আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের শেষ নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যান টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল এসে পৌর উদ্যানে সমাবেত হয়।
পরে একটি বিশাল ও বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌরউদ্যানে এসে শেষ হয়।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন,টাঙ্গাইলবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি অভিভূত। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও পৌর সভার ১৮টি ওয়ার্ড থেকে থেকে আপনারা আখেরী মিছিলে অংশ নিতে এসেছেন—এ জন্য আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন,আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী পক্ষ বহিরাগতদের টাঙ্গাইলে প্রবেশ করিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ ইকবাল বলেন,আমার নেতাকর্মীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে। তবে কেউ ভয় পাবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ এসব অপশক্তির জবাব দেবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম, সদর থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইলে এমনভাবে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা হবে, যাতে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে না হয়; বরং পর্যটকরাই টাঙ্গাইলে আসবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী দিনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ভোট দেব ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে’ স্লোগান বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। তিনি জানান, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমানের কাছে টাঙ্গাইলের উন্নয়নে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তারেক রহমানও সব দাবি পুরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল সদরের একজন মানুষও যাতে বেকার না থাকে, সেভাবেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এর অন্তত অর্ধেক চাকরি সদর উপজেলার মানুষের হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এতে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, যমুনা তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সেখানে একটি সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তখন চরের মানুষকে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে হবে না; বরং বাইরের মানুষই টাঙ্গাইলে ভ্রমণে আসবে।
বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে টুকু বলেন, গতকাল একটি দলের প্রধান টাঙ্গাইলে এসেছিলেন, যাদের নাম জামায়াতে ইসলাম। কিন্তু টাঙ্গাইলের উন্নয়ন নিয়ে একটি কথাও বলেননি। জনগণের জন্য কী করতে চান, সেটাও স্পষ্ট করেননি তারা।
তিনি বলেন, মা-বোনদের কোরআন হাতে দিয়ে তারা ভোট চাইছে। ইমানদার লোক কখনো এমন করতে পারে না। এরা স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের কর্মকাণ্ডও ইসলামবিরোধী। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছেন, নীল নদের পানি যেমন নীল নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।
টুকু আরও বলেন, টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, কিশোরগ্যাং ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ নগরে পরিণত করতে তিনি কাজ করবেন। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে। উঠান বৈঠক মতবিনিময় সভা সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে ভোটারদের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন তারা।এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সাংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তার প্রচারণাকে ঘিরে পুরো আসনজুড়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা।এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সার্বিক উন্নয়ন ও রূপান্তরের লক্ষ্যে নিজের ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্প্রতি এসব অঙ্গীকার প্রকাশের পর ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নকে নিরাপদ মাদকমুক্ত,চাঁদাবাজমুক্ত ও আধুনিক একটি ‘মডেল টাঙ্গাইল’হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি।তার ঘোষিত ২৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যমুনা নদীর স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ মাহমুদনগরে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ টাঙ্গাইলকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলা এবং টাঙ্গাইলকে শিক্ষার নগরীতে রূপান্তর।এর আগে এক নির্বাচনী জনসভায় টাঙ্গাইল সদরের উন্নয়নে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন টুকু। ওই জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান এসব দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাত দফা দাবির সঙ্গে ২৩ দফা উন্নয়ন অঙ্গীকার যুক্ত হওয়ায় টাঙ্গাইলের উন্নয়ন ইস্যু নতুন মাত্রা পেয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টুকু বলেন, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শহর ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।যুব সমাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি আইটি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং ব্যবসা সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।বিএনপির ৩১ দফার আলোকে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা প্রদান সবার জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা সহজ করতে ওয়ান কল সার্ভিস চালুর অঙ্গীকারও করেন এই বিএনপি নেতা।চাঁদাবাজমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তোলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে টাঙ্গাইলকে একটি আধুনিক নিরাপদ ও উন্নত জনপদে রূপান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল পৌরসভায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সিসি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, সাবেক কাউন্সিলর ও প্রকৌশলীদের যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াবুচনা এলাকার একটি সিসি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অনুমোদন দেওয়া হলে, প্রস্তাবিত কাজটি শাকিল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।
এই কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল আলীম। অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে ওই এলাকায় এই ধরনের কোনো সিসি কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো কাজ না হওয়ায় জনগণের করের টাকার অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ হতে দেখেননি। অথচ কাগজপত্রে প্রকল্পটি সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে দুর্নীতির প্রমাণ।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা পৌরসভার প্রকৌশলী শামীম আল মামুন ও প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম সরেজমিনে কাজ না দেখেই কাজ সম্পন্নের ছাড়পত্র দেন। ফলে সংশ্লিষ্টরা সহজেই অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে এবং দুর্নীতি আরও বেড়েছে।
অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল আলীম মুঠোফোনে জানান, ওই জায়গায় দেয়াল থাকায় তখন কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজটি করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাজাহান মিয়া মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে অসুস্থ। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেনা তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অনতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ৫৪ বছরে অনেক নির্বাচন হয়েছে, অনেক ওয়াদা দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ওয়াদা ওয়াদার জায়গায় রয়ে গেছে। জুলাই যুদ্ধে যুবকরা একটা দাবি করতেন : ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ইনসাফ থাকবে, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে, নিরাপত্তা থাকবে। আমরা আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বসন্তের কোকিল নই। ইতিপূর্বে অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করার পরও দেশ ছাড়ি নাই, এই মাটি ছেড়ে যাই নাই। আমরা দুঃখের সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, সুখের সময়ও আপনাদের সঙ্গে থাকব। আমরা জাতিকে পিছিয়ে নিতে চাই না, আমরা জাতিকে এগিয়ে নিতে চাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু নির্বাচন জাতি আদায় করে ছাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। দেড় হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে এবারের নির্বাচন।’ জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে ‘হ্যা’ ভোটের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি ঐক্যজোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের ঢাকা উত্তরাঞ্চলের সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান মাদানী, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম ও খেলাফত মজলিশের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
জনসভাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনস্রোত পরিলক্ষিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল সফরে আসছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিন ঢাকা-যমুনাসেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের দরুন চরজানা এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।
এ দিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জনসভার প্রস্তুতি ও সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দরুন চরজানা বাইপাস এলাকাকে জনসভাস্থল হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।
এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমাননের নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ)-এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী জনসভার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভেন্যু পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। টাঙ্গাইলে যেভাবে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই জনসভা স্মরণকালের জনসমাগমে পরিণত হবে বলে আমরা আশাবাদী। টাঙ্গাইলের জনগণ অধীর আগ্রহে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি আগামী দিনের বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। ইনশাআল্লাহ, এই জনসভা থেকেই নির্বাচনে বিজয়ের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী সফরের পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ঘুরে ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সফরে আসবেন তারেক রহমান। সফরের দিন দুপুর ২টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে দরুন বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন।
তার আগমনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভা সফল করতে মঞ্চ নির্মাণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরাও এই সফরকে ঘিরে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন।
আরমান কবীরঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর হাত ধরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতি মিলনায়তনে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলী গ্রামের শাহাদত খান, ফিরোজ, আতোয়ার খান, গোলাপ খান, মহির খান, নজরুল মেম্বার, আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতাকর্মী এ সময় বিএনপিতে যোগদান করেন।
নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা গামছা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। এবার সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি আস্থা রেখে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজিমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
এই যোগাযোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুর আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চললেও টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না। গণভোটকে কেন্দ্র করে বিস্ময়কর নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জেলা তথ্য অফিস জুড়ে।
জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণভোটের হ্যাঁ ও না ভোটের আমেজ নির্বাচনী মাঠে উজ্জীবিত করা হোক।
ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলেও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে,পোস্টারিং বা উঠান বৈঠকের মতো ন্যূনতম কার্যক্রমও শুরু করেনি সংস্থাটি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার তথা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় জনমনে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে জেলা সদর ও জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গণভোটের সমর্থনে বা তথ্য সম্বলিত কোনো ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানার টাঙ্গাইল তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়নি।
অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায়ে এ দপ্তরের প্রচারণা চালানোর কথা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও জানেন না গণভোটের ভোটদানের নিয়মাবলী। শুধুমাত্র ২-১টি স্থানে নির্বাচন কমিশনের বড় বড় ব্যানার টানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধরেরবাড়ি গ্রামের আজমত আলী, সবদের মিয়া, মজনু প্রামাণিক, কোনাবাড়ি গ্রামের আমজাদ আলী সরকার ও নাছির উদ্দিন; কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুরের আজাহার তালুকদার, ময়ছের আলী, নাগবাড়ীর আকবর সওদাগর, রতনগঞ্জের লাবু মিয়া, হোসেন আলী, বল্লা গ্রামের মিন্টু মিয়া ও আব্দুস সামাদ; নাগরপুর উপজেলার ছলিমাবাদের আব্দুল হাকিম ও নওশের তালুকদার; মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুরের আরশেদ আলী ও জমির উদ্দিন; সখীপুর উপজেলার মাইধারচালা গ্রামের নসীব উদ্দিন ও কালোমেঘার জমির আলী; ধনবাড়ী উপজেলার মুসুদ্দীর আবুল কাশেম ও নাজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণভোট সম্পর্কে তথ্য অফিসের কোনো প্রচারণা তাদের চোখে পড়েনি।
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে তা-ই জানেন না। তাদের কাছে হ্যাঁ ভোট বা না ভোট দিলে কী হবে সে প্রশ্ন তো অবান্তর। অনেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে অবগত হলেও গণভোট সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না।
স্ব স্ব স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তথ্য অফিসের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাধারণ ভোটাররা গণভোট বিমুখ হতে পারেন যা মোট ভোটদানের হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে প্রচারণার অভাব প্রকট। রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের প্রার্থীরা স্ব স্ব প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালালেও গণভোটের বিষয়ে কোনো প্রচারণা নেই। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে নেতিবাচকতা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা তথ্য অফিসের জনৈক কর্মচারী জানান, তারা মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে শুধুমাত্র দুই দিন সদর উপজেলার দুই স্থানে মাইকিং করার বাইরে কোনো প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেন নাই। তারা মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার চেয়ে দাপ্তরিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত জানান, বিভিন্ন দপ্তর থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন আলাদাভাবে, তারা কোনো বিশেষ প্রচারণা চালান না। তারা গণভোটের প্রচার-প্রচারণা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। তবে দু’টি স্থানে মাইকিং ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকেই গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা ৩৬০টি বড় বড় ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পেয়েছেন। ব্যানারগুলো প্রতিটি উপজেলা ও জেলা সদরে টানানো হয়েছে। লিফলেটগুলোও দ্রুতই জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ‘গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(১৪ জানুয়ারি) দিনব্যাপী টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে।
এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার।
রিসোর্স পার্সন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব(উপ-সচিব) মো. আব্দুস সবুর।
কর্মশালায় ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকালীন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি প্রতিপালনের গুরুত্ব’ এবং ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৯৭৪ এর প্রয়োগ’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়া সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি-১৯৯৩(২০০২ সালে সংশোধিত), তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট অঅইন-২০১৪ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন নয়- ঐক্যবদ্ধতা জরুরি। বিভাজিত জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারেনা। এজন্য ঐক্যবদ্ধার বিকল্প আমাদের সামনে নেই।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা- এজন্য কোনো নির্দিষ্ট মিডিয়ায় সংযুক্ত না থেকেও ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে সাংবাদিকতা করা যায়, দেশের কল্যাণে কাজ করা যায়। সাংবাদিকদের জন্য প্রেসক্লাব বা কোনো সংগঠনে সংযুক্ত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই কিম্বা জরুরীও নয়।
ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় টাঙ্গাইলের প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ও টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা অংশ নেন। পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
সোমবার(১২ জানুয়ারি )দুপুরে বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্বাচনী কার্যালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় তাদের বরণ করে নেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এতে সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আজাদ, হুগড়া ইউনিয়নের সাবেক সম্পাদক মফিজুর রহমান, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ, মগড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহবুব হাসান ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিন্নাহ খানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী যোগদান করেন।
বিএনপিতে যোগদান করা নেতাকর্মীরা জানান, জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নির্বাচিত করার জন্য। সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে টুকুর জন্য কাজ করবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
আরমান কবীরঃ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা।
গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। অভিযোগটি বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এর কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ইউপি সদস্য মো. হারুণ অর রশীদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে সুষম বণ্টন না করে নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পের টাকা লুটপাট এবং নিজের পছন্দের ইউপি সদস্যদের দিয়ে পরিষদের যাবতীয় কাজ করানোর মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ কাজের অধিকাংশ তার ৬ নং ওয়ার্ডের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ইউপি সদস্য। ফলে তাদের এলাকাবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যদের অবজ্ঞা করতে থাকেন এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরই মধ্যে তিনি একটি অপহরণ মামলায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই মামলাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা করা হয় বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্যরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ইউপি সদস্যরা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে অপসারণের দাবি তুলেছেন। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন,মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের দেওয়া অনাস্থার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ।
আসাদুজ্জামান রুমেল জানান ,বিক্রয় রশিদ না থাকায় এবং অধিক দামে বিক্রি করার দায়ে সদর উপজেলায় করটিয়া ইউনিয়নের গড়াসিন বাজারে জামান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা, একই ইউনিয়নের কুমুল্লি বাজারের আসমা ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা এবং করটিয়া বাজারের আজাদ ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে কজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল বলেন, জেলায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বিক্রি করছে।
ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন থেকে চারশো টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যোক্তিক। প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারে সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযানে সদর উপজেলার সেনেটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তারসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।