একতার কণ্ঠঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহে আশঙ্কাজনকহারে পানি বৃষ্টির কারণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অংশে ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বসত-ভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা বিলীন হচ্ছে নদী গর্ভে। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের ভাঙন কবলিত মানুষ। এসব ভাঙন কবলিত পরিবারের লোকজন বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এমন অবস্থায় ভয়াবহ ভাঙনের শিকার শতশত পরিবার দিশেহারা হয়ে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সোমবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে এই আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরোধ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ অবরোধ কর্মসূচি বেলা প্রায় ১২ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধটি তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এরআগে খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল ও স্থানীয় কয়েকটি এলাকার ইউপি সদস্যরা মানববন্ধনে আসে। পরে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন উপস্থিত হন। তিনি তাৎক্ষণিক ভাঙন কবলিত এলাকায় আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা। অবরোধের ফলে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব সোনা মন্ডল ও শফিকুল বলেন, গত প্রায় একমাস থেকে এই এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা এ এলাকার অসংখ্য পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়ি রক্ষায় তবদির করে জিওব্যাগ ফেলছে। এনিয়ে কিছু বলাও যায় না। তাই আপাতত জিওব্যাগ ফেলাসহ এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল বলেন, প্রতি বছর পাটিতাপাড়া, মাটিকাটা, কোনাবাড়ি, পলশিয়া, দোভায়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা যায়। এবারও ব্যাপকহারে নদীর তীর ভাঙছে। যার ফলে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে এবার অসংখ্য ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনরোধে দ্রুত সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে অচিরেই নদীপারের ওই গ্রামগুলো গিলে ফেলবে যমুনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করছিল উত্তর পাটিতাপাড়া এলাকার ভাঙন কবলিত লোকজন। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধে আরও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। যারা বসতভিটা ও ঘর-বাড়ী হারিয়েছে তাদের তালিকা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যমুনা নদী থেকে সারা বছরই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে গোবিন্দাসী, নিকরাইল, গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এতে প্রতি বছরই শতশত বসত-ভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। এতে দিশেহারা ও নিঃস্ব হন নদীপাড়ের শতশত মানুষ। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বার বার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে আট মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবা মো. সাহেদকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী লতিফপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ঝুমা আক্তারের সঙ্গে সাহেদ মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। এরই মধ্যে তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে শিশুটির বয়স আট মাস। সাহেদের সঙ্গে অন্য নারীর অনৈতিক সম্পর্ক আছে এমন অভিযোগে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এ কারণে মাঝে মধ্যেই ঝুমাকে মারধর করতেন সাহেদ। সর্বশেষ দেড় মাস আগে ঝুমাকে মারধর করলে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে তিনদিন আগে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে আসেন সাহেদ। রোববার দিবাগত রাতেও ঝুমাকে মারধর করেন সাহেদ।
ঝুমা বলেন, সকালে রান্না করার সময় কান্নার আওয়াজ পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখি ছেলের সঙ্গে আমার স্বামী শুয়ে আছে। তখন তার মুখ লাল দেখেছি। তার কিছুক্ষণ পর আবার কান্নার আওয়াজ পেয়ে ঘরে গেলে ছেলের নাকে রক্ত দেখি ও মুখ দিয়ে লালা বের হতে দেখি। আমার স্বামী আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছালাম মিয়া জানান, এ ঘটনায় শিশুর বাবা সাহেদকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনার আমাকে কথা দিয়েছেন, নিরপেক্ষ ভোট হবে, সরকারি প্রভাবমুক্ত ভোট হবে, তিনি যদি সেই কথা রক্ষা করতে না পারেন, তবে তাঁকে গদি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
রবিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা টেকিপাড়ায় এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, আমি ভোট চুরি পছন্দ করি না, আমি তাঁর কথা বিশ্বাস করেছি। কিন্তু এখানকার ফাঁউ নেতারা যদি ভোট চুরি করে শেখ হাসিনার মুখ কালো করতে চায়, তাহলে আমাদের কি করার আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাল ভোট চান না।’
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘পুলিশকে টাকা–পয়সা দিয়ে ব্যালটে সিল মারবেন? তা হবে না, হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ জল ভোট দিতে চাইলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে ধরে ফেলবেন, তারপর পুলিশের হাতে তুলে দেবেন, পুলিশ তাকে গ্রহণ না করলে সে বিষয়টি আমি দেখব।’
দলীয় নেতা কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে বাসাইল পৌরসভায় সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। সেখানে আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।’
হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী পথসভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী বিধূ ভূষণ সরকারসহ দলটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীরপ্রতীক, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীবসহ দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৭ জুলাই সখীপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ দলীয় প্রার্থী দিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম’র নেতৃত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. কুদরত আলীর উপস্থিতিতে রবিবার ( ৯ জুলাই) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসে সমাবেত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম বলেন, তারেক শামস্ খান হিমু’র উপস্থিতিতে এলাসিন ইউনিয়নের সিংহরাগী গ্রামের মুন্সিপাড়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মতবিনিময় সভায় সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মীবাহিনী সন্ত্রাসী কায়দায় নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপনের ওপর অতর্কিত হামলা করে আহত করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অস্থিতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের পক্ষ হতে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সাবেক ভিপি জহুরুল আমিন, শিক্ষা ও মানব কল্যাণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক দেলদার আহমেদ সুভন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রৌশনারা বেগম, উপজেলা আ’লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মো. আজিজুল হক, আব্দুল আলিম, সামেজ মিয়া, শহীদুল হক কিরণ, আতিকুর রহমান নিল্টু প্রমূখ।
এছাড়াও সমাবেসে মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জজ কামাল, যুবলীগ নেতা এস এম আনোয়ার হোসেন, নাগরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আল মামুন, আ’লীগ নেতা আবুল কাশেম, শফিউল আলম সিজার, ধুবড়িয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন সেন্টু সহ অন্যান্য সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (০৭ জুলাই) বিকালে দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের সিংহরাগী ঈদ পুনর্মিলনী মতবিনিময় সভা চলাকালীন সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আ’লীগ কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ খান হিমুর সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থেকে নাগরপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক তপন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান কালে এলাসিন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মী আনিসুর রহমান এর নেতৃত্বে প্রায় ১২ থেকে ২০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শারীরিকভাবে আহত করে।
একতার কণ্ঠঃ প্রমত্তা যমুনা নদীতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে গত ২৬ বছরে ৭ হাজার ৮৭৯ কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
১৯৯৮ সালের জুন মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত যানবাহন পারাপার থেকে এ টোল আদায় করা হয়- যা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগের প্রায় দ্বিগুণ। বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, প্রথমে এ সেতুর নাম ছিল ‘যমুনা বহুমুখী সেতু’। পরে এর নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’। এ সেতু ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। এর নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সেতু নির্মাণকালে ২৫ বছরে বিনিয়োগের টাকা তুলে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের ৭ বছর আগেই এর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সড়কপথে যোগাযোগের জন্য ১৯৯৪ সালে যমুনা নদীর ওপর এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
সেতুটি যমুনা নদীর পূর্ব তীরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী(যদিও কাগজে-কলমে ভূঞাপুর) এবং পশ্চিম তীরে সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করে। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর এবারের ঈদুল আজহায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২৭ জুন রাত ১২টা থেকে ২৮ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৪৮৮টি গাড়ি সেতু পারাপারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১৩ মে ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার ২৪০ টাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের(বাসেক) বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ৯৮ লাখ টাকা টোল আদায় হয়। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৬১ কোটি ২৭ লাখ, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৯৪ লাখ, ২০০০-০১ অর্থবছরে ৮২ কোটি ৮৪ লাখ, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৯৩ কোটি ৫৮ লাখ, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ৭২ লাখ, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ১৩১ কোটি ৮ লাখ, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৫২ কোটি, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৯৭ কোটি ৯৭ লাখ, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৭৩ কোটি ৭৬ লাখ, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০১ কোটি ৯৬ লাখ, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২১৪ কোটি ৪২ লাখ, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৪২ কোটি ৯৯ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৬৭ কোটি ১০ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩২৭ কোটি ৯৮ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩২৫ কোটি ৩৮ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৫১ কোটি ১৪ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৮৬ কোটি ৫২ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৪৩ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭৫ কোটি ৩৪ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ, ২০-২১ অর্থবছরে ৬৫৪ কোটি ৮২ লাখ, ২১-২২ অর্থবছরে ৭০৪ কোটি ৫৫ লাখ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ১৮-২০ হাজার যানবাহন সেতু দিয়ে পারাপার হয়। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে পরিবহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নল্যা নামকস্থানে শনিবার (৮ জুলাই) সকালে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান খাদে পড়ে চালকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত চালক ইমদাদুল হাসান মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার নোহাটা গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে।
ধনবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিস আলী জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জামালপুর থেকে একটি কভার্ড ভ্যান ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মহাসড়কের ধনবাড়ীর নল্যা এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি পৌঁছলে নিয়ন্ত্রয়ণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কাভার্ডভ্যানের চালকের মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২জন।
শুক্রবার(৭ জুলাই )বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় কাভার্ড ভ্যান পিকআপ সংঘর্ষে তিনজন এবং বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় অজ্ঞাত এক নারী ও বাসাইলে এক শিশু নিহত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছেন জেলার গোপালপুর উপজেলার হযরত আলীর ছেলে শাহ আলম (৪০), সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার গোয়াকড়া গ্রামের হামিদ মিয়ার ছেলে শাহান শাহ (২৫) এবং নুরজাহান (৪৫)। এরা সবাই পিকআপ ভ্যানের যাত্রী।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর মিয়া জানায়, শুক্রবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্য স্বামীর সাথে একটি পিকআপে করে রওনা হোন। পিকআপ ভ্যানটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় পৌছালে একই দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের গাড়িটির উপরে পেছন থেকে তুলে দেয়। এতে পিক-আপে থাকা প্রায় ১৫ জন যাত্রী আহত হয়।
তিনি আরও জানান,পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, একই মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় অজ্ঞাত বাস চাপায় এক নারী ও বাসাইলে মোটরসাইকলে চাপায় ফারজানা (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠঃ বগুড়ার শেরপুরের গাড়ীদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রবিবার (২ জুলাই ) রাতে মো. সাদ্দাম হোসেন নামের এক মুঠোফোন ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। সাদ্দামের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের দাবি, বন্ধুরা সাদ্দামকে হত্যার পর মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে যায়। হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তার বন্ধুরা। পুলিশেরও ধারণা সাদ্দামকে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম রবিবার বিকালে এলেঙ্গা রাজাবাড়ী এলাকার বন্ধু রাব্বি, অমিত, লিসান, বাপ্পীসহ ছয় বন্ধু ঈদ পরবর্তী ঘুরতে বের হয়। রাতে পরিবারের সদস্যরা খবর পান সাদ্দাম অসুস্থ। তার কিছুক্ষণ পর খবর পান সাদ্দাম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
স্ত্রী রুপা বেগম বলেন, আমি সাদ্দামকে ফোন দেয়ার পর সে আমাকে বলে ‘আমি রাব্বি ও লিসানদের সঙ্গে ঘুরতে আসছি। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। তুমি আমাকে বাঁচাও।’ তারপর ওরা ফোন নিয়ে নেয়। এরপর বার বার ফোন দিয়েও সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে রাব্বি, বাপ্পীর ফোন নম্বর বন্ধ।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, গাড়ীদহ বাসস্ট্যান্ডে ফ্লাইওভারের নিচে বিবস্ত্র অবস্থায় যুবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
তিনি আরও জানান, তখন তিনি আল্লাহ অল্লাহ করতেছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই যুবককে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে নাকি পরিকল্পিত হত্যা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাসের চাপায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সার দুই আরোহী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ৪জন।
বুধবার (৫ জুলাই)সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার ডুয়াইল গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ওয়াজেদ আলী (৪০) ও একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হালিম (৩২)।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত )ইদ্রিস আলী জানান, বুধবার সকাল ৭টার দিকে জামালপুর থেকে ঢাকা গামী একটি যাত্রীবাহী বাস ধনাবাড়ী উপজেলার সাত্তারকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিক্সার দুই আরোহী নিহত হয়। আহত হয় আরও ৪জন।
তিনি আরও জানান, বাস জব্দ করা হয়েছে কিন্তু বাস চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এদিকে আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দেশের অন্যতম বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এনটিভির ২০ বছর পূর্তি ও ২১ বছরে পদার্পন উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
এসময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে প্রবীন ও নবীন সাংবাদিকদের এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।
এনটিভি দর্শক ফোরাম টাঙ্গাইল শাখার সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম মোস্তফা লাবুর সভাপতিত্বে এনটিভির বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার ও অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশংসা করেন জৈষ্ঠ সাংবাদিকরা।
তারা বলেন, এনটিভির পথচলা থেকেই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে আজ পর্যন্ত অবিচল রয়েছে। এনটিভি আজ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এনটিভির প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠান টাঙ্গাইলের জৈষ্ঠ ও নবীন সাংবাদিকের এক মিলন মেলায় পরিনত করেছে। আলোচকরা এনটিভির কলাকৌশলী সাংবাদিক ও অনুষ্ঠান বিভাগের সকলকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পুর্বাকাশ পত্রিকার সম্পাদক এডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাবেক সভাপতি এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, প্রবীন সাংবাদিক বিমান বিহারী দাস, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক শামসাদুল আখতার শামীম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির স্টাফ করেসন্ডেন্ট মহব্বত হোসেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দপ্তর ও লাইব্রেরী সম্পাদক অরন্য ইমতিয়াজ।
পরে টাঙ্গাইলের জৈষ্ঠ সাংবাদিকরা বর্ষপুর্তির কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্টস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অনলাইন ও নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী রাশেদকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের নরুন্দা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আলিসা বেগম (২৮)। আর তার স্বামী রাশেদ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা জানান ,ঈদের আগের দিন আলিসা শ্বশুর বাড়ি থেকে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার নরুন্দা পূর্বপাড়া আসেন। রোববার দুপুরে আলিসার স্বামী রাশেদ এসে ছেলে মেয়েকে নিয়ে যান। সোমবার বিকেলে আলিসা তার বাবার বাড়ি নরুন্দা গ্রামে ঘরের ভেতর শুয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্বামী রাশেদ মিয়া শ্বশুর বাড়ি এসে ঘরের ভেতর ঢুকে স্ত্রী আলিসাকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
তিনি আরো জানান,খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী রাশেদকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত রাশেদ ঢাকায় গাড়ির মিস্ত্রির কাজ করেন। এই ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ( ২ জুলাই ) বিকালে নাগরপুর উপজেলা সদরের কলেজ পাড়া এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম শাহনাজ আক্তার (৪৫)। তিনি উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ গ্রামের সৌদী প্রবাসী মোশারফ হোসেনের স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকে নিহতের কিশোরী কন্যা ফারজানা আক্তার (১৫) নিখোঁজ রয়েছে।
নিহতের পিতা আব্দুল বাতেন জানান, আমার মেয়ের জামাই অনেক বছর ধরে সৌদী প্রবাসী। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এক ছেলে প্রবাসী, অপর ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। মেয়েকে নিয়ে উপজেলা সদরের নিজেদের চারতলা বাড়ির চারতলায় বসবাস করত শাহনাজ । আমার জানা মতে মেয়ে ও নাতীদের সাথে কারো কখনও ঝগড়া বিবাদ ছিল না। কিভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল কিছুই বুঝতে পারছি না। শনিবার (১ জুলাই) বিকালে মেয়ের সাথে কথা হয়েছে। ফজরের নামাজের পর মেয়েকে ফোন দিয়ে আর পায়নি। দুপুরে তার মৃত্যুর খবর পাই। ঘটনার পর থেকে নাতনিও নিখোঁজ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তবে কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নাতনিকে তুলে নিয়ে গেছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। আমি পুলিশের কাছে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও নিখোঁজ নাতনীকে দ্রুত উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ওই বাসার ভারাটিয়া অপু আক্তার বলেন, দুপুরে চারতলায় পানি আনতে গিয়ে দেখতে পাই চার তলার দরজা খোলা। শাহনাজ আপার লাশ খাটের উপর পরে রয়েছে। তাঁর মেয়ে রুমে নেই। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে দুপুরে নিহতের লাশ উদ্বার করে পুলিশ। নিহতের গলায় ফাঁস লাগানোর চিহৃ রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি।