/ হোম / আমাদের
টাঙ্গাইলে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার  - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার 

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুম্মান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য ও কুকাদাইর গ্রামের হাছেন আলী তালুকদারের ছোট ছেলে।

জানা গেছে, গত ২০ মে রাত ১ টায় গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকার একটি গরুর খামারে ওই শিশুকে ডেকে নেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন। পরে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক হাত-মুখ চেপে ধরে বলাৎকার করে। এসময় শিশুটির ডাক-চিৎকার শুনে খামারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক বাক প্রতিবন্ধী এগিয়ে এসে ডাকাডাকি করলে খামারে থাকা অন্য শ্রমিকরা শিশুটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে আসার আগেই আনোয়ার পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বলেন, আমি ঘটনাটি জানতাম না। কয়েক দিন পর জানতে পারলাম আমার ছেলের সাথে আনোয়ার মেম্বার অনৈতিক কাজ করেছে। মঙ্গলবার সকালে ভূঞাপুর থানায় এসে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। এই নেক্কারজনক ঘটনায় নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বলাৎকারের শিকার হওয়া শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে গোবিন্দাসী এলাকা থেকে সাবেক ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বিকালে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. জুন ২০২৩ ০১:৪৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শখের মোটরসাইকেলে ছেলেকে হারানোর পর পাগলপ্রায় মা-বাবা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শখের মোটরসাইকেলে ছেলেকে হারানোর পর পাগলপ্রায় মা-বাবা

একতার কণ্ঠঃ মা–বাবা মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু কিশোর সাব্বির আলম (১৭) নাছোড়বান্দা। ছেলের জেদে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেল সাব্বির আলম ও তাঁর বন্ধু হামিদের (১৭)। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সাব্বিরের মা–বাবা। হামিদের বাড়িতেও চলছে মাতম।

সাব্বিরদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. সুরুজ্জামান পেশায় রংমিস্ত্রি। মা গৃহিণী। সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ছেলেরে শখ পূরণ করতে মোটরসাইকেল কিইনা দিলাম, সেই মোটরসাইকেলেই তাঁর জীবন গেল।’

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত রোববার(৪ জুন) সকালে সাব্বির তাঁর বন্ধু হামিদ ও সাদিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হয়। তারা মধুপুরের রাবারবাগান এলাকায় ঘুরে বাড়ির দিকে ফিরছিল। পথে মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। তবে সে শঙ্কামুক্ত।

মধুপুর থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সন্ধ্যায় সাব্বিরের লাশ টেপিকুশারিয়ায় তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। হামিদের লাশ নেওয়া হয় মানিকপুরের গ্রামের বাড়িতে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রোকিবুল ইসলাম জানান, এ সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। গ্রামের মানুষ তাদের লাশ দেখতে ভিড় করে। সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা–বাবার বড় সন্তান। তার সাত বছর বয়সী আরেক ভাই রয়েছে। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘাটাইল ও মধুপুর এলাকায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ১৯ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১০ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁরা ঘাটাইলে একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।

২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।

এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিনজন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল–কলেজপড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুন ২০২৩ ০৬:২৭:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নারীসহ ৪ মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নারীসহ ৪ মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক নারীসহ মানবপাচারকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঘাটাইল থানার পুলিশ।

রবিবার(৪ জুন) দিনগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের ঝড়কা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করার অপরাধে সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্রের ওই চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পৌরসভার চান্দশী গ্রামের আতাব আলীর ছেলে সোহেল মিয়া (৩২) ও আবু সাইদের ছেলে গোলাপ মিয়া (৩০), বীরঘাটাইল গ্রামের শাহজাহান সরকারের ছেলে সজিব মিয়া (৩৫) ও দেউপাড়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের জিটু মিয়ার স্ত্রী শিল্পী আক্তার (৩৬)।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, উপজেলার ঝড়কা বাজারের দক্ষিণ পাশে শিল্পী আক্তারের ভাড়া বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় দুটি মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন লোকজন চলে যাচ্ছেন। তাদেরকে থামতে বললে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।পরে অঞ্জনা নামে এক নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে অঞ্জনা জানান, শিল্পী আক্তার তার পরিচিত। তিন বছর আগে একই কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। প্রতিনিয়ত তাদের মোবাইলে যোগাযোগ ছিল।

নতুন চাকরি দেওয়ার কথা বলে ফোন করে রবিবার শিল্পী তাকে ঘাটাইলে ঝড়কা এলাকায় তার বাসায় আসতে বলেন। ওইদিন বিকেলে তিনি ঢাকা থেকে ঝড়কা আসেন। রবিবার দিবাগত রাতে অঞ্জনাকে পতিতাবৃত্তিসহ অসামাজিক কাজে লিপ্ত কারার জন্য সোহেল মিয়া, গোলাপ মিয়া ও সজিব মিয়ার হাতে তুলে দেন শিল্পী। অঞ্জনাকে অসামাজিক কাজ করতে তারা চাপ প্রয়োগ করেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয় আসামিরা একটি মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য।
টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থকে ভাগ্য বিড়ম্বনা অসহায় মেয়েদের কৌশলে ফুসলিয়ে এনে তাদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানো হতো। উল্লেখিত আসামিরা মেয়েদের বিভিন্ন প্রলোভনে নিয়ে এসে পতিতাবৃত্তি করাতে বাধ্য করেন।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, ‘এ ঘটানায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুন ২০২৩ ০২:৪৭:এএম ৩ বছর আগে
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত - Ekotar Kantho

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত

একতার কণ্ঠঃ: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে সোমবার(৫ জুন) বিকালে একাডেমিক ভবন-১ থেকে ‘প্লাস্টিক দূষণের সমাধানে সামিল হই সকলে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে একটি র‌্যালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার সাহা, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ, প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল হকসহ অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহন করে।

র‌্যালী শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাছ বিভিন্ন ধরনের লাগানো হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৬. জুন ২০২৩ ০১:৩০:এএম ৩ বছর আগে
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির কারণে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চ - Ekotar Kantho

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির কারণে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চ

একতার কণ্ঠঃ আওয়ামী লীগের ‘শান্তি’ সমাবেশের কারণে টাঙ্গাইলে নির্ধারিত সমাবেশ করতে পারেনি গণতন্ত্র মঞ্চের রোডমার্চের বহর। রোববার(৪ জুন) বিকেল চারটায় ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার করাতিপাড়ায় গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশ করার কথা ছিল।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ একই সময়ে করাতিপাড়ায় ‘শান্তি’ সমাবেশ করায় রোডমার্চের বহর সেখানে না থেমে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ওই এলাকা অতিক্রম করে। পরে তারা শহরের অদূরে সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় সেখানেও ছাত্রলীগ কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়।

মাওলানা ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘আমরা রোডমার্চ করছি গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য। সরকারের পদত্যাগ, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর—এসব ব্যাপারে মানুষ যে ঐক্যবদ্ধ, সেটা সরকার বুঝতে পারছে। তাই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভয় পাচ্ছে। নানাভাবে কর্মসূচিতে বাধার সৃষ্টি করছে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা একটি রোডমার্চে আছি। আমরা সফরকারী। সফরে থাকতে আমরা একটা কর্মসূচির জায়গা ঠিক করেছি। পুলিশের দায়িত্ব আমাদের সেই জায়গায় নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেখানে “শান্তি” সমাবেশ ঘোষণা করে। সেখানে পুলিশ তাদের সহযোগী ছিল। আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। অন্যত্র তারা স্থান ঠিক করে দিক। পুলিশ সে বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করেনি।’

জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি ছিল ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের। সেটা করেছি। সেখানেও দেখেছি, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হয়েছে। নানা দিক থেকে একটা হুমকির পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে। যেহেতু মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত, দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়। তাই ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার বিষয়ে আমরা সচেতন ছিলাম।’

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুন ২০২৩ ০৬:০০:পিএম ৩ বছর আগে
তীব্র তাপদাহে শিশুদের খেলাধুলার আয়োজন করা ঠিক হয়নি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী - Ekotar Kantho

তীব্র তাপদাহে শিশুদের খেলাধুলার আয়োজন করা ঠিক হয়নি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

একতার কণ্ঠঃ শিশুরা খুবই স্পর্শকাতর। স্বাভাবিক গরম বা ঠান্ডায় শিশুদের শরীরে সহনীয় পর্যায়ে থাকে। কিন্তু প্রচন্ড গরমে তারা নানা অস্বস্তিতে পড়েছে। তাই তীব্র তাপদাহের মধ্যে শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে খেলাধুলার আয়োজন করা মোটেও ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল।

রোববার (৪ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল ও সখীপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের প্রকল্প হচ্ছে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প’। এরই ধাবাহিকতায় সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে ১২৬টি ও বর্তমানে ১৮৬টি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মানের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি উপজেলাতেই একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মান করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো: জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কাউছার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত (৩০ মে) টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সহদেবপুর ইউনিয়নের দ্বীমুখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে ছুনটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া আক্তার মৃত্যুবরণ করে। এছাড়া একই দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আরও এক শিশু শিক্ষার্থী মাঠে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুন ২০২৩ ০৩:২৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাসাইলে পুকুরে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে রেনু বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৪ জুন) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রেনু বেগম ওই গ্রামের খসরু মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, সকালে রেনু বেগম বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে তিনি পানিতে ডুবে যায়। এসময় এক কিশোর বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের খবর দেয়। পরে তার পরিবার ও স্থানীয়রা মাছ ধরার ঝাঁকি জাল দিয়ে পানিতে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বামী খসরু মিয়া বলেন, আমার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ্য। এজন্য আমি তাকে গোসলও করিয়ে দিতাম। সকালে আমার অজান্তে সে পুকুরে নেমে নিখোঁজ হয়। পরে পুকুরের পানিতে খোঁজাখুঁজির পর তার লাশ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য ফরিদা আক্তার বলেন, রেনু বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ্য ছিলেন। সকালে তিনি বাড়ির সামনে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে ডুবে নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়রা মাছ ধরার ঝাঁকি জালসহ বিভিন্নভাবে পুকুরে নেমে তাকে খুঁজতে থাকে। প্রায় এক ঘন্টা পর তার লাশ পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। নিহত রেনু মানসিকভাবে অসুস্থ্য ছিল এজন্য মুছলেকা দিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি রেখে দিয়েছি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুন ২০২৩ ০৩:২৯:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ঘুরতে মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু, প্রাণ গেল দুজনের - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ঘুরতে মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু, প্রাণ গেল দুজনের

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় ঘুরতে বের হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরেক বন্ধু।

রবিবার (০৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের গারোবাজার-কাকরাইদ আঞ্চলিক সড়কের হাজীবাড়ী মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই বন্ধু হলেন: ঘাটাইল উপজেলার টেপি কুশারিয়া গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে সাব্বির আলম (১৮) এবং রমজান আলীর ছেলে মো. হাবিব (১৭)। এ সময় সাদিক নামে তাদের আরেক বন্ধু আহত হয়েছেন। তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাব্বির ও হাবিব নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় সাদিক নামে আরেকজন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

তিনি বলেন, সাদিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মারা যাওয়া দুই বন্ধুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. জুন ২০২৩ ০২:২৮:এএম ৩ বছর আগে
জনবল সঙ্কটে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল - Ekotar Kantho

জনবল সঙ্কটে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সহ জনবলের অভাবে পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্য সেবা চালু হচ্ছেনা। চাহিদা অনুযায়ী জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও ফলপ্রসূ হয়নি।

ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশালকায় ভবন এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৫তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ভবন নির্মাণ শেষ হয়। ২০২২ সালের ২২ মার্চ হাসপাতাল ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয় গণপুর্ত বিভাগ।

সূত্রমতে, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেডিসিন বিভাগ চালু করা হয়। এছাড়া শিশু, ডায়রিয়া, কার্ডিওলজি, অবস(গাইনী), চক্ষু, নাক, কান, গলা, পোস্ট অপারেটিভ, আইসিইউ, সিসিইউ, সার্জারী, অনক্লোনজি ও অর্থপেডিক ওয়ার্ড চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ জুন থেকে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে মেডিসিন, শিশু, গাইনী, সার্জারী, চক্ষু, ডেন্টাল, বক্ষব্যাধি, নিউরোলজি, ইউরোলজি, মানসিক, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ফিজিক্যাল মেডিসিন, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজি, নেফরোলজি, অর্থপেডিক, অনক্লোনজি(ক্যান্সার) সেবা চালু রয়েছে। গত বছরের শুরু থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, সিটিস্ক্যান, এক্সরে সহ বিভিন্ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১০টি আইসিইউ বেড, সিসিইউ ও ১৫টি অপারেশন থিয়েটার চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সঙ্কটে হাসপাতালে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ৬৫ জন ডাক্তার প্রয়োজন। সেখানে রয়েছে ৬১ জন। তারা নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। অনেকে ঢাকা থেকে এসে অফিস করেন।

১৬৫ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ৩৯ জন নার্স রয়েছে। তাদের মধ্যে চার জন প্রশিক্ষণে ও দুই জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং দুই জন ইনচার্জে দায়িত্ব পালন করছেন। ৩৭৭ জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে ৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা রোগীদের পাশেই রাখা হচ্ছে। দুর্গন্ধে শৌচাগারে প্রবেশ করা যায় না।

স্থানীয়রা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নামে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও পুরোপুরি চিকিৎসা দেওয়া শুরু না হওয়ায় টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রোগীদের ঢাকাসহ আশপাশের বিভাগীয় শহর থেকে কাঙ্খিত সেবা নিতে হচ্ছে। ফলে আশঙ্কাজনক রোগী ও স্বজনরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুরোপুরি মানসম্মত চিকিৎসা সেবা চালু করার দাবি জানায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় বহিঃবিভাগের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে রোগীদের ব্যাপক চাপ দেখা যায়। তাদের মধ্যে কালিহাতী উপজেলার পাইকরা গ্রামের কামরুল হাসান জানান, টাঙ্গাইলের গণমানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে টাঙ্গাইলে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র জনবল সঙ্কটের কারণে তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় সহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি হাসপাতালে দ্রুত পুর্নাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানান।

ভবনের লিফট ও আশপাশের দেওয়ালে পানের পিক ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে ভবনের বিভিন্ন গ্রিলে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। ভবনের ১০ম তলায় মেডিসিন বিভাগে নারী ও পুরুষ রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্র্ডে ৮৪টি নির্ধারিত বিছানা বরাদ্ধ থাকলেও অতিরিক্ত মিলে প্রায় আড়াইশ’ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের বিছানার পাশে ও শৌচাগারসহ বিভিন্ন কক্ষের সামনে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। উৎকট দুর্গন্ধে শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

নারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত বিছানার পাশাপাশি মেঝেতে বিছানা পেতে নারী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও ময়লা-আবর্জনার একইচিত্র বিদ্যমান। হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনের দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে। তার সামনের কক্ষের দরজার হাতল ভাঙা। এছাড়া দরজায় কাঠের জোড়ার অংশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষসহ বিভিন্ন দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে।

টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সেখানে হাসপাতাল ভবনসহ ২৭টি ভবনের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। বাকি ১০৮ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আলী খান জানান, হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা পুরোপুরি চালু করতে পর্যাপ্ত জনবলের প্রয়োজন। জনবলের জন্য মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল পেলেই পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি জানান, হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সবই আছে। কিন্তু জনবলের অভাবে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের সভাপতি কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র সভাপতিত্বে একটি সভা করার পর আর কোন সভা এখনও হয়নি। দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা কেউ দায়িত্ব পালন করেননি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৩ ০৪:৫৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলের মধুপুর যেন অনলাইন স্ক্যামিংয়ের ‘স্বর্গরাজ্য’ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের মধুপুর যেন অনলাইন স্ক্যামিংয়ের ‘স্বর্গরাজ্য’

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিং ব্যবসার ভয়াল থাবা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে জেলার মধুপুর উপজেলা এখন স্ক্যামারদের স্বর্গরাজ্য।

এসব সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে যেমন রেমিট্যান্স আসে, তেমনি লাখো যুবকের কর্মসংস্থান হয়। তাই সরকার এ বৈধ পেশাকে নানাভাবে উৎসাহিত করে চলেছে। কিন্তু স্ক্যামিং অনলাইনে একটি প্রতারণামূলক অবৈধ ব্যবসা। টিনএজার পর্নো, অ্যাডাল্ট সাইট এবং ডেটিং সাইট নিয়ে স্ক্যামাররা কাজ করে থাকে। এটি এক ধরনের অন্ধকার জগতের ব্যবসা। আর এ পেশায় যৌনতা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, মধুপুর উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার আয়ের ধান্ধায় এখন স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা এমনকি গৃহবধূরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন। এই স্ক্যামিং যেমন নব্য ধনকুবের তৈরি করছে, তেমনি মাদক, জুয়াসহ নানা সামাজিক ব্যাধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ তৌফিক-ই- হাসেম শরীফ জানান, স্ক্যামাররা সাধারণত আমেরিকান মডেল, পর্নোস্টার বা এসকর্টদের নগ্ন ছবি, ভিডিও বা নানা তথ্য ওয়েবসাইট থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে অ্যাডাল্ট ডেটিং সাইটে আইপি হাইড করে পোস্ট দেয়। এরপর টেক্সট নাউ নামের ভার্চুয়াল নাম্বার সার্ভিসের মাধ্যমে স্ক্যামাররা এসকর্ট সেজে হাজির হয়। যাদের এসকর্ট সার্ভিস দরকার সেই গ্রাহকরা নক করলে এসকর্ট সাজা স্ক্যামাররা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য গ্রাহকের সঙ্গে ডলার নিয়ে দর কষাকষি শুরু করে। নগ্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ারের পরেও অনেক গ্রাহক ভিডিও বা ভয়েস কলে রিয়েল পার্সন ভেরিফাই করতে চায়। রোবট সফটওয়্যার দিয়ে ভয়েস বা ভিডিও কল ভেরিফিকেশনেও গ্রাহকরা সন্তুষ্ট না হলে ভাড়াটে নারীদের হাজির করে স্ক্যামাররা। এসব নারীরা স্বল্প আলোতে ন্যুড হয়ে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে। এরপর গ্রাহকের কাছ থেকে কিছু ডলার অ্যাডভান্স নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্ক্যামাররা এসব ডলার রিসিভ করে বিভিন্ন ক্যাশ অ্যাপ, কার্ড বা বিট কয়েনের মাধ্যমে। এরপর বিশেষ কায়দায় ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার বিট কয়েনে কনভার্ট করে বাংলাদেশি টাকায় রুপান্তর করে।

মধুপুরের একজন স্ক্যামার জানান, অভিজ্ঞ স্ক্যামাররা গ্রাহকদের সঙ্গে চ্যাট করে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, এসএসএস উইথ সেলফি সংগ্রহের পর বিশেষ কায়দায় গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের সমুদয় ডলার হাতিয়ে নেয়।

স্ক্যামার রনি সরকার জানান, ডেটিং স্ক্যাম ছাড়াও স্ক্যামাররা আমেরিকায় সম্পত্তি কেনা-বেচা, বাড়ি ভাড়া বা রিয়েল এস্টেট সাইটে গিয়ে ক্রেগলিস্ট অর্গানাইজেশনের আইপি হাইড করে লোভনীয় তথ্যে পোস্ট দেয়। আর একই কায়দায় অ্যাডভান্স ডলার নিয়ে কেটে পড়ে তারা। আমেরিকার জনপ্রিয় ক্লাসিফায়েড সাইট ব্যাকপেইজ ডটকমের আদলে মধুপুরের স্ক্যামাররা ক্লাসিফায়েড ডেটিং সাইট তৈরি করে প্রতারণামূলকভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, টু ব্যাকপেইজ ডটকম, ব্যাকলিস্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং স্কিপ দ্য গেইমস ডটকম নামের সাইটগুলোর মালিক মধুপুরের কয়েকজন স্ক্যামার। এরা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন মধুপুর পৌরশহরের নয়াপাড়া ও মাস্টারপাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পর্নো ও ডেটিং সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একজন স্ক্যামারকে ১২ লাখ টাকা আয় করার প্রমাণ পান।

মধুপুর ছাড়াও ঘাটাইল, গোপালপুর, ধনবাড়ী, কালিহাতী ও ভূঞাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে এই স্ক্যামিং ব্যবসা। মধুপুরের একটি বেসরকারি আর্কিটেক্ট কনসালটেন্টের তথ্যে দেখা যায়, দেড় বছরে মধুপুর উপজেলায় তিন শতাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে, যার প্রায় সবগুলোই স্ক্যামিং পার্টির।

স্থানীয়ভাবে স্ক্যামারদের বলা হয় নেট ব্যবসায়ী। দুই বছর আগে যারা রিকশা চালাতেন, ইটভাটায় কাজ করতেন, তার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন নিজেদের বহুতল ভবনে বসবাস করেন। দামি গাড়িতে চড়েন। অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শোরুম ও কারখানাও গড়ে তুলেছেন।

বি জেড এম গ্রাফিক্সের কর্ণধার প্রযুক্তিবিদ আপেল মাহমুদ জানান, স্ক্যামারদের এখনি থামাতে না পারলে ফ্রিল্যান্সিং পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। আস্থার সংকটে পড়ে এ শিল্প ধ্বংস হবে। ফরেনাররা তখন কাজ দেবে না।

মধুপুরের ফ্রিল্যান্সার ও ওয়েব ডেভেলপার সবুজ মিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা ফাইভার থেকে ভালো আয় করছিলেন, তারাও কু-মতলবে স্ক্যামিংয়ে চলে যাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

মধুপুরের নকরেক আইটির কর্ণধার সুবীর নকরেক জানান, যেখানে বৈধ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর আয় করা যায়, সেখানে স্ক্যামিংয়ের মতো প্রতারণামূলক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এতে দেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর একটি নেগেটিভ রেজাল্ট আসবে শিগগিরই।

শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, অনলাইন স্ক্যামিংয়ের টাকা এখন হাওয়ায় উড়ছে। এক শ্রেণির কিশোর ও যুবকের হাতে অঢেল অর্থ আসায় মাদক, জুয়াসহ নানা অসামাজিক কাজ বেড়ে গেছে। এর ফলে সমাজে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।

মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশ কাজ করেছে।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমিন পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে জানান, অবৈধ স্ক্যামিং ব্যবসার কাঁচা টাকা ভয়াবহ মাদকের প্রসার ঘটাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গিয়ে প্রতারণা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬ জন স্ক্যামারকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিছু ভবন সিলগালা এবং স্ক্যামারদের যেন বাড়ি ভাড়া না দেওয়া হয়, সেজন্য অনেক ভবন মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৩ ০৩:২৫:এএম ৩ বছর আগে
আলোকিত কালিহাতীর বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

আলোকিত কালিহাতীর বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ “গাছ লাগিয়ে যত্ন করি সুস্থ প্রজন্মের দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আয়োজন করে আলোকিত কালিহাতি ও স্নোটেক্স গ্রুপ।

কালিহাতি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের ফল, ঔষধি ও কাঠ জাতীয় গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করা হয়।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে এই পৃথিবীকে রক্ষার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছের চারা উপহার দিয়ে আসছে দেশের অন্যতম পোশাক রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান স্নোটেক্স গ্রুপ।

এবছর সারাদেশে ১ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্নোটেক্স গ্রুপ। সেই লক্ষমাত্রার অংশ হিসেবে টাংগাইলের কালিহাতিতে “আলোকিত কালিহাতি” নামক সেচ্ছাসেবামমুলক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালিত হয়।

এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিতে টাংগাইলের সর্বাধিক পঠিত দৈনিক যুগধারা ও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাতের অন্যতম অনলাইন মিডিয়া দি আরএমজি টাইমস মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে শনিবার (৩ জুন) সকাল ১০ টায় এলেংগা পৌরসভার ফটিকজানি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সুচনা করেন আলোকিত কালিহাতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল আলিম, স্নোটেক্স গ্রুপের এজিএম আব্দুস সালাম, দৈনিক যুগধারা সম্পাদক সরকার হাবিব ,কৃষক লীগ নেতা জমির উদ্দিন আমেরী, তালেমন হযরত আলী মৎস্য ইনিস্টিউটের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন তুহিন প্রমূখ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আলোকিত কালিহাতি’র নেতৃবৃন্দ, কালিহাতি প্রেসক্লাবের সাংবাদিক বৃন্দ, স্নোটেক্স গ্রুপ, আরএমজি ও সাস্টেইনেবল মেনেজমেন্ট সিস্টেম বাংলাদেশের কর্মকর্তাবৃন্দ।

আলিফ স্টীল মিলস লিঃ এর পক্ষ থেকে এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী।

এছাড়াও মহেলা উচ্চ বিদ্যালয়, কুরুয়া কবরস্থান ও মাদরাসা, তালেমন হযরত আলী মৎস্য প্রযুক্তি ইনিস্টিউটে বৃক্ষ রোপন করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৩ ০৩:০৫:এএম ৩ বছর আগে
‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্রের পেছনে কু-মতলব থাকলে খেসারত দিতে হবে: কাদের সিদ্দিকী - Ekotar Kantho

‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্রের পেছনে কু-মতলব থাকলে খেসারত দিতে হবে: কাদের সিদ্দিকী

একতার কণ্ঠঃ ভারতের নতুন সংসদ ভবনের মানচিত্র যদি কু-মতলবে করা হয়ে থাকে তাহলে ভারতকে এ জন্য খেসারত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)।

শনিবার (৩ জুন) বিকেলে সখীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। কাদেরিয়া বাহিনী’ ৭১ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘ভারতের নতুন সংসদ ভবনের মানচিত্র কু-মতলবে করে থাকলে, ভারতকে এর খেসারত দিতে হবে। এটা যদি অবুঝের মতো করে থাকে তাহলে এক রকম কথা, আর যদি শতবর্ষ আগের মহাভারতের মহান ভারতের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য করে থাকে, তবে তা ভিন্ন কথা।’

শঙ্কা প্রকাশ করে বীরউত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কত বছর পরে কি হবে জানি না, সম্প্রতি ভারতে একটি নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তা দেখতে অনেকটাই খ্রিষ্টানদের লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়ার বাক্সের মতো। সেখানেও একটি ভারতের মানচিত্র দেওয়া হয়েছে। সেই মানচিত্রের মধ্যে নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশও আছে। তাহলে ওটা কি মহাভারতের মানচিত্র? নাকি আজকের ভারতের মানচিত্র?’

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। তিলাওয়াত শেষে মাওলানা ‘জয় বাংলা’ বলে মাইক্রোফোন রাখেন। বক্তৃতায় এ প্রসঙ্গ তুলে বীরউত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জয় বাংলার সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি জয় বাংলার পাগল, জয় বাংলা আমাদের দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই স্লোগানটি তৈরি করেছিলেন বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আমরা সেখান থেকেই নিয়েছিলাম। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি, এখন পশ্চিমবঙ্গরা সব সময় জয়বাংলা বলে।’

বঙ্গবীর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পতাকার মধ্যে আমরা দেশের মানচিত্র দিয়েছিলাম। আমরা ওই মানচিত্র না দিলে ভারত আমাদের এত সমর্থন দিত কি না জানি না। মানচিত্র না দিলে ভারত হয়তো ভাবতে পারত, তাদের সীমানা নিয়েও বাংলাদেশ টানাটানি করতে পারে। তাই ওই সময় পতাকায় মানচিত্র দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল।’

সম্প্রতি আমেরিকার ভিসা ইস্যু নিয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপিকে জাত করার জন্য পাসপোর্টের এই হুমকি। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগকে সোজা করার জন্যই এই হুমকি। কিন্তু আমি মনে করি পাসপোর্টের এই হুমকি দেওয়া বাংলাদেশের জন্য লজ্জাকর এবং অপমানের।’

কাদেরিয়া বাহিনীর স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম আমজাদ হোসেনের রচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস সিকদার সভাপতিত্ব করেন। এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম আমজাদ হোসেন বিএসসি, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ, কাদের সিদ্দিকীর সহোদর শামীম আল মুনসুর আজাদ সিদ্দিকী, দলটির টাঙ্গাইল জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমও গণি, প্রফেসর আলীম মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. জুন ২০২৩ ০২:১৮:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।