আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের অভিজাত শপিং মল ‘সাত্তার শপিংমলে’ ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে জেলা সদর রোডের টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত সাত্তার শপিংমলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া বুধবার রাতে শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় অবস্থিত তাহের পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাম্পের এলপিজি গ্যাস বাসা বাড়ির সিলিন্ডারে দেওয়ার অভিযোগে তাদের এই জরিমানা করা হয়।
অভিযান দুটি পরিচালনা করেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল ।
অভিযানে সাত্তার শপিংমলে ভেজাল কসমেটিকস, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য ও মূল্যতালিকা না রাখায় ১ লাখ টাকা ও তাহের পেট্রোল পাম্পকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, সাত্তার শপিংমলকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে তাহের ফিলিং স্টেশনকে এ ধরনের নিয়ম বহির্ভূত কাজ না করতে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়।
সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যেন প্রতারিত না হয়, তাই শপিংমলের মালিকদের সচেতন থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান,জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরবর্তী সময়ে উপজেলার বাজারগুলোতেও একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সদর উপজেলায় চারাবাড়ি এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে গিয়ে পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ব্রিজের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদ নগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নে যাতায়াতের জন্য টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর ওপর চারাবাড়িঘাটে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিগত ২০০৬ সালে ১৭০.৬৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকেই কয়েকবার পূর্ব ও পশ্চিম তীরের অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসে যায়। সর্বশেষ গত বছরের ১০ জুলাইও ব্রিজের পশ্চিম পাশে অ্যাপ্রোচ ভেঙে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজ দিয়ে চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। এছাড়া মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে যাতায়াতেও ব্যাঘাত ঘটছে।
এদিকে চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, তাঁত শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আনা-নেওয়া করতে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে থাকে এই ব্রিজের উপর দিয়ে।
সিএনজি চালিত অটো রিকশার চালক আব্দুল হাই ও খোরশেদ আলম বলেন, মঙ্গলবার ভোরে যাত্রী নিয়ে এসে দেখলাম ভেঙে গেছে। পরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ভাঙনের দৃশ্য দেখতেছি। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে আমরা গাড়ি চালাতে পারব না।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুমন দেওয়ান বলেন, নদীর পানির চাপ বেড়ে পশ্চিম পাশের অ্যাপ্রোচসহ সংযোগ সড়ক ও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্রিজ ভেঙে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।
সদর উপজেলার এলজিইডি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সদর উপজেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আজকের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় বৃহত্তর চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ সাময়িক ভোগান্তির শিকার হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সবাইকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। যে কোন ভাবেই হোক অ্যাপ্রোচের মাটি দ্রুত ভরাট করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চরাঞ্চল বাসীর দুর্ভোগ সমাধান করে দেয়া হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের এলংজানি নদী থেকে রবি দাস(৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, প্রাথমিক সুরতহালে রবিদাসের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহত যুবকের নাম জীবন রবি দাস। সে জেলার ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের মৃত রংলাল রবি দাসের ছেলে। সে পেশায় মুচি ছিল বলে জানা গেছে।
পোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান, সোমবার রাতে পোড়াবাড়ী খেয়া ঘাটের সামনে দিয়ে মরদেহটি ভেসে যেতে দেখে স্থানীয়রা তাকে খবর দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মরদেহটি ভেসে পাশের সিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা ব্রিজের কাছে চলে যায়। পরে মরদেহটি ইউনিয়নের খারজানা গ্রামের কাছে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, পরে সন্তোষ কাগমারী ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দিলে তাঁরা এসে মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, স্থানীয় ভাবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হচ্ছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
তিনি আরও জানান, থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় চারাবাড়ীতে শনিবার ধলেশ্বরী নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ তিন বোনের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ ও সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫(সদর ) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে তিনি চারাবাড়ির ধলেশ্বরী নদীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তিনজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সান্তনা দেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবুসহ উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের দ্বিতীয় দিনের মত ধলেশ্বরী নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অপর খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসে নিখোঁজ ওই তিন কিশোরী। পরে শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তারা পরিবারকে দোকানে যাওয়ার কথা বলে ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের এক পর্যায়ে তারা নদীর স্রোতে ডুবে যায়।
তারা হলেন,মনিরা (১১) উপজেলার মাহমুদ নগরের মনিরুল ইসলামের মেয়ে। নিখোঁজ অপর দুই শিশু হলো- একই এলাকার বোরহানের মেয়ে আছিয়া (১২) ও মাফিয়া (০৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো বোন।
পরে শনিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধায় টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল মনিরার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন।
নিখোঁজ আপন দুই বোন আছিয়া আক্তার (১২) ও মাফিয়া আক্তার (১০) কে উদ্ধারের জন্য ডুবুরি দল দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তিন শিশু নিখোঁজ হয়েছে। যাদের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।
নিহত মনিরা (১১) উপজেলার মাহমুদ নগরের মনিরুল ইসলামের মেয়ে। নিখোঁজ দুই শিশু হলো- একই এলাকার বোরহানের মেয়ে আছিয়া (১২) ও মাফিয়া (০৯)। তারা সম্পর্কে খালাতো বোন।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা হুমায়ুন কার্ণায়েন বলেন, শনিবার দুপুরের দিকে মনিরা তার দুই খালাতো বোন আছিয়া ও মাফিয়াকে নিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে তারা স্রোতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে উদ্ধারকাজ শুরু করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় মনিরার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে আছিয়া ও মাফিয়ার সন্ধান মেলেনি। রাত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে আবার উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান, শুক্রবার তারা খালার বাড়ি আসেন বিয়ের দাওয়াত খেতে। শনিবার সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে অদুরে ধলেশ্বরী নদীতে যায় গোসল করতে। কিন্তু নদীতে স্রোত থাকায় এবং তারা সাতার না জানায় পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং বাকি দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত করা হবে না।
আরমান কবীরঃ ১৯৭৪ সালে টাঙ্গাইল শহরের কোদালিয়া এলাকায় ৫০ শয্যার সুবিধা নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে যার শয্যা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০ ।
এ ছাড়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় তড়িঘড়ি করে ১০ শয্যার আইসিইউ বেড চালু করা হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দক্ষ জনবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে জেলার জন্য অতি জরুরি এই সেবাটি।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই হাসপাতালের নেই দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টার। ফলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। আইসিইউ সেবা ও ট্রমা সেন্টার না থাকাতে রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হচ্ছে অধিকাংশ গুরুতর আহত রোগীর।
বর্তমানে চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানে সেবা নিতে আসা হাজার হাজার সাধারণ রোগীগণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এই হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসেন।
এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ৪০ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দাদের জন্য জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ৪৪জন চিকিৎসক নিতান্তই অপ্রতুল বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে অনুমোদিত জনবলের প্রশাসনিক ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মচারীর পদ রয়েছে ৪০১টি। এর মধ্যে চিকিৎসকসহ ৭২টি পদ শূন্য। হাসপাতালে ৫৮ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৮টি পদ শূন্য। সিনিয়র কলসালটেন্ট (মেডিসিন) ও সিনিয়র কলসালটেন্ট (সার্জারি) দুইটি পদই শূন্য, সিনিয়ন কলসালটেন্ট (স্কিন ভিডি) পদও শূন্য, সিনিয়র নার্সের ৬টি পদই শূন্য, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ৭২টি পদের বিপরিতে শুন্য রয়েছে ৩৫টি পদ। এ প্রতিষ্ঠানে ৭৭জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে লোক নিয়োগ করেছে মাত্র ৪৮ জন, ১৬ জন সুইপার পদের বিপরিতে ৯টি পদ শূন্য। এত স্বল্প সংখ্যক আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নকর্মীর কারনে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দিকে ডায়াবেটিক রোগীর তিন মাসে সার্বিক অবস্থা জানার একমাত্র এইচবিএওয়ানসি মেশিনটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এই হাসপাতালে সাধারণ মানের কিছু বেসিক টেস্ট করা হয়, কিন্তু সিটি স্ক্যান, এমআরআই, হরমোন টেস্ট, কালচার, হিস্টোপ্যাথলজি—এরকম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, কারণ সরঞ্জাম নেই। এ ছাড়াও মেডিসিন ও সার্জারি পোস্টে কোনো কনসালট্যান্ট নেই। স্ট্যান্ডার্ড সেটাপে ১৭৮ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, কিন্তু এখানে সর্বমোট চিকিৎসক রয়েছেন ৪৪ জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হলেও পুরোপুরি চালু হয়নি, যার কারণে জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকে। এ ছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগী ও স্বজনরা হয়রানির শিকার হন। ৪৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৫ জন প্রতিদিন বহির্বিভাগে, ৪ জন ইমারজেন্সিতে এবং বাকি ২৫ জন ইনডোরে ডিউটি করেন।
হাসপাতালে ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে: ১নং প্রসূতি, ২নং শিশু, ৩নং গাইনি, ৪নং মেডিসিন (মহিলা), ৫নং মেডিসিন (পুরুষ), ৬নং সার্জারি (পুরুষ), ৭নং সার্জারি (মহিলা), ৮নং অর্থোপেডিক (পুরুষ), ৮এ অর্থো (মহিলা), ৯নং ডায়রিয়া, ১০নং ইএনটি, ১১নং সিসিইউ, ১২নং আইসিইউ, ১৩নং করোনা সাসপেকটেড, ১৪নং করোনা পজিটিভ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ৪টি (গাইনী, সার্জারি, অর্থোপিডিক)। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১৩ জন, আউটসোর্সিং ভিত্তিতে।
এ দিকে এ হাসপাতালে ১০ বেডের আইসিইউ থাকলেও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় ডাক্তার এবং দক্ষ জনবল না থাকার কারনে রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আইসিইউ সেবা বন্ধ রয়েছে। তারপরও আরও একটি ১০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুুত করা হয়েছে। সময় মতো সেটি চালু না করা গেলে মূল্যবান মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রয়োজন ৭৫ জন। হাসপাতালের খাবারের মান ভালো, তবে ২৫০ জন রোগীর বাইরে খাবার পরিবেশন সম্ভব নয়। ঔষধের বরাদ্দ রয়েছে, তবে অনেক রোগী ঔষধ না পাওয়ার অভিযোগও করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, কিছু সিনিয়র চিকিৎসকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে এখানে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জনবল নেই। এ কারনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষাও ঠিকমত হচ্ছেনা। জনবলের অভাব হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সচল যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ রোগী বাইরের বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করছেন। আর এ ক্ষেত্রেও ওই সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ১জন রেডিওলজিস্ট দিয়ে কোনভাবে এত পরিমান রোগীর সেবা প্রদান করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা জেলার গোপালপুরের রফিজ উদ্দিন বলেন, ডাক্তার আমাকে ব্রেনের এমআরআই পরীক্ষা করতে বলেছিলেন। সদর হাসপাতালে এমআরআই নেই, তাই প্রাইভেট হাসপাতালে ৭,৫০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করেছি। সরকারি হাসপাতালে এই ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের ভোগান্তি কম হতো।
আব্দুর রাজ্জাক নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের আশেপাশের ঔষধের দোকানদাররা রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ঔষধের স্লিপ নিয়ে বেশি দাম চায়। প্রতিবাদ করলে দাপট দেখানো হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও সহকারী স্টাফ না থাকায় রোগীরা পুরোপুরি সেবা পাচ্ছে না। তবে যারা আসেন তাদের উপযুক্ত সেবা দেওয়া হয়। ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে রোগীর চাপ বেশি হলে বেগ পোহাতে হয়। আইসিইউ, ডাক্তার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বৃদ্ধি করলে আশানুরূপ সেবা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
আরমান কবীরঃ কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই জিডি করেন টুকু।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার জালাল উদ্দিন চাকলাদার নামের এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি একটি নম্বর থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জন্য টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি নজরে এলে টুকু চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে লিখিত আবেদন করেন। একই ঘটনায় জালাল উদ্দিনও জিডি করেছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি।
জালাল উদ্দিন বলেন, রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হালিম মোল্লা পরিচয়ে এক ব্যক্তি ভোরের দিকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আত্মীয়ের ক্ষতি করেছি জানিয়ে টাকা দাবি করেন। পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে মব সৃষ্টি করে হামলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বিষয় ছড়িয়ে দিয়ে ও সাংবাদিক সম্মেলন করে হেনস্তা করার হুমকি দেন ওই ব্যক্তি। পরে বিষয়টি টুকু ভাইকে অবহিত করলে তিনি আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে অনুরোধ করেন। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।
এ বিষয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমার প্রতিটা বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে চাপে রাখি। ধারণা করছি, এসব কারণে একটি গোষ্ঠী আমার সুনাম ও আমার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে এমন নোংরা ষড়যন্ত্র করেছে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাই।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে টাঙ্গাইলে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের তারুটিয়া হাটে জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সাবেক প্রচার সম্পাদক একেএম মনিরুল হক (ভিপি) মনিরের নেতৃত্বে জনসাধারণের মাঝে এই লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, সদর থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, জেলা শ্রমিক দলের দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা শ্রমিক দল নেতা তোফাজ্জল হোসেন, বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা সোহেল, করটিয়া ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সভাপতি মাজহারুল খান, সাধারণ সম্পাদক সুমন প্রমুখ।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শিবপুর এলাকায় তিতাস গ্যাস সঞ্চালনের লাইনের মূল পাইপ ফেটে গেছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ফলে ১৪ হাজার গ্রাহক ও ৫০টি গ্যাস স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, গ্যাস পাইপের ওপর পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় দুই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা জানান, তাদের শ্রমিকরা গ্যাসের পাইপের ওপর থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, গ্যাস লাইনের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। দুর্ঘটনার পর খুঁটিটি সরানোর কাজ চলছে। বতর্মানে তিন উপজেলার প্রায় দুই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। আশা করা যাচ্ছে, আজকে রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
টাঙ্গাইল তিতাস গ্যাস অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী মুন্না বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ১৪ হাজার আবাসিক গ্রাহক ও ৫০ টির মতো সিএনজি স্টেশন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মেরামত কাজ শেষ হতে এক সপ্তাহর মতো সময় লাগবে। আজ রাতের মধ্যে বাইপাস লাইন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফার ২৭ দফা অবলম্বনে নির্মিত ‘কৃষি কথা’ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইউনিয়নের বহুলী পার বহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় ২০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। তারাই ছিলেন এই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি। অনুষ্ঠানের পুরো অংশজুড়েই তাদের মূল্যবান মতামত শোনা হয়। গ্রহণ করা হয় তাদের বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শ।
স্থানীয় কৃষক জাবাত আলী, মজিদ মিয়া, আজিজুল হক, শাহজামান মন্ডল জানান, এতোদিন যেকোনো অনুষ্ঠানে কৃষকরাই ছিলো সবচেয়ে অবহেলিত। কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠা তো দূরের কথা, মঞ্চের কাছাকাছিও কৃষকদের যেতে দেওয়া হতো না। আজ এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিও আমরা, বিশেষ অতিথিও আমরা। আমাদের এই সম্মান দেওয়ার জন্য বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচক ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি নির্বাচিত হতে পারে, বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের জন্য ফারমার্স কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আমি যদি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে এই এলাকার কৃষকদের প্রাণের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে একটি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) নির্মাণ করা হবে। এছাড়া যমুনা নদীর ভাঙ্গন রোধে বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হবে। অতিতে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক লাভের জন্য টাঙ্গাইল ভিক্টোরিয়া খালকে ভরাট করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই টাঙ্গাইল শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য খাল খননের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে সকলকে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলবো। সেই টাঙ্গাইল হবে সারা বাংলাদেশের কাছে মডেল টাঙ্গাইল।
সোনিয়া শমীর সঞ্চালনায় ও পার্বণ মিডিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠানে মাহমুদনগর ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক কৃষক, ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন। পরে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলামকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক নোটিশে সাময়িক অব্যাহতির এই নির্দেশ জানানো হয়। সেই সঙ্গে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজজাদ ওয়াহিদকে অস্থায়ীভাবে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিক্ষার্থীরা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিরোধিতাকারী রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিচারের দাবিতে রেজিস্ট্রার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তারা উপাচার্যের কাছে দুই দফা দাবি উত্থাপন করেন।
তাদের দাবি গুলো হলো—বিচার কমিটি গঠন না হওয়া ও রেজিস্ট্রারকে সাময়িক অব্যাহতি না দেওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার অফিস তালাবদ্ধ রাখা এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাভাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু) গঠনের রোডম্যাপ প্রকাশ।
পরবর্তীতে আরেকদল শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দিলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এবং বুধবার আবারও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অনিক হাসান (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী আবীর (১৫) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কালিহাতী পৌর এলাকার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চাটিপাড়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের ছোট বিন্যাফৈর গ্রামের অটোচালক নিশান মিয়ার ছেলে। আহত আবীরের বাড়িও একই এলাকায়। অনিক সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় টেকনিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনিক কালিহাতী পৌরসভার সিলিমপুর এলাকায় চাচাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খেতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে কালিহাতী পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সিলিমপুর যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ মহাসড়কের চাটিপাড়া সেতু এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে আসা অজ্ঞাত একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে অনিক মহাসড়কে পড়ে গেলে বাসের চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায় এবং এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের এসআই মাহবুব হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।