একতার কণ্ঠঃ এবার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে টাঙ্গাইলে যাত্রা শুরু করেছে স্টেশন অণু-পাঠাগার।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনে এই অণু-পাঠাগার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
এই স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে অর্ধ-শতাধিক বিভিন্ন ধরনের বই নিয়ে এ অণু-পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
অণু-পাঠাগার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কবি টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ কামাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমুদিনী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, সম্মিলিত পাঠাগার আন্দোলনের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার খান, সহ-সভাপতি ডাঃ রাজেন্দ্র দেবনাথ, কর পরিদর্শক খন্দকার মিজানুর রহমান, টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার রকিবুল হাসান, বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান প্রমুখ।
টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি ট্রেনের অপেক্ষমাণ যাত্রী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ট্রেনের জন্য বিভিন্ন সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়। তখন মোবাইলে সময় অপচয় করি। অপেক্ষার এ সময়টুকু এখন আমরা বই পড়ে আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারবো, খুবই ভালো লাগছে।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামান জানান, যাতায়াতের পথে ট্রেনের জন্য স্টেশনে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় যাত্রীরা গল্পগুজব করে অলস সময় পার করেন। স্টেশনে বই পড়ার সুযোগ থাকলে যাত্রীরা বই পড়ে আনন্দে সময় কাটানোর মধ্যদিয়ে মনোজগতকে পরিশুদ্ধ করতে পারবেন। বই পড়ার এ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। ইতোমধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি বাজারে সেলুন অণু-পাঠাগার ও বাসস্ট্যান্ড অণু-পাঠাগার চালু করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণু-পাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে পবিত্র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভা ও জশনে জুলুছে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন।বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই।
সম্মানিত মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ ঢাকা সাবেক প্রিন্সিপাল শাহ্ সুফি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আমীরুল ইসলাম (পি.এইচ.ডি), আহমাদাবাদ শরীফ করটিয়ার পীর সাহেব শাহ্ সুফি সাইফুল্লাহিল ক্বাতেয়ী, আহমাদাবাদ দরবার শরীফ বুহুলী টাঙ্গাইলের পীর সাহেব শাহ্ সুিফ ক্বারী মাওলানা হাবিবুল্লাহ আল আহমাদি।
বিশেষ মেহমান ছিলেন টাঙ্গাইল সরকারি এম এম আলী কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, সরকারি সা’দত কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. ছাইফুল মালেক আনসারী, পিচুরিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব শাহ সুফি আহমাদ আলী, দেলদুয়ার মৌলভীপাড়া শাহীবাগ দরবার শরীফের পীর সাহেব শাহ্ হারুন-অর-রশিদ।
জেলা ঈদ-এ মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির সভাপতি ও হাজিবাগ দরবার শরীফের খাদেম অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস খসরু সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর আল কাদেরী, দেলদুয়ার আলালপুর ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ সুফি আব্দুল ওহাব সিরাজী।
সরকারি এম এম আলী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগি অধ্যাপক আলী আশরাফ খান আর গাউছিয়া কমিটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোর্শেদ আলম মাসুদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিম প্রমুখ।
মহানবীর জন্মদিনের আলোচনা শেষে পৌর উদ্যান থেকে বেলা ১২টায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জশনে জুলুছের একটি বিশাল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূনরায় পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা আক্তার (২৩) হত্যা মামলার প্রধান আসামি তার কথিত স্বামী রাশেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)।
বৃহস্পতিবার( ২৮ সেপ্টেম্বর)ভোরে ঢাকার সাভারের আমতলীর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রাশেদুল ইসলাম (৩৫) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের নলখোলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানি অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ও র্যাব-১ এর যৌথ একটি দল অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খাদিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যা কান্ডের পর থেকে রাশেদ পলাতক ছিল।
তিনি আরও জানান,খাদিজা আক্তার ও রাশেদ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে টাঙ্গাইল শহরের বটতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের বিয়ের বিষয়টি খাদিজা আক্তারের পরিবারের লোকজন জানতে পারেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের কোন খোঁজ খবর না পেয়ে পরিবারের লোকজন বাসায় গিয়ে রুমের দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে পরিবারের লোকজন ও বাসার মালিকসহ তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে তারা খাদিজা আক্তারকে খাটের উপরে পড়ে থাকতে দেখতে পান।
এসময় খাদিজার পায়ের গোড়ালীর পিছনের রগ কাটা ছিল। ঘটনার পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর খাদিজা আক্তারের বড় ভাই ইমান আলী (২৫) বাদী হয়ে রাশেদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল ইসলাম জানায়, মুন্নি আক্তার নামে তার স্ত্রী ও ৩ সন্তান রয়েছে। খাদিজা আক্তারের সম্পর্কের কথা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পূর্বের স্ত্রীর সাথে তার মনোমালিন্য ছিল। খাদিজাকে নিয়ে সংসার করা অবস্থায় খাদিজা আক্তারও রাশেদের কাছে টাকা দাবি করেন।বারবার টাকা দাবি করায় এক পর্যায়ে রাশেদ উত্তেজিত হয়ে খাদিজাকে হত্যা করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী যুবলীগের প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও ফরম সংগ্রহ কার্যক্রম কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার(২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ওই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন।
অনুষ্ঠানে জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম তালুকদার বিপ্লব।
এ সময় জেলা, শহর, সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের যুবলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের কারাবন্দীদের মৎস্য ও দর্জি এবং মহিলা কারাবন্দীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার(২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা কারাগারে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে কারাবন্দীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, জেল সুপার মোখলেছুর রহমান, এনডিসি খায়রুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান আনিছ, খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ৩২ জন পুরুষ কারাবন্দীকে দর্জি প্রশিক্ষণ, ১৫ জন মহিলা কারাবন্দীকে সেলাই প্রশিক্ষণ, ২২ জন পুরুষ কারাবন্দী মৎস্য প্রশিক্ষণ ও ১৫ জন্য পুরুষ কারাবন্দীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ।
পরে কারাবন্দীদেরর জন্য মানসম্মত খাবারের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে কারাগারের খাদ্য দ্রব্য ও স্টোর রুম পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের(ডিএফএ ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলার বিশিষ্ট ফুটবল কোচ প্রয়াত আতিকুর রহমান খান জামিলের(জামিল বস) অকাল প্রয়াণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের(ডিএফএ) উদ্যোগে শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওই সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. কায়ছারুল ইসলাম।
টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের(ডিএফএ) সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ফরহাদ হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, প্রয়াত জামিলের মা টাঙ্গাইলের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ারা বেগম, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমূখ।
সভায় বক্তারা প্রয়াত আতিকুর রহমান জামিলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ও রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
শোকসভায় জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়, প্রয়াত জামিলের স্বজন সহবিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে ফুটবলার তৈরির কারিগর, টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন (ডিএফএ) এর সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান জামিল (জামিল বস) গত ৩ সেপ্টেম্বর(রবিবার )দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ।দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি সংক্রান্ত জটিল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি এবং তাদের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের ভাসানী হল প্রাঙ্গণ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের শুরুতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা,শহর ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল হক শাহিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান লিটন,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, জেলা যুবদল আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলক, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির, জেলা মহিলাদলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রক্সি মেহেদী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দূর্জয় হোড় শুভ, সদস্য সচিব আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
সমাবেশ বক্তারা বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসা পদ্ধতি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় তাকে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। অতি দ্রুত খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো ও তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানান।
এ দিকে সমাবেশে উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)।
শনিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার কীর্তনখোলা গজারিয়া কালিয়ানপাড়া (কেজিকে) উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ মিয়ার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দীর্ঘদিন পর সংসদীয় আসন টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন—এ কথা স্পষ্ট করলেন। এর আগে ঋণখেলাপির কারণে বঙ্গবীরের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ আসন থেকে তাঁর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী বিএনপি জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ২ কোটি টাকা নিয়েছিলাম, ১৩ কোটি দিয়েছি। তবুও নাকি শোধ হয় নাই! এখনো নাকি আরও ২২ কোটি পায়। এবার নিয়ত করেছি, কবে মরে যাব ঠিক নাই, এবার ওইগুলো পরিশোধ করে দাঁড়িয়ে পড়ি। দেখা যাক কী হয়! মানুষেরও একটা ইচ্ছা আছে, মানুষের কাছে মাফ-মুক্তি চাইতে পারব। সে জন্য আল্লাহ যদি বিপদ না করেন তবে, আমি ভোটে আপনাদের এখানে (টাঙ্গাইল-৮) দাঁড়াব। আপনারা দোয়া করবেন।’
তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তিনি কোন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন তা স্পষ্ট করেননি।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আহ্বায়ক আব্দুস ছবুরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা (বীর প্রতীক), কাদের সিদ্দিকীর সহোদর শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সালেক হিটলু, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল, আলমগীর সিদ্দিকী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। গুমোট গরম। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে নামে বৃষ্টি। থেমে যায় কিছুক্ষণ পরেই। এরপর কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। প্রকৃতির এমন আচরণের মধ্যেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে টাঙ্গাইলের এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।
প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে জিপিএ-৫ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের উৎসবটি পাওয়ার্ড বাই ‘বিকাশ’। সহযোগিতা করছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
টাঙ্গাইলে সম্বর্ধনা নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করা কৃতী শিক্ষার্থীরা শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর)সকালে এসেই নির্দিষ্ট বুথ থেকে ক্রেস্ট, স্ন্যাকস ও উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করে। এ সময় তারা বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা ও আড্ডায় মেতে ওঠে। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এতে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর। তিনি বক্তব্যের শুরুতে তিনজন শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবকের অনুভূতি শোনেন। এরপর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সামনের দিনগুলোয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরস্পরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেকে যদি নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়, তাহলেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল করিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভালো ফলাফল করার জন্য তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এটা শুরু। এইচএসসিতেও ভালো ফলাফল করতে হবে। তারপর মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তোমরা কর্মক্ষেত্রে যাবে। সব ক্ষেত্রেই ভালো করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। তোমরা সব সময় দুর্নীতি, অনিয়ম ও খারাপ কাজকে ঘৃনা করবে, ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে।’
শিবনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই ভালো করেছ। তাই তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তোমাদের প্রত্যেককে ভালো মানুষ হতে হবে। তোমরা আগামী দিনের দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তোমরা ভালো হলে দেশ ভালো নেতৃত্ব পাবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের নির্বাহী সালমুন ইকরাম। স্বাগত বক্তব্য ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান প্রথম আলোর টাঙ্গাইলের নিজস্ব প্রতিবেদক কামনাশীষ শেখর।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল বন্ধুসভার উপদেষ্টা জিনিয়া বখ্শ।
অনুষ্ঠানের মাঝে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। তবে পরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠে আনন্দ–উল্লাসে। স্থানীয় ব্যান্ড সংগীত দল টাচে্র শিল্পী লিজু বাউলা ও সুফি শামীমের গানের সঙ্গে নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানাতে এসে কৃতী শিক্ষার্থী নিশাত সিদ্দিকী বলে, ‘সব সময় মনে থাকবে জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম বলে প্রথম আলো আমাদের সংবর্ধনা দিয়েছিল।’
শিক্ষার্থী তাসনিয়া শারমিন বলে, ‘ভালো ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা দেওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করার জন্য আমাদের প্রেরণা জোগাবে।’ অপর শিক্ষার্থী আজম খান বলে, ‘এই সংবর্ধনা পেয়ে আমরা অনুপ্রাণিত।’
দিনব্যাপী সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, প্রথম আলো ই-পেপার (১ মাস) ও চরকির (১৫ দিন) ফ্রি সাবস্ক্রিপশন, শিখোর সৌজন্যে বিনা মূল্যে কোর্স ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের স্ন্যাকস বক্স।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরের বোয়ালীতে ঘরের আড়ের সাথে ফাঁস দিয়ে আবু সাইদ (১৭) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। সে মধুপুরের শহরের কসমেটিকস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ছেলে ও স্থানীয় কুড়ালিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফজ পাশ করেছে।
বুধবার(২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিত্যক্ত রুমের তালা খোলা দেখে প্রতিবেশী ভিতরে ঢুকে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে।
জানা যায় পারিবারিক অমিলের কারনে মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবু সাইদ বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। রাতে তার বাবা মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি(জিডি) করেন। ।
শহিদুল ইসলাম জানান, লেখাপড়া না করার কারনে সাইদকে আমার সাথে দোকানে বসিয়ে দেই। কিন্তু সে দোকানে মনোনিবেশ না করে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। বেশ কিছুদিন যাবত সে কারো সাথে কথা বলতো না। চুপচাপ বসে দিন-রাত মোবাইলে গেমস খেলতো।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )মোল্লা আজিজুর রহমান জানান ,আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কণিষ্ঠ পুত্র আবুবকর খান ভাসানীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে আবুবকর খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ-ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানীসহ ভক্ত-মুরিদানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সোমবার বিকালে ঐতিহাসিক দরবার হলে ওরশ মোবারক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, আবুবকর খান ভাসানী ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল (মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী) আসামের ধুবরী জেলার দক্ষিণ শালমারা থানার আমতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও হামিদা খানম ভাসানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র।
তিনি ১৯৬৫ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভুরুঙ্গামারীর ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক ছিলেন। এই সময়ে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে গড়ে তোলেন মাতা হামিদা খানম ভাসানীর নামে জুনিয়র স্কুল। এখানেই তিনি শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
এরপর ’৬৮-র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন।
২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর সন্তোষে পিতার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও জেলার সকল সংসদ সদস্য (এমপি) এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাগরপুর কলেজ মাঠে জনসমাবেশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু। উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমাবেশ করেছেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাননি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ছিলেন অনুপস্থিত। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জনসভায় অনুপস্থিতি তৃণমুল নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। জনসভার পাশাপাশি এটাও ছিলো সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ছিলো আলোচনার বিষয়বস্তু। এরমধ্য দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্ব›দ্ব এতদিন অপ্রকাশ্যে থাকলেও রবিবারের জনসভার মধ্যে দিয়ে তা প্রকাশ্যে এলো। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৯নং সহ-সভাপতি মো. আনিছুর রহমান ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩ নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম দুলাল। যা ছিলো অত্যান্ত দৃষ্টিকটু।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের। সেইসঙ্গে এই আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান হিমু ও ইনসাফ আলী ওসমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা সবাই একাট্টা হয়েছেন সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছর ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। সংসদ সদস্য তার নিজের অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরপুরে সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগামী অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে সমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব দেন। তারা এই প্রস্তাবের কথা কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালিদ হোসেন জানান, এই প্রস্তাব অগ্রায্য করে সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করেন। ব্যানারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদককে সঞ্চলনার দায়িত্ব দিয়ে নাম লেখা হলেও তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় না করে একাই সমাবেশের প্রচারণা শুরু করেন। তখন অন্য সবাই এ সমাবেশ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয়রা জানান, এই সমাবেশ কেন্দ্র করে নাগরপুরের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জণ উঠেছিল উপজেলা আওয়ামী লীগ, সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও সংসদ সদস্যের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে তার অবসান ঘটবে। কিন্তু সমাবেশের মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছালো। তারা এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বর কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী বলেন, সংসদ সদস্য রোববার যে সমাবেশ করলেন তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। সমাবেশের বিষয়ে তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় করেননি। এমপি হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের এড়িয়ে চলেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের লোকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি এই সমাবেশ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে সমাবেশ করবেন বলেও তিনি জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস্ হিমু বলেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দল পরিচালা করবেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড পরিচালানা করবেন স্থানীয় এমপি। কিন্তু স্থানীয় এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের মত করে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করছে। রোববারের জনসভাটি এমপির একক সিদ্ধান্তে আয়োজন করায় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসভায় উপস্থিত হয়নি। এতে সাধারণ ভোটারসহ তৃণমুল কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু জনসভায় বলেন, নাগরপুরের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ, নাগরপুর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আজ ঐক্যবদ্ধ ও অভিন্ন আছে। গুটি কয়েকজন মানুষ এখানে উপস্থিত নাই। আমি আশাকরি এখানে উপস্থিত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দায়িত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিবেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল আলীমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামিলুর রহমান মিরন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার ফজলুল হক প্রমুখ।