওয়ায় তাছলিমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছিলেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মামলা চলাকালে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে তারা পলাতক হন।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন সাজা এড়াতে তারা উভয়ই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার গোয়ালদি খান বাজার এলাকায় গরুর খামারে চাকরি নেন। সেখানে তারা পরিচয় গোপন করে থাকতেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র্যাব সোমবার ভোরে তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দুজনের নামে ভূঞাপুর থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বিকেলে তাদের ভূঞাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলন্ত ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লেগে মুকুল হোসেন (৪৫) নামে বাসের একজন হেলপার নিহত হয়েছেন।
রবিবার ( ৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার সাটিয়াচড়া নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুকুল হোসেন নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সিংড়া গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে।
গোড়াই হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহসড়কের ওই স্থানে ঢাকাগামী মালবাহী চলন্ত একটি ট্রাকের পেছনে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার নিহত এবং তিন যাত্রী আহত হয়। খবর পেয়ে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহত তিন বাসযাত্রীকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বাস ও ট্রাক দুটি জব্দ করেছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ট্রাফিক পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বাস ও ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ নিলুফার ইয়াসমিন খানকে সভাপতি ও এডভোকেট রকসি মেহেদীকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল টাঙ্গাইল জেলা শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান এই কমিটির অনুমতি দেন।
এছাড়াও আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয়।
ঘোষিত এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদা হাবীব রুবী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদা আক্তার স্বপ্না ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা বিলকিস লতা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ১০ বছর বয়সের ৪র্থ শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনা গ্রাম্য শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে জুতা পেটায় মিমাংসা দেয়া হয়েছে। শনিবার ( ৩ ডিসেম্বর ) বিকালে শালিসটি অনুষ্ঠিত হয়।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ্ বলাৎকারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
বলাৎকারের ঘটনাটি ঘটেছে দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বেতরাইল গ্রামের নূরে মদিনা নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক শালিসের মাধ্যমে এ মিমাংসা দেয়া হয়। উপজেলার দেওলী ইউনিয়নের বেতরাইল গ্রামে গ্রামবাসীর পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত বেতরাইল নূরে মদিনা নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ’র বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ তুলে ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসী একাধিক শালিসি বৈঠক করেন। সর্বশেষ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বৈঠক বসে। ওই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন দেওলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়া।
বেতরাইল গ্রামের মাতব্বর মো. আলাল মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠান প্রধান হাফেজ মো. রাকিব ও গ্রাম্য মাতব্বরগণ উপস্থিত ছিলেন।
শালিসি বৈঠকে শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাকে দোষি সাব্যস্ত করে ২৫ঘা জুতাপেটা শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত শিক্ষকের অভিভাবকের মাধ্যমে উক্তরূপ শাস্তি দিয়ে শালিসের সমাপ্ত ঘোষনা করেন সভাপতি।
অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ্ জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো। সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনায় অমনযোগী থাকায় চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শারিরীক শাস্তি দেয়া হয়। পরে আমি জানতে পারি আমার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বলাৎকারের বিষয়টি সামাজিক ভাবে মিমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের অভিভাবকদের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দিয়ে তাদের নিকট সোপর্দ করা হয়ছে।
মাদ্রাসা প্রধান হাফেজ মো. রাকিব জানান, যেহেতু একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। ঘটনার সত্য মিথ্যা যাই হোক অভিযুক্তকে শাস্তি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেড় করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে দেওলী ইউপি চেয়াম্যান দেওয়ান তাহমিনা হক জানান, ঘটনাটি আমাকে জানানো হয়নি, পরে লোকমুখে জানতে পেরেছি। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযানের মুখে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরে থাকতে পারছেন না টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ কর্মসুচীকে কেন্দ্র করে মির্জাপুরে ফের বিএনপির ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানান, শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রাতে মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর, আনাইতারা, তরফপুর, মহেড়া ও জামুর্কী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে বিএনপির ৬জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, মহেড়া ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রুবেল মিয়া, ফতেপুর ইউনিয়নের হাট ফতেপুর গ্রামের জাফর মিয়ার ছেলে শওকত আলী ও মতিউর রহমানের ছেলে রাসেল মিয়া, আনাইতারা ইউনিয়নের ইমান আলীর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী, তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের নাতু মিয়ার ছেলে আলী হোসেন ও জামুর্কী ইউনিয়নের হিম্মত আলীর ছেলে খোরশেদ আলম। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক শুনানি শেষে দুইজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন এবং চারজনের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এছাড়া গত ২২ নভেম্বর রাতে মির্জাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহেড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী হোসেন খোকন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ পারভেজ, গোড়াই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আলমাছ হোসেন, যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান স্বপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য ইমারত হোসেন ও জামুর্কী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম তাপস গ্রেপ্তার করেন। তাছাড়া এই দুই মামলায় অজ্ঞাতনামা নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বাদী হয়ে তাদের নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো ‘গায়েবি’ এবং নেতাকর্মীদের ঢাকার সমাবেশে যেতে বাধা সৃষ্টি করতেই সরকারের নির্দেশে এসব ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশের রাতভর এ অভিযানে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না বলে জানান।
তবে বিএনপি নেতার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বোরো হাইব্রিড বীজ, উফসী বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সদর উপজেলা প্রাঙনে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ৭ হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও দুটি ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কম্বাইন হার্ভেস্টার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে উপজেরার বয়ড়া গ্রামের মো. হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুলালে মামলা করেন। আর এর পর থেকেই আসামি পক্ষের লোকজন তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে শুরু করেছে।
এদিকে মামলার পরপরই বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে অভিযুক্ত হাসেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে হাসেম মিয়া বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি গৃহবধূ তার স্বামীকে জানান। আর এ ঘটনায় হাসেম আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার পরপরই হাসেম ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় চিৎকারে করলে হাসেম গৃহবধূর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশিরা আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত ২২ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ বাদী হয়ে হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী বলেন, মামলা করে চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা গরিব ও অসহায় হওয়ায় আসামির স্বজনরা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। সাক্ষীদেরকেও নানা ভয় দেখানো হচ্ছে। মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে আমাদের এবং সাক্ষীদের নামে আদালতে মিথ্যা অভিযোগও দায়ের করেছেন অভিযুক্তের স্বজনরা।
তারা আরও জানান, আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য চেষ্টা করি। ব্যর্থ হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রউফ মিয়া বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও আসামি পক্ষ পরবর্তীতে আমাদের কাছে আর আসেনি।
থানায় মামলা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার থানায় মামলা করতে কেউ আসেননি। পরে আদালত থেকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। এরপর আমরা আসামি হাসেমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে দেই।’
একতার কণ্ঠঃ ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযানের মুখে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরে থাকতে পারছেন না টাঙ্গাইলের বিএনপি নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, গত ২ সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশের দায়েরকৃত ১০টি মামলায় প্রায় ২ শতাধিক বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে ৬৮ নেতাকর্মীকে।
বিএনপি নেতাদের দাবি, দায়েরকৃত মামলাগুলো ‘গায়েবি’ এবং নেতাকর্মীদের ঢাকার সমাবেশে যেতে বাধা সৃষ্টি করতেই সরকারের নির্দেশে এসব ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
তবে বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা পুলিশ। তাদের দাবি, নাশকতা সৃষ্টির প্রস্তুতিসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এসব মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার ( ৩০ নভেম্বর) রাতে সখীপুর উপজেলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৮৮ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী। সেদিন রাতেই উপজেলা বিএনপি, কৃষক দল এবং যুবদলের ৪ সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করীম জানান, বুধবার রাতে সখীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫টি অবিস্ফোরিত ককটেল এবং এক বস্তা পাথর জব্দ করে। ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সখীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সাজু অবশ্য দাবি করেছেন, সেখানে আসলে কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাই ঘটেনি। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় নেতাকর্মীরা স্থানীয় একটি ক্লাবে বসে টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেত জানান, এটি একটি গায়েবি মামলা। মামলার এজাহারে রাত ১০টা ২ মিনিটে ককটেল বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এর এক ঘণ্টা আগে রাত ৯টায় ওই ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরো জানান, এ ছাড়া, নাশকতা ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় ঘাটাইল উপজেলার ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সে মামলায় এ পর্যন্ত ১০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘাটাইলের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ জানান, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় জনসভাকে সফল করতে ২২ নভেম্বর দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা বিটিপাড়া এলাকায় কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ গুলি ছুঁড়েছে। নেতাকর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। অন্য বাড়ি থেকে বালতি এনে পুলিশ ককটেল রেখে গতানুগতিকভাবে নাটক সাজিয়েছে।
ঘাটাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে নাশকতার উদ্দেশ্যে জমায়েত হয়েছিলেন। সেখান থেকে কয়েকটি ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিএনপি নেতার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আরও জানান, ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে ঘটেছে।
অন্যান্য উপজেলায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগগুলোও প্রায় একইরকম বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় হোড় শুভ জানান, ইতোমধ্যে ওয়ারেন্ট ছাড়াই ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে আটক করে পরে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। নেতাদের খুঁজতে রাতে বাসায় বাসায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জেলা যুবদলের সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলম জানান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরে থাকতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। তবে এসব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে মহাসমাবেশে যোগ দিতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযানের পরও ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পরিবহন সংকটসহ নানা সমস্যা মাথায় রেখে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকেই ঢাকায় যাত্রা শুরু করবেন নেতাকর্মীরা।
তিনি আরো জানান, টাঙ্গাইল জেলা থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে যোগ দেবেন বলে আশা করছি ।
এদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযান সম্পর্কে জানতে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সারের ফোন নম্বরে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরিফুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্তাধীন অবস্থায় মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।
সংবাদ সূত্র – দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৪৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ (দক্ষিণ)।
এ সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আলী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার উত্তর চৌধুরীবাড়ি গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল ডিবি (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোহাম্মদ আলী নামে এক মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরো জানান, এসময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।