আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ‘গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(১৪ জানুয়ারি) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।
এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।
রিসোর্স পার্সন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব(উপ-সচিব) মো. আব্দুস সবুর।
কর্মশালায় ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকালীন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি প্রতিপালনের গুরুত্ব’ এবং ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৯৭৪ এর প্রয়োগ’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি-১৯৯৩(২০০২ সালে সংশোধিত), তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট অঅইন-২০১৪ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন নয়- ঐক্যবদ্ধতা জরুরি। বিভাজিত জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারেনা। এজন্য ঐক্যবদ্ধার বিকল্প আমাদের সামনে নেই।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা- এজন্য কোনো নির্দিষ্ট মিডিয়ায় সংযুক্ত না থেকেও ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে সাংবাদিকতা করা যায়, দেশের কল্যাণে কাজ করা যায়। সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব বা কোনো সংগঠনে সংযুক্ত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই কিম্বা জরুরীও নয়।
ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় টাঙ্গাইলের প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ও টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা অংশ নেন। পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
সোমবার(১২ জানুয়ারি )দুপুরে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্বাচনী কার্যালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এতে সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আজাদ, হুগড়া ইউনিয়নের সাবেক সম্পাদক মফিজুর রহমান, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ, মগড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহবুব হাসান ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিন্নাহ খানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী যোগদান করেন।
বিএনপিতে যোগদান করা নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নির্বাচিত করার জন্য। সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে টুকুর জন্য কাজ করবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা।
গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। অভিযোগটি বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এর কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ইউপি সদস্য মো. হারুণ অর রশীদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে সুষম বণ্টন না করে নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পের টাকা লুটপাট এবং নিজের পছন্দের ইউপি সদস্যদের দিয়ে পরিষদের যাবতীয় কাজ করানোর মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ কাজের অধিকাংশ তার ৬ নং ওয়ার্ডের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ইউপি সদস্য। ফলে তাদের এলাকাবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যদের অবজ্ঞা করতে থাকেন এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরই মধ্যে তিনি একটি অপহরণ মামলায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই মামলাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা করা হয় বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্যরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ইউপি সদস্যরা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে অপসারণের দাবি তুলেছেন। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন,মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের দেওয়া অনাস্থার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ।
আসাদুজ্জামান রুমেল জানান ,বিক্রয় রশিদ না থাকায় এবং অধিক দামে বিক্রি করার দায়ে সদর উপজেলায় করটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন বাজারে জামান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, একই ইউনিয়নের কুমুল্লি বাজারের আসমা ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা এবং করটিয়া বাজারের আজাদ ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে কজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল বলেন, জেলায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রি করছে।
ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন থেকে চারশো টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যোক্তিক। প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারে সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযানে সদর উপজেলার সেনেটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তারসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নিজের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণ ভোট দেবেন।
এখন পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে টুকু আরও বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোরগ্যাংমুক্ত করে একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী, টাঙ্গাইল-২(ভূঞাপুর–গোপালপুর) আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে ২১ ডিসেম্বর তিনি জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে পর ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শনিবার ও শুক্রবার দুই দিনের যাচাই-বাছাইয়ে এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মোট ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ত্রুটি ও শর্ত পূরণ না করায় ২৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এর মধ্যে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনের নয়জন এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাকি চারটি আসনের ১৯জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন কারণে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হচ্ছেন- গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার, খেলাফতে মজলিসের হাসনাত আল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হাসরত খান ভাসানী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলমুয়ার) আসনে আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী জুয়েল সরকার, রিপন মিয়া, শরিফুল ইসলাম, সাইফুর রহমান ও জাতীয় পার্টির মো. মামুনুর রহিম।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম রেজাউল করীম আল রাজি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হায়দার খান, খেলাফত মজলিসের মো. আবু তাহের।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। তারা হচ্ছেন- বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির আওয়াল মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফজল মাহমুদুল হক, এসএম হাবিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান কামাল, আমজনতা দলের মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চারটি আসনের নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদের মনোনয়ন বাতিল হয়। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মনোয়ার হোসেন সাগরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া।টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা ও ডা. শাহ আলম তালুকদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, দুই দিনের যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি, আয়-ব্যয়ের সত্যায়িত কপি জমা না দেওয়া, সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং অবসর পরবর্তী নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়া। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শরীফা হকের কাছে তার মনোনয়ন পত্র জমা দেন।
এসময় ফরহাদ ইকবালের মনোনয়ন পত্রের প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর ফরহাদ ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মানুষ সদর উপজেলার ছেলেকেই এমপি নির্বাচিত করতে চায়। সদর উপজেলাবাসীর চাওয়া কে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি। আমি এখনও বিশ্বাস করি দলীয় নেতৃবৃন্দ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আমাকেই সমর্থন দিবে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী টাঙ্গাইল সদরের জনগন ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের কাছে তিনি তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, ইনশাআল্লাহ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করবেন। জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইল সদরকে উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে একটি মডেল টাঙ্গাইল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। আগামী দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষে সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। ব্যক্তি নয়, দল বড়- আর দলের চেয়েও দেশ বড়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
তিনি সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে ২১ ডিসেম্বর তিনি জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জেলা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এদিকে,সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো টাঙ্গাইল-৫ সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি হয়রানিমূলক মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এ সময়ে তিনি মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডে থাকতে হয় তাকে।
আরমান কবীরঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কৃষক উইং এর প্রধান সমন্বয়কারী ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর )রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।তিনি জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে আমি যুক্ত হয়েছিলাম। শুরু থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের এক ধারাবাহিক অধ্যায় হিসেবে আত্মস্থ করেছি। তেপ্পান্ন বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল আমার সেই পথচলার প্রেরণা।’
তিনি আরও বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী পালনবাদী রাজনীতির স্বপ্ন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হই। সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও গ্রহণ করি।’
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন এখানে তার স্পষ্ট ঘাটতি আমি অনুভব করেছি। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি।’
মওলানা ভাসানীর নাতি বলেন, ‘এই বাস্তবতায় বেশ কিছুদিন ধরে সরাসরি সক্রিয় না থেকেও দলটির সঠিক রাজনীতি ও সাফল্য কামনা করে গেছি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই দায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতেই আজ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।’
তিনি বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে আমার এই স্বল্পকালীন পথচলায় কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। তারুণ্যের অভিযাত্রী দলটির প্রতি রইলো আন্তরিক শুভকামনা। গণমানুষের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামে তারা যেন সঠিক পথ খুঁজে পায় এই প্রত্যাশাই থাকলো।’
এর আগে এ বছরের গত ৬ সেপ্টেম্বর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর অনুমোদনক্রমে কৃষক উইংয়ের প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছিল আজাদ খান ভাসানীকে।
সাহান হাসানঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি’র মনোনীত দুই এমপি পদপ্রার্থী সহোদর দুই ভাই একসঙ্গে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। টাঙ্গাইল সদরকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে তারা নিজ নিজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। টাঙ্গাইল সদরকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগ করেছেন।
অন্যদিকে, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবারই প্রথম টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫০টি মামলা হয়। তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে ১২ দফা কারাভোগ করেন। তিনি প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। এছাড়া টানা ৪৬ দিন রিমান্ডেও থাকতে হয় তাকে।
আরমান কবীরঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের ফাঁসির দাবিতে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা
-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাসে গিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জুমআ’র নামাজ শেষে টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
পরে বেশ কিছুক্ষণ যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে ছাত্রজনতা। এ সময় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা অবিলম্বে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী গ্রামে বসতভিটার সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিতে বাদী পরিবার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর( বুধবার) বিকেলে কুইজবাড়ী গ্রামের বাদীর বাড়িতে তাদের শরিক অভিযুক্ত জাহিদ, শহিদ, তাদের পিতা হামেদ আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জন সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর মা অনামিকা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় অনামিকা বেগম প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তাড়া করে বসতঘরে ঢুকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির উঠানে নিয়ে আসে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাহিদ অনামিকা বেগমের তলপেটে সজোরে লাথি দিলে তার পূর্বের সিজারিয়ান অপারেশনের সেলাই ছিঁড়ে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় বিবাদীরা তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটায়।
অনামিকা বেগমের চিৎকারে তার স্বামী জাহিদুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযুক্ত জাহিদ ও শহিদ তার ডান চোখে আঘাত করে চোখ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চার দিন চিকিৎসা শেষে আহতদের ছেলে রাব্বি বাদী টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ দায়েরের পর বিবাদীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বাদী পরিবার, ঘরবাড়ি ছেড়ে কালিহাতী উপজেলার চিনামুড়া এলাকায় আশ্রয় নেয়।
আহত জাহিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাহিদ বসতঘরে ঢুকে ট্রাংক ভেঙে নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করে এবং অভিযুক্ত শহিদ তার স্ত্রীর গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
অনামিকা বেগম বলেন, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও বিবাদীরা আমাদের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা বর্তমানে বাড়িছাড়া।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং গ্রাম্য শালিসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বাদী পরিবার এলাকা ছাড়া রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমীন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।