একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে।
শনিবার (৩ আগষ্ট) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব চত্বর ও বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সমবেত হন প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেশব্যাপি ডাকা বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি হিসেবে টাঙ্গাইলে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ সহ সরকার বিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হয় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে।
প্রেসক্লাব চত্বরে সরকার পতনসহ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হত্যাকারিদের বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন মিছিলের সমন্বয়করা।
পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নিরালা মোড় হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় প্রেসক্লাব চত্বরে জমায়েত হন।
মিছিলে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। শহরের কর্মসূচি শেষে দেশ ব্যাপি ডাকা অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দেওয়াল লিখন ও শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এ সময় রুপক, সনি, আমেনাসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, এখন আমাদের এক দাবি সরকার পতন। এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ। পতন ব্যতিত এই সরকারের কাছে আমাদের কোন দাবি নেই।
মিছিলে আসা এক অভিভাবক বলেন, সন্তানদের যৌক্তিক দাবি পূরণে আমিসহ অনেক অভিভাবক এসেছেন এই মিছিলে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমরাও আছি। নীরবে আর সরকারের এত অত্যাচার সহ্য করা যায়না।
শনিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হলেও কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটনা এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দিন জানান, পুলিশ ধৈর্য সহকারে ও জান মালের নিরাপত্তা দিতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গণগ্রেপ্তার ও হত্যার প্রতিবাদে এবং নয় দফা দাবিতে টাঙ্গাইলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কয়েক সহস্রাধিক বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
শুক্রবার (২ আগস্ট) জুমার নামাজের পর শহরের হেলিপ্যাড থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশ করে।
পরে নগরজলফৈ বাইপাসে গিয়ে একঘন্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা যাওয়ার দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এতে দুই পাশে অন্তত ১৭ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।
এদিকে বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন জানান, পুলিশ অতি ধৈর্য সহকারে দায়িত্ব পালন করেছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করে ফিরে গেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা আদায় করেছে টাঙ্গাইলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদরে অবস্থিত হেলিপ্যাড এলাকায় গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় করটিয়া সা’দত কলেজের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম গায়েবানা জানাজা নামাজের ইমামতি করেন। জানাজায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
একতার কণ্ঠঃ কোটা আন্দোলনের নামে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পদদলিত, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজপথে লাঞ্চিত-নির্যাতন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার মহা-ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড টাঙ্গাইল জেলা শাখার আয়োজনে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে এসে একত্রিত হন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, সহ সভাপতি আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, যুগ্ম সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রমসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব গোল চত্বর এলাকায় অবস্থান করে কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অবরোধে বন্ধ রয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহন চলাচল। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু গোল চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনের কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপরসহ মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে মহাসড়কে পরিবহন চলাচল না করায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় বন্ধ রেখেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কোটা পদ্ধতি সংস্কার আমাদের প্রাণের দাবি। যে পর্যন্ত সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা না হচ্ছে সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এছাড়া নিরীহ শিক্ষার্থীদের হত্যার বিচার দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর আশরাফ জানান, শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মহাসড়কের গোল চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তাদেরকে মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার বলা হচ্ছে। তবে তারা সড়ক ছাড়ছে না। এ কারণে মহাসড়কে পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কোটা বাতিলের দাবিতে পুলিশের তৈরি করা ব্যারিকেড ভেঙে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেড়ঘন্টা অবরোধ করে রাখে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী এমএমআলী কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাসে অবস্থান নেয়। এ সময় মহাসড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধ স্থলে এ সময় বিপুল সংখ্যক আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিল। পুলিশ বার বার শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসুচিতে অনড় থাকে। দুপুর ২টা ৩০মিনিটে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসুচি পালন করতে বেলা ১০টা ৩০মিনিটের দিকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শহরের নিরালা মোড়ে শহীদ মিনার চত্বরে আসার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে তিনজন ছাত্র আহত হয়। তাদেরকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এরপর আন্দোলনকারীরা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী সমাবেশ করে।। পরে সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের দিকে আগাতে থাকলে প্রেসক্লাবের সামনে ও পুরাতন বাসষ্ট্যান্ডে পুলিশ বাঁধা প্রদান করে। পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাসে যাওয়ার সময় মহাসড়কের প্রবেশ পথে তিনটি বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সেখানে ভূয়া-ভূয়া স্লোগান দিয়ে ছাত্ররা ট্রাক ভাঙচুরের উদ্যোত হলে পুলিশ সরে যায়। ট্রাকে থাকা চালক ট্রাক তিনটি সরিয়ে নেয়। পরে হাজার-হাজার শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
অবরোধ কালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, যে পরিমাণ কোটা, তাতে দেশের মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে দেশের বাইরে চলে যাবে, দেশে সরকারি চাকরি করারও আগ্রহও হারাবে। বৈষম্যমূলক কোটার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। এ বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব আমরা। এই আন্দোলন কোনো সরকার বিরোধী আন্দোলন না, এই আন্দোলন আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আন্দোলন।
পরে দুপুর ২টা ৩০মিনিটের দিকে মঙ্গলবার দিনের অবরোধ কর্মসূচি শেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের অবরোধ তুলে যার যার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যায়।
এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মহাসড়কে কোন প্রকার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে। অন্যথায় শান্তিপূর্ন ভাবে আপনারা আন্দোলন করেন রাস্তা ছেড়ে দিয়ে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস ও সিএনজি সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন মির্জাপুর উপজেলার ঘৌহাতলী গ্রামের হাজী শুকুর মিয়ার ছেলে।
আহতরা হলেন- নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৫৫), নিহত আনোয়ারের ভাইয়ের বউ সেলিনা (৩৩), ভাইয়ের ছেলে সিফাত (৫), জামুরিয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আবুল কালাম (৩৫)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শেরপুর থেকে মধুপুরের দিকে যাচ্ছিল যাত্রীবাহী একটি সিএনজি। অপরদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহাখালী ট্রাভেলসের একটি বাস ধনবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে গোলাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে বাস ও সিএনজির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে এ ঘটনায় টাঙ্গাইল ও ধনবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে স্থানীয়রা। এ সময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসটি মহাসড়কের ভাইঘাট এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ মজনু শেখ (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার(১৩ জুলাই) রাতে উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের মুশুদ্দি পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মজনু শেখ ওই এলাকার আব্দুল বারেক শেখের ছেলে।
রবিবার (১৪ জুলাই) সকালে আদলতের মাধ্যমে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মুশুদ্দি পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী মজনুকে আটক করা হয়। পরে তার হেফাজতে থাকা ২০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
তিনি আরো জানান,এ ঘটনায় ধনবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর মজনু শেখকে রবিবার(১৪ জুলাই) সকালে আদলতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে
একতার কণ্ঠঃ ঢাকার মিরনজিল্লা সিটি হরিজন কলোনীতে হামলা ও মন্দির ভাংচুরের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার(১৩ জুলাই )বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শ্রী শ্রী বড় কালিবাড়ী মন্দিরের সামনে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, হরিজন ঐক্য পরিষদ ও নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সমরেশ চন্দ্র পাল, যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক তমাল বিহারী দাস, দপ্তর সম্পাদক সুমন সরকার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুভাষ সরকার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ ঝন্টু, গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাজকুমার সরকার, সদর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মুকুল সাহা, সাধারণ সম্পাদক লিটন সাহা, কেন্দ্রীয় যুব ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি স্বাধীন হরিজন, টাঙ্গাইল জেলা হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুমন হরিজন, সাধারণ সম্পাদক রিপন হরিজন, হরিজন সম্প্রদায়ের নেতা সুমন হরিজন প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার(১৩ জুলাই )সকালে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা যুবলীগের উদ্যোগে এ চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন জাতের ২ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়
অনুষ্ঠানে জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈম তালুকদার বিপ্লব, যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ সিকদার মানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈম তালুকদার বিপ্লব বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে বিভিন্ন জাতের দুই হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
কাজী জহুরুল ইসলাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই শিক্ষিকার পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই বৈঠকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
জানা যায়, উপজেলার অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম বিগত ২ বছর ধরে একই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক কাজের জন্য বারবার কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পরে তার ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে ওই শিক্ষিকা আভ্যন্তরিণ ভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করেন। পরে এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের অন্য সহকর্মীদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে ঘটনার বর্ণনা শুনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপর ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সামনেই ওই শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি ওই শিক্ষিকার পরিবার পর্যায়ে যাওয়ার পর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পরবর্তিতে প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে অভিযোগ জানান ওই ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। শুধু ওই শিক্ষিকাই নয় তার আরও কয়েকজন শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈবুর রহমান, নুরুল ইসলাম খান জোসনা এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম, অভিযোগকারী শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকরা। এ সময় প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম সবার সামনে নিজের দোষ স্বীকার করেন।
অজুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকারা জানান, প্রধান শিক্ষক তার ক্ষমতা ব্যবহার করে নারী শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করে। তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ওই শিক্ষিকার সাথে খারাপ আচরণ করেন জহুরুল ইসলাম। একই সাথে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক হওয়ায় তার ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষিকাকে ওই প্রধান শিক্ষক গভীররাতে মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের ম্যাসেস পাঠাতো। পরে বাধ্য হয়ে এক শিক্ষিকা তার বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির বরাবর অভিযোগ দিয়েছে যেটা সত্য।
অভিযোগকারী শিক্ষিকা জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করতো সব সময়। ম্যাসেস, মোবাইলে এবং সরাসরি কু-প্রস্তাব দিতো প্রধান শিক্ষক। মোবাইলে টাকাও পাঠিয়েছিল। এটি নিয়ে পারিবারিকভাবেও ঝমেলার সৃষ্টি হয়েছে। পরে সহকর্মীদের কাছে বলার পরও ওই প্রধান শিক্ষক ভাল হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে প্রতিকার চেয়ে ম্যানেজিং কমিটি বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দিদারুল আলম খান মাহবুব বলেন, শিক্ষিকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে মিটিং করা হয়েছে। মিটিংয়ে প্রধান শিক্ষক তার দোষ স্বীকার করেছেন। পরবর্তিতে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি জানার পর ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ ও আন্দোলনে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সরকারি চাকরিতে কোটা-পদ্ধতি বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক হয়ে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক সড়কের কাগমারি মোড়ে অবস্থান নেয়। এরপর প্রথম ফটকের সামনে দলে দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে।
এ সময় তারা সারা বাংলায় খবর দে-কোটা প্রথার কবর দে, আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই এর মত বিভিন্ন আগুনঝরা স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকে মুখরিত করে তোলে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বৈষম্যমূলক কোটার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বেও সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এ বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা কোটা চাইনা, আমার মেধা দিয়ে চাকরি চাই।
মেহেদী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এই আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন না, এই আন্দোলন আমাদের সকলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আন্দোলন। যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চাই।